
Table of Contents
ভূমিকা
ইসলামী ধর্মীয় গ্রন্থসমূহে, বিশেষ করে হাদিসে, নারীদের সম্পর্কে কিছু বর্ণনা রয়েছে যা নারীদের অধম হিসেবে চিত্রিত করে। উদাহরণস্বরূপ, সহিহ বুখারী (হাদিস ২৯) এবং সহিহ মুসলিম (হাদিস ১৪৫)-এ বর্ণিত হয়েছে যে নবী মুহাম্মদকে জাহান্নাম দেখানো হয়েছে, যেখানে অধিকাংশ বাসিন্দা নারী, কারণ তারা স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ এবং বুদ্ধি ও ধর্মে কমতিপূর্ণ। এই বর্ণনাগুলো নারীদের স্বল্প বুদ্ধিসম্পন্ন এবং ধর্মীয়ভাবে অপর্যাপ্ত বলে উল্লেখ করে, যা সাক্ষ্যপ্রমাণে দুই নারীর সাক্ষ্য এক পুরুষের সমান এবং মাসিকের সময় নামাজ-রোজা না করার উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এই ধরনের হাদিসগুলো ইসলামী সমাজে নারীদের অবস্থানকে প্রভাবিত করে, যা আধুনিক যুক্তিবাদ, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এবং মানবাধিকারের আলোকে অযৌক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য। এই প্রবন্ধে এই ইসলামী বিশ্বাসগুলোকে যাচাই করে দেখা হবে, এবং প্রমাণ করা হবে যে, এগুলো কোনো সার্বজনীন সত্য নয়, ঐশ্বরিক বাণী হওয়ার যোগ্যতা এগুলোর নেই বরং সপ্তম শতাব্দীর আরব সমাজের পুরুষতান্ত্রিক প্রভাবের ফলাফল। যুক্তি, বিজ্ঞান এবং মানবাধিকারের ভিত্তিতে এগুলোকে প্রত্যাখ্যান করা দরকার, কারণ কোনো ধর্মীয় টেক্সটকে অন্ধভাবে সম্মান করা যুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক।
আলেমদের ওয়াজ এবং নারীবিদ্বেষী বক্তব্য
আসুন শুরুতেই আবদুর রাজ্জাক বিন ইউসুফের একটি বক্তব্য শুনে নিই,
হাদিসের বিবরণঃ জাহান্নামের অধিকাংশই নারী
কেয়ামত এবং আল্লাহর বিচার হওয়ার আগেই নাকি নবী মুহাম্মদ মেরাজে গিয়ে দেখে এসেছেন, নারীরা অধিক জাহান্নামী। কারণ জিজ্ঞেস করায় নবী বলেছেন, স্বামীর কথা না শোনাই এর কারণ [1]
সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান
পরিচ্ছদঃ ২১/ স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা
২৮। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়। (আমি দেখি), তার অধিবাসীদের অধিকাংশই স্ত্রীলোক; (কারন) তারা কুফরী করে। জিজ্ঞাসা করা হল, ‘তারা কি আল্লাহর সঙ্গে কুফরী করে?’ তিনি বললেনঃ ‘তারা স্বামীর অবাধ্য হয় এবং ইহসান অস্বীকার করে। ’ তুমি যদি দীর্ঘকাল তাদের কারো প্রতি ইহসান করতে থাক, এরপর সে তোমার সামান্য অবহেলা দেখলেই বলে, ‘আমি কখনো তোমার কাছ থেকে ভালো ব্যবহার পাইনি। ’
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
কোরআন হাদিস এবং প্রায় সকল ইসলামিক রেফারেন্সে কোন রাখঢাক না রেখেই পরিষ্কারভাবে নারীদের স্বল্প বুদ্ধি সম্পন্ন প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করার শিক্ষা দেয়া হয়। বিষয়টি শুধু আপত্তিকরই নয়, নারীর জন্য অবমাননাকরও বটে। [2] [3] –
সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১/ কিতাবুল ঈমান
পরিচ্ছদঃ ৩৪. ইবাদতের ত্রুটিতে ঈমান হ্রাস পাওয়া এবং কুফর শব্দটি আল্লাহর সাথে কুফুরী ছাড়া নিয়ামত ও হুকুম অস্বীকার করার বেলায়ও প্রযোজ্য
