
Table of Contents
ভূমিকাঃ নবীকন্যার জমি দখল
ইসলামের ইতিহাসে সাহাবীদের যে নিঁখুত ও আদর্শিক চিত্র সচরাচর প্রচার করা হয়, ঐতিহাসিক দলিলগুলো অনেক ক্ষেত্রেই তার সম্পূর্ণ বিপরীত সাক্ষ্য দেয়। নবীর জীবদ্দশায় এবং তার মৃত্যুর ঠিক পরেই তাঁর ঘনিষ্ঠ সাহাবীদের মধ্যে যে ধরণের মতবিরোধ, ঘৃণা এবং রাজনৈতিক সংঘাতের বীজ বপন হয়েছিল, তা কোনোভাবেই ‘মানবোচিত সাধারণ ভুল’ হিসেবে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে প্রথম খলিফা আবু বকরের সাথে নবীর কন্যা ফাতিমা এবং জামাতা আলীর সম্পর্ক ছিল চরমভাবে বৈরী। অথচ ইসলামি ধর্মতত্ত্বে সাহাবীদের সমালোচনা করা কার্যত নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা মূলত সত্য অনুসন্ধানের পথে একটি বিরাট অন্তরায়; কারণ সমালোচনা যেখানে রুদ্ধ, সেখানে সত্যের চেয়ে অন্ধভক্তিই বেশি প্রাধান্য পায়। অর্থাৎ নবীর সাথে সাথে নবীর সাহাবীদের সমালোচনা নিষিদ্ধ। কিন্তু সমালোচনা নিষিদ্ধ হলে, সত্য জানার পথ তো বন্ধ হয়ে যায়। আসুন শুরুতেই একটি বক্তব্য শুনে নিই,
যদি ধর্মীয় বিশ্বাস এমন হয় যে সাহাবীদের কোনো দোষ থাকতে পারে না, তবে হাজারো অকাট্য প্রমাণ সামনে এলেও একজন মুসলিম ঈমান হারাবার ভয়ে তা অস্বীকার করার প্রবণতা দেখাবে। তারা সত্যকে সরাসরি গ্রহণ করার বদলে নানা অযৌক্তিক ও কষ্টকল্পিত ব্যাখ্যা দিয়ে নিজেদের অন্ধবিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু ইতিহাসের নিরপেক্ষ পর্যালোচনাই কেবল একজন মানুষকে প্রকৃত সত্যের কাছে নিয়ে যেতে পারে। ঈমান যখন যুক্তিবোধের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা কেবল ঐতিহাসিক সত্যকে আড়াল করার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। নবীর পরিবারের সাথে প্রথম সারির সাহাবীদের এই দ্বন্দ্বের শেকড় কত গভীরে ছিল, তা বোঝার জন্য আমাদের আবেগ সরিয়ে রেখে ইতিহাসের অকাট্য দলিলের ওপর নজর দেওয়া প্রয়োজন। ইতিহাসকে নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা যেকোনো সত্যান্বেষী মানুষের প্রাথমিক কর্তব্য হওয়া উচিত। কিন্তু সেই নিরপেক্ষ হওয়ার পথে যদি ‘ইমান’ বা অন্ধভক্তি এসে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে সত্যের মুখ ঢাকা পড়ে যায়।
ইসলামে জান্নাতের নেত্রী ফাতেমার মর্যাদা ও নবীর নির্দেশনা
নবী মুহাম্মদের জীবনে তার কন্যা ফাতিমা ছিলেন এক অনন্য এবং কেন্দ্রীয় চরিত্রে। খাদিজার গর্ভে জন্ম নেওয়া ফাতিমা কেবল মুহাম্মদের সন্তানই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন নবীর সর্বাধিক প্রিয় এবং আধ্যাত্মিকভাবে উচ্চাসীন এক ব্যক্তিত্ব। নবী নিজেই ফাতিমাকে ‘জান্নাতের নারীদের সর্দারনী’ হিসেবে ঘোষণা করে গিয়েছিলেন, যা তাঁর বিশেষ মর্যাদাকেই ফুটিয়ে তোলে [1]
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫০/ আম্বিয়া কিরাম (আঃ)
পরিচ্ছেদঃ ২০৯১. রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট আত্মীয়দের মর্যাদা এবং ফাতিমা (রাঃ) বিনতে নবী (সাঃ) এর মর্যাদা। নবী (সাঃ) বলেছেন, ফাতিমা (রাঃ) জান্নাতবাসী মহিলাগণের সরদার
৩৪৪৭। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল ওয়াহহাব (রহঃ) … আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবারবর্গের প্রতি তোমরা অধিক সম্মান দেখাবে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ)
মুহাম্মদের পক্ষ থেকে ফাতিমার প্রতি এই ভালোবাসা কেবল পিতৃত্বের টান ছিল না, বরং এটি ছিল এক ধরণের সতর্কবার্তা। তিনি বারবার জনসমক্ষে বলতেন, “ফাতিমা আমারই অঙ্গ বা আমার কলিজার টুকরো; যে তাকে কষ্ট দেয় সে যেন আমাকেই কষ্ট দেয়।” নবীর এই সংবেদনশীলতা এতটাই প্রখর ছিল যে, তিনি তাঁর প্রিয় জামাতা হযরত আলীর দ্বিতীয় বিবাহের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। যদিও মুহাম্মদ নিজে অসংখ্য বিবাহ করেছিলেন, কিন্তু আলীর ক্ষেত্রে তিনি শর্ত দিয়েছিলেন যে—আলী যদি অন্য কাউকে বিয়ে করতে চায়, তবে আগে যেন ফাতিমাকে তালাক দেয়। কারণ নবী জানতেন, সতীনের উপস্থিতি ফাতিমাকে মানসিকভাবে পীড়িত করবে, যা পরোক্ষভাবে নবীকেই কষ্ট দেওয়ার নামান্তর [2]

