Share:
এখানে নবী মুহাম্মদের জীবনে যতগুলো প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক জিহাদ হয়েছিল, সেগুলো সবগুলো একত্রিত করে একটি তালিকা প্রস্তুত করার কাজ শুরু করছি। আপাতত বেশ কিছু তথ্য এখানে যুক্ত করছি। পরবর্তীতে আশাকরি এই তালিকাটি আরও পরিমার্জিত করে পুরো জীবনের সব যুদ্ধ এখানে একত্রিত করা হবে।
মুহাম্মদের যুদ্ধ ও সামরিক আক্রমণ – পূর্ণাঙ্গ কালানুক্রমিক সারণী
সারিয়া (মুহাম্মদ অনুপস্থিত ছিলেন) এবং গাজওয়া (মুহাম্মদ স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন)
আক্রমণাত্মক / আগ্রাসী
প্রতিরক্ষামূলক
| № | তারিখ (হিজরি) | যুদ্ধ / অভিযান | প্রতিপক্ষ / স্থান | প্রকৃতি | সংক্ষিপ্ত মন্তব্য ও সীরাত রেফারেন্স |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ১ হিজরি মার্চ ৬২৩ খ্রিঃ |
সিফুল-বাহর অভিযান | কুরাইশ কাফেলা | আক্রমণাত্মক | হামজা ইবন আবদুল-মুত্তালিবের নেতৃত্বে ৩০ জনের দল কুরাইশ কাফেলা বাধা দিতে যায়। সরাসরি যুদ্ধ না হলেও এটি ছিল বাণিজ্য রুটে প্রথম সামরিক হুমকি। [1] [cite: 172, 173] |
| ২ | ১ হিজরি এপ্রিল ৬২৩ খ্রিঃ |
উবাইদা অভিযান | কুরাইশ কাফেলা | আক্রমণাত্মক | উবাইদা ইবন আল-হারিস ৬০-৮০ জন নিয়ে কাফেলা আক্রমণ করতে যান। দুপক্ষের মধ্যে তীর বিনিময় হয়। [2] [cite: 174, 175] |
| ৩ | ১ হিজরি মে ৬২৩ খ্রিঃ |
সারিয়াতুল খারার | আল-খারার | আক্রমণাত্মক | সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস কুরাইশ কাফেলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে যান, তবে কাফেলা আগেই সরে যায়। [3] [cite: 177, 179] |
| ৪ | ১ হিজরি আগস্ট ৬২৩ খ্রিঃ |
ওয়াদ্দান / আবওয়া | বানু দামরা | আক্রমণাত্মক | মুহাম্মদ প্রথমবার স্বয়ং অভিযানে বের হন কুরাইশ কাফেলা লক্ষ্য করে। কাফেলা না পেয়ে স্থানীয় গোত্রের সাথে চুক্তি করেন। [4] [cite: 180, 181] |
| ৫ | ২ হিজরি সেপ্টেম্বর ৬২৩ খ্রিঃ |
বুয়াত অভিযান | কুরাইশ কাফেলা | আক্রমণাত্মক | মুহাম্মদ বড় বাহিনী নিয়ে বাণিজ্য-রুট রোধের প্রচেষ্টা চালান। মক্কার ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল। [5] [cite: 182, 183] |
| ৬ | ২ হিজরি সেপ্টেম্বর ৬২৩ খ্রিঃ |
বদর-সাফওয়ান | সাফওয়ানের কাফেলা | আক্রমণাত্মক | বদরের প্রথম অভিযান। কুরাইশ নেতা সাফওয়ানের কাফেলা লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়। [6] [cite: 184, 185] |