১৪৫। মুহাম্মাদ ইবনু রুম্হ ইবনু মুহাজির আল মিসরি (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ হে রমনীগন! তোমরা দান-খয়রাত করতে থাক এবং বেশি করে ইস্তিগফার কর। কেননা আমি দেখেছি যে, জাহান্নামের অধিবাসীদের অধিকাংশই নারী। জনৈকা বুদ্ধিমতী মহিলা প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসুল! জাহান্নামে আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণ কি? বললেন, তোমরা বেশি বেশি অভিসম্পাত করে থাকো এবং স্বামীর প্রতি (অকৃতজ্ঞতা) প্রকাশ করে থাকো। আরদ্বীন ও জ্ঞান-বুদ্ধিতে ক্রটিপূর্ণ কোন সম্প্রদায়, জ্ঞানীদের উপর তোমাদের চেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী আর কাউকে আমি দেখিনি।
প্রশ্নকারিনী জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল! জ্ঞান-বুদ্ধি ও দ্বীনে আমাদের কমতি কিসে? তিনি বললেনঃ তোমাদের জ্ঞান-বুদ্ধির ক্রটি হলো দু-জন স্ত্রীলোকের সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান; এটাই তোমাদের বুদ্ধির ক্রটির প্রমাণ। স্ত্রীলোক (প্রতিমাসে) কয়েকদিন সালাত (নামায/নামাজ) থেকে বিরত থাকে আর রমযান মাসে রোযা ভঙ্গ করে; (ঋতুমতী হওয়ার কারণে) এটাই দ্বীনের ক্রটি।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ২৪/ যাকাত
পরিচ্ছদঃ ২৪/৪৪. নিকটাত্মীয়দেরকে যাকাত দেয়া।
১৪৬২. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ঈদুল আযহা বা ঈদুল ফিত্রের দিনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহে গেলেন এবং সালাত শেষ করলেন। পরে লোকদের উপদেশ দিলেন এবং তাদের সদাকাহ দেয়ার নির্দেশ দিলেন আর বললেনঃ লোক সকল! তোমরা সদাকাহ দিবে। অতঃপর মহিলাগণের নিকট গিয়ে বললেনঃ মহিলাগণ! তোমরা সদাকাহ দাও।আমাকে জাহান্নামে তোমাদেরকে অধিক সংখ্যক দেখানো হয়েছে। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এর কারণ কী? তিনি বললেনঃ তোমরা বেশি অভিশাপ দিয়ে থাক এবং স্বামীর অকৃতজ্ঞ হয়ে থাক।হে মহিলাগণ! জ্ঞান ও দ্বীনে অপরিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও দৃঢ়চেতা পুরুষের বুদ্ধি হরণকারিণী তোমাদের মত কাউকে দেখিনি। যখন তিনি ফিরে এসে ঘরে পৌঁছলেন, তখন ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-এর স্ত্রী যায়নাব (রাযি.) তাঁর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! যায়নাব এসেছেন। তিনি বললেন, কোন্ যায়নাব? বলা হলো, ইবনু মাস‘ঊদের স্ত্রী। তিনি বললেনঃ হাঁ, তাকে আসতে দাও। তাকে অনুমতি দেয়া হলো। তিনি বললেন, হে আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজ আপনি সদাকাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমার অলংকার আছে। আমি তা সদাকাহ করার ইচ্ছা করেছি। ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) মনে করেন, আমার এ সদাকায় তাঁর এবং তাঁর সন্তানদেরই হক বেশি। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) ঠিক বলেছে। তোমার স্বামী ও সন্তানই তোমার এ সদাকাহর অধিক হাক্দার। (৩০৪, মুসলিম ১২/২, হাঃ ৯৮২, আহমাদ ৭২৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৭৪)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
মানুষের বুদ্ধিমত্তা কে নির্ধারণ করে?
