সহিহ হাদিস থেকে জানা যায়, নবী মুহাম্মদের সম্মুখেই আবু বকর কাফেরদের দেবদেবী নিয়ে অত্যন্ত অশ্লীল এবং কুরুচিপূর্ণ গালাগালি করতেন। নবীরও সেখানে নিরব সম্মতি ছিল, নইলে নবী আবু বকরকে তখনই থামাতেন। ফাতহুল বারী গ্রন্থের লেখক ইবনু হাজার আসকালানি এই হাদিসের ব্যাখ্যাতে বলেন, নবী সেই সময়ে আবু বকরের এই কাজে নিরব সম্মতি জানিয়েছিলেন [1]। এই হাদিসটি অত্যন্ত দীর্ঘ বিধায় কিছু অংশ এখানে দেয়া হচ্ছে, আগ্রহী পাঠকগণ বাদবাকি অংশ মূল বই থেকে পড়ে নিতে পারেন। কাফেরদের সাথে যত শত্রুতাই থাকুক না কেন, যত যুদ্ধই হোক না কেন, কাফেরদের দেবদেবী বা ধর্ম নিয়ে এরকম অবমাননাকর, নোংরা এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কোন সভ্য মানুষ কীভাবে বলতে পারে? [2] [3] –
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪৬/ শর্তাবলী
পরিচ্ছেদঃ ১৭০১. যুদ্ধরত কাফিরদের সাথে জিহাদ ও সন্ধির ব্যাপারে শর্তারোপ এবং লোকদের সাথে কৃত মৌখিক শর্ত লিপিবদ্ধ করা
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ২৫৪৭, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২৭৩১ – ২৭৩৩
২৫৪৭। …
তখন আবূ বকর (রাঃ) তাকে বললেন, তুমি লাত দেবীর লজ্জাস্থান চেটে খাও। আমরা কি তাঁকে ছেড়ে পালিয়ে যাব?
…
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ মারওয়ান ইবনু হাকাম (রহঃ)

এবারে আসুন এই বিষয়টি বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে জেনে নেয়া যাক [4] –
উরওয়ার এ কথা হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা.-এর কাছে অপছন্দ হল। তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন, امصص بَظَرَ اللَاتِ أَنْفر অর্থাৎ, যা বেটা! স্বীয় লাতের লজ্জাস্থান চাট। তুই কি জানিস, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমাদের ভালবাসা কিরূপ? আমরা কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রেখে পালিয়ে যাব? অসম্ভব!
লাত ছিল সাকীফ গোত্রের প্রতিমার নাম। আরবদের মধ্যে এটি (লাতের লজ্জাস্থান চাট) ছিল মারাত্মক গালি। উরওয়ার বিস্ময়কর কষ্ট হল। সে জিজ্ঞেস করল, এ কে? প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবু বকর। উরওয়া বলল, আমাদের উপর আপনার এহসান রয়েছে, যার প্রতিদান আমরা দেইনি। অন্যথায় আমি আপনার এ কটূক্তির উত্তর দিতাম।
… হযরত মুগীরা রা. তলোয়ারের (লাগাল) দ্বারা উরওয়ার হাতে আঘাত করে বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দাড়ি থেকে হাত পৃথক রাখ। উরওয়া মস্তক উত্তোলন করে জিজ্ঞেস করল, এ কে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ হল তোমার ভাতিজা মুগীরা ইবনে শুবা।

