
Table of Contents
- 1 ভূমিকা
- 2 আফগানিস্তানের নতুন আইনঃ স্ত্রী প্রহার
- 3 স্ত্রী প্রহারের সামাজিক প্রভাব
- 4 পরিবারের শিশুদের উপর এর প্রভাব
- 5 কোরআনঃ অবাধ্য হওয়ার আশঙ্কা করলে প্রহার
- 6 নবী নিজেও স্ত্রী প্রহার করতেন
- 7 স্ত্রী প্রহারের বৈধতা দান ও নবীর ঘরে নারী সমাবেশ
- 8 সাহাবীরা স্ত্রীদের পিটিয়ে সবুজ করে ফেলতো
- 9 স্ত্রী প্রহারের কোন জবাবদিহিতা নেই
- 10 নবী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতেন না
- 11 নবী বিশেষ কারণে গোলামের মত স্ত্রী পেটাতে নিষেধ করেছেন
- 12 মুখে মারা যাবে না, কারণ দাগ থাকবে
- 13 জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবীর স্ত্রী নির্যাতন
- 14 আলেমদের বক্তব্যঃ চার কারণে স্ত্রী প্রহার
- 15 বিবাহ আসলে স্বামীর দাসী হওয়ার নামান্তর
- 16 উপসংহার
ভূমিকা
নারীর প্রতি স্বামীর সহিংসতা বা স্বামীর মারধর মানবসমাজের অন্যতম জঘন্য অপরাধ, যা কেবল একটি পরিবার নয়, সমগ্র সমাজকেই প্রভাবিত করে। এটি একটি নির্মম বাস্তবতা যে আমাদের সমাজে বহু নারী তাদের সঙ্গীর হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। এই সহিংসতার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী—দীর্ঘমেয়াদি ট্রমা, মানসিক স্বাস্থ্য সংকট, এবং চরম ক্ষেত্রে মৃত্যুও এর পরিণতি হতে পারে।
স্ত্রী প্রহার মূলত পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষের ক্ষমতার এক চরম অপব্যবহার, যা নারীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গার্হস্থ্য সহিংসতা নিঃসন্দেহে অগ্রহণযোগ্য—এটি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কারও ক্ষেত্রেই সত্য। আধুনিক সভ্য সমাজে প্রতিটি মানুষের অধিকার আছে শারীরিক নির্যাতনের ভয় ছাড়াই নিরাপদ জীবনযাপন করার। কিন্তু ইসলামসহ বহু প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মে পুরুষকে স্ত্রীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মারধরের অনুমতি বা বৈধতার ধারণা বিদ্যমান। যখন এই বিষয়টি ধর্মীয় যুক্তির মাধ্যমে আইনগত স্বীকৃতি পায়, তখন তা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
এখানেই প্রশ্ন ওঠে—মুসলিম নারীরা কী চান? সমান অধিকার, নাকি তারা স্বেচ্ছায় সেই কাঠামোকে সমর্থন করেন, যেখানে স্বামীর হাতে প্রহারের ক্ষমতা ন্যায্যতা পায়? আসুন কিছু ভিডিও দেখা যাক, যেখানে বোরখাপরা এক মুসলিম নারী নিজে নারী হয়েও সমঅধিকারের বিরোধিতা করছেন, নিজেরা নারী হয়ে পুরুষতন্ত্রের উকালতি করছেন এবং বাংলাদেশে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার পক্ষে মত প্রকাশ করছেন,
আফগানিস্তানের নতুন আইনঃ স্ত্রী প্রহার
ওয়াজ-মাহফিল কিংবা বিভিন্ন ইসলামপন্থী বক্তাদের মুখে প্রায়ই শোনা যায়, ইসলাম নাকি নারীদের দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান ও সুমহান অধিকার। এই দাবিটি এত ঘনঘন উচ্চারিত হয় যে অনেকের কাছে এটি প্রশ্নাতীত সত্যে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, বহু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে নারী নির্যাতনের ভয়াবহতা এক গোপন তথ্য নয়; এটি প্রকাশ্য সামাজিক সংকট।
সমস্যা শুধু এই নয় যে কিছু মানুষ আইন ভেঙে সহিংসতা করছে। বরং উদ্বেগজনক হলো, কিছু দেশে এমন বিধান বিদ্যমান যেখানে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে স্ত্রীকে প্রহার করার অনুমতি আইনগত কাঠামোর ভেতরেই স্থান পায়। উদাহরণ হিসেবে Afghanistan-এর সাম্প্রতিক ইসলামিক আইনের কিছু ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে, স্বামী স্ত্রীকে এমনভাবে প্রহার করতে পারবে যাতে ‘হাড় না ভাঙে’। অর্থাৎ সহিংসতার সীমা নির্ধারণ করা হচ্ছে, কিন্তু সহিংসতার নৈতিক বৈধতাকেই প্রশ্নহীন ধরা হচ্ছে। [1]
এখানেই মূল দ্বন্দ্বটি স্পষ্ট হয়। যদি একটি মতবাদ সত্যিই নারীর সর্বোচ্চ সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করে থাকে, তবে সেই মতবাদের অনুসারী সমাজগুলোতে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা কেন এত অনিশ্চিত? সমস্যাটি কি কেবল প্রয়োগের ব্যর্থতা, নাকি ধারণার মধ্যেই এমন একটি কাঠামো রয়েছে যা পুরুষের কর্তৃত্বকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অগ্রাধিকার দেয়?
স্লোগান আর সামাজিক বাস্তবতার এই ফাঁকটাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত। কারণ সম্মানের দাবি যত জোরেই উচ্চারিত হোক, যদি আইনের ভাষা সহিংসতার সীমা নির্ধারণ করে কিন্তু সহিংসতাকেই বৈধ রাখে, তবে সেই সম্মান শব্দটি শেষ পর্যন্ত একটি অলংকার ছাড়া আর কিছু থাকে না।

স্ত্রী প্রহারের সামাজিক প্রভাব
গার্হস্থ্য সহিংসতা ও স্ত্রী-প্রহারের সবচেয়ে বিধ্বংসী দিকগুলোর একটি হলো ভুক্তভোগীর মানসিক সুস্থতার ওপর এর গভীর আঘাত। যেসব নারী এ ধরনের সহিংসতার শিকার হন, তারা প্রায়ই হতাশা, তীব্র উদ্বেগ, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD) এবং অন্যান্য মানসিক জটিলতায় ভোগেন। এই মানসিক ক্ষত শুধু সাময়িক নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদে তাদের কর্মজীবন, সামাজিক সম্পর্ক, আত্মসম্মানবোধ এবং জীবনের সামগ্রিক মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেক সময় তারা স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন, আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়ে, এবং নির্যাতনকেই “স্বাভাবিক” বলে মানিয়ে নিতে শেখেন।
এটি কেবল একজন নারীর ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়। যে পরিবারে সহিংসতা স্বাভাবিকীকৃত হয়, সেই পরিবারের শিশুরা নীরবে একটি বিপজ্জনক শিক্ষা পায়। তারা শিখে ফেলে যে ক্ষমতা মানেই নিয়ন্ত্রণ, আর নিয়ন্ত্রণ মানেই প্রয়োজনে সহিংসতা। ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভেতরে ভয়, আক্রোশ, বিকৃত পুরুষতান্ত্রিক ধারণা এবং সহিংসতার প্রতি সহনশীলতা তৈরি হয়। একটি প্রজন্মের ওপর সহিংসতা পরবর্তী প্রজন্মের চরিত্রে ছাপ রেখে যায়। সমাজ তখন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, সহিংস মানুষ তৈরি হলো কীভাবে। যেন ঘরের ভেতরের দৃশ্য কেউ দেখেনি।
মানসিক প্রভাবের পাশাপাশি এর গুরুতর শারীরিক পরিণতিও রয়েছে। স্ত্রী-প্রহারের শিকার নারীরা হাড় ভাঙা, গভীর ক্ষত, পোড়া দাগসহ নানা ধরনের আঘাতে ভুগতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে এসব আঘাত চিকিৎসার প্রয়োজন সৃষ্টি করে, হাসপাতালে ভর্তি পর্যন্ত হতে হয়। চরম পরিস্থিতিতে এই সহিংসতা প্রাণঘাতী রূপ নেয়। অর্থাৎ “পারিবারিক বিষয়” বলে যা হালকাভাবে পাশ কাটানো হয়, সেটিই কখনও সরাসরি জীবনসংহারী হয়ে দাঁড়ায়।
আরও উদ্বেগজনক হলো, কিছু ধর্মীয় ব্যাখ্যায় বিশেষত ইসলামি ফিকহের নির্দিষ্ট ধারায় স্ত্রীকে প্রহারের একটি শর্তসাপেক্ষ বৈধতা উল্লেখ করা হয়েছে। যখন কোনো মতাদর্শ এমন ধারণা প্রচার করে যে স্বামী চাইলে স্ত্রীকে শাসনের অংশ হিসেবে আঘাত করতে পারে, তখন তা কেবল একটি আচরণকে নয়, একটি মানসিকতাকেও বৈধতা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের দায় উল্টো নারীর ওপর চাপানো হয়—সে “অবাধ্য” ছিল, সে “দায়িত্ব পালন করেনি”, তাই শাস্তি নাকি যৌক্তিক। এই যুক্তি সহিংসতাকে শুধু অনুমোদনই করে না, বরং ভুক্তভোগীকেই অভিযুক্তে পরিণত করে।
এখন প্রশ্ন হলো, কোনো নৈতিক বা ধর্মীয় কাঠামো কি এমন ধারণা বহন করতে পারে, যেখানে সহিংসতার সীমা নির্ধারণ করা হয়, কিন্তু সহিংসতাকেই মৌলিকভাবে অস্বীকার করা হয় না? এই প্রশ্ন এড়িয়ে গেলে সমস্যা থাকবে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম। তাই প্রয়োজন আবেগ নয়, স্পষ্ট বিশ্লেষণ—ইসলাম এই বিষয়ে কী বলে, তার ঐতিহাসিক ও আইনি ব্যাখ্যা কী, এবং সেই ব্যাখ্যাগুলো মানবাধিকার ও নৈতিকতার মানদণ্ডে কোথায় দাঁড়ায়।
পরিবারের শিশুদের উপর এর প্রভাব
গার্হস্থ্য সহিংসতার সবচেয়ে ভয়াবহ কিন্তু সবচেয়ে অবহেলিত শিকার হচ্ছে পরিবারের শিশুরা। একটি শিশু যখন দেখে তার মা নিয়মিতভাবে অপমানিত, প্রহৃত বা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে, তখন তার ভেতরে নিরাপত্তা, ন্যায়বোধ এবং মানবিকতার ধারণা গভীরভাবে বিকৃত হয়ে যায়। মনোবিজ্ঞানী Albert Bandura–র সামাজিক শিক্ষণ তত্ত্ব (Social Learning Theory) অনুযায়ী, শিশুরা আচরণ শেখে পর্যবেক্ষণ ও অনুকরণের মাধ্যমে। অর্থাৎ, যদি সে দেখে যে শক্তিশালী ব্যক্তি দুর্বলকে আঘাত করছে এবং সেটি সামাজিক বা ধর্মীয়ভাবে বৈধ, তবে সে এই আচরণকে স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য বলে শিখে ফেলে।
এ ধরনের পরিবেশে বেড়ে ওঠা ছেলেশিশুরা ভবিষ্যতে সহিংস স্বামী বা কর্তৃত্বপরায়ণ পুরুষে রূপ নিতে পারে, আর মেয়েশিশুরা শিখে নেয় যে নির্যাতন সহ্য করাই ‘স্বাভাবিক দাম্পত্য’। এতে একটি সহিংসতার চক্র তৈরি হয়, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশবে পারিবারিক সহিংসতা প্রত্যক্ষ করা শিশুদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, আত্মসম্মানহীনতা, আক্রমণাত্মক আচরণ এবং সম্পর্কগত অস্থিরতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তারা প্রায়ই মনে করে, ভালোবাসা মানেই ভয় এবং কর্তৃত্ব মানেই সহিংসতা।
সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, যখন এই সহিংসতাকে ধর্মীয় ভাষায় বৈধতা দেওয়া হয়, তখন শিশুর মনে একটি ভয়ঙ্কর সমীকরণ তৈরি হয়—ঈশ্বর, ন্যায় এবং সহিংসতা একই কাঠামোর অংশ। সে শিখে যে অন্যকে আঘাত করা শুধু অনুমোদিতই নয়, বরং কখনও কখনও পুণ্যও হতে পারে। এতে তার নৈতিক বিকাশ (moral development) বিকৃত হয় এবং সহমর্মিতার পরিবর্তে আনুগত্য ও ভয় প্রধান মূল্যবোধে পরিণত হয়।
ফলে স্ত্রী প্রহার শুধু একজন নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা নয়; এটি ভবিষ্যৎ নাগরিক তৈরির প্রক্রিয়ায় সহিংসতার বীজ বপন। যে সমাজ শিশুদের সামনে প্রহারকে শৃঙ্খলা হিসেবে উপস্থাপন করে, সেই সমাজ পরবর্তীতে সহিংস পুরুষ, ভীত নারী এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত প্রজন্মের ভার বহন করতে বাধ্য হয়।
কোরআনঃ অবাধ্য হওয়ার আশঙ্কা করলে প্রহার
ইসলাম স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে স্বামীকে প্রভু এবং স্ত্রীকে দাসীর মতই গণ্য করে। ইসলামের বিধান হচ্ছে, একজন স্বামী অবাধ্য হওয়ার শুধুমাত্র আশঙ্কা করলেই, স্ত্রীকে পেটাতেও পারবে। কিন্তু স্বামী ভদ্রলোক যাই করুক না কেন, স্ত্রী কোনমতেই তাকে পেটানো দুরের কথা, গালিও দিতে পারবে না। নারীর সুমহান মর্যাদা দানের অতি উৎকৃষ্ট নমুনা [2] –
পুরুষগণ নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল এ কারণে যে, আল্লাহ তাদের এককে অন্যের উপর মর্যাদা প্রদান করেছেন, আর এজন্য যে, পুরুষেরা স্বীয় ধন-সম্পদ হতে ব্যয় করে। ফলে পুণ্যবান স্ত্রীরা (আল্লাহ ও স্বামীর প্রতি) অনুগতা থাকে এবং পুরুষের অনুপস্থিতিতে তারা তা (অর্থাৎ তাদের সতীত্ব ও স্বামীর সম্পদ) সংরক্ষণ করে যা আল্লাহ সংরক্ষণ করতে আদেশ দিয়েছেন। যদি তাদের মধ্যে অবাধ্যতার সম্ভাবনা দেখতে পাও, তাদেরকে সদুপদেশ দাও এবং তাদের সাথে শয্যা বন্ধ কর এবং তাদেরকে (সঙ্গতভাবে) প্রহার কর, অতঃপর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তাহলে তাদের উপর নির্যাতনের বাহানা খোঁজ করো না, নিশ্চয় আল্লাহ সর্বোচ্চ, সর্বশ্রেষ্ঠ।
— Taisirul Quran
পুরুষেরা নারীদের উপর তত্ত্বাবধানকারী ও ভরণপোষণকারী, যেহেতু আল্লাহ তাদের মধ্যে একের উপর অপরকে বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এই হেতু যে, তারা স্বীয় ধন সম্পদ হতে তাদের জন্য ব্যয় করে থাকে; সুতরাং যে সমস্ত নারী পুণ্যবতী তারা আনুগত্য করে, আল্লাহর সংরক্ষিত প্রচ্ছন্ন বিষয় সংরক্ষণ করে; যদি নারীদের অবাধ্যতার আশংকা হয় তাহলে তাদেরকে সদুপদেশ প্রদান কর, তাদেরকে শয্যা হতে পৃথক কর এবং তাদেরকে প্রহার কর; অনন্তর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয় তাহলে তাদের জন্য অন্য পন্থা অবলম্বন করনা; নিশ্চয়ই আল্লাহ সমুন্নত, মহা মহীয়ান।
— Sheikh Mujibur Rahman
পুরুষরা নারীদের তত্ত্বাবধায়ক, এ কারণে যে, আল্লাহ তাদের একের উপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যেহেতু তারা নিজদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে। সুতরাং পুণ্যবতী নারীরা অনুগত, তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে হিফাযাতকারিনী ঐ বিষয়ের যা আল্লাহ হিফাযাত করেছেনে। আর তোমরা যাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদেরকে সদুপদেশ দাও, বিছানায় তাদেরকে ত্যাগ কর এবং তাদেরকে (মৃদু) প্রহার কর। এরপর যদি তারা তোমাদের আনুগত্য করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমুন্নত মহান।
— Rawai Al-bayan
পুরুষরা নারীদের কর্তা [১], কারণ আল্লাহ তাদের এককে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং এজন্যে যে, পুরুষ তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে [২]। কাজেই পূণ্যশীলা স্ত্রীরা অনুগতা [৩] এবং লোকচক্ষুর আড়ালে আল্লাহর হেফাযতে তারা হেফাযত করে [৪]। আর স্ত্রীদের মধ্যে যাদের অবাধ্যতার আশংকা কর তাদেরকে সদুপদেশ দাও, তারপর তাদের শয্যা বর্জন কর এবং তাদেরকে প্রহার কর [৫]। যদি তারা তোমাদের অনুগত হয় তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পথ অন্বেষণ করো না [৬]। নিশ্চয় আল্লাহ শ্রেষ্ঠ, মহান।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কোরআনের সংশ্লিষ্ট আয়াতে শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে “অবাধ্যতার আশঙ্কা”। অর্থাৎ স্ত্রী বাস্তবে অবাধ্য হয়েছে কি না, সেটি নয়; স্বামীর মনে যদি এমন ধারণা বা সন্দেহ জন্মায় যে স্ত্রী অবাধ্য হতে পারে, তাহলেই শাসনের ধাপগুলো প্রযোজ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ভাষ্য অনুযায়ী, বাস্তব ঘটনার আগেই সম্ভাব্য অবাধ্যতার অনুমানকে ভিত্তি করে প্রহারের বৈধতার পথ খোলা রাখা হয়েছে। এটাই আয়াতটির সরল পাঠ থেকে যে ধারণা পাওয়া যায়।
নবী নিজেও স্ত্রী প্রহার করতেন
এমনকি, নবী নিজেই একবার তার শিশু স্ত্রী আয়িশাকে প্রহার করেছিল বলেই জানা যায়। হযরত আয়িশা হতে বর্ণিত, তিনি (মুহাম্মদ) আমাকে বুকের ওপর আঘাত করলেন যা আমাকে ব্যথা দিল [3] [4] –
সূনান নাসাঈ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৭/ স্ত্রীর সাথে ব্যবহার
পরিচ্ছেদঃ ৪. আত্মাভিমান
