Hud
হুদ: 87
11 হুদ Hud · 123 আয়াত هود
মূল আরবি
قَالُوا۟ يَـٰشُعَيْبُ أَصَلَوٰتُكَ تَأْمُرُكَ أَن نَّتْرُكَ مَا يَعْبُدُ ءَابَآؤُنَآ أَوْ أَن نَّفْعَلَ فِىٓ أَمْوَٰلِنَا مَا نَشَـٰٓؤُا۟ ۖ إِنَّكَ لَأَنتَ ٱلْحَلِيمُ ٱلرَّشِيدُ
English Translations
They said, "O Shuʿayb, does your prayer [i.e., religion] command you that we should leave what our fathers worship or not do with our wealth what we please? Indeed, you are the forbearing, the discerning!"
They said: "O Shu'aib! Does your Salat (prayer) (i.e. the prayers which you offer has spoiled your mind, so you) command that we leave off what our fathers used to worship, or that we leave off doing what we like with our property? Verily, you are the forbearer, right-minded!" (They said this sarcastically).
They said, “O Shu‘aib, does your Salāh (prayer) command you that we should forsake what our fathers used to worship or that we should not deal with our wealth as we please? You pretend to be the only man of wisdom and guidance.”
They replied: 'O Shu'ayb! Does your Prayer enjoin upon you that we should forsake the deities whom our forefathers worshipped, or that we should give up using our wealth as we please? Do you fancy that you, and only you, are forbearing and right-directed?'
They said: O Shu'eyb! Doth thy way of prayer command thee that we should forsake that which our fathers (used to) worship, or that we (should leave off) doing what we will with our own property. Lo! thou art the mild, the guide to right behaviour.
They said: "O Shu'aib! Does thy (religion of) prayer command thee that we leave off the worship which our fathers practised, or that we leave off doing what we like with our property? truly, thou art the one that forbeareth with faults and is right-minded!"
বাংলা অনুবাদ
তারা বলল, ‘হে শু‘আয়ব! তোমার ইবাদত কি তোমাকে এই হুকুম দেয় যে, আমাদের পিতৃপুরুষ যার ‘ইবাদাত করত আমরা তা পরিত্যাগ করি বা আমাদের ধন-সম্পদের ব্যাপারে আমাদের ইচ্ছে (মাফিক ব্যয় করা) বর্জন করি, তুমি তো দেখছি বড়ই ধৈর্যশীল, ভাল মানুষ।’
তারা বলল, ‘হে শু‘আইব, তোমার সালাত কি তোমাকে এই নির্দেশ প্রদান করে যে, আমাদের পিতৃপুরুষগণ যাদের ইবাদাত করত, আমরা তাদের ত্যাগ করি? অথবা আমাদের সম্পদে আমরা ইচ্ছামত যা করি তাও (ত্যাগ করি?) তুমি তো বেশ সহনশীল সুবোধ’!
তারা বললঃ হে শু‘আইব! তোমার ধর্মনিষ্ঠা কি তোমাকে এই শিক্ষা দিচ্ছে যে, আমরা ঐ সব উপাস্য বর্জন করি যাদের উপাসনা আমাদের পিতৃ-পুরুষরা করে আসছে? অথবা এটা বর্জন করতে বল যে, আমরা নিজেদের মালে নিজেদের ইচ্ছানুসারে ব্যবস্থা অবলম্বন করি? বাস্তবিকই তুমি হচ্ছ বড় সহিষ্ণু, সদাচারী।
তারা বলল, ‘হে শু’আইব ! তোমার সালাত কি তোমাকে নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃ-পুরুষেরা যারা ‘ইবাদত করত আমাদেরকে তা বর্জন করতে হবে অথবা আমরা আমাদের ধন-সম্পদ সম্পর্কে যা করি তাও ? তুমি তো বেশ সহিষ্ণু, সুবোধ !’
তারা বলল: ‘হে শু‘আয়ব! তোমার সালাত কি তোমাকে নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃ-পুরুষেরা যার ‘ইবাদত করত আমরা তা বর্জন করি অথবা আমরা আমাদের ধন-সম্পদ সম্পর্কে যা করি তাও? তুমি তো অবশ্যই সহিষ্ণু, ভাল মানুষ।’
৮৭. শুআইবকে তাঁর স্বজাতি বলল: ওহে শুআইব! আল্লাহর জন্য আদায় করা তোমার নামায কি তোমাকে নির্দেশ দেয় যে, আমাদের বাপ-দাদা যে সব মূর্তির ইবাদত করত তা আমরা পরিত্যাগ করি এবং তোমাকে এমনও নির্দেশ দেয় যে, আমাদের ধন-সম্পদের ইচ্ছা মাফিক খরচ ও তা বৃদ্ধির অধিকার বর্জন করি?! তুমি তো অবশ্যই বড় সহনশীল ও সৎ ব্যক্তি। নিশ্চয়ই তুমি বড় জ্ঞানী ও বিজ্ঞ, যেমনটি তোমাকে আমরা এ দাওয়াতের পূর্বে জেনেছি। সুতরাং তোমার এমন কী হল?!
