
Table of Contents
ভূমিকাঃ শিষ্টাচারের সীমানা ও আবু বকরের অশ্লীল গালি
ইসলামি প্রচারকরা বিশ্ববাসীর কাছে নবী মুহাম্মদকে ‘উত্তম চরিত্রের পূর্ণতাদানকারী’ এবং ইসলামকে ‘শান্তি ও সহনশীলতার ধর্ম’ হিসেবে উপস্থাপন করেন। কিন্তু ইসলামের আদি ও নির্ভরযোগ্য উৎসগুলো পাঠ করলে দেখা যায়, মুহাম্মদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহচর আবু বকর তার উপস্থিতিতেই অন্যদের উপাস্য দেব-দেবী নিয়ে এমন জঘন্য এবং কুরুচিপূর্ণ গালাগালি করতেন, যা কোনো সভ্য সমাজের মাপকাঠিতেই রুচিসম্মত নয়। বিশেষ করে হুদায়বিয়ার সন্ধির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সময়ে কুরাইশ দূত উরওয়া ইবনু মাসউদের উদ্দেশ্যে আবু বকরের সেই কদর্য উক্তিটি আজও ইতিহাসের পাতায় এক বড় কলঙ্ক হয়ে আছে। এই প্রবন্ধটি সেই বিষয়টিই আপনাদের সামনে নিয়ে আসবে। স্বাভাবিকভাবেই, ইসলামিস্টদের একটি পক্ষ কোরআনের একটি আয়াত এই আলোচনাতে উপস্থাপন করে বলার চেষ্টা করবেন যে, ইসলামে অন্য উপাস্যদের গালাগালি বা কটূক্তি করা কোরআনে নাকি নিষিদ্ধ করা হয়েছে! সেই বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা এই লেখাটিতে পাবেন, একই কথার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে তাই এই প্রবন্ধে সেই বিষয়টি আলোচনা করা হচ্ছে না।
সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো, মুহাম্মদের ভূমিকা। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, নবীর সামনে কোনো অন্যায় কাজ হলে তিনি তা সংশোধন করে দেবেন—এটাই স্বাভাবিক। অথচ আবু বকরের এই চরম অশ্লীলতায় মুহাম্মদ কেবল চুপই থাকেননি, বরং তার এই নীরবতা ছিল সরাসরি সমর্থন বা ‘তকরির’ (Taqrir)। ইবনু হাজার আসকালানির মতো প্রখ্যাত মুহাদ্দিস তাঁর ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে স্পষ্ট স্বীকার করেছেন যে, মুহাম্মদ সেই মুহূর্তে আবু বকরকে থামাননি, যা তাঁর মৌন অনুমোদনের প্রমাণ। [1]। এই ঘটনাটি ইসলামি প্রচারকদের সেই ‘পরধর্মসহিষ্ণুতা’র দাবিকে কেবল প্রশ্নবিদ্ধই করে না, বরং চূড়ান্তভাবে ধূলিসাৎ করে দেয়।
হাদিসের বর্ণনাঃ লাত দেবীর যৌনাঙ্গ ও আবু বকরের আক্রমণ
হুদায়বিয়ার সন্ধির প্রাক্কালে যখন কুরাইশদের প্রতিনিধি উরওয়া ইবনু মাসউদ মুহাম্মদের সাথে কথা বলছিলেন, তখন আবু বকর অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে একটি কদর্য গালি ব্যবহার করেন। এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সহীহ বুখারী ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে পাওয়া যায়। [2] [3] –
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪৬/ শর্তাবলী
পরিচ্ছেদঃ ১৭০১. যুদ্ধরত কাফিরদের সাথে জিহাদ ও সন্ধির ব্যাপারে শর্তারোপ এবং লোকদের সাথে কৃত মৌখিক শর্ত লিপিবদ্ধ করা
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ২৫৪৭, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২৭৩১ – ২৭৩৩
২৫৪৭। …
তখন আবূ বকর (রাঃ) তাকে বললেন, তুমি লাত দেবীর লজ্জাস্থান চেটে খাও। আমরা কি তাঁকে ছেড়ে পালিয়ে যাব?
…
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ মারওয়ান ইবনু হাকাম (রহঃ)

হাদিসের ব্যাখ্যাঃ সেটি ছিল এক মারাত্মক গালি
এবারে আসুন এই বিষয়টি বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে জেনে নেয়া যাক [4] –
উরওয়ার এ কথা হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা.-এর কাছে অপছন্দ হল। তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন, امصص بَظَرَ اللَاتِ أَنْفر অর্থাৎ, যা বেটা! স্বীয় লাতের লজ্জাস্থান চাট। তুই কি জানিস, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমাদের ভালবাসা কিরূপ? আমরা কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রেখে পালিয়ে যাব? অসম্ভব!
লাত ছিল সাকীফ গোত্রের প্রতিমার নাম। আরবদের মধ্যে এটি (লাতের লজ্জাস্থান চাট) ছিল মারাত্মক গালি। উরওয়ার বিস্ময়কর কষ্ট হল। সে জিজ্ঞেস করল, এ কে? প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবু বকর। উরওয়া বলল, আমাদের উপর আপনার এহসান রয়েছে, যার প্রতিদান আমরা দেইনি। অন্যথায় আমি আপনার এ কটূক্তির উত্তর দিতাম।
… হযরত মুগীরা রা. তলোয়ারের (লাগাল) দ্বারা উরওয়ার হাতে আঘাত করে বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দাড়ি থেকে হাত পৃথক রাখ। উরওয়া মস্তক উত্তোলন করে জিজ্ঞেস করল, এ কে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ হল তোমার ভাতিজা মুগীরা ইবনে শুবা।

এখানে লক্ষ্যণীয় যে, আবু বকর কেবল রাগ প্রকাশ করেননি, বরং প্রতিপক্ষের ধর্মীয় বিশ্বাসের মূলে আঘাত করতে গিয়ে অত্যন্ত নিচু স্তরের যৌন-আশ্রয়ী গালি বেছে নিয়েছেন। এই ঘটনার সবচেয়ে বড় ধর্মীয় স্ববিরোধিতার দিকটি হলো আবু বকরের ‘ইহরাম’ অবস্থা। হুদায়বিয়ার এই সফরে সাহাবীরা উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম বেঁধেছিলেন। কুরআনের স্পষ্ট নির্দেশ হলো—
হাজ্জ হয় কয়েকটি নির্দিষ্ট মাসে, অতঃপর এ মাসগুলোতে যে কেউ হাজ্জ করার মনস্থ করবে, তার জন্য হাজ্জের মধ্যে স্ত্রী সম্ভোগ, অন্যায় আচরণ ও ঝগড়া-বিবাদ বৈধ নয় এবং তোমরা যে কোন সৎ কাজই কর, আল্লাহ তা জানেন এবং তোমরা পাথেয়ের ব্যবস্থা করবে আর তাক্বওয়াই শ্রেষ্ঠ পাথেয়। হে জ্ঞানী সমাজ! আমাকেই ভয় করতে থাক।
— Taisirul Quran
হাজ্জের মাসগুলি সুবিদিত। কেহ যদি ঐ মাসগুলির মধ্যে হাজ্জের সংকল্প করে তাহলে সে হাজ্জের সময়ে সহবাস, দুস্কার্য ও কলহ করতে পারবেনা এবং তোমরা যে কোন সৎ কাজ করনা কেন আল্লাহ তা জ্ঞাত আছেন। আর তোমরা তোমাদের সাথে পাথেয় নিয়ে নাও। বস্ত্ততঃ উৎকৃষ্ট পাথেয় হচ্ছে তাকওয়া বা আত্মসংযম। সুতরাং হে জ্ঞানবানগণ! আমাকে ভয় কর।
— Sheikh Mujibur Rahman
হজের সময় নির্দিষ্ট মাসসমূহ। অতএব এই মাসসমূহে যে নিজের উপর হজ আরোপ করে নিল, তার জন্য হজে অশ্লীল ও পাপ কাজ এবং ঝগড়া-বিবাদ বৈধ নয়। আর তোমরা ভাল কাজের যা কর, আল্লাহ তা জানেন এবং পাথেয় গ্রহণ কর। নিশ্চয় উত্তম পাথেয় তাকওয়া। আর হে বিবেক সম্পন্নগণ, তোমরা আমাকে ভয় কর।
— Rawai Al-bayan
হজ হয় সুবিদিত মাসগুলোতে [১]। তারপর যে কেউ এ মাসগুলোতে হজ করা স্থির করে সে হজের সময় স্ত্রী-সম্ভোগ [২], অন্যায় আচরণ [৩], ও কলহ-বিবাদ [৪] করবে না। আর তোমরা উত্তম কাজ থেকে যা-ই কর আল্লাহ্ তা জানেন [৫] আর তোমরা পাথেয় সংগ্রহ কর [৬]। নিশ্চয় সবচেয়ে উত্তম পাথেয় হচ্ছে তাকওয়া। হে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ ! তোমরা আমারই তাকওয়া অবলম্বন কর [৭] ।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
