
Table of Contents
ভূমিকা
সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষের নৈতিক চেতনার পরিধি কেবল মানবসমাজে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা প্রাণীকুলের প্রতি আমাদের আচরণের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হয়েছে। আধুনিক বিশ্বে প্রাণী অধিকার (Animal Rights) একটি অবিচ্ছেদ্য নৈতিক মানদণ্ড হিসেবে স্বীকৃত, যেখানে প্রাণীদের অকারণে কষ্ট দেওয়া বা তাদের শরীরের ওপর কোনো প্রকার ক্ষত সৃষ্টি করাকে অপরাধ ও অনৈতিক কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু ঐতিহাসিক ধর্মগ্রন্থ ও জীবনী পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রাচীন আরবে ধর্মীয় আচারের নামে পশুকে শারীরিকভাবে আঘাত করার প্রথা বিদ্যমান ছিল। বিশেষ করে হজের সময় কোরবানির পশুকে চিহ্নিত করার জন্য ‘ইশআর’ (Ish’ar) বা পশুর কুঁজ ফেঁড়ে রক্ত প্রবাহিত করার যে পদ্ধতি নবী মুহাম্মদ অনুসরণ করতেন, তা আধুনিক প্রাণী কল্যাণ আইন ও নৈতিকতার মানদণ্ডে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ‘ইশআর’ পদ্ধতি
ইসলামি দণ্ডবিধি ও আচার-অনুষ্ঠানের ইতিহাসে ‘ইশআর’ একটি সুপরিচিত পরিভাষা। এর অর্থ হলো চিহ্নিত করা। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, মুহাম্মদ যখন কোরবানির পশু নিয়ে হজে যেতেন, তখন তিনি পশুর কুঁজ ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফেঁড়ে দিতেন যাতে রক্ত বের হয়ে আসে এবং তা দেখে বোঝা যায় এটি কোরবানির জন্য উৎসর্গকৃত পশু।
মুহাম্মদের জীবনী থেকে জানা যায়, জবাই করার আগেই কোরবানীর পশু কুজ ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফেঁড়ে দিয়ে রক্তাক্ত করে দিতেন তিনি। একটি পশুকে কিছুক্ষণ পরে আল্লাহর নামে জবাই করা হবে, সেই পশুটিকে অহেতুক এরকম কষ্ট দেয়ার কী অর্থ থাকতে পারে, আমি জানি না। যদি কোরবানীর পশু হিসেবে চিহ্নিত করাই উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে, সেটি তো নানাভাবেই করা যায়। তার জন্য পশুটিকে কেটে রক্তাক্ত করে কষ্ট দেয়া কীভাবে মানবিক কোন কাজ হতে পারে? [1]
সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৬/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ)
পরিচ্ছেদঃ ২৭. ইহরাম বাঁধার সময় কুরবানীর পশুর কুজের কিছু অংশ ফেড়ে দেওয়া এবং গলায় মালা পরানো
২৮৮৬। মুহাম্মাদ ইবনু মূসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-হুলায়ফা নামক স্থানে যোহরের সালাত আদায় করলেন। তারপর নিজের (কুরবানীর) উষ্ট্রী নিয়ে আসতে বললেন এবং কুজের ডান দিক দিয়ে ফেঁড়ে দিলেন। ফলে রক্ত প্রবাহিত হল। অতঃপর উষ্ট্রী এর গলায় দু’টি পাদুকার মালা পরিয়ে দিলেন। এরপর নিজের বাহনে আরোহণ করলেন। তারপর তা যখন তাঁকে নিয়ে আল বায়দায় পৌছলেন, তখন তিনি হাজ্জের (হজ্জ) তালবিয়া পাঠ করলেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