৩৯৬৫. সুলায়মান ইবন দাউদ (রহঃ) … মুহাম্মদ ইবন কায়স (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ) থেকে শুনেছি, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আমার ব্যাপারে কি তোমাদেরকে বর্ণনা করব না? আমরা বললাম, কেন করবেন না? তিনি বললেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামআমার পালার রাতে (ইশার সালাত আদায়ের পর) ফিরে আসলেন। তারপর তার জুতা পায়ের দিকে রাখলেন, তাঁর চাদর রেখে দিলেন এবং তাঁর একটি লুঙ্গি বিছানার উপর বিছালেন।
তারপর তিনি মাত্র এতটুকু সময় অবস্থান করলেন যতক্ষণে তাঁর ধারণা হল যে, আমি ঘুমিয়ে পড়েছি। তারপর উঠে আস্তে করে জুতা পরলেন এবং আস্তে করে তার চাদর নিলেন। তারপর আস্তে করে দরজা খুললেন এবং বের হয়ে আস্তে দরজা চাপিয়ে দিলেন। আর আমি মাথার উপর দিয়ে কামিজটি পরিধান করলাম, ওড়না পরলাম এবং চাদরটি গায়ে আবৃত করলাম ও তার পিছনে চললাম, তিনি বাকীতে আসলেন এবং তিনবার হাত উঠালেন ও বহুক্ষণ দাঁড়ালেন, তারপর ফিরে আসছিলেন। আমিও ফিরে আসছিলাম। তিনি একটু তীব্রগতিতে চললেন, আমিও তীব্রগতিতে চললাম, তিনি দৌড়ালেন, আমিও দৌড়ালাম। তিনি পৌছে গেলেন, তবে আমি তার আগে পৌছে গেলাম।
ঘরে প্রবেশ করেই শুয়ে পড়লাম। তিনিও প্রবেশ করলেন এবং বললেনঃ হে আয়েশা! কি হয়েছে তোমার পেট যে ফুলে গেছে। বর্ণনাকারী সুলায়মান বলেন, ইবন ওয়াহাব (رابية) এর পরিবর্তে (حشيا) দ্রুত চলার কারণে হাঁপিয়ে ওঠা শব্দটি বলেছেন বলে ধারণা করছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঘটনা কি বল, নচেৎ আল্লাহ্ যিনি সূক্ষ্মদর্শী ও সম্যক পরিজ্ঞাত, তিনিই আমাকে খবর দিবেন।
আমি বললাম, আমার পিতামাতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক এবং ঘটনাটির বর্ণনা দিলাম। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমিই সেই (ছায়ামূর্তি) যা আমি আমার সামনে দেখছিলাম? আমি বললাম, হ্যাঁ। আয়েশা (রাঃ) বললেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বক্ষে একটি মুষ্ঠাঘাত করলেন যা আমাকে ব্যথা দিল। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি ধারণা করেছ আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল তোমার উপর যুলুম করবে? আয়েশ্ম (রাঃ) বললেন, লোক যতই গোপন করুক না কেন, আল্লাহ্ তা নিশ্চিত জানেন।
রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয়ই তুমি যখন আমাকে দেখছিলে তখন জিবরীল (আঃ) আমার কাছে এসেছিলেন। তুমি যে (শুয়ে যাওয়ায়) কাপড় খুলে ফেলেছ। তাই জিবরীল (আঃ) প্রবেশ করেননি। তোমার থেকে গোপন করে আমাকে ডাকলেন, আমিও তোমার থেকে গোপন করে উত্তর দিলাম। মনে করলাম, তুমি ঘুমিয়ে পড়েছ। তোমাকে জাগিয়ে দেওয়াটা পছন্দ করলাম না এবং এ ভয়ও ছিল যে, (আমি চলে যাওয়ার কারণে) তুমি নিঃসঙ্গতা বােধ করবে। জিবরীল (আঃ) আমাকে নির্দেশ দিলে বাকীতে অবস্থানকারীদের কাছে যাই এবং তাদের রব্বের কাছে তাদের জন্য ক্ষমা চাই।
তাহক্বীকঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ মুহাম্মদ ইবন কায়স (রহঃ)


স্ত্রী প্রহারের বৈধতা দান ও নবীর ঘরে নারী সমাবেশ
একটি বহুল আলোচিত হাদিস থেকে জানা যায়, নবী মুহাম্মদ প্রথমে স্ত্রীদের প্রহার করতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু পরে উমরের বক্তব্য এবং সূরা নিসার ৩৪ নম্বর আয়াত নাজিল হওয়ার পর সেই অবস্থান পরিবর্তিত হয়, এবং নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে স্ত্রীকে মারার অনুমতি দেওয়া হয়। এর ফল কী হয়েছিল, সেটিও একই বর্ণনায় পাওয়া যায়। হাদিসে বলা হয়েছে, প্রায় সত্তরজন নারী নবীর পরিবারের কাছে এসে নিজেদের স্বামীর নির্যাতনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। অর্থাৎ সেই রাতে স্ত্রী প্রহারের এক মহোৎসব হয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অভিযোগগুলোর পর অভিযুক্ত স্বামীদের বিরুদ্ধে কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করা হয়নি। বরং মন্তব্য ছিল, যারা স্ত্রীকে প্রহার করে তারা উত্তম ব্যক্তি নয়—এ ধরনের নৈতিক সতর্কবাণী। ঠিক যেমন বাচ্চারা চকলেট খেলে হালকা বকে দেয়া হয়, সেই ভঙ্গিতে [5] [5] –
সুনান ইবনু মাজাহ
৯/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৯/৫১. স্ত্রীদের প্রহার করা নিকৃষ্ট কাজ।
৩/১৯৮৫। ইয়াস ইবনু ’আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ যুবাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহর দাসীদের প্রহার করো না। অতঃপর ’উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলেনঃ হে আল্লাহর রসূল! নারীরা তো তাদের স্বামীদের অবাধ্যাচরণ করছে। তিনি তাদেরকে মারার অনুমতি দিলেন এবং তারা প্রহৃত হলো। পরে অনেক নারী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাড়িতে সমবেত হলো।সকাল বেলা তিনি বলেনঃ ’’আজ রাতে মুহাম্মাদের পরিবারে সত্তরজন মহিলা এসে তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।তোমরা মারপিটকারীদেরকে তোমাদের মধ্যে উত্তম হিসাবে পাবে না।
আবূ দাউদ ২১৪৬, দারেমী ২২১৯, গায়াতুল মারাম ২৫১, সহীহ আবী দাউদ ১৮৬৩।
তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
