
Table of Contents
ভূমিকা
এই প্রবন্ধে আমরা নবুয়তের দাবিকে “পরীক্ষা” করার নামে উত্থাপিত কয়েকটি চ্যালেঞ্জ—এবং সেগুলোর জবাবে ইসলামী বর্ণনাগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়—তা যুক্তির আলোকে বিশ্লেষণ করব। উদ্দেশ্য কোনো ভক্তিবাদী সিদ্ধান্ত টানা নয়; বরং একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড ধরে দেখা: যে ব্যক্তি ঈশ্বরের পক্ষ থেকে সত্য-বার্তা বহন করার দাবি করেন, তার কাছে যখন প্রতিপক্ষরা যাচাইযোগ্য প্রশ্ন বা শর্তযুক্ত প্রমাণ দাবি করে, তখন সেই দাবি কতটা স্বচ্ছ, কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং কতটা তথ্যগতভাবে পর্যাপ্ত থাকে।
প্রবন্ধের প্রথম অংশে আলোচ্য “তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে ১৫ দিন” ঘটনাটি—যেখানে কুরাইশ নেতারা ইহুদি আলেমদের কাছ থেকে তিনটি প্রশ্ন শিখে এনে মুহাম্মদের কাছে উপস্থাপন করে নবুয়তের সত্যতা যাচাই করতে চায়। সীরাত-তাফসিরের প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী মুহাম্মদ “আগামীকাল” উত্তর দেবেন বললেও টানা পনেরো দিন ওহী বন্ধ থাকে; পরে ঘটনাটিকে “ইনশাআল্লাহ না বলা”—এই ব্যাখ্যায় টেনে আনা হয়। এরপর আমরা প্রশ্নগুলোর প্রকৃতি (পরিচয়/সংজ্ঞা/নির্দিষ্ট তথ্য) এবং কোরআন-হাদিসে যে উত্তরগুলো এসেছে—তা আদৌ প্রশ্নের প্রত্যাশিত কাঠামো পূরণ করে কি না—সেটি পর্যবেক্ষণ করি।
প্রবন্ধের পরের অংশগুলোতে একই ধরনের “চ্যালেঞ্জ বনাম প্রতিক্রিয়া” ধারা আরও স্পষ্ট করে দেখানো হয়েছে: সাফা পাহাড়কে সোনার পাহাড়ে পরিণত করার দাবি, বনূ নাদিরের সাথে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর-পর্ব থেকে হঠাৎ সরে যাওয়ার বর্ণনা, এবং এক বেদুঈনের বৃষ্টি-দোয়ার অনুরোধকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো। প্রতিটি ক্ষেত্রেই মূল প্রশ্ন একটাই—নবুয়তের দাবির সত্যতা যাচাইয়ের মুহূর্তে প্রতিক্রিয়াগুলো কি যুক্তিসঙ্গত, ধারাবাহিক, এবং প্রমাণের ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণকারী; নাকি এগুলো ব্যাখ্যা-নির্ভর এড়িয়ে যাওয়া, কর্তৃত্বমূলক থামিয়ে দেওয়া, অথবা সুবিধাজনক রূপকথামূলক/অলৌকিক দাবিতে আশ্রয় নেওয়া।
তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে ১৫ দিন
ইসলামী তাফসির এবং সীরাত বর্ণনা অনুযায়ী, কুরাইশ নেতারা মুহাম্মদের নবুয়তের দাবিকে যাচাই করতে মদিনার ইহুদি আলেমদের শরণাপন্ন হয়। মুহাম্মদকে ইহুদিদের কাছ থেকে ইহুদি ধর্মের কিতাব সম্পর্কে জেনে এসে তিনটি জটিল প্রশ্ন করেছিল কাফেররা, সে আসলেই নবী কিনা সেটি পরীক্ষার জন্য। এই প্রেক্ষাপটে ইহুদি আলেমরা তিনটি প্রশ্ন সাজিয়ে দেয়:
- ১) অতীত যুগের সেই যুবকরা কারা—যাদের ঘটনা ছিল “অসাধারণ” (আসহাবে কাহফ/গুহাবাসী যুবক)
- ২) এমন ব্যক্তি কে—যিনি পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত ভ্রমণ করেছিলেন (যুলকারনাইন)
- ৩) “রূহ” কী?
মুহাম্মদ উত্তরে তাদের বলেছিল, আগামীকাল তিনি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবেন। অথচ তার পনেরোদিন পর্যন্ত মুহাম্মদের উত্তরের কোন খোঁজখবর পাওয়া যায়নি। তার কাছে নাকি এই পনেরোদিন জিব্রাইল আসেনি। এরকম একটি জরুরি মুহূর্তে, যেখানে আল্লাহ এবং মুহাম্মদের মান সম্মান নিয়ে টানাটানি, ইসলামের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন এবং চ্যালেঞ্জ করেছে কাফেররা, সেখানে জিব্রাইল নাকি আসেনি। পরে মুহাম্মদ অজুহাত দেখিয়েছিল যে, সে নাকি সেদিন ইনশাল্লাহ বলেনি দেখে আল্লাহ গোস্বা করে জিব্রাইলকে পাঠায়নি!
এরকম ফালতু অজুহাত আমি জীবনে কোনদিন শুনিনি! এরকম একটি জরুরি মূহুর্ত, সেই সময়ে হঠাৎ আল্লাহ নাকি গোস্বা খেয়ে বসে আছেন! কী মুসিবত। এরপরে জিব্রাইল ব্যাটা আসলো, কিন্তু যেই উত্তর দিলো, সেগুলো কোনটিই আসলে সেই প্রশ্নগুলোর সঠিক কোