
Table of Contents
ভূমিকা
সপ্তম শতাব্দীর আরব উপদ্বীপের যাযাবর, মরুচারী সমাজে উদ্ভূত ইসলামী আদর্শের প্রচার ও প্রসার ছিল একটি সম্পূর্ণ মানব-নির্মিত, অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগের ফসল—যেখানে নানা ধরণের লোককথা, উপকথা, পৌরাণিক গল্প, কুসংস্কার এবং নৃশংসতা ছিল দৈনন্দিন জীবনের অংশ। ইসলামী ধর্মতত্ত্ব নবী মুহাম্মদকে ‘উম্মি’ বা নিরক্ষর বলে গর্ব করে, যেন এটি কোনো অলৌকিক অলৌকিকত্বের প্রমাণ। কিন্তু যৌক্তিকভাবে এই নিরক্ষরতা কোনো মিরাকল নয়—এটি ছিল তৎকালীন আরবের ভয়ংকর বৌদ্ধিক দারিদ্র্যের সবচেয়ে স্পষ্ট সাক্ষ্য। সেই সমাজ গ্রিক দর্শন, পারস্য বিজ্ঞান, ভারতীয় গণিত বা চীনা চিকিৎসাবিদ্যার ধারা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল; তারা ছিল পাথুরে মরুভূমির কল্পনাপ্রসূত কাহিনী আর প্রাণীজগত সম্পর্কে শিশুসুলভ ভুল ধারণায় আচ্ছন্ন। এই গভীর অজ্ঞতার মধ্যেই পরবর্তীকালে সংকলিত ‘সহিহ’ হাদিসগ্রন্থে এমন সব জৈবিকভাবে অসম্ভব, অতিপ্রাকৃত এবং হাস্যকর বর্ণনা ঢুকে পড়েছে যা আধুনিক বিজ্ঞানের কাছে শুধু ভুল নয়—ইসলামের সমগ্র দাবিকে (অর্থাৎ কোরআন-হাদিসের অলৌকিকত্ব ও চিরন্তন সত্যতা) একেবারে ধুলিসাৎ করে দেয়। এর মধ্যে সবচেয়ে অবৈজ্ঞানিক বিশ্বাসের একটি উদাহরণ হলো সহিহ বুখারিতে বর্ণিত বানরদের মধ্যে ‘যিনা’র দায়ে বিচার ও পাথর ছুঁড়ে হত্যার ঘটনা। এই একটি হাদিসই প্রমাণ করে যে, ইসলাম কোনো ঐশ্বরিক জ্ঞানের আলো নয়, বরং সপ্তম শতাব্দীর মরুভূমির অন্ধকার, নৃশংসতা ও কল্পনার এক বিষাক্ত মিশ্রণ—যা আজকের যুক্তি ও বিজ্ঞানের আলোয় নগ্ন হয়ে পড়েছে।
নিরক্ষরতা এবং তৎকালীন তথ্যের সীমাবদ্ধতা
ইসলামী ঐতিহ্য নবী মুহাম্মদকে ‘উম্মি’ বা নিরক্ষর বলে যে গর্ব করে, তা আসলে তৎকালীন আরবের মরুচারী সমাজের চরম বৌদ্ধিক দারিদ্র্য ও শিক্ষার সম্পূর্ণ অনুপস্থিতির সবচেয়ে লজ্জাজনক স্বীকারোক্তি। আধুনিক ঐতিহাসিক, সমাজতাত্ত্বিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, এই নিরক্ষরতা কোনো ঐশ্বরিক ‘অলৌকিকত্ব’ নয়—বরং সপ্তম শতাব্দীর আরবের ভয়ানক ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, মরুভূমির কঠোর পরিবেশ এবং গ্রিক, রোমান, পারস্য, ভারতীয় বা চীনা সভ্যতার উন্নত দর্শন, গণিত, চিকিৎসা ও জীববিজ্ঞান থেকে যোজন যোজন দূরে থাকার ফল। সেই সমাজে কোনো লিখিত জ্ঞানের ধারা, গ্রন্থাগার বা পদ্ধতিগত পর্যবেক্ষণের সুযোগ ছিল না; ফলে তাদের মধ্যে প্রকৃতি, প্রাণীজগত ও মানুষের আচরণ সম্পর্কে শুধু কল্পনা, কুসংস্কার ও লোককাহিনীই ছড়িয়ে পড়েছিল। কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি (observation, hypothesis, experimentation) না থাকায় তারা পশুপাখির প্রবৃত্তিগত আচরণকে মানুষের উদ্ভাবিত শরিয়া আইন ও নৈতিকতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলত। এই গভীর অজ্ঞতার কারণেই হাদিস সংকলনকারীরা নিজেদের নৃশংস প্রথা (যেমন রজম) প্রাণীজগতের ওপর প্রক্ষেপণ করে অবৈজ্ঞানিক, হাস্যকর ও জৈবিকভাবে অসম্ভব বর্ণনা তৈরি করেছিলেন—যা আজকের যুক্তিবাদী ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে ইসলামের সমগ্র ভিত্তিকে (কোরআন-হাদিসের ‘অলৌকিক জ্ঞান’) একেবারে ভিত্তিহীন প্রমাণ করে। এটি কোনো ‘ঐশ্বরিক বাণী’ নয়, বরং সেই যুগের অশিক্ষিত, কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের মৌখিক গুজব ও রূপকথারই সংকলিত সংস্করণ। আসুন একটি ওয়াজ শুনি, যেখানে খুব গর্বের সাথে এই মূর্খতাকে গ্লোরিফাই করা হচ্ছে, এবং একইসাথে সকল মুসলমানকে এরকম মূর্খ হওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়া হচ্ছে,
এবারে আসুন একটি উদাহরণ দেখে নিই, নবী মুহাম্মদের সাহাবীগণ শিক্ষাদীক্ষা জ্ঞানবিজ্ঞানে ঠিক কোন অবস্থানে ছিল, তার বিবরণ তাদের একজনার কাছ থেকেই জেনে নিই, [1] [2]
সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৫৮/ জিযিয়াহ্ কর ও সন্ধি স্থাপন
পরিচ্ছেদঃ ৫৮/১. জিম্মীদের নিকট থেকে জিযইয়াহ গ্রহণ এবং হারবীদের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি।
৩১৫৯. জুবাইর ইবনু হাইয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন বড় বড় শহরের দিকে সৈন্য দল প্রেরণ করলেন। সে সময় হুরমযান ইসলাম গ্রহণ করে। ‘উমার (রাঃ) তাঁকে বললেন, আমি এসব যুদ্ধের ব্যাপারে তোমার পরামর্শ গ্রহণ করতে চাই। তিনি বললেন, ঠিক আছে। এ সকল দেশ এবং দেশে মুসলিমদের দুশমন যে সব লোক বাস করছে, তাদের দৃষ্টান্ত একটি পাখির মত, যার একটি মাথা, দু’টি ডানা ও দু’টি পা রয়েছে। যদি একটি ডানা ভেঙ্গে দেয়া হয়, তবে সে পাখিটি উভয় পা, একটি ডানা ও মাথার ভরে উঠে দাঁড়াবে। যদি অপর ডানা ভেঙ্গে দেয়া হয়, তবে সে দু’টি পা ও মাথার ভরে উঠে দাঁড়াবে। আর যদি মাথা ভেঙ্গে দেয়া হয়, তবে উভয় পা, উভয় ডানা ও মাথা সবই অকেজো হয়ে যাবে। কিসরা শত্রুদের মাথা, কায়সার হল একটি ডানা, আর পারস্য অপর একটি ডানা। কাজেই মুসলিমগণকে এ আদেশ করুন, তারা যেন কিসরার উপর হামলা করে।
বাকর ও যিয়াদ (রহ.) উভয়ে যুবাইর ইবনু হাইয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অতঃপর ‘উমার (রাঃ) আমাদের ডাকলেন আর আমাদের উপর নু‘মান ইবনু মুকাররিনকে আমীর নিযুক্ত করেন। আমরা যখন শত্রু দেশে পৌঁছলাম, কিসরার এক সেনাপতি চল্লিশ হাজার সৈন্য নিয়ে আমাদের মুকাবিলায় আসল। তখন তার পক্ষ হতে একজন দোভাষী দাঁড়িয়ে বলল, তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমার সঙ্গে আলোচনা করুক। তখন মুগীরাহ (ইবনু শু‘বাহ) (রাঃ) বললেন, যা ইচ্ছা প্রশ্ন করতে পার। সে বলল, তোমরা কারা? তিনি বললেন, আমরা আরবের লোক। দীর্ঘ দিন আমরা অতিশয় দুর্ভাগ্য এবং কঠিন বিপদে ছিলাম। ক্ষুধার জ্বালায় আমরা চামড়া ও খেজুর গুটি চুষতাম। চুল ও পশম পরিধান করতাম। বৃক্ষ ও পাথর পূজা করতাম। আমরা যখন এ অবস্থায় পতিত তখন আসমান ও যমীনের প্রতিপালক আমাদের মধ্য হতে আমাদের নিকট একজন নবী পাঠালেন। তাঁর পিতা-মাতাকে আমরা চিনি। আমাদের নবী ও আমাদের রবের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন, যে পর্যন্ত না তোমরা এক আল্লাহ্ তা‘আলার ‘ইবাদাত কর কিংবা জিযইয়াহ দাও। আর আমাদের নবী আমাদের রবের পক্ষ হতে আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, আমাদের মধ্য হতে যে নিহত হবে, সে জান্নাতে এমন নি‘মাত লাভ করবে, যা কখনো দেখা যায়নি। আর আমাদের মধ্য হতে যারা জীবিত থাকবে তোমাদের গর্দানের মালিক হবে। (৭৫৩০) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯৩৪)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জুবাইর ইবনু হাইয়াহ (রহঃ)

