ইসলামে রাতের অন্ধকারে অতর্কিত আক্রমণে নারী-শিশু হত্যার বৈধতা

ভূমিকা

ইসলামী যুদ্ধনীতি বা জিহাদকে বিশ্ব দরবারে ‘মানবিক’ হিসেবে প্রমাণের যে মরিয়া প্রচেষ্টা আধুনিক মুসলিম অপলজিস্ট বা প্রচারকদের মধ্যে দেখা যায়, তা মূলত ধ্রুপদী ইসলামী দলিলগুলোর একটি খণ্ডিত ও চাতুর্যপূর্ণ উপস্থাপন মাত্র। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের হত্যা না করার যে কথিত মহানুভবতার গল্প শোনানো হয়, ঐতিহাসিক তথ্যপ্রমাণ ও সহিহ হাদিস বিশ্লেষণ করলে তার আড়ালে থাকা চরম পাশবিকতা ও কৌশলগত নিষ্ঠুরতা বেরিয়ে আসে। ইসলামের নবী মুহাম্মদের জিহাদী অভিযানে ‘তাবিইত’ বা রাতের আঁধারে অতর্কিত আক্রমণের মাধ্যমে জনপদ ধ্বংসের যে বৈধতা দেওয়া হয়েছে, সেখানে নারী ও শিশুদের প্রাণহানিকে স্রেফ ‘অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা’ নয়, বরং ‘তারা তাদেরই (কাফেরদের) অন্তর্ভুক্ত’ বলে এক প্রকার যৌথ অপরাধের দায় চাপিয়ে বৈধ করা হয়েছে। এই প্রবন্ধে আমরা দেখাব যে, অমুসলিমদের ওপর ইসলামের এই বিধ্বংসী আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল হয় ধর্মান্তর, না হয় বিনাশ। নারী ও শিশুদের হত্যার নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য কোনো মানবিক মূল্যবোধ নয়, বরং তাদের ‘গনিমতের মাল’ হিসেবে দখল করে দাসে রূপান্তর করা এবং তাদের পণ্য হিসেবে বাজারে বিক্রি করে সমরশক্তির যোগান দেওয়া ছিল এই নীতির প্রকৃত লক্ষ্য।


আজানের ধ্বনির ভিত্তিতে আক্রমণ

হাদিস থেকে জানা যায়, আজান শোনা না শোনার ওপর ভিত্তি করে মুহাম্মদ বিভিন্ন গোত্রের ওপর অতর্কিত আক্রমণ পরিচালনা করতেন। অর্থাৎ বোঝার চেষ্টা করতেন, ওরা মুসলিম নাকি অমুসলিম [1] [2]

সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৪/ কিতাবুস স্বলাত
পরিচ্ছদঃ ৬. দারুল কুফর বা অমুসলিম দেশে কোন গোত্রে আযানের ধ্বনি শোনা গেলে সেই গোত্রের উপর হামলা করা থেকে বিরত থাকা
৭৩৩। যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভোরে শক্রর বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনা করতেন। আযান শোনার অপেক্ষা করতেন। আযান শুনতে পেলে আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকতেন। আযান শুনতে না পেলে আক্রমণ করতেন। একবার তিনি কোন এক ব্যাক্তিকে اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ বলতে শুলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি ফিতরাত (দ্বীন ইসলাম) এর উপর রয়েছ। এর পর সে ব্যাক্তি أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ বলল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে এলে। সাহাবায়ে কিরাম লোকটির প্রতি লক্ষ্য করে দেখতে পেলেন যে, সে ছিল একজন ভেড়ার রাখাল।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

নারী

আযানের কারণে নিরাপত্তা

আসুন এই সম্পর্কে আরও পড়ি, [3] [4]