| ৭ | ২ হিজরি ডিসেম্বর ৬২৩ খ্রিঃ |
জুল আল-উশাইরা | বানু মুদলিজ | আক্রমণাত্মক | পশ্চিম বাণিজ্য-রুট নিয়ন্ত্রণে মুহাম্মদ অভিযানে বের হন এবং পাশের গোত্রকে আনুগত্যে বাধ্য করতে চুক্তি করেন। [7] [cite: 186, 187] |
| ৮ | ২ হিজরি জানুয়ারি ৬২৪ খ্রিঃ |
নাখলা হামলা | কুরাইশ কাফেলা | আক্রমণাত্মক | পবিত্র মাসে আবদুল্লাহ ইবন জাহশের নেতৃত্বে কাফেলা লুট ও একজনকে হত্যা করা হয়। কোরআনের ২:২১৭ আয়াতে এর বৈধতা দেওয়া হয়। [8] [cite: 188, 189] |
| ৯ | ২ হিজরি মার্চ ৬২৪ খ্রিঃ |
বদর যুদ্ধ | কুরাইশ বাহিনী | আক্রমণাত্মক | বিশাল বাণিজ্য কাফেলা আটকানোর উদ্দেশ্যে বের হয়ে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়। মুসলিম রাষ্ট্রের জন্য মোড় ঘোরানো সামরিক বিজয়। [9] [cite: 190, 191] |
| ১০ | ২ হিজরি ৬২৪ খ্রিঃ |
আসমা বিনতে মারওয়ান হত্যা | মদিনার মহিলা কবি | আক্রমণাত্মক | ইসলাম ও মুহাম্মদের সমালোচনা করে কবিতা লেখায় রাতে তার ঘরে ঢুকে তাকে হত্যা করা হয়। তখন তিনি শিশুকে স্তন্যপান করাচ্ছিলেন। [10] [cite: 343, 345] |
| ১১ | ২ হিজরি ৬২৪ খ্রিঃ |
আবু আফাক হত্যা | মদিনার বৃদ্ধ কবি | আক্রমণাত্মক | শতায়ু বৃদ্ধ এই কবি মুহাম্মদের বিরোধিতা করায় সালিম ইবনে উমায়ের তাকে ঘুমের মধ্যে হত্যা করেন। [11] [cite: 343, 344] |
| ১২ | ২ হিজরি ৬২৪ খ্রিঃ |
বনু কায়নুকা অবরোধ | মদিনার ইহুদি গোত্র | আক্রমণাত্মক | চুক্তিভঙ্গের অজুহাতে পুরো গোত্রকে অবরোধ করে মদিনা থেকে নির্বাসিত ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়। [12] [cite: 192, 195] |
| ১৩ | ২ হিজরি মে ৬২৪ খ্রিঃ |
সাওয়িক হানা | আবু সুফিয়ানের দল | প্রতিরক্ষামূলক | বদরের প্রতিশোধে আবু সুফিয়ান মদিনার বাগানে আগুন দিলে মুসলিমরা তাদের ধাওয়া করে। ফেলে যাওয়া শস্য (সাওয়িক) লুট হয়। [13] [cite: 196, 198] |
| ১৪ | ২ হিজরি ৬২৪ খ্রিঃ |
বনু সুলাইম (আল-কুদরা) | আল-কুদরা অঞ্চল | আক্রমণাত্মক | বদরের পরপরই বনু সুলাইম গোত্র আক্রমণের পরিকল্পনা করছে—এমন অভিযোগে ২০০ সৈন্য নিয়ে তাদের ভূখণ্ডে হামলা ও ৫০০ উট লুট করা হয়। [14] [cite: 363, 365] |
| ১৫ | ৩ হিজরি সেপ্টেম্বর ৬২৪ খ্রিঃ |
কাব বিন আশরাফ হত্যা | ইহুদি নেতা / কবি | আক্রমণাত্মক | মুহাম্মদের সমালোচক কাব বিন আশরাফকে আলোচনার নাম করে ছদ্মবেশে রাতের আঁধারে হত্যা করা হয়। [15] [cite: 315, 317] |
| ১৬ | ৩ হিজরি সেপ্টেম্বর ৬২৪ খ্রিঃ |
জু আম্মার অভিযান | গাতাফান গোত্র | আক্রমণাত্মক | গাতাফান গোত্রকে ছত্রভঙ্গ ও ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে পরিচালিত আগ্রাসী সীমান্ত-নিয়ন্ত্রণ অভিযান। [16] [cite: 199, 200] |
| ১৭ | ৩ হিজরি নভেম্বর ৬২৪ খ্রিঃ |
আল-কারাদা হামলা | কুরাইশ কাফেলা | আক্রমণাত্মক | জায়েদ ইবন হারিসাহর নেতৃত্বে কুরাইশ কাফেলার ওপর হামলা চালিয়ে বিপুল সম্পদ লুট করা হয়। [17] [cite: 201, 202] |
| ১৮ | ৩ হিজরি ডিসেম্বর ৬২৪ খ্রিঃ |
আবু রাফে হত্যা | খায়বারের ইহুদি নেতা | আক্রমণাত্মক | খায়বারের নেতা সালাম ইবনে আবু আল-হুকায়েককে তার নিজ দুর্গের শয়নকক্ষে ঢুকে গুপ্তহত্যা করা হয়। [18] [cite: 333, 335] |
| ১৯ | ৩ হিজরি মার্চ ৬২৫ খ্রিঃ |
উহুদ যুদ্ধ | কুরাইশ সেনাবাহিনী | প্রতিরক্ষামূলক | কুরাইশদের মদিনা আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধ, যেখানে মুসলিম পক্ষ কৌশলগত পরাজয়ের মুখে পড়ে। [19] [cite: 203, 207] |
| ২০ | ৪ হিজরি ৬২৫ খ্রিঃ |
আবদুল্লাহ ইবন উনাইস অভিযান | খালিদ ইবন সুফিয়ান | আক্রমণাত্মক | খালিদ ইবন সুফিয়ানকে হত্যার জন্য উনাইসকে পাঠানো হয়। তিনি মাথা কেটে মদিনায় নিয়ে আসেন। [20] [cite: 322, 325] |
| ২১ | ৪ হিজরি ৬২৫-৬২৬ খ্রিঃ |
বনু নাদির অবরোধ | মদিনার ইহুদি গোত্র | আক্রমণাত্মক | ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গোত্রটিকে অবরুদ্ধ করে খেজুরবাগান কেটে-পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের সম্পদ ‘ফাই’ হিসেবে মুসলিমদের অধীনে আসে। [21] [cite: 208, 211] |
| ২২ | ৪-৫ হিজরি ৬২৬ খ্রিঃ |
দাতুর-রিকা অভিযান | গাতাফান গোত্র | আক্রমণাত্মক | মরু-গোত্রগুলোকে জোট গঠনের আগেই চাপে রাখার জন্য প্রি-এম্পটিভ আগ্রাসী কৌশল। [22] [cite: 212, 213] |
| ২৩ | ৫ হিজরি ৬২৬ খ্রিঃ |
দুমাতুল-জান্দাল | উত্তর আরব গোত্রসমূহ | আক্রমণাত্মক | উত্তর আরবের বাণিজ্য-কেন্দ্রে সামরিক আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ অভিযান। [23] [cite: 214, 215] |
| ২৪ | ৫ হিজরি ৬২৭ খ্রিঃ |
খন্দক যুদ্ধ (আহযাব) | কুরাইশ ও মিত্র জোট | প্রতিরক্ষামূলক | মদিনা অবরোধের বিরুদ্ধে পরিখা খনন করে প্রতিরক্ষা নেওয়া হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে জোট ভেঙে যায়। [24] [cite: 216, 218] |
| ২৫ | ৫ হিজরি মে ৬২৭ খ্রিঃ |