সহিহ হাদিসে বানরের ‘যিনা’ ও পাথর ছুড়ে হত্যার বর্ণনা
ইসলামী হাদিসশাস্ত্রের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচিত সহিহ বুখারিতে এমন কিছু বর্ণনা পাওয়া যায় যা আধুনিক বিজ্ঞান ও যুক্তির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো আমর ইবনু মাইমূন কর্তৃক বর্ণিত বানরের বিচারিক প্রক্রিয়া ও পাথর ছুড়ে হত্যার ঘটনাটি [3]। বর্ণনাকারীর দাবি অনুযায়ী, তিনি জাহিলিয়াত আমলে দেখেছিলেন যে একটি বানরী ব্যভিচার করার কারণে একদল বানর মিলে তাকে পাথর ছুড়ে হত্যা করছে এবং তিনি নিজেও সেই পাথর নিক্ষেপে অংশ নিয়েছিলেন [4]।
সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা
পরিচ্ছেদঃ ৬৩/২৭. জাহিলী যুগের কাসামাহ (শপথ গ্রহণ)।
৩৮৪৯. ‘আমর ইবনু মাইমূন (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাহিলীয়্যাতের যুগে দেখেছি, একটি বানরী ব্যাভিচার করার কারণে অনেকগুলো বানর একত্র হয়ে প্রস্তর নিক্ষেপে তাকে হত্যা করল। আমিও তাদের সাথে প্রস্তর নিক্ষেপ করলাম। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৬৭)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আমর ইবনু মায়মূন (রহঃ)
এই বর্ণনাটি থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, তৎকালীন আরবের মানুষেরা মনে করত পশুপাখিদের মধ্যেও মানুষের মতো আইনকানুন বিচার ব্যবস্থা, বিশেষ করে একদম ইসলামি আইনকানুন ও বিচার ব্যবস্থা প্রচলিত আছে। যেমন তাদের মধ্যে ‘রজম’ বা পাথর ছুড়ে হত্যার মতো প্রথা বিদ্যমান। তবে আধুনিক জীববিজ্ঞানের (Ethology) কোনো গবেষণা বা তথ্যই প্রাণিজগতে এ ধরণের ধর্মীয় বিচারিক প্রক্রিয়ার অস্তিত্ব সমর্থন করে না। এটি মূলত আদিম মানুষের নৃ-তাত্ত্বিক প্রজেকশন (Anthropomorphic Projection), যেখানে তারা প্রাণীর প্রবৃত্তিগত কোনো আচরণকে নিজেদের উদ্ভাবিত নিষ্ঠুর প্রথা বা আইনের আলোকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে এবং পরবর্তীতে ধর্মীয় প্রামাণিকতায় তা স্থান পেয়েছে। এই ধরণের অবৈজ্ঞানিক দাবি একটি ধর্মগ্রন্থের সহিহ বর্ণনায় থাকাই প্রমাণ করে যে, সংকলনকারীরা অতিপ্রাকৃত লোককাহিনীর সাথে বাস্তবতার পার্থক্য নিরুপণে ব্যর্থ হয়েছিলেন।
যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক অসারতা