আসুন একটি হাদিস পড়ি। এই হাদিসে বলা হয়েছে, মানুষের বুদ্ধিমত্তা তাকদীরের অন্তর্ভুক্ত এবং আল্লাহ বহু পূর্বেই এটি নির্ধারণ করে রেখেছেন। অর্থাৎ কোন মানুষের বুদ্ধিমত্তা কতটুকু হবে, তা পূর্বেই আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত [4] –
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১: ঈমান (বিশ্বাস)
পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ – তাকদীরের প্রতি ঈমান
৮০-[২] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেকটি জিনিসই আল্লাহর ক্বদর (কদর) (তাক্বদীর/ভাগ্য) অনুযায়ী রয়েছে, এমনকি নির্বুদ্ধিতা ও বিচক্ষণতাও। (মুসলিম)[1]
[1] সহীহ : মুসলিম ২৬৫৫, আহমাদ ৫৮৯৩, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬১৪৯, সহীহাহ্ ৮৬১, সহীহ আল জামি‘ ৪৫৩১। ইমাম বুখারী (রহঃ) ও সহীহ বুখারীর خَلْقُ أَفْعَالِ الْعِبَادً (বান্দাদের কর্মসমূহ সৃষ্টিকরণ) নামক অধ্যায়ে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কিছু সমসাময়িক মুহাদ্দিস ভুলবশত হাদীসটি ইমাম মুসলিমের সাথে মুত্বলাক্বভাবে যুক্ত করেছেন। ইমাম মালিক (রহঃ)-ও হাদীসটি তার ‘‘মুয়াত্ত্বা’’য় বর্ণনা সংকলন করেছেন। আর ইমাম মালিক-এর সনদে ইমাম বুখারী মুসলিম-এর হাদীসটি নিয়ে এসেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
এখন, এই হাদিসে বর্ণিত নারীদের বুদ্ধিমত্তার কমতি যদি আল্লাহর তাকদীর বা পূর্বনির্ধারিত ভাগ্যের অংশ হয়, তাহলে এটি ধর্মীয় ন্যায়বিচারের ধারণাকে সম্পূর্ণ অসার করে দেয় এবং যুক্তিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ। যদি বুদ্ধিমত্তা আল্লাহর ইচ্ছায় নির্ধারিত হয়, তাহলে নারীদের কম বুদ্ধি দিয়ে তাদের জাহান্নামে অধিক সংখ্যায় পাঠানোর দাবি কোনো যুক্তিতে সমর্থিত নয়—এটি একটি অভ্যন্তরীণ সাংঘর্ষিকতা যা ধর্মীয় দাবির অযৌক্তিকতা প্রকাশ করে। ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি হলো যে প্রত্যেক ব্যক্তি তার স্বাধীন ইচ্ছা এবং কর্মের ভিত্তিতে পরীক্ষিত হবে, একই স্তরের সুযোগসম্পন্ন অবস্থায়। কিন্তু যদি বুদ্ধিমত্তা পূর্বনির্ধারিত হয়, তাহলে কোনো ব্যক্তির জ্ঞানগত সীমাবদ্ধতার জন্য তাকে দায়ী করা অযৌক্তিক এবং অন্যায়।
প্রথমত, যদি বুদ্ধিমত্তা আল্লাহর তাকদীরের অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহলে কম বুদ্ধিমান ব্যক্তি—যেমন হাদিসে নারীদের বর্ণনা করা হয়েছে—তার সীমিত চিন্তাশক্তির কারণে ধর্মীয় সত্যতা বুঝতে বা নৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম হলে, তার জন্য শাস্তি দেওয়া কোনো ন্যায়সম্মত নয়। নৈতিক দর্শনের দৃষ্টিকোণ থেকে, কোনো ব্যক্তিকে এমন কারণে দণ্ডিত করা যায় না যা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আল্লাহ ইচ্ছাকৃতভাবে নারীদের “বুদ্ধিতে ক্রটিপূর্ণ” করে সৃষ্টি করেন, তাহলে তারা ধর্মীয় কর্তব্য পালন বা স্বামীর অবাধ্যতা এড়ানোর ক্ষমতা কীভাবে অর্জন করবে? এটি সমান সুযোগের অভাব সৃষ্টি করে, যা যেকোনো ন্যায়বিচার ব্যবস্থার বিপরীত। যৌক্তিক বিশ্লেষণে, এই ধরনের পূর্বনির্ধারণ কোনো ডিভাইন ন্যায় নয়, বরং একটি লজিকাল ফ্যালাসি যা ধর্মীয় দাবিকে ভুল বা ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণ করে।