এই পদ্ধতি কেবল একবারের কোনো ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি নিয়মিত ধর্মীয় অনুশীলন। এমনকি বিদায় হজের সময়ও তিনি একইভাবে পশুকে জখম করার মাধ্যমে এই চিহ্ন দিয়েছিলেন।
পশু নির্যাতনের বিধান ইসলামে অন্তর্ভূক্ত হওয়া
ইসলামিক দাইয়ীরা নিশ্চিতভাবেই এই হাদিস নিয়ে নানা ধরণের মিথ্যাচার শুরু করবে কারণ আরেকটি হাদিসে পশুকে বিকৃত করতে নিষেধ করা হয়েছে। এই কারণে এই হাদিসের সাথে হাদিসের ব্যাখ্যা সহকারে দেয়া হচ্ছে, যা থেকে বোঝা যায় এটি ইসলামের বিধান [2]
(২৯০৬) হাদীছ (ইমাম মুসলিম (রহ.) বলেন) আমাদের নিকট হাদীছ বর্ণনা করেন মুহাম্মদ বিন মুছান্না ও ইবন বাশার (রহ.) তাহারা … ইবন আব্বাস (রাযিঃ) হইতে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-হুলায়ফায় যুহরের নামায আদায় করেন। অতঃপর নিজের (পক্ষে মক্কা মুকাররমায় কুরবানীর জন্য নির্ধারিত) উষ্ট্রীটি নিয়া আসিতে বলিলেন এবং কুঁজের ডান পার্শ্বে দাগ করিয়া দিলেন। ইহাতে কিছু রক্ত প্রবাহিত হইল। তারপর তিনি উহার গলায় দুইটি পাদুকার মালা পরাইয়া দিলেন। অতঃপর নিজের বাহনে আরোহণ করিলেন, অতঃপর যখন উন্ত্রী তাঁহাকে নিয়া ‘বায়দা’ নামক স্থানে সোজা দাঁড়াইল তখন তিনি ‘লাব্বাইক’ পাঠ করিলেন (অর্থাৎ যদিও তিনি যুল-হুলায়ফায় যুহরের নামাযের পর তালবিয়া পাঠ করিয়াছিলেন, পরে এই স্থানেও তালবিয়া পাঠ করিলেন)।
ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ
فَأَشْعَرَهَا )এবং কুঁজের ডান পার্শ্বে দাগ কাটিয়া দিলেন)। হাফিয ইবন হাজার (রহ.) বলেন, ইহা দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, الاشعار )হারম শরীফে কুরবানীর জন্য নির্ধারিত উট বা গরুর কুঁজের ডান দিকে চাকু, তলোয়ার, লৌহ প্রভৃতি দ্বারা কাটিয়া কিছু রক্ত প্রবাহিত করিয়া চিহ্নিতকরণ) শরীআত সম্মত। ইহা দ্বারা লোকদের মধ্যে প্রচার করিয়া দেওয়া উদ্দেশ্য যে, ইহা কুরবানীর পশু। ফলে অভাবীরা গোশত নিয়া আহারের জন্য উহার অনুসরণ করিবে। অন্যান্য উটের সহিত সংমিশ্রণ হইলে উহা পৃথক করিয়া নিতে পারিবে। লোকেরা ইহার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করিবে ও কষ্ট দেওয়া হইতে বিরত থাকিবে। হারাইয়া গেলে মালিকের জন্য ফেরত পাওয়া সহজ হইবে এবং ফকীর-মিসকীনরা চিহ্ন দেখিয়া গোশত সংগ্রহের জন্য আসিবে। কেহ কেহ عار কে নিষেধ করিয়া বলেন, ইহা (অঙ্গচ্ছেদন, অঙ্গবিকৃতি) নিষিদ্ধকরণের পূর্বে শরীআতসম্মত ছিল। পরে এই হুকুম রহিত হইয়া গিয়াছে। কিন্তু ইহাকে রহিত বলা যায় না। কেননা, বিদায় হজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদী তথা উষ্ট্রীর কুঁজের ডান পার্শ্বে দাগ কাটিয়া কিছু রক্ত প্রবাহ করার মাধ্যমে اشعار করিয়াছিলেন। আর ইহা (অঙ্গবিকৃতি) নিষিদ্ধকরণের পরের ঘটনা।


এবারে আসুন আল আওনুল মাহমুদ ফি-হল্লি সুনানে আবী দাউদ গ্রন্থ থেকে দেখে নেয়া যাক, [3] –
কুরবানীর পশুর রক্তচিহ্ন দান