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১০/ আযান
পরিচ্ছেদঃ ৩৯৮। আযানের কারণে রক্তপাত থেকে নিরাপত্তা পাওয়া।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ৫৮৩, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৬১০
৫৮৩। কুতাইবা ইবনু সায়ীদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই আমাদের নিয়ে কোন গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যেতেন, ভোর না হওয়া পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করতেন না বরং লক্ষ্য রাখতেন, যদি তিনি তখন আযান শুনতে পেতেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা থেকে বিরত থাকতেন। আর যদি আযান শুনতে না পেতেন, তাহলে অভিযান চালাতেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আমরা খায়বারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম এবং রাতের বেলায় তাদের সেখানে পৌছলাম। যখন প্রভাত হল এবং তিনি আযান শুনতে পেলেন না; তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওয়ার হলেন। আমি আবূ তালহা (রাঃ)-এর পিছনে সাওয়ার হলাম। আমার পা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কদম মুবারকের সাথে লেগে যাচ্ছিল।
আনাস (রাঃ) বলেন, তারা তাদের থলে ও কোদাল নিয়ে বেরিয়ে আমাদের দিকে আসল। হঠাৎ তারা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখতে পেল, তখন বলে উঠল, ’এ যে মুহাম্মদ, আল্লাহর শপথ! মুহাম্মদ তাঁর পঞ্চ বাহিনী সহ!’ আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দেখে বলে উঠলেনঃ ’আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, খায়বার ধ্বংস হোক। আমরা যখন কোন কাওমের আঙ্গিনায় অবতরণ করি, তখন সতর্কীকৃতদের প্রভাত হবে কত মন্দ!’
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

নারী 1

উপরের হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায়, ইসলাম কবুল না করাই ছিল কাফেরদের আক্রমণের কারণ। তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই যে, ঐসকল কাফের নবীর বিরুদ্ধে অনেক খারাপ কিছু করেছিল, সেটি হয়ে থাকলে, সেই অপরাধের জন্য তো যথার্থ শাস্তির ব্যবস্থা করা যেতো। কিন্তু সেটি না করে নবী তাদের ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করতেন কেন? সেখানে কাফেরদের অপকর্মই কী কারণ ছিল, নাকি ইসলাম গ্রহণ না করা, তা হাদিসগুলো থেকেই পরিষ্কার বোঝা যায়। নতুবা পুরো গোত্রকে তারা অতর্কিত আক্রমণ করতেন কেন? অতর্কিত আক্রমণে তো সকল মানুষই মারা যায়। কারণ আক্রমণকারী তো রাতের আধারে দেখেশুনে কোপ মারে না বা তরবারি চালায় না। তাছাড়া ধর্ম গ্রহণ করলে কী অপরাধগুলো কি ঠিক হয়ে যায়?


লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বললে রক্ষা পাওয়া

আসুন হাদিস থেকে দেখি, [5]

সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ৩০/ কলহ-বিপর্যয়
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৩০/১. যে ব্যক্তি ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ’’ বলে, তার উপর হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকা
৩/৩৯২৯। আওস (রাঃ) বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তিনি আমাদেরকে (অতীতের) ঘটনাবলী উল্লেখপূর্বক উপদেশ দিচ্ছিলেন। ইত্যবসরে এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে তাঁর সাথে একান্তে কিছু বললো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তাকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করো। লোকটি ফিরে গেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, ‘‘আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই’’? সে বললো, হাঁ। তিনি বলেনঃ যাও, তোমরা তাকে তার পথে ছেড়ে দাও। কারণ লোকেরা ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’’ না বলা পর্যন্ত আমাকে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা তাই করলে তাদের জান-মালে হস্তক্ষেপ আমার জন্য হারাম হয়ে গেলো।
নাসায়ী ৩৯৭৯, ৩৯৮২, ৩৯৮৩, আহমাদ ১৫৭২৭, দারেমী ২৪৪৬। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

এবারে আসুন দেখি সেই অতর্কিত আক্রমণ সম্পর্কে ইসলাম কী বলে। ইসলামে কাফেরদের বাসভবনে অতর্কিত আক্রমণ সম্পূর্ণ বৈধ, একইসাথে তাদের বাড়িঘরে আক্রমণ করে তাদের নারী শিশুদের বন্দী করে গনিমতের মাল হিসেবে গ্রহণ করাও ইসলামে সম্পূর্ণ জায়েজ। এগুলো ইসলামের খুব পরিষ্কার বিধান, যদিও আমাদের দেশের মোল্লারা ওয়াজ মাহফিলে এসব হাদিস ভুলেও উচ্চারণ করেন না। কারণ এসব হাদিস বললে জঙ্গিবাদের দায়ে জেল জরিমানা হয়ে যাবে


রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত মানুষকে অতর্কিত আক্রমণ

ইসলামে রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত মানুষের ঘরবাড়িতে, গোত্রে আক্রমণ পরিচালনা করা সম্পুর্ণ একটি বৈধ বিষয় [6] [7]

সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩৩/ জিহাদ ও এর নীতিমালা
পরিচ্ছেদঃ ১. যে সকল বিধর্মীর কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছেছে, পূর্ব ঘোষণা ব্যতীত তাদের বিরুদ্ধে আক্রমন পরিচালনা বৈধ
৪৩৭০। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী (রহঃ) … ইবনু আউন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, আমি নাফি’ (রহঃ) কে এই কথা জানতে চেয়ে পত্র লিখলাম যে, যুদ্ধের পূর্বে বিধর্মীদের প্রতি দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া প্রয়োজন কি না? তিনি বলেন, তখন তিনি আমাকে লিখলেন যে, এ (নিয়ম) ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ মুসতালিকের উপর আক্রমণ করলেন এমতাবস্থায় যে, তারা অপ্রস্তুত ছিল (তা জানতে পারেনি।) তাদের পশুদের পানি পান করানো হচ্ছিল। তখন তিনি তাদের যোদ্ধাদের (পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ) হত্যা করলেন এবং অবশিষ্টদের (নারী শিশুদের) বন্দী করলেন। আর সেই দিনেই তাঁর হস্তগত হয়েছিল। (ইয়াহইয়া বলেন যে, আমার ধারণা হল, তিনি বলেছেন) জুওয়ায়রিয়া অথবা তিনি নিশ্চিতরূপে ইবনাতুল হারিছ (হারিছ কন্যা) বলেছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এই হাদীস আমাকে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। তিনি সেই সেনাদলে ছিলেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু ‘আউন (রহঃ)

নারী 3

এবারে আসুন বুখারী শরীফ থেকে দেখে নেয়া যাক, [8]

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা
পরিচ্ছেদঃ ৪৯/১৩. কোন আরব যদি কোন দাস-দাসীর মালিক হয় এবং তাকে দান করে, বিক্রয় করে, সহবাস করে এবং ফিদিয়া হিসাবে দেয় অথবা শিশুদেরকে বন্দী করে রাখে তবে এর বিধান কী?
২৫৪১. ইবনু ‘আউন (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাফি‘ (রহ.)-কে পত্র লিখলাম, তিনি জওয়াবে আমাকে লিখেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী মুস্তালিক গোত্রের উপর অতর্কিতভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। তাদের গবাদি পশুকে তখন পানি পান করানো হচ্ছিল। তিনি তাদের যুদ্ধক্ষমদের হত্যা এবং নাবালকদের বন্দী করেন এবং সেদিনই তিনি জুওয়ায়রিয়া (উম্মুল মু’মিনীন)-কে লাভ করেন। [নাফি‘ (রহ.) বলেন] ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) আমাকে এ সম্পর্কিত হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি নিজেও সে সেনাদলে ছিলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৭৩)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাঃ)

এবারে আসুন তাহাবী শরীফ থেকে একটি হাদিস পড়ে নেয়া যাক, যেখানে দেখা যাচ্ছে, যেহেতু বর্তমানে সকলের কাছেই ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে গেছে, তাই আবারো ইসলামের পথে আহবান জানাবার আর কোন বিশেষ প্রয়োজন নেই। কোন ঘোষণা ছাড়াই আসলে বর্তমানে আক্রমনাত্মক জিহাদ বা অতর্কিত আক্রমণ চালালে সম্পূর্ণ জায়েজ [9]

নারী 5

রাতের অন্ধকারে নারী শিশু হত্যার বৈধতা

এবারে আসুন দেখি, রাতের অন্ধকারে কাফেরদের গোত্রে বা বাসস্থানে অতর্কিত আক্রমন করার সময় এলোপাথাড়ি কোপাকুপি করার সময় শিশু ও নারী হত্যাও নবী মুহাম্মদ জায়েজ করে দিয়ে গেছে, [10] [11] [12]

সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩৩/ জিহাদ ও এর নীতিমালা
পরিচ্ছদঃ ৯. রাতের অতর্কিত আক্রমনে অনিচ্ছাকৃতভাবে নারী ও শিশু হত্যায় দোষ নেই
৪৩৯৯। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, সাঈদ ইবনু মনসুর ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) … সা’ব ইবনু জাছছামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মুশরিকদের নারী ও শিশু সন্তান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, যখন রাতের আধারে অতর্কিত আক্রমণ করা হয়, তখন তাদের নারী ও শিশুরাও আক্রান্ত হয়। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারাও তাদের (মুশরিকদের) অন্তর্ভুক্ত।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ৩৩। জিহাদ ও সফর‏
পরিচ্ছদঃ ৯. রাতের আকস্মিক হামলায় অনিচ্ছাকৃতভাবে নারী ও শিশু হত্যায় দোষ নেই
৪৪৪২-(২৭/…) আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ….. সা’ব ইবনু জাসসামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা রাতের অন্ধকারে আকস্মিক হামলায় মুশরিকদের শিশুদের উপরও আঘাত করে ফেলি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারাও তাদের (মুশরিক যোদ্ধাদের) মধ্যে গণ্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪০০, ইসলামিক সেন্টার ৪৪০০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সুনানে ইবনে মাজাহ(তাওহীদ পাবলিকেশন)
অধ্যায়ঃ ১৮/ জিহাদ
১/২৮৩৯। সাব‘ ইবনে জাসসামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাতের বেলা মুশরিকদের মহল্লায় অতর্কিত আক্রমণ প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হলো, যাতে নারী ও শিশু নিহত হয়। তিনি বলেনঃ তারাও (নারী ও শিশু) তাদের অন্তর্ভুক্ত।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)


এইসব আক্রমণের কারণ

এবারে আসুন দেখি ঐসব অতর্কিত আক্রমণগুলোর মূল কারণ কী ছিল! নবী মুহাম্মদের যখন ক্ষমতা কম ছিল, অস্ত্র এবং লোকবল কম ছিল, তিনি ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন। আর যখনই ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়েছেন, যুদ্ধ এবং কতল করার মত লোকজন যোগার হয়ে গেছে, নবীর নির্দেশে জিহাদের মাধ্যমে মুসলিমরা পৌত্তলিকদের মূর্তি এবং মন্দির ধ্বংস করে দিতো। যাদের সাথে নবীর কোন যুদ্ধ বা শত্রুতা কিছুই ছিল না, তাদেরকেও কোন কারণ ছাড়াই শুধুমাত্র ত্রাস সৃষ্টির উদ্দেশ্যে, এবং তারা মূর্তি পুজা করে এই অপরাধে হত্যা করার নির্দেশ দিতেন নবী। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নবী বলেছেন যে, মানুষ যে পর্যন্ত না “আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই” এই কথার স্বীকৃতি দিবে সেই পর্যন্ত আমি(নবী) তাদের বিরুদ্ধে কিতাল বা সশস্ত্র যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি [13] [14]

সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৩৮/ ঈমান
পরিচ্ছেদঃ ১. যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ না বলবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কিতাল করতে আমি আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি
২৬০৭। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মৃত্যুর পর আবূ বকর (রাযিঃ) যখন খলীফা নির্বাচিত হন, তখন আরবের কিছু সংখ্যক লোক কাফির হয়ে যায়। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) আবূ বাকর (রাযিঃ)-কে বললেন, আপনি এদের বিরুদ্ধে কিভাবে অস্ত্ৰধারণ করবেন, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ যে পর্যন্ত না “আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই” এই কথার স্বীকৃতি দিবে সেই পর্যন্ত আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি। আর যে ব্যক্তি বললো, “আল্লাহ ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই” সে আমার থেকে তার মাল ও রক্ত (জীবন) নিরাপদ করে নিল। তবে ইসলামের অধিকার সম্পর্কে ভিন্ন কথা। আর তাদের প্রকৃত হিসাব-নিকাশ রয়েছে আল্লাহ তা’আলার দায়িত্বে।
আবূ বকর (রাযিঃ) বললেনঃ আল্লাহর শপথ নামায ও যাকাতের মধ্যে যে ব্যক্তি পার্থক্য করে আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবোই। কেননা যাকাত সম্পদের হাক্ক। কেউ উটের একটি রশি দিতেও যদি অস্বীকার করে, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দিত, আল্লাহর কসম! আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবোই। তারপর উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি দেখতে পেলাম আল্লাহ যেন যুদ্ধের জন্য আবূ বাকরের অন্তর উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। অতঃপর আমি বুঝতে পারলাম যে, তার সিদ্ধান্তই যথার্থ।
সহীহঃ সহীহাহ (৪০৭), সহীহ আবূ দাউদ (১৩৯১-১৩৯৩), বুখারী ও মুসলিম।
আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। শু’আইব ইবনু আবী হামযা (রহঃ) যুহরী হতে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। এই হাদীস মামার-যুহরী হতে, তিনি আনাস (রাযিঃ) হতে, তিনি আবূ বাকর (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে ইমরান আল-কাত্তান বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনাটি ভুল। ‘ইমরানের ব্যাপারে মা’মার হতে বর্ণিত বর্ণনাতে বিরোধিতা করা হয়েছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৩৮/ ঈমান
পরিচ্ছেদঃ ২. আমি লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলবে এবং নামায আদায় করবে
২৬০৮। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহ তা’আলার বান্দা ও তার রাসূল এবং আমাদের কিবলামুখী হয়ে নামায আদায় করবে, আমাদের যবেহকৃত পশুর গোশত খাবে এবং আমাদের মতো নামায আদায় করবে। তারা এগুলো করলে তাদের জান ও মালে হস্তক্ষেপ করা আমাদের জন্য হারাম হয়ে যাবে। কিন্তু ইসলামের অধিকারের বিষয়টি ভিন্ন। মুসলিমদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা তারাও পাবে এবং মুসলিমদের উপর অর্পিত দায়-দায়িত্ব তাদের উপরও বর্তাবে।
সহীহঃ সহীহাহ (৩০৩) ও (১/১৫২), সহীহ আবূ দাউদ (২৩৭৪), বুখারী অনুরূপ।
মুআয ইবনু জাবাল ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব। ইয়াহইয়া (রাহঃ) হুমাইদ হতে, তিনি আনাস (রাযিঃ)-এর সূত্রে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)


জীবিত নারী ও শিশুদের সাথে কী করা হবে?

ইসলামী অপলজিস্ট বা প্রচারকরা প্রায়শই দাবি করেন যে, যুদ্ধে নারী ও শিশুদের হত্যা না করার বিধানটি ইসলামের এক অনন্য ‘মানবিক’ বৈশিষ্ট্য। তবে ধ্রুপদী ইসলামের দালিলিক ইতিহাস ও যুদ্ধনীতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই সুরক্ষার মূলে কোনো মানবিক দয়া কাজ করেনি; বরং এর প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল নারী ও শিশুদের ‘যুদ্ধলব্ধ সম্পদ’ (গনিমত) হিসেবে অক্ষত রাখা এবং তাদের দাসে রূপান্তর করে অর্থনৈতিক ও সামরিক ফায়দা হাসিল করা। অর্থাৎ, তাদের বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল কেবল ‘পণ্য’ হিসেবে ব্যবহারের উপযোগিতা ছিল বলে।