দ্বিতীয়ত, এই ধারণা “ফ্রি উইল” বা স্বাধীন ইচ্ছার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ইসলামী দর্শন মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাকে তার কর্মের দায়িত্বের ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করে [5], কিন্তু যদি বুদ্ধিমত্তা এবং নির্বুদ্ধিতা পূর্বনির্ধারিত হয়, তাহলে সেই স্বাধীনতা কার্যকর থাকে না। মানুষের চিন্তা, সিদ্ধান্ত এবং কর্ম যদি পূর্বনির্ধারিত বুদ্ধিমত্তার উপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে তাকে তার ফলাফলের জন্য দায়ী করা অসঙ্গত। এটি প্রেডেস্টিনেশনের প্যারাডক্সকে তুলে ধরে, যা দার্শনিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ, বিতর্কিত এবং যুক্তির বিরোধী।
হাদিসে এই দাবি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন সহিহ মুসলিমে বর্ণিত: “প্রত্যেকটি জিনিসই আল্লাহর ক্বদর (তাকদীর) অনুযায়ী রয়েছে, এমনকি নির্বুদ্ধিতা ও বিচক্ষণতাও।” এই হাদিসটি মিশকাতুল মাসাবীহ (হাদিস ৮০)-এও উল্লেখিত, যা সহিহ বলে বিবেচিত। কিন্তু এই দাবির প্রমাণ কোনো যুক্তি বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে নেই; এটি অন্ধবিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে, যা কোনো যৌক্তিক বিশ্লেষণে টিকে না। ফলস্বরূপ, যদি বুদ্ধিমত্তা তাকদীরের অংশ হয়, তাহলে নারীদের কম বুদ্ধির জন্য জাহান্নামে পাঠানোর ধারণা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং ধর্মীয় ন্যায়বিচারের একটি মিথ্যা দাবি। এটি দেখায় যে এই হাদিসগুলো কোনো সার্বজনীন সত্য নয়, বরং প্রাচীন সামাজিক প্রেক্ষাপটের ফলাফল, যা আধুনিক যুক্তিবাদে প্রত্যাখ্যানযোগ্য।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকারঃ জেন্ডার ইকুয়ালিটি
আধুনিক মানবাধিকারের মূলনীতি হলো জেন্ডার ইকুয়ালিটি, যা জাতিসংঘের ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অফ হিউম্যান রাইটস (১৯৪৮)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ডিক্লারেশনের অনুযায়ী, সকল মানুষ সমান অধিকারসম্পন্ন, এবং কোনো ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে নারীদের অধম করে দেখানো যাবে না। কিন্তু উল্লিখিত হাদিসগুলো নারীদের বুদ্ধি কম বলে সাক্ষ্যপ্রমাণে অসমতা প্রতিষ্ঠা করে, যা সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন। এগুলো যেসকল মাদ্রাসাতে নৈতিকতার উৎস এবং ঐশ্বরিক বানী হিসেবে প্রচার করা হয়, সেসব মাদ্রাসার ছাত্ররা নারীদের সম্পর্কে কূপমণ্ডুক ও অপবৈজ্ঞানিক ধারণা নিয়ে বড় হয়। যা সমাজে নারীবিদ্বেষ শক্তিশালী করে।
