Az-Zukhruf
আয-যুখরুফ: 1
মূল আরবি
حمٓ
English Translations
Ḥā, Meem.
Ha-Mim. [These letters are one of the miracles of the Quran, and none but Allah (Alone) knows their meanings].
Hā Mīm.
Ha'. Mim.
Ha. Mim.
Ha-Mim
বাংলা অনুবাদ
হা-মীম।
হা-মীম।
হা, মীম।
হা - মীম।
হা-মীম,
১. হা-মীম, এসব যুক্তাক্ষরের ব্যাপারে আলোচনা সূরা বাকারার শুরুতে অতিক্রান্ত হয়েছে।
তাফসীর
১-৮ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা কুরআন কারীমের শপথ করেছেন যা সুস্পষ্ট, যার অর্থ জাজ্বল্যমান এবং যার শব্দগুলো উজ্জ্বল। যা সর্বাপেক্ষা সুন্দর ও অলংকারপূর্ণ আরবী ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। এটা এই জন্যে যে, যেন লোকজন জানে, বুঝে ও উপদেশ গ্রহণ করে। মহান আল্লাহ বলেনঃ “আমি এই কুরআনকে আরবী ভাষায় অবতীর্ণ করেছি।' যেমন অন্য জায়গায় তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি এই কুরআনকে স্পষ্ট আরবী ভাষায় অবতীর্ণ করেছি।”(২৬:১৯৫)মহান আল্লাহ বলেনঃ “এটা রয়েছে আমার নিকট উম্মুল কিতাবে, এটা মহান, জ্ঞানগর্ভ। উম্মুল কিতাব অর্থ লাওহে মাহফু। (আরবী) অর্থ আমার নিকট।
(আরবী) অর্থ মরতবা, ইযযত, শরাফত ও ফযীলত। (আরবী) অর্থ দৃঢ়, মযবূত, বাতিলের সাথে মিলিত হওয়া এবং অন্যায়ের সাথে মিশ্রিত হওয়া হতে পবিত্র। অন্য জায়গায় এই পবিত্র কালামের বুযুর্গীর বর্ণনা নিম্নরূপে দেয়া হয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “নিশ্চয়ই এটা সম্মানিত কুরআন, যা আছে সুরক্ষিত কিতাবে, যারা পূত পবিত্র তারা ব্যতীত অন্য কেউ স্পর্শ করে না। এটা জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট হতে অবতীর্ণ।”(৫৬:৭৭-৮০) আর এক জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “না, এই আচরণ অনুচিত, এটা তো উপদেশ বাণী; যে ইচ্ছা করবে সে এটা স্মরণ রাখবে, ওটা আছে মহান লিপিসমূহে, যা উন্নত মর্যাদা সম্পন্ন, পবিত্র, মহান, পূত চরিত্র লিপিকর-হস্তে লিপিবদ্ধ ।”(৮০:১১-১৬) সুতরাং এই আয়াতগুলোকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করে আলেমগণ বলেন যে, অযু বিহীন অবস্থায় কুরআন কারীমকে হাতে নেয়া উচিত নয়, যেমন একটি হাদীসেও এসেছে, যদি তা সত্য হয়।
কেননা, ঊর্ধ্ব জগতে ফেরেশতারা ঐ কিতাবের ইযযত ও সম্মান করে থাকেন যাতে এই কুরআন লিখিত আছে। সুতরাং এই পার্থিব জগতে আমাদের তো আরো বেশী এর সম্মান করা উচিত। কেননা, এটা যমীনবাসীর নিকটই তো প্রেরণ করা হয়েছে। এটা দ্বারা তো তাদেরকেই সম্বোধন করা হয়েছে। অতএব, এই পৃথিবীবাসীর এর খুব সম্মান ও আদব করা উচিত। কেননা, মহান আল্লাহ বলেনঃ “এটা রয়েছে আমার নিকট উম্মুল কিতাবে, এটা মহান, জ্ঞানগর্ভ।এর পরবর্তী আয়াতের একটি অর্থ এই করা হয়েছেঃ “তোমরা কি এটা মনে করে নিয়েছে যে, তোমাদের আনুগত্য না করা এবং আদেশ নিষেধ মান্য না করা সত্ত্বেও আমি তোমাদেরকে ছেড়ে দিবো?