তাফসীর
হযরত আ’মাশ (রঃ) বলেন যে, এখানে (আরবি) দ্বারা (আরবি) উদ্দেশ্য। হযরত শুআ’ইবের (আঃ) কওম তাঁকে ঠাট্টা করে বললো: “ওহে, তুমি খুব ভাল কথাই বলছো! তোমার পঠন তোমাকে এটাই হুকুম করছে যে, আমরা আমাদের পুর্ব পুরুষদের রীতিনীতি পরিত্যাগ করতঃ আমাদের পুরাতন উপাস্যদের উপাসনা ছেড়ে দেই! আর এটাও খুব মজার কথা যে, আমরা আমাদের নিজেদের মালেরও মালিক থাকবো না, সুতরাং এ ব্যাপারে যা ইচ্ছা তাই করতেও পারবো না। কাউকে মাপে ও ওজনে কমও দিতে পারবো না।” হযরত হাসান (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহর কসম! হযরত শুআ’ইবের (আঃ) নামাযের হুকুম এটাই ছিল যে, তিনি তাদেরকে গায়রুল্লাহর ইবাদত ও মাখলুকের হক বিনষ্ট করা হতে বিরত রাখবেন।
সাওরী (রঃ) বলেনঃ “আমরা নিজেদের মালে নিজেদের ইচ্ছানুসারে ব্যবস্থা অবলম্বন করি’ তাদের এই উক্তি দ্বারা তারা বুঝাতে চেয়েছেঃ ‘আমরা যাকাত কেন দেবো?' তারা শুধু বিদ্রুপ করেই হযরত শুআ’ইবকে (আঃ) জ্ঞানবান ও ধর্মপরায়ণ বলেছিল।
তারা বলল, ‘হে শু’আইব ! তোমার সালাত কি তোমাকে নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃ-পুরুষেরা যারা ‘ইবাদত করত আমাদেরকে তা বর্জন করতে হবে অথবা আমরা আমাদের ধন-সম্পদ সম্পর্কে যা করি তাও [১] ? তুমি তো বেশ সহিষ্ণু, সুবোধ !’
[১] এত কিছু শোনার পরেও তার কওমের লোকেরা পূর্ববতী বর্বর পাপিষ্ঠদের ন্যায় একই জবাব দিল। তারা নবীর আহবানকে প্রত্যাখ্যান করে আল্লাহর নবীকে ব্যঙ্গবিদ্রুপ করে বললঃ আপনার নামায কি আপনাকে শিখায় যে, আমরা আমাদের ঐসব উপাস্যের পুজা ছেড়ে দেই, আমাদের পূর্বপুরুষেরা যার পুজা করে আসছে। আর আমাদের ধন-সম্পদকে নিজেদের ইচ্ছামত ব্যবহার করার অধিকারী না থাকি? কোনটা হালাল কোনটা হারাম তা আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে করে সব কাজ করতে হবে? শু'আইব আলাইহিস সালাম সম্পর্কে সারাদেশে প্রসিদ্ধ ছিল যে, তিনি অধিকাংশ সময় নামায ও নফল এবাদতে মগ্ন থাকেন। [কুরতুবী] তাই তারা তার মূল্যবান নীতি বাক্যসমূহকে বিদ্রুপ করে বলতো- আপনার নামায কি আপনাকে এসব কথাবার্তা শিক্ষা দিচ্ছে?