ইসলামী সমাজে এই হাদিসগুলোর প্রভাব দেখা যায় শরিয়া আইনে, যেখানে নারীদের উত্তরাধিকার অর্ধেক, ডিভোর্সের অধিকার সীমিত, এবং সাক্ষ্যপ্রমাণে অসমতা। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে, যেমন সৌদি আরব বা ইরানে, নারীদের অধিকার হরণের জন্য এই টেক্সটগুলোকে ব্যবহার করা হয়। এটি শুধু অভ্যন্তরীণ দমনমূলক নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি যেমন CEDAW (কনভেনশন অন দ্য এলিমিনেশন অফ অল ফর্মস অফ ডিসক্রিমিনেশন অ্যাগেইনস্ট উইমেন)-এর সাথে সাংঘর্ষিক।
যদি নারীদের জাহান্নামে অধিক বলা হয় স্বামীর অবাধ্যতার জন্য, তাহলে এটি প্যাট্রিয়ার্কাল কন্ট্রোলের একটি টুল, যা নারীদের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে। আধুনিক মানবাধিকারের আলোকে, এটি ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের একটি উদাহরণ, যা কোনো ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান না করে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। ফেমিনিস্ট মুসলিম স্কলার যেমন আমিনা ওয়াদুদ বা ফাতিমা মার্নিসি এই টেক্সটগুলোকে পুনর্ব্যাখ্যা করে দেখাবার চেষ্টা করেন যে, এগুলো কালচারাল বায়াস থেকে উদ্ভূত, কিন্তু তাদের এইসব দাবী ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসগুলোর সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
যৌক্তিক দৃষ্টিকোণে এসকল দাবী অপ্রমাণিত
যুক্তিবাদ অনুসারে যে কোনো দাবি প্রমাণসাপেক্ষ, এবং দাবীগুলোকে অন্ধবিশ্বাস বাদ দিয়েই বিশ্লেষণ করতে হবে। এই হাদিসগুলোতে নারীদের বুদ্ধি কম বলা হয়েছে, কিন্তু কোনো যৌক্তিক প্রমাণ নেই। এগুলো সপ্তম শতাব্দীর আরব সমাজের পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, যেখানে নারীদের শিক্ষা এবং সামাজিক অংশগ্রহণ সীমিত ছিল।
হাদিসগুলোতে বলা হয়েছে যে নারীরা অভিশাপ বেশি দেয় এবং স্বামীর অকৃতজ্ঞ, কিন্তু এটি কোনো সার্বজনীন সত্য নয়; এটি সামাজিক কন্ডিশনিংয়ের ফল। আর সদাসর্বদা স্বামীর অনুগত বা বাধ্যগত থাকার যেই কৌশলী চেষ্টা এই হাদিসের মাধ্যমে করা হচ্ছে, সেটিও মানবাধিকার লঙ্ঘনে বড় ধরণের ভূমিকা রাখে। কারণ মুসলিম সমাজের স্বামীদের তখন এরকম ধারণা তৈরি হয় যে, স্ত্রীকে বিয়ে করার মাধ্যমে সে স্ত্রীকে ধন্য করেছে, তাই স্ত্রীর দায়িত্ব তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। সেইসাথে এই হাদিসগুলোর যুক্তির কাঠামো লক্ষ্য করলে দেখা যায়, মুহাম্মদ একটি অন্ধবিশ্বাসের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য আরেকটি অন্ধবিশ্বাসের সাহায্য নিচ্ছেন। যা যুক্তির কাঠামোতে খুবই হাস্যকর এবং মূর্খতাপ্রসূত কাজ। নারীর সাক্ষ্য অর্ধেক হওয়া কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই; এটিও একটি অন্ধবিশ্বাস এবং আরবের পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা থেকে তৈরি হওয়া মানসিকতার ফল। এমন নয় যে, নারীরা ইনহেরেন্টলি কম বিশ্বাসযোগ্য। এই ধরনের দাবি কোনো প্রমাণ ছাড়া মেনে নেওয়া যুক্তিবাদের বিরোধী।
বৈজ্ঞানিক প্রমাণের আলোকে নারী
ইসলামের এই হাদিসগুলোতে নারীদের বুদ্ধি এবং ধর্মীয় পরিপূর্ণতায় কমতি দাবি করা হয়েছে, যা সপ্তম শতাব্দীর সামাজিক প্রেক্ষাপটের ফল হলেও আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে সম্পূর্ণ অসমর্থিত এবং অযৌক্তিক। এই দাবিগুলোকে সত্য বলে মেনে নেওয়া সরাসরি অন্ধবিশ্বাস, কারণ কোনো প্রমাণ ছাড়া এগুলোকে গ্রহণ করা যুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক। বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বিশেষ করে মেটা-অ্যানালাইসিস এবং নিউরোসায়েন্স স্টাডিজ, দেখায় যে নারী এবং পুরুষের মধ্যে সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা জেনারেল ইন্টেলিজেন্সে (g-factor) কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই। উদাহরণস্বরূপ, ২০২২ সালের একটি মেটা-অ্যানালাইসিস যা ৭৯টি গবেষণা (৪৬,৬০৫ জন অংশগ্রহণকারী) পর্যালোচনা করেছে, দেখায় যে স্কুল-বয়সী শিশুদের মধ্যে জেনারেল ইন্টেলিজেন্সে কোনো লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্য নেই, যদিও কিছু নির্দিষ্ট ক্ষমতায় (যেমন ক্রিস্টালাইজড ইন্টেলিজেন্সে পুরুষের সামান্য সুবিধা) পার্থক্য দেখা যায়। এই ধরনের গবেষণা আইকিউ স্কোরের উপর ভিত্তি করে দেখায় যে নারী এবং পুরুষের মধ্যে ওভারঅল ইন্টেলিজেন্স সমান, শুধুমাত্র কিছু স্পেসিফিক টাস্কে (যেমন ভার্বাল ক্যাপাসিটিতে নারীর সুবিধা বা স্পেশিয়াল ক্যাপাসিটিতে পুরুষের) ছোট পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু এগুলো জেনারেল বুদ্ধিমত্তার সাথে সম্পর্কিত নয়। [6] [7] [8] [9]
নিউরোসায়েন্স গবেষণা আরও নিশ্চিত করে যে ব্রেন স্ট্রাকচারে লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্য থাকলেও এগুলো ইন্টেলিজেন্সের সাথে সরাসরি যুক্ত নয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০২১ সালের একটি মেটা-সিন্থেসিস দেখায় যে লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্য মানুষের ব্রেন স্ট্রাকচার বা ল্যাটারালিটির মাত্র ১% এর জন্য দায়ী, এবং বড় পার্থক্য শুধুমাত্র মোট ব্রেন ভলিউমে (পুরুষের ব্রেন গড়ে ১১% বড়)। কিন্তু এই সাইজ ডিফারেন্স ইন্টেলিজেন্সের সাথে সম্পর্কিত নয়; বরং নারী এবং পুরুষ একই আইকিউ অর্জন করে ভিন্ন ব্রেন রিজিয়ন ব্যবহার করে। যেমন, স্ট্যানফোর্ড মেডিসিনের ২০২৪ সালের একটি গবেষণা দেখায় যে ব্রেন অর্গানাইজেশন প্যাটার্নে লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্য থাকলেও এগুলো সাইজের কারণে, এবং কোনো সার্বজনীন “পুরুষ ব্রেন” বা “নারী ব্রেন” নেই। এই পার্থক্যগুলো হরমোন এবং জেনেটিক ফ্যাক্টরের ফল, কিন্তু ইন্টেলিজেন্সে কোনো অসমতা সৃষ্টি করে না। অতএব, হাদিসে নারীদের বুদ্ধি কম বলে দাবি করা বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক এবং কোনো প্রমাণ ছাড়া এটিকে মেনে নেওয়া অন্ধবিশ্বাস।[10] [11] [12]