এবার নিচের হাদিসটি লক্ষ্য করুন। এখানে দেখা যায়, প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার পর নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্ত্রী প্রহারের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর নির্যাতনের শিকার নারীরা বারবার অভিযোগ জানালেও সেই অনুমতি প্রত্যাহার করা হয়নি, কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বরং আবারও বলা হয়েছে, যারা এভাবে স্ত্রীকে কষ্ট দেয় তারা ভালো মানুষ নয়। প্রশ্ন থেকে যায়, কেবল নৈতিক ভর্ৎসনা কি যথেষ্ট ছিল, নাকি এর মাধ্যমে কার্যত সেই অনুমতিই বহাল থাকল? ঘটনাপ্রবাহ থেকে বোঝা যায়, মৌখিক সমালোচনা সত্ত্বেও আইনগত ও কাঠামোগত অনুমোদন অক্ষুণ্ণ ছিল। [6] –
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৩: বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ১০. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ – স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার এবং তাদের প্রত্যেকের (স্বামী-স্ত্রীর) পারস্পরিক হক ও অধিকার সংক্রান্ত
৩২৬১-[২৪] আয়াস ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহ তা‘আলার বান্দীগণকে (স্ত্রীগণকে ক্রীতদাসীর ন্যায়) মেরো না। অতঃপর ‘উমার এসে বললেন, (আপনার নিষেধাজ্ঞার দরুন) স্বামীদের ওপর রমণীদের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে (প্রয়োজনসাপেক্ষে) মারার অনুমতি দিলেন। এমতাবস্থায় রমণীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণীগণের নিকট পুনঃপুন এসে স্বামীদের (অত্যাচারের) ব্যাপারে অভিযোগ করতে লাগল। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, শুনে রাখ! আমার পরিবার-পরিজনের নিকট স্ত্রীগণ স্বামীদের অভিযোগ নিয়ে পুনঃপুন আসছে যে, তোমাদের মধ্যে (যারা স্ত্রীদেরকে এরূপে কষ্ট দেয়) তারা কোনক্রমেই ভালো মানুষ নয়। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ ও দারিমী)[1]
[1] সহীহ : আবূ দাঊদ ২১৪৬, ইবনু মাজাহ ১৯৮৫, দারিমী ২২৬৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪১৮৯, সহীহ আল জামি‘ ৭৩৬০।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন সায়িব (রহঃ)
সাহাবীরা স্ত্রীদের পিটিয়ে সবুজ করে ফেলতো
শুধু তাই নয়, একবার এক নারীকে তার স্বামী বেদম পিটিয়ে চামড়া সবুজ করে ফেলে। আয়িশার বর্ণনা অনুসারে, কোন মুমিন মহিলাকে তিনি এত ভয়াবহভাবে প্রহার হতে দেখেনি। মহিলার অভিযোগের প্রেক্ষিতে নবী কোন ব্যবস্থাই নিলেন না। সেই স্বামীর বিরুদ্ধে পৃথিবীর যেকোন সভ্য আদালতেই মামলা হতো, নবীর বিচারালয়ে তার কোন বিচারই হয়নি [7] –
সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৭৭/ পোশাক
পরিচ্ছেদঃ ৭৭/২৩. সবুজ পোশাক প্রসঙ্গে
৫৮২৫. ’ইকরামাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। রিফা’আ তার স্ত্রীকে ত্বালাক দেয়। পরে ’আবদুর রহমান কুরাযী তাকে বিবাহ করে। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তার গায়ে একটি সবুজ রঙের উড়না ছিল। সে ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট অভিযোগ করল এবং (স্বামীর প্রহারজনিত) স্বীয় গাত্রের চামড়ার সবুজ বর্ণ দেখালো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এলেন, আর স্ত্রীগণ একে অন্যের সহযোগিতা করে থাকে, তখন ’আয়িশাহ বললেনঃ কোন মু’মিন মহিলাকে এমনভাবে প্রহার করতে আমি কখনও দেখিনি। মহিলাটির চামড়া তার কাপড়ের চেয়ে বেশি সবুজ হয়ে গেছে। বর্ণনাকারী বলেনঃ ’আবদুর রহমান শুনতে পেল যে, তার স্ত্রী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসেছে। সুতরাং সেও তার অন্য স্ত্রীর দু’টি ছেলে সাথে করে এলো। স্ত্রী লোকটি বললঃ আল্লাহর কসম! তার উপর আমার এ ব্যতীত আর কোন অভিযোগ নেই যে, তার কাছে যা আছে তা আমাকে এ জিনিসের চেয়ে অধিক তৃপ্তি দেয় না। এ বলে তার কাপড়ের আঁচল ধরে দেখাল।
’আবদুর রহমান বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! সে মিথ্যা বলছে, আমি তাকে ধোলাই করি চামড়া ধোলাই করার ন্যায় দীর্ঘস্থায়ী সঙ্গম করি। কিন্তু সে অবাধ্য স্ত্রী, রিফা’আর কাছে ফিরে যেতে চায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ব্যাপার যদি তাই হয় তাহলে রিফা’আ তোমার জন্য হালাল হবে না, অথবা তুমি তার যোগ্য হতে পার না, যতক্ষণ না ’আবদুর রহমান তোমার সুধা আস্বাদন করবে। বর্ণনাকারী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আবদুর রহমানের সাথে তার পুত্রদ্বয়কে দেখে বললেন, এরা কি তোমার পুত্র? সে বললঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এই আসল ঘটনা, যে জন্য স্ত্রী লোকটি এমন করেছে। আল্লাহর কসম! কাকের সাথে কাকের যেমন মিল থাকে, তার চেয়েও বেশি মিল আছে ওদের সাথে এর (অর্থাৎ ’আবদুর রহমানের সাথে তাঁর পুত্রদের)। [২৬৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৯৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইকরিমা (রহঃ)
এই হাদিসটির আরো কয়েকটি বর্ণনা থেকে জানা যায়, নবীর সেই সাহাবী তার স্ত্রীকে নিয়মিতভাবে পেটাতো। এই নিয়ে অভিযোগের পরেও নবী সেই সাহাবীর বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি। যা থেকে প্রমাণিত হয় যে, স্ত্রী প্রহার বিষয়ে নবীর মৌন সম্মতি ছিল অথবা কাজটি ইসলামের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধ নয় [8] !