আসুন হাদিসগুলো পড়ে দেখি। হাদিসগুলো বর্ণিত হয়েছে হযরত আলীর দ্বিতীয় বিয়ের প্রেক্ষাপটে। নবী নিজে অসংখ্য বিয়ে করলেও তিনি আলীকে আরেকটি বিবাহ করতে অনুমতি দেন নি। কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ফাতিমার সতীন আসলে তার কষ্ট হবে। অথচ, নিজে কিন্তু অনেকগুলো বিয়েই করেছেন [3] [4]
সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৫৪/ বিয়ে-শাদী
পরিচ্ছদঃ ২৫৩৩. কন্যার মধ্যে ঈর্ষা সৃষ্টি হওয়া থেকে বাধা প্রদান এবং ইনসাফমূলক কথা
৪৮৫০। কুতায়বা (রহঃ) … মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিম্বরে বসে বলতে শুনেছি যে, বনি হিশাম ইবনু মুগীরা, আলী ইবনু আবূ তালিবের কাছে তাদের মেয়ে শাদী দেবার জন্য আমার কাছে অনুমতি চেয়েছে; কিন্তু আমি অনুমতি দেব না, আমি অনুমতি দেব না, আমি অনুমতি দেব না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আলী ইবনু আবূ তালিব আমার কন্যাকে তালাক দেয় এবং এর পরেই সে তাদের মেয়েকে শাদী করতে পারে। কেননা, ফাতেমা হচ্ছে আমার কলিজার টুকরা এবং সে যা ঘৃণা করে, আমিও তা ঘৃণা করি এবং তাকে যা কষ্ট দেয়, তা আমাকেও কষ্ট দেয়।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

আরেকটি হাদিস পড়ি [5] –
সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪৬/ সাহাবী (রাঃ) গণের ফযীলত
পরিচ্ছেদঃ ১৫. নবী (ﷺ) এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) এর ফযীলত
৬০৮৮। আহমদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) … আলী ইবনু হুসায়ন (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, হুসায়ন ইবনু আলী (রাঃ) এর শাহাদতের পর ইয়াযীদ ইবনু মুআবিয়া (রাঃ) এর কাছ থেকে তারা যখন মদিনায় এলেন, মিসওয়ার ইবনু মাখরামা তখন তার সাথে দেখা করলেন এবং তাকে বললেন, আপনার কোন প্রয়োজন থাকলে আমাকে বলবেন। আমি বললাম, না। মিসওয়ার বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরবারিখানা কি আপনি আমাকে দান করবেন? কারণ আমার ভয় হয় যে, আপনার লোকেরা এটি আপনার কাছ থেকে কবজা করে নিবে। আল্লাহর কসম, আপনি যদি সে তরবারিটি আমাকে দিয়ে দেন তাহলে যতক্ষন আমার প্রাণ থাকে এটি কেউ স্পর্শ করতে পারবে না।
(মিসওয়ার আরো বলেন) ফাতিমার জীবিত থাকাকালে আলী (রাঃ) আবূ জাহলের কন্যাকে বিয়ের প্রন্তাব দিয়েছিলেন। তখন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ বিষয় নিয়ে লোকদের সামনে এ মিম্বরে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিতে শুনেছি। আমি সে সময় সদ্য বালিগ বয়সের। তখন তিনি বললেন, ফাতিমা আমারই অঙ্গ। আমার ভয় হচ্ছে, সে তার দ্বীনের ব্যাপারে ফিতনায় না পতিত হয়। অতঃপর তিনি আবদ ই-শামস গোত্রীয় তাঁর জামাতার আলোচনা করলেন। তার আত্নীয়তার সুন্দর প্রশংসা করলেন, এবং বললেন, সে আমায় যা বলেছে সত্য বলেছে, সে অঙ্গীকার করেছে, আর আমি কোন হালালকে হারাম করি না বা হারামকে হালাল করি না। তবে আল্লাহর কসম, আল্লাহর রাসূলের মেয়ে এবং আল্লাহর দুশমনের মেয়ে কখনো এক জায়গায় একত্রিত হবে না।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আলী ইবনু হুসাইন (রহঃ)
এই হাদিসগুলো থেকে একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে ওঠে—ফাতিমার মানসিক প্রশান্তি বা ক্ষোভ মুহাম্মদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্ববহ ছিল। যদি ফাতিমার সামান্য মনঃকষ্ট নবীকে ব্যথিত করে থাকে, তবে নবীর মৃত্যুর পর ক্ষমতা এবং সম্পত্তির অধিকার নিয়ে ফাতিমাকে যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবেই এক বিশাল ঐতিহাসিক ও নৈতিক প্রশ্নের জন্ম দেয়। ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর এবং উমর যখন ফাতিমার সাথে এমন আচরণ করেছিলেন যা ফাতিমাকে আমৃত্যু ক্ষুব্ধ ও নিস্পৃহ করে রেখেছিল, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—নবীর সেই ‘কলিজার টুকরো’র অশ্রু ও আর্তনাদ কি তবে তৎকালীন রাজনৈতিক সমীকরণের কাছে তুচ্ছ হয়ে গিয়েছিল?