এছাড়া, নারীরা ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সে (EI) সাধারণত পুরুষের চেয়ে বেশি স্কোর করে, যা হাদিসের দাবির বিপরীত। গবেষণা দেখায় যে নারীরা এমপ্যাথি, ইন্টারপার্সোনাল রিলেশনশিপ এবং সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটিতে উন্নত, যা EI-এর কী কম্পোনেন্ট। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালের একটি গবেষণা দেখায় যে নারীরা অদেরের ইমোশনের প্রতি অ্যাটেনশন, এক্সপ্রেশন এবং রেগুলেশনে উচ্চতর স্কোর করে। এছাড়া, কর্ন ফেরি হে গ্রুপের ২০১৬ সালের একটি স্টাডি (৫৫,০০০ জন অংশগ্রহণকারী) দেখায় যে নারীরা ১২টি EI কম্পিটেন্সির মধ্যে ১১টিতে পুরুষের চেয়ে ভালো করে, শুধুমাত্র ইমোশনাল সেল্ফ-কন্ট্রোলে সমান। এই ফাইন্ডিংস দেখায় যে নারীরা ইমোশনাল অ্যাবিলিটিতে প্রায়শই পুরুষের চেয়ে এগিয়ে, যা হাদিসের নারীদের “বুদ্ধিতে ক্রটিপূর্ণ” দাবিকে খণ্ডন করে। এগুলো সামাজিক কন্ডিশনিং এবং বায়োলজিকাল ফ্যাক্টরের ফল হতে পারে, কিন্তু কোনো ধর্মীয় “কমতি” নয়। [13] [14] [15]
হাদিসে আরও দাবি করা হয়েছে যে নারীরা ধর্মীয়ভাবে অপর্যাপ্ত কারণ তারা মাসিকের সময় নামাজ বা রোজা রাখতে পারে না। কিন্তু এটি একটি বায়োলজিকাল ফ্যাক্ট, যা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া এবং কোনো “কমতি” নয়। মেনস্ট্রুয়েশন হলো ইউটেরাসের লাইনিং শেডিং, যা হরমোন (যেমন এস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এটি প্রজননের জন্য শরীরের প্রস্তুতি, যেখানে যদি গর্ভধারণ না হয় তাহলে লাইনিং শেড হয়। বিজ্ঞান এটিকে একটি স্বাভাবিক, স্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়া হিসেবে দেখে, যা নারীর ধর্মীয় বা বুদ্ধিগত কমতির সাথে যুক্ত নয়। এই দাবিকে “কমতি” বলা যুক্তির সাথে বিরোধী, কারণ এটি বায়োলজিকাল রিয়েলিটি, কোনো ডিভাইন পানিশমেন্ট বা অপর্যাপ্ততা নয়। যদি এটিকে ধর্মীয়ভাবে কমতি বলা হয়, তাহলে এটি অবশ্যই অন্ধবিশ্বাস থেকে উদ্ভূত।
সারাংশে, এই হাদিসগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে অসমর্থিত এবং কোনো প্রমাণ ছাড়া মেনে নেওয়া যায় না। বিজ্ঞান দেখায় যে নারী এবং পুরুষ সমান বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন, এবং মাসিক একটি ন্যাচারাল প্রসেস, যা কোনো কমতি নয়। এই ধরনের দাবি পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ফল, কোন সার্বজনীন সত্য নয়।
জান্নাতেও নারীর সংখ্যা বেশি
এবারে আসুন আরেকটি হাদিস পড়ি। এই হাদিসে দেখা যাচ্ছে, প্রত্যেক জান্নাতি পুরুষ বিবাহিত হবে এবং তাদের দুইজন করে স্ত্রী থাকবে। অর্থাৎ নারীর সংখ্যা হবে পুরুষের কমপক্ষে দ্বিগুণ। হুরদের কথা তো বাদই দিচ্ছি। প্রশ্ন হচ্ছে, জাহান্নামেও নারীর সংখ্যা বেশি, জান্নাতেও নারী পুরুষের দ্বিগুণ। এটি যৌক্তিকভাবে কীভাবে সম্ভব? নাকি এইসব হাদিস আসলে মনের খেয়াল খুশি মত যা ইচ্ছা বক্তব্যের প্রতিফলন, যার কারণে এগুলোর মধ্যে কোন সামাঞ্জস্য নেই [16]
সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫৪/ জান্নাত, জান্নাতের নিয়ামত ও জান্নাতবাসীগনের বিবরণ
পরিচ্ছেদঃ ৬. সর্বপ্রথম যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করবে পূর্ণিমার রাতের চাঁদের মত তাদের চেহারা দীপ্তমান হবে এবং তাদের গুনাবলী ও তাদের স্ত্রীদের বিবরণ