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৬৪/ পোষাক-পরিচ্ছদ
পরিচ্ছেদঃ ২৩৫২. সবুজ পোশাক
৫৪০৮। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … ইকরামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। রিফাআ তার স্ত্রীকে তালাক দেয়। পরে আবদুর রহমান কুরাযী তাকে বিবাহ করে। আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ তার গায়ে একটি সবুজ রঙের উড়না ছিল। সে আয়িশা (রাঃ) এর নিকট অভিযোগ করলেন এবং (স্বামীর প্রহারের দরুন) নিজের গায়ের চামড়ার সবুজ বর্ণ দেখালো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এলেন, আর লোকেরা একে অন্যের সহযোগিতা করে থাকে, তখন আয়িশা (রাঃ) বললেনঃ কোন মুমিন মহিলাকে এমনভাবে প্রহার করতে আমি কখনও দেখিনি।
মহিলাটির চামড়া তার কাপড়ের চেয়ে অধিক সবুজ হয়ে গেছে। বর্ণনকারী বলেনঃ আবদুর রহমান শুনতে পেল যে, তার স্ত্রী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসেছে। সুতরাং সেও তার অন্য স্ত্রীর দুটি ছেলের সাথে করে এলো। স্ত্রীলোকটি বললঃ আল্লাহর কসম! তার উপর আমার এ ছাড়া আর কোন অভিযোগ নেই সে, তার কাছে যা আছে, তা আমাকে এ জিনিসের চেয়ে বেশী তৃপ্তি দেয় না। এ বলে তার কাপড়ের আচল ধরে দেখান।
আবদূর রহমান বললঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! সে মিথ্যা কাছে, আমি তাকে ধোলাই করি চামড়া ধোলাই করার ন্যায়। (অর্থাৎ পূর্ণ শক্তির সাথে দীর্ঘস্থায়ী সঙ্গম করি)। কিন্তু সে অবাধ্য স্ত্রী, রিফাআর কাছে ফিরে যেতে চায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ব্যাপার যদি তাই হল তাহলে রিফাআ তোমার জন্য হারাম হবে না, অথবা তুমি তার যোগ্য হতে পার না, যতক্ষন না আবদুর রহমান তোমার সুধা আস্বাদন করবে। বর্ণনাকারী বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রহমানের সাথে তার পুত্রদ্বয়কে দেখে বললেনঃ এরা কি তোমার পুত্র? সে বললঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এই আসল ব্যপার, যে জন্য স্ত্রী লোকটি এরূপ করছে। আল্লাহর কসম কাকের সাথে কাকের যেমন সা’দৃশ থাকে, তার চেয়েও অধিক মিল রয়েছে ওদের সাথে এর (অর্থাৎ আবদুর রহমানের সাথে তার পুত্রদের)।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইকরিমা (রহঃ)
স্ত্রী প্রহারের কোন জবাবদিহিতা নেই
একটি হাদিসে বর্ণিত আছে যে, নিজের স্ত্রীকে কোন পুরুষ কেন পিটিয়েছে, দুনিয়াতে তার জন্য পুরুষকে কোন জবাবদিহি করতে হবে না। এই হাদিসটিকে অনেকেই দুর্বল বলে অভিহিত করেছেন বটে, আবার অনেকে এটিকে হাসান বলেছেন। কিন্তু এর সাথে আরো কয়েকটি হাদিস পাওয়া যায়, যেখানে দেখা যায় নবী নিজেও স্ত্রী প্রহার করার কারণে স্বামীর ওপর কোন শাস্তি প্রয়োগ না করে কিংবা জিজ্ঞাসাবাদ না করে বরঞ্চ স্বামীটি যেন স্ত্রীকে তালাক দেয় সেই চেষ্টাই করেছেন, একটু পরেই সেগুলো আসবে। আপাতত উমর বর্ণিত সেই হাদিসটি দেখে নিই।
স্ত্রীকে কেন প্রহার করা হলো সে বিষয়ে শেষ বিচারের দিন তাকে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করা হবে না। (আবু দাউদ , বই নং- ১১, হাদিস -২১৪২)
হাদিসের মান বিষয়ক নোটঃ কিছু কিছু প্রখ্যাত স্কলার, যেমন আলবানী এই হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন, অন্যদিকে সৌদি আববের বিখ্যাত ইসলামি প্রকাশনা দারুস সালাম থেকে প্রকাশিত ইংরেজি অনুবাদে হাদিসের মান “হাসান” হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে । নিচে দারুস সালাম থেকে প্রকাশিত হওয়া গ্রন্থের ডাউনলোড লিঙ্ক এবং রেফারেন্স দেয়া হলো। [9]


নবী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতেন না
আরেকটি হাদিস থেকে জানা যায়, একজন স্ত্রীকে পিটিয়ে হাড্ডি ভেঙ্গে দেয়ার পরেও নবী সেই স্বামীকে কোন শাস্তি প্রদান করেননি। স্ত্রীকে দেয়া মোহরের মাল ফেরত দিয়ে তালাক নেয়ার কথা বলেছেন [10] [11] –
সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৭/ তালাক
২২২২. মুহাম্মদ ইবন মু’আম্মার ….. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাবীবা বিনত সাহাল (রাঃ) সাবিত ইবন কায়স ইবন শাম্মাসের স্ত্রী ছিলেন। সে তাকে মারধর করলে তার শরীররে কোনো অঙ্গ ভেঙ্গে যায়।সে (হাবীবা) ফজরের নামাযের পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসে এবং সাবিতের বিরূদ্ধে তাঁর নিকট অভিযোগ করে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাবিতকে ডাকেন এবং বলেন, তুমি তোমার প্রদত্ত মাহরের মাল গ্রহণ করো এবং তাকে ত্যাগ করো। সে (সাবিত) জিজ্ঞাসা করে, হে আল্লাহ্র রাসুল! তা কি উত্তম হবে? তিনি বলেন, হ্যাঁ। তখন সে বলে, আমি তাকে তার মাহর স্বরূপ দু’টি বাগান প্রদান করেছিলাম এবং সে এখন তার মালিক, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি তা গ্রহণ করো এবং তাকে ত্যাগ করো। সে (সাবিত) এরূপই করে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)

নবী বিশেষ কারণে গোলামের মত স্ত্রী পেটাতে নিষেধ করেছেন
কিছু হাদিসে পাওয়া যায়, নবী মুহাম্মদ স্ত্রীদেরকে “দাসীর মতো” প্রহার করতে নিষেধ করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি অবস্থান বলে মনে হতে পারে। কিন্তু সেই একই বর্ণনায় কারণ হিসেবে যে যুক্তিটি তুলে ধরা হয়েছে, সেটিই আসলে গভীরভাবে সমস্যাজনক। সেখানে বলা হয়েছে, দিনের বেলায় স্ত্রীকে মারধর করে রাতে তার সঙ্গেই সহবাস করতে হবে, তাই তাকে দাসের মতো প্রহার করা উচিত নয়।
এখানে প্রশ্নটি খুব সরল, কিন্তু অস্বস্তিকর। আপত্তি কি প্রহারের নৈতিকতার বিরুদ্ধে, নাকি আপত্তি অতিরিক্ত প্রহারের কারণে পরবর্তী দাম্পত্য সম্পর্ক বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায়? যদি যুক্তি হয় যে রাতে সহবাস করতে অসুবিধা হবে, তাহলে সেখানে নারীর শারীরিক নিরাপত্তা বা মানবিক মর্যাদা নয়, বরং যৌন সুবিধা অক্ষুণ্ণ রাখাই প্রধান বিবেচ্য হয়ে দাঁড়ায়। অর্থাৎ প্রহারের মৌলিক বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে না; বরং তার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হচ্ছে।