হাসান বসরী বলেন, অবশ্যই তার সালাত তাকে আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত অন্যের ইবাদত করতে নিষেধ করছে। [ইবন কাসীর] তাদের এসব মন্তব্য দ্বারা বুঝা যায় যে, এরা দ্বীনকে শুধু কতিপয় আচার-আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ মনে করতো। ব্যবহারিক ক্ষেত্রে ধর্মকে কোন দখল দিত না। তারা মনে করত, প্রত্যেকে নিজ নিজ ধন-সম্পদ যেমন খুশী তেমন ভোগ দখল করতে পারে, এ ক্ষেত্রে কোন বিধি-নিষেধ আরোপ করা ধর্মের কাজ নয়। [মুহাম্মাদ আল-মাক্কী: আত- তাইসীর ফী আহাদীসিত তাফসীর ৩/১৩৯] সুফিয়ান আস-সাওরী বলেন, তারা এটা বলেছিল যাকাত দেয়া থেকে বিরত থাকতে। [ইবন কাসীর]
এ থেকে একথাও আন্দাজ করা যেতে পারে যে, জীবনকে ধর্মীয় ও পার্থিব এ দু’ভাগে ভাগ করার চিন্তা আজকের কোন নতুন চিন্তা নয় বরং আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগে শু'আইব আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ও এ বিভক্তির উপর ঠিক তেমনিই জোর দিয়েছিল যেমন আজকের যুগে পাশ্চাত্যবাসীরা এবং তাদের প্রাচ্যদেশীয় শিষ্যবৃন্দ জোর দিচ্ছেন।
[سورة هود (11): الآيات 84 الى 95] পূর্ণ পৃষ্ঠা
তার (রাসূলুল্লাহর) পক্ষ থেকে বর্ণিত এক রেওয়ায়েতে আছে: "দিন ও রাত ততক্ষণ পর্যন্ত শেষ হবে না যতক্ষণ না এই উম্মত পুরুষদের পশ্চাৎপথকে (মৈথুনের জন্য) বৈধ মনে করবে, যেমন তারা নারীদের পশ্চাৎপথকে বৈধ মনে করেছে; ফলে এই উম্মতের বিভিন্ন দলের ওপর আপনার রবের পক্ষ থেকে পাথর বর্ষিত হবে।" এবং বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো এই জনপদসমূহ জালেমদের থেকে দূরে নয়, আর এগুলো সিরিয়া ও মদিনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। আর "দূরে" শব্দটি পুরুষবাচক রূপে এসেছে ‘একটি দূরবর্তী স্থান’ অর্থটি বুঝাতে। আর যে পাথরগুলো বর্ষিত হয়েছিল সে সম্পর্কে দুটি বক্তব্য রয়েছে: প্রথমটি— জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) যখন শহরগুলোকে উপরে উঠিয়েছিলেন, তখন সেগুলোর ওপর পাথর বর্ষিত হয়েছিল।
দ্বিতীয়টি— শহরবাসীদের মধ্যে যারা সে সময় শহরের ভেতরে ছিল না বরং বাইরে অবস্থান করছিল, তাদের ওপর পাথর বর্ষিত হয়েছিল। [সুরা হুদ (১১): আয়াত ৮৪ থেকে ৯৫]এবং মাদইয়ানবাসীদের নিকট তাদের ভাই শুয়াইবকে (প্রেরণ করেছি), সে বলল: হে আমার জাতি, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই। আর তোমরা মাপ ও ওজনে কম দিও না। আমি তোমাদেরকে সচ্ছল অবস্থায় দেখছি, কিন্তু আমি তোমাদের ওপর এক পরিবেষ্টনকারী দিনের আজাবের ভয় করছি। (৮৪) আর হে আমার জাতি, তোমরা ইনসাফের সাথে মাপ ও ওজন পূর্ণ করো এবং মানুষকে তাদের প্রাপ্য জিনিস কম দিও না, আর পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী হয়ে ফাসাদ করে বেড়িয়ো না।
(৮৫) আল্লাহর দেওয়া উদ্বৃত্ত অংশই তোমাদের জন্য কল্যাণকর যদি তোমরা মুমিন হও। আর আমি তোমাদের ওপর কোনো পাহারাদার নই। (৮৬) তারা বলল: হে শুয়াইব, আপনার সালাত কি আপনাকে এই নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃপুরুষরা যার ইবাদত করত আমাদের তা ছেড়ে দিতে হবে, অথবা আমাদের ধন-সম্পদে আমরা ইচ্ছামতো যা করি তা বর্জন করতে হবে? আপনি তো অত্যন্ত সহনশীল ও সুপথপ্রাপ্ত! (৮৭) সে বলল: হে আমার জাতি, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, আমি যদি আমার রবের পক্ষ থেকে এক সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর থাকি এবং তিনি যদি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে উত্তম রিজিক দান করেন (তবে আমি কি সত্য থেকে বিমুখ হতে পারি)?
আর আমি তোমাদের যা থেকে নিষেধ করছি, আমি তার বিরুদ্ধাচরণ করে নিজেই তা করতে চাই না। আমি কেবল সাধ্যমতো সংশোধন করতে চাই। আর আমার সফলতা তো কেবল আল্লাহর সাহায্যেই সম্ভব। আমি তাঁর ওপরই ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করি। (৮৮)আর হে আমার জাতি, আমার সাথে তোমাদের শত্রুতা যেন তোমাদেরকে এমন পাপে লিপ্ত না করে যার ফলে তোমাদের ওপর সেরূপ বিপদ আসে যেরূপ নূহের জাতির ওপর অথবা হূদের জাতির ওপর কিংবা সালিহের জাতির ওপর এসেছিল। আর লূতের জাতি তো তোমাদের থেকে দূরে নয়। (৮৯) আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁর দিকে ফিরে আসো।
নিশ্চয়ই আমার রব পরম দয়ালু ও অত্যন্ত প্রেমময়। (৯০) তারা বলল: হে শুয়াইব, আপনি যা বলছেন তার অনেক কিছুই আমরা বুঝি না। আর আমরা তো আমাদের মধ্যে আপনাকে দুর্বল হিসেবে দেখছি। আর আপনার পরিবার-পরিজন না থাকলে আমরা অবশ্যই আপনাকে পাথর ছুড়ে মারতাম।
