
Table of Contents
- 1 ভূমিকা: আধুনিক সমাজ ও ধর্মীয় বিধানের সংঘাত
- 2 ঘটনার প্রেক্ষাপট: সাহলা ও সালিমের কাহিনী
- 3 বয়স্কলোককে দুধপান করানো মানসুখ হয়েছে?
- 4 শুধুমাত্র সালিমের জন্য কোরআনের বিধান?
- 5 পদ্ধতিগত বিতর্ক: সরাসরি পান নাকি পাত্রে?
- 6 চোষানো’ শব্দের ভাষাগত ও ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ
- 7 বিধানটির প্রয়োগ ও উৎস নিয়ে তৈরি হওয়া সংঘাত
- 8 উপসংহার: মানবিকতা বনাম ধর্মীয় গোঁড়ামি
ভূমিকা: আধুনিক সমাজ ও ধর্মীয় বিধানের সংঘাত
একটি সভ্য ও উন্নত সমাজে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং পারিবারিক শিষ্টাচারের কিছু সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড থাকে। বিশেষ করে নারী ও পুরুষের পারস্পরিক মেলামেশার ক্ষেত্রে পর্দার বিধান বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তবে ইসলামের ইতিহাসে ‘রদা-আল-কাবীর’ বা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির দুগ্ধপানের বিষয়টি এমন এক অদ্ভুত ও বিতর্কিত অধ্যায় হয়ে ইসলামিক গ্রন্থগুলোতে লিপিবদ্ধ হয়ে আছে, যা আধুনিক যুগের সুস্থ বিবেক ও মানবিক রুচিবোধের কাছে চরমভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং অযৌক্তিক বলে চিহ্নিত হয়। কেবল ঘরে বা পারিবারিক পরিবেশে প্রবেশের অনুমতি পাওয়ার জন্য একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষকে একজন নারীর বুকের দুধ পান করানোর বিষয়টি শুধু নৈতিকভাবে অস্বস্তিকরই নয়, বরং এটি তথাকথিত ‘ঐশী প্রজ্ঞা’র ওপরও বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করায়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: সাহলা ও সালিমের কাহিনী
এই বিধানের সূত্রপাত হয় সাহলা বিনতে সুহাইল ও সালিম নামক জনৈক ব্যক্তির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সালিম ছিলেন সাহলার স্বামী আবু হুজাইফার আযাদকৃত দাস এবং পালক পুত্র। পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পর আবু হুজাইফার বাড়িতে সালিমের প্রবেশে সমস্যা তৈরি হয়। এই সমস্যার সমাধানে ইসলামের নবী মুহাম্মদ এক বিচিত্র পরামর্শ দেন। তিনি সাহলাকে নির্দেশ দেন যেন তিনি সালিমকে দুধ পান করান, যাতে সালিম তার ‘দুধ-পুত্র’ হিসেবে গণ্য হয় এবং তাদের ঘরে অবাধে যাতায়াত করতে পারে। এখানে লক্ষণীয় যে, সালিম তখন কোনো শিশু ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন দাঁড়িওয়ালা পূর্ণবয়স্ক পুরুষ।
হাদিসগুলো আগে দেখা যাক [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] –
সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৮/ দুধপান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৩৪৬৯। আমরুন নাকিদ ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুহায়লের কন্যা সাহলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাযির হায়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার সাথে সালিমের দেখা সাক্ষাৎ করার কারণে আমি আবূ হুযায়ফার মুখমণ্ডলে অসন্তুষ্টির আলামত দেখতে পাচ্ছি অথচ সালিম হল তার হালীফ (পোষ্য পূত্র)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তাকে দুধপান করিয়ে দাও। তিনি বললেন, আমি কেমন করে তাকে দুধপান করাব, অথচ সে একজন বয়স্ক পূরুষ। এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসি দিলেন এবং বললেন, আমি জানি যে, সে একজন বয়স্ক পুরুষ। আম্র (রাবী) তাঁর হাদীসে অতিরিক্ত বলেছেন, সালিম বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আর ইবনু আবূ উমরের বর্ণনায় রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৮/ দুধপান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৩৪৭০। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী ও মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমর (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবূ হুযায়ফার দাস সালিম (রহঃ) আবূ হুযায়ফা ও তাঁর পরিবারের সাথে একই ঘরে বসবাস করত। একদা সুহায়লের কন্যা (হুযায়ফার স্ত্রী) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিকট এসে বলল, সালিম বয়স্ক পুরুষের স্তরে পৌছে গেছে, সে বুঝে লোকে যা বুঝতে পারে অথচ সে আমাদের নিকট প্রবেশ করে থাকে। আমি ধারণা করি এই কারণে আবূ হুযায়ফার মনে অভিযোগের ভাব সৃষ্টি হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি তাকে দুধপান করিয়ে দাও, তুমি তার জন্য হারাম হয়ে যাবে এবং আবূ হুযায়ফার মনের অভিযোগ দুরীভূত হবে। তারপর তিনি তার (আবূ হুযায়ফার) নিকট ফিরে এসে বললেন, আমি তাকে (সালিমকে) দুধপান করিয়েছি। তাতে আবূ হুযায়ফার মনের অসন্তোষ দুর হয়ে যায়।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)
সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৮/ দুধপান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৩৪৭২। মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) … উম্মু সালমা (রাঃ) আয়িশা (রাঃ)-কে বললেন, তোমার নিকট বালিগ হওয়ার নিকটর্তী ছেলে প্রবেশ করে থাকে, কিন্তু আমার নিকট ঐ ধরনের ছেলের প্রবেশ করাকে পছন্দ করি না। রাবী বলেন, আয়িশা (রাঃ) বললেন, তোমার জন্য কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে সুন্দর আদর্শ বিদ্যমান নেই? তিনি আরো বললেন, একদা আবূ হুযায়ফার স্ত্রী আরয করল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সালিম আমার নিকট প্রবেশ করে থাকে, অথচ সে একজন বয়স্ক পুরুষ এবং এ জন্য আবূ হুযায়ফার অন্তরে কিছুটা অসন্তোষভাব বিদ্যমান। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তাকে তোমার দুধ পান করিয়ে দাও যাতে সে তোমার নিকট প্রবেশ করতে পারে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উম্মু সালামাহ (রাঃ)
সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৮/ দুধপান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৩৪৭৩। আবূ তাহির ও হারুন ইবনু সাঈদ আয়লী (রহঃ) … রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী উম্মু সালামা (রাঃ) একদিন আয়িশা (রাঃ)-কে বললেন, আল্লাহর কসম আমি পছন্দ করি না যে, যে ছেলে দুধপানের বয়স পার হয়ে গেছে, সে আমাকে দেখুক। তিনি বললেন, কেন? একদা সুহায়লের কন্যা সাহলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহর কসম! আমার নিকট সালিমের প্রবেশ করার কারণে আমি আবূ হুযায়ফার মুখমণ্ডলে অসন্তোষের লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে তোমার দুধপান করিয়ে দাও। সাহলা বললেন, সে (সালিম) তো দাড়িবিশিষ্ট। তিনি বললেন, তুমি তাকে দুধ পান করিয়ে দাও, তাতে আবূ হুযায়ফার মুখমন্ডলের মলিনতা দূর হয়ে যাবে। সাহলার বর্ণনা, আমি আল্লাহর কসম করে বলছি যে, তারপরে আমি আবূ হুযায়ফার চেহারায় মলিনতা আর দেখতে পাই নি।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উম্মু সালামাহ (রাঃ)
সুনান ইবনু মাজাহ
৯/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৯/৩৬. বয়স্ক লোকে দুধ পান করলে।
১/১৯৪৩। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহ্লা বিনতে সুহাইল (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমার নিকট সালেমের যাতায়াতের কারণে আমি (আমার স্বামী) আবূ হুযাইফাহর চেহারায় অসন্তুষ্টির ভাব লক্ষ্য করি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি তাকে দুধ পান করিয়ে দাও। সে বললো, আমি তাকে কিভাবে দুধপান করাবো, সে যে বয়স্ক পুরুষ? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হেসে বলেনঃ আমিও অবশ্য জানি যে, সে বয়স্ক পুরুষ। সে তাই করলো, দুধ পান করানোর পর আবূ হুযাইফাহর চেহারায় আমি কোন অপছন্দের ভাব লক্ষ্য করিনি। (রাবী বলেন), তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
সহীহুল বুখারী ৪০০০, ৫০৮৮, মুসলিম ১৪৫৩, নাসায়ী ৩২২৩, ৩২৩৪, ৩৩১৯, ৩৩২০, ৩৩২১, ৩৩২২, ৩৩২৩, আবূ দাউদ ২০৬১, আহমাদ ২৫১২১, মুয়াত্তা মালেক ১২৮৮, দারেমী ২২৫৭, ইরওয়াহ ৬/২৬৪, রওদুন নাদীর ৩৫৪
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)
সুনান ইবনু মাজাহ
৯/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৯/৩৫. এক ঢোক অথবা দু’ ঢোকে দুধপানে হুরমত সাব্যস্ত হয় না।
৩/১৯৪২। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রথমদিকে কোরআনে এই বিধান ছিলো, যা পরে রহিত হয়ে যায়ঃ দশ ঢোক বা পাঁচ ঢোক দুধ পানের কমে নিষিদ্ধতা প্রতিষ্ঠিত হয় না।
সহীহুল বুখারী ১৪৫২, ইবনু মাজাহ ১৯৪৪, নাসায়ী ৩৩০৭, ২০৬২, মুয়াত্তা মালেক ১২৯৩, দারেমী ২২৫৩, ইরওয়াহ ২১৪৭, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)
সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ১৮। দুধপান
পরিচ্ছদঃ ৬. (কোন মহিলার দুধ) পাঁচ চুমুক খাওয়াতে হারাম সাব্যস্ত হওয়া প্রসঙ্গে
৩৪৯০-(২৫/…) আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ আল কা’নাবী (রহঃ) ….. আমরাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন, যখন তিনি দুধপানের ঐ পরিমাণ সম্পর্কে আলোচনা করলেন যার দ্বারা হারাম সাব্যস্ত হয়। আমরাহ বললেন যে, আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেছিলেন, আল-কোরআনে নাযিল হয় عَشْرُ رَضَعَاتٍ مَعْلُومَاتٍ “নির্ধারিত দশবার দুধপানে”। অতঃপর নাযিল হয় خَمْسٌ مَعْلُومَاتٌ “নির্ধারিত পাঁচবার দুধপানে।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৬৩, ইসলামীক সেন্টার. ৩৪৬২)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৮/ দুধপান
পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৩৪৬৬। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোরআনে এই আয়াতটি নাযিল হয়েছিলঃ عَشْرُ رَضَعَاتٍ مَعْلُومَاتٍ ‘দশবার দুধপানে হারাম সাবিত হয়।’ তারপর তা রহিত হয়ে যায় خَمْسٍ مَعْلُومَاتٍ এর দ্বারা। (পাঁচবার পান দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত হয়) তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন অথচ ঐ আয়াতটি কোরআনের আয়াত হিসাবে তিলাওয়াত করা হত।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বয়স্কলোককে দুধপান করানো মানসুখ হয়েছে?
উপরের হাদিসগুলোতে [9] লক্ষ্য করুন, নবীর মৃত্যু অবধি পাঁচবার দুধপানে হারাম সাব্যস্ত হওয়ার কোরআনের আয়াত তিলাওয়াত করা হতো। হাদিসের মধ্যে অথচ শব্দটি লক্ষ্য করুন। তাহলে সেই আয়াতটি কোথায়? নবীর মৃত্যু অবধি যদি আয়াতটি তিলাওয়াত করা হয়ে থাকে, এই আয়াতটি মানসুখের জন্য তো হাদিসের রেফারেন্স অন্তত লাগবে, সেটি কোথায়? এবারে আসুন এই হাদিসটির ব্যাখ্যা পড়ে নিই, যা থেকে জানা যায়, পাঁচবার দুধপানের আয়াত নবীর মৃত্যুর সময় অবধি কোরআনের আয়াত হিসেবে প্রচলিত ছিল, কিন্তু সেই আয়াতটি আর পাওয়া যায় না [10] –

আসুন আরেকটি হাদিস পড়ি, [11]
সুনান ইবনু মাজাহ
৯/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৯/৩৬. বয়স্ক লোকে দুধ পান করলে।
২/১৯৪৪। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রজম সম্পর্কিত আয়াত এবং বয়স্ক লোকেরও দশ ঢোক দুধপান সম্পর্কিত আয়াত নাযিল হয়েছিল, যা একটি সহীফায় (লিখিত) আমার খাটের নিচে সংরক্ষিত ছিল। যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন এবং আমরা তাঁর ইন্তিকালে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লাম, তখন একটি ছাগল এসে তা খেয়ে ফেলে।
মাজাহ ১৯৪৪ সহীহুল বুখারী ১৪৫২, নাসায়ী ৩৩০৭, ২০৬২, মুয়াত্তা মালেক ১২৯৩, দারেমী ২২৫৩, তা’লীক ইবনু মাজাহ।
তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাসানুল হাদিস। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সালিহ। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫০৫৭, ২৪/৪০৫ নং পৃষ্ঠা)
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)
এরপরে তো নবীর মৃত্যু হল, তাহলে নবীর মৃত্যুর পরে সেই আয়াতটি রহিত করলো কে বা কারা? কোরআনে বলা আছে, আল্লাহ একটি আয়াত রহিত করলে তার চেয়ে ভাল আরেকটি আয়াত আনেন। তাহলে দশবার দুধপানের আয়াত রহিত করে পাঁচবার করা হল, পাঁচবার দুধপানের আয়াত রহিত করে নিশ্চয়ই কোন আয়াত এসেছিল! যেই আয়াতটি পাঁচবারের হুকুমকে রহিত করে নাজিল হয়েছিল, সেটি কোথায়? নাকি পাঁচবার দুধপানের আয়াতটি কেউ গোপন করে ফেলেছে? [12] [13] –
আমি কোন আয়াত রহিত করলে কিংবা ভুলিয়ে দিলে, তাত্থেকে উত্তম কিংবা তারই মত আয়াত নিয়ে আসি, তুমি কি জান না যে, আল্লাহ প্রত্যেক বস্তুর উপর ক্ষমতাবান।
— Taisirul Quran
আমি কোন আয়াতের হুকুম রহিত করলে কিংবা আয়াতটিকে বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তদনুরূপ আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জাননা যে, আল্লাহ সর্ব বিষয়ের উপরই ক্ষমতাবান?
— Sheikh Mujibur Rahman
আমি যে আয়াত রহিত করি কিংবা ভুলিয়ে দেই, তার চেয়ে উত্তম কিংবা তার মত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
— Rawai Al-bayan
আমরা কোনো আয়াত রহিত করলে বা ভুলিয়ে দিলে তা থেকে উত্তম অথবা তার সমান কোনো আয়াত এনে দেই [১] আপনি কি জানেন না যে, আল্লাহ্ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
আমি যখন এক আয়াতের বদলে অন্য আয়াত নাযিল করি- আর আল্লাহ ভালভাবেই জানেন, যা তিনি নাযিল করেন– তখন এই লোকেরা বলে, ‘তুমি তো মিথ্যা রচনাকারী।’ প্রকৃত ব্যাপার এই যে, এ সম্পর্কে তাদের অধিকাংশেরই কোন জ্ঞান নেই।
— Taisirul Quran
আমি যখন এক আয়াতের পরিবর্তে অন্য এক আয়াত উপস্থিত করি, আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন তা তিনিই ভাল জানেন, তখন তারা বলেঃ তুমিতো শুধু মিথ্যা উদ্ভাবনকারী, কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানেনা।
— Sheikh Mujibur Rahman
আর যখন আমি একটি আয়াতের স্থানে পরিবর্তন করে আরেকটি আয়াত দেই- আল্লাহ ভাল জানেন সে সম্পর্কে, যা তিনি নাযিল করেন– তখন তারা বলে, তুমি তো কেবল মিথ্যা রটনাকারী; রবং তাদের অধিকাংশই জানে না।
— Rawai Al-bayan
আর যখন আমরা এক আয়াতের স্থান পরিবর্তন করে অন্য আয়াত দেই— আর আল্লাহ্ই ভাল জানেন যা তিনি নাযিল করবেন সে সম্পর্কে— , তখন তারা বলে, ‘আপনি তো শুধু মিথ্যা রটনাকারী’, বরং তাদের অধিকাংশই জানে না।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
শুধুমাত্র সালিমের জন্য কোরআনের বিধান?
অনেক ইসলামিক অ্যাপোলজিস্ট দাবি করেন যে, প্রাপ্তবয়স্কের দুগ্ধপানের এই বিধানটি ছিল একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা এবং এটি শুধুমাত্র সালিমের জন্যই বিশেষভাবে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই দাবির বিপরীতে এক বিশাল যৌক্তিক ও তাত্ত্বিক সংকট বিদ্যমান। সহীহ হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দুধপানের মাধ্যমে আত্মীয়তা বা ‘মাহরাম’ সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি এক সময় কোরআনের আয়াত হিসেবে নাযিল হয়েছিল এবং তা তিলাওয়াত করা হতো [14]।
এখন প্রশ্ন জাগে—যে কোরআনকে দাবি করা হয় কিয়ামত পর্যন্ত সমস্ত মানবজাতির জন্য একটি চিরন্তন ও সার্বজনীন সংবিধান হিসেবে, সেখানে আল্লাহ কি কেবল একজন বিশেষ ব্যক্তি বা একটি নির্দিষ্ট পরিবারের (সালিম ও সাহলা) ঘরোয়া সমস্যা সমাধানের জন্য একটি স্বতন্ত্র আয়াত নাযিল করবেন? যদি এই বিধানটি শুধুমাত্র সালিমের জন্য সীমাবদ্ধ থাকতো, তবে তা কোরআনের সার্বজনীন আইনের মর্যাদা পেত না। মূলত, এটি এক সময়ে কোরআনের আয়াত হিসেবে পঠিত হওয়ার অর্থই হলো—এটি ছিল একটি সাধারণ আইন। ফলে ‘শুধুমাত্র সালিমের জন্য বিশেষ ছাড়’—এই অজুহাতটি কেবল আধুনিককালের সমালোচনার মুখ থেকে বাঁচার একটি ব্যর্থ চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। বরং এটি প্রমাণ করে যে, তৎকালীন সময়ে এমন একটি অযৌক্তিক ও অস্বাভাবিক বিষয়কেও ঐশ্বরিক আইনের মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এবং এটিও ধারণা করা যায় যে, নবীর মৃত্যুর পরে সেই বিধানটি নিয়ে সবাই এতটাই বিব্রত হয়ে যান যে, সেটি লুকিয়ে ফেলা হয়।
আরও একটি হাদিস আসুন পড়ে নিই, [15] –
বয়স্ক (দুধপানকারী) ব্যক্তির জন্য যা অবৈধ
২০৬১। হযরত আয়েশা (রা.) ও উম্মে সালামা (রা.) হতে বর্ণিত। নিশ্চয় আবূ হুযায়ফা ইবন উবা ইবন রাবীআ ইব্ন আব্দ শামস সালেমকে পালক পুত্র হিসাবে লালন পালন করেন এবং তার সাথে তার ভ্রাতুষ্পুত্রী হিন্দু বিনতুল ওয়ালীদ ইবন রাবী’আর বিয়ে দেন। আর সে ছিল একজন আনাসর মহিলার আযাদকৃত গোলাম। যেমন আল্লাহর রাসূল যায়িদকে পালক পুত্র হিসাবে লালন পালন করেন। জাহিলিয়াতের যুগের প্রথা ছিল কাউকেও পালক পুত্র হিসাবে লালন পালন করা হলে লোকেরা তাকে তার সাথে সম্পর্কিত করে ডাকতো এবং সে তার উত্তরাধিকারী হত। অতঃপর কোরআনের এই আয়াত অবতীর্ণ হলঃ “তোমরা তাদের ডাকবে তাদের প্রকৃত পিতার সাথে সম্পর্কিত করে তারা তোমাদের দীনী ভাই এবং তোমাদের আযাদকৃত দাস”। কাজেই, তোমরা তাদেরকে তাদের পিতার সহিত সম্পর্কিত করবে। আর যদি কারো পিতৃ পরিচয় জানা না যায়, তবে সে দীনী ভাই ও আযাদকৃত দাস হবে। অতঃপর সাহলা বিন্ত সুহায়েল ইব্ উমার আল্-কোরায়েশী, পরে আল্-আমিরী যিনি আবূ হুযায়ফার স্ত্রী ছিলেন, আসেন এবং বরেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা সালেমকে আমাদের পুত্র হিসাবে গণ্য করি। আর সে আমার সাথে এবং আবু হুযয়ফার সাথে আমার ঘরে (আমাদের সন্তান হিসাবে) লালিত পালিত হয়েছে। আর সে আমাকে একই বস্ত্রের মধ্যে দেখেছে। আর আল্লাহ্ তা’য়ালা এদের সম্পর্কে যা অবতীর্ণ করেছেন, তা আপনি বিশেষভাবে জানেন। এখন তার সম্পর্কে আপনি কি নির্দেশ দেন? নবী করীম তাকে বলেন, তাকে পাঁচবার তোমার দুধপান করাও তাতে তুমি তার দুধ-মাতা হিসাবে গণ্য হবে। অতঃপর তিনি তাকে পাচবার দুধ পান করান এবং তিনি তার দুধমা হিসাবে গণ্য হন। এই কারণেই আয়েশা (রা.) তাঁর বোনের ও ভাইয়ের মেয়েদের ও ছেলেদেরকে পাঁচবার দুধ পান করাতে নির্দেশ দিতেন যারা তাকে ভালবাসতেন, যাতে তিনি তাদের সাথে দেখা করতে পারেন। কিন্তু উম্মে সালামা (রা.) ও নবী করীম-এর অন্যান্য স্ত্রীগণ এ বয়সে দুগ্ধ পানকারীগণকে নিজেদের নিকট আসতে বাঁধা দিতেন, বরং তারা ছোট বেলার দুধপান করাকেই প্রাধান্য দিতেন (বয়স্ক ব্যক্তির নয়)। আর আমরা আয়েশা (রা.) সম্পর্কে বলতাম আল্লাহর শপথ! আমাদের জানা নাই, সম্ভবতঃ এটা (সালেমের ব্যাপারটি) নবী করীম-এর পক্ষ হতে বিশেষভাবে অনুমোদিত ছিল, যা অন্যদের জন্য নয়।

পদ্ধতিগত বিতর্ক: সরাসরি পান নাকি পাত্রে?
পূর্ণবয়স্ক সালিম কীভাবে দুধ পান করেছিলেন, তা নিয়ে ইসলামী চিন্তাবিদদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি লক্ষ করা যায়। অনেক আলেম একে ‘সরাসরি স্তন্যপান’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, যা অত্যন্ত কোরুচিপূর্ণ ও আধুনিক যৌন নৈতিকতার পরিপন্থী। অন্যদিকে, কিছু আলেম এই কোরুচিপূর্ণ পরিস্থিতি এড়াতে বলেন যে, দুধ কোনো পাত্রে দোহন করে তাকে খাওয়ানো হয়েছিল। তবে উম্মুল মুমিনীন আয়েশার পরবর্তী কর্মকাণ্ড এবং অনেক মুহাদ্দিসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এটি সরাসরি পান করার দিকেই ইঙ্গিত করে, যা যেকোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের কাছে এক চরম বিকৃত ধারণা বলে মনে হতে পারে। এই জায়গাতে একটি ইসলামিক প্যারাডক্স বিদ্যমান।
বিশুদ্ধতম সূত্র ও আয়েশার আমল অনুযায়ী এটি ‘সরাসরি স্তন্যপান’ বা ‘মাস’ (চুষে খাওয়া)-র দিকেই ইঙ্গিত করে। একজন পরনারীর বুক থেকে পূর্ণবয়স্ক পুরুষের দুধ পান করার এই দৃশ্য আধুনিক যৌন নৈতিকতা ও মানবিক রুচিবোধের কাছে চরম বিকৃত এবং কোরুচিপূর্ণ বলে বিবেচিত।
ঘটনাটি ‘ভদ্রস্থ’ করতে অনেকে দাবি করেন দুধ পাত্রে দোহন করে খাওয়ানো হয়েছিল। কিন্তু এই বর্ণনার সূত্র হলো ওয়াকিদি, যাকে ইমাম বুখারী ও আহমদ ইবনে হাম্বলরা ‘মিথ্যাবাদী’ বলে বর্জন করেছেন। পাত্রের দাবি মানলে ‘মিথ্যাবাদী’কে সত্য মানতে হয়, আর ওয়াকিদিকে বর্জন করলে ‘সরাসরি স্তন্যপান’ মেনে নেওয়া ছাড়া পথ থাকে না।
আয়েশা সহ নবীর অন্যান্য স্ত্রীদের কারো সন্তান ছিল না, ফলে স্তনে দুধ থাকা জীববৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব। সম্পর্কের নাম পাল্টানোর জন্য বোন বা ভাগ্নিদের দিয়ে দুধ পান করানোর যে ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ চালানো হয়েছিল, তা একটি অস্বাভাবিক এবং কোরুচিপূর্ণ জৈবিক পথ বেছে নেওয়ারই নামান্তর।
এই বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য, আসুন সুন্নাহ ডট কম থেকে এর ইংরেজি অনুবাদটি পড়ি,
17. The Book of Suckling
(7) Chapter: Breastfeeding an adult
‘ A’isha (Allah be pleased with her) reported that Sahla bint Suhail came to Allah’s Apostle (may peace be eupon him) and said:
Messengerof Allah, I see on the face of Abu Hudhaifa (signs of disgust) on entering of Salim (who is an ally) into (our house), whereupon Allah’s Apostle (ﷺ) said: Suckle him. She said: How can I suckle him as he is a grown-up man? Allah’s Messenger (ﷺ) smiled and said: I already know that he is a young man ‘Amr has made this addition in his narration that he participated in the Battle of Badr and in the narration of Ibn ‘Umar (the words are): Allah’s Messenger (ﷺ) laughed.
Reference : Sahih Muslim 1453a
In-book reference : Book 17, Hadith 33
USC-MSA web (English) reference : Book 8, Hadith 3424
এবারে আসুন বর্তমানে প্রচলিত হাদিসের মধ্যে সবচাইতে প্রাচীন হাদিস গ্রন্থ মুয়াত্তা মালিকের হাদিস গ্রন্থ থেকে দেখি, দুধ পাত্রে পান করাতে হবে নাকি সরাসরি চোষাতে হবে [16] –
মুয়াত্তা মালিক
৩০. সন্তানের দুধ পান করানোর বিধান সম্পর্কিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১. শিশুদের দুধ পান করানো
রেওয়ায়ত ৭. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সালিম ইবন আবদিল্লাহ (রহঃ) তাহার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি যখন দুগ্ধপোষ্য ছিলেন, তখন আয়েশা উম্মুল মু’মিনীন (রাঃ) তাহাকে পাঠাইলেন তাহার ভগ্নী উম্মে কুলসুম বিনত আবী বকর (রাঃ) এর নিকট এবং বলিয়া দিলেন- ইহাকে (সালিমকে) দশবার দুধ চোষাইয়া দিন, যেন সে আমার নিকট প্রবেশ করিতে পারে। সালিম বলেনঃ উম্মে কুলসুম আমাকে তিনবার দুধ চোষাইয়াছেন। তারপর আমি পীড়িত হই, তাই আমাকে তিনবার ছাড়া আর দুধ পান করান নাই, যেহেতু উম্মে কুলসুম আমাকে দশবার দুধ পান করান নাই তাই আমি আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করিতাম না।
হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ
বর্ণনাকারীঃ নাফি‘ (রহঃ)
মুয়াত্তা মালিক
৩০. সন্তানের দুধ পান করানোর বিধান সম্পর্কিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩. দুধ পান করানোর বিবিধ বিষয়
রেওয়ায়ত ১৭. আমরা বিনত আবদির রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পত্নী আয়েশা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ কোরআনে যাহা অবতীর্ণ হইয়াছিল তাহাতে দশবার দুধ চোষার কথা নির্ধারিত ছিল, যাহা হারাম করিবে, তারপর উহা রহিত হইয়া যায় নির্ধারিত পাঁচবার দুগ্ধ চোষার (অবতীর্ণ হুকুমের) দ্বারা। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের ওফাত হয় তখনও সেই পাঁচবার দুধ চোষার (হুকুমের অংশ) সম্মিলিত আয়াত তিলাওয়াত করা হইত।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহার উপর আমল নাই। অর্থাৎ পাঁচবারের উপর আমল নাই। দুগ্ধ পান অল্প হউক বা বেশি হউক বিবাহ সম্পর্ক হারাম করিবে।
হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ
বর্ণনাকারীঃ আমরাহ বিনতু আবদুর রহমান (রহঃ)

এবারে আসুন এই রেফারেন্সটি দেখি। এখানে বলা হচ্ছে, নবীর শেষ যুগে নাকি পাঁচবার দুধ খাওয়ানোর আয়াত মানসুখ হয়ে গেছে। কিন্তু সেটির রেফারেন্স কোথায়? কোন হাদিসে এটি বর্ণিত আছে? ইসলামিক দলিল প্রমাণ ঘেঁটে সেই সম্পর্কে কোন তথ্য কেন পাওয়া যাচ্ছে না?

ইসলামিক অ্যাপোলজিস্টদের দাবি অনুযায়ী, এই বিধানটি শুধুমাত্র সালিমের জন্য ছিল। কিন্তু সহীহ হাদিস বলছে, এটি একসময় কোরআনের আয়াত হিসেবে পড়ানো হতো।
- বিধানটি কেবল সালিমের জন্য হলে, আল্লাহ কেন এটি কোরআনের আয়াতের মতো সার্বজনীন রূপে নাযিল করবেন?
- কোরআন যদি কিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির সংবিধান হয়, তবে সেখানে একজনের ঘরোয়া সমস্যা সমাধানে স্বতন্ত্র আয়াত নাযিল হওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত?
বলা হয় এই বিধানটি মানসুখ (রহিত) হয়ে গেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রহিতকারী সেই অকাট্য দলিল বা হাদিসটি আসলে কোথায়?
- নবীর জীবনের শেষ মুহূর্তের সাক্ষী আয়েশা নিজেই এই বিধানের সপক্ষে আমল করতেন।
- যদি এটি রহিত হতো, তবে আয়েশা কেন তাঁর বোন বা ভাগ্নিদের দিয়ে এটি নিয়মিত অনুশীলন করাতেন?
- নবীর সর্বশেষ বিধান আয়েশারই সবচাইতে ভালো জানার কথা, অথচ তাঁর আমল রহিতকরণের দাবির সম্পূর্ণ বিরোধী।
চোষানো’ শব্দের ভাষাগত ও ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ
ইসলামি ফিকহ ও হাদিসের ভাষ্যে ‘রদা’ (رضاعة) এবং ‘ইমতিসাস’ (امتصاص) শব্দ দুটি একচেটিয়াভাবে স্তন থেকে সরাসরি দুগ্ধ চোষার শারীরিক প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে। আরবি ব্যাকরণ ও অভিধান অনুসারে, ক্রিয়াপদ ‘রাদা’ (رضع) শুধুমাত্র শিশু বা ব্যক্তির মুখ দিয়ে স্তন্যদানের (স্তন চোষার) অর্থ বহন করে—যেমন লিসানুল আরব (ইবনে মানজুর)-এ স্পষ্ট বলা হয়েছে: “রাদা’আল-সাবি” অর্থাৎ শিশু স্তন্য চোষে, এবং এটি কোনো পাত্র থেকে পান করা (شرب) নয়। নবী সাহলা বিনতে সুহাইলকে যখন নির্দেশ দিয়েছিলেন “أَرْضِعِيهِ” (আর্দিয়িহি—তাকে স্তন্যদান করো), তখন তিনি ‘রাদা’আ’ ক্রিয়াপদের চতুর্থ রূপ (আফ’আল) ব্যবহার করেছিলেন, যা শুধুমাত্র সরাসরি স্তন চোষার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যদি উদ্দেশ্য কোনো পাত্রে দুধ ঢেলে পান করানো হতো, তাহলে আরবি ভাষায় ‘আসকাহু’ (أسقاه—পান করানো) বা ‘শারিব’ (شرب—পান করা) বা ‘ওয়াজুর’ (وجور—মুখে ঢেলে দেওয়া) শব্দ ব্যবহৃত হতো। সাহলার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া—“সে তো একজন দাড়িওয়ালা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ, আমি তাকে কীভাবে স্তন্যদান করবো?”—স্পষ্ট প্রমাণ করে যে এটি কোনো সাধারণ দুধপান নয়, বরং সরাসরি শারীরিক স্পর্শ, চোষা এবং স্তনের সাথে মুখের যোগাযোগ জড়িত।
জাহিরি মাজহাবের প্রধান ইমাম ইবনে হাজম আন্দালুসি তার ‘আল-মুহাল্লা’ গ্রন্থে (ভলিউম ১০) দ্ব্যর্থহীনভাবে উল্লেখ করেছেন যে, দুধ-সম্পর্কিত মাহরাম হওয়ার শর্তই হলো সরাসরি স্তন থেকে চোষা (امتصاص مباشر من الثدي)—পাত্রে দুধ ঢেলে খাওয়ালে এই বিধান কার্যকর হয় না। তিনি হাদিসের শব্দ “أَرْضِعِيهِ” কে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি শুধুমাত্র স্তন্যপানের শারীরিক প্রক্রিয়া বোঝায়, অন্য কোনো উপায় নয়। এই ভাষাগত বিশ্লেষণ প্রমাণ করে যে, বিধানটি কোনো সাধারণ ‘দুধ খাওয়ানো’ নয়—বরং একটি নির্দিষ্ট, সরাসরি ও শারীরিক আচরণ যা ইসলামি ফিকহের মূল নীতির সাথে সরাসরি সংঘাতে পড়ে। আসুন আল-মুহাল্লা গ্রন্থ থেকে এই বিষয়ে পড়ি [17]
আল-মুহাল্লা বিল আসার: প্রাপ্তবয়স্কের দুধপান সংক্রান্ত মাসআলা
ইমাম ইবনে হাজম আল-আন্দালুসি
মূল বক্তব্য
মাসআলা: প্রাপ্তবয়স্কের দুধপানও (বিবাহ) হারাম করে দেয়—এমনকি সে যদি বৃদ্ধও হয়—ঠিক যেভাবে শিশুর দুধপান হারাম করে। এ দুইয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
এই বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে:
১. প্রথম পক্ষ: একদল বলেন, কেবল শৈশবে দুধপান করলেই হারাম হয়, বড় অবস্থায় নয়। তবে তারা এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেননি। যেমন মালেক, ইবনে শিহাব ও উরওয়াহ ইবনুল জুবাইরের সূত্রে বর্ণিত—আয়িশা (রা.) ব্যতীত নবী (সা.)-এর অন্যান্য স্ত্রীগণ মনে করতেন যে, সালেম মাওলা আবু হুজাইফার ঘটনাটি কেবল তার জন্যই নির্দিষ্ট ছিল। এটি প্রমাণ করে যে, তারা কেবল শিশুর দুধপানকেই হারাম হওয়ার কারণ মনে করতেন। এছাড়া উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এবং ইবনে উমর (রা.) থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, “দুধপান কেবল শৈশবেই ধর্তব্য” [18]।
২. দ্বিতীয় পক্ষ: একদল বলেন, কেবল দোলনায় থাকা অবস্থায় (অর্থাৎ অতি শৈশবে) দুধপান করলেই হারাম হবে। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবের মতে, “দোলনা ছাড়া কোনো দুধপান (হারাম) নেই” [19]।
৩. তৃতীয় পক্ষ: অন্য একদল বলেন, বুকের দুধ ছাড়ানোর (ফিতাম) আগের দুধপানই কেবল হারাম করে, পরেরটি নয়। উম্মে সালামাহ (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, দুধ ছাড়ানোর পর দুধপান কি হারাম করে? তিনি বলেছিলেন, “না” [20]। আবু মুসা আল-আশআরি (রা.)-এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বললেন যে তিনি তার স্ত্রীর স্তন চুষেছেন এবং দুধ তার পেটে গেছে। আবু মুসা প্রথমে বলেছিলেন, “তোমার স্ত্রী তোমার জন্য হারাম হয়ে গেছে।” কিন্তু ইবনে মাসউদ (রা.) এর বিরোধিতা করে বলেন, “দুধপান কেবল তা-ই যা হাড় ও মাংস গঠন করে।” তখন আবু মুসা নিজের মত প্রত্যাহার করেন [21]।
আবু হানিফা, মালেক ও জফরের মতের সমালোচনা
ইমাম ইবনে হাজম বলেন:
জফর ইবনুল হুযাইল বলেন, তিন বছর বয়স পর্যন্ত দুধপান হারাম করে।
আবু হানিফা বলেন, দুই বছর ছয় মাস পর্যন্ত হারাম করে।
ইমাম মালেক বলেন, দুই বছর দুই মাস পর্যন্ত হারাম করে।
ইবনে হাজম কঠোর ভাষায় বলেন, “আবু হানিফা, জফর এবং মালেকের এই তিন মতের কোনোটির পক্ষেই তাদের পূর্বসূরি কোনো আলেম থেকে কোনো প্রমাণ আমরা জানি না। তারা কেবল নিজেদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করেছেন। আমরা এই ফিতনা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই” [22]।
আয়িশা (রা.) ও ইবনে হাজমের দলিল (প্রাপ্তবয়স্কের দুধপান)
ইমাম ইবনে হাজম প্রাপ্তবয়স্কের দুধপান হারাম হওয়ার পক্ষে শক্তিশালী দলিল পেশ করেন:
১. সালেম ও সাহলার ঘটনা: আবু হুজাইফার স্ত্রী সাহলা বিনতে সুহাইল নবী (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, “সালেম (পালক পুত্র) বড় হয়ে গেছে, সে আমাদের ঘরে প্রবেশ করে, যা আবু হুজাইফার পছন্দ নয়।” নবী (সা.) মুচকি হেসে বললেন, “তাকে দুধ পান করাও, তবেই তুমি তার জন্য হারাম (মাহরাম) হয়ে যাবে এবং আবু হুজাইফার মনের অস্বস্তি দূর হবে।” সাহলা বললেন, “সে তো দাড়িওয়ালা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ!” নবী (সা.) বললেন, “আমি জানি সে বড় মানুষ” [23]।
২. আয়িশা (রা.)-এর আমল: আয়িশা (রা.) এই হাদিসের ওপর ভিত্তি করে ফতোয়া দিতেন। তিনি যখন চাইতেন কোনো পুরুষ তার ঘরে প্রবেশ করুক, তখন তিনি তার বোন উম্মে কুলসুম বা ভাইদের মেয়েদের নির্দেশ দিতেন তাকে দুধ পান করাতে। এরপর সেই পুরুষ আয়িশা (রা.)-এর মাহরাম হয়ে যেতেন [24]।
৩. লিথ বিন সা’দ ও আতা বিন আবি রাবাহ: প্রখ্যাত ফকিহ লিথ বিন সা’দ এবং আতা বিন আবি রাবাহও প্রাপ্তবয়স্কের দুধপানের মাধ্যমে মাহরাম হওয়া জায়েজ মনে করতেন [25]।
ইবনে হাজমের চূড়ান্ত যুক্তি
ইবনে হাজম বলেন, যারা বলেন এই আয়াতগুলো বা বিধানগুলো মানসূখ (রহিত) হয়ে গেছে, তাদের দাবি বাতিল। কারণ কোনো স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া সহীহ হাদিসকে মানসূখ বলা যায় না।
নবী (সা.) সাহলা বিনতে সুহাইলকে যখন এই নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন তিনি জানতেন সালেম একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষ।
যদি এটি কেবল সালেমের জন্য বিশেষ অনুমতি হতো, তবে নবী (সা.) তা স্পষ্ট করে দিতেন, যেমনটি তিনি আবু বুরদাহর কোরবানির ক্ষেত্রে করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, “কিছু মানুষ (প্রতিপক্ষ) আপত্তি করে যে, একজন বড় পুরুষ কীভাবে পরনারীর স্তন চুষবে? অথচ তারাই আবার ফতোয়া দেয় যে দাসী বিবস্ত্র হয়ে নামাজ পড়তে পারবে বা লজ্জাবস্থানের কিছু অংশ দেখা গেলে নামাজ হবে। তাদের লজ্জা ও দ্বীনদারির অভাব দেখে আমরা আল্লাহর আশ্রয় চাই” [26]।
উপসংহার: ইমাম ইবনে হাজমের মতে, কোরআনের সাধারণ আয়াত “তোমাদের সেই মায়েরা যারা তোমাদের দুধপান করিয়েছে” [27] কোনো নির্দিষ্ট সময়ের কথা উল্লেখ করেনি। তাই সহীহ হাদিসের ভিত্তিতে প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় কমপক্ষে ৫ বার দুধপান করলে মাহরাম সম্পর্ক তৈরি হবে। আয়িশা (রা.) আমৃত্যু এই ফতোয়াই দিয়ে গেছেন।
বিধানটির প্রয়োগ ও উৎস নিয়ে তৈরি হওয়া সংঘাত
‘রদা আল-কাবীর’ বা প্রাপ্তবয়স্কের দুধপানের বিধানটি ইসলামের ইতিহাসে একটি গভীর তাত্ত্বিক, নৈতিক ও যৌক্তিক সংঘাতের জন্ম দিয়েছে, যা শুধুমাত্র সাহাবীদের মধ্যে নয়—বরং কোরআন ও সুন্নাহর মৌলিক দাবির সাথেও সরাসরি সংঘর্ষ করে। প্রথমত, নবী-এর স্ত্রীদের মধ্যে এ নিয়ে স্পষ্ট বিভাজন দেখা যায়; আয়িশা একে সাধারণ বিধান হিসেবে গ্রহণ করে তার ঘরে প্রবেশকারী পুরুষদের জন্য এটি প্রয়োগ করতেন—তিনি নিজে না করে তার বোন উম্মে কুলসুম বিনতে আবু বকর এবং ভাগ্নিদের (বোনের কন্যাদের) মাধ্যমে দুধপান করাতেন, যাতে তারা মাহরাম হয়ে তার সামনে আসতে পারে। অন্যদিকে উম্মে সালামাহসহ বাকি স্ত্রীরা একে কেবল সালেমের জন্য একটি বিশেষ ও ব্যতিক্রমী ঘটনা মনে করে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং বলেছিলেন, “আমরা এই বিধানকে শুধু সালেমের জন্য রাসূল (সা.)-এর বিশেষ অনুমতি মনে করি, অন্য কারো জন্য নয়”। এই বিভাজন স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, সাহাবীদের মধ্যেও এ বিধানের প্রয়োগ নিয়ে ঐকমত্য ছিল না।
দ্বিতীয়ত, এই বিধানটি একটি চরম লজিক্যাল প্যারাডক্স বা যৌক্তিক স্ববিরোধিতা সৃষ্টি করে—ইসলামে পরনারীর দিকে তাকানো, স্পর্শ করা বা একাকী অবস্থান (খলওয়াহ) কঠোরভাবে নিষিদ্ধ (যেমন কোরআন ২৪:৩০-৩১ ও হাদিসে), অথচ ‘মাহরাম’ হওয়ার জন্যই একজন পরনারীর স্তন সরাসরি চোষার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এটি শুধু শারীরিক স্পর্শ নয়—বরং একটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের মুখ স্তনের সাথে যুক্ত করার মাধ্যমে যৌনতা-সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞাকে ‘বাইপাস’ করার একটি অদ্ভুত পদ্ধতি, যা ইসলামের মৌলিক নৈতিকতা ও হিজাবের নীতির সাথে সরাসরি সংঘাতে পড়ে।
তৃতীয়ত, এই বিধানের ভিত্তি হিসেবে কথিত ‘দশ ঢোক দুধপান’ সংক্রান্ত কোরআনের আয়াতটি বর্তমানে কোরআনে অনুপস্থিত। আয়িশা-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, আয়াতটি (“দশবার স্তন্যপান করলে মাহরাম হয়”) নবী-এর মৃত্যুর পর তার বিছানার নিচে রাখা কাগজে ছিল, কিন্তু একটি ছাগল (বা ভেড়া) এসে তা খেয়ে ফেলে। এই ঐতিহাসিক তথ্য কোরআনের অপরিবর্তনীয়তার দাবি (যেমন সুরা আল-হিজর ১৫:৯—“আমি কোরআন নাজিল করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষক”) এর সাথে সরাসরি সংঘাতে জড়ায়। এটি প্রমাণ করে যে, সহীহ হাদিস (মুসলিম ও ইবনে মাজাহ) এবং বর্তমান কোরআনিক সংকলনের মধ্যে একটি বড় ধরনের অসামঞ্জস্য বিদ্যমান—যা শুধু ফিকহি বিতর্ক নয়, বরং কোরআনের অখণ্ডতা ও সংরক্ষণের মৌলিক দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে।
উপসংহার: মানবিকতা বনাম ধর্মীয় গোঁড়ামি
পরিশেষে বলা যায়, ‘রদা-আল-কাবীর’ বা প্রাপ্তবয়স্কের দুগ্ধপান বিষয়টি ইসলামের এমন এক অংশ যা অনেক আধুনিক মুসলিমও প্রকাশ্য আলোচনায় এড়িয়ে যেতে চান। কারণ এটি মানুষের সাধারণ বিচারবুদ্ধি এবং রুচিবোধের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ধর্মের নামে এমন সব কোরুচিপূর্ণ ও অবৈজ্ঞানিক প্রথাকে যখন পবিত্র মনে করা হয়, তখন তা কেবল যুক্তিকেই অপমান করে না, বরং মানুষের নৈতিক মানদণ্ডকেও নিচু করে দেয়। সভ্য সমাজের ভিত্তি হওয়া উচিত পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও যৌক্তিক আইন, এমন কোনো অদ্ভুত বিধান নয় যা সম্পর্কের সংজ্ঞা পাল্টে দেওয়ার নামে মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি নিয়ে খেলা করে।
তথ্যসূত্রঃ
- সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩৪৬৯ ↩︎
- সহিহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪০০ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩৪৭০ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩৪৭২ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩৪৭৩ ↩︎
- সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিসঃ ১৯৪৩ ↩︎
- সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিসঃ ১৯৪২ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, হাদিস একাডেমী, হাদিসঃ ৩৪৯০ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩৪৬৬ 1 2
- আল-আওনুল মাহমুদ ফি-হল্লি সুনানে আবী দাউদ (কিতাবুয্ যাকাত – কিতাবুল জিহাদ), সংকলন ও সম্পাদনাঃ মাওলানা আব্দুল হাফীজ বিন আব্দুর রউফ, আল-মাহমূদ প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ৩৭২ ↩︎
- সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিসঃ ১৯৪৪ ↩︎
- সূরা বাকারাঃ ১০৬ ↩︎
- সূরা নাহলঃ ১০১ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, হাদিস একাডেমি, হাদিস নং: ৩৫৮৫ ↩︎
- আল-আওনুল মাহমুদ ফি-হল্লি সুনানে আবী দাউদ (কিতাবুয্ যাকাত – কিতাবুল জিহাদ), সংকলন ও সম্পাদনাঃ মাওলানা আব্দুল হাফীজ বিন আব্দুর রউফ, আল-মাহমূদ প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ৩৭১ ↩︎
- মুয়াত্তা ইমাম মালেক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৩২, ২৩৩, ২৩৮ ↩︎
- مسألة : ورضاع الكبير محرم – ولو أنه شيخ يحرم – كما يحرم رضاع الصغير ولا فرق ؟ ↩︎
- মুয়াত্তাহ মালেক, ৩/৬০৪; সুনান বাইহাকি, ১৫৫৯৩ ↩︎
- মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, ৭/৪৬৩ ↩︎
- মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ, ৪/১৭১ ↩︎
- সুনান আবু দাউদ, ২০৬০ ↩︎
- আল-মুহাল্লা, ১০/২০৪ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, ১৪৫৩ ↩︎
- সুনান আবু দাউদ, ২০৬১; মুয়াত্তাহ মালেক, ১২৯২ ↩︎
- আল-মুহাল্লা, ১০/২০৫ ↩︎
- আল-মুহাল্লা, ১০/২১১ ↩︎
- সূরা নিসা, ২৩ ↩︎