এই ধরনের বক্তব্য সহিংসতাকে নৈতিকভাবে অস্বীকার না করে, বরং ব্যবহারিক সীমার মধ্যে রাখার চেষ্টা করে। যেন বার্তাটি হচ্ছে: মারতে পারো, কিন্তু এতটা নয় যে পরবর্তীতে নিজেরই অসুবিধা হয়। এতে নারীর স্বাধীন সত্তা বা অধিকার নয়, বরং তাকে বৈবাহিক অধিকারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সমস্যার মূল এখানেই। যদি কোনো নৈতিক শিক্ষা সত্যিই সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তবে সেটি স্পষ্ট ও নীতিগতভাবে তা প্রত্যাখ্যান করবে। কিন্তু যখন আপত্তি সহিংসতার অস্তিত্বে নয়, বরং তার ‘অতিরিক্ততা’তে, তখন সেই অবস্থান প্রকৃতপক্ষে সহিংসতাকেই স্বীকার করে নেয়। আর সেটিই এই বর্ণনাগুলোর সবচেয়ে কঠোর সমালোচনার জায়গা। [12] –

এবারে এই হাদিসটি আরো একটি হাদিস গ্রন্থ থেকে পড়ি, যেখানে আরো পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়, কেন স্ত্রীদের গোলামের মত পেটাতে নিষেধ করা হয়েছে! হাদিস অনুসারে এর কারণ হচ্ছে, গোলামের মত পেটালে স্ত্রী রাতের বেলা সহবাস করতে অনাগ্রহী হতে পারে [13]
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৩: বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ১০. প্রথম অনুচ্ছেদ – স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার এবং তাদের প্রত্যেকের (স্বামী-স্ত্রীর) পারস্পরিক হক ও অধিকার সংক্রান্ত
৩২৪২-[৫] ‘আব্দুল্লাহ ইবনু যাম্‘আহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন ক্রীতদাসীর ন্যায় স্ত্রীকে না মারে (অত্যাচার না করা হয়), অথচ দিনের শেষেই তার সাথে সহবাস করে।
অপর বর্ণনায় আছে- তোমাদের কেউ যেন ইচ্ছা করে স্ত্রীকে ক্রীতদাসীর ন্যায় মারমুখো না হয়, হয়তো দিন শেষে তার সাথে সহবাস করতে চাইবে; আর এতে সে অনাগ্রহ প্রকাশ করবে। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বায়ু নির্গত হওয়ায় হাসি-ঠাট্টাচ্ছলের কারণে উপদেশ করলেন, যে কাজ নিজে কর অন্যের সে কাজে তোমরা কেন হাসবে! (বুখারী ও মুসলিম)[1]
[1] সহীহ : বুখারী ৪৯৪২, মুসলিম ১৪৭০।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু যাম‘আহ (রাঃ)
মুখে মারা যাবে না, কারণ দাগ থাকবে
আরো একটি হাদিস পড়ি, যেখানে নবী আবার স্ত্রীদের মুখে না মারতে নিষেধ করেছেন! এর অর্থ হচ্ছে, অন্য স্থানে মারতে হবে [14] –
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৩: বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ১০. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ – স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার এবং তাদের প্রত্যেকের (স্বামী-স্ত্রীর) পারস্পরিক হক ও অধিকার সংক্রান্ত
৩২৫৯-[২২] হাকীম ইবনু মু‘আবিয়াহ্ আল কুশায়রী (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! স্ত্রীগণ আমাদের ওপর কি অধিকার রাখে? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি যখন খাও, তখন তাকেও খাওয়াও; তুমি পরলে তাকেও পরিধান করাও, (প্রয়োজনে মারতে হলে) মুখমণ্ডলে আঘাত করো না, তাকে গালি দিও না, (প্রয়োজনে তাকে ঘরে বিছানা পৃথক করতে পার), কিন্তু একাকিনী অবস্থায় রাখবে না। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)[1]
[1] সহীহ : আবূ দাঊদ ২১৪২, ইবনু মাজাহ ১৮৫০, আহমাদ ২০০১৩, ইরওয়া ২০৩৩, সহীহ আত্ তারগীব ১৯২৯।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবীর স্ত্রী নির্যাতন
এবারে আসুন বিখ্যাত সাহাবী যুবায়র ইবন আওয়াম সম্পর্কে কিছু জেনে নেয়া যাক। নবী মুহাম্মদের সাহাবীদের মধ্যে যিনি সবচাইতে বেশি স্ত্রী পেটাতেন, যুবায়ের ছিলেন তাদের একজন। তার সম্পর্কে নবী মুহাম্মদের মহিলা সাহাবী এবং যুবায়েরের স্ত্রী উম্মে কুলসুম জানিয়েছেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত নির্দয় স্বভাবের এবং স্ত্রীদের মারপিটও করতেন [15] –

শুধু তাই নয়, এই যুবায়র ইবনে আওয়াম আবু বকরের কন্যা আসমা বিনতে আবু বকরকেও বিবাহ করেছিল। কিন্তু সেই সংসারেও ছিল একই মারপিটের সমস্যা। তখন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত আবু বকর তার কন্যা আসমাকে মারপিট সহ্য করে স্বামীর সংসার করতে নির্দেশ দিয়েছিল [16] [17]। এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানার জন্য এই আরবি ফতোয়াটি পড়তে পারেন, এখানে আরবি ভাষায় বিস্তারিতভাবে এই বর্ণনাটি সহিহ সনদ সহ বিবৃত আছে। প্রয়োজনে আরবি জানা কারো সাহায্য নিন অন্যথায় গুগল ট্রান্সলেটর ব্যবহার করুন [18] –


খুবই হাস্যকর বিষয় হচ্ছে, এই স্ত্রীদের মারপিট করায় উস্তাদ যুবায়র ইবনে আওয়াম ছিলেন নবীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সাহাবী এবং পৃথিবীতেই জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সৌভাগ্যবান সাহাবীদের একজন [19] [20] –
সুনান আবূ দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৫/ সুন্নাহ
পরিচ্ছেদঃ ৯. খিলাফাত সম্পর্কে।
৪৫৭৭. হাফ্স ইবন উমার (রহঃ) …. আবদুর রহমান ইবন আখনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা তিনি মসজিদে অবস্থানকালে এক ব্যক্তি আলী (রাঃ) সম্পর্কে আলোচনা করলে, সাঈদ ইবন যায়দ (রাঃ) দাঁড়িয়ে বলেনঃ আমি এরূপ সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, দশ ব্যক্তি বিনা হিসাবে বেহেশতে যাবে। তাঁরা হলেনঃ ১। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতে যাবেন, ২। আবূ বকর (রাঃ) জান্নাতী, ৩। উমার (রাঃ) জান্নাতী, ৪। উছমান (রাঃ) জান্নাতী, ৫। আলী (রাঃ) জান্নাতী, ৬। তালহা (রাঃ) জান্নাতী, ৭। যুবায়র ইবন আওয়াম (রাঃ) জান্নাতী ৮। সা’আদ ইবন মালিক (রাঃ) জান্নাতী, ৯। আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ) জান্নাতী।
তিনি বলেনঃ আমি ইচ্ছা করলে দশম ব্যক্তির নামও বলতে পারি। তখন লেকেরা তাকে জিজ্ঞাসা করেঃ সে লোকটি কে? তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বলেনঃ তিনি হলেন সাঈদ ইবন যুবায়র (রাঃ), অর্থাৎ তিনি নিজে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩০: মান-মর্যাদা