এবং তোমাদেরকে শাস্তি প্রদান করবো না?” আর একটি অর্থ এই করা হয়েছেঃ “এই উম্মতের পূর্ববর্তী লোকেরা যখন এই কুরআনকে অবিশ্বাস করেছিল তখনই যদি এটাকে উঠিয়ে নেয়া হতো তবে গোটা দুনিয়া ধ্বংস করে দেয়া হতো। কিন্তু আল্লাহর প্রশস্ত রহমত এটা পছন্দ করেনি এবং বিশের অধিক বছর ধরে এ কুরআন অবতীর্ণ হতে থাকে। এ উক্তির ভাবার্থ হচ্ছেঃ “এটা আল্লাহ তা'আলার স্নেহ ও দয়া যে, অস্বীকারকারী ও দুষ্টমতি লোকদের দুষ্টামির কারণে তাদেরকে ওয়ায-নসীহত ও উপদেশ দান পরিত্যাগ করা হয়নি যাতে তাদের সৎ লোকেরা সংশোধিত হয়ে যায় এবং সংশোধন হতে অনিচ্ছুক লোকদের উপর যুক্তি-প্রমাণ সমাপ্ত হয়ে যায়।”এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে সান্ত্বনা দিয়ে বলেনঃ “হে নবী (সঃ)!
তোমাকে তোমার কওম যে অবিশ্বাস করছে এতে তুমি দুঃখিত ও চিন্তিত হয়ো না, বরং ধৈর্যধারণ কর। এদের পূর্ববর্তী কওমদের নিকটেও নবী রাসূলগণ এসেছিল, তখন তারাও তাদেরকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ ও উপহাস করেছিল।”অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ ‘তাদের মধ্যে যারা এদের অপেক্ষা শক্তিতে প্রবল ছিল তাদেরকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছিলাম। আর এই ভাবে চলে আসছে পূর্ববর্তীদের অনুরূপ দৃষ্টান্ত। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ অন্য আয়াতে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “এরা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না? করলে দেখতো এদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কি হয়েছিল! পৃথিবীতে তারা ছিল এদের অপেক্ষা সংখ্যায় অধিক এবং শক্তিতে প্রবলতর।” (৪০:৮২) এই বিষয়ের আরো বহু আয়াত রয়েছে।মহান আল্লাহ বলেনঃ পূর্ববর্তীদের দৃষ্টান্ত গত হয়েছে অর্থাৎ তাদের রীতি-নীতি, শাস্তি ইত্যাদি।
আল্লাহ তাআলা তাদের পরিণামকে পরবর্তীদের জন্যে শিক্ষা ও উপদেশের বিষয় করেছেন। যেমন তিনি এই সূরার শেষের দিকে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তৎপর পরবর্তীদের জন্যে আমি তাদেরকে করে রাখলাম অতীত ইতিহাস ও দৃষ্টান্ত।” অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আল্লাহর নিয়ম তাঁর বান্দাদের মধ্যে গত হয়েছে।”(৪০:৮৫) অন্য এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তুমি আল্লাহর নিয়মের কোন পরিবর্তন পাবে না।”(৩৩:৬২)
হা - মীম।
[সূরা আয-যুখরুফ (৪৩): আয়াত ১ থেকে ৩] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আয-যুখরুফের তাফসীর]সূরা আয-যুখরুফ সর্বসম্মতিক্রমে মক্কী (মক্কায় অবতীর্ণ)। মুকাতিল বলেন: কেবল ৪৫ নম্বর আয়াত "আর আপনার পূর্বে আমি যেসব রাসূল পাঠিয়েছিলাম তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন" ব্যতীত। এটি উননব্বইটি আয়াত বিশিষ্ট।পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে [সূরা আয-যুখরুফ (৪৩): আয়াত ১ থেকে ৩]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেহা-মীম (১) শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের (২) নিশ্চয়ই আমি একে আরবী ভাষায় কুরআন হিসেবে নাযিল করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পারো (৩)মহান আল্লাহর বাণী: "হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের।" এ সম্পর্কে পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।
বলা হয়েছে: "হা-মীম" একটি শপথ। "সুস্পষ্ট কিতাব" দ্বিতীয় শপথ। আর আল্লাহ যা ইচ্ছা তা দিয়ে শপথ করার অধিকার রাখেন। আর শপথের উত্তর হলো "নিশ্চয়ই আমি একে করেছি"। ইবনুল আনবারী বলেন: যারা "কিতাব"-এর শপথের উত্তর "হা-মীম"-কে মনে করেন—যেমনটি বলা হয় "আল্লাহর কসম এটি নাযিল হয়েছে" বা "আল্লাহর কসম এটি অবধারিত"—তারা "সুস্পষ্ট কিতাব" (আল-কিতাবুল মুবীন) এর ওপর বিরতি দেবেন। আর যারা শপথের উত্তর "নিশ্চয়ই আমি একে করেছি" বলে গণ্য করেন, তারা "সুস্পষ্ট কিতাব"-এর ওপর বিরতি দেবেন না। "জাআলনাহু" (আমি একে করেছি) শব্দের অর্থ হলো আমি এর নামকরণ করেছি এবং একে বিশেষিত করেছি; এই কারণেই এটি দুটি কর্মপদ গ্রহণ করেছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ বাহীরাহ্ সাব্যস্ত করেননি" [আল-মায়িদাহ: ১০৩]।
সুদ্দী বলেন: অর্থাৎ আমি একে কুরআন হিসেবে অবতীর্ণ করেছি। মুজাহিদ বলেন: আমি এটি বলেছি। যাজ্জাজ এবং সুফিয়ান সাওরী বলেন: আমি এটি স্পষ্ট করেছি। "আরবী" অর্থ হলো আমি এটি আরবদের ভাষায় নাযিল করেছি, কারণ প্রত্যেক নবীর কিতাব তাঁর নিজ জাতির ভাষায় নাযিল করা হয়েছে; সুফিয়ান সাওরী এবং অন্যান্যরা এ কথা বলেছেন। মুকাতিল বলেন: কারণ আসমানবাসীদের ভাষা হলো আরবী। কেউ কেউ বলেন: 'কিতাব' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নবীদের ওপর অবতীর্ণ সমস্ত কিতাব, কারণ 'আল-কিতাব' শব্দটি এখানে জাতিগত বিশেষ্য, যেন তিনি অবতীর্ণ সকল কিতাবের শপথ করে বলছেন যে তিনি কুরআনকে আরবী করেছেন।
"জাআলনাহু" শব্দের সর্বনামটি কুরআনের দিকে ফিরেছে, যদিও এই সূরায় ইতিপূর্বে এর উল্লেখ নেই, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আমি এটি কদরের রাতে নাযিল করেছি" [আল-কদর: ১]। "যাতে তোমরা বুঝতে পারো" অর্থাৎ যাতে তোমরা এর বিধানাবলী ও অর্থসমূহ অনুধাবন করতে পারো। এই মতানুসারে এটি অনারবদের বাদ দিয়ে কেবল আরবদের জন্য নির্দিষ্ট হবে; ইবনে ঈসা এমনটিই বলেছেন। ইবনে যায়েদ বলেন: এর অর্থ হলো যাতে তোমরা চিন্তা-গবেষণা করো; এই মতানুসারে এটি আরব এবং অনারব সবার জন্য সাধারণ সম্বোধন। কিতাবকে "সুস্পষ্ট" বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে কারণ আল্লাহ এতে তাঁর বিধান ও ফরজসমূহ স্পষ্ট করেছেন, যেমনটি পূর্বে বিভিন্ন স্থানে আলোচিত হয়েছে।(১).
আয়াত (৪৫)(২). দ্রষ্টব্য খণ্ড ১৫, পৃষ্ঠা (২৮৯)(৩). সূরা আল-মায়িদাহর ১০৩ নম্বর আয়াত।(৪). দ্রষ্টব্য খণ্ড ২০, পৃষ্ঠা ১২৯(৫). 'সাধারণ' শব্দটি পাণ্ডুলিপি হা, যা, কা ও হা-তে নেই।
