Hud
হুদ: 48
11 হুদ Hud · 123 আয়াত هود
আরবি
قِيلَ يَـٰنُوحُ ٱهْبِطْ بِسَلَـٰمٍ مِّنَّا وَبَرَكَـٰتٍ عَلَيْكَ وَعَلَىٰٓ أُمَمٍ مِّمَّن مَّعَكَ ۚ وَأُمَمٌ سَنُمَتِّعُهُمْ ثُمَّ يَمَسُّهُم مِّنَّا عَذَابٌ أَلِيمٌ
English Translations
It was said, "O Noah, disembark in security from Us and blessings upon you and upon nations [descending] from those with you. But other nations [of them] We will grant enjoyment; then there will touch them from Us a painful punishment."
It was said: "O Nuh (Noah)! Come down (from the ship) with peace from Us and blessings on you and on the people who are with you (and on some of their off spring), but (there will be other) people to whom We shall grant their pleasures (for a time), but in the end a painful torment will reach them from Us."
It was said, “O NūH, disembark in peace from Us and with blessings upon you and upon the peoples (springing) from those with you. And there are peoples whom We shall give some enjoyment, then a painful punishment from Us will visit them.”
It was said: 'Noah! Disembark, with Our peace, and with blessings upon you and upon those who are with you. There are also people whom We shall allow to enjoy themselves for a while, and then a painful chastisement from Us shall afflict them.'
It was said (unto him): O Noah! Go thou down (from the mountain) with peace from Us and blessings upon thee and some nations (that will spring) from those with thee. (There will be other) nations unto whom We shall give enjoyment a long while and then a painful doom from Us will overtake them.
The word came: "O Noah! Come down (from the Ark) with peace from Us, and blessing on thee and on some of the peoples (who will spring) from those with thee: but (there will be other) peoples to whom We shall grant their pleasures (for a time), but in the end will a grievous penalty reach them from Us."
বাংলা অনুবাদ
বলা হল, ‘হে নূহ! তুমি নেমে পড়, আমার পক্ষ হতে শান্তি ও বরকত তোমার প্রতি আর তোমার সঙ্গীদের মধ্যে অনেক দলের প্রতি, আর এ ছাড়া অন্য লোকেদের আমি জীবন উপভোগ করতে দেব, (কিন্তু) পরে আমার নিকট হতে মর্মান্তিক ‘আযাব তাদেরকে স্পর্শ করবে।’
বলা হল, ‘হে নূহ, তোমার ও তোমার সাথে যে উম্মত রয়েছে তাদের উপর আমার পক্ষ থেকে শান্তি ও বরকতসহ অবতরণ কর। আর আরো অনেক উম্মতকে আমি জীবন উপভোগ করতে দেব, তারপর আমার পক্ষ থেকে তাদেরকে স্পর্শ করবে যন্ত্রণাদায়ক আযাব’।
বলা হলঃ হে নূহ! অবতরণ কর, আমার পক্ষ হতে সালাম ও বারাকাতসমূহ নিয়ে, যা তোমার উপর নাযিল করা হবে এবং সেই দলসমূহের উপর যারা তোমার সাথে রয়েছে; আর অনেক দল এরূপও হবে যাদেরকে আমি কিছুকাল (দুনিয়ার) সুখ স্বাচ্ছন্দ্য দান করব, অতঃপর তাদের উপর পতিত হবে আমার পক্ষ হতে কঠিন শাস্তি।
বলা হল, ‘হে নূহ! অবতরণ করুন আমাদের পক্ষ থেকে শান্তি ও কল্যাণসহ এবং আপনার প্রতি যে সব সম্প্রদায় আপনার সাথে রয়েছে তাদের প্রতি; আর কিছু সম্প্রদায় রয়েছে আমরা তাদেরকে জীবন উপভোগ করতে দেব, পরে আমাদের পক্ষ থেকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে স্পর্শ করবে;
বলা হল, ‘হে নূহ্! অবতরণ কর আমার পক্ষ হতে শান্তি ও কল্যাণসহ এবং তোমার প্রতি ও যে সমস্ত সম্প্রদায় তোমার সঙ্গে আছে তাদের প্রতি; অপর সম্প্রদায়সমূহকে আমি জীবন উপভোগ করতে দেব, পরে আমার পক্ষ হতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে স্পর্শ করবে;