ফাদাক ও উত্তরাধিকারঃ নবীর মৃত্যুর পর অধিকার হরণ
নবী মুহাম্মদের প্রয়াণের অব্যবহিত পরেই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে যে রদবদল ঘটে, তার আঁচ এসে লাগে তাঁর পরিবারের ওপর। ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায় হলো ‘ফাদাক’ নামক ভূখণ্ডের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব। নবীর জীবদ্দশায় ইহুদীদের থেকে দখল করে নেয়া এই ভূমিটি তার পরিবারের ভরণপোষণের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু আবু বকর খলিফা হওয়ার পর সেই ভূমিটি এবং খাইবার ও মদিনার অবশিষ্টাংশ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। ফাতিমা যখন তাঁর ন্যায্য উত্তরাধিকার দাবি করে খলিফার দরবারে উপস্থিত হন, তখন আবু বকর এক বিতর্কিত আইনি ব্যাখ্যা দাঁড় করান। তিনি দাবি করেন যে, তিনি স্বয়ং নবীর মুখ থেকে শুনেছেন—নবীরা কোনো উত্তরাধিকার রেখে যান না, যা কিছু তাঁরা রেখে যান তা সাদাকা বা জনকল্যাণমূলক দান হিসেবে গণ্য হবে। [6] [7] [8] [9] [6] [10] –
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৭৩/ উত্তরাধিকার
পরিচ্ছেদঃ ১৭৯২. নাবী (সাঃ) এর বাণীঃ আমাদের কোন উত্তরাধিকার হবে না, আর যা কিছু আমরা রেখে যাই সবই হবে সদাকাসরূপ
৬২৭০। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রেখে যাওয়া সস্পত্তির) উত্তরাধিকারিত্ব চাওয়ার জন্য একদা ফাতিমা ও আব্বাস (রাঃ) আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) এর কাছে আসলেন। তাঁরা ঐ সময় ফাদাক ভূখণ্ডের এবং খায়বারের অংশ দাবি করছিলেন। তখন আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) তাদের উভয়ের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ আমাদের কোন উত্তরাধিকারী হবে না, আমরা যা রেখে যাব তা সবই হবে সাদাকা। এ মাল থেকে মুহাম্মাদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবার ভোগ করবেন। আবূ বকর (রাঃ) বলেনঃ, আল্লাহর কসম! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি এতে যেভাবে করতে দেখেছি, তা সেভাবেই বাস্তবায়িত করব। রাবী বলেন, এরপর থেকে ফাতিমা (রাঃ) তাঁকে পরিহার করেছিলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তার সাথে কথা বলেন নাই।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪৮/ জিহাদ
পরিচ্ছেদঃ ১৯৪১. খুমুস (এক-পঞ্চমাংশ) নির্ধারিত হওয়া
২৮৭৪। আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … উম্মূল মুমিনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ফাতিমা বিনতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) এর নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকালের পর তাঁর মিরাস বন্টনের দাবী করেন। যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফায় (বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ) হিসাবে আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক তাঁকে প্রদত্ত সম্পদ থেকে রেখে গেছেন। তখন আবূ বাকর (রাঃ) তাঁকে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাদের পরিত্যাক্ত সম্পদ বন্টিত হবে না আমরা যা ছেড়ে যাই, তা সাদকা রূপে গণ্য হয়।’ এতে ফাতিমা বিনতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট হলেন এবং আবূ বকর (রাঃ) সিদ্দীক এর সঙ্গে কথাবার্তা বলা ছেড়ে দিলেন। এ অবস্থা তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত বহাল ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাতের পর ফাতিমা (রাঃ) ছয় মাস জীবিত ছিলেন।
আয়িশা (রাঃ) বলেন, ফাতিমা (রাঃ) আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর নিকট রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ত্যাজ্য খায়বার ও ফাদাকের ভূমি এবং মদিনার সাদকাতে তাঁর অংশ দাবী করেছিলেন। আবূ বকর (রাঃ) তাঁকে তা প্রদানে অস্বীকৃতি জানান এবং তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা আমল করতেন, আমি তাই আমল করব। আমি তাঁর কোন কিছুই ছেড়ে দিতে পারি না। কেননা, আমি আশঙ্কা করি যে, তাঁর কোন কথা ছেড়ে দিয়ে আমি পথভ্রষ্ট হয়ে না যাই। অবশ্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মদিনার সাদকাকে উমর (রাঃ) তা আলী ও আব্বাস (রাঃ) কে হস্তান্তর করেন। আর খায়বার ও ফাদাকের ভূমিকে পূর্ববৎ রেখে দেন।
উমর (রাঃ) এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এ সম্পত্তি দু’টিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জরুরী প্রয়োজন পূরণ ও বিপথকালীন সময়ে ব্যায়ের জন্য রেখেছিলেন। সুতরাং এ সম্পত্তি দু’টি তারই দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে, যিনি মুসলমানদের শাসন ক্ষমতার অধিকারী খলিফা হবেন।’ যুহরী (রহঃ) বলেন, এ সম্পত্তি দু’টির ব্যবস্থাপনা অদ্যবধি সেরূপই রয়েছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৭৩/ উত্তরাধিকার
পরিচ্ছেদঃ ১৭৯২. নাবী (সাঃ) এর বাণীঃ আমাদের কোন উত্তরাধিকার হবে না, আর যা কিছু আমরা রেখে যাই সবই হবে সদাকাসরূপ
৬২৭৪। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) … নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাতের পর তার সহধর্মিণীগণ আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) এর কাছে আপন আপন উত্তরাধিকার চাওয়ার জন্য উসমান (রাঃ) কে পাঠানোর ইচ্ছা করলেন। তখন আয়িশা (রাঃ) বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এরূপ বলেননি, আমাদের কোন উত্তরাধিকারী নেই? আমরা যা রেখে যাব সবই হবে সাদাকাতুল্য।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)
সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
৬৪/ মাগাযী (যুদ্ধ)
পরিচ্ছেদঃ ৬৪/১৪. দু’ ব্যক্তির রক্তপণের ব্যাপারে আলোচনা করার জন্য রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বানী নাযীর গোত্রের নিকট গমন এবং তাঁর সঙ্গে তাদের বিশ্বাসঘাতকতা বিষয়ক ঘটনা।
৪০৩৫. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ফাতিমাহ এবং ‘আব্বাস (রাঃ) আবূ বাকরের কাছে এসে ফাদাক এবং খাইবারের (ভূমির) অংশ দাবী করেন। (৩০৯২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৩৮)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)
এই আইনি ব্যাখ্যা ফাতিমার কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। কারণ, নবীর পরিবারের প্রধান হিসেবে তিনি এবং হযরত আলী জানতেন যে ফাদাকের ভূমিটি নবী সরাসরি ফাতিমাকেই প্রদান করেছিলেন। আবু বকরের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে ফাতিমা এতটাই আহত ও ক্ষুব্ধ হন যে, তিনি খলিফার সাথে যাবতীয় কথাবার্তা বন্ধ করে দেন। এই ‘নীরব প্রতিবাদ’ কোনো সামান্য মান-অভিমান ছিল না; এটি ছিল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে নবীর প্রিয় কন্যার এক চূড়ান্ত অসন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসগুলো স্পষ্টভাবে সাক্ষ্য দেয় যে, ফাতিমা আমৃত্যু আবু বকরের ওপর রাগান্বিত ছিলেন এবং এই অভিমান নিয়েই তিনি মাত্র ছয় মাসের মাথায় পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৭৩/ উত্তরাধিকার
পরিচ্ছেদঃ ১৭৯২. নাবী (সাঃ) এর বাণীঃ আমাদের কোন উত্তরাধিকার হবে না, আর যা কিছু আমরা রেখে যাই সবই হবে সদাকাসরূপ
৬২৭০। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রেখে যাওয়া সস্পত্তির) উত্তরাধিকারিত্ব চাওয়ার জন্য একদা ফাতিমা ও আব্বাস (রাঃ) আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) এর কাছে আসলেন। তাঁরা ঐ সময় ফাদাক ভূখণ্ডের এবং খায়বারের অংশ দাবি করছিলেন। তখন আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) তাদের উভয়ের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ আমাদের কোন উত্তরাধিকারী হবে না, আমরা যা রেখে যাব তা সবই হবে সাদাকা। এ মাল থেকে মুহাম্মাদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবার ভোগ করবেন। আবূ বকর (রাঃ) বলেনঃ, আল্লাহর কসম! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি এতে যেভাবে করতে দেখেছি, তা সেভাবেই বাস্তবায়িত করব। রাবী বলেন, এরপর থেকে ফাতিমা (রাঃ) তাঁকে পরিহার করেছিলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তার সাথে কথা বলেন নাই।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)
মুসনাদে আহমাদ
মুসনাদে আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) (আবু বকরের বর্ণিত হাদীস)
পরিচ্ছেদঃ
৫৫। একবার ফাতিমা (রাঃ) আবু বাকর আস সিদ্দিক (রাঃ) এর নিকট দূত পাঠিয়ে তাঁর কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই সম্পত্তির উত্তরাধিকার চাইলেন, যা তাঁকে আল্লাহ মদীনায় ও ফাদাকে দিয়েছিলেন এবং খায়বারের এক পঞ্চমাংশের অবশিষ্টাংশ। আবু বাকর (রাঃ) জবাব দিলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমরা (নবীরা) উত্তরাধিকার সূত্রে কোন সম্পত্তি হস্তান্তর করিনা। আমরা যে সম্পত্তি রেখে যাই তা সাদাকা। এই সম্পত্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় যে অবস্থায় ছিল, আমি তাকে কখনো সেই অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তিত করবো না এবং সাদাকার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন, আমি অবশ্যই ঠিক তাই করবো।
এভাবে আবু বাকর উক্ত সম্পত্তি থেকে ফাতিমাকে কিছুই দিলেন না। এ জন্য ফাতিমা আবু বকরের (রাঃ) ওপর রাগান্বিত হলেন। আবু বাকর (রাঃ) বললেনঃ সেই আল্লাহর কসম যার হাতে আমার জীবন, আমার নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আপন জনের সাথে সম্পর্ক বহাল রাখা আমার নিজের আপনজন অপেক্ষা অধিক প্রিয়। তবে এই সম্পত্তির ব্যাপারে তোমাদের ও আমাদের মধ্যে যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, সে ক্ষেত্রে আমি ন্যায়নীতি থেকে বিচ্যুত হইনি এবং এই সম্পত্তির ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যা করতে দেখেছি, আমি তা করা থেকে বিরত হইনি।(১)
(১). বুখারী-৪২৪০, মুসলিম-১৭৫৯, অত্র গ্রন্থের হাদীস নং ৯ দ্রষ্টব্য
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে দেখা যায়, আবু বকর একদিকে যেমন নবীর পরিবারের প্রতি সম্মান দেখানোর মৌখিক অঙ্গীকার করেছিলেন, অন্যদিকে তাঁদের নূন্যতম বৈষয়িক দাবিকেও অগ্রাহ্য করেছিলেন। যদি ফাতিমার কষ্ট পাওয়া মানেই নবীকে কষ্ট দেওয়া হয়, তবে আবু বকরের এই আচরণ কি নবীকেই ব্যথিত করার নামান্তর নয়? নবীর নির্দেশনাকেই অগ্রাহ্য করা নয়? এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সাহাবীদের মধ্যকার সেই গভীর ফাটলটি জনসমক্ষে চলে আসে, যা কেবল ধর্মতাত্ত্বিক যুক্তি দিয়ে ঢাকা সম্ভব নয়। এটি ছিল একাধারে সম্পত্তি ও আইনি অধিকারের লড়াই, যেখানে নবীর পরিবারকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে দূরে সরিয়ে রাখার এক সুকৌশল প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়।
রাতের আধারে দাফন ও উমরের প্রতি অনাস্থাঃ এক চূড়ান্ত বিচ্ছেদের স্মারক
ইসলামি ইতিহাসের সবচেয়ে বিষণ্ণ এবং রহস্যময় অধ্যায়টি রচিত হয় ফাতিমার প্রয়াণের পর। যেখানে রাষ্ট্রের খলিফার উপস্থিতিতে ঘটা করে জানাজা হওয়ার কথা ছিল, সেখানে নবীর প্রিয়তম কন্যার দাফন সম্পন্ন হয় রাতের অন্ধকারে, জনমানবশূন্য অবস্থায়। এটি কেবল কোনো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ছিল না, বরং এটি ছিল তৎকালীন শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক চরম ও চূড়ান্ত নীরব রাজনৈতিক প্রতিবাদ। ফাতিমা (রা.) তাঁর অসিয়তে স্পষ্ট করে গিয়েছিলেন যে, তাঁর জানাজায় যেন আবু বকর এবং উমরের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত না থাকে। একজন খলিফাকে তাঁর প্রিয়তম নবীর কন্যার শেষ বিদায় থেকে দূরে রাখা যে কত বড় অবমাননা এবং বিচ্ছেদের প্রতীক, তা সহজেই অনুমেয়। হযরত আলী (রা.) ফাতিমার এই অসিয়ত রক্ষা করে তাঁকে নিভৃতে দাফন করেন এবং আবু বকরকে তাঁর মৃত্যু সংবাদ পর্যন্ত দেননি [11] [12] –
সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৩/ জিহাদ ও এর নীতিমালা
পরিচ্ছেদঃ ১৬. নবী (ﷺ) এর বানীঃ আমাদের (নবীগনের) মীরাস বণ্টন হয় না, আমরা যা কিছু রেখে যাই সবই সদাকা
৪৪২৮। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, ফাতিমা বিনত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর এর নিকট লোক পাঠালেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্পদ থেকে তার প্রাপ্য মীরাস এর দাবী করে, যা আল্লাহ তা’আলা তাকে মদিনা ও ফাদাক এর ফাই এবং খায়বারের অবশিষ্ট এক পঞ্চমাংশ থেকে প্রদান করেছিলেন। তখন আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গিয়েছেনঃ আমাদের (নবীগণের) (পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে) মীরাস হয় না। আমরা যা রেখে যাই তা হবে সাদাকা। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবারবর্গ তা থেকে জীবিকা গ্রহণ করবেন। আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়কালে সাদাকার যে অবস্থা চালু ছিল তা আমি পরিবর্তন করব না। আর এতে আমি নিশ্চয়ই সে কাজ করবো, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করে গিয়েছেন।
অতএব, আবূ বাকর (রাঃ) ফাতিমা (রাঃ) কে তা থেকে কিছু প্রদান করতে অস্বীকার করলেন। সুতরাং ফাতিমা (রাঃ) এতে রাগাম্বিত হয়ে তাঁকে পরিত্যাগ করলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে (এ ব্যাপারে) আর কোন কথা বলেননি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকালের পর তিনি ছয় মাস জীবিত ছিলেন। এরপর যখন ইন্তিকাল করলেন তখন তাঁর স্বামী আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) তাকে রাতে দাফন করলেন এবং ফাতিমা এর মৃত্যু সংবাদ পর্যন্ত আবূ বাকর(রাঃ) কে দেননি। আলী (রাঃ) তাঁর জানাযার সালাত আদায় করলেন। ফাতিমা (রাঃ) এর জীবিতকাল পর্যন্ত আলী (রাঃ) এর প্রতি জনগণের বিশেষ মর্যাদাবোধ ছিল।
এরপর যখন তাঁর ইন্তেকাল হল তখন তিনি লোকের চেহারায় অন্যভাব দেখতে পেলেন। অতএব, তিনি আবূ বাকর (রাঃ) এর সঙ্গে আপোষ রফা করে, তার বায়আত গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহন করলেন। কয়েক মাস তিনি তার বায়আত করেননি। তারপর আলী (রাঃ), আবূ বাকর (রাঃ) এর নিকট লোক পাঠিয়ে সংবাদ দিলেন যে, আপনি একাকী আমাদের এখানে আসুন। আপনার সাথে অন্য কাউকে আনাবেন না। (কেননা তিনি উমার (রাঃ) এর আগমনকে অপছন্দ করছিলেন।) উমর (রাঃ) আবূ বকরকে বললেন, আল্লাহর কসম! আপনি একাকী তাঁদের কাছে যাবেন না। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, তারা আমার সাথে কীই বা করবেন। আল্লাহর কসম! আমি একাকীই যাব। পরিশেষে আবূ বাকর (রাঃ) তাঁদের কাছে গেলেন।
এরপর আলী ইবনু আবূ তালেব (রাঃ) তাশাহুদ (তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য বানী) পাঠ করলেন, তারপর বললেন, হে আবূ বাকর! আপনার মর্যাদা এবং আল্লাহ তা’আলা আপনাকে যে সম্মান প্রদান করেছেন, তা আমরা জানি। আর আল্লাহ তা’আলা আপনাকে যে নিয়ামত প্রদান করেছেন, তাতে আমার কোন ঈর্ষা নেই। কিন্তু আপনি আমাদের উপর শাসন ক্ষমতায় (খিলাফতের) একচ্ছত্রতা দেখিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আত্নীয়তার কারণে আমরা মনে করতাম যে, আমাদেরও অধিকার আছে। আবূ বাকরের সঙ্গে তিনি কথা বলতে থাকলেন।
পরিশেষে আবূ বাকর (রাঃ) এর দু’চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হল। এরপর যখন আবূ বাকর (রাঃ) কথা বলতে শুরু করলেন, তখন তিনি বললেনঃ যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ করে বলছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আত্নীয়তার সৌহার্দ্য-সংযোগ রক্ষা করা আমার আত্নীয়তার প্রতি সংযোগ রক্ষার চাইতে আমার কাছে অধিক প্রিয়। তবে আমার এবং আপনাদের মধ্যে এই সম্পদ নিয়ে যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে তাতে আমি সত্য পরিহার করি নি। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এতে যা করতে দেখেছি তা আমি পরিত্যাগ করি নি।
এরপর আলী (রাঃ), আবূ বাকর (রাঃ) কে বললেন যে, আমি বায়আতের জন্য আপনাকে আজ বিকেল বেলায় কথা দিলাম। যখন আবূ বাকর (রাঃ) যুহরের সালাত শেষ করলেন তখন তিনি মিম্বরে আরোহন করলেন এবং তাশাহুদ পাঠ করলেন। এরপর তিনি আলী (রাঃ) এর ঘটনা বর্ণনা করেন এবং তার বায়আত গ্রহণে বিলম্ব ও এ বিষয়ে তাঁর ওযর বর্ণনা করেন, যা আলী তার কাছে বর্ণনা করেছিল। এরপর তিনি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
তারপর আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) তাশাহুদ পাঠ করলেন এবং আবূ বাকর (রাঃ) এর মহত্ত্ব বর্ণনা করলেন। আর তিনি ব্যক্ত করলেন যে, তিনি যা করেছেন, তার কারণ আবূ বাকর (রাঃ) এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা কিংবা আল্লাহ তা’আলা তাকে যে সম্মান দিয়েছেন তার প্রতি অস্বীকৃতি নয়; বরং আমরা মনে করতাম যে, শাসন ক্ষমতায় (খিলাফতের) মধ্যে আমাদেরও অংশ আছে। কিন্তু আবূ বাকর (রাঃ) আমাদের বাদ দিয়ে একচ্ছত্ররূপে দায়িত্বভার গ্রহন করেন। এতে আমরা মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছি।
এ কথা শুনে মুসলিমগণ আনন্দিত হলেন এবং তাঁরা বললেন যে, আপনি ঠিকই করেছেন। যখন তখন তিনি সঙ্গত বিষয়ের দিকে ফিরে এলেন আবূ বাকর (রাঃ) এর বায়আত গ্রহণ করলেন, তখন থেকে মুসলিমগণ আলী (রাঃ) এর সান্নিধ্যে আসতে লাগলেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫১/ মাগাযী (যুদ্ধাভিযান)
পরিচ্ছেদঃ ২২০২. খায়বারের যুদ্ধ
৩৯২০। ইয়াহ্ইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ত্যাজ্য সম্পত্তি মদিনা ও ফাদকে অবস্থিত ফাই (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ) এবং খায়বারের খুমুসের (পঞ্চমাংশ) অবশিষ্টাংশ থেকে মিরাসী স্বত্ব চেয়ে পাঠালেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) উত্তরে বললেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন, আমাদের (নবীদের) কোন ওয়ারিস হয় না, আমরা যা রেখে যাবো তা সাদকা হিসেবে পরিগণিত হবে। অবশ্য মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বংশধরগণ এ সম্পত্তি কেবল ভোগ করতে পারেন। আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাদকা তাঁর জীবদ্দশায় যে অবস্থায় ছিল আমি সে অবস্থা থেকে সামান্যতমও পরিবর্তন করবো না। এ ব্যাপারে তিনি যে নীতিতে ব্যবহার করে গেছেন আমিও ঠিক সেই নীতিতেই কাজ করবো।
এ কথা বলে আবূ বকর (রাঃ) ফাতিমা (রাঃ)-কে এ সম্পদ থেকে কিছু প্রদান করতে অস্বীকার করলেন। এতে ফাতিমা (রাঃ) (মানবোচিত কারণে) আবূ বকর (রাঃ)-এর উপর নারাজ হয়ে গেলেন এবং তাঁর থেকে নিস্পৃহ হয়ে রইলেন। পরে তাঁর ওফাত পর্যন্ত তিনি (মানসিক সংকোচের দরুন) আবূ বকর (রাঃ)-এর সাথে কথা বলেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাতের পর তিনি ছয় মাস পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। এরপর তিনি ইন্তেকাল করলে তাঁর স্বামী আলী (রাঃ) রাতের বেলা তাঁর দাফন কার্য শেষ করে নেন। আবূ বকর (রাঃ)-কেও এ সংবাদ দেননি। এবং তিনি তার জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নেন।
ফাতিমা (রাঃ) জীবিত থাকা পর্যন্ত লোকজনের মনে আলী (রাঃ) এর বেশ সম্মান ও প্রভাব ছিল। এরপর যখন ফাতিমা (রাঃ) ইন্তেকাল করলেন, তখন আলী (রাঃ) লোকজনের চেহারায় অসন্তুষ্টির চিহৃ দেখতে পেলেন। তাই তিনি আবূ বকর (রাঃ)-এর সাথে সমঝোতা ও তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণের ইচ্ছা করলেন। (ফাতিমা (রাঃ)-এর অসুস্থতা ও অন্যান্য) ব্যস্ততার দরুন এ ছয় মাসে তাঁর পক্ষে বায়আত গ্রহণে অবসর হয়নি। তাই তিনি আবূ বকর (রাঃ)-এর কাছে লোক পাঠিয়ে জানালেন যে, আপনি আমার কাছে আসুন। তবে অন্য কেউ যেন আপনার সঙ্গে না আসে। কারণ আবূ বকর (রাঃ)-এর সঙ্গে উমর (রাঃ)-ও উপস্থিত হোক-তিনি তা পছন্দ করেননি। (বিষয়টি শোনার পর) উমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম, আপনি একা একা তাঁর কাছে যাবেন না। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, তাঁরা আমার সাথে খারাপ আচরণ করবে বলে তোমরা আশংকা করছ? আল্লাহর কসম, আমি তাঁদের কাছে যাব।
তারপর আবূ বকর (রাঃ) তাঁদের কাছে গেলেন। আলী (রাঃ) তাশাহ্হুদ পাঠ করে বললেন, আমরা আপনার মর্যাদা এবং আল্লাহ্ আপনাকে যা কিছু দান করেছেন সে সম্পর্কে অবগত আছি। আর যে কল্যাণ (অর্থাৎ খিলাফত) আল্লাহ্ আপনাকে দান করেছেন সে ব্যাপারেও আমরা আপনার সাথে হিংসা রাখি না। তবে খিলাফতের ব্যাপারে আপনি আমাদের উপর নিজের মতের প্রাধান্য দিয়ে যাচ্ছেন অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটাত্মীয় হিসেবে খিলাফতের কাজে (পরামর্শ দেওয়াতে) আমাদেরও কিছু অধিকার রয়েছে। এ কথায় আবূ বকর (রাঃ)-এর চোখ-যুগল থেকে অশ্রু ঝরতে লাগলো। এরপর তিনি যখন আলোচনা আরম্ভ করলেন কখন বললেন, সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, আমার কাছে আমার নিকটাত্মীয় অপেক্ষাও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আত্মীয়বর্গ বেশি প্রিয়। আর এ সম্পদগুলোতে আমার এবং আপনাদের মধ্যে যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে সে ব্যাপারেও আমি কল্যাণকর পথ অনুসরণে কোন কসুর করিনি। বরং এ ক্ষেত্রেও আমি কোন কাজ পরিত্যাগ করিনি যা আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে করতে দেখেছি।
তারপর আলী (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ) কে বললেনঃ যুহরের পর আপনার হাতে বায়আত গ্রহণের ওয়াদা রইল। যুহরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের পর আবূ বকর (রাঃ) মিম্বরে বসে তাশাহ্হুদ পাঠ করলেন, তারপর আলী (রাঃ) এর বর্তমান অবস্থা এবং বায়আত গ্রহণে তার দেরি করার কারণ ও তাঁর (আবূ বকরের) কাছে পেশকৃত আপত্তিগুলো তিনি বর্ণনা করলেন। এরপর আলী (রাঃ) দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তাশাহ্হুদ পাঠ করলেন এবং আবূ বকর (রাঃ)-এর মর্যাদার কথা উল্লেখ করে বললেন, তিনি বিলম্বজনিত যা কিছু করেছেন তা আবূ বকর (রাঃ)-এর প্রতি হিংসা কিংবা আল্লাহ্ প্রদত্ত তাঁর এ সম্মানের অস্বীকার করার মনোবৃত্তি নিয়ে করেননি। (তিনি বলেন) তবে আমরা ভেবেছিলাম যে, এ ব্যাপারে আমাদের পরামর্শও দেওয়ার অধিকার থাকবে। অথচ তিনি ( আবূ বকর ) আমাদের পরামর্শ ত্যাগ করে স্বাধীন মতের উপর রয়ে গেছেন। তাই আমরা মানসিকভাবে ব্যথা পেয়েছিলাম। (উভয়ের এ আলোচনা শুনে) মুসলমানগণ আনন্দিত হয়ে বললেন, আপনি ঠিকই করেছেন। এরপর আলী (রাঃ) আমল বিল মা’রূফ (অর্থাৎ রায়আত গ্রহণ)-এর দিকে ফিরে এসেছেন দেখে সব মুসলমান আবার তাঁর প্রতি ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠলেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)