বনু কুরাইযা গণহত্যা | মদিনার ইহুদি গোত্র | আক্রমণাত্মক | খন্দক যুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে গোত্রের ৬০০-৯০০ পুরুষকে সারিবদ্ধভাবে শিরশ্ছেদ করা হয় এবং নারী-শিশুদের দাসে পরিণত করা হয়। [25] [cite: 219, 224] |
| ২৬ | ৬ হিজরি আগস্ট ৬২৭ খ্রিঃ |
জু কারাদ অভিযান | উট-লুটকারী দল | আক্রমণাত্মক | মুসলিম উট লুটের প্রতিশোধে শত্রু দলকে ধাওয়া করে তাদের সম্পদ লুট করা হয়। [26] [cite: 237, 239] |
| ২৭ | ৬ হিজরি আগস্ট ৬২৭ খ্রিঃ |
বনু সালাবা হামলা ১ | বনু সালাবা গোত্র | আক্রমণাত্মক | আকস্মিক হামলা চালিয়ে গোত্রটিকে ছত্রভঙ্গ করে পশু ও সম্পদ দখল করা হয়। [27] [cite: 225, 227] |
| ২৮ | ৬ হিজরি আগস্ট ৬২৭ খ্রিঃ |
উকাশা ইবনুল মিহসান (আল-গামির) | বনু আসাদ গোত্র | আক্রমণাত্মক | বনু আসাদ গোত্রের ২০০ উট গনিমত হিসেবে দখল করা হয়। গোত্রটিকে নিঃস্ব করার সামরিক কৌশল। [28] [cite: 372, 374] |
| ২৯ | ৬ হিজরি আগস্ট ৬২৭ খ্রিঃ |
মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা (জু আল-কাসসা) | বনু সালাবা গোত্র | আক্রমণাত্মক | ১০ জনের ক্ষুদ্র দল পাঠানো হয়। তারা ব্যর্থ হলে পাল্টা অভিযানে গবাদি পশু লুট করা হয়। [29] [cite: 375, 378] |
| ৩০ | ৬ হিজরি সেপ্টেম্বর ৬২৭ খ্রিঃ |
বনু সালাবা হামলা ২ | বনু সালাবা গোত্র | আক্রমণাত্মক | প্রথম হামলার পর গোত্রটিকে পুরোপুরি অনুগত করতে দ্বিতীয়বার হামলা চালানো হয়। [30] [cite: 228, 230] |
| ৩১ | ৬ হিজরি সেপ্টেম্বর ৬২৭ খ্রিঃ |
বনু লিহইয়ান অভিযান | বনু লিহইয়ান গোত্র | আক্রমণাত্মক | রাজি হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধে দুই বছর পর পরিচালিত শাস্তিমূলক ও ত্রাস সৃষ্টিকারী অভিযান। [31] [cite: 326, 327] |
| ৩২ | ৬ হিজরি ৬২৭ খ্রিঃ |
আল-ইস অভিযান | কুরাইশ বাণিজ্য রুট | আক্রমণাত্মক | জায়েদ ইবন হারিসাহর নেতৃত্বে পশুপাল ও সম্পদ লুট করার অর্থনৈতিক অভিযান। [32] [cite: 231, 233] |
| ৩৩ | ৬ হিজরি ডিসেম্বর ৬২৭ খ্রিঃ |
বনু মুস্তালিক অভিযান | বনু মুস্তালিক গোত্র | আক্রমণাত্মক | আল-মুরাইসি কূপের কাছে অতর্কিত হামলায় গোত্রটিকে পরাস্ত করে প্রচুর নারী-পুরুষ বন্দী করা হয়। [33] [cite: 318, 321] |
| ৩৪ | ৬ হিজরি ডিসেম্বর ৬২৭ খ্রিঃ |
ওয়াদি আল-কুরা অভিযান | কৃষি সমৃদ্ধ অঞ্চল | আক্রমণাত্মক | খাইবার আক্রমণের আগে উত্তরাঞ্চলকে অনুগত কর-অঞ্চলে পরিণত করার উদ্দেশ্যে হামলা। [34] [cite: 234, 236] |
| ৩৫ | ৬ হিজরি জানুয়ারি ৬২৮ খ্রিঃ |