বনু কুরাইজা গণহত্যার পরবর্তী ভয়াবহ চিত্রটি এই দাবিকে নগ্নভাবে উন্মোচিত করে। সেখানে বন্দি নারী ও শিশুদের কোনো ‘মানবিক নিরাপত্তা’ দেওয়া তো দূরের কথা, বরং তাদের একটি বড় অংশকে নেজদ ও সিরিয়ার ক্রীতদাসের বাজারে পশুর মতো বিক্রি করে দেওয়া হয়। এই দাস বিক্রির লব্ধ অর্থ দিয়ে নবী মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা জিহাদের জন্য ঘোড়া ও মরণাস্ত্র ক্রয় করেন—যা সরাসরি মানুষকে নগদে রূপান্তর করে পুনরায় যুদ্ধ-যন্ত্রে বিনিয়োগ করার এক নির্মম উদাহরণ [15]। এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি প্রমাণ করে যে, ইসলামের যুদ্ধনীতিতে অমুসলিম নারী ও শিশুদের স্বতন্ত্র কোনো মর্যাদা নেই; তারা কেবল বিজয়ী পক্ষের ভোগবাদ ও যুদ্ধ-অর্থনীতি সচল রাখার হাতিয়ার মাত্র। মানুষকে এভাবে ‘বস্তু’ হিসেবে গণ্য করে কেনাবেচা করার এই আদিম চর্চাটি কোনোভাবেই একটি মানবিক জীবনব্যবস্থার পরিচায়ক হতে পারে না, বরং এটি স্রেফ একটি সামরিক কৌশল ও লুণ্ঠনমূলক ব্যবস্থারই বহিঃপ্রকাশ।

নারী 7

ইবনে ইসহাকের সিরাতে রাসুলাল্লাহ গ্রন্থে গনিমতের মাল ভাগাভাগির আরো পরিষ্কার বিবরণ পাওয়া যায়। সেখান থেকে জানা যায়, নবী মুহাম্মদ নিজের জন্য এক পঞ্চমাংশ রেখেছিলেন, এবং একজন নারীও নিয়েছিলেন [16]

[ ছাবিত ইবনে কায়েস এ সম্পর্কে বলেছেন:
আমার কর্তব্য শেষ, আমি উদারতা দেখিয়েছি,
অনেক চেষ্টা করেছি
অথচ বাকি সব ধৈর্যহারা হয়েছে
আমার ওপর জাবিরের সকলের চেয়ে বেশি দাবি
দড়ি দিয়ে হাত বাঁধা ছিল তার
তাকে মুক্ত করার জন্য রাসুলের (সা.) কাছে গেছি আমি।
তিনি ছিলেন আমাদের দয়ার সাগর । ]
রাসুলের (সা.) হুকুম ছিল, ওদের প্রাপ্তবয়স্ক সবাইকে যেন হত্যা করা হয়।
আতিয়া আল-কুরাজি সূত্রে আবদুল মালিক ইবনে উমায়র এবং তাঁর সূত্রে শুবা ইবনে আল-হাজ্জাজ আমাকে বলেছেন,বনু কুরাইজার সব প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে হত্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আমি তখন নাবালক ছিলাম, কাজেই আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল ।
আল-মুনজিরের জননী এবং সালিত ইবনে কায়েসের বোন সালমা বিনতে কায়েস ছিলেন রাসুলের (সা.) খালা। রাসুলের (সা.) সঙ্গে তিনি জেরুজালেম ও মক্কা উভয় দিকে মুখ করে নামাজ পড়েছেন। বনু আদি ইবনে আল-নাজ্জারের ভাই আইউব ইবনে আবদুর রহমান আমাকে বলেছেন, সালমার আশ্রিত রিফা ইবনে সামাওয়াল প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। তিনি রাসুলের (সা.) কাছে তাঁর প্রাণ ভিক্ষা চান। তিনি বলেন, সেই লোক কসম খেয়েছে, সে নামাজ পড়বে, উটের মাংস খাবে। রাসুল (সা.) তাঁর প্রার্থনা মঞ্জুর করেন।
বনু কুরাইজার সম্পত্তি ও স্ত্রী-ছেলেমেয়েদের রাসুল (সা.) মুসলমানদের মধ্যে ভাগবণ্টন করে দেন। উট ও মানুষের অংশ সেদিনই স্থির হয়। তিনি গ্রহণ করেন এক-পঞ্চমাংশ। একজন ঘোড়াওয়ালা তিন অংশ পেয়েছিল, ঘোড়ার জন্য দুই আর আরোহীর জন্য এক। বনু কুরাইজার দিকে মোট ঘোড়ার সংখ্যা ছিল ছত্রিশ। এই প্রথম যুদ্ধ-সম্পদের ওপর লটারি হয় এবং এক-পঞ্চমাংশ আলাদা রাখা হয়। এই নজির পরবর্তী সময়ের অন্যান্য যুদ্ধে অনুসরণ করা হয়।
রাসুল (সা.) নিজের জন্য নির্বাচিত করেছিলেন বনু আমর ইবনে কুরাইজার এক নারীকে। তার নাম রায়হানা বিনতে আমর ইবনে খুনাফা। তিনি আমৃত্যু তাঁর কর্তৃত্বের অধীন ছিলেন। রাসুল (সা.) তাঁকে বিয়ে করে পর্দানশিন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।কিন্তু রায়হানা বলেছিলেন, ‘তার চেয়ে বরং আপনি আমাকে আপনার কর্তৃত্বের আওতায় রাখুন। সেটা আপনার-আমার উভয়ের জন্য সহজ হবে।’ বন্দী হওয়ার সময় তিনি ইসলামের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশ করেন এবং ইহুদি ধর্ম আঁকড়ে থাকেন। এতে রাসুল (সা.) নারাজ হন এবং তাঁকে আলাদা করে রাখেন। একদিন সাহাবিদের সঙ্গে বসে ছিলেন তিনি, তখন পেছনে চপ্পলের আওয়াজ হলো। তিনি বললেন, ‘ছালাবা ইবনে সাইয়া আসছে, রায়হানা ইসলাম গ্রহণ করেছে সেই সুখবর নিয়ে। ছালাবা সত্যিই সেই সুসংবাদ জ্ঞাপন করল। তিনি প্রীত হলেন। খন্দক ও বনু কুরাইজা বিষয়ে আল্লাহ সুরা আহজাবে তাদের বিচার, তাদের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন ও সাহায্যের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ করো, যখন শত্রুবাহিনী তোমাদের বিরুদ্ধে সমাগত হয়েছিল এবং আমি তাদের বিরুদ্ধে বাতাস এবং অদৃশ্য সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেছিলাম। তোমাদের সব কাজের দ্রষ্টা আল্লাহ।’ শত্রুবাহিনী হচ্ছে কোরাইশ, গাতাফান ও বনু কুরাইজা। বাতাসের সঙ্গে প্রেরিত আল্লাহর বাহিনী ছিল ফেরেশতারা।
– ১. সুরা ৩৩।
– ৫০৬ ● সিরাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)