ফাতিমার এই নিঃশব্দ প্রস্থান হযরত আলীর ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। তিনি জানতেন, ফাতিমা যে চাপা ঘৃণা এবং নিদারুণ কষ্ট নিয়ে বিদায় নিয়েছেন, তার দায়ভার সরাসরি তৎকালীন নেতৃত্বের ওপর বর্তায়। ফাতিমার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জনগণের কাছে আলীর যে বিশেষ মর্যাদা ও প্রভাব ছিল, ফাতিমার তিরোধানের পর তিনি অনুভব করলেন যে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাচ্ছে। এই রাজনৈতিক চাপের মুখে তিনি আবু বকরের সাথে একটি সমঝোতার প্রস্তাব দেন। কিন্তু এখানেও তাঁর ক্ষোভ ও সতর্কতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে যখন তিনি শর্ত দেন যে—এই আলোচনায় যেন আবু বকর একাকী আসেন এবং হযরত উমর যেন কোনোভাবেই উপস্থিত না থাকেন। আলীর এই অনাস্থা এবং উমরের উপস্থিতি অপছন্দ করা প্রমাণ করে যে, সাহাবীদের মধ্যে কেবল মতভেদ নয়, বরং গভীর মনস্তাত্ত্বিক তিক্ততা বিদ্যমান ছিল।
আলী যখন আবু বকরের মুখোমুখি হলেন, তখন তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তাঁর বঞ্চনার কথা ব্যক্ত করেন। তিনি খলিফাকে সরাসরি অভিযুক্ত করে বলেন যে, রাসুলুল্লাহর নিকটাত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের পরামর্শ নেওয়া হয়নি এবং খিলাফতের ক্ষেত্রে তাঁদের ওপর নিজেদের মতের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। যদিও পরবর্তীকালে আলীর বায়আত গ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি আপাত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, কিন্তু ফাতিমার সেই রাতের আঁধারের কবর এবং উমরকে আলোচনার বাইরে রাখার জেদ চিরদিনের জন্য এই সত্যটি প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে গেছে যে—সাহাবীদের পারস্পরিক সম্পর্ক কোনোমতেই সমালোচনার ঊর্ধ্বে ছিল না। যে ‘কলিজার টুকরো’কে কষ্ট দেওয়া নবীর ওপর আঘাত হিসেবে গণ্য হতো, সেই কন্যার শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রের প্রধানদের বর্জন করা মূলত ইসলামি ইতিহাসের এক অপ্রিয় ধ্রুব সত্য।
উপসংহারঃ আদর্শিক দেয়াল বনাম ঐতিহাসিক সত্যের মুখোমুখি
পরিশেষে বলা যায়, ইসলামের আদি ইতিহাসের পরতগুলোতে যে গভীর ক্ষত ও তিক্ততা লুকিয়ে আছে, তা কেবল ‘সাহাবীদের সমালোচনা করা যাবে না’—এই তকমা দিয়ে ঢেকে রাখা মূলত সত্যের সাথে এক ধরণের প্রবঞ্চনা। আমরা যখন নিরপেক্ষভাবে ইতিহাসের অকাট্য দলিলগুলোর মুখোমুখি হই, তখন এক ভয়াবহ নৈতিক স্ববিরোধিতা আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একদিকে নবী মুহাম্মদ তাঁর কন্যা ফাতিমাকে জান্নাতের নারীদের সর্দারনী এবং তাঁর নিজের দেহের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে সতর্ক করেছিলেন যে, ফাতিমাকে কষ্ট দেওয়া মানেই স্বয়ং নবীকে কষ্ট দেওয়া। অন্যদিকে তাঁর মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সাহাবীদের হাতেই ফাতিমাকে সেই কষ্টের সাগরে নিমজ্জিত হতে হয়েছিল।
এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে যে, সাহাবীদের মধ্যকার সম্পর্ক কোনোমতেই স্বর্গীয় বা সমালোচনার ঊর্ধ্বে ছিল না। ফাদাকের জমি নিয়ে বিবাদ কিংবা খিলাফতের দখলদারিত্ব—এসবই ছিল রক্ত-মাংসের মানুষের জাগতিক ও রাজনৈতিক সংঘাতের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু ট্র্যাজেডিটি এখানেই যে, যে ‘কলিজার টুকরো’র অমর্যাদা নবী সহ্য করতেন না, সেই কন্যাকেই তাঁর মৃত্যুর পর নিজের অধিকারের জন্য কষ্টে জীবন অতিবাহিত করতে হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত চরম ক্ষোভ ও নিস্পৃহতা নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। তাঁর সেই রাতের আঁধারের দাফন এবং আবু বকর-উমরকে জানাজা থেকে দূরে রাখার ওসিয়ত আজও ইতিহাসের পাতায় এক জলজ্যান্ত প্রতিবাদ হয়ে টিকে আছে।
তথ্যসূত্রঃ
- সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩৪৪৭ ↩︎
- সহিহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ষষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩০৯ ↩︎
- সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৪৮৫০ ↩︎
- সহিহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, অষ্টম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৯০, ৪৯১ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৬০৮৮ ↩︎
- সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৬২৭০ 1 2
- সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ২৮৭৪ ↩︎
- সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৬২৭৪ ↩︎
- সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিসঃ ৪০৩৫ ↩︎
- মুসনাদে আহমাদ, হাদিসঃ ৫৫ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৪৪২৮ ↩︎
- সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩৯২০ ↩︎