উম্মে কিরফা হত্যাকাণ্ড | বনু ফাজারা গোত্র | আক্রমণাত্মক | গোত্রনেত্রী উম্মে কিরফাকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়—তার দুই পা দুটি উটের সাথে বেঁধে দুই দিকে ছুটিয়ে তাকে দ্বিখণ্ডিত করা হয়। তার ছিন্ন মস্তক মদিনায় প্রদর্শন করা হয়। [35] [cite: 353, 356] |
| ৩৬ | ৬ হিজরি জানুয়ারি ৬২৮ খ্রিঃ |
বনু সা’দ বিন বকর অভিযান | ফাদাক অঞ্চল | আক্রমণাত্মক | আলি ইবনে আবি তালিবের নেতৃত্বে ৫০০ উট ও ২,০০০ ছাগল লুট করা হয়। শত্রুপক্ষকে নিঃস্ব করার নীতি। [36] [cite: 366, 368] |
| ৩৭ | ৬ হিজরি ফেব্রুয়ারি ৬২৮ খ্রিঃ |
আল-ইউসায়র হত্যা | খায়বারের ইহুদি নেতা | আক্রমণাত্মক | নিরাপদ আলোচনার কথা বলে খায়বারের নতুন নেতা আল-ইউসায়রকে পথে নিরস্ত্র অবস্থায় হত্যা করা হয়। [37] [cite: 357, 359] |
| ৩৮ | ৬ হিজরি ফেব্রুয়ারি ৬২৮ খ্রিঃ |
উরয়না ও উকল দণ্ড | মদিনার নিকটবর্তী গোত্র | আক্রমণাত্মক | উট লুটের সাজা হিসেবে উরয়না গোত্রের লোকদের হাত-পা কেটে ফেলা হয় এবং উত্তপ্ত শলাকা দিয়ে চোখ উপড়ে ফেলে মরুভূমিতে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় হত্যা করা হয়। [38] [cite: 360, 362] |
| ৩৯ | ৭ হিজরি ৬২৮ খ্রিঃ |
খাইবার আক্রমণ | ইহুদি দুর্গসমূহ | আক্রমণাত্মক | কৃষি-সমৃদ্ধ দুর্গশহরে আকস্মিক হানা দিয়ে বহু পুরুষকে হত্যা ও নারীদের দাসী করা হয়। খাইবারকে স্থায়ী করদ রাজ্যে পরিণত করা হয়। [39] [cite: 240, 243] |
| ৪০ | ৭ হিজরি ৬২৮-৬২৯ খ্রিঃ |
ফিদাক ও আশপাশ | ইহুদি বসতিসমূহ | আক্রমণাত্মক | সামরিক চাপে ফিদাক ও অন্যান্য অঞ্চলকে পরাজয় স্বীকারমূলক কর-চুক্তি মানতে বাধ্য করা হয়। [40] [cite: 244, 246] |
| ৪১ | ৭ হিজরি এপ্রিল ৬২৯ খ্রিঃ |
ইবন আবি আল-আওজা | বনু সুলাইম গোত্র | আক্রমণাত্মক | বশ্যতা মানাতে পাঠানো ৫০ জন মুসলিম সৈন্যের অধিকাংশ নিহত হন। মদিনার সামরিক আধিপত্য বিস্তারের পথে একটি ধাক্কা। [41] [cite: 369, 371] |
| ৪২ | ৮ হিজরি ৬২৯ খ্রিঃ |
মু’তা যুদ্ধ | বাইজেন্টাইন সীমান্ত | আক্রমণাত্মক | রোমান প্রভাবাধীন সীমান্ত অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। মুসলিম বাহিনী তীব্র ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে পিছু হটে। [42] [cite: 247, 250] |
| ৪৩ | ৮ হিজরি অক্টোবর ৬২৯ খ্রিঃ |
জাতুস সালাসিল | সিরিয়া সীমান্ত | আক্রমণাত্মক | সিরিয়া সীমান্তের আরব গোত্রগুলোকে সামরিক চাপে রাখা এবং তাদের আনুগত্য নিশ্চিত করার অভিযান। [43] [cite: 328, 330] |