নারী 9

নারী ও শিশুদের বিক্রি করা সম্ভব না হলে

অনেক আক্রমণাত্মক জিহাদে নারী ও শিশুদের বিক্রি করা বা নিয়ে আসা সম্ভব নয়। এই বিষয়েও ইসল্যাম্বে রয়েছে সুস্পষ্ট নীতিমালা, তাদের সাথে আসলে কই করা হবে সেই সম্পর্কে মাসআলা। আসুন ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী গ্রন্থ থেকে নারী ও শিশুদের সাথে করনীয় বিধান জেনে নেয়া যাক [17]

আর তাদের বাসন পত্র এবং আসবাবপত্রসহ ঘরের যাবতীয় আসবাব পত্র এমনভাবে ভেঙ্গে চুরমার করে দিবে যেন পরবর্তীর্তে এসব দ্বারা উপকৃত না হতে পারে। আর সকল ধরনের তরল জাতীয় পদার্থ প্রবাহিত করে দিবে, যেন তারা পরবর্তীতে এসব দ্বারা উপকৃত না হতে পারে। এসব কর্মকাণ্ড এজন্য করা হবে যাতে তারা ক্রোধান্বিত হয়ে উঠে।
১৮. মাসআলা: দারুল হারবের অভিযান থেকে ফেরার সময় যদি বন্দীদের সঙ্গে আনা
তাদের সম্ভব না হয় তাহলে পুরুষদেরকে হত্যা করা হবে যদি ইসলাম গ্রহণ না করে এবং নারী, শিশু ও বৃদ্ধাদেরকে খাদ্য ও পানীয় বিহীন নির্জন স্থানে ফেলে আসবে, যেন তারা ক্ষুধা-পিপাসায় মারা যায়। কেননা হাদীসে নিষেধাজ্ঞা আসার কারণে হত্যা করা সম্ভব নয়, আবার বাঁচিয়ে রাখাও বিশেষ কোন যুক্তি নেই।১
একারণেই মুসলমানরা যদি দারুল হারবে কোথাও সাপ বা বিচ্ছু পায় তবে তারা বিচ্ছুর লেজ কেটে দিবে আর সাপ হলে তার দাঁত ভেঙ্গে দিবে যেন মুসলমানদের ওখানে থাকা অবস্থায় কোন ক্ষতি না হয়। আর তাদের একেবারেই মেরে ফেলবে না যেন তাদের বংশ পরম্পরা বাকি থাকে পরবর্তীতে তাদের বংশধররা কাফিরদেরকে দংশন করে ও কষ্ট দেয় (সিরাজুল ওয়াহ্হাজ)।

