Hud
হুদ: 96
11 হুদ Hud · 123 আয়াত هود
মূল আরবি
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَىٰ بِـَٔايَـٰتِنَا وَسُلْطَـٰنٍ مُّبِينٍ
English Translations
And We did certainly send Moses with Our signs and a clear authority
And indeed We sent Musa (Moses) with Our Ayat (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.) and a manifest authority;
And We sent Mūsā, with Our signs and with clear proof,
And indeed We sent Moses with Our signs and with a clear authority
And verily We sent Moses with Our revelations and a clear warrant
And we sent Moses, with Our Clear (Signs) and an authority manifest,
বাংলা অনুবাদ
আমি মূসাকে পাঠিয়েছিলাম আমার নিদর্শন আর স্পষ্ট প্রমাণ সহকারে
আর আমি মূসাকে আমার আয়াতসমূহ* ও স্পষ্ট প্রমাণ দিয়ে পাঠিয়েছি, * এখানে ‘আয়াত’ বলতে তাওরাতকে বুঝানো হয়েছে এবং স্পষ্ট প্রমাণ দ্বারা আল্লাহর দেয়া বিশেষ নিদর্শনসমূহ বুঝানো হয়েছে।
এবং আমি মূসাকে প্রেরণ করলাম আমার মু’জিযাসমূহ ও সুস্পষ্ট প্রমাণ সহকারে –
আর অবশ্যই আমারা মূসাকে আমাদের নির্দেশনাবলি ও প্রমাণসহ পাঠিয়েছিলাম,
আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলী ও স্পষ্ট প্রমাণসহ পাঠিয়েছিলাম,
৯৬. আমি নিশ্চয়ই মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে আমার এমন নিদর্শনাবলী দিয়ে পাঠাই যা আল্লাহর তাওহীদের প্রমাণ বহনকারী এবং আমার এমন সুস্পষ্ট হুজ্জত দিয়ে যা তাঁর নিয়ে আসা বিধানের সত্যতার প্রমাণ।
তাফসীর
৯৬-৯৯ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা খবর দিচ্ছেন যে, তিনি কিবতী কওমের বাদশাহ্ ফিরআউন এবং তার প্রধানবর্গের নিকট স্বীয় রাসূল হযরত মূসাকে (আঃ) নিদর্শনসমূহ ও সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণাদিসহ প্রেরণ করেন। কিন্তু কিবতীরা ফিরআউনের আনুগত্য পরিত্যাগ করলো না। তারা তারই ভ্রান্ত নীতির পিছনে পড়ে রইলো। এই দুনিয়ায় যেমন তারা ফিরআউনের আনুগত্য পরিত্যাগ করলো না বরং তাকে নেতা মেনেই চললো, অনুরূপভাবে কিয়ামতের দিনও তারা তারই পিছনে থাকবে এবং সে তাদের সবাইকে নেতৃত্ব দিয়ে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। আর তাকে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। যেমন আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “ফির'আউন সেই রাসূলের কথা অমান্য করলো, সুতরাং আমি তাকে কঠোরভাবে পাকড়াও করলাম।” (৭৩:১৬) আল্লাহপাক আরো বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “সে অবিশ্বাস করলো এবং কথা মানলো না।
অনন্তর সে পৃথক হয়ে (মূসার (আঃ) বিরুদ্ধে) প্রচেষ্টা চালাতে লাগলো। অতঃপর সে (লোকদের) সমবেত করলো, তৎপর সে উচ্চৈঃ স্বরে আহ্বান করলো। অতঃপর বললো: আমি তোমাদের শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক। অনন্তর আল্লাহ তাকে আখেরাতের ও দুনিয়ার আযাবে পাকড়াও করলেন। নিশ্চয় এতে সেই ব্যক্তির জন্যে বড় শিক্ষণীয় রয়েছে যে (আল্লাহকে) ভয় করে। (৭৯:২১-২৬)আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ ‘কিয়ামতের দিন সে (ফিরআউন) নিজ সম্প্রদায়ের আগে আগে থাকবে। অতঃপর তাদেরকে দুযখে উপণীত করে দেবে, আর তা অতি নিকৃষ্ট স্থান হবে যাতে তারা উপণীত হবে।অনুরূপভাবে অসৎ লোকদের অনুসারীদেরকেও কিয়ামতের দিন জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করানো হবে।
যেমন আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “প্রত্যেকের জন্যেই দ্বিগুণ শাস্তি, কিন্তু তোমরা জান না।” (৭:৩৮) এবার আল্লাহ তাআ’লা কাফিরদের ব্যাপারে সংবাদ দিচ্ছেন যে, জাহান্নামে তারা বলবেঃ (আরবি)অর্থাৎ “হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নেতৃবৃন্দ এবং আমাদের মাতব্বরদের কথা মান্য করেছিলাম, সুতরাং তারা আমাদেরকে (সোজা) পথ হতে বিভ্রান্ত করেছিল। হে আমাদের রব! তাদেরকে আপনি দ্বিগুণ শাস্তি প্রদান করুন এবং তাদের প্রতি লা’নত বর্ষণ করুন গুরুতর ভাবে। (৩৩:৬৭-৬৮)হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “ (কিয়ামতের দিন) ইমরুল কায়েস অজ্ঞতার যুগের কবিদের পতাকা বহন করবে এবং তাদেরকে নিয়ে সে জাহান্নামের দিকে যাবে।” (এই হাদীসটি ইমাম আহমদ (রঃ) স্বীয় ‘মসনাদ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন) জাহান্নামের শাস্তির উপর এটা আরো অতিরিক্ত শাস্তি যে, জাহান্নামীরা ইহকালে এবং পরকালে উভয় স্থানেই চিরস্থায়ী লা’নতের শিকার হবে।
এটা আলী ইবনু আবি তালহা হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপ ভাবে যহ্হাক (রঃ) এবং কাতাদা’ (রঃ) বলেছেন যে, (আরবি) দ্বারা দুনিয়া এবং আখেরাতের লা'নতকেই বুঝানো হয়েছে। এটা আল্লাহ পাকের নিম্নের উক্তির মতইঃ (আরবি)অর্থাৎ “আমি তাদেরকে এমন নেতা বানিয়ে ছিলাম যারা (লোকদেরকে) দুযখের প্রতি আহ্বান করছিল এবং কিয়ামত দিবসে তাদের কেউ সহায় হবে না। আর পৃথিবীতেও আমি তাদের পশ্চাতে লা'নত লাগিয়ে দিয়েছি, আর কিয়ামত দিবসেও তারা দুর্দশাগ্রস্ত লোকদের অন্তর্ভূক্ত থাকবে।” (২৮:৪১)আল্লাহ তাআ’লা আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “তাদেরকে (প্রত্যহ) সকালে ও সন্ধায় অগ্নির সম্মুখে আনয়ন করা হয়, আর যেই দিন কিয়ামত কায়েম হবে (সেই দিন আদেশ করা হবে যে,) ফিরআউনী লোকদেরকে কঠোরতর আযাবে দাখিল কর।” (৪০:৪৬)
আর অবশ্যই আমারা মূসাকে আমাদের নির্দেশনাবলি ও প্রমাণসহ পাঠিয়েছিলাম,
[সূরা হূদ (১১): আয়াত ৯৬ থেকে ৯৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা
যখন কেউ ধ্বংস হয় তখন তাকে 'বা’দা' বা 'বু’দান' বলা হয়। মাহদাবী বলেন: যারা 'বা’বিদা' ক্রিয়ার 'আইন' বর্ণে পেশ (যম্মাহ) সহযোগে পাঠ করেন, তবে তা এমন একটি ভাষা যা কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয় এবং এর ক্রিয়ামূল হলো 'বু’দ'। আর 'বা’বিদা' (যের বা কাসরা যোগে) শব্দটি বিশেষভাবে অকল্যাণ বা মন্দের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। বলা হয়ে থাকে: 'বা’বিদা ইয়াব’আদু বা’দান'। সুতরাং সর্বসম্মত পাঠ (কিরাত) অনুযায়ী 'বা’দান' শব্দের অর্থ হলো অভিশাপ। কখনো কখনো উভয় ভাষার অর্থ একত্রিত হয়ে যায় কারণ তাদের অর্থের মাঝে নৈকট্য রয়েছে। ফলে অর্থের নৈকট্যের কারণে এটি এমন এক মাসদার বা ক্রিয়ামূল হিসেবে গণ্য হয় যা তার মূল শব্দের রূপ থেকে ভিন্ন।
