Hud
হুদ: 63
11 হুদ Hud · 123 আয়াত هود
মূল আরবি
قَالَ يَـٰقَوْمِ أَرَءَيْتُمْ إِن كُنتُ عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّى وَءَاتَىٰنِى مِنْهُ رَحْمَةً فَمَن يَنصُرُنِى مِنَ ٱللَّهِ إِنْ عَصَيْتُهُۥ ۖ فَمَا تَزِيدُونَنِى غَيْرَ تَخْسِيرٍ
English Translations
He said, "O my people, have you considered: if I should be upon clear evidence from my Lord and He has given me mercy from Himself, who would protect me from Allāh if I disobeyed Him? So you would not increase me except in loss.
He said: "O my people! Tell me, if I have a clear proof from my Lord, and there has come to me a Mercy (Prophethood, etc.) from Him, who then can help me against Allah, if I were to disobey Him? Then you increase me not but in loss.
He said, “O my people, tell me: If I have a clear proof from my Lord, and He has bestowed mercy upon me from Himself, who will come to my help against Allah, if I still disobey Him? So, you extend nothing to me but loss.
Salih said: 'My people! What do you think? If I had a clear evidence from my Lord, and then He also bestowed His mercy upon me, who will rescue me from the punishment of Allah if I still disobey Him? You can only make me lose even more.
He said: O my people! Bethink you: if I am (acting) on clear proof from my Lord and there hath come unto me a mercy from Him, who will save me from Allah if I disobey Him? Ye would add to me naught save perdition.
He said: "O my people! do ye see? if I have a Clear (Sign) from my Lord and He hath sent Mercy unto me from Himself,- who then can help me against Allah if I were to disobey Him? What then would ye add to my (portion) but perdition?
বাংলা অনুবাদ
সালিহ বলল, ‘‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কি চিন্তা করে দেখেছ, যদি আমি আমার প্রতপালকের সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর থাকি আর তাঁর পক্ষ থেকে আমাকে অনুগ্রহ করা হয়, এমতাবস্থায় আমি যদি তার অবাধ্য হই তাহলে আল্লাহর (‘আযাব) থেকে আমাকে কে রক্ষা করবে? তোমরা তো কেবল আমার ক্ষতিই বাড়িয়ে দিতে চাও।
সে বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা কী মনে কর, যদি আমি আমার রবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণের উপর থাকি এবং তিনি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে রহমত দান করেন, তাহলে কে আমাকে আল্লাহর (আযাব) থেকে সাহায্য করবে, যদি আমি তাঁর অবাধ্য হই? সুতরাং তোমরা তো কেবল আমার ক্ষতিই বৃদ্ধি করছ’।
সে বললঃ হে আমার কাওম! আচ্ছা বলত, আমি যদি নিজ রবের পক্ষ হতে প্রমাণের উপর থাকি (এবং) তিনি আমার প্রতি নিজের রাহমাত (নবুওয়াত) দান করে থাকেন, আমি যদি আল্লাহর কথা না মানি তাহলে আমাকে আল্লাহ (শাস্তি) হতে কে রক্ষা করবে? তাহলেতো তোমরা শুধু আমার ক্ষতিই করছ।
তিনি বললেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমাকে জানাও, আমি যদি আমার রব প্রেরিত স্পষ্ট প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকি এবং তিনি যদি আমাকে তাঁর নিজ অনুগ্রহ দান করে থাকেন, তবে আল্লাহ্র শাস্তি থেকে আমাকে কে রক্ষা করবে, আমি যদি তাঁর অবাধ্য হই? কাজেই তোমরা তো শুধু আমার ক্ষতিই বাড়িয়ে দিচ্ছ।
সে বলল: ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কি ভেবে দেখেছ, আমি যদি আমার প্রতিপালক প্রেরিত স্পষ্ট প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকি এবং তিনি যদি আমাকে তাঁর নিজ অনুগ্রহ দান করে থাকেন, তবে আল্লাহর শাস্তি হতে আমাকে কে রক্ষা করবে, আমি যদি তাঁর অবাধ্যতা করি? সুতরাং তোমরা তো কেবল আমার ক্ষতিই বাড়িয়ে দিচ্ছ।
৬৩. নূহ (আলাইহিস-সালাম) তাঁর জাতির জবাবে বললেন: ওহে আমার জাতি! তোমরা আমাকে বলো, আমি যদি আমার রবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট দলীলের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি, আর তিনি আমাকে রহমত তথা নবুওয়াত দান করেন তাহলে আমাকে তাঁর শাস্তি থেকে কে বাঁচাবে? তিনি তোমাদের প্রতি আমাকে যে তাবলীগের হুকুম দিয়েছেন তা বর্জন করে আমি যদি তাঁর অবাধ্য হই। তোমরা তো কেবল আমার ভ্রষ্টতাকেই বাড়িয়ে দিতে চাও আর আমাকে তাঁর সন্তুষ্টি হতে দূরে সরিয়ে রাখতে চাও।
তাফসীর
11:62
তিনি বললেন, ‘ হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমাকে জানাও, আমি যদি আমার রব প্রেরিত স্পষ্ট প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকি এবং তিনি যদি আমাকে তাঁর নিজ অনুগ্রহ [১] দান করে থাকেন, তবে আল্লাহ্র শাস্তি থেকে আমাকে কে রক্ষা করবে, আমি যদি তাঁর অবাধ্য হই? কাজেই তোমরা তো শুধু আমার ক্ষতিই বাড়িয়ে দিচ্ছ [২]।
[১] অর্থাৎ আমি আমার দাবীর ব্যাপারে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত বিশ্বাসের উপর আছি। আর আমাকে আমার রবের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ দেয়া হয়েছে। তা হচ্ছে নবুওয়াত ও রিসালাত। [সা’দী]
[২] অর্থাৎ যদি আমি আমার কাছে আসা স্পষ্ট প্রমাণের বিরুদ্ধে এবং আল্লাহ আমাকে যে জ্ঞান দান করেছেন সেই জ্ঞানের বিরুদ্ধে নিছক তোমাদের খুশী করার জন্য গোমরাহীর পথ অবলম্বন করি তাহলে আল্লাহর পাকড়াও থেকে তোমরা আমাকে বাঁচাতে পারবে না। আমি যদি তোমাদেরকে হক ও একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের দিকে দাওয়াত না দেই, তবে তোমরা এর দ্বারা আমার কোন উপকার করতে পারবে না। [ইবন কাসীর] বরং এভাবে তোমরা তো আমাকে কল্যাণের পথ থেকে বহু দূরে সরিয়ে দিবে এবং অনিষ্টতাই বৃদ্ধি করবে। [ইবন কাসীর; কুরতুবী]
[সূরা হুদ (১১): আয়াত ৬২ থেকে ৬৮] পূর্ণ পৃষ্ঠা
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কাউকে কোনো সম্পত্তি আজীবন দান (উমরা) হিসেবে প্রদান করে তার নিজের এবং তার বংশধরদের জন্য, আর বলে যে 'আমি এটি তোমাকে এবং তোমার বংশধরদের প্রদান করলাম যতক্ষণ তোমাদের কেউ অবশিষ্ট থাকবে', তবে তা যাকে দান করা হয়েছে তারই হয়ে যাবে। এটি আর দাতার কাছে ফিরে আসবে না, কারণ সে এমন এক দান করেছে যাতে উত্তরাধিকারের বিধান কার্যকর হয়েছে।" তাঁর থেকে আরও বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে আজীবন দানকে বৈধ করেছেন তা হলো দাতার এই উক্তি: 'এটি তোমার এবং তোমার বংশধরদের জন্য'।
পক্ষান্তরে যদি সে বলে: 'এটি তোমার জন্য যতক্ষণ তুমি বেঁচে থাকবে', তবে তা দাতার কাছেই ফিরে আসবে।" মামার বলেন: "ইমাম যুহরী এই মতেই ফতোয়া দিতেন।" আমি (গ্রন্থকার) বলছি: কুরআনের মর্মার্থ দ্বিতীয় মতাবলম্বীদের অনুকূলে যায়, কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "তিনি তোমাদের সেখানে আবাদ করিয়েছেন", যার অর্থ হলো তিনি তোমাদের জীবন দান করেছেন। সুতরাং তিনি নেককার ব্যক্তিকে সেখানে তার জীবদ্দশায় নেক আমলের মাধ্যমে এবং মৃত্যুর পর সুখ্যাতি ও উত্তম প্রশংসার মাধ্যমে জীবিত রাখেন। আর পাপাচারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি এর বিপরীত। পৃথিবী জীবন ও মৃত্যু উভয় অবস্থায় তাদের জন্য আধার স্বরূপ।
আর বলা হয়ে থাকে যে, উত্তম প্রশংসা বংশধরের স্থলাভিষিক্ত হয়। পবিত্র কালামে এসেছে: "আর পরবর্তীদের মধ্যে আমার জন্য সত্যের সুখ্যাতি দান করুন" অর্থাৎ উত্তম প্রশংসা। আরও বলা হয়েছে: এটি হলেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। আল্লাহ আরও বলেছেন: "আর আমি তাঁর বংশধরদেরই অবশিষ্ট রেখেছি।" এবং তিনি বলেছেন: "আর আমি বরকত দান করেছি তাঁর ওপর ও ইসহাকের ওপর; আর তাদের বংশধরদের মধ্যে কেউ সৎকর্মী এবং কেউ নিজের ওপর স্পষ্ট যুলুমকারী।" পঞ্চম মাসআলা- আল্লাহ তাআলার বাণী: (অতঃপর তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো) অর্থাৎ মূর্তিপূজা থেকে তাঁর কাছে ক্ষমা চাও।
(তারপর তাঁরই দিকে ফিরে আসো) অর্থাৎ তাঁর ইবাদতের দিকে প্রত্যাবর্তন করো। (নিশ্চয়ই আমার রব নিকটবর্তী, উত্তরদাতা) অর্থাৎ যিনি তাঁকে ডাকে, তার ডাকে সাড়া দিতে তিনি নিকটবর্তী। সূরা বাকারার "নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী, আমি আহবানকারীর ডাকে সাড়া দেই" আয়াতের আলোচনায় এ বিষয়ে বিস্তারিত গত হয়েছে। [সূরা হুদ (১১): আয়াত ৬২ থেকে ৬৮]তারা বলল, "হে সালেহ! ইতিপূর্বে তুমি আমাদের নিকট বড় আশার পাত্র ছিলে। আমাদের পিতৃপুরুষরা যার ইবাদত করত, তুমি কি আমাদের তার ইবাদত করতে নিষেধ করছ? আর যে বিষয়ের দিকে তুমি আমাদের আহবান জানাচ্ছ, সে সম্পর্কে আমরা বিভ্রান্তিকর সন্দেহে রয়েছি।" (৬২) সে বলল, "হে আমার কওম!
তোমরা কি ভেবে দেখেছ, আমি যদি আমার রবের পক্ষ থেকে আসা স্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে রহমত দান করে থাকেন, তবে আমি যদি তাঁর অবাধ্য হই তবে আল্লাহর পাকড়াও থেকে আমাকে কে রক্ষা করবে? তোমরা তো কেবল আমার ক্ষতিই বৃদ্ধি করছ।" (৬৩) "আর হে আমার কওম! আল্লাহর এই উষ্ট্রীটি তোমাদের জন্য এক নিদর্শন। সুতরাং তাকে আল্লাহর যমিনে চড়ে খেতে দাও এবং তাকে কোনো কষ্ট দিও না, অন্যথায় তোমাদের নিকটবর্তী আযাব পাকড়াও করবে।" (৬৪) অতঃপর তারা তার পা কেটে ফেলল (তাকে হত্যা করল)। তখন সে বলল, "তোমরা তোমাদের ঘরে তিনটি দিন জীবন উপভোগ করে নাও।
এটি এমন এক প্রতিশ্রুতি যা মিথ্যা হবে না।" (৬৫) অতঃপর যখন আমার নির্দেশ আসল, তখন আমি সালেহকে এবং যারা তাঁর সাথে ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে রহমতে রক্ষা করলাম এবং রক্ষা করলাম সেদিনের লাঞ্ছনা থেকে। নিশ্চয়ই তোমার রব শক্তিমান, মহাপরাক্রমশালী। (৬৬)আর যারা যুলুম করেছিল, এক বিকট শব্দ তাদেরকে পাকড়াও করল; ফলে তারা তাদের ঘরবাড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকল (মৃত অবস্থায়)। (৬৭) যেন তারা সেখানে কখনোই বসবাস করেনি। জেনে রেখো! নিশ্চয়ই সামুদ জাতি তাদের রবের সাথে কুফরি করেছিল। জেনে রেখো! ধ্বংসই ছিল সামুদ জাতির পরিণাম। (৬৮)(১). দেখুন ১৩ খণ্ড, ১১২ পৃষ্ঠা।(২).
দেখুন ১৫ খণ্ড, ৮৯ পৃষ্ঠা এবং ১১২ পৃষ্ঠা।(৩). দেখুন ১৫ খণ্ড, ৮৯ পৃষ্ঠা এবং ১১২ পৃষ্ঠা।(৪). দেখুন ২ খণ্ড, ৩০৮ পৃষ্ঠা এবং পরবর্তী অংশ।