৬৮৮৪। আমর নাকিদ ও ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম আদদাওরাকী (রহঃ) … মুহাম্মদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা হয়ত গর্ব প্রকাশ করে বলল, অথবা আলোচনা করতঃ বলল, জান্নাতে পুরুষ বেশী হবে, না নারী? এ কথা শুনে আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেন নি, প্রথম যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় দপ্তীয়মান। তাদের পর যারা জান্নাতে যাবে তাদের চেহারা হবে উজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যায়। তাদের প্রত্যেকের জন্যই থাকবে দু জন স্ত্রী। গোশতের ওপাশ হতে তাদের পায়ের গোছার (অস্থির) মগজ দেখা যাবে। জান্নাতের মধ্যে কেউ অবিবাহিত থাকবে না।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু সীরীন (রহঃ)
উপসংহার
উল্লিখিত হাদিসগুলো ইসলামী সমাজে নারীদের ছোট করে, অবমাননা করার পথ প্রশস্ত করে, তাদের সাবহিউম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু আধুনিক যুক্তি, বিজ্ঞান এবং মানবাধিকারের আলোকে এগুলো অযৌক্তিক এবং প্রত্যাখ্যানযোগ্য। এগুলো কোনো ডিভাইন সত্য নয়, বরং পুরুষতান্ত্রিক কালচারের ফল। মুসলিম সমাজে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে এই টেক্সটগুলোকে পুনর্ব্যাখ্যা বা প্রত্যাখ্যান করতে হবে, কারণ কোনো ধর্মীয় অনুভূতিকে শ্রদ্ধা করে যুক্তিকে ত্যাগ করা যায় না। প্রমাণের অভাবে এগুলোকে মেনে নেওয়া অন্ধবিশ্বাস, এবং নারীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করতে হবে।
তথ্যসূত্রঃ
- সহীহ বুখারী (ইফাঃ), হাদিসঃ ২৮ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ১৪৫ ↩︎
- সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিসঃ ১৪৬২ ↩︎
- মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিসঃ ৮০ ↩︎
- ইসলামের অন্যতম ভিত্তি তাকদীর প্রসঙ্গে ↩︎
- The Impasse on Gender Differences in Intelligence: a Meta-Analysis on WISC Batteries ↩︎
- The sexes do not differ in general intelligence, but they do in some specifics ↩︎
- Sex/gender differences in general cognitive abilities: an investigation using the Leiter-3 ↩︎
- You don’t have a male or female brain – the more brains scientists study, the weaker the evidence for sex differences ↩︎
- The neuroanatomy of general intelligence: sex matters ↩︎
- Stanford Medicine study identifies distinct brain organization patterns in women and men ↩︎
- T w o m i n d s The cognitive differences between men and women ↩︎
- Are Men and Women Equally Emotionally Intelligent? ↩︎
- Sex differences in emotional and meta-emotional intelligence in pre-adolescents and adolescents ↩︎
- The influence of gender on the relationship between emotional intelligence and psychological well-being in Spanish university students ↩︎
- সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৬৮৮৪ ↩︎