[সূরা হূদ (১১): আয়াত ৯৬ থেকে ৯৯]আর আমি অবশ্যই মূসাকে আমার নিদর্শনাবলি ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ প্রেরণ করেছি (৯৬) ফেরাউন ও তার প্রধানদের নিকট; কিন্তু তারা ফেরাউনের আদেশের অনুসরণ করেছিল, অথচ ফেরাউনের আদেশ সঠিক ছিল না (৯৭) কিয়ামতের দিন সে তার সম্প্রদায়ের অগ্রভাগে থাকবে এবং তাদেরকে আগুনে পৌঁছে দেবে; আর যেখানে তারা উপনীত হবে, সেই প্রবেশের স্থানটি কতই না নিকৃষ্ট! (৯৮) আর এই জগতেও তাদের পশ্চাতে লানত বা অভিশাপ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কিয়ামতের দিনও; যে পুরস্কার তাদের দেওয়া হবে, তা কতই না নিকৃষ্ট! (৯৯)মহান আল্লাহর বাণী: (আর আমি অবশ্যই মূসাকে আমার নিদর্শনাবলি সহকারে প্রেরণ করেছি) - এখানে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য এবং সকল ওজর-আপত্তি দূর করার জন্য একের পর এক নবী পাঠিয়েছেন।
'আমার নিদর্শনাবলি' দ্বারা তাওরাত উদ্দেশ্য; আবার বলা হয়েছে এর দ্বারা মুজিজাসমূহ উদ্দেশ্য। (এবং সুস্পষ্ট প্রমাণ) অর্থাৎ সুস্পষ্ট দলিল, যা হলো মূসার লাঠি। 'আল-ইমরান' সূরায় 'সুলতান' (প্রমাণ) শব্দের অর্থ ও এর বুৎপত্তি বর্ণনা করা হয়েছে, তাই এখানে পুনরায় উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। (ফেরাউন ও তার প্রধানদের নিকট; অতঃপর তারা ফেরাউনের আদেশের অনুসরণ করল) অর্থাৎ তারা তার অবস্থা ও কার্যাবলীর অনুসরণ করল, এমনকি তারা তাকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করল এবং মহান আল্লাহর আদেশের অবাধ্য হলো। (অথবা ফেরাউনের আদেশ সঠিক ছিল না) অর্থাৎ তা এমন সুদৃঢ় ছিল না যা সঠিক পথের দিকে নিয়ে যায়।
আবার বলা হয়েছে: 'রশীদ' অর্থ এমন পথপ্রদর্শক যে কল্যাণের দিকে পরিচালিত করে। মহান আল্লাহর বাণী: (কিয়ামতের দিন সে তার সম্প্রদায়ের অগ্রভাগে থাকবে) অর্থাৎ সে তাদের আগে আগে আগুনের দিকে যাবে যেহেতু সে তাদের নেতা ছিল। বলা হয়: 'কাদামাহুম ইয়াকদুমুহুম কদমান' যখন কেউ কারো আগে চলে। (অতঃপর তাদেরকে আগুনে পৌঁছে দেবে) অর্থাৎ তাদেরকে তাতে প্রবেশ করাবে। এখানে অতীতকালের শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু এর অর্থ হলো ভবিষ্যতে তাদের আগুনে প্রবেশ করাবে; আর যা ঘটা সুনিশ্চিত তা যেন ঘটে গেছে বলেই গণ্য হয়, একারণেই ভবিষ্যৎকালকে অতীতকালের শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে।
(আর যেখানে তারা উপনীত হবে, সেই প্রবেশের স্থানটি কতই না নিকৃষ্ট!) অর্থাৎ সেই প্রবেশের স্থানটি কতই না মন্দ। এখানে 'বি’সাত' (স্ত্রীলিঙ্গ) বলা হয়নি কারণ বিষয়টি 'মাওরূদ' বা প্রবেশের স্থানের দিকে ফিরেছে। এটি অনেকটা আপনার এই কথার মতো: 'নি’মাল মানজিলু দারুকা' (তোমার বাড়িটি কতই না উত্তম আবাসন)। 'মাওরূদ' হলো সেই পানি যেখানে অবতরণ করা হয় অথবা সেই স্থান যেখানে পৌঁছানো হয়; এটি কর্মবাচক বিশেষ্য (মাফ’উল) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।(১). দ্রষ্টব্য: ৪র্থ খণ্ড, ২৩৩ পৃষ্ঠা।