এখানে ‘রাফাছ’ (Rafath) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, যার অন্যতম প্রধান অর্থ হলো— অশ্লীল কথা বা যৌনাঙ্গ সংক্রান্ত কদর্য আলাপ। আবু বকর যে গালিটি দিয়েছেন তা সরাসরি ‘যৌনাঙ্গ’ (ক্লিটোরিস) কেন্দ্রিক এবং চরম অশ্লীল। ইহরামের মতো পবিত্র অবস্থায় যেখানে একটি উঁকুন মারা বা ডাল ভাঙা পর্যন্ত নিষিদ্ধ, সেখানে একজন মানুষের উপাস্যকে এমন জঘন্য যৌন-আশ্রয়ী গালি দেওয়া কোরআনের এই বিধানে ‘রাফাছ’ বা নিষিদ্ধ অশ্লীলতার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা। অথচ আবু বকর কেবল ইহরামের পবিত্রতাই নষ্ট করেননি, বরং মুহাম্মদের সামনেই কোরআনের এই নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। মুহাম্মদ তাকে সংশোধন করার পরিবর্তে তার এই অশ্লীলতাকে নীরব থেকে সমর্থন করেছেন, যা প্রমাণ করে যে—কাফেরদের অবমাননা করার সময় ইসলামের স্ব-আরোপিত ‘পবিত্রতা’ বা ‘চরিত্রের বিধান’গুলো আসলে অর্থহীন হয়ে পড়ে।
‘তকরির’ বা মৌন সম্মতি: মুহাম্মদের নৈতিক অবস্থান
ইসলামি শরীয়ত অনুযায়ী, নবীর কাজ, কথা এবং ‘নীরবতা’—এই তিনটিই আইনের উৎস। যদি আবু বকরের এই আচরণ ইসলামে নিষিদ্ধ বা অশালীন হতো, তবে মুহাম্মদের দায়িত্ব ছিল তৎক্ষণাৎ তাকে তিরস্কার করা। কিন্তু তিনি তা করেননি। ফাতহুল বারী গ্রন্থের লেখক ইবনু হাজার আসকালানি এই হাদিসের ব্যাখ্যাতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, নবী সেই সময়ে আবু বকরের এই কাজে নীরব সম্মতি জানিয়েছিলেন। আসুন ইবনু হাজার আসকালানির ফাতহুল বারী থেকে বিষয়টি দেখে নিই, [5]
لَأُقَاتِلَنَّهُمْ.
قَوْلُهُ: (اجْتَاحَ) بِجِيمٍ ثُمَّ مُهْمَلَةٍ أَيْ أَهْلَكَ أَصْلُهُ بِالْكُلِّيَّةِ، وَحَذَفَ الْجَزَاءَ مِنْ قَوْلِهِ: وَإِنْ تَكُنِ الْأُخْرَى تَأَدُّبًا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ وَالْمَعْنَى وَإِنْ تَكُنِ الْغَلَبَةُ لِقُرَيْشٍ لَا آمَنُهُمْ عَلَيْكَ مَثَلًا. وَقَوْلُهُ: (فَإِنِّي وَاللَّهِ لَا أَرَى وُجُوهًا إِلَخْ) كَالتَّعْلِيلِ لِهَذَا الْقَدْرِ الْمَحْذُوفِ، وَالْحَاصِلُ أَنَّ عُرْوَةَ رَدَّدَ الْأَمْرَ بَيْنَ شَيْئَيْنِ غَيْرِ مُسْتَحْسَنَيْنِ عَادَةً وَهُوَ هَلَاكُ قَوْمِهِ إِنْ غَلَبَ، وَذَهَابُ أَصْحَابِهِ إِنْ غُلِبَ، لَكِنْ كُلٌّ مِنَ الْأَمْرَيْنِ مُسْتَحْسَنٌ شَرْعًا كَمَا قَالَ تَعَالَى: ﴿قُلْ هَلْ تَرَبَّصُونَ بِنَا إِلا إِحْدَى الْحُسْنَيَيْنِ﴾
قَوْلُهُ: (أَشْوَابًا) بِتَقْدِيمِ الْمُعْجَمَةِ عَلَى الْوَاوِ كَذَا لِلْأَكْثَرِ وَعَلَيْهَا اقْتَصَرَ صَاحِبُ الْمَشَارِقِ، وَوَقَعَ لِأَبِي ذَرٍّ، عَنِ الْكُشْمِيهَنِيِّ أَوْشَابًا بِتَقْدِيمِ الْوَاوِ، وَالْأَشْوَابُ الْأَخْلَاطُ مِنْ أَنْوَاعٍ شَتَّى، وَالْأَوْبَاشُ (١) الْأَخْلَاطُ مِنَ السَّفَلَةِ، فَالْأَوْبَاشُ أَخَصُّ مِنَ الْأَشْوَابِ.
قَوْلُهُ: (خَلِيقًا) بِالْخَاءِ الْمُعْجَمَةِ وَالْقَافِ أَيْ حَقِيقًا وَزْنًا وَمَعْنًى، وَيُقَالُ خَلِيقٌ لِلْوَاحِدِ وَالْجَمْعِ وَلِذَلِكَ وَقَعَ صِفَةً لِأَشْوَابٍ.
قَوْلُهُ: (وَيَدَعُوكَ) بِفَتْحِ الدَّالِ أَيْ يَتْرُكُوكَ، فِي رِوَايَةِ أَبِي الْمَلِيحِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ عِنْدَ مَنْ سَمَّيْتُهُ وَكَأَنّي بِهِمْ لَوْ قَدْ لَقِيتَ قُرَيْشًا قَدْ أَسْلَمُوكَ فَتُؤْخَذُ أَسِيرًا فَأَيُّ شَيْءٍ أَشَدُّ عَلَيْكَ مِنْ هَذَا وَفِيهِ أَنَّ الْعَادَةَ جَرَتْ أَنَّ الْجُيُوشَ الْمُجَمَّعَةَ لَا يُؤْمَنُ عَلَيْهَا الْفِرَارُ بِخِلَافِ مَنْ كَانَ مِنْ قَبِيلَةٍ وَاحِدَةٍ فَإِنَّهُمْ يَأْنَفُونَ الْفِرَارَ فِي الْعَادَةِ. وَمَا دَرَى عُرْوَةُ أَنَّ مَوَدَّةَ الْإِسْلَامِ أَعْظَمُ مِنْ مَوَدَّةِ الْقَرَابَةِ، وَقَدْ ظَهَرَ لَهُ ذَلِكَ مِنْ مُبَالَغَةِ الْمُسْلِمِينَ فِي تَعْظِيمِ النَّبِيِّ ﷺ كَمَا سَيَأْتِي.
قَوْلُهُ: (فَقَالَ لَهُ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ) زَادَ ابْنُ إِسْحَاقَ وَأَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَاعِدٌ فَقَالَ.
قَوْلُهُ: (امْصَصْ بَظْرَ اللَّاتِ) زَادَ ابْنُ عَائِذٍ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَهِيَ – أَيِ اللَّاتُ – طَاغِيَتُهُ الَّتِي يَعْبُدُ أَيْ طَاغِيَةُ عُرْوَةَ. وَقَوْلُهُ امْصَصْ بِأَلِفِ وَصْلٍ وَمُهْمَلَتَيْنِ الْأُولَى مَفْتُوحَةٌ بِصِيغَةِ الْأَمْرِ، وَحَكَى ابْنُ التِّينِ عَنْ رِوَايَةِ الْقَابِسِيِّ ضَمَّ الصَّادِ الْأُولَى وَخَطَّأَهَا، وَالْبَظْرُ بِفَتْحِ الْمُوَحَّدَةِ وَسُكُونِ الْمُعْجَمَةِ قِطْعَةٌ تَبْقَى بَعْدَ الْخِتَانِ فِي فَرْجِ الْمَرْأَةِ، وَاللَّاتُ اسْمُ أَحَدِ الْأَصْنَامِ الَّتِي كَانَتْ قُرَيْشٌ وَثَقِيفٌ يَعْبُدُونَهَا، وَكَانَتْ عَادَةُ الْعَرَبِ الشَّتْمُ بِذَلِكَ لَكِنْ بِلَفْظِ الْأُمِّ فَأَرَادَ أَبُو بَكْرٍ الْمُبَالَغَةَ فِي سَبِّ عُرْوَةَ بِإِقَامَةِ مَنْ كَانَ يَعْبُدُ مَقَامَ أُمِّهِ، وَحَمَلَهُ عَلَى ذَلِكَ مَا أَغْضَبَهُ بِهِ مِنْ نِسْبَةِ الْمُسْلِمِينَ إِلَى الْفِرَارِ، وَفِيهِ جَوَازُ النُّطْقُ بِمَا يُسْتَبْشَعُ مِنَ الْأَلْفَاظِ لِإِرَادَةِ زَجْرِ مَنْ بَدَا مِنْهُ مَا يَسْتَحِقُّ بِهِ ذَلِكَ. وَقَالَ ابْنُ الْمُنِيرِ: فِي قَوْلِ أَبِي بَكْرٍ تَخْسِيسٌ لِلْعَدُوِّ وَتَكْذِيبُهُمْ وَتَعْرِيضٌ بِإِلْزَامِهِمْ مِنْ قَوْلِهِمْ إِنَّ اللَّاتَ بِنْتُ اللَّهِ، تَعَالَى اللَّهُ عَنْ ذَلِكَ عُلُوًّا كَبِيرًا، بِأَنَّهَا لَوْ كَانَتْ بِنْتًا لَكَانَ لَهَا مَا يَكُونُ لِلْإِنَاثِ.
قَوْلُهُ: (أَنَحْنُ نَفِرُّ) اسْتِفْهَامُ إِنْكَارٍ.
قَوْلُهُ: (مَنْ ذَا؟ قَالُوا: أَبُو بَكْرٍ) فِي رِوَايَةِ ابْنِ إِسْحَاقَ فَقَالَ: مَنْ هَذَا يَا مُحَمَّدُ؟ قَالَ: هَذَا ابْنُ أَبِي قُحَافَةَ.
قَوْلُهُ: (أَمَا) هُوَ حَرْفُ اسْتِفْتَاحٍ، وَقَوْلُهُ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ يَدُلُّ عَلَى أَنَّ الْقَسَمَ بِذَلِكَ كَانَ عَادَةً لِلْعَرَبِ.
قَوْلُهُ: (لَوْلَا يَدٌ) أَيْ نِعْمَةٌ، وَقَوْلُهُ: (لَمْ أَجْزِكَ بِهَا) أَيْ لَمْ أُكَافِئْكَ بِهَا، زَادَ ابْنُ إِسْحَاقَ وَلَكِنَّ هَذِهِ بِهَا أَيْ جَازَاهُ بِعَدَمِ إِجَابَتِهِ عَنْ شَتْمِهِ بِيَدِهِ الَّتِي كَانَ أَحْسَنَ إِلَيْهِ بِهَا، وَبَيَّنَ عَبْدُ الْعَزِيزِ الْإِمَامِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّ الْيَدَ الْمَذْكُورَةَ أَنَّ عُرْوَةَ كَانَ تَحَمَّلَ بِدِيَةٍ فَأَعَانَهُ أَبُو بَكْرٍ فِيهَا بِعَوْنٍ حَسَنٍ، وَفِي رِوَايَةِ الْوَاقِدِيِّ عَشْرِ قَلَائِصَ.
قَوْلُهُ: (قَائِمٌ عَلَى رَأْسِ النَّبِيِّ ﷺ بِالسَّيْفِ) فِيهِ جَوَازُ الْقِيَامُ عَلَى رَأْسِ الْأَمِيرِ بِالسَّيْفِ بِقَصْدِ الْحِرَاسَةِ وَنَحْوِهَا مِنْ تَرْهِيبِ الْعَدُوِّ، وَلَا يُعَارِضُهُ النَّهْيُ عَنِ الْقِيَامِ عَلَى رَأْسِ الْجَالِسِ لِأَنَّ مَحَلَّهُ مَا إِذَا كَانَ عَلَى وَجْهِ الْعَظَمَةِ وَالْكِبْرِ.
قَوْلُهُ: (فَكُلَّمَا تَكَلَّمَ) فِي رِوَايَةِ السَّرَخْسِيِّ، وَالْكُشْمِيهَنِيِّ فَكُلَّمَا كَلَّمَهُ أَخَذَ بِلِحْيَتِهِ وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ إِسْحَاقَ فَجَعَلَ يَتَنَاوَلُ لِحْيَةَ النَّبِيِّ ﷺ وَهُوَ يُكَلِّمُهُ.
আল-মাকতাবা আল-শামেলা থেকে সংগৃহীত ‘ফাতহুল বারী’ (ইবনু হাজার আসকালানি) এর এই অংশটি মূলত হুদায়বিয়ার সন্ধির প্রেক্ষাপটে কুরাইশ প্রতিনিধি উরওয়া ইবনু মাসউদ এবং আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর মধ্যকার কথোপকথন ও তার আইনি ও ভাষাগত ব্যাখ্যা।
নিচে পাতাটির অনুবাদ দেওয়া হলো:
ফাতহুল বারী: জিহাদ ও সন্ধি অধ্যায় (ব্যাখ্যা অংশ)
১. কুরাইশদের আক্রমণ ও উরওয়ার বক্তব্য:
ইবনু হাজার বলেন, “اجتاح” (ইজতাহা) শব্দের অর্থ হলো— কোনো কিছুকে পুরোপুরি ধ্বংস বা সমূলে বিনাশ করা। উরওয়া ইবনু মাসউদ যখন নবী (সা.)-কে বলছিলেন, “যদি কুরাইশরা জয়ী হয় তবে তারা আপনাদের সমূলে বিনাশ করবে,” তখন তিনি আদববশত বাক্যের শেষ অংশ উহ্য রেখেছিলেন। অর্থাৎ, কুরাইশরা জয়ী হলে আপনার ওপর কী বিপদ আসতে পারে, তা তিনি সরাসরি উচ্চারণ করেননি।
এরপর উরওয়া যখন বললেন, “আমি আপনার সাথে এমন কিছু মুখ (মানুষ) দেখছি যারা পালিয়ে যাবে,” এটি ছিল তাঁর পূর্বের উহ্য রাখা কথার কারণ দর্শানো। মূলত উরওয়া পরিস্থিতিকে এমন দুটি বিকল্পের মধ্যে ফেলেছিলেন যা জাগতিকভাবে খুব একটা ভালো নয়— হয় কুরাইশদের বিনাশ, নতুবা মুসলিমদের পলায়ন। তবে শরীয়তের দৃষ্টিতে এই দুটিই মঙ্গলের (যেকোনো একটি ঘটবে), যেমন আল্লাহ বলেছেন: “বলুন, তোমরা কি আমাদের জন্য দুটি মঙ্গলের একটির অপেক্ষা করছ না?”
২. ‘অশওয়াব’ ও ‘আওবাশ’ (মিশ্র ভিড়) শব্দের ব্যাখ্যা:
উরওয়া সাহাবীদের ‘অশওয়াব’ (أشوابا) বলেছিলেন। অধিকাংশ বর্ণনায় এই শব্দই এসেছে। এর অর্থ হলো— বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা সংমিশ্রিত জনতা। অন্য বর্ণনায় এসেছে ‘আওবাশ’ (أوباش), যার অর্থ হলো— নিচু স্তরের বা সাধারণ মানুষের মিশ্রণ। ফলে ‘আওবাশ’ শব্দটি ‘অশওয়াব’ এর চেয়েও বেশি অপমানজনক বা সংকীর্ণ অর্থে ব্যবহৃত হয়।
উরওয়া নবী (সা.)-কে বলছিলেন যে, এরা আপনাকে বিপদে ফেলে (যুদ্ধক্ষেত্রে) ছেড়ে পালাবে। আবু মালিহ এর বর্ণনায় এসেছে— উরওয়া বলতে চেয়েছিলেন, “আমি দেখছি যদি আপনি কুরাইশদের মুখোমুখি হন, তবে এরা আপনাকে ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যাবে এবং আপনি বন্দী হবেন।” প্রাচীনকালে প্রচলিত ধারণা ছিল যে, বিভিন্ন গোত্রের সংমিশ্রণে তৈরি সেনাবাহিনী পালানোর ভয় থাকে, কিন্তু যারা কেবল এক গোত্রের লোক, তারা বংশীয় মর্যাদার খাতিরে পালায় না। কিন্তু উরওয়া জানতেন না যে, ইসলামের ভ্রাতৃত্ব বা ভালোবাসা বংশীয় সম্পর্কের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী।
৩. আবু বকরের অশ্লীল গালি ও তার ব্যাখ্যা:
উরওয়ার এই অপমানজনক বক্তব্যের প্রতিবাদে আবু বকর সিদ্দিক (রা.)—যিনি নবীর ঠিক পাশেই বসা ছিলেন—বলে উঠলেন: “امصص بظر اللات” (যা, লাত দেবীর লজ্জাস্থান চেটে খা!)।
ইবনু আইয-এর বর্ণনায় জুহরি থেকে এসেছে, ‘লাত’ ছিল উরওয়ার সেই দেবী বা উপাস্য যাকে সে পূজা করত। ‘আমসিস’ (امصص) শব্দটি এখানে আদেশসূচক। ‘বজর’ (بظر) বলতে নারীদেহের খতনার পর অবশিষ্ট অংশকে (ক্লিটোরিস) বোঝানো হয়। আর ‘লাত’ হলো সেই প্রতিমা যার পূজা কুরাইশ ও সাকীফ গোত্র করত।
আরবদের মধ্যে সাধারণত মাকে জড়িয়ে এই গালি দেওয়ার প্রথা ছিল। কিন্তু আবু বকর এখানে উরওয়াকে চূড়ান্ত অপমান করার জন্য তার উপাস্য দেবীকে (লাত) তার মায়ের জায়গায় স্থাপন করে এই গালি দিয়েছিলেন। উরওয়া যখন মুসলিমদের পলায়নপর বা কাপুরুষ হিসেবে ইঙ্গিত করলেন, তখন আবু বকর চরম ক্রোধান্বিত হয়ে এই উক্তিটি করেন।
৪. অশ্লীল শব্দ ব্যবহারের বৈধতা:
ইবনু হাজার আসকালানি এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শরয়ী ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন:
“এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, কাউকে কঠোরভাবে ধমক দেওয়া বা যথাযথ শাস্তি দেওয়ার প্রয়োজনে এমন শব্দ (অশ্লীল বা কুরুচিপূর্ণ) উচ্চারণ করা জায়েজ যা সাধারণত ঘৃণিত বা অপছন্দনীয়।”
ইবনু মুনির বলেন, আবু বকরের এই উক্তিতে শত্রুকে তুচ্ছ করা হয়েছে এবং তাদের দাবিকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা হয়েছে। মুশরিকরা দাবি করত যে ‘লাত’ হলো আল্লাহর কন্যা (নাউযুবিল্লাহ)। আবু বকর এখানে বিদ্রূপ করে বুঝিয়ে দিলেন যে, সে যদি কন্যাই হয় তবে সাধারণ নারীদের মতো তারও তো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থাকবে!
৫. উরওয়ার প্রতিক্রিয়া ও আবু বকরের পূর্বের এহসান:
উরওয়া যখন জিজ্ঞেস করলেন, “হে মুহাম্মদ, এ কে?” নবী (সা.) উত্তর দিলেন, “ইনি ইবনু আবি কুহাফা (আবু বকর)।” তখন উরওয়া আবু বকরকে বললেন, “আল্লাহর কসম! যদি আমার ওপর আপনার একটি ঋণ (এহসান) না থাকত যার বদলা আমি এখনও দিইনি, তবে আমি অবশ্যই আপনার এই গালির উত্তর দিতাম।”
আবদুল আজিজ আল-ইমামি জুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সেই ‘এহসান’ বা ঋণটি ছিল— উরওয়া একবার কোনো এক রক্তপণের (দিয়্যত) বোঝা বহন করছিলেন, তখন আবু বকর তাকে উত্তমভাবে সাহায্য করেছিলেন। ওয়াকিদির বর্ণনায় এসেছে, আবু বকর তাকে ১০টি উট দিয়ে সাহায্য করেছিলেন।
৬. মুগীরা ইবনু শু’বা এবং পাহারাদারি:
মুগীরা ইবনু শু’বা (রা.) তলোয়ার হাতে নবীর মাথার কাছে দাঁড়িয়ে পাহারাদারি করছিলেন। ইবনু হাজার বলেন, শত্রুকে ভয় দেখাতে বা নিরাপত্তার প্রয়োজনে নেতার মাথার কাছে তলোয়ার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা জায়েজ। এটি অহংকারবশত কারও সামনে দাঁড়িয়ে থাকার নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। উরওয়া কথা বলার সময় বারবার নবীর দাড়িতে হাত দিচ্ছিলেন, আর মুগীরা প্রতিবারই তলোয়ারের হাতল দিয়ে উরওয়ার হাতে আঘাত করে সরিয়ে দিচ্ছিলেন।
