Hud
হুদ: 90
11 হুদ Hud · 123 আয়াত هود
মূল আরবি
وَٱسْتَغْفِرُوا۟ رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوٓا۟ إِلَيْهِ ۚ إِنَّ رَبِّى رَحِيمٌ وَدُودٌ
English Translations
And ask forgiveness of your Lord and then repent to Him. Indeed, my Lord is Merciful and Affectionate."
"And ask forgiveness of your Lord and turn unto Him in repentance. Verily, my Lord is Most Merciful, Most Loving."
Seek forgiveness from your Lord, then turn towards Him in repentance. Surely, my Lord is very merciful, most loving.”
Seek the forgiveness of your Lord and turn to Him in repentance. Surely my Lord is Ever Merciful, Most Loving.
Ask pardon of your Lord and then turn unto Him (repentant). Lo! my Lord is Merciful, Loving.
"But ask forgiveness of your Lord, and turn unto Him (in repentance): For my Lord is indeed full of mercy and loving-kindness."
বাংলা অনুবাদ
তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁরই নিকট তাওবাহ কর। আমার প্রতিপালক তো পরম দয়ালু, বড়ই ভালবাসা পোষণকারী।’
‘আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ইস্তিগফার কর অতঃপর তাঁরই কাছে তাওবা কর। নিশ্চয় আমার রব পরম দয়ালু, অতীব ভালবাসা পোষণকারী’।
আর তোমরা তোমাদের (পাপের জন্য) রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁর দিকে মনোনিবেশ কর; নিশ্চয়ই আমার রাব্ব পরম দয়ালু, অতি প্রেমময়।
‘আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তাঁর দিকে ফিরে আস; আমার রব তো পরম দয়ালু, অতি স্নেহময়।’
তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন কর; আমার প্রতিপালক পরম দয়ালু, ভালবাসা পোষণকারী।’
৯০. তোমরা নিজেদের রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁরই নিকট তোমাদের পাপসমূহের জন্য তাওবা কর। নিশ্চয়ই আমার রব তাওবাকারীদের প্রতি পরম দয়ালু এবং তাদের প্রতি তিনি বড়ই ভালবাসা পোষণকারী।
তাফসীর
11:89
‘আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তাঁর দিকে ফিরে আস; আমার রব তো পরম দয়ালু, অতি স্নেহময় [১]।’
[১] অর্থাৎ তোমরা ইস্তেগফার ও তাওবা কর। কারণ এর মাধ্যমে আল্লাহ্ তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। মহান আল্লাহ্ নির্দয় নন। নিজের সৃষ্টির সাথে তাঁর কোন শক্রতা নেই। তোমরা যতই দোষ করো না কেন যখনই তোমরা নিজেদের কৃতকর্মের ব্যাপারে লজ্জিত হয়ে তাঁর দিকে ফিরে আসবে তখনই তাঁর হৃদয়কে নিজেদের জন্য প্রশস্ততর পাবে। কারণ নিজের সৃষ্ট জীবের প্রতি তাঁর স্নেহ ও ভালোবাসার অন্ত নেই। এ বিষয়বস্তুটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি সূক্ষ্ম দৃষ্টান্ত দিয়ে সুস্পষ্ট করেছেন। তিনি একটি দৃষ্টান্ত এভাবে দিয়েছেন যে, তোমাদের কোন ব্যক্তির উট যদি কোন বিশুষ্ক তৃণপানিহীন এলাকায় হারিয়ে গিয়ে থাকে, তার পিঠে তার পানাহারের সামগ্ৰীও থাকে এবং সে ব্যক্তি তার খোঁজ করতে করতে নিরাশ হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় জীবন সম্পর্কে নিরাশ হয়ে সে একটি গাছের নীচে শুয়ে পড়ে। ঠিক এমনি অবস্থায় সে দেখে তার উটটি তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এ সময় সে যে পরিমাণ খুশি হবে আল্লাহর পথভ্রষ্ট বান্দা সঠিক পথে ফিরে আসার ফলে আল্লাহ তার চেয়ে অনেক বেশী খুশী হন। [ দেখুন, বুখারী: ৬৩০৮; মুসলিম: ২৭88]
