Hud

হুদ: 9

11:9
টেক্সট কপি

মূল আরবি

وَلَئِنْ أَذَقْنَا ٱلْإِنسَـٰنَ مِنَّا رَحْمَةً ثُمَّ نَزَعْنَـٰهَا مِنْهُ إِنَّهُۥ لَيَـُٔوسٌ كَفُورٌ

English Translations

Sahih International

And if We give man a taste of mercy from Us and then We withdraw it from him, indeed, he is despairing and ungrateful.

Muhsin Khan

And if We give man a taste of Mercy from Us, and then withdraw it from him, verily! He is despairing, ungrateful.

Taqi Usmani

If We give man a taste of Our mercy and then take it away from him, he becomes highly desperate, utterly ungrateful.

Abul Ala Maududi

If We ever favour man with Our Mercy, and then take it away from him, he becomes utterly desperate, totally ungrateful.

Pickthall

And if we cause man to taste some mercy from Us and afterward withdraw it from him, lo! he is despairing, thankless.

Yusuf Ali

If We give man a taste of Mercy from Ourselves, and then withdraw it from him, behold! he is in despair and (falls into) blasphemy.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আমি যদি মানুষকে আমার পক্ষ থেকে রহমত আস্বাদন করাই অতঃপর তা তার থেকে ছিনিয়ে নেই, তখন সে অবশ্যই হতাশ ও অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর যদি আমি মানুষকে আমার পক্ষ থেকে রহমত আস্বাদন করাই, অতঃপর তার থেকে তা কেড়ে নেই, নিশ্চয় সে তখন (হয়ে পড়বে) নিরাশ, অকৃতজ্ঞ।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আমি যদি মানুষকে আমার পক্ষ হতে করুণার স্বাদ গ্রহণ করাই, অতঃপর তার রাশ টেনে ধরি তাহলে সে নিরাশ ও অকৃতজ্ঞ হয়ে যায়।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর যদি আমরা মানুষকে আমাদের কাছ থেক রহমত আস্বাদন করাই ও পড়ে তার কাছ থেকে আমরা তা ছিনিয়ে নেই তবে তো নিশ্চয় সে হয়ে পড়ে হতাশ ও অকৃতজ্ঞ।

ফাতহুল মাজীদ

আর যদি আমি মানুষকে আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ আস্বাদন করাই ও পরে তার নিকট হতে তা ছিনিয়ে নেই তখন সে অবশ্যই হতাশ ও অকৃতজ্ঞ হবে।

মুখতাসার

৯. আমি যদি মানুষকে আমার পক্ষ থেকে কোন নিয়ামত দান করি যেমন: সুস্বাস্থ্য ও ধনাঢ্যতা, অতঃপর উক্ত নিয়ামত তার থেকে ছিনিয়ে নেই, নিশ্চয়ই তখন সে আল্লাহর রহমত থেকে বড় হতাশ হয়ে যায় এবং আল্লাহর নিয়ামতের বড় অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে। যখন আল্লাহ তার থেকে উক্ত নিয়ামত ছিনিয়ে নেয় তখন সে তা ভুলে যায়।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

৯-১১ নং আয়াতের তাফসীর পূর্ণ ঈমানদারগণ ছাড়া সাধারণভাবে জনগণের মধ্যে যে সব খারাপ গুণ ও বদ অভ্যাস রয়েছে, আল্লাহ তাআ’লা এখানে তারই বর্ণনা দিচ্ছেন যে, মানুষ সুখের পর দুঃখ-কষ্টে পতিত হলে সম্পূর্ণরূপে নিরাশ ও অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে এবং মহান আল্লাহর প্রতি বদ ধারণা পোষণ করতে শুরু করে দেয়, ইতিপূর্বে যেন সে কোন আরাম ও সুখ ভোগ করেই নাই। অথবা এই দুঃখ-কষ্টের পর পুনরায় যে তাদের উপর শান্তি নেমে আসতে পারে এ আশাও তারা করে না। পক্ষান্তরে, দুঃখ-কষ্টে পতিত হওয়ার পর যদি সুখ শান্তি তাদেরকে স্পর্শ করে তখন তারা বলতে শুরু করে যে, দুঃসময় তাদের উপর থেকে সরে গেছে।

এ কথা বলে তারা খুশীতে আত্মহারা হয়ে যায় এবং অন্যদের উপর গর্ব করতে থাকে। এর পর আবার যে তাদের উপর দুঃখ বিপদ নেমে আসতে পারে সে সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণরূপে বেখেয়াল ও নিশ্চিন্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু যারা মু’মিন তারা এই বদ অভ্যাস থেকে মুক্ত। তারা দুঃখ-দুর্দশায় ধৈর্য ধারণ করে এবং সুখ ও আরামের সময় মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ও তার অনুগত হয়ে থাকে। এসব লোক এর বিনিময়ে ক্ষমা ও বড় পুরস্কার লাভ করে। যেমন হাদীসে এসেছে (রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন): “যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ! মু'মিনের উপর এমন কোন কষ্ট, বিপদ, দুঃখ ও চিন্তা পতিত হয় না যার কারণে আল্লাহ তাআ’লা তার গুণাহ মাফ না করেন, এমন কি একটা কাঁটা ফুটলেও।” সহীহ্ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে।

(যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন): “যাঁর হাতে আমার জীবন রয়েছে তাঁর শপথ! “মু'মিনের জন্যে আল্লাহর প্রত্যেকটা ফায়সালা কল্যাণকর হয়ে থাকে। সে সুখ শান্তির সময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, ফলে তা তার জন্যে কল্যাণকর হয় এবং দুঃখ-কষ্টের সময় ধৈর্য ধারণ করে, ফলে তখনই সে কল্যাণ লাভ করে থাকে।” এ জন্যেই আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ “আসরের সময়ের শপথ! নিশ্চয় মানুষ অত্যন্ত ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। কিন্তু যারা ঈমান আনে, ভাল কাজ করে, একে অপরকে সত্যের প্রতি উপদেশ দিতে থাকে এবং একে অন্যকে (আমলের) পাবন্দ থাকার উপদেশ দিতে থাকে। (তারাই ক্ষতি হতে রক্ষা পাবে)” মহান আল্লাহ আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “নিশ্চয় মানুষকে দুর্বল মনা করে সৃষ্টি করা হয়েছে।

যখন তাকে দুঃখ স্পর্শ করে তখন সে হায়-হুতাশ করতে থাকে। আর যখন সে স্বচ্ছল হয় তখন কার্পণ্য করতে শুরু করে। (৭০:১৯)

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর যদি আমরা মানুষকে আমাদের কাছ থেক রহমত আস্বাদন করাই [১] ও পড়ে তার কাছ থেকে আমরা তা ছিনিয়ে নেই তবে তো নিশ্চয় সে হয়ে পড়ে হতাশ ও অকৃতজ্ঞ।

[১] অন্য আয়াতেও আল্লাহ্ তা'আলা এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “আর যদি দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করার পর আমরা তাকে আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহের আস্বাদন দেই তখন সে অবশ্যই বলে থাকে, “এ আমার প্রাপ্য এবং আমি মনে করি না যে, কিয়ামত সংঘটিত হবে। আর আমি যদি আমার রবের কাছে ফিরে যাইও তার কাছে নিশ্চয় আমার জন্য কল্যাণই থাকবে।’ অতএব, আমরা কাফিরদেরকে তাদের আমল সম্বন্ধে অবশ্যই অবহিত করব এবং তাদেরকে অবশ্যই আস্বাদন করাব কঠোর শাস্তি " [সূরা ফুসসিলাত: ৫০] আরও বলেন, “আর আমরা যখন মানুষকে আমাদের পক্ষ থেকে কোন রহমত আস্বাদন করাই তখন সে এতে উৎফুল্ল হয় এবং যখন তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদের বিপদ-আপদ ঘটে তখন তো মানুষ হয়ে পড়ে খুবই অকৃতজ্ঞ " [সূরা আশ-শূরা ৪৮]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা হুদ (১১): আয়াত ৯ থেকে ১১] পূর্ণ পৃষ্ঠা

সময় ও বছরকে ‘উম্মত’ বলা হয়েছে কারণ উম্মত (জাতি বা প্রজন্ম) এর মধ্যেই অবস্থান করে। আবার বলা হয়েছে: এটি একটি উহ্য মুদাফ (সম্বন্ধপদ) এর ভিত্তিতে ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ হলো এমন এক সম্প্রদায়ের আগমন পর্যন্ত যাদের মধ্যে বিশ্বাসী বা ঈমানদার কেউ থাকবে না, ফলে তারা ধ্বংসের যোগ্য হবে। অথবা এমন এক সম্প্রদায়ের বিলুপ্তি পর্যন্ত যাদের মধ্যে ঈমানদাররা রয়েছে, অতঃপর তাদের বিলুপ্তির পর এমন কেউ অবশিষ্ট থাকবে না যে ঈমান আনবে। ‘উম্মত’ শব্দটি একটি বহুঅর্থবোধক শব্দ যা আটটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: প্রথমত, উম্মত দ্বারা দল বা সমষ্টি বোঝায়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “তিনি সেখানে মানুষের একটি দলকে দেখতে পেলেন” (আল-কাসাস: ২৩)।

দ্বিতীয়ত, উম্মত হলো নবীদের (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) অনুসারীবৃন্দ। তৃতীয়ত, উম্মত হলো এমন এক ব্যক্তি যিনি সমস্ত কল্যাণের আধার এবং যাঁর অনুসরণ করা হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “নিশ্চয়ই ইবরাহিম ছিলেন এক উম্মত (আদর্শ নেতা), আল্লাহর অনুগত এবং একনিষ্ঠ” (আন-নাহল: ১২০)। চতুর্থত, উম্মত দ্বারা দ্বীন বা ধর্মাদর্শ বোঝায়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক আদর্শের (ধর্মের) ওপর পেয়েছি” (আয-যুখরুফ: ২২)। পঞ্চমত, উম্মত দ্বারা সময় ও কাল বোঝায়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “আর যদি আমি তাদের থেকে আযাব এক নির্ধারিত সময় (উম্মত) পর্যন্ত পিছিয়ে দেই” এবং একইভাবে মহান আল্লাহর বাণী: “এবং দীর্ঘকাল (উম্মত) পর তার স্মরণে এল” (ইউসুফ: ৪৫)।