| ৪৪ | ৮ হিজরি অক্টোবর ৬২৯ খ্রিঃ |
আল-খাবত অভিযান | কুরাইশ কাফেলা | আক্রমণাত্মক | লোহিত সাগরের উপকূলে বাণিজ্য-রুটের ওপর নিরবচ্ছিন্ন চাপ বজায় রাখার পরিকল্পনা। [44] [cite: 379, 381] |
| ৪৫ | ৮ হিজরি ডিসেম্বর ৬২৯ খ্রিঃ |
বাতনে ইদাম অভিযান | ইদাম উপত্যকা | আক্রমণাত্মক | মক্কা অভিযানের আগে বিভ্রান্তি তৈরি এবং পশুপাল দখলের অভিযান। [45] [cite: 331, 332] |
| ৪৬ | ৮ হিজরি জানুয়ারি ৬৩০ খ্রিঃ |
ফাতহে মক্কা | মক্কা নগরী | আক্রমণাত্মক | দশ হাজার সৈন্য নিয়ে মক্কা দখল ও কাবার মূর্তি ধ্বংস করে একক ইসলামী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা। [46] [cite: 251, 253] |
| ৪৭ | ৮ হিজরি জানুয়ারি ৬৩০ খ্রিঃ |
বনু জাধিমা হত্যাকাণ্ড | বনু জাধিমা গোত্র | আক্রমণাত্মক | খালিদ ইবনে আল-ওয়ালিদ গোত্রটির ওপর চড়াও হয়ে অনেককে বন্দী ও হত্যা করেন। ভীতি সঞ্চার করে মদিনার কর্তৃত্ব সুসংহত করা হয়। [47] [cite: 336, 339] |
| ৪৮ | ৮ হিজরি জানুয়ারি ৬৩০ খ্রিঃ |
আল-উযযা, মানাত মন্দির ধ্বংস | মূর্তিপূজা কেন্দ্রসমূহ | আক্রমণাত্মক | মক্কার আশেপাশের প্রাচীন দেবী মন্দিরগুলো ধ্বংস করে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় চিহ্ন মুছে ফেলার চূড়ান্ত ধাপ। [48] [cite: 340, 342] |
| ৪৯ | ৮ হিজরি ৬৩০ খ্রিঃ |
হুনাইন যুদ্ধ | হাওয়াজিন ও সাকিফ | আক্রমণাত্মক | বিশাল গনিমত ও নারী-শিশু বন্দী করার অভিযান। রাজনৈতিক আনুগত্য কিনতে সম্পদের ব্যবহার করা হয়। [49] [cite: 254, 257] |
| ৫০ | ৮ হিজরি ৬৩০ খ্রিঃ |
তায়েফ অবরোধ | তায়েফ নগরী | আক্রমণাত্মক | মঞ্জনীক ব্যবহার করে অবরোধ ও আশেপাশের আঙুরবাগান কাটার মাধ্যমে সাকিফ গোত্রকে নতি স্বীকারে বাধ্য করা হয়। [50] [cite: 258, 262] |
| ৫১ | ৯ হিজরি জুলাই ৬৩০ খ্রিঃ |
বনু তামীম অভিযান | বনু তামীম গোত্র | আক্রমণাত্মক | কর-সংগ্রাহককে বাধা দেওয়ায় সামরিক হামলা চালিয়ে নারী ও শিশুদের বন্দী করে মদিনায় আনা হয়। [51] [cite: 382, 384] |
| ৫২ | ৯ হিজরি জুলাই ৬৩০ খ্রিঃ |
বনু কিলাব অভিযান | বনু কিলাব গোত্র | আক্রমণাত্মক | ইসলাম গ্রহণ ও রাজনৈতিক আনুগত্যে বাধ্য করতে হামলা ও গবাদি পশু লুট। [52] [cite: 385, 387] |
| ৫৩ | ৯ হিজরি আগস্ট ৬৩০ খ্রিঃ |
বনু তায়্য (আল-ফুলস ধ্বংস) | বনু তায়্য গোত্র | আক্রমণাত্মক | আলির নেতৃত্বে অতর্কিত হামলায় ‘আল-ফুলস’ মূর্তি ধ্বংস ও প্রচুর নারী-শিশু বন্দী করা হয়। [53] [cite: 346, 349] |