আধুনিক প্রাণিবিদ্যা (Zoology), জীববিজ্ঞানের বিবর্তনীয় তত্ত্ব এবং প্রাণী আচরণবিজ্ঞান (Ethology)-এর দৃষ্টিতে সহিহ বুখারির এই হাদিসটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, জৈবিকভাবে অসম্ভব এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে হাস্যকরেরও অধিক—একটি নির্লজ্জ মিথ্যা। বানর বা অন্য কোনো প্রাণীর মধ্যে মানুষের মতো ‘যিনা’র ধারণা, নৈতিক বিচার, শরিয়া আইন এবং পাথর ছুঁড়ে হত্যার (রজম) মতো সুনির্দিষ্ট দণ্ডবিধি থাকার দাবি শুধু ভুল নয়, এটি জীববিজ্ঞানের মৌলিক নীতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। প্রাণিজগতে যৌন আচরণ সম্পূর্ণ প্রবৃত্তিগত (instinct-driven) এবং বিবর্তনীয় সাফল্যের (reproductive success) অংশ—এখানে কোনো ধর্মীয় নৈতিকতা, বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের ধারণা বা সামাজিক-আইনি বিচারব্যবস্থা থাকতে পারে না। ডারউইনীয় বিবর্তনবাদ, ডেভিড অ্যাটেনবরোর প্রাণী আচরণ গবেষণা এবং আধুনিক এথোলজির কোনো তথ্যই এমন ‘বানরের শরিয়া আদালত’-এর অস্তিত্ব সমর্থন করে না। বরং এই হাদিস স্পষ্টভাবে দেখায় যে, বর্ণনাকারী আমর ইবনু মাইমূন তার নিজের সমাজের নৃশংস, মধ্যযুগীয় দণ্ডবিধিকে (রজম) বানরের সাধারণ প্রজনন-সংক্রান্ত কোন্দলের ওপর প্রক্ষেপণ (anthropomorphic projection) করেছিলেন। এটি নৃতাত্ত্বিক বিভ্রান্তির চরম উদাহরণ—যেখানে অশিক্ষিত মানুষ পশুর প্রবৃত্তিগত আচরণকে নিজেদের কল্পিত ধর্মীয় নিয়মের ছাঁচে ফেলে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে। ফলে একটি ‘সহিহ’ হাদিসে যে অবৈজ্ঞানিক গাঁজাখুরি ঢুকে পড়েছে, তা ইসলামের দাবিকে (কোরআন-হাদিসের অলৌকিক জ্ঞান ও চিরন্তন সত্যতা) একেবারে ধুলিসাৎ করে দেয়। এই একটি বর্ণনাই প্রমাণ করে যে, ইসলাম কোনো ঐশ্বরিক জ্ঞানের উৎস নয়—বরং সপ্তম শতাব্দীর অন্ধকারাচ্ছন্ন মরুভূমির কুসংস্কার, নৃশংসতা ও বৈজ্ঞানিক অজ্ঞতার বিষাক্ত ফসল।
উপসংহার
উপসংহারে এক কথায় বলা যায়, ইসলামের আদি যুগের এই হাদিসগুলোতে বানরের ‘যিনা’ ও রজমের মতো অবৈজ্ঞানিক, জৈবিকভাবে অসম্ভব এবং নৃশংস কল্পকাহিনীর উপস্থিতি কোনো ‘ঐশ্বরিক জ্ঞানের’ প্রমাণ নয়—বরং সপ্তম শতাব্দীর আরব মরুভূমির চরম বৌদ্ধিক দারিদ্র্য, কুসংস্কার, নৃশংসতা ও বৈজ্ঞানিক অজ্ঞতার সবচেয়ে নগ্ন ও লজ্জাজনক প্রতিচ্ছবি। একটি ‘সহিহ’ হাদিসগ্রন্থে যখন প্রাণিবিদ্যা, বিবর্তনবাদ ও এথোলজির মৌলিক সত্যের বিপরীতে এমন গাঁজাখুরি, হাস্যকর ও মানব-নির্মিত মিথ্যা স্থান পায়, তখন তা পুরো ইসলামী দাবিকে—কোরআন-হাদিসের অলৌকিকত্ব, চিরন্তন সত্যতা এবং ঐশ্বরিক উৎসের দাবিকে—একেবারে ধুলিসাৎ করে দেয়। এই বর্ণনাগুলো প্রমাণ করে যে, ইসলাম কোনো উন্নত জ্ঞানের আলো নয়, বরং অশিক্ষিত যাযাবর সমাজের মৌখিক গুজব, প্রাণীজগতের ওপর নিজেদের নৃশংস শরিয়া প্রক্ষেপণ এবং রূপকথার এক বিষাক্ত সংকলন। সত্য ও জ্ঞান কখনো কোনো ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে না; তা নির্ভর করে শুধু বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ, যুক্তির কঠোর পরীক্ষা এবং আধুনিক বিজ্ঞানের নির্মম আলোয়। তাই ঐতিহাসিক ধর্মীয় নথিপত্রগুলোকে আর বিশ্বাসের অন্ধ চশমায় দেখা চলবে না—তাদেরকে যুক্তি ও বিজ্ঞানের নিরিখে বিচার করা আজ অপরিহার্য। আর সেই বিচারে ইসলামের এই অংশটি দাঁড়িয়ে থাকে শুধু একটি প্রাচীন মিথ্যা ও মানবিক দুর্বলতার সাক্ষী হিসেবে—যা আজকের যুগে আর কোনো মানুষের মস্তিষ্কে স্থান পাওয়ার যোগ্য নয়।
