Hud

হুদ: 6

11:6
টেক্সট কপি

মূল আরবি

۞ وَمَا مِن دَآبَّةٍ فِى ٱلْأَرْضِ إِلَّا عَلَى ٱللَّهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا ۚ كُلٌّ فِى كِتَـٰبٍ مُّبِينٍ

English Translations

Sahih International

And there is no creature on earth but that upon Allāh is its provision, and He knows its place of dwelling and place of storage. All is in a clear register.

Muhsin Khan

And no (moving) living creature is there on earth but its provision is due from Allah. And He knows its dwelling place and its deposit (in the uterous, grave, etc.). all is in a Clear Book (Al-Lauh Al-Mahfuz - the Book of Decrees with Allah).

Taqi Usmani

There is no creature on earth whose sustenance is not undertaken by Allah. He knows its permanent and its temporary place. Everything is in a clear book.

Abul Ala Maududi

There is not a single moving creature on the earth but Allah is responsible for providing its sustenance. He knows where it dwells and where it will permanently rest. All this is recorded in a clear Book.

Pickthall

And there is not a beast in the earth but the sustenance thereof dependeth on Allah. He knoweth its habitation and its repository. All is in a clear Record.

Yusuf Ali

There is no moving creature on earth but its sustenance dependeth on Allah: He knoweth the time and place of its definite abode and its temporary deposit: All is in a clear Record.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

যমীনে বিচরণশীল এমন কোন জীব নেই যার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর উপর নেই, তিনি জানেন তাদের থাকার জায়গা কোথায় আর কোথায় তাদেরকে (মৃত্যুর পর) রাখা হয়, সব কিছুই আছে সুস্পষ্ট লিপিকায়।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর যমীনে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণীর রিয্কের দায়িত্ব আল্লাহরই এবং তিনি জানেন তাদের আবাসস্থল ও সমাধিস্থল* । সব কিছু আছে স্পষ্ট কিতাবে**। * এখানে مستقر বা আবাসস্থল বলতে মাতৃগর্ভে অবস্থান মতান্তরে মৃত্যু পর্যন্ত দুনিয়ায় অবস্থানকে বুঝানো হয়েছে। আর مستودع দ্বারা কবরস্থ করার স্থান মতান্তরে জন্মের পূর্বে পিতৃমেরুদন্ডে অবস্থান কিংবা মৃত্যুর সময় বা স্থান বুঝানো হয়েছে।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আর ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নেই যাদের রিয্ক আল্লাহর যিম্মায় না রয়েছে, আর তিনি প্রত্যেকের দীর্ঘ অবস্থানের স্থান এবং অল্প অবস্থানের স্থানকে জানেন, সবই কিতাবে মুবীনে (লাউহে মাহফুযে) রয়েছে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর যমীনে বিচরণকারী সবার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ্‌রই এবং তিনি সেসবের স্থায়ী ও অস্থায়ী অবস্থিতি সম্বন্ধে অবহিত; সবকিছুই সুস্পষ্ট কিতাবে আছে।

ফাতহুল মাজীদ

ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী সকলের জীবিকার দায়িত্ব একমাত্র আল্লাহরই। তিনি তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী অবস্থিতি সম্বন্ধে অবহিত; সুস্পষ্ট কিতাবে (লাওহে মাহফুজ) সব কিছুই আছে।

মুখতাসার

৬. জমিনের বুকে বিচরণকারী এমন কোন সৃষ্টি নেই যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহ তা‘আলা করুণাবশতঃ গ্রহণ করেন নি। তিনি পৃথিবীর মধ্যকার প্রত্যেকের অবস্থানস্থল সম্পর্কে অবহিত আছেন। অনুরূপভাবে তিনি কে কোথায় মারা যাবে প্রত্যেকের সেই মৃত্যুর স্থান সম্পর্কেও অবহিত। সুতরাং প্রত্যেক জন্তু, তাদের রিজিক, তাদের আশ্রয়স্থল ও তাদের মৃত্যুর স্থান স্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। আর তা হলো লাওহে মাহফূয।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