| ৫৪ | ৯ হিজরি সেপ্টেম্বর ৬৩০ খ্রিঃ |
খাশ’আম অভিযান | তাবালা অঞ্চল | আক্রমণাত্মক | ভোরবেলা অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে কিছু লোককে হত্যা ও পশুপাল লুট করে মদিনায় আনা হয়। [54] [cite: 350, 352] |
| ৫৫ | ৯ হিজরি অক্টোবর ৬৩০ খ্রিঃ |
দুমাতুল জানদাল (খালিদ) | খ্রিস্টান আরব গোষ্ঠী | আক্রমণাত্মক | খালিদের নেতৃত্বে সামরিক চাপের মুখে খ্রিস্টান আরবদের জিজিয়া কর দিতে বাধ্য করা হয়। [55] [cite: 268, 272] |
| ৫৬ | ৯ হিজরি ৬৩০ খ্রিঃ |
তাবুক অভিযান | বাইজেন্টাইন সীমান্ত | আক্রমণাত্মক | বিশাল সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে সীমান্ত অঞ্চলের শাসকদের ওপর জিজিয়া কর ও আনুগত্য চাপিয়ে দেওয়া হয়। [56] [cite: 279, 283] |
| ৫৭ | ৯ হিজরি ৬৩০ খ্রিঃ |
আল-লাত মন্দির ধ্বংস | তায়েফ নগরী | আক্রমণাত্মক | তায়েফের আত্মসমর্পণের পর বিখ্যাত দেবীমূর্তি ধ্বংস করে রাজনৈতিক-ধর্মীয় একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা। [57] [cite: 273, 278] |
| ৫৮ | ৯-১০ হিজরি ৬৩০-৬৩১ খ্রিঃ |
মন্দির ধ্বংস ও কর সংগ্রহ | মধ্য আরব অঞ্চলসমূহ | আক্রমণাত্মক | আলির নেতৃত্বে মন্দির ও মূর্তি ধ্বংস করে স্থানীয়দের ওপর জিজিয়া কর আরোপ করা হয়। [58] [cite: 263, 267] |
| ৫৯ | ১০ হিজরি জুন ৬৩১ খ্রিস্টাব্দ |
নজরান অভিযান | খ্রিস্টান নজরান | আক্রমণাত্মক | ‘ইসলাম নতুবা যুদ্ধ’—এই আলটিমেটাম দিয়ে নজরানবাসীদের জিজিয়া করদাতার পরিণত করা হয়। [59] [cite: 288, 292] |
| ৬০ | ১০ হিজরি ৬৩১ খ্রিস্টাব্দ |
হামদান অভিযান | ইয়েমেনি গোত্রসমূহ | আক্রমণাত্মক | সামরিক ও আদর্শিক চাপে ইয়েমেনের গোত্রসমূহকে দলবদ্ধভাবে ইসলাম গ্রহণ ও কর প্রদানে বাধ্য করা হয়। [60] [cite: 297, 300] |
| ৬১ | ১০ হিজরি ডিসেম্বর ৬৩১ খ্রিঃ |
মুযহিজ অভিযান | ইয়েমেন অঞ্চল | আক্রমণাত্মক | সংঘর্ষ ও হত্যার মাধ্যমে ইয়েমেনি গোত্রগুলোকে ইসলামী কাঠামোর অধীনে এনে কর-চুক্তি আরোপ করা হয়। [61] [cite: 301, 304] |
| ৬২ | ১০ হিজরি এপ্রিল ৬৩২ খ্রিস্টাব্দ |
যুল খালাসা মন্দির ধ্বংস | দক্ষিণ আরব | আক্রমণাত্মক | পৌত্তলিক মন্দির ধ্বংস, মূর্তি পুড়িয়ে ফেলা এবং প্রতিরোধকারীদের হত্যা করে ধর্মীয় পরিশোধন অভিযান চালানো হয়। [62] [cite: 305, 309] |
| ৬৩ | ১০ হিজরি মে ৬৩২ খ্রিঃ |
