Hud

হুদ: 86

11:86
টেক্সট কপি

মূল আরবি

بَقِيَّتُ ٱللَّهِ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ۚ وَمَآ أَنَا۠ عَلَيْكُم بِحَفِيظٍ

English Translations

Sahih International

What remains [lawful] from Allāh is best for you, if you would be believers. But I am not a guardian over you."

Muhsin Khan

"That which is left by Allah for you (after giving the rights of the people) is better for you, if you are believers. And I am not set over you as a guardian.

Taqi Usmani

Whatever is allowed by Allah to retain (lawfully) is better for you, if you are believers. And I am not a watchman over you.

Abul Ala Maududi

The gains that Allah lets you retain are better for you, if you indeed believe. In any case, I have not been appointed a keeper over you.

Pickthall

That which Allah leaveth with you is better for you if ye are believers; and I am not a keeper over you.

Yusuf Ali

"That which is left you by Allah is best for you, if ye (but) believed! but I am not set over you to keep watch!"

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আল্লাহর অনুমোদিত উদ্বৃত্ত (অর্থাৎ লাভ) তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা মু’মিন হও, আমি তোমাদের পর্যবেক্ষক নই।’

রাওয়াই আল-বায়ান

‘আল্লাহর দেয়া উদ্বৃত্ত লাভ তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা মুমিন হও। আর আমি তো তোমাদের হিফাযতকারী নই’।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আল্লাহ প্রদত্ত যা অবশিষ্ট থাকে তা’ই তোমাদের জন্য অতি উত্তম যদি তোমাদের বিশ্বাস হয়, আর আমি তোমাদের পাহারাদার নই।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

‘যদি তোমরা মুমিন হও তবে আল্লাহ্‌ অনুমোদিত যা বাকী থাকবে তা তোমাদের জন্য উত্তম; আর আমি তোমাদের তত্ত্বাবধায়ক নই।’

ফাতহুল মাজীদ

যদি তোমরা মু’মিন হও তবে আল্লাহ অনুমোদিত যা বাকী লভ্যাংশ থাকবে তোমাদের জন্য তা উত্তম; আমি তোমাদের তত্ত্বাবধায়ক নই।’

মুখতাসার

৮৬. ইনসাফের সাথে মানুষের হক পূর্ণ করার পর আল্লাহর অনুমোদিত অবশিষ্টটুকুই ঠকিয়ে ও জমিনে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে অধিক অর্জন করা অপেক্ষা বেশী উপকারী ও বরকতময়। যদি তোমরা সত্যিকার মুমিন হও তবে আল্লাহর দেয়া সেই অবশিষ্টটুকুতেই সন্তুষ্ট হও। আমি তোমাদের জন্য পর্যবেক্ষণকারী নই যে, তোমাদের আমলগুলো গণনা করব আর তোমাদের থেকে তার হিসাব নিব। বরং নিশ্চয়ই তার উপর পর্যবেক্ষণকারী তো তিনিই যিনি গোপন ও রহস্যের খবর রাখেন।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

11:85

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

‘যদি তোমরা মুমিন হও তবে আল্লাহ্‌ অনুমোদিত যা বাকী থাকবে তা তোমাদের জন্য উত্তম; আর আমি তোমাদের তত্ত্বাবধায়ক নই [১]।’

[১] অর্থাৎ ওজন-পরিমাপে হের-ফের করার হীন মানসিকতা দুর করার জন্য শু'আইব আলাইহিসসালাম প্রথমে তার জাতিকে নবীসুলভ স্নেহ ও দরদের সাথে বললেন, বর্তমানে আমি তোমাদের অবস্থা খুব ভাল ও স্বচ্ছল দেখছি। তোমাদের রিযক ও জীবন-জীবিকায় রয়েছে প্রাচুর্য। [ইবন কাসীর] হাসান বসরী বলেন, তাদের জিনিসপত্রের দাম ছিল খুব সস্তা। [কুরতুবী] সুতরাং প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করার মত কোন কারণ দেখি না। তাই আল্লাহ তা'আলার এ অনুগ্রহে শোকর আদায় করার জন্য হলেও তোমাদের পক্ষে তার কোন সৃষ্ট জীবকে ঠকানো উচিত নয়। তোমরা যদি আমার কথা না শোন, আমার নিষেধ অমান্য কর, তাহলে আমার ভয় হয় যে, আল্লাহর আযাব তোমাদেরকে ঘিরে ফেলবে।

এখানে আখেরাতের আযাব বুঝানো হয়েছে, দুনিয়ার আযাবও হতে পারে, আবার দুনিয়ার আযাব বিভিন্ন প্রকারও হতে পারে। তন্মধ্যে এক আযাব হচ্ছে, তোমাদের স্বচ্ছলতা খতম হয়ে যাবে [ইবন কাসীর] তোমরা অভাবগ্রস্ত ও দুর্ভিক্ষ কবলিত হবে। তোমাদের জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে। [কুরতুবী]

তিনি আরো বললেনঃ মানুষের পাওনা ঠিকমত ওজন করে পুরোপুরি দিয়ে দেয়ার পর যে লভ্যাংশ উদ্ধৃত্ত থাকে, তোমাদের জন্য তাই উত্তম। [তাবারী] পরিমাণে স্বল্প হলেও আল্লাহ তা'আলা তার মধ্যে বরকত দান করবেন, যদি তোমরা আমার কথা মান্য কর। আর যদি অমান্য কর, তবে মনে রেখ তোমাদের উপর কোন আযাব অবতীর্ণ হলে, তা থেকে তোমাদের রক্ষা করার দায়িত্ব আমার নয়। তোমাদের উপর আমার কোন জোর নেই। আমি তো শুধু একজন কল্যাণকামী উপদেষ্টা মাত্র। বড় জোর আমি তোমাদের বুঝাতে পারি। তারপর তোমরা চাইলে মানতে পারো আবার নাও মানতে পারো। আমার কাছে জবাবদিহি করার ভয় করা বা না করার প্রশ্ন নয়।

বরং আসল প্রশ্ন হচ্ছে আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করা। [ইবন কাসীর] আল্লাহর কিছু ভয় যদি তোমাদের মনে থেকে থাকে তাহলে তোমরা যা কিছু করছে তা থেকে বিরত থাকো। এভাবে তিনি তার সুললিত বর্ণনা ও অপূর্ব বাগীতার মাধ্যমে নিজ জাতিকে বোঝানো এবং সৎপথে ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[سورة هود (11): الآيات 84 الى 95] পূর্ণ পৃষ্ঠা

তার (রাসূলুল্লাহর) পক্ষ থেকে বর্ণিত এক রেওয়ায়েতে আছে: "দিন ও রাত ততক্ষণ পর্যন্ত শেষ হবে না যতক্ষণ না এই উম্মত পুরুষদের পশ্চাৎপথকে (মৈথুনের জন্য) বৈধ মনে করবে, যেমন তারা নারীদের পশ্চাৎপথকে বৈধ মনে করেছে; ফলে এই উম্মতের বিভিন্ন দলের ওপর আপনার রবের পক্ষ থেকে পাথর বর্ষিত হবে।" এবং বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো এই জনপদসমূহ জালেমদের থেকে দূরে নয়, আর এগুলো সিরিয়া ও মদিনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। আর "দূরে" শব্দটি পুরুষবাচক রূপে এসেছে ‘একটি দূরবর্তী স্থান’ অর্থটি বুঝাতে। আর যে পাথরগুলো বর্ষিত হয়েছিল সে সম্পর্কে দুটি বক্তব্য রয়েছে: প্রথমটি— জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) যখন শহরগুলোকে উপরে উঠিয়েছিলেন, তখন সেগুলোর ওপর পাথর বর্ষিত হয়েছিল।

দ্বিতীয়টি— শহরবাসীদের মধ্যে যারা সে সময় শহরের ভেতরে ছিল না বরং বাইরে অবস্থান করছিল, তাদের ওপর পাথর বর্ষিত হয়েছিল। ‌‌[সুরা হুদ (১১): আয়াত ৮৪ থেকে ৯৫]এবং মাদইয়ানবাসীদের নিকট তাদের ভাই শুয়াইবকে (প্রেরণ করেছি), সে বলল: হে আমার জাতি, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই। আর তোমরা মাপ ও ওজনে কম দিও না। আমি তোমাদেরকে সচ্ছল অবস্থায় দেখছি, কিন্তু আমি তোমাদের ওপর এক পরিবেষ্টনকারী দিনের আজাবের ভয় করছি। (৮৪) আর হে আমার জাতি, তোমরা ইনসাফের সাথে মাপ ও ওজন পূর্ণ করো এবং মানুষকে তাদের প্রাপ্য জিনিস কম দিও না, আর পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী হয়ে ফাসাদ করে বেড়িয়ো না।

(৮৫) আল্লাহর দেওয়া উদ্বৃত্ত অংশই তোমাদের জন্য কল্যাণকর যদি তোমরা মুমিন হও। আর আমি তোমাদের ওপর কোনো পাহারাদার নই। (৮৬) তারা বলল: হে শুয়াইব, আপনার সালাত কি আপনাকে এই নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃপুরুষরা যার ইবাদত করত আমাদের তা ছেড়ে দিতে হবে, অথবা আমাদের ধন-সম্পদে আমরা ইচ্ছামতো যা করি তা বর্জন করতে হবে? আপনি তো অত্যন্ত সহনশীল ও সুপথপ্রাপ্ত! (৮৭) সে বলল: হে আমার জাতি, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, আমি যদি আমার রবের পক্ষ থেকে এক সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর থাকি এবং তিনি যদি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে উত্তম রিজিক দান করেন (তবে আমি কি সত্য থেকে বিমুখ হতে পারি)?

আর আমি তোমাদের যা থেকে নিষেধ করছি, আমি তার বিরুদ্ধাচরণ করে নিজেই তা করতে চাই না। আমি কেবল সাধ্যমতো সংশোধন করতে চাই। আর আমার সফলতা তো কেবল আল্লাহর সাহায্যেই সম্ভব। আমি তাঁর ওপরই ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করি। (৮৮)আর হে আমার জাতি, আমার সাথে তোমাদের শত্রুতা যেন তোমাদেরকে এমন পাপে লিপ্ত না করে যার ফলে তোমাদের ওপর সেরূপ বিপদ আসে যেরূপ নূহের জাতির ওপর অথবা হূদের জাতির ওপর কিংবা সালিহের জাতির ওপর এসেছিল। আর লূতের জাতি তো তোমাদের থেকে দূরে নয়। (৮৯) আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁর দিকে ফিরে আসো।

নিশ্চয়ই আমার রব পরম দয়ালু ও অত্যন্ত প্রেমময়। (৯০) তারা বলল: হে শুয়াইব, আপনি যা বলছেন তার অনেক কিছুই আমরা বুঝি না। আর আমরা তো আমাদের মধ্যে আপনাকে দুর্বল হিসেবে দেখছি। আর আপনার পরিবার-পরিজন না থাকলে আমরা অবশ্যই আপনাকে পাথর ছুড়ে মারতাম।