ষষ্ঠত, উম্মত দ্বারা মানুষের দৈহিক গঠন বা উচ্চতা বোঝায়; এরূপ ক্ষেত্রে বলা হয়: ‘অমুক ব্যক্তি সুন্দর উম্মত বিশিষ্ট’ অর্থাৎ সুন্দর দৈহিক গঠনসম্পন্ন। সপ্তমত, উম্মত হলো সেই ব্যক্তি যিনি একাকী নিজের দ্বীনের ওপর অটল থাকেন এবং কেউ তাঁর সাথে শরিক থাকে না; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “যায়িদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইলকে হাশরের ময়দানে একাকী এক উম্মত হিসেবে পুনরুত্থিত করা হবে।” অষ্টমত, উম্মত দ্বারা মাতা বোঝায়; বলা হয়: ‘এটি যায়িদের উম্মত’, অর্থাৎ যায়িদের মা। (তারা অবশ্যই বলবে, কিসে তাকে আটকে রেখেছে?) অর্থাৎ আযাবকে। তারা এ কথাটি বলেছিল হয় আযাব বিলম্বিত হওয়ার কারণে তাকে অস্বীকার করার জন্য, অথবা তাড়াহুড়ো ও উপহাস করার উদ্দেশ্যে, অর্থাৎ কিসে আযাবকে আমাদের থেকে আটকে রেখেছে?

(জেনে রেখো, যেদিন তা তাদের কাছে আসবে, তা তাদের থেকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে না) বলা হয়েছে: এটি বদর যুদ্ধে মুশরিকদের নিহত হওয়া এবং উপহাসকারীদের ওপর জিবরাঈলের শাস্তির বিষয়, যা সামনে বিস্তারিত আসবে। (এবং তাদেরকে বেষ্টন করল) অর্থাৎ আপতিত হলো এবং পরিবেষ্টন করল। (যা নিয়ে তারা উপহাস করত) অর্থাৎ তাদের উপহাসের প্রতিদান; এখানে সম্বন্ধপদ উহ্য রয়েছে। ‌‌[সূরা হুদ (১১): আয়াত ৯ থেকে ১১]আর যদি আমি মানুষকে আমার পক্ষ থেকে কোনো রহমতের স্বাদ আস্বাদন করতে দেই, অতঃপর তা তার থেকে ছিনিয়ে নেই, তবে সে নিরাশ ও অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে (৯)। আর যদি তার ওপর আপতিত দুঃখ-কষ্টের পর তাকে নেয়ামতের স্বাদ আস্বাদন করতে দেই, তবে সে অবশ্যই বলবে, ‘আমার থেকে বিপদ-আপদ দূর হয়ে গেছে’; নিশ্চয়ই সে উল্লসিত ও অহঙ্কারী (১০)।

কিন্তু তারা ছাড়া যারা ধৈর্য ধারণ করেছে ও সৎকাজ করেছে; তাদের জন্যই রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার (১১)।মহান আল্লাহর বাণী: (আর যদি আমি মানুষকে আমার পক্ষ থেকে কোনো রহমতের স্বাদ আস্বাদন করতে দেই) ‘মানুষ’ শব্দটি এখানে সকল কাফেরদের ক্ষেত্রে জাতিগতভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। আবার বলা হয়েছে: এখানে মানুষ বলতে ওয়ালিদ ইবনুল মুগিরাকে বোঝানো হয়েছে এবং তার ব্যাপারেই এই আয়াত নাযিল হয়েছে। আবার বলা হয়েছে: আব্দুল্লাহ ইবনে...(১). দ্রষ্টব্য ১৩শ খণ্ড, ২৬৭ পৃষ্ঠা। [ ..... ](২). দ্রষ্টব্য ১০ম খণ্ড, ১৯৭ এবং ৬২ পৃষ্ঠা।(৩). দ্রষ্টব্য ১৬শ খণ্ড, ৭৪ পৃষ্ঠা।(৪).

দ্রষ্টব্য এই খণ্ডের ২০১ পৃষ্ঠা।(৫). (যায়িদ এক উম্মত হিসেবে পুনরুত্থিত হবে) কারণ তিনি মুশরিকদের ধর্ম থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বেই তাঁর ওপর ঈমান এনেছিলেন।(৬). দ্রষ্টব্য ১০ম খণ্ড, ১৯৭ এবং ৬২ পৃষ্ঠা।(৭). ‘আইন’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘জামি’ (সংকলক বা সামগ্রিক)।