[سورة هود (11): الآيات 84 الى 95] পূর্ণ পৃষ্ঠা
তার (রাসূলুল্লাহর) পক্ষ থেকে বর্ণিত এক রেওয়ায়েতে আছে: "দিন ও রাত ততক্ষণ পর্যন্ত শেষ হবে না যতক্ষণ না এই উম্মত পুরুষদের পশ্চাৎপথকে (মৈথুনের জন্য) বৈধ মনে করবে, যেমন তারা নারীদের পশ্চাৎপথকে বৈধ মনে করেছে; ফলে এই উম্মতের বিভিন্ন দলের ওপর আপনার রবের পক্ষ থেকে পাথর বর্ষিত হবে।" এবং বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো এই জনপদসমূহ জালেমদের থেকে দূরে নয়, আর এগুলো সিরিয়া ও মদিনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। আর "দূরে" শব্দটি পুরুষবাচক রূপে এসেছে ‘একটি দূরবর্তী স্থান’ অর্থটি বুঝাতে। আর যে পাথরগুলো বর্ষিত হয়েছিল সে সম্পর্কে দুটি বক্তব্য রয়েছে: প্রথমটি— জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) যখন শহরগুলোকে উপরে উঠিয়েছিলেন, তখন সেগুলোর ওপর পাথর বর্ষিত হয়েছিল।
দ্বিতীয়টি— শহরবাসীদের মধ্যে যারা সে সময় শহরের ভেতরে ছিল না বরং বাইরে অবস্থান করছিল, তাদের ওপর পাথর বর্ষিত হয়েছিল। [সুরা হুদ (১১): আয়াত ৮৪ থেকে ৯৫]এবং মাদইয়ানবাসীদের নিকট তাদের ভাই শুয়াইবকে (প্রেরণ করেছি), সে বলল: হে আমার জাতি, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই। আর তোমরা মাপ ও ওজনে কম দিও না। আমি তোমাদেরকে সচ্ছল অবস্থায় দেখছি, কিন্তু আমি তোমাদের ওপর এক পরিবেষ্টনকারী দিনের আজাবের ভয় করছি। (৮৪) আর হে আমার জাতি, তোমরা ইনসাফের সাথে মাপ ও ওজন পূর্ণ করো এবং মানুষকে তাদের প্রাপ্য জিনিস কম দিও না, আর পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী হয়ে ফাসাদ করে বেড়িয়ো না।
(৮৫) আল্লাহর দেওয়া উদ্বৃত্ত অংশই তোমাদের জন্য কল্যাণকর যদি তোমরা মুমিন হও। আর আমি তোমাদের ওপর কোনো পাহারাদার নই। (৮৬) তারা বলল: হে শুয়াইব, আপনার সালাত কি আপনাকে এই নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃপুরুষরা যার ইবাদত করত আমাদের তা ছেড়ে দিতে হবে, অথবা আমাদের ধন-সম্পদে আমরা ইচ্ছামতো যা করি তা বর্জন করতে হবে? আপনি তো অত্যন্ত সহনশীল ও সুপথপ্রাপ্ত! (৮৭) সে বলল: হে আমার জাতি, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, আমি যদি আমার রবের পক্ষ থেকে এক সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর থাকি এবং তিনি যদি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে উত্তম রিজিক দান করেন (তবে আমি কি সত্য থেকে বিমুখ হতে পারি)?
আর আমি তোমাদের যা থেকে নিষেধ করছি, আমি তার বিরুদ্ধাচরণ করে নিজেই তা করতে চাই না। আমি কেবল সাধ্যমতো সংশোধন করতে চাই। আর আমার সফলতা তো কেবল আল্লাহর সাহায্যেই সম্ভব। আমি তাঁর ওপরই ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করি। (৮৮)আর হে আমার জাতি, আমার সাথে তোমাদের শত্রুতা যেন তোমাদেরকে এমন পাপে লিপ্ত না করে যার ফলে তোমাদের ওপর সেরূপ বিপদ আসে যেরূপ নূহের জাতির ওপর অথবা হূদের জাতির ওপর কিংবা সালিহের জাতির ওপর এসেছিল। আর লূতের জাতি তো তোমাদের থেকে দূরে নয়। (৮৯) আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁর দিকে ফিরে আসো।
নিশ্চয়ই আমার রব পরম দয়ালু ও অত্যন্ত প্রেমময়। (৯০) তারা বলল: হে শুয়াইব, আপনি যা বলছেন তার অনেক কিছুই আমরা বুঝি না। আর আমরা তো আমাদের মধ্যে আপনাকে দুর্বল হিসেবে দেখছি। আর আপনার পরিবার-পরিজন না থাকলে আমরা অবশ্যই আপনাকে পাথর ছুড়ে মারতাম।