উসামা ইবন যায়েদ অভিযান | বাইজেন্টাইন ফ্রন্ট | আক্রমণাত্মক | নবীর মৃত্যুর ঠিক আগে বাইজেন্টাইন সীমান্তে সামরিক বিস্তারের পথ প্রস্তুত করতে এই বিশাল বাহিনী পাঠানো হয়। [63] [cite: 310, 314] |
| ৬৪ | ৩ হিজরি (সংযোজিত/তারিখ সংশোধন) | আবু সুফিয়ান হত্যার প্রচেষ্টা | মক্কা | আক্রমণাত্মক | ব্যর্থ গোয়েন্দা মিশন হলেও ফেরার পথে দুজনকে হত্যা ও একজনকে বন্দী করে মদিনায় আনা হয়। [64] [cite: 388, 390] |
তথ্যসূত্রঃ
- ইবনে হিশাম, ২/২৩২ ↩︎
- আল-তাবারি, ১/১২৮ ↩︎
- ইবনে হিশাম, ২/২৩৫ ↩︎
- ইবনে হিশাম, ২/২৩৮ ↩︎
- তাবারি, ১/১৩৪ ↩︎
- ইবনে হিশাম, ২/২৪০ ↩︎
- তাবারি, ১/১৩৯ ↩︎
- তাফসির আল-তাবারি, ২:২১৭ ↩︎
- ইবনে হিশাম, ২/২৪৭ ↩︎
- ইবনে হিশাম, ৪/৩৭৩ ↩︎
- ইবনে সা’দ, ২/২৭–২৮ ↩︎
- ইবনে হিশাম, বনু কায়নুকা অধ্যায় ↩︎
- ইবনে হিশাম, সাওয়িক গাজওয়া ↩︎
- ইবনে হিশাম, ৩/৫০ ↩︎
- সহীহ বুখারি, ৫/৪০৪৮ ↩︎
- ইবনে কাথির, জু আম্মার ঘটনা ↩︎
- ইবনে হিশাম, সীরাত ↩︎
- সহীহ বুখারি, ৫/৪০৩৯ ↩︎
- ইবনে হিশাম, উহুদ যুদ্ধের বর্ণনা ↩︎
- সুনানে আবু দাউদ, ২৭৪৭ ↩︎
- ইবনে হিশাম, বনু নাদির ↩︎
- ইবনে কাথির, দাতুর-রিকা গাজওয়া ↩︎
- তাবারি, উত্তরের অভিযান ↩︎
- ইবনে হিশাম, গাজওয়াতুল-খন্দক ↩︎
- ইবনে হিশাম, বনু কুরাইযা ↩︎
- ইবনে হিশাম, জু কারাদ বর্ণনা ↩︎
- ইবনে কাথির, বনু সালাবা প্রসঙ্গ ↩︎
- আল-তাবারি, ২/৬০২ ↩︎
- তাবাকাত ইবনে সা’দ, ২/৮০ ↩︎
- ইবনে কাথির, একই অধ্যায় ↩︎
- তাবারি, ২/৬১১ ↩︎
- ইবনে হিশাম, সারিয়ার তালিকা ↩︎
- তাবারি, তারিখ, ২/৬০৪ ↩︎
- তাবারি, ওয়াদি আল-কুরা ↩︎
- আল-তাবারি, ৮/৯৬ ↩︎
- ইবনে সা’দ, ২/৮৯ ↩︎
- ইবনে হিশাম, ৪/২৬৬ ↩︎
- সহীহ বুখারি, ৮/৬৮০২ ↩︎
- ইবনে হিশাম, খাইবার গাজওয়া ↩︎
- তাবারি, ফিদাক চুক্তি ↩︎
- তাবাকাত ইবনে সা’দ, ২/১২৩ ↩︎
- ইবনে কাথির, গাজওয়াতু মু’তা ↩︎
- তাবারি, ৩/৩৪ ↩︎
- সহীহ বুখারি, ৫/৪৩৩৩ ↩︎
- ইবনে হিশাম, ৪/২১৫ ↩︎
- ইবনে হিশাম, ফাতহে মক্কা ↩︎
- সহীহ বুখারি, ৫/৪৩৩৯ ↩︎
- ইবনে হিশাম, ৪/৭১ ↩︎
- ইবনে কাথির, হুনাইন ও গনিমত বণ্টন ↩︎
- ইবনে হিশাম, তায়েফ অবরোধ ↩︎
- তাবারি, ৩/১১০ ↩︎
- তাবাকাত ইবনে সা’দ, ২/১৬১ ↩︎
- ইবনে হিশাম, ৪/৪১৫ ↩︎
- ইবনে সা’দ, ২/১৬২ ↩︎
- তাবারি, তারিখ ↩︎
- তাবারি, গাজওয়াতু তাবুক ↩︎
- ইবনে হিশাম, আল-লাত ধ্বংস ↩︎
- মুসনাদ আহমদ ↩︎
- তাবারি, নজরান প্রসঙ্গ ↩︎
- ইবনে কাথির, হামদান গোত্র ↩︎
- ইবনে কাথির, গাজওয়া ↩︎
- সহীহ বুখারি, কিতাবুল জিহাদ ↩︎
- তাবারি, উসামা সেনাদল ↩︎
- ইবনে হিশাম, ৪/২৮১ ↩︎