ইবনু হাজার আসকালানি তাঁর ব্যাখ্যায় যে ‘মাসলাহা’ (স্বার্থ বা কৌশল) তত্ত্ব হাজির করেছেন, তা আধুনিক সভ্যতার চোখে এক চরম বৌদ্ধিক ও নৈতিক দ্বিচারিতা। তিনি দাবি করেছেন, শত্রুকে তুচ্ছজ্ঞান করতে, মানসিকভাবে দমানোর জন্য কিংবা লজ্জিত করার প্রয়োজনে লিঙ্গ বা যৌনাঙ্গের নাম স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করা ‘জায়েজ’ বা বৈধ। এর অর্থ দাঁড়ায়, ইসলামের কথিত ‘উত্তম চরিত্র’ কেবল তখনই বলবৎ থাকে যখন মুসলিমরা সুবিধাজনক বা দুর্বল অবস্থানে থাকে। কিন্তু যদি গালি দিয়ে কাউকে দমানো যায়, তবে চরম অশ্লীলতাও মুহাম্মদের দৃষ্টিতে ‘বৈধ’ হয়ে যায়। ইবনু হাজার আরও উল্লেখ করেছেন যে, যেহেতু মুহাম্মদ এই নোংরামির প্রতিবাদ করেননি, তাই এটি একটি শরয়ী সুন্নতে পরিণত হয়েছে। যে ধর্ম নিজেকে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ নৈতিক বিধান বলে দাবি করে, সেই ধর্মে প্রতিপক্ষের উপাস্যকে অশ্লীল গালি দেওয়া যদি ‘কৌশলগত পুণ্য’ হিসেবে গণ্য হয়, তবে ‘উত্তম চরিত্রের পূর্ণতাদান’—এই স্লোগানটি একটি অন্তঃসারশূন্য উপহাসে পরিণত হয়। মূলত এই ‘মাসলাহা’ তত্ত্বটিই প্রমাণ করে যে, ইসলামের সহনশীলতা বা শিষ্টাচার কেবল একটি সুবিধাবাদী আবরণ মাত্র, যার ভেতরে চরম সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ও অশ্লীলতা প্রোথিত।
তাই খুব স্পষ্টভাবেই বলা যায়, মুহাম্মদের নীরবতা প্রমাণ করে যে, প্রতিপক্ষকে বা প্রতিপক্ষের দেব-দেবীকে অশ্লীল গালি দেওয়া ইসলামি নৈতিকতায় কোনো অপরাধ নয়, যদি তা নিজের ধর্মীয় জেদ থেকে আসে। যে নবী নিজেকে ‘উত্তম চরিত্রের শিক্ষক’ দাবি করেন, তাঁর সামনে তাঁরই প্রধান অনুসারী যখন অন্য ধর্মের উপাস্য দেবীর যৌনাঙ্গ চাটার মতো কুৎসিত কথা বলেন, তখন সেই নবীর নৈতিক মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা কেবল যুক্তিসঙ্গত নয়, বরং অনিবার্য হয়ে পড়ে। এটি কোনো সাধারণ বিচ্যুতি নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে, ইসলামের সহনশীলতা কেবল ততক্ষণই থাকে যতক্ষণ তারা দুর্বল; শক্তি বা আধিপত্যের ক্ষেত্রে তাদের ভাষা হয় চরম উগ্র ও অশালীন।
উপসংহারঃ তথাকথিত চরিত্রের অন্তরালে কদর্য বাস্তবতা
পরিশেষে এটি পরিষ্কার যে, আবু বকরের এই অশ্লীল গালি এবং মুহাম্মদের নীরবতা ইসলামের প্রচারিত ‘উন্নত চরিত্র’ ও ‘পরধর্মসহিষ্ণুতা’র দাবিকে পুরোপুরি মিথ্যা প্রমাণ করে। একজন সাধারণ অবিশ্বাসী মানুষের সাথেও যেখানে সভ্য ভাষায় কথা বলা সৌজন্যবোধের দাবি, সেখানে প্রতিপক্ষের উপাস্য দেবীর যৌনাঙ্গ নিয়ে এমন যৌন সুড়সুড়িমূলক গালি দেওয়া কোনো সুস্থ মস্তিস্কের মানুষের পরিচয় হতে পারে না।
আবু বকরের মতো একজন উচ্চপর্যায়ের সাহাবীর মুখ দিয়ে এমন শব্দ বের হওয়া এবং ‘রহমাতুল্লিল আলামিন’ হিসেবে পরিচিত মুহাম্মদের সেই নোংরামিতে সায় দেওয়া বা নিশ্চুপ থাকা—ইসলামি ইতিহাসের এক জঘন্য অধ্যায়। এটি প্রমাণ করে যে, ইসলামের ভেতরেই ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতি ঘৃণা ও অবমাননার বীজ বপন করা ছিল। যারা আজও ইসলামকে নৈতিকতার মাপকাঠি মনে করেন, আবু বকরের এই “লাত দেবীর লজ্জাস্থান চাট” উক্তিটি তাদের জন্য এক মোক্ষম জবাব। সত্যের অনুসন্ধিৎসু পাঠকগণ যখনই এই হাদিসটি এবং এর ব্যাখ্যাগুলো পড়বেন, তখনই তারা বুঝতে পারবেন যে তথাকথিত ‘পবিত্র’ চরিত্রের আড়ালে কতটুকু কদর্যতা ও সাম্প্রদায়িক ঘৃণা লুকানো ছিল।