১৭৫২। হযরত ইব্ন আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-হুলায়ফাতে যুহরের নামায পড়েন। এরপর তিনি তাঁর কুরবানীর একটি উট আনতে বলেন এবং এর কুঁজের ডানপাশ (ধারালো অস্ত্রের দ্বারা) ফেড়ে দেন। এরপর তিনি তার রক্তের চিহ্ন মুছে দেন এবং এর গলায় দু’টি জুতার মালা পারান। এরপর তিনি স্বীয় বাহনের কাছে যান। তিনি বায়দা নামক স্থানে পৌছে তালবীয়া পাঠ শুরু করেন।
১৭৫৩। হযরত শু’বা (রহ.) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের মত বর্ণনা করেছেন। রাবী বলেন, এরপর তিনি সহস্তে এর রক্ত মুছে দেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহ.) বলেন, হাম্মাম বর্ণনা করেছেন যে, এরপর তিনি আপন আংগুল দ্বারা এর রক্তের দাগ মুছে দেন।
১৭৫৪। হযরত মিস্তয়ার ইন্ন মাঘ্রামা (রা.) ও মারওয়ান (রা.) হতে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার বছর (মদীনা হতে উমরার উদ্দেশ্যে) রওনা হন। তিনি যুল-হুলায়ফাতে গিয়ে কুরবানীর পশুর গলায় মালা পরান, এবং ইআর করেন এবং ইহরাম বাঁধেন।
১৭৫৫। হযরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর পশু হিসাবে একটি মালা পরিহিত বকরী পাঠান।
তাশরীহ—-
قوله : باب في الإشعار
إشعار অর্থ হল, আলামত বা চিহ্ন লাগানো। আর প্রথম দিকে إشعار বলা হত উটের কুঁজের মধ্যে কিছু জখম করে দেয়াকে, যাতে রক্ত ভেসে যায় এবং বুঝা যায় যে, এটা ‘هدي’ এর পশু এবং এটা অন্য উট থেকে বাছাইকৃত বা চিহ্নিত হয়ে যায় এবং চোর ডাকাত এতে হাত না দেয়। আর দুর্বল হয়ে পড়ার আশংকায় যদি একে যবেহ করা হয় তাহলে শুধু দরিদ্র এবং নিঃস্ব লোকেরা এ থেকে খেতে পারে।

যৌক্তিক বিশ্লেষণ ও নৈতিক দ্বন্দ্ব
আধুনিক নৈতিকতার আলোকে এই কর্মকাণ্ডটি বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য ফুটে ওঠে:
- বিকল্প ব্যবস্থার উপস্থিতি: পশুকে চিহ্নিত করার জন্য তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা বা রক্তক্ষরণ ঘটানো কি অনিবার্য ছিল? হাদিসেই উল্লেখ আছে যে তিনি পশুর গলায় পাদুকা বা জুতোর মালা পরিয়ে দিতেন। যদি মালার মাধ্যমেই চিহ্ন দেওয়া সম্ভব হয়, তবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পশুর শরীর ফেঁড়ে দেওয়ার কোনো যৌক্তিক প্রয়োজনীয়তা থাকে না।
- অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রণা (Unnecessary Suffering): আধুনিক পশু কল্যাণ আইন অনুযায়ী, পশুকে জবাই করার সময়ও যতটা সম্ভব কম কষ্ট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু জবাই করার দীর্ঘ সময় আগে একটি পশুকে চিহ্নিত করার অযুহাতে রক্তাক্ত করা সরাসরি নিষ্ঠুরতার পর্যায়ে পড়ে।
- অঙ্গবিকৃতি (Muthla) ও বৈপরীত্য: ইসলামের অনেক হাদিসে প্রাণীদের অঙ্গবিকৃতি বা ‘মুসলা’ করতে নিষেধ করা হয়েছে। অথচ ‘ইশআর’ পদ্ধতিতে পশুর কুঁজ ফেঁড়ে দেওয়া এক ধরণের অঙ্গবিকৃতি বা স্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি করা। আধুনিক দাইয়ীরা অনেক সময় দাবি করেন যে ইসলাম পশুর প্রতি অত্যন্ত দয়ালু, কিন্তু মুহাম্মদের স্বহস্তে পশুকে এভাবে রক্তাক্ত করার ঘটনা সেই দাবির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও তার অসারতা