আল্লাহ তাআ’লা সংবাদ দিচ্ছেন যে, ছোট-বড় স্থলভাগে অবস্থানকারী এবং জলভাগে অবস্থানকারী সমস্ত মাখলুকের জীবিকা তাঁরই যিম্মায় রয়েছে। তিনিই ওগুলির চলা, ফেরা, আসা, যাওয়া, স্থির থাকা, মৃত্যুর স্থান, গর্ভাশয়ের মধ্যে অবস্থানের স্থান ইত্যাদি সম্পর্কে পূর্ণভাবে অবহিত রয়েছেন। এটা মুজাহিদ (রঃ), ইবনু আব্বাস (রাঃ), যহ্‌হাক (রঃ) এবং একদল মনীষী বর্ণনা করেছেন। এখানে ইবনু আবি হা’তিম (রঃ) মুফাসসিরদের উক্তিগুলি উল্লেখ করেছেন। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআ’লাই সর্বাধিক জ্ঞানের অধিকারী। এসব ঘটনা ঐ কিতাবে লিখিত আছে যা আল্লাহ তাআ’লার নিকট রয়েছে এবং ঐ কিতাবই এর ব্যাখ্যা দান করে থাকে।

যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী যে কোন প্রাণী রয়েছে এবং যে কোন পাখী তার ডানার সাহায্যে উড়ে থাকে, সবগুলিই তোমাদের মতো এক একটি জাতি, কোন কিছুই আমি কিতাবে লিখতে ছাড়ি নাই, অতঃপর সবকিছুকেই তাদের প্রতিপালকের নিকট একত্রিত করা হবে।” (৬: ৩৮) আল্লাহ পাক আরো বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “অদৃশ্যের চাবিকাঠি তাঁরই কাছে রয়েছে, তিনি ছাড়া কেউই তা জানে না, যা কিছু জলে ও স্থলে রয়েছে সেগুলির খবরও একমাত্র তিনিই জানেন, যে পাতা ঝরে পড়ে সে সংবাদও তিনিই রাখেন, যমীনের অন্ধকারে এমন কোন দানা নেই এবং আর্দ্র ও শুস্ক এমন কোন জিনিষ নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই।” (৬: ৫৯)

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর যমীনে বিচরণকারী সবার জীবিকার [১] দায়িত্ব আল্লাহ্‌রই [২] এবং তিনি সেসবের স্থায়ী ও অস্থায়ী অবস্থিতি [৩] সম্বন্ধে অবহিত; সবকিছুই সুস্পষ্ট কিতাবে আছে [৪]।

[১] রিযিকের আভিধানিক অর্থ এমন বস্তু যা কোন প্রাণী আহার্যরূপে গ্রহণ করে, যার দ্বারা সে দৈহিক শক্তি সঞ্চয়, প্রবৃদ্ধি সাধন এবং জীবন রক্ষা করে থাকে। রিযিকের জন্য মালিকানা স্বত্ব শর্ত নয়। সকল জীব জন্তু রিযিক ভোগ করে থাকে কিন্তু তারা তার মালিক হয় না। কারণ, মালিক হওয়ার যোগ্যতাই ওদের নেই। অনুরূপভাবে ছোট শিশুরাও মালিক নয়, কিন্তু ওদের রিযিক অব্যাহতভাবে তাদের কাছে পৌছতে থাকে। [কুরতুবী]

[২] এমন সব প্রাণীকে (دابة) বলে যা ভূপৃষ্ঠে বিচরণ করে। [কুরতুবী] পক্ষীকুলও এর অন্তর্ভুক্ত। কারণ, খাদ্য গ্রহনের জন্য তারা ভূপৃষ্ঠে অবতরণ করে থাকে এবং তাদের বাসস্থান ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন হয়ে থাকে। সামুদ্রিক প্রাণীসমূহ ও পৃথিবীর বুকে বিচরণশীল। কেননা, সাগর-মহাসাগরের তলদেশেও মাটির অস্তিত্ব রয়েছে। মোটকথা, সমুদয় প্রাণীকুলের রিযিকের দায়িত্ব তিনি নিজেই গ্রহন করছেন। এবং একথা এমনভাবে ব্যক্ত করেছেন যা দ্বারা দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্দেশ করা যায়। ইরশাদ হয়েছে, “তাদের রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর উপর ন্যস্ত”। একথা সুস্পষ্ট যে, আল্লাহ তা'আলার উপর এহেন গুরুদায়িত্ব চাপিয়ে দেয়ার মত কোন ব্যক্তি বা শক্তি নেই, বরং তিনি নিজেই অনুগ্রহ করে গ্রহন করে আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন।

আর এক পরম সত্য, দাতা ও সর্বশক্তিমান সত্তার ওয়াদা যাতে নড়চড় হওয়ার অবকাশ নেই। সুতরাং নিশ্চয়তা বিধান করণার্থে এখানে (على) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে যা ফরয বা অবশ্যকরণীয় ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। অথচ আল্লাহ্‌র উপর কোন কাজ ফরয বা ওয়াজিব হতে পারে না, তিনি কারো হুকুমের তোয়াক্কা করেন না। বরং এটি সম্পূর্ণ তার অনুগ্রহ। [কুরতুবী] কোন কোন মুফাসসির অবশ্য বলেছেন যে, এখানে (على) বা উপরে বলে (من) বা হতে বলা উদ্দেশ্য। অর্থাৎ সবার রিযক আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে আসে। [কুরতুবী]

[৩] আয়াতে উল্লেখিত (مستقر) এবং (مستودع) এর অর্থ, (مستقر) শব্দটির কয়েকটি অর্থ করা হয়েছে, ১. যমীনের বুকে অবস্থান স্থল। বা পিতার পিঠে অবস্থানকে। ২. দিন বা রাতে আশ্রয় নেয়ার স্থান। আর (مستودع) শব্দটিরও কয়েকটি অর্থ বর্ণনা করা হয়েছে, ১. মায়ের রেহেমে অবস্থান বা ডিমের মধ্যে অবস্থানকে। ২. মৃত্যু হওয়ার স্থানকে। [দেখুন, তাবারী; কুরতুবী; ইবন কাসীর; সাদী] এ ব্যাপারে এক হাদীসে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যখন কারো মৃত্যু কোন যমীনে লিখা থাকে তখন সে সেখানে যাওয়ার জন্য কোন না কোন প্রয়োজন অনুভব করবে।

তারপর সে যখন সেখানে পৌছবে তখন তাকে মৃত্যু দেয়া হয়। আর কিয়ামতের দিন যমীন তাকে বের করে দিয়ে বলবে, (هٰذَا ما اسْتَوْدَعْتَنِيْ) অর্থাৎ এটা আমার কাছে আপনি আমানত রেখেছিলেন। [মুস্তাদরাকে হাকিমঃ ১/৪২, সুনানুল কুবরা লিল বাইহাকীঃ ৯৮৮৯] কালেমাদ্বয়ের আরো বিস্তারিত তাফসীর সূরা আলআন’আমের ৯৮ নং আয়াতে করা হয়েছে।

[৪] আয়াতে বর্ণিত সুস্পষ্ট কিতাব বলতে লাওহে মাহফুজকে বুঝানো হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বান্দার সমস্ত কর্মকাণ্ড সুস্পষ্ট কিতাবে লিখে নিয়েছেন এবং তার জ্ঞান থেকে এর সামান্যও গোপন থাকে না, এটা তিনি পবিত্র কুরআনে বারবার ঘোষণা করেছেন। [দেখুন, সূরা আল-আনআমঃ৩৮, ৫৯, সূরা ইউনুসঃ ৬১]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা হূদ (১১): আয়াত ৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা

(জেনে রেখো, যখন তারা নিজেদের বস্ত্র দ্বারা নিজেদের আবৃত করে) অর্থাৎ তারা তাদের কাপড় দিয়ে নিজেদের মাথা ঢেকে ফেলে। কাতাদাহ বলেন: বান্দা যখন তার পিঠ নুইয়ে দেয়, পোশাকে নিজেকে আবৃত করে এবং মনে মনে নিজের চিন্তা গোপন রাখে, তখন সে সর্বাধিক গোপনীয় অবস্থায় থাকে। ‌‌[সূরা হূদ (১১): আয়াত ৬]আর জমিনে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই। তিনি জানেন তাদের স্থায়ী আবাসস্থল ও অস্থায়ী অবস্থানস্থল। সবকিছুই এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। (৬)মহান আল্লাহর বাণী: (আর জমিনে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই) এখানে "মা" শব্দটি না-বোধক এবং "মিন" শব্দটি অতিরিক্ত (তাকিদের জন্য), আর "দাব্বাহ" শব্দটি রফ' (কর্তৃকারক) এর স্থলাভিষিক্ত।

এর মূল গঠন হলো: "ওয়ামা দাব্বাতুন"। "ইল্লা 'আলাল্লাহি রিযকুহা" - এখানে "আলা" শব্দটি "মিন" (পক্ষ থেকে) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাদের রিযিক আসে। মুজাহিদের উক্তি এর স্বপক্ষে প্রমাণ দেয়: "তার কাছে যে রিযিকই আসুক না কেন, তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই।" আবার বলা হয়েছে: "আলাল্লাহ" অর্থাৎ অনুগ্রহ হিসেবে, আবশ্যিক কোনো দায় হিসেবে নয়। কেউ বলেছেন: এটি তাঁর পক্ষ থেকে একটি সত্য প্রতিশ্রুতি। এই অর্থের বিস্তারিত আলোচনা "আন-নিসা" সূরার ব্যাখ্যায় পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং সেখানে বলা হয়েছে যে, মহান সত্তার ওপর কোনো কিছু ওয়াজিব বা আবশ্যক নয়।

"রিযকুহা" শব্দটি মুবতাদা (উদ্দেশ্য) হিসেবে রফ' হয়েছে, আর কুফী ব্যাকরণবিদদের মতে এটি সিফাত (গুণ) হিসেবে। আয়াতের বাহ্যিক রূপ ব্যাপক হলেও এর অর্থ বিশেষ; কারণ অনেক প্রাণী রিযিক পাওয়ার পূর্বেই প্রাণ হারায়। আবার বলা হয়েছে: এটি সাধারণ [সকল প্রাণীর ক্ষেত্রে]: আর যে প্রাণীকে বেঁচে থাকার মতো রিযিক দেওয়া হয়নি, তাকে অন্তত তার রূহ (প্রাণ) প্রদান করা হয়েছে। পূর্ববর্তী আয়াতের সাথে এর সামঞ্জস্যের দিকটি হলো: মহান আল্লাহ সকলের রিযিক সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি কারো লালন-পালনের বিষয়ে গাফেল নন। সুতরাং হে কাফের সম্প্রদায়! তোমাদের অবস্থা কীভাবে তাঁর কাছে গোপন থাকতে পারে, অথচ তিনি তোমাদের রিযিক দান করছেন?!

"দাব্বাহ" হলো জমিনে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণী। আর রিযিকের প্রকৃত অর্থ হলো: যা দ্বারা কোনো জীব খাদ্য গ্রহণ করে এবং যার মাধ্যমে তার প্রাণের স্থায়িত্ব ও দেহের বৃদ্ধি ঘটে। রিযিক শব্দটি "মালিকানা" অর্থে হওয়া বৈধ নয়; কারণ চতুষ্পদ প্রাণীদের রিযিক দেওয়া হয়, অথচ তাদের নিজ খাদ্যের মালিক হিসেবে বর্ণনা করা সঠিক নয়। অনুরূপভাবে শিশুদের দুগ্ধ প্রদান করা হয়, অথচ স্তনের দুগ্ধ শিশুর মালিকানাধীন- এমনটি বলা হয় না। মহান আল্লাহ বলেন: "আর আসমানে রয়েছে তোমাদের রিযিক" [সূরা আয-যারিয়াত: ২২]। অথচ আসমানে আমাদের কোনো মালিকানা নেই। তাছাড়া রিযিক যদি মালিকানা হতো, তবে মানুষ যখন অন্যের মালিকানাধীন কোনো বস্তু খায়, তখন সে অন্যের রিযিক খেলো বলে গণ্য হতো; যা অসম্ভব।

কেননা বান্দা কেবল তার নিজের জন্য বরাদ্দকৃত রিযিকই ভক্ষণ করে। "আল-বাকারা" সূরার ব্যাখ্যায় এই অর্থ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। জনৈক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: আপনি কোথা থেকে আহার করেন? তিনি উত্তরে বলেন: যিনি যাঁতা সৃষ্টি করেছেন তিনিই তাতে পিষ্ট শস্য (আটা) পাঠাবেন, আর যিনি মুখগহ্বর উন্মুক্ত করেছেন তিনিই রিযিকসমূহ সৃজনকারী।(১). দেখুন খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৭৩।(২). পাণ্ডুলিপি 'আইন' থেকে।(৩). দেখুন খণ্ড ১৭, পৃষ্ঠা ৪১।(৪). দেখুন খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৭৭ এবং পরবর্তী অংশ।

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা পূর্ণ পৃষ্ঠা পূর্ণ পৃষ্ঠা

ইবনে আবি হাতিম আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মহান আল্লাহর বাণী—"নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম জীব" প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তারা হলো কাফের সম্প্রদায়।ফিরইয়াবি, ইবনে আবি শায়বাহ, আবদ বিন হুমাইদ, বুখারী, ইবনে জারীর, ইবনে মুনযির, ইবনে আবি হাতিম এবং ইবনে মারদুওয়াইহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মহান আল্লাহর বাণী—"নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম জীব" প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তারা হলো কুরাইশদের বনী আবদুদ দার গোত্রের একটি দল।ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মহান আল্লাহর বাণী—"বধির ও মূক, যারা কিছুই বোঝে না" প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তারা সত্য অনুসরণ করে না।আবদ বিন হুমাইদ এবং আবুশ শায়খ কাতাদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এই আয়াত প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এটি আরবদের একটি শাখা অর্থাৎ বনী আবদুদ দার গোত্র সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।ইবনে মুনযির ইবনে জুরাইজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এই আয়াতটি নাদর বিন হারিস এবং তার সম্প্রদায় সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।ইবনে জারীর ইবনে যায়দ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মহান আল্লাহর বাণী—"নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম জীব" প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: 'দাওয়াব' (জীব) হলো সৃষ্টিজগত এবং তিনি পাঠ করেন—"আর যদি আল্লাহ মানুষকে তাদের কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও করতেন, তবে ভূপৃষ্ঠে কোনো জীবকেই অবশিষ্ট রাখতেন না" (সূরা ফাতির, আয়াত ৪৫)।"আর পৃথিবীতে বিচরণকারী এমন কোনো জীব নেই যার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই" (সূরা হুদ, আয়াত ৬)

তিনি বলেন: এটিও এর অন্তর্ভুক্ত।

আল-বাইহাকী 'শুআবুল ঈমান'-এ আমের ইবনে কায়স (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর কিতাবের তিনটি আয়াত এমন, যা আমার জন্য সমস্ত সৃষ্টিজগত থেকে বিমুখ হয়ে আল্লাহর ওপর নির্ভর করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট হয়েছে। তার প্রথমটি হলো: "আর আল্লাহ যদি তোমাকে কোন কষ্ট স্পর্শ করান, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই; আর যদি তিনি তোমার কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহ রদ করার কেউ নেই।" দ্বিতীয়টি হলো: "আল্লাহ মানুষের জন্য যে রহমত উন্মুক্ত করে দেন, তা আটকানোর কেউ নেই; আর যা তিনি আটকে রাখেন, তা পরে প্রেরণ করার কেউ নেই" (সূরা ফাতির, আয়াত ২)

এবং তৃতীয়টি হলো: "আর পৃথিবীতে বিচরণশীল এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর ন্যস্ত নয়" (সূরা হুদ, আয়াত ৬)।আবু নুয়াইম 'আল-হিলইয়া' গ্রন্থে, আল-বাইহাকী 'শুআবুল ঈমান'-এ এবং ইবনে আসাকির আনাস (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমরা তোমাদের জীবনকালে কল্যাণ অনুসন্ধান করো এবং মহান আল্লাহর রহমতের স্নিগ্ধ সমীরণের সম্মুখীন হওয়ার চেষ্টা করো; কেননা আল্লাহর রহমতের এমন কিছু প্রবাহ রয়েছে যা তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দান করেন। আর তোমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো যেন তিনি তোমাদের দোষত্রুটি ঢেকে রাখেন এবং তোমাদের শঙ্কা ও ভয়ভীতিতে নিরাপত্তা দান করেন।ইবনে আবি শায়বাহ আবু দর্দা (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে মাওকুফ সূত্রে (তাঁর নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে) বর্ণনা করেছেন—ঠিক অনুরূপ।

আয়াত ১০৮ - ১০৯

মহান আল্লাহর বাণী: বল, নিশ্চয় আমার রব তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করেন এবং যার জন্য ইচ্ছা তা সংকীর্ণ করেন। আর তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে, তিনি তার বিনিময় দেবেন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।ইবনুল মুনযির যাহহাক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে আল্লাহর বাণী আর তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে, তিনি তার বিনিময় দেবেন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—এটি কি আল্লাহর রাস্তায় ব্যয়ের ক্ষেত্রে? তিনি বললেন: না।বরং তা হলো ব্যক্তির নিজের এবং তার পরিবারের জন্য ব্যয়, যার বিনিময় আল্লাহ প্রদান করেন।সাঈদ বিন মানসুর, বুখারি (আল-আদাবুল মুফরাদ-এ), ইবনুল মুনযির, ইবনু আবি হাতিম এবং বায়হাকি (শুআবুল ঈমান-এ) ইবনু আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আর তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে, তিনি তার বিনিময় দেবেন আল্লাহর বাণী সম্পর্কে বলেছেন: অপব্যয় ও কৃপণতা ব্যতিরেকে (ব্যয় করলে)।বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান'-এ হাসান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমরা তোমাদের পরিবারের জন্য অপব্যয় ও কৃপণতা ছাড়া যা কিছু ব্যয় করো, তা আল্লাহর রাস্তাতেই গণ্য হবে।ইবনু আবি শাইবাহ, আবদ বিন হুমাইদ এবং ইবনু জারির সাঈদ বিন জুবাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আর তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে, তিনি তার বিনিময় দেবেন আল্লাহর বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: অপব্যয় ও কৃপণতা ব্যতিরেকে।ফিরইয়াবি, আবদ বিন হুমাইদ, ইবনুল মুনযির এবং ইবনু আবি হাতিম মুজাহিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: তোমাদের কারো কাছে কিছু থাকলে সে যেন পরিমিত ব্যয় করে এবং এই আয়াতের আর তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে, তিনি তার বিনিময় দেবেন ভুল ব্যাখ্যা না করে।

কেননা রিযিক বণ্টিত। তিনি বলেন: হয়তো কারো রিযিক কম, অথচ সে সচ্ছল ব্যক্তির ন্যায় ব্যয় করছে (এমনটা করা সমীচীন নয়)।আবদ বিন হুমাইদ, ইবনুল মুনযির এবং ইবনু আবি হাতিম মুজাহিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আর তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে, তিনি তার বিনিময় দেবেন আয়াত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: যা কিছু প্রতিস্থাপন বা বিনিময় হয় তা তাঁর পক্ষ থেকেই হয়। তবে কখনো মানুষ তার সমস্ত সম্পদ সৎকাজে ব্যয় করে ফেলে এবং মৃত্যু পর্যন্ত তার কোনো বাহ্যিক প্রতিস্থাপন পায় না।এর সদৃশ হলো আল্লাহর বাণী: আর পৃথিবীতে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই (সূরা হুদ, আয়াত: ৬)

তিনি বলেন: তাদের যা কিছু রিযিক দেওয়া হয় তা তাঁর পক্ষ থেকেই, আবার কখনো কোনো প্রাণীকে (মৃত্যু পর্যন্ত) রিযিক দেওয়া হয় না যতক্ষণ না সে মারা যায়।বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান'-এ জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে...