সারসংক্ষেপ
ইসলামী শরিয়তে একজন স্বাধীন মুসলিম পুরুষ একই সময়ে সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রী রাখতে পারে। কিন্তু মালিকানাধীন নারীদাসী বা মা মালাকাত আইমানুকুম-এর ক্ষেত্রে চারজন বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সংখ্যাসীমা নির্ধারণ করা হয়নি। ধ্রুপদী ইসলামি ফিকহে এই পার্থক্য স্পষ্টভাবে স্বীকৃত। হানাফি, শাফেয়ি, মালিকি ও হাম্বলি ফিকহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থে একদিকে বিবাহিত স্ত্রীর সংখ্যা চারজনে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, অন্যদিকে মালিকানাধীন দাসীদের ক্ষেত্রে এমন কোনো সংখ্যাগত সীমা আরোপ করা হয়নি। শুধু দাসী মালিকানার ক্ষেত্রেই নয়, শরঈভাবে সহবাসের জন্য বৈধ নারীদাসীদের ক্ষেত্রেও চারজনের অনুরূপ কোনো সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়নি।
এই প্রবন্ধের বক্তব্য এই নয় যে একজন মালিক তার মালিকানাধীন প্রত্যেক নারীদাসীর সঙ্গে সকল পরিস্থিতিতে যৌনসম্পর্ক করতে পারত। ইসলামি শরিয়তে আত্মীয়তা, একই সময়ে দুই বোনের সঙ্গে যৌনসম্পর্ক, মা ও মেয়েকে একই ব্যক্তির যৌনসম্পর্কের অধীনে আনা, অন্য পুরুষের সঙ্গে কার্যকর বৈবাহিক সম্পর্ক, ইস্তিবরা এবং আরও কিছু অবস্থায় পৃথক নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু এসব নিষেধাজ্ঞা সংখ্যাগত সীমা নয়। অর্থাৎ শরঈভাবে সহবাসের জন্য বৈধ নারীদাসীর সংখ্যা চার, দশ, একশ বা তারও বেশি হলেও শুধু সংখ্যার কারণে সেই যৌনসম্পর্ক অবৈধ হয়ে যেত না। এই প্রবন্ধে কোরআন, হাদিস, ধ্রুপদী ফিকহগ্রন্থ এবং সমসাময়িক ইসলামি ফতোয়ার ভিত্তিতে এই বিধানের উৎস, বিস্তার এবং আইনি কাঠামো বিশ্লেষণ করা হবে।
ভূমিকা
ইসলামে বহুবিবাহের আলোচনা সাধারণত একটি সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে—চারজন স্ত্রী। কোরআনের সূরা আন-নিসার ৩ নম্বর আয়াতের ভিত্তিতে একজন স্বাধীন মুসলিম পুরুষ একই সময়ে সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রীকে বিবাহের অধীনে রাখতে পারে। কিন্তু চারজনের এই সীমা ইসলামী যৌন আইনের সর্বমোট সীমা নয়। কোরআন স্ত্রীদের পাশাপাশি মা মালাকাত আইমানুকুম বা “ডান হাতের মালিকানাধীন” নারীদের একটি পৃথক শ্রেণি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। পরবর্তী ইসলামি ফিকহে এই দুই শ্রেণির জন্য পৃথক আইনি বিধান গড়ে ওঠে—বিবাহিত স্ত্রী নিকাহের মাধ্যমে যৌনসম্পর্কের অধিকারভুক্ত, আর নারীদাসীর ক্ষেত্রে যৌনসম্পর্কের আইনগত ভিত্তি ছিল মিলক আল-ইয়ামিন, অর্থাৎ মালিকানা।
এই পার্থক্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ফল ছিল সংখ্যার প্রশ্নে। স্ত্রীদের সংখ্যা চারজনে সীমাবদ্ধ হলেও মালিকানাধীন নারীদাসীদের ক্ষেত্রে একই সীমা প্রযোজ্য ছিল না। ধ্রুপদী ফিকহের বিভিন্ন মাযহাবের গ্রন্থে বিষয়টি সরাসরি আলোচিত হয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে স্বাধীন ব্যক্তি যত সংখ্যক দাসী ইচ্ছা মালিকানায় রাখতে পারে; কোথাও আরও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মালিকানার ভিত্তিতে নারীদাসীদের মধ্যে যতজনের সঙ্গে শরঈ বাধা ছাড়া সহবাস বৈধ হয়, সেই সংখ্যার ওপর চারজনের সীমা নেই। এই বিধান কোনো বিচ্ছিন্ন মত নয়; বিভিন্ন ফিকহি ধারায় একই মূল নীতি পুনরাবৃত্ত হয়েছে।
এই ব্যবস্থায় স্ত্রী ও দাসীর আইনি মর্যাদাও এক ছিল না। স্ত্রী মোহর, নাফাকা, পালাক্রমে রাত্রিযাপন এবং বিবাহসংক্রান্ত নির্দিষ্ট অধিকারের অধিকারী ছিল। নারীদাসীর ক্ষেত্রে মালিকের যৌনঅধিকার নিকাহের ওপর নির্ভর করত না এবং স্ত্রীদের মতো সমান পালা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও প্রযোজ্য ছিল না। ফলে “ইসলামে একজন পুরুষ সর্বোচ্চ চারজন নারীর সঙ্গে বৈধ যৌনসম্পর্ক রাখতে পারে”—এমন বক্তব্য ঐতিহাসিক ও ফিকহি দিক থেকে ভুল। চারজন ছিল স্ত্রীর সীমা; যৌনদাসীর ক্ষেত্রে শরিয়ত পৃথক ও সংখ্যাগতভাবে উন্মুক্ত কাঠামো অনুমোদন করেছিল।
পরবর্তী পরিচ্ছেদগুলোতে প্রথমে কোরআনের সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলো দেখা হবে, এরপর ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী, ইমাম শাফেয়ীর আল-উম্ম, আল-কারাফীর আল-ফুরূক, ইবন তাইমিয়্যাহ, আবদুর রহমান আস-সা‘দীসহ বিভিন্ন ফিকহি সূত্র থেকে সরাসরি উদ্ধৃতি উপস্থাপন করা হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে মূল বক্তব্য, উৎসের লিংক এবং প্রয়োজনীয় অংশ ব্লককোটে দেওয়া হবে, যাতে সংখ্যাসীমাহীন দাসী মালিকানা ও যৌনসম্পর্কের ফিকহি ভিত্তি সরাসরি যাচাই করা যায়।
কোরআনে স্ত্রী ও মালিকানাধীন দাসী: দুটি স্বতন্ত্র যৌন সম্পর্ক
কোরআন বৈধ যৌনসম্পর্কের ক্ষেত্রে স্ত্রী এবং মালিকানাধীন নারীদাসীকে দুটি স্বতন্ত্র শ্রেণি হিসেবে পাশাপাশি রেখেছে। সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৫–৭-এ প্রথমে যৌনাঙ্গ সংযত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এরপর সেই সংযমের দুটি ব্যতিক্রম ঘোষণা করা হয়েছে—নিজের স্ত্রী এবং নিজের “ডান হাতের মালিকানাধীন” নারী। এই দুই শ্রেণির সঙ্গে যৌনসম্পর্কের ক্ষেত্রে পুরুষকে তিরস্কৃত করা হবে না; বরং এদের বাইরে যৌনসম্পর্ক কামনাকারীদের সীমালঙ্ঘনকারী বলা হয়েছে। একই বিধান প্রায় একই ভাষায় আবার সূরা আল-মাআরিজ ৭০:২৯–৩১-এ পুনরাবৃত্ত হয়েছে। [1] [2]
সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৫–৭
“আর যারা নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে (৫) তবে তাদের স্ত্রী অথবা তাদের দক্ষিণ হস্ত যার মালিক হয়েছে (দাসী) তাদের ক্ষেত্র ছাড়া; এতে তারা তিরস্কৃত হবে না (৬) সুতরাং যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে, তারাই সীমা লঙ্ঘনকারী (৭)।”
সূরা আল-মাআরিজ ৭০:২৯–৩১
“এবং যারা তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে (২৯) তাদের পত্নী অথবা তাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়েছে (দাসী) তাদের ব্যতীত; এক্ষেত্রে তারা তিরস্কৃত হবে না (৩০) সুতরাং যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করবে, তারাই হবে সীমালঙ্ঘনকারী (৩১)।”
এই আয়াতগুলোর যৌন অর্থ তাফসীরের ভাষ্যেও সুস্পষ্ট। আল-কুরতুবী সূরা আল-মুমিনূনের এই অংশ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, আয়াতের সম্বোধন পুরুষদের উদ্দেশ্যে; কোনো নারী তার মালিকানাধীন পুরুষদাসের সঙ্গে যৌনসম্পর্কের অধিকারী নয়। অর্থাৎ “মা মালাকাত আইমানুহুম” এখানে পুরুষের মালিকানাধীন নারীদাসীকেই বোঝায়। কুরতুবীর উদ্ধৃত বর্ণনায় এক নারী নিজের পুরুষদাসের সঙ্গে সহবাস করে যুক্তি দিয়েছিল যে পুরুষের জন্য তার মালিকানাধীন দাসী যেমন বৈধ, তার জন্যও তার মালিকানাধীন পুরুষদাস তেমন বৈধ হওয়া উচিত। সাহাবিরা তার এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেন। এর মাধ্যমে আয়াতটির ফিকহি প্রয়োগ আরও স্পষ্ট হয়: মালিকানাভিত্তিক যৌন অধিকারটি পুরুষ মালিক এবং তার নারীদাসীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বীকৃত ছিল। [3] [4]
“এই আয়াতে কেবল পুরুষদের বিশেষভাবে সম্বোধন করা হয়েছে, স্ত্রীদের নয়। এর প্রমাণ হলো আল্লাহর বাণী: ‘নিজেদের পত্নী অথবা তাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়েছে তাদের ব্যতীত।’ … আলেমদের সর্বসম্মত অভিমত (ইজমা) হলো কোনো নারীর জন্য তার মালিকানাধীন দাসের সাথে সহবাস করা বৈধ নয়।”
কাতাদাহ থেকে বর্ণিত ঘটনায় এক নারী নিজের গোলামের সঙ্গে সহবাস করার কারণ হিসেবে বলেছিল: “আমি মনে করতাম যে, আমার মালিকানাধীন হওয়ার কারণে সে আমার জন্য তেমনি বৈধ যেমন পুরুষের জন্য তার মালিকানাধীন দাসী বৈধ হয়।”
তাফসীর আদ-দুররুল মানসূরেও এই আয়াতের ব্যাখ্যায় স্ত্রী ও দাসীকে সরাসরি পুরুষের বৈধ যৌনসঙ্গীর দুটি শ্রেণি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে সুদ্দীর ব্যাখ্যায় “তাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়েছে” বলতে সরাসরি “তার দাসী” বলা হয়েছে। মুহাম্মদ ইবন কা‘বের বক্তব্য উদ্ধৃত করে স্ত্রী ও মালিকানাধীন দাসীকে বৈধ যৌনসম্পর্কের দুটি পথ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; আর ইবন উমরের বক্তব্যে বলা হয়েছে, নিজের মালিকানাধীন দাসী ছাড়া অন্য কারও দাসীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক বৈধ নয়। [5]
“তারা তাদের স্ত্রী এবং দাসীদের সাথে সহবাসের জন্য তিরস্কৃত হবে না।”
“অথবা তাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়েছে”—সুদ্দী বলেন: “তার দাসী।”
মুহাম্মদ বিন কা‘ব বলেন: “দুই প্রকার অঙ্গ ছাড়া বাকি সব লজ্জাস্থান তোমার জন্য হারাম। আল্লাহ বলেছেন, ‘নিজেদের স্ত্রী অথবা তাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়েছে তারা ব্যতীত।’”
সমসাময়িক সালাফি ফতোয়া-সাইট IslamQA-ও একই আয়াতের ভিত্তিতে নারীদাসীর সঙ্গে মালিকের যৌনসম্পর্ককে সরাসরি বৈধ বলে ঘোষণা করেছে। তাদের ১৩৭৩৭ নম্বর ফতোয়ায় প্রশ্ন ছিল, উপপত্নী বা নারীদাসী রাখা কেন হারাম নয় এবং অন্য মুসলিমরাও কি এমন নারীদাসী রাখতে পারে। উত্তরে সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৬ এবং আল-মাআরিজ ৭০:৩০ উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, মালিকের জন্য নিজের নারীদাসীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক বৈধ, কারণ আল্লাহ তা অনুমোদন করেছেন। একই উত্তরে নারীদাসী কেনার মাধ্যমে অথবা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে মালিকানায় আসার কথাও বলা হয়েছে। [6]
“With regard to your question about it being permissible for a master to be intimate with his slave woman, the answer is that that is because Allaah has permitted it.”
এরপর সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৬ এবং আল-মাআরিজ ৭০:৩০ উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে:
“Except from their wives or (the slaves) that their right hands possess, for then, they are free from blame.”
আরও বলা হয়েছে, নারীদাসীটি মালিকের অধীনে আসতে পারে “because he has paid money to buy her or he has fought … and acquired her among the war booty.”
কোরআনের এই বিধানে নিকাহ এবং দাস-মালিকানাকে বৈধ যৌনসম্পর্কের দুটি পৃথক ভিত্তি হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে। স্ত্রী বৈধ হয় নিকাহের মাধ্যমে; নারীদাসী বৈধ হয় মিলক আল-ইয়ামিন বা মালিকানার মাধ্যমে। পরবর্তী ইসলামি ফিকহে যৌনদাসী-সংক্রান্ত বিস্তৃত আইন এই কোরআনিক বিভাজনের ওপরই নির্মিত হয়েছে।
চার স্ত্রীর সীমা
স্ত্রী এবং নারীদাসীর সংখ্যাগত পার্থক্য বোঝার কেন্দ্রীয় আয়াত সূরা আন-নিসা ৪:৩। এখানে মুসলিম পুরুষকে দুই, তিন অথবা চারজন নারীকে বিবাহ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং ন্যায়বিচার করতে না পারার আশঙ্কা থাকলে একজন স্ত্রী অথবা মালিকানাধীন দাসীর দিকে যেতে বলা হয়েছে। আয়াতের এক অংশে নিকাহের ক্ষেত্রে সংখ্যার সীমা নির্ধারিত হয়েছে; অন্য অংশে মা মালাকাত আইমানুকুম পৃথক শ্রেণি হিসেবে এসেছে। [7]
“আর যদি তোমরা ভয় কর যে, ইয়াতীমদের প্রতি তোমরা ইনসাফ করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্যে তোমাদের পছন্দমতো দুই, তিন বা চারজনকে বিয়ে কর। কিন্তু যদি ভয় কর যে, তোমরা ইনসাফ করতে পারবে না, তবে একজনকে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের (গ্রহণ কর)। এটাই অধিকতর নিকটবর্তী যে, তোমরা জুলুম করবে না।”
আল-কুরতুবী এই আয়াতের ব্যাখ্যায় জানিয়েছেন, জাহেলি যুগ এবং ইসলামের প্রাথমিক সময়ে স্বাধীন নারীদের মধ্যে ইচ্ছামতো সংখ্যক নারীকে বিবাহ করার যে ব্যবস্থা ছিল, এই আয়াত সেটিকে চারজনে সীমাবদ্ধ করে দেয়। তাঁর পরবর্তী আলোচনায় নয় বা আঠারো স্ত্রী বৈধ প্রমাণের প্রচেষ্টাও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং দুই, তিন বা চার—এই সংখ্যাগুলোর সর্বোচ্চ সীমা চার বলেই নির্ধারণ করা হয়েছে। [8] [9]
وقال الضحاك والحسن وغيرهما: إن الآية ناسخة لما كان في الجاهلية وفي أول الإسلام، من أن للرجل أن يتزوج من الحرائر ما شاء، فقصرتْهن الآية على أربع.
“দাহহাক, হাসান এবং অন্যান্যরা বলেছেন: এই আয়াত জাহেলি যুগ ও ইসলামের প্রাথমিক যুগের সেই বিধানকে রহিত করেছে, যেখানে একজন পুরুষ স্বাধীন নারীদের মধ্যে যতজন ইচ্ছা বিবাহ করতে পারত; আয়াত তাদের সংখ্যা চারজনে সীমাবদ্ধ করেছে।”
কুরতুবীর পরবর্তী আলোচনায় বলা হয়েছে: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আপনার জন্য দুই, তিন ও চারজন পর্যন্ত নারী বৈধ করেছেন।”
IslamWeb-এর ৬১৫৬৫ নম্বর ফতোয়ায় একই বিধান আরও সরাসরি ভাষায় দেওয়া হয়েছে। সেখানে আল-খিরাকীর বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে যে স্বাধীন পুরুষ চারজনের বেশি স্ত্রীকে একত্রে রাখতে পারে না। এরপর ইবন কুদামার আল-মুগনী থেকে বলা হয়েছে, এই বিধানে আলেমদের ঐকমত্য রয়েছে। পঞ্চম নারীকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করলে সেই নিকাহ বাতিল বলে গণ্য হবে। [10]
فلا يجوز للمسلم أن يجمع في عصمته أكثر من أربع نساء
“কোনো মুসলিমের জন্য তার বিবাহবন্ধনে চারজনের বেশি নারীকে একত্রে রাখা বৈধ নয়।”
قال الخرقي: وليس للحر أن يجمع بين أكثر من أربع زوجات. قال شارحه ابن قدامة في المغني: أجمع أهل العلم على هذا ولا نعلم أحدا خالفه منهم.
“আল-খিরাকী বলেছেন: স্বাধীন পুরুষ চারজনের বেশি স্ত্রীকে একত্র করতে পারে না। তাঁর ব্যাখ্যাকার ইবন কুদামা আল-মুগনী-তে বলেছেন: আলেমগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন; তাদের মধ্যে কাউকে এর বিরোধিতা করতে আমরা জানি না।”
IslamWeb-এর ১৯৭২২ নম্বর ফতোয়াতেও বলা হয়েছে যে একজন সাধারণ মুসলিম পুরুষ চারজন স্ত্রী পর্যন্ত একত্র করতে পারে, এর বেশি নয়। এই চারজনের সীমা বিবাহ বা নিকাহের সংখ্যা নির্ধারণ করে। নারীদাসীর মালিকানা বা তাসার্রি-র সংখ্যা এই সীমার অন্তর্ভুক্ত নয়। [11]
ومن أحكام الله تعالى أنه شرع للرجل أن يجمع بين أربع نسوة، ولا يزيد على ذلك باتفاق أهل العلم
“শরিয়তের বিধানগুলোর একটি হলো, একজন পুরুষ চারজন নারীকে স্ত্রী হিসেবে একত্র করতে পারে এবং আলেমদের ঐকমত্য অনুসারে এর বেশি করতে পারে না।”
সুতরাং চারজনের সংখ্যাটি ইসলামে একজন পুরুষের মোট বৈধ যৌনসঙ্গীর সংখ্যা নয়। এটি নিকাহের মাধ্যমে একই সময়ে রাখা স্ত্রীর সর্বোচ্চ সংখ্যা। নারীদাসীর ক্ষেত্রে শরিয়ত আলাদা ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যেখানে মিলক আল-ইয়ামিন যৌনসম্পর্কের স্বতন্ত্র আইনগত ভিত্তি এবং যার ওপর চারজনের এই সংখ্যাসীমা আরোপ করা হয়নি। হানাফি ফিকহের ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী এই পার্থক্যটি একই অনুচ্ছেদে পাশাপাশি রেখে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে।
ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: যত ইচ্ছা দাসী রাখা যাবে
মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের নির্দেশে হানাফি আলেমদের একটি বৃহৎ দল যে ফিকহি সংকলন প্রস্তুত করেছিলেন, সেটিই আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ বা ভারতীয় উপমহাদেশে অধিক পরিচিত ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী। গ্রন্থটির বিবাহ অধ্যায়ে যেসব নারীকে একত্র করা নিষিদ্ধ, সেই বিধান আলোচনা করতে গিয়ে প্রথমে স্বাধীন পুরুষের স্ত্রীসংখ্যা চারজনে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। ঠিক তার পরের বাক্যেই নারীদাসীর ক্ষেত্রে বিপরীত সংখ্যাগত বিধান ঘোষণা করা হয়েছে—একজন স্বাধীন পুরুষ যত সংখ্যক দাসী ইচ্ছা তাসার্রি করতে পারে, তাদের সংখ্যা যত বেশিই হোক। [12]
فإنه لا يحل للرجل أن يجمع بين أكثر من أربع نسوة
“কোনো পুরুষের জন্য চারজনের বেশি নারীকে বিবাহে একত্র করা বৈধ নয়।”
ويجوز للحر أن يتسرى من الإماء ما شاء من العدد وإن كثرن
“একজন স্বাধীন পুরুষ দাসীদের মধ্যে যত সংখ্যক ইচ্ছা তাসার্রি করতে পারে, তাদের সংখ্যা যত বেশিই হোক।”
বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত বাংলা অনুবাদেও একই বিধান সরাসরি রয়েছে। চারজনের বেশি নারীকে বিবাহে একত্র করা নিষিদ্ধ বলার পর স্বাধীন পুরুষের দাসীর সংখ্যার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে—“যত ইচ্ছা” এবং “এর সংখ্যা যত বেশী হোক”। এখানে ব্যবহৃত আরবি يتسرى বা তাসার্রি কেবল গৃহকর্মের জন্য দাসী মালিকানায় রাখাকে বোঝায় না; ফিকহি পরিভাষায় এটি মালিকানাধীন নারীদাসীকে যৌন উপপত্নী বা সুররিয়্যাহ হিসেবে গ্রহণ করাকে বোঝায়। ফলে আরবি মূল পাঠ বাংলা অনুবাদের বক্তব্যের চেয়েও নির্দিষ্টভাবে যৌনদাসীর সংখ্যাগত সীমাহীনতা প্রকাশ করে। [13]
“কোন পুরুষের জন্য চারের অধিক মহিলাকে একই সাথে নিজের বিবাহধীনে আনয়ন জায়েয নয়। … একজন আযাদ ব্যক্তি যত ইচ্ছা দাসী নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে। এর সংখ্যা যত বেশী হোক তাতে কোন অসুবিধা নেই।”

একই অনুচ্ছেদের পরবর্তী বাক্যে আরও বলা হয়েছে, একজন স্বাধীন পুরুষ চারজন স্বাধীন নারী বা দাসীকে বিবাহ করতে পারে। অর্থাৎ গ্রন্থটি দাসীকে বিয়ে করা এবং দাসীকে তাসার্রি করা—এই দুই ব্যবস্থাকেও পৃথক করেছে। দাসীকে নিকাহ করলে চার স্ত্রীর সামগ্রিক সীমা কার্যকর; কিন্তু নিজের মালিকানাধীন নারীদাসীকে তাসার্রি করার ক্ষেত্রে সেই সংখ্যা প্রযোজ্য নয়। [14]
وللحر أن يتزوج أربعا من الحرائر والإماء
“একজন স্বাধীন পুরুষ স্বাধীন নারী ও দাসীদের মধ্য থেকে চারজনকে বিবাহ করতে পারে।”
এর ঠিক আগেই বলা হয়েছে:
ويجوز للحر أن يتسرى من الإماء ما شاء من العدد وإن كثرن
“আর একজন স্বাধীন পুরুষ দাসীদের মধ্যে যত সংখ্যক ইচ্ছা তাসার্রি করতে পারে, তাদের সংখ্যা যত বেশিই হোক।”
এখানে নিকাহ এবং যৌনদাসী—দুটি ব্যবস্থার সংখ্যাগত পার্থক্য একই জায়গায় পাশাপাশি নির্ধারিত: নিকাহে সর্বোচ্চ চারজন; তাসার্রির ক্ষেত্রে যতজন ইচ্ছা, সংখ্যা যত বেশিই হোক। হানাফি ফিকহের ভাষায় নারীদাসীর সংখ্যার ওপর কোনো সর্বোচ্চ সীমা ছিল না, এবং তাসার্রি-র ক্ষেত্রেও চারজনের সীমা কার্যকর ছিল না। পরবর্তী শাফেয়ি, মালিকি ও হাম্বলি সূত্রে একই বিধান আরও সরাসরি ভাষায় পাওয়া যায়।
ইমাম শাফেয়ী: দাসীদের মধ্যে যতজন ইচ্ছা সহবাস, কিন্তু স্ত্রী সর্বোচ্চ চারজন
শাফেয়ি মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম মুহাম্মদ ইবন ইদরিস আশ-শাফেয়ীর আল-উম্ম গ্রন্থে স্ত্রী ও মালিকানাধীন নারীদাসীর সংখ্যাগত পার্থক্য সরাসরি যৌনসম্পর্কের ভাষায় নির্ধারণ করা হয়েছে। আলোচনার বিষয় ছিল মিলক আল-ইয়ামিন-এর অধীনে মা ও মেয়ের সঙ্গে যৌনসম্পর্কের বিধান। সেই প্রসঙ্গে শাফেয়ী প্রথমে বলেন, কোনো ব্যক্তি একজন নারী ও তার মেয়েকে একই সঙ্গে মালিকানায় রাখতে পারে, যদিও উভয়ের সঙ্গে যৌনসম্পর্ক করতে পারে না; একইভাবে দুই বোনকেও একই সঙ্গে মালিকানায় রাখা যায়, যদিও উভয়কে একসঙ্গে নিকাহে রাখা যায় না। এরপর তিনি স্ত্রী ও নারীদাসীর সংখ্যাগত পার্থক্য এক বাক্যে স্পষ্ট করে দেন। [15] [16]
ويطأ من الولائد ما شاء بالملك وفي وقت واحد ولا يكون له أن يجمع بين أكثر من أربع بالنكاح
“মালিকানার ভিত্তিতে সে নারীদাসীদের মধ্যে যতজনকে ইচ্ছা একই সময়ে সহবাস করতে পারে; কিন্তু নিকাহের মাধ্যমে চারজনের বেশি নারীকে একত্র করতে পারে না।”
শাফেয়ীর বক্তব্যে দুটি বিধান একই বাক্যে পাশাপাশি রয়েছে। প্রথমটি মিলক বা মালিকানার ভিত্তিতে নারীদাসীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক: “যতজনকে ইচ্ছা” এবং “একই সময়ে”। দ্বিতীয়টি নিকাহের ভিত্তিতে স্ত্রী গ্রহণ: চারজনের বেশি নয়। এখানে কেবল অসংখ্য নারীদাসী ক্রয় বা মালিকানায় রাখার কথা বলা হয়নি; আরবি ক্রিয়া يطأ সরাসরি যৌনসহবাস বোঝায়। ফলে শাফেয়ীর বিধান অনুযায়ী স্ত্রীদের মতো যৌনদাসীর ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ চারজনের কোনো সীমা ছিল—এমন দাবি সরাসরি ভুল।
এই বক্তব্য আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ শাফেয়ী একই অনুচ্ছেদে মালিকানা, নিকাহ এবং যৌনসম্পর্ককে আলাদা আইনি ধারণা হিসেবে ব্যবহার করেছেন। একজন পুরুষ মা ও মেয়েকে একই সঙ্গে মালিকানায় রাখতে পারে, কিন্তু উভয়ের সঙ্গে যৌনসম্পর্ক করতে পারে না; দুই বোনকে একই সঙ্গে মালিকানায় রাখতে পারে, কিন্তু উভয়কে একত্রে নিকাহ করতে পারে না; আবার এমন আত্মীয়তাজনিত নিষেধ না থাকা নারীদাসীদের ক্ষেত্রে যতজনকে ইচ্ছা একই সময়ে ওয়াত্ বা সহবাস করতে পারে। অর্থাৎ সংখ্যাগত সীমাহীনতা এবং নির্দিষ্ট আত্মীয়তাজনিত নিষেধ—দুটি পৃথক বিধান।
ফিকহি পরিভাষায় এই পার্থক্য অত্যন্ত নির্দিষ্ট: স্ত্রীকে যৌনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণের আইনগত ভিত্তি নিকাহ, আর নিজের নারীদাসীর ক্ষেত্রে ভিত্তি মিলক আল-ইয়ামিন। নিকাহের পথে চারজনের সংখ্যাসীমা কার্যকর; মালিকানাভিত্তিক যৌনসম্পর্কে সেই সংখ্যাসীমা নেই। শাফেয়ীর বক্তব্য তাই এই প্রবন্ধের কেন্দ্রীয় দাবির একটি প্রত্যক্ষ এবং দ্ব্যর্থহীন দলিল।
আল-কারাফী: দাসী যত কম বা বেশি হোক, স্ত্রী চারজনের বেশি নয়
মালিকি মাযহাবের প্রভাবশালী ফকিহ শিহাবুদ্দীন আহমদ ইবন ইদরিস আল-কারাফী তাঁর আনওয়ার আল-বুরূক ফি আনওয়া আল-ফুরূক, সংক্ষেপে আল-ফুরূক গ্রন্থে স্ত্রী এবং নারীদাসীর সংখ্যাগত পার্থক্য নিয়ে স্বতন্ত্র একটি ফিকহি অধ্যায় রচনা করেছেন। এটি তাঁর ১৪৪তম ফারক বা আইনগত পার্থক্য। অধ্যায়ের শিরোনামেই তিনি একদিকে দাসীদের ক্ষেত্রে যে কোনো সংখ্যাকে বৈধ বলেছেন—সংখ্যা কম হোক বা বেশি—অন্যদিকে স্ত্রীদের সংখ্যা চারজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন। [17]
الإماء يجوز الجمع بين عدد أي عدد شاء منهن كثر أو قل
“দাসীদের ক্ষেত্রে যে সংখ্যা ইচ্ছা একত্র করা বৈধ—সংখ্যা কম হোক বা বেশি।”
ويضاف لذلك التسري بما شاء
“এর সঙ্গে যতজন ইচ্ছা তাসার্রি করার সুযোগও যুক্ত হয়।”
فلذلك لم يقع العدد محصورا في جواز وطء الإماء
“এ কারণেই দাসীদের সঙ্গে সহবাসের বৈধতার ক্ষেত্রে সংখ্যা সীমাবদ্ধ করা হয়নি।”
শেষ বাক্যটি এই আলোচনার সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ। আল-কারাফী শুধু বলেছেন এমন নয় যে অসংখ্য নারীদাসী মালিকানায় রাখা যাবে; তিনি সরাসরি লিখেছেন, নারীদাসীদের সঙ্গে সহবাসের বৈধতার ক্ষেত্রে সংখ্যা সীমাবদ্ধ করা হয়নি। অর্থাৎ “দাসী যতজন ইচ্ছা রাখা যাবে, কিন্তু যৌনসম্পর্ক করা যাবে সীমিত কয়েকজনের সঙ্গে”—এমন কোনো বিভাজন তাঁর বক্তব্যে নেই। তাঁর ফিকহি সিদ্ধান্ত সরাসরি ওয়াত্ আল-ইমা, অর্থাৎ নারীদাসীর সঙ্গে যৌনসহবাসের সংখ্যার প্রশ্নে।
আল-কারাফী একই অংশে চার স্ত্রী এবং সংখ্যাসীমাহীন তাসার্রি-কে একই ব্যবস্থার দুটি দিক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী একজন পুরুষ চারজন স্ত্রীকে একত্রে রাখতে পারে এবং এর সঙ্গে “যত ইচ্ছা” নারীদাসীকে তাসার্রি করতে পারে। ফলে চারজনের সীমাকে একজন মুসলিম পুরুষের মোট বৈধ যৌনসঙ্গীর সীমা হিসেবে উপস্থাপন করা আল-কারাফীর ফিকহের সম্পূর্ণ বিপরীত। চারজন হলো স্ত্রীদের সীমা; নারীদাসীর সঙ্গে মালিকানাভিত্তিক যৌনসম্পর্কের সংখ্যা তাঁর ভাষায় মাহসুর বা সীমাবদ্ধ নয়।
আল-কারাফীর এই আলোচনায় দাসী ও স্ত্রীর সামাজিক অবস্থানের নির্মম শ্রেণিবিভাগও প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বিবাহকে মর্যাদা ও নির্বাচনের সম্পর্ক হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আর দাসত্বের ক্ষেত্রে খিদমাহ বা সেবা এবং হাওয়ান বা হীনতাকে মূল বৈশিষ্ট্য হিসেবে ধরেছেন। তাঁর ব্যাখ্যায় দাসীর সঙ্গে সহবাস এই দাসত্বভিত্তিক অধীনতার কাঠামোর মধ্যেই স্থাপিত। সেই কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়েই তিনি শেষ পর্যন্ত ঘোষণা করেছেন যে নারীদাসীর সঙ্গে সহবাসের সংখ্যাকে সীমাবদ্ধ করা হয়নি। এটি মালিকি ফিকহে যৌনদাসীর সংখ্যাগত সীমাহীনতার একটি সরাসরি দলিল।
ইবন তাইমিয়্যাহ: “যত সংখ্যক ইচ্ছা দাসী”, কিন্তু স্ত্রী চারজন
হাম্বলি ফকিহ ইবন তাইমিয়্যাহর মাজমূ‘ আল-ফাতাওয়া-তেও একই সংখ্যাগত পার্থক্য সরাসরি পাওয়া যায়। আলোচনার বিষয় ছিল দুই বোন এবং অন্যান্য নিকটাত্মীয় নারীকে মিলক আল-ইয়ামিন-এর অধীনে একত্র করা ও তাদের সঙ্গে যৌনসম্পর্কের বিধান। ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, একজন পুরুষ দুই বোনকে একই সঙ্গে মালিকানায় রাখতে পারে, কিন্তু একই সময়ে উভয়কে তাসার্রি করতে পারে না। এরপর এই আত্মীয়তাজনিত নিষেধকে সংখ্যাগত সীমার সঙ্গে তুলনা করে তিনি পরিষ্কার ভাষায় বলেন—নারীদাসীর সংখ্যার ক্ষেত্রে যতজন ইচ্ছা তাসার্রি করা যায়, অথচ স্ত্রী কেবল চারজন পর্যন্ত। [18]
ويجوز له أن يملكهما لكن ليس له أن يتسراهما
“সে উভয়কে মালিকানায় রাখতে পারে, কিন্তু উভয়কে তাসার্রি করতে পারে না।”
فإن له أن يتسرى ما شاء من العدد ولا يتزوج إلا بأربع
“সংখ্যার ক্ষেত্রে সে যতজন ইচ্ছা তাসার্রি করতে পারে, কিন্তু চারজনের বেশি স্ত্রীকে বিয়ে করতে পারে না।”
ইবন তাইমিয়্যাহ এখানে ما شاء من العدد—“সংখ্যার মধ্যে যতজন ইচ্ছা”—শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন। এটি কেবল মালিকানাধীন দাসীর মোট সংখ্যা সম্পর্কে নয়; ক্রিয়া يتسرى সরাসরি নারীদাসীকে যৌন উপপত্নী হিসেবে গ্রহণ করার অর্থ বহন করে। একই বাক্যে তিনি এর বিপরীতে ولا يتزوج إلا بأربع—“চারজনের বেশি বিবাহ করতে পারে না”—বলেছেন। ফলে তাঁর বক্তব্যে নিকাহ এবং তাসার্রির সংখ্যাগত বিধান একই বাক্যে পৃথক করা হয়েছে: স্ত্রী সর্বোচ্চ চারজন, তাসার্রির সংখ্যা অনির্ধারিত।
এই আলোচনার প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ। ইবন তাইমিয়্যাহ দুই ধরনের নিষেধকে আলাদা করেছেন। একদিকে আছে তাহরীম আল-আদাদ বা সংখ্যাগত নিষেধ—নিকাহে চারজনের বেশি স্ত্রী রাখা যাবে না। অন্যদিকে আছে নির্দিষ্ট আত্মীয়তার কারণে একত্রে যৌনসম্পর্কের নিষেধ—যেমন দুই বোন, কোনো নারীদাসী ও তার ফুফু, অথবা কোনো নারীদাসী ও তার খালা। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে আত্মীয়তাজনিত এই নিষেধ থাকার অর্থ নারীদাসীর মোট যৌনসংখ্যা সীমাবদ্ধ হওয়া নয়। সংখ্যা নিয়ে তাঁর বিধান আলাদা: যতজন ইচ্ছা তাসার্রি করা যায়।
ইবন তাইমিয়্যাহর এই বক্তব্য শাফেয়ী ও আল-কারাফীর বক্তব্যের সঙ্গে একই ফিকহি কাঠামোয় দাঁড়ায়। শাফেয়ী বলেছেন, মালিকানার ভিত্তিতে যতজন নারীদাসী ইচ্ছা একই সময়ে সহবাস করা যায়; আল-কারাফী বলেছেন, নারীদাসীর সঙ্গে সহবাসের বৈধতার ক্ষেত্রে সংখ্যা সীমাবদ্ধ নয়; ইবন তাইমিয়্যাহ বলেছেন, সংখ্যার ক্ষেত্রে যতজন ইচ্ছা তাসার্রি করা যায়, অথচ স্ত্রী কেবল চারজন। ভিন্ন মাযহাবের এই তিনটি সূত্র একই সিদ্ধান্ত দেয়—চারজনের সীমা স্ত্রীদের জন্য; যৌনদাসীর সংখ্যার জন্য নয়।
আবদুর রহমান আস-সা‘দী: “মালিকানাধীন দাসীদের মধ্যে যতজন ইচ্ছা”
বিংশ শতাব্দীর প্রভাবশালী সালাফি মুফাসসির ও ফকিহ আবদুর রহমান ইবন নাসির আস-সা‘দী তাঁর মানহাজ আস-সালিকীন ওয়া তাওদীহ আল-ফিকহ ফিদ্দীন গ্রন্থে স্ত্রী ও মালিকানাধীন নারীদাসীর সংখ্যাগত পার্থক্য অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিন্তু দ্ব্যর্থহীন ভাষায় লিখেছেন। বিবাহে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ নারীদের বিধান আলোচনা করতে গিয়ে ৫১৯ নম্বর মাসআলায় তিনি একজন স্বাধীন পুরুষের জন্য একই সময়ে চারজনের বেশি স্ত্রী রাখা নিষিদ্ধ করেছেন। ঠিক পরের ৫২০ নম্বর মাসআলায় মিলক আল-ইয়ামিন-এর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন বিধান দিয়েছেন—মালিক তার নারীদাসীদের মধ্যে যতজনকে ইচ্ছা সহবাস করতে পারে। [19]
٥١٩- ولا يجوزُ أن يجمعَ أكثرَ من أربعٍ، ولا للعبدِ أن يجمعَ أكثرَ من زوجتين.
“৫১৯—একজন স্বাধীন পুরুষের জন্য চারজনের বেশি [স্ত্রী] একত্র করা বৈধ নয়; আর একজন দাসের জন্য দুইজনের বেশি স্ত্রী একত্র করা বৈধ নয়।”
٥٢٠- وأما ملكُ اليمينِ، فله أن يطأ ما شاء.
“৫২০—কিন্তু মালিকানাধীন দাসীর ক্ষেত্রে সে যতজনকে ইচ্ছা সহবাস করতে পারে।”
এখানে দুটি পরপর মাসআলার ভাষাই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ৫১৯ নম্বর মাসআলায় ব্যবহৃত হয়েছে يجمع أكثر من أربع—চারজনের বেশি স্ত্রী একত্র করা যাবে না। কিন্তু ৫২০ নম্বর মাসআলায় নারীদাসীর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে يطأ ما شاء—“যতজনকে ইচ্ছা সহবাস করতে পারে।” আরবি وطء শব্দটি ফিকহের যৌনবিধানে সরাসরি যৌনসহবাস বোঝায়। ফলে আস-সা‘দীর বক্তব্য কেবল অসংখ্য দাসী মালিকানায় রাখার অনুমতি নয়; এটি মালিকানাধীন নারীদাসীদের সঙ্গে সহবাসের সংখ্যার ওপর চারজনের সীমা না থাকার সরাসরি ঘোষণা।
আস-সা‘দীর এই দুই মাসআলা পাশাপাশি পড়লে ইসলামী আইনের সংখ্যাগত বিভাজন অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে ওঠে: নিকাহে একজন স্বাধীন পুরুষ সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রী; কিন্তু মিলক আল-ইয়ামিন-এর অধীনে নারীদাসীদের মধ্যে যতজনকে ইচ্ছা সহবাস করা যায়। একই বিধান এর আগে হানাফি ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী, শাফেয়ীর আল-উম্ম, মালিকি আল-কারাফীর আল-ফুরূক এবং হাম্বলি ইবন তাইমিয়্যাহর মাজমূ‘ আল-ফাতাওয়া-তে পাওয়া গেছে। অর্থাৎ বিভিন্ন যুগ ও বিভিন্ন ফিকহি ধারায় স্ত্রী ও যৌনদাসীর সংখ্যাগত ব্যবধান একইভাবে বজায় রয়েছে।
IslamWeb: চার স্ত্রী সীমিত, দাসীর সংখ্যায় কোনো সীমা নেই
ধ্রুপদী ফিকহের এই বিধান সমসাময়িক ইসলামি ফতোয়া-সাইট IslamWeb-এও সরাসরি স্বীকৃত। ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল প্রকাশিত ৪৫৭৩১৫ নম্বর ফতোয়ার শিরোনাম “حكمة تقييد الزوجات بالأربع، دون الإماء”—অর্থাৎ “স্ত্রীদের চারজনে সীমিত করা, কিন্তু দাসীদের সীমিত না করার হিকমত।” প্রশ্নকারী অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় জানতে চেয়েছেন, বিবাহ যখন চারজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ, তখন কোনো সংখ্যাগত সীমা ছাড়াই নারীদাসী মালিকানার অনুমতি কেন রয়েছে। IslamWeb-এর উত্তরেও মিলক আল-ইয়ামিন-এর ক্ষেত্রে এই সংখ্যাগত সীমা না থাকার বিষয়টি সরাসরি গ্রহণ করা হয়েছে। [20]
السؤال:
ما الحكمة في تقييد الله -عز وجل- الزواج بأربعة فقط دون زيادة، مع السماح بامتلاك الإماء بدون تقييد أي عدد؟
“প্রশ্ন: আল্লাহ বিবাহকে অতিরিক্ত না করে কেবল চারজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন, অথচ কোনো সংখ্যাগত সীমা ছাড়াই দাসী মালিকানার অনুমতি দিয়েছেন—এর কারণ কী?”
الإجابة:
وأما عدم هذا التقييد في ملك اليمين…
“আর মিলক আল-ইয়ামিন-এর ক্ষেত্রে এই সীমাবদ্ধতা না থাকার বিষয়টি…”
IslamWeb-এর উত্তরটির তাৎপর্য এখানেই: তারা প্রশ্নের ভিত্তিগত বক্তব্য—দাসীর ক্ষেত্রে চারজন বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যাসীমা নেই—প্রত্যাখ্যান করেনি। বরং উত্তরের দ্বিতীয় অংশ শুরুই করেছে “মিলক আল-ইয়ামিনের ক্ষেত্রে এই সীমাবদ্ধতা না থাকা” কথাটি দিয়ে। অর্থাৎ চার স্ত্রীর সংখ্যাসীমা এবং সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয় এমন দাস-মালিকানা তাদের ফতোয়ার স্বীকৃত ফিকহি ভিত্তি। [21]
IslamWeb একই উত্তরে ইবন আল-আত্তারের শরহ আল-উমদাহ থেকে স্ত্রী ও দাসীর আইনি পার্থক্যও উদ্ধৃত করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, স্ত্রীর ক্ষেত্রে বিবাহের উদ্দেশ্য যৌনসম্পর্ককেন্দ্রিক; কিন্তু দাসীর মালিকানা কেবল যৌনসম্পর্কের জন্য সীমাবদ্ধ নয় এবং মালিক তার দাসীর বিভিন্ন ধরনের উপযোগ ভোগ করতে পারে। এই কারণেই নিকাহ এবং দাস-মালিকানাকে একই আইনগত শ্রেণিতে রাখা হয়নি। [22]
قال أصحاب الشافعي: والفرق بين الزوجة والأمة: أن الزوجة تراد للوطء خاصة … بخلاف الأمة؛ فإنها تراد لملك الرقبة، وأنواع المنافع غير الوطء.
“শাফেয়ি আলেমগণ বলেছেন: স্ত্রী ও দাসীর মধ্যে পার্থক্য হলো—স্ত্রীকে বিশেষভাবে যৌনসম্পর্কের জন্য গ্রহণ করা হয় … কিন্তু দাসীর বিষয়টি ভিন্ন; তাকে দেহের মালিকানা এবং যৌনসম্পর্ক ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের উপকার লাভের জন্য মালিকানায় নেওয়া হয়।”
এই ফতোয়া আধুনিক IslamWeb-এর অবস্থানকে ধ্রুপদী ফিকহের পূর্ববর্তী সূত্রগুলোর সঙ্গে যুক্ত করে। চার স্ত্রী একটি নির্ধারিত নিকাহ-সীমা; নারীদাসীর মালিকানার ক্ষেত্রে সেই সংখ্যাসীমা নেই। আর পূর্ববর্তী শাফেয়ী, আল-কারাফী, ইবন তাইমিয়্যাহ ও আস-সা‘দীর সরাসরি বক্তব্য থেকে ইতিমধ্যেই দেখা গেছে যে শরঈভাবে সহবাসযোগ্য নারীদাসীদের সঙ্গে যৌনসম্পর্কের সংখ্যার ওপরও চারজনের অনুরূপ কোনো সীমা আরোপ করা হয়নি।
IslamQA: নারীদাসীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক আল্লাহ বৈধ করেছেন
IslamQA-র ১৩৭৩৭ নম্বর ফতোয়ায় নারীদাসী বা উপপত্নী রাখার বৈধতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল: “উপপত্নী রাখা হারাম নয় কেন?” এবং “অন্য মুসলিমরাও কি উপপত্নী রাখতে পারে?” উত্তরে IslamQA কোনো ঘুরপথ নেয়নি। তারা সরাসরি বলেছে, মালিকের জন্য নিজের নারীদাসীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক বৈধ, কারণ “আল্লাহ তা বৈধ করেছেন।” এরপর প্রমাণ হিসেবে সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৫–৬ এবং সূরা আল-মাআরিজ ৭০:২৯–৩০ উদ্ধৃত করা হয়েছে, যেখানে স্ত্রী এবং ডান হাতের মালিকানাধীন নারীকে বৈধ যৌনসম্পর্কের দুটি শ্রেণি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। [23]
“With regard to your question about it being permissible for a master to be intimate with his slave woman, the answer is that that is because Allaah has permitted it.”
“একজন মালিকের জন্য তার নারীদাসীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক বৈধ হওয়ার বিষয়ে আপনার প্রশ্নের উত্তর হলো—আল্লাহ তা বৈধ করেছেন।”
“Except from their wives or (the slaves) that their right hands possess, for then, they are free from blame.”
“তাদের স্ত্রী অথবা তাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে, তারা ব্যতীত; তাদের ক্ষেত্রে তারা নিন্দিত নয়।”
—সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৬; সূরা আল-মাআরিজ ৭০:৩০
একই ফতোয়ায় IslamQA নারীদাসী কীভাবে মালিকানায় আসতে পারে সেটিও বলেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো নারীকে অর্থ দিয়ে ক্রয় করার মাধ্যমে অথবা মুসলিমদের যুদ্ধলব্ধ সম্পদের অংশ হিসেবে পাওয়ার মাধ্যমে তার ওপর দাস-মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। অর্থাৎ ফতোয়াটি শুধু কোনো বিমূর্ত ঐতিহাসিক দাসত্বের কথা বলছে না; মালিকানা প্রতিষ্ঠার পর সেই মালিকানাকে যৌনসম্পর্কের বৈধতার আইনগত ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। [24]
“This slave woman belongs to him, either because he has paid money to buy her or he has fought … and acquired her among the war booty.”
“এই নারীদাসী তার মালিকানাধীন—হয় সে অর্থ দিয়ে তাকে কিনেছে, অথবা যুদ্ধ করে যুদ্ধলব্ধ সম্পদের অংশ হিসেবে তাকে অর্জন করেছে।”
IslamQA-র আরেকটি ফতোয়া আরও সরাসরি বলেছে, নিজের মালিকানাধীন নারীদাসীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক যিনা নয়। ২০৮০২ নম্বর উত্তরে তারা সূরা আল-মুমিনূন উদ্ধৃত করে লিখেছে—আল্লাহ পুরুষকে তার নিজের নারীদাসীর সঙ্গে যৌনসম্পর্কের অনুমতি দিয়েছেন এবং “ডান হাতের মালিকানাধীন” বলতে নারীদাসী বা উপপত্নীকেই বোঝানো হয়েছে। [25]
“Allah has permitted intimacy with a slave woman if the man owns her. This is not regarded as adultery.”
“কোনো পুরুষ নারীদাসীটির মালিক হলে আল্লাহ তার সঙ্গে যৌনসম্পর্ক বৈধ করেছেন। এটিকে যিনা হিসেবে গণ্য করা হয় না।”
“What is meant by ‘those whom their right hands possess’ is slave women or concubines.”
“‘তাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে’ বলতে নারীদাসী বা উপপত্নীদের বোঝানো হয়েছে।”
স্ত্রী ও নারীদাসীর অধিকারের পার্থক্য IslamQA-র ১০২৪৪৬ নম্বর ফতোয়ায় আরও স্পষ্ট। সেখানে সূরা আন-নিসা ৪:৩ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আবদুর রহমান আস-সা‘দীর তাফসীর উদ্ধৃত করা হয়েছে। আস-সা‘দীর ব্যাখ্যায় একজন পুরুষ দুই, তিন বা চারজন স্ত্রী নিতে পারে, কিন্তু চারজনের বেশি নয়। এরপর বলা হয়েছে, স্ত্রীদের মতো নারীদাসীদের মধ্যে পালাক্রমে সমান সময় বণ্টন করা মালিকের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। [26]
“The one who wants to take two or three or four wives may do so, but no more than that.”
“যে ব্যক্তি দুই, তিন বা চারজন স্ত্রী গ্রহণ করতে চায়, সে তা করতে পারে; কিন্তু এর বেশি নয়।”
“Then he should limit himself to one, or to slaves that his right hand possesses, because he is not obliged to divide his time equally when it comes to slave women.”
“তাহলে সে একজন স্ত্রী অথবা তার ডান হাতের মালিকানাধীন নারীদাসীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে; কারণ নারীদাসীদের ক্ষেত্রে সমানভাবে সময় বণ্টন করা তার জন্য বাধ্যতামূলক নয়।”
এই ফতোয়াগুলোতে ব্যবস্থাটির আইনি কাঠামো স্পষ্ট: নিকাহের স্ত্রী এবং মালিকানাধীন নারীদাসী একই শ্রেণি নয়; স্ত্রীর সংখ্যা চারজনে সীমিত, নারীদাসীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক নিকাহ ছাড়াই মালিকানার ভিত্তিতে বৈধ, এবং স্ত্রীদের জন্য প্রযোজ্য সমান পালা বণ্টনের অধিকারও নারীদাসীর ছিল না। ধ্রুপদী ফিকহে যে পৃথক যৌনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, IslamQA-র সমসাময়িক ফতোয়াগুলো সেই ব্যবস্থাকেই সরাসরি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বিবাহিত যুদ্ধবন্দিনীও মালিকের জন্য যৌনভাবে বৈধ হতে পারত
মালিকানাভিত্তিক যৌনসম্পর্কের ব্যাপ্তি বোঝার জন্য সূরা আন-নিসা ৪:২৪ একটি কেন্দ্রীয় দলিল। আয়াতটিতে বিবাহিত নারীদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর সরাসরি ব্যতিক্রম করা হয়েছে “মা মালাকাত আইমানুকুম”—“তোমাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে” নারীদের। অর্থাৎ সাধারণ অবস্থায় অন্য পুরুষের বিবাহিত স্ত্রী যৌনসম্পর্কের জন্য নিষিদ্ধ হলেও যুদ্ধবন্দিত্বের মাধ্যমে মালিকানাধীন নারী সেই সাধারণ নিষেধের বাইরে চলে যেত। সংশয়ের ইসলাম তথ্যভাণ্ডারে প্রকাশিত আবু বকর যাকারিয়ার তাফসীরে আয়াতটির ব্যাখ্যায় সরাসরি বলা হয়েছে, যুদ্ধে বন্দী অমুসলিম নারীরা মুসলিমদের মালিকানায় এলে তাদের সঙ্গে বিয়ে ছাড়াই যৌনসম্পর্ক বৈধ করা হয়েছিল। [27]
“তখন তাদেরকে মুসলিমদের জন্য বিয়ে ছাড়াই হালাল করা হয়েছে।”
একই তাফসীরে আরও বলা হয়েছে, বন্দিনী নারী গর্ভবতী নয় তা নিশ্চিত করার জন্য অন্তত একটি ঋতুস্রাব পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে; গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসবের আগে সহবাস করা যাবে না।
এই আয়াতের সঙ্গে আওতাসের যুদ্ধের ঘটনাটি সরাসরি যুক্ত করেছে সহিহ মুসলিম ১৪৫৬। আবু সাঈদ আল-খুদরীর বর্ণনায় মুহাম্মদ হুনাইনের যুদ্ধের সময় আওতাসে একটি বাহিনী পাঠান। মুসলিম বাহিনী শত্রুদের পরাজিত করে তাদের নারীদের বন্দী করে। সেই বন্দিনীদের স্বামীরা তখনও জীবিত ছিল এবং মুশরিকদের মধ্যে ছিল। এই স্বামীদের কারণে মুহাম্মদের কিছু সাহাবি বন্দিনী নারীদের সঙ্গে যৌনসম্পর্ক করতে ইতস্তত করছিলেন। তখন সূরা আন-নিসা ৪:২৪-এর “বিবাহিত নারীরা নিষিদ্ধ, তোমাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে তারা ব্যতীত” অংশটি নাযিল হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। [28]
فَكَأَنَّ نَاسًا … تَحَرَّجُوا مِنْ غِشْيَانِهِنَّ مِنْ أَجْلِ أَزْوَاجِهِنَّ
অর্থাৎ, তাদের স্বামী থাকার কারণে সাহাবিদের একটি দল বন্দিনী নারীদের সঙ্গে যৌনসম্পর্ক করতে সংকোচ বোধ করেছিল।
এরপর নাযিল হওয়ার কথা বলা হয়েছে:
وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ
“বিবাহিত নারীরা—তোমাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে তারা ব্যতীত।”
সহিহ মুসলিমের এই হাদিসগুলোর অধ্যায়ের শিরোনাম বিধানটিকে আরও সরাসরি ভাষায় প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছে, বন্দিনী নারী গর্ভবতী নয় তা নিশ্চিত হওয়ার পর তার সঙ্গে যৌনসম্পর্ক বৈধ; আর তার স্বামী থাকলেও বন্দিত্বের মাধ্যমে সেই বিবাহ ভেঙে যায়। এটি কেবল আয়াতের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা নয়; সহিহ মুসলিমের হাদিসের ঘটনাতেই স্বামী থাকা বন্দিনী নারীদের সঙ্গে যৌনসম্পর্কের প্রশ্ন এবং সূরা আন-নিসা ৪:২৪-এর ব্যতিক্রম পাশাপাশি এসেছে। [29]
باب جواز وطء المسبية بعد الاستبراء وإن كان لها زوج انفسخ نكاحها بالسبي
“ইস্তিবরার পর বন্দিনী নারীর সঙ্গে সহবাস বৈধ; তার স্বামী থাকলেও বন্দিত্বের মাধ্যমে তার বিবাহ ভেঙে যায়।”
IslamWeb-এর ১৫৫১২ নম্বর ফতোয়ায় সূরা আন-নিসা ৪:২৪-এর ব্যাখ্যায় একই সিদ্ধান্ত আরও স্পষ্টভাবে লেখা হয়েছে। সেখানে মুহসানাত বলতে এই আয়াতে বিবাহিত নারী বোঝানো হয়েছে এবং বলা হয়েছে, বিবাহিত নারী যুদ্ধবন্দিনী হয়ে মিলক আল-ইয়ামিন-এ পরিণত হলে তার পূর্ববর্তী বিবাহ বন্দিত্বের কারণেই ভেঙে যায়। এরপর ইস্তিবরা সম্পন্ন হলে মালিক তার সঙ্গে যৌনসম্পর্ক করতে পারে। [30]
فعقد الزوجية ينهدم بمجرد سبيها، ولكن لا توطأ إلا إذا استبرئت
“তাকে বন্দী করার মাধ্যমেই বৈবাহিক বন্ধন ভেঙে যায়; ইস্তিবরা সম্পন্ন হওয়ার পরই তার সঙ্গে সহবাস করা হবে।”
তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর-এ সূরা আন-নিসা ৪:২৪-এর অধীনে এই ঘটনার আরও একাধিক বর্ণনা সংকলিত হয়েছে। একটি বর্ণনায় বন্দিনী নারী তার সঙ্গে যৌনসম্পর্ক করতে আসা মুসলিম পুরুষকে বলছিল, “আমার স্বামী আছে।” বিষয়টি মুহাম্মদের কাছে জানানো হলে সংশ্লিষ্ট আয়াত নাযিল হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্য বর্ণনায় ইবন আব্বাসের নামে সরাসরি বলা হয়েছে, বিবাহিত নারীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক ব্যভিচার—যুদ্ধবন্দিনী নারী ছাড়া। আরও একটি বর্ণনায় বলা হয়েছে, দারুল হারবে তার স্বামী জীবিত থাকলেও মুসলিমের মালিকানায় আসা বন্দিনী নারী ইস্তিবরার পর মালিকের জন্য হালাল। [31]
“যখন কোনো ব্যক্তি কোনো নারীর সাথে মিলিত হতে চাইত, সে বলত: ‘আমার স্বামী আছে।’”
আরেক বর্ণনার সারকথা: বিবাহিত নারী নিষিদ্ধ, কিন্তু যুদ্ধবন্দিত্বের মাধ্যমে মালিকানায় আসা নারী সেই নিষেধের ব্যতিক্রম।
এই সূত্রগুলো একই আইনগত কাঠামো দেখায়: শত্রুপক্ষের বিবাহিত নারী বন্দী হয়ে মুসলিম মালিকানায় এলে তার জীবিত স্বামীর বৈবাহিক অধিকার শরিয়তে টিকে থাকত না। বন্দিত্ব পূর্ববর্তী বিবাহ ভেঙে দিত এবং ইস্তিবরা সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন মালিক তার সঙ্গে নিকাহ ছাড়াই যৌনসম্পর্ক করতে পারত। সূরা আন-নিসা ৪:২৪-এর “মা মালাকাত আইমানুকুম” ব্যতিক্রমটি এই ব্যবস্থার কোরআনিক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
“সংখ্যার সীমা নেই”—এর ফিকহি অর্থ
নারীদাসীর ক্ষেত্রে সংখ্যার সীমা না থাকার বিধানটি ধ্রুপদী ফিকহে কেবল তাত্ত্বিকভাবে বলা হয়নি; ফকিহরা এমন উদাহরণও দিয়েছেন যেখানে একজন পুরুষের শত বা সহস্র যৌনদাসী থাকার সম্ভাবনাকে সরাসরি বৈধ কাঠামোর মধ্যে ধরা হয়েছে। হানাফি ফকিহ ইবন আবিদীনের রদ্দুল মুহতার আলাদ দুররিল মুখতার-এ স্ত্রী ও দাসীর সংখ্যাগত পার্থক্য আলোচনা করতে গিয়ে প্রথমে বলা হয়েছে, একজন স্বাধীন পুরুষ সর্বোচ্চ চারজন নারীকে নিকাহে রাখতে পারে। পরের বাক্যেই বলা হয়েছে, নারীদাসীদের মধ্যে যতজন ইচ্ছা তাসার্রি করা যায়। এরপর উদাহরণ হিসেবে এমন ব্যক্তির কথা এসেছে যার ইতিমধ্যেই চারজন স্ত্রী এবং এক হাজার সুররিয়াহ রয়েছে, তবু সে আরেকজন নারীদাসী কিনতে চায়। [32]
وله التسري بما شاء من الإماء
“নারীদাসীদের মধ্যে যতজন ইচ্ছা সে তাসার্রি করতে পারে।”
فلو له أربع وألف سرية وأراد شراء أخرى
“যদি তার চারজন স্ত্রী ও এক হাজার সুররিয়াহ থাকে এবং সে আরেকজন কিনতে চায়…”
এই উদ্ধৃতির পর “এক হাজার দাসী”কে কেবল অলঙ্কারিক উদাহরণ বা আধুনিক সমালোচকের অতিরঞ্জন বলার সুযোগ নেই। হানাফি ফিকহের নিজস্ব আলোচনাতেই চার স্ত্রী ও এক হাজার সুররিয়াহ থাকা পুরুষকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং তার আরও একজন দাসী কেনার ইচ্ছাকেও বৈধ তাসার্রি-র কাঠামোর মধ্যেই রাখা হয়েছে। সংখ্যাগতভাবে চার, দশ, একশ, এক হাজার কিংবা তারও বেশি—কোনো নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়নি।
ইবন তাইমিয়্যাহ একই নীতিকে আরও সংক্ষিপ্ত ভাষায় প্রকাশ করেছেন। তাঁর মাজমূ‘ আল-ফাতাওয়া-তে স্ত্রী ও নারীদাসীর সংখ্যাগত বিধানকে একই বাক্যে তুলনা করে বলা হয়েছে, সংখ্যার ক্ষেত্রে যতজন ইচ্ছা নারীদাসীকে তাসার্রি করা যায়, অথচ নিকাহের ক্ষেত্রে চারজনের বেশি স্ত্রী রাখা যায় না। [33]
فإن له أن يتسرى ما شاء من العدد ولا يتزوج إلا بأربع
“সংখ্যার ক্ষেত্রে সে যতজন ইচ্ছা তাসার্রি করতে পারে; কিন্তু চারজনের বেশি স্ত্রীকে বিয়ে করতে পারে না।”
এই সংখ্যাগত সীমাহীনতার পাশাপাশি নির্দিষ্ট যৌন-নিষেধ পৃথকভাবে কার্যকর ছিল। নিকট রক্তসম্পর্ক বা দুধসম্পর্কের নারীকে তাসার্রি করা যেত না; একই সময়ে দুই বোন, কোনো নারী ও তার ফুফু, অথবা কোনো নারী ও তার খালাকে যৌনসম্পর্কের অধীনে রাখা যেত না। নিজের দাসীকে অন্য পুরুষের সঙ্গে বিবাহ দিলে সেই বিবাহ কার্যকর থাকা অবস্থায় মালিক তার সঙ্গে যৌনসম্পর্ক করতে পারত না। নতুন মালিকানায় আসা নারীদাসীর ক্ষেত্রে ইস্তিবরার বিধানও কার্যকর ছিল। এগুলো নির্দিষ্ট নারীর সঙ্গে যৌনসম্পর্কের প্রতিবন্ধকতা; নারীদাসীর মোট সংখ্যা বা শরঈভাবে সহবাসযোগ্য নারীদাসীর মোট সংখ্যার সর্বোচ্চ সীমা নয়। [34]
فليس له أن يتسرى الأختين ولا الأمة وعمتها والأمة وخالتها
“দুই বোন, অথবা দাসী ও তার ফুফু, অথবা দাসী ও তার খালা—উভয়কে একসঙ্গে তাসার্রি করা যাবে না।”
ফিকহি বিধানটি তাই সরল: সংখ্যার ওপর কোনো সর্বোচ্চ সীমা নেই; নিষেধ নির্ধারিত হয় নির্দিষ্ট নারীর আইনি অবস্থান ও সম্পর্কের ভিত্তিতে। একজন পুরুষের এক হাজার সুররিয়াহ থাকা সংখ্যার কারণে অবৈধ নয়—রদ্দুল মুহতার নিজেই সেই সংখ্যা ব্যবহার করেছে। শরঈ প্রতিবন্ধকতা না থাকা অবস্থায় আরও নারীদাসী অর্জন বা তাসার্রি করার পথও সংখ্যার কারণে বন্ধ হয়ে যায় না।
স্ত্রী ও দাসীর আইনি বৈষম্য
ইসলামী যৌন আইনে স্ত্রী এবং মালিকানাধীন নারীদাসী একই আইনি অবস্থানের নারী ছিল না। স্ত্রীর সঙ্গে যৌনসম্পর্কের ভিত্তি ছিল নিকাহ; নিজের নারীদাসীর সঙ্গে যৌনসম্পর্কের ভিত্তি ছিল মিলক আল-ইয়ামিন বা মালিকানা। নিজের মালিকানাধীন নারীদাসীর সঙ্গে যৌনসম্পর্কের জন্য তাকে বিয়ে করার প্রয়োজন ছিল না। বরং ধ্রুপদী ফিকহে মালিক নিজের দাসীকে বিয়ে করতে পারে না বলেই বিধান দেওয়া হয়েছে, কারণ মালিকানা নিজেই যৌনসম্পর্কের অধিকার সৃষ্টি করে। IslamQA-র ১২৮১৬০ নম্বর ফতোয়ায় ইবন কুদামার আল-মুগনী উদ্ধৃত করে এই আইনি পার্থক্য অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। [35]
“The contract of ownership is stronger than the contract of marriage.”
“মালিকানার চুক্তি বিবাহের চুক্তির চেয়ে শক্তিশালী।”
ইবন কুদামার বক্তব্যের সারকথা: মালিকানা মালিককে দাসীর উপযোগ ভোগ এবং তার সঙ্গে যৌনসম্পর্কের অধিকার দেয়।
এই আইনি বিভাজনের সরাসরি ফল দেখা যায় সংখ্যার ক্ষেত্রে। স্ত্রী সর্বোচ্চ চারজন; নারীদাসীর ক্ষেত্রে এই সীমা নেই। এর আরেকটি ফল ছিল স্ত্রীদের মধ্যে পালাক্রমে সময় বণ্টনের বাধ্যবাধকতা, যা নারীদাসীদের ক্ষেত্রে কার্যকর ছিল না। IslamQA সূরা আন-নিসা ৪:৩-এর ব্যাখ্যায় আস-সা‘দীর তাফসীর উদ্ধৃত করে সরাসরি বলেছে, একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সময় সমানভাবে ভাগ করতে হয়, কিন্তু নারীদাসীর ক্ষেত্রে মালিক এমন সমবণ্টনে বাধ্য নয়। [36]
“He is not obliged to divide his time equally when it comes to slave women.”
“নারীদাসীদের ক্ষেত্রে তার সময় সমানভাবে বণ্টন করা বাধ্যতামূলক নয়।”
মালিকি ফকিহ আল-কারাফীর ব্যাখ্যায় এই শ্রেণিগত পার্থক্য আরও নগ্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে। স্ত্রী ও নারীদাসীর সংখ্যাগত বিধান কেন পৃথক—তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বিবাহকে সম্মান, নির্বাচন ও যৌনভাবে বিশেষায়িত সম্পর্ক হিসেবে বর্ণনা করেছেন; বিপরীতে দাসীর ক্ষেত্রে সেবা ও দাসত্বজনিত হীন অবস্থানকে মূল বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী দাসীর ক্ষেত্রে সেবাই মূল, যৌনসম্পর্ক তার সঙ্গে যুক্ত আরেকটি মালিকানাগত ব্যবহার; এই কাঠামোর কারণেই নারীদাসীর সঙ্গে যৌনসম্পর্কের সংখ্যাকে সীমাবদ্ধ করা হয়নি। [37]
الزواج مبني على العز والاصطفاء والإعزاز … عكس باب الإماء الخدمة أصل
“বিবাহ সম্মান, নির্বাচন ও মর্যাদার ওপর প্রতিষ্ঠিত … দাসীদের ক্ষেত্রে এর বিপরীতে সেবাই মূল।”
فلذلك لم يقع العدد محصورا في جواز وطء الإماء
“এ কারণেই নারীদাসীদের সঙ্গে সহবাসের বৈধতায় সংখ্যাকে সীমাবদ্ধ করা হয়নি।”
ফলে স্ত্রী ও নারীদাসীর পার্থক্য কেবল নামের পার্থক্য ছিল না; এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন আইনগত অবস্থান। স্ত্রী নিকাহের অধীনে স্বাধীন নারী এবং তার সঙ্গে সম্পর্ক বিবাহের বিধানে নিয়ন্ত্রিত। নারীদাসী মালিকানার অধীনে থাকা নারী এবং তার সঙ্গে যৌনসম্পর্কের বৈধতা নিকাহ নয়, মালিকানার ওপর প্রতিষ্ঠিত। স্ত্রীদের সংখ্যায় চারজনের সীমা এবং পালাক্রমে সময় বণ্টনের অধিকার ছিল; নারীদাসীর যৌনসংখ্যায় সেই সীমা এবং সেই সমবণ্টনের অধিকার ছিল না। নিজের দাসীর সঙ্গে সহবাসের জন্য মোহর দিয়ে নতুন নিকাহও প্রয়োজন হতো না। এই বৈষম্য ইসলামী ফিকহের বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রম নয়; স্ত্রী ও মিলক আল-ইয়ামিন-কে দুটি পৃথক বৈধ যৌনশ্রেণি হিসেবে নির্মাণ করার প্রত্যক্ষ ফল।
আইনি কাঠামোটি তাই পরিষ্কার: একদিকে নিকাহের স্ত্রী—সর্বোচ্চ চারজন এবং দাম্পত্য পালার বিধানসহ; অন্যদিকে মালিকানাধীন নারীদাসী—নিকাহ ছাড়াই যৌনসম্পর্ক, স্ত্রীদের মতো পালার অধিকার ছাড়া এবং সংখ্যাগতভাবে চারজনের সীমার বাইরে। ধ্রুপদী ফিকহে পুরুষের যৌনসম্পর্কের বৈধতা নির্ধারণে নারীটি স্বাধীন স্ত্রী নাকি তার মালিকানাধীন দাসী—এই আইনি অবস্থানই সম্পূর্ণ ভিন্ন বিধান সৃষ্টি করত।
সমসাময়িক ইসলামি বক্তাদের বক্তব্য
ধ্রুপদী ফিকহে স্ত্রী ও নারীদাসীর সংখ্যাগত পার্থক্য যে স্পষ্টভাবে স্বীকৃত ছিল, সমসাময়িক ইসলামি বক্তাদের বক্তব্যেও সেই একই বিধান পুনরাবৃত্ত হতে দেখা যায়। নিচের আলোচনাগুলোতে চার স্ত্রী, নারীদাসী, মিলক আল-ইয়ামিন এবং দাসীর সঙ্গে যৌনসম্পর্কের বিধান নিয়ে সরাসরি আলোচনা করা হয়েছে।
কানাডীয় ইসলামি বক্তা শাবির আলী (Shabir Ally)-কেও ইসলামে উপপত্নী বা নারীদাসী রাখার বিধান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল। আলোচনায় তিনি স্বীকার করেন যে একজন মুসলিম পুরুষের স্ত্রীর সংখ্যা চারজনে সীমাবদ্ধ হলেও তার মালিকানাধীন নারীদাসীর ক্ষেত্রে একই সংখ্যাগত সীমা প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ চারজনের সীমা নিকাহের স্ত্রীর জন্য; দাসী-মালিকানা সেই সীমার বাইরে।
এই বক্তব্যগুলো আগের পরিচ্ছেদে উদ্ধৃত ফিকহি সূত্রগুলোর সঙ্গে একই কাঠামোয় দাঁড়ায়। হানাফি, শাফেয়ি, মালিকি ও হাম্বলি গ্রন্থে যেমন স্ত্রীকে চারজনে সীমিত রেখে নারীদাসীর সংখ্যাকে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, সমসাময়িক ইসলামি আলোচনাতেও সেই মৌলিক বিধানই স্বীকার করা হয়।
উপসংহার
ইসলামে একজন পুরুষের সর্বোচ্চ বৈধ যৌনসঙ্গীর সংখ্যা চার—এই প্রচলিত বক্তব্যটি ভুল। চারজন হলো একই সময়ে নিকাহের অধীনে রাখা স্ত্রীর সর্বোচ্চ সংখ্যা। এর পাশাপাশি ইসলামি শরিয়তে মিলক আল-ইয়ামিন নামে পৃথক একটি যৌনব্যবস্থা ছিল, যেখানে নিজের মালিকানাধীন নারীদাসীর সঙ্গে নিকাহ ছাড়াই যৌনসম্পর্ক বৈধ ছিল এবং সেই নারীদাসীদের ওপর চারজন বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যাগত সর্বোচ্চ সীমা আরোপ করা হয়নি।
এই বিধান কোনো একক মাযহাব, বিচ্ছিন্ন ফকিহ বা পরবর্তী যুগের ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে না। হানাফি ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী বলেছে, স্বাধীন পুরুষ যত সংখ্যক দাসী ইচ্ছা তাসার্রি করতে পারে, সংখ্যা যত বেশিই হোক। শাফেয়ীর আল-উম্ম বলেছে, মালিকানার ভিত্তিতে নারীদাসীদের মধ্যে যতজনকে ইচ্ছা একই সময়ে সহবাস করা যায়, অথচ নিকাহে চারজনের বেশি স্ত্রী রাখা যায় না। মালিকি আল-কারাফী সরাসরি লিখেছেন, নারীদাসীর সঙ্গে সহবাসের বৈধতার ক্ষেত্রে সংখ্যা সীমাবদ্ধ করা হয়নি। ইবন তাইমিয়্যাহ বলেছেন, সংখ্যার ক্ষেত্রে যতজন ইচ্ছা তাসার্রি করা যায়, অথচ বিবাহ চারজনেই সীমিত। আবদুর রহমান আস-সা‘দীও পরপর দুটি মাসআলায় একদিকে চার স্ত্রীর সীমা এবং অন্যদিকে মিলক আল-ইয়ামিন-এর ক্ষেত্রে “যতজন ইচ্ছা সহবাস” করার বিধান লিখেছেন। হানাফি রদ্দুল মুহতার-এ এমনকি চার স্ত্রী ও এক হাজার সুররিয়াহ থাকা ব্যক্তির উদাহরণ পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়েছে।
কোরআন এই দ্বৈত যৌনব্যবস্থার মূল ভিত্তি স্থাপন করেছে। সূরা আন-নিসা ৪:৩-এ দুই, তিন ও চারজন স্ত্রীকে নিকাহের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি “তোমাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে” নারীদের পৃথক শ্রেণি হিসেবে রাখা হয়েছে। সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৫–৭ এবং আল-মাআরিজ ৭০:২৯–৩১ স্ত্রী ও মালিকানাধীন নারীদাসী—উভয়ের সঙ্গে যৌনসম্পর্ককে নিন্দামুক্ত ঘোষণা করেছে। সূরা আন-নিসা ৪:২৪ এবং সহিহ মুসলিম ১৪৫৬-এর আওতাসের ঘটনা দেখায়, জীবিত স্বামী থাকা যুদ্ধবন্দিনী নারীর পূর্ববর্তী বিবাহ বন্দিত্বের মাধ্যমে ভেঙে দিয়ে ইস্তিবরার পর তাকে নতুন মুসলিম মালিকের জন্য যৌনভাবে বৈধ করা হতো।
স্ত্রী ও নারীদাসীর আইনি অবস্থানও মৌলিকভাবে অসম ছিল। স্ত্রী নিকাহের অধীনে স্বাধীন নারী; তার জন্য মোহর, নাফাকা, পালাক্রমে সময় বণ্টন এবং অন্যান্য দাম্পত্য বিধান কার্যকর ছিল। নারীদাসীর সঙ্গে যৌনসম্পর্কের আইনগত ভিত্তি ছিল মালিকানা; তাকে যৌনসম্পর্কের জন্য বিয়ে করতে হতো না, স্ত্রীদের মতো সমান পালা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও ছিল না এবং তার যৌনসম্পর্কের সংখ্যাকে চারজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়নি। ইসলামি ফিকহে একজন নারীর স্বাধীন স্ত্রী নাকি মালিকানাধীন দাসী—এই শ্রেণিগত অবস্থানই তার ওপর সম্পূর্ণ ভিন্ন যৌন ও পারিবারিক আইন প্রয়োগ করত।
অতএব ঐতিহাসিক ইসলামি যৌন আইনের কাঠামো ছিল স্পষ্ট: একদিকে সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রী পর্যন্ত নিকাহ, অন্যদিকে সংখ্যাগতভাবে সীমাবদ্ধ নয় এমন নারীদাসীর মালিকানা এবং শরঈভাবে নিষিদ্ধ সম্পর্কের বাইরে তাদের মধ্যে যতজনের সঙ্গে ইচ্ছা মালিকানার ভিত্তিতে যৌনসম্পর্ক। “চার স্ত্রী”কে ইসলামে একজন পুরুষের সর্বমোট বৈধ যৌনসঙ্গীর সীমা হিসেবে উপস্থাপন করলে কোরআন, হাদিস এবং ধ্রুপদী ফিকহে স্বীকৃত মিলক আল-ইয়ামিন ব্যবস্থার একটি মৌলিক অংশই বাদ পড়ে যায়।
তথ্যসূত্রঃ
- তাফসীর আল-কুরতুবী, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ১০১–১০৫, সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৫–৭ ↩︎
- তাফসীর আল-কুরতুবী, খণ্ড ১৮, পৃষ্ঠা ২৮৬–২৯০, সূরা আল-মাআরিজ ৭০:২৯–৩১ ↩︎
- তাফসীর আল-কুরতুবী, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ১০১–১০৫ ↩︎
- তাফসীর আল-কুরতুবী, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ১০৬–১১০ ↩︎
- তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ১১৮–১২২ ↩︎
- IslamQA, Answer 13737, “What is the ruling on intimacy with slave women?” ↩︎
- তাফসীর আল-কুরতুবী, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১১–১৫, সূরা আন-নিসা ৪:৩ — সংশয় ইসলাম তথ্যভাণ্ডার ↩︎
- তাফসীর আল-কুরতুবী, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১১–১৫ ↩︎
- তাফসীর আল-কুরতুবী, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৬–২০ ↩︎
- IslamWeb, Fatwa 61565, “الزواج بخامسة حكمه وحكم الأولاد” ↩︎
- IslamWeb, Fatwa 19722, “يباح الجمع بين أربع زوجات فقط.. لماذا” ↩︎
- আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ, কিতাবুন নিকাহ, “القسم الرابع المحرمات بالجمع” — আরবি অনলাইন সংস্করণ; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৪ ↩︎
- আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ, “ويجوز للحر أن يتسرى من الإماء ما شاء من العدد وإن كثرن”; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৪ — স্ক্যান ↩︎
- আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ, কিতাবুন নিকাহ — অনলাইন আরবি পাঠ ↩︎
- ইমাম আশ-শাফেয়ী, আল-উম্ম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৯১, “وطء الأم بعد البنت من ملك اليمين” — IslamWeb Islamic Library ↩︎
- আল-উম্ম — Shamela PDF edition ↩︎
- আল-কারাফী, আনওয়ার আল-বুরূক ফি আনওয়া আল-ফুরূক, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১১২–১১৩, পার্থক্য নং ১৪৪ — IslamWeb Islamic Library ↩︎
- ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমূ‘ আল-ফাতাওয়া, খণ্ড ৩২, পৃষ্ঠা ৬৯–৭০, “فصل الجمع بين الأختين” — IslamWeb Islamic Library ↩︎
- ‘Abd al-Rahman ibn Nasir al-Sa‘di, Manhaj al-Salikin wa Tawdih al-Fiqh fi al-Din, rulings 519–520 — IslamContent ↩︎
- IslamWeb, Fatwa 457315, “حكمة تقييد الزوجات بالأربع، دون الإماء”, 28 April 2022 ↩︎
- IslamWeb, Fatwa 457315 — Print Version ↩︎
- IslamWeb, Fatwa 457315; উদ্ধৃত: ইবন আল-আত্তার, শরহ আল-উমদাহ ↩︎
- IslamQA, Answer 13737, “What is the ruling on intimacy with slave women?”, 18 March 2004 ↩︎
- IslamQA, Answer 13737 ↩︎
- IslamQA, Answer 20802, “Intercourse with a slave woman is not regarded as zina (adultery)” ↩︎
- IslamQA, Answer 102446, “Obligation of treating co-wives fairly and some of the rules on travel for men with more than one wife” ↩︎
- তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া, সূরা আন-নিসা ৪:২৪ ↩︎
- সহিহ মুসলিম ১৪৫৬a, কিতাবুর রাদা‘ — Sunnah.com; সহিহ মুসলিম ১৪৫৬d — Sunnah.com ↩︎
- সহিহ মুসলিম, কিতাবুর রাদা‘, অধ্যায় ৯, হাদিস ১৪৫৬a–e — Sunnah.com ↩︎
- IslamWeb, Fatwa 15512, “تفسير قوله تعالى والمحصنات من النساء” ↩︎
- তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৭৮–৪৮২ ↩︎
- ইবন আবিদীন, রদ্দুল মুহতার আলাদ দুররিল মুখতার, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৬–৪৮ — IslamWeb Islamic Library ↩︎
- ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমূ‘ আল-ফাতাওয়া, খণ্ড ৩২, “فصل الجمع بين الأختين” — IslamWeb Islamic Library ↩︎
- ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমূ‘ আল-ফাতাওয়া, খণ্ড ৩২ — IslamWeb; IslamQA, Answer 13202, “It is not permissible for a master to have intercourse with his married slave woman” ↩︎
- IslamQA, Answer 128160, “Does a slave woman become free if her master marries her?” ↩︎
- IslamQA, Answer 102446, “Obligation of treating co-wives fairly…” ↩︎
- আল-কারাফী, আনওয়ার আল-বুরূক ফি আনওয়া আল-ফুরূক, খণ্ড ৩, পার্থক্য নং ১৪৪ — IslamWeb Islamic Library ↩︎