নারী 11

উপসংহার

পরিশেষে এটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, ইসলামে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা দেওয়ার দাবিটি একটি চরম ঐতিহাসিক প্রতারণা। তথাকথিত এই সুরক্ষার পেছনে কোনো নৈতিক অবস্থান ছিল না, বরং ছিল মানুষকে ‘বস্তু’ বা ‘সম্পদ’ হিসেবে দেখার বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি। বনু কুরাইজার গণহত্যার পর নারী ও শিশুদের বাজারে বিক্রি করে সেই অর্থে অস্ত্র ও ঘোড়া কেনার ঘটনা প্রমাণ করে যে, মানুষের জীবনের মূল্য সেখানে কেবল যুদ্ধের জ্বালানি হিসেবেই গণ্য হতো। তার চেয়েও ভয়াবহ বিষয় হলো, যখন এই নারী-শিশুদের দাসে রূপান্তর করে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকে না, তখন তাদের অমানবিক উপায়ে ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় তিলে তিলে মরার জন্য নির্জন স্থানে ফেলে আসার বিধান দেওয়া হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, শত্রুপক্ষের নারী ও শিশুদের বেঁচে থাকার অধিকার কেবল তখনই স্বীকৃত, যখন তারা মুসলিমদের ভোগ বা ব্যবসার সামগ্রী হিসেবে কার্যকর। আধুনিক মানবাধিকারের সংজ্ঞায় যা যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য, ইসলামী বিধানে তাকেই ঐশ্বরিক ন্যায়বিচার হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। তাই, এই বর্বর ও গোত্রবাদী যুদ্ধনীতিকে মানবিকতার মোড়কে উপস্থাপন করা কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক অসততাই নয়, বরং ইতিহাসের এক নিষ্ঠুর পরিহাস।


তথ্যসূত্রঃ
  1. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৭৩৩ ↩︎
  2. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৬৫ ↩︎
  3. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৫৮৩ ↩︎
  4. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৪-৪৫ ↩︎
  5. সুনানে ইবনে মাজাহ, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিসঃ ৩৯২৯ ↩︎
  6. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৪৩৭০ ↩︎
  7. সহিহ মুসলিম, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, ষষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮১, হাদিসঃ ৪৩৭০ ↩︎
  8. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিসঃ ২৫৪১ ↩︎
  9. তাহাবী শরীফ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৩৭ ↩︎
  10. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৪৩৯৯ ↩︎
  11. সহীহ মুসলিম, হাঃ একাডেমী, হাদিসঃ ৪৪৪২ ↩︎
  12. সুনানে ইবনে মাজাহ, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিসঃ ২৮৩৯ ↩︎
  13. সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিসঃ ২৬০৭ ↩︎
  14. সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিসঃ ২৬০৮ ↩︎
  15. সীরাতে ইবনে হিশাম, পৃষ্ঠা ২২৭; সিরাতে রাসুলাল্লাহ (সাঃ), পৃষ্ঠা ৫০৬ ↩︎
  16. সিরাতে রাসুলাল্লাহ (সাঃ), ইবনে ইসহাক, অনুবাদঃ শহীদ আখন্দ, প্রথমা প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ৫০৬ ↩︎
  17. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৪০ ↩︎