ইসলামি স্কলাররা এই নিষ্ঠুরতাকে জায়েজ করার জন্য নানা যুক্তি দিয়ে থাকেন। ‘আল আওনুল মাহমুদ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, এটি করা হতো যাতে চোর-ডাকাত এতে হাত না দেয় এবং অভাবীরা চিহ্ন দেখে পিছু নেয় [4]। কিন্তু এই যুক্তিগুলো আধুনিক বিচারবুদ্ধিতে টেকে না:
১. নিরাপত্তার অভাব: কেবল গায়ে রক্তের দাগ থাকলে চোর চুরি করবে না—এমন দাবি হাস্যকর। বরং চিহ্নিত পশুকে চুরি করা আরও সহজ হতে পারে। ২. অমানবিক চিহ্ন: কোনো অভাবী মানুষকে গোশত সংগ্রহের জন্য উৎসাহিত করতে পশুকে রক্তাক্ত করার প্রয়োজন নেই; বরং অন্য কোনো মানবিক উপায়ে (যেমন রঙ ব্যবহার বা কাপড় পরানো) তা করা যেত।
ইমাম ইবনে হাজার (রাঃ) এর মতে, এটি শরীয়তসম্মত কারণ মুহাম্মদ এটি করেছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যে কাজটি মৌলিকভাবে অমানবিক ও প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা, তা কেবল একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব করেছেন বলেই কি তা ‘ন্যায়’ বা ‘আদর্শ’ হতে পারে?
উপসংহার
পরিশেষে, ‘ইশআর’ বা পশুর কুঁজ ফেঁড়ে রক্তাক্ত করার এই প্রথাটি প্রমাণ করে যে, সপ্তম শতাব্দীর আরবের ধর্মীয় আচারগুলো কতটা আদিম এবং প্রাণীদের প্রতি অসংবেদনশীল ছিল। আধুনিক প্রাণী অধিকার আইন (যেমন: Animal Welfare Act) অনুযায়ী, কোনো পশুকে অকারণে জখম করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
যেখানে মুহাম্মদকে ‘রহমাতুল্লিল আলামিন’ বা সমস্ত সৃষ্টির জন্য দয়া হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, সেখানে তার নিজের হাতে একটি নিরীহ পশুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফেঁড়ে রক্তাক্ত করার বিষয়টি একটি চরম নৈতিক প্যারাডক্স বা বৈপরীত্য সৃষ্টি করে। কোনো ধর্মীয় আচারের দোহাই দিয়ে প্রাণীর ওপর এই ধরণের নিষ্ঠুরতাকে আধুনিক সভ্য সমাজে বৈধতা দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। সত্য ও যুক্তির নিরিখে এটি স্পষ্ট যে, এই প্রথাটি ছিল তৎকালিন সময়ের একটি বর্বর সংস্কৃতি, যা আধুনিক মানবিক মূল্যবোধের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
তথ্যসূত্রঃ
- সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ২৮৮৬ ↩︎
- সহিহ মুসলিম শরীফ (প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাসহ বঙ্গানুবাদ), আল হাদীছ প্রকাশনী, ১২ তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১০৪, ১০৫ ↩︎
- আল আওনুল মাহমুদ ফি-হল্লি সুনানে আবী দাউদ , সংকলন ও সম্পাদনাঃ মাওলানা আব্দুর হাফীজ বিন আব্দুর রঊফ, আল মাহমূদ প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ২২৯ ↩︎
- আল আওনুল মাহমুদ ফি-হল্লি সুনানে আবী দাউদ, পৃষ্ঠা ২২৯ ↩︎