৪৮. আল্লাহ তা‘আলা নূহ (আলাইহিস-সালাম) কে বললেন: ওহে নূহ! তুমি নৌকা থেকে জমিনে শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে নেমে পড়। তোমার উপর আল্লাহর বহু নিয়ামত রয়েছে এবং তোমার সেই লোকদের পরবর্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্তী মুমিন সন্তানাদির উপরও যারা তোমার সাথে নৌকায় ছিল। আর তাদের সন্তানদের মাঝে এমন কিছু জাতিও রয়েছে যারা কাফের। আমি তাদেরকে এই পার্থিব জীবনে কিছুটা উপভোগ করতে দিব এবং আমি তাদেরকে এমন কিছু দিব যা দিয়ে তারা জীবন-যাপন করবে। তারপর পরকালে আমার পক্ষ থেকে তাদেরকে পেয়ে বসবে কষ্টদায়ক আযাব।
তাফসীর
আল্লাহ তাআ’লা খবর দিচ্ছেন যে, নৌকাটি যখন জূদী পর্বতের উপর থেমে গেল তখন নূহকে (আঃ) বলা হলো- তোমার উপর ও তোমার সঙ্গীয় মুমিনমু’মিনদের উপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যত মু'মিনের আবির্ভাব ঘটবে তাদের সবারই উপর শান্তি বর্ষিত হোক।' সাথে সাথে কাফিরদের সম্পর্কে ঘোষণা দেয়া হলো যে, তারা পার্থিব জগতে সুখ ভোগ করবে বটে, কিন্তু (পরকালে) সত্বরই তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির দ্বারা পাকড়াও করা হবে। যেমন এটা হযরত মুহাম্মদ ইবনু কা'ব (রঃ) হতে বর্ণিত রয়েছে।হযরত মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক (রঃ) বলেন যে, যখন আল্লাহ তাআ’লা তুফান বন্ধ করার ইচ্ছা করলেন তখন তিনি ভূ-পৃষ্ঠে বায়ু পাঠিয়ে দিলেন, যা পানি বন্ধ করে দিলো এবং ওর উথলিয়ে ওঠা বন্ধ হয়ে গেল। সাথে সাথে আকাশেরও দরজা বন্ধ করে দেয়া হলো যা তখন পর্যন্ত পানি বর্ষণ করতেই ছিল। সুতরাং এরপর আকাশ থেকেও বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ হয়ে গেল। যমীনকে পানি শোষণ করে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হলো। তখন থেকেই পানি কমতে শুরু করলো।আহ্লে তাওরাতের বিশ্বাস এই যে, সপ্তম মাসের ১৭ই তারিখে হযরত নূহের (আঃ) নৌকাটি জূদী পাহাড়ের উপর লেগেছিল। দশম মাসের প্রথম তারিখে পাহাড়সমূহের চূড়া জেগে ওঠে। এর চল্লিশ দিন পর নৌকায় আরোহণ করার ছিদ্রটি পানির উপর দেখা যেতে লাগল। তারপর হযরত নূহ (আঃ) পানির প্রকৃত অবস্থা জানবার উদ্দেশ্যে কাককে পাঠালেন। কিন্তু কাকটি ফিরে আসতে বিলম্ব করায় তিনি কবুতরকে প্রেরণ করেন। কবুতরটি ফিরে আসে। তিনি ওর অবস্থা দৃষ্টে বুঝতে পারেন যে, সে পা রাখার জায়গা পায় নাই। তিনি কবুতরটিকে হাতে করে ভিতরে নিয়ে আসেন। সাত দিন পর পুনরায় তিনি কবুতরটিকে পাঠিয়ে দেন। সন্ধ্যার সময় সে ঠোঁটে করে যয়তুনের পাতা নিয়ে ফিরে আসে। এতে আল্লাহর নবী জানতে পারেন যে, পানি যমীনের সামান্য কিছু উপরে রয়েছে। এর সাত দিন পর পুনরায় তিনি কবুতরটিকে প্রেরণ করেন। এবার কিন্তু কবুতরটি ফিরে আসলো না। এতে তিনি বুঝে নেন যে, যমীন সম্পূর্ণরূপে শুকিয়ে গেছে। মোট কথা, সুদীর্ঘ এক বছর পর হযরত নূহ (আঃ) নৌকাটির আবরণ খুলে ফেলেন এবং সাথে সাথে তাঁর কাছে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ওয়াহী আসে- হে নূহ (আঃ)! আমার পক্ষ হতে অবতারিত শান্তির সাথে এখন নেমে পড়।
বলা হল, ‘হে নূহ ! অবতরণ করুন আমাদের পক্ষ থেকে শান্তি ও কল্যাণসহ এবং আপনার প্রতি যে সব সম্প্রদায় আপনার সাথে রয়েছে তাদের প্রতি; আর কিছু সম্প্রদায় রয়েছে আমরা তাদেরকে জীবন উপভোগ করতে দেব, পরে আমাদের পক্ষ থেকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে স্পর্শ করবে [১];
[১] এখানে আদ জাতি এবং তাদের কাছে হুদ আলাইহিসসালামের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তারা কিছু দিন দুনিয়ার নে'আমত ভোগ করার পর আবার অবাধ্যতার কারণে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হয়েছিল। অনুরূপভাবে পরবর্তী প্রত্যেক নবী ও তাদের জাতি যেমন সালেহ ও সামূদ জাতিও এ আয়াতে উল্লেখিত সম্প্রদায় বলে বুঝানো হয়েছে। মোটকথা, নূহ আলাইহিসসালামের সন্তানগণ যেহেতু পরবর্তী যাবতীয় সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষ তাই পরবর্তী সময়ে যারাই শির্ক ও অন্যায় করেছে এবং তাদের কাছে প্রেরিত নবীদের বিরোধিতা করে আল্লাহর শাস্তির হকদার হয়েছে, তাদের সবাইকে এ আয়াতে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। [তাবারী]