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ – আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১০৮-[১] ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে (খিলাফতের ব্যাপারে) এ কয়েকজন ছাড়া আমি অন্য আর কাউকেও যোগ্যতম মনে করি না, যাঁদের প্রতি রাসূলুল্লাহ (সা.) – মৃত্যুর সময় খুশি থেকে গেছেন। অতঃপর তিনি [’উমার (রাঃ)] ’আলী, ’উসমান, যুবায়র, ত্বলহাহ্, সা’দ ও আবদুর রহমান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নাম উল্লেখ করেন। (বুখারী)
সহীহ: বুখারী ৩৭০০, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৯১৭, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ১৭০২১, আবূ ইয়া’লা ২০৫।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)
আলেমদের বক্তব্যঃ চার কারণে স্ত্রী প্রহার
‘ফতোয়া’-এ কাযী খান চার কারণে স্ত্রীকে প্রহার বৈধ করেছেন। আসুন কোন কোন কারণে তা এই ওয়াজ থেকে জেনে নেয়া যাক,
বিবাহ আসলে স্বামীর দাসী হওয়ার নামান্তর
ইসলামের ইতিহাসে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মুসলিম দার্শনিক ইমাম আবু হামেদ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-গাযযালী রচিত ‘এহইয়াউ উলুমিদ্দীন’ বিগত আট শতাধিক বছর ধরে সমগ্র মুসলিম জাহানে সর্বাধিক পঠিত একটি মহাগ্রন্থ। আজ পর্যন্ত মুসলিমদের মধ্যে এ গ্রন্থটি একটি অনন্য এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করা হয় । এই গ্রন্থে স্ত্রীর ওপর স্বামীর হক পরিচ্ছেদে বলা আছে, স্ত্রী হওয়া আসলে স্বামীর দাসী হোওয়ারই নামান্তর। তাই একজন মুসলিম নারীর সদাসর্বদাই স্বামীর প্রভুত্ব মেনে তার দাসীর মতই জীবন যাপন করা উচিত [21]



উপসংহার
স্ত্রী প্রহার কোনো বিচ্ছিন্ন সামাজিক সমস্যা নয়; এটি একটি মতাদর্শগত সমস্যা। যখন একটি ধর্মীয় গ্রন্থে স্বামীর “অবাধ্যতার আশঙ্কা” মাত্রেই প্রহারের বৈধতা দেওয়া হয়, যখন নবীর জীবনচরিত ও সাহাবীদের আচরণে সেই প্রহারের উদাহরণ পাওয়া যায়, এবং যখন অভিযোগের পরেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অনুপস্থিত থাকে—তখন বিষয়টি আর ব্যক্তিগত বিচ্যুতি নয়, বরং একটি প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন। এই অনুমোদনই পরবর্তীতে আইন, সংস্কৃতি ও সামাজিক মানদণ্ডে রূপ নেয়।
অনেকে দাবি করেন, এসব আয়াত ও হাদিস “প্রেক্ষাপটভিত্তিক”, “মৃদু প্রহার”, অথবা “প্রতীকী শাসন”। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যেকোনো সহিংসতার বৈধতা একবার প্রতিষ্ঠিত হলে তা নিয়ন্ত্রণের ভাষা হারিয়ে ফেলে। ‘মৃদু’ শব্দটি ধীরে ধীরে ‘স্বাভাবিক’-এ পরিণত হয়, আর স্বাভাবিকতা থেকে জন্ম নেয় নীরবতা। যে সমাজে স্ত্রীকে প্রহার করার প্রশ্নে স্বামীকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয় না, সেখানে ন্যায়বিচারের ধারণাই ভেঙে পড়ে।
একটি সভ্য সমাজের মানদণ্ড হওয়া উচিত সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও আইনের সামনে সবার জবাবদিহি। যদি কোনো মতবাদ এই মৌলিক নীতিগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তবে সেটিকে প্রশ্ন করা নৈতিক দায়িত্ব। মানবাধিকারের ধারণা ধর্মীয় ব্যাখ্যার উপর নির্ভরশীল হতে পারে না; বরং ধর্মীয় ব্যাখ্যাই মানবাধিকারের মানদণ্ডে যাচাইযোগ্য হওয়া উচিত।
অতএব, স্ত্রী প্রহারকে “ঐশী অনুমতি” বা “পারিবারিক শাসন” বলে বৈধতা দেওয়া মানে কেবল একজন নারীকে নয়, ন্যায়বোধ, মানবিকতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আঘাত করা। সমাজ যদি সত্যিই উন্নত হতে চায়, তবে তাকে সহিংসতার যেকোনো ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক বৈধতা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। অন্যথায়, আমরা কেবল অন্যায়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখব—নাম পাল্টাবে, যুক্তি পাল্টাবে, কিন্তু আঘাত একই থাকবে।
তথ্যসূত্রঃ
- ‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারতে পারবে স্বামী, আফগানিস্তানে নতুন আইন ↩︎
- সুরা নিসা, আয়াত ৩৪ ↩︎
- সূনান নাসাঈ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩৯৬৫ ↩︎
- সহিহ মুসলিম, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, তৃতীয় খণ্ড, হাদিসঃ ২১২৮ ↩︎
- সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিসঃ ১৯৮৫ 1 2
- মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিসঃ ৩২৬১ ↩︎
- সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিসঃ ৫৮২৫ ↩︎
- সহিহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, খণ্ড ৮, হাদিসঃ ৫৪০৮ ↩︎
- সুনান আবু দাউদ, খণ্ড ২ ↩︎
- সুনান আবু দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ২২২২ ↩︎
- সুনান আবু দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৯০ ↩︎
- সহিহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৪৭৭ ↩︎
- মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিসঃ ৩২৪২ ↩︎
- মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিসঃ ৩২৫৯ ↩︎
- Muhammad ibn Saad. Kitab al-Tabaqat al-Kabir Volume 8. Translated by Bewley, A. (1995). The Women of Madina. London: Ta-Ha Publishers. Page: 163 ↩︎
- তাফসীরে যাকারিয়া, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৫৫১ ↩︎
- Muhammad ibn Saad. Kitab al-Tabaqat al-Kabir Volume 8. Translated by Bewley, A. (1995). The Women of Madina. London: Ta-Ha Publishers. Page: 177 ↩︎
- هل ثبت أن الزبير بن العوام كان يضرب زوجته أسماء رضي الله عنهما؟. ↩︎
- সুনান আবূ দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ৪৫৭৭ ↩︎
- মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস নম্বরঃ ৬১০৮ ↩︎
- এহইয়া্উ উলুমিদ্দীন, ২য় খণ্ড, মদিনা পাবলিকেশান্স, পৃষ্ঠা ২৯৬-২৯৮ ↩︎

ইসলাম ধর্ম বিলুপ্ত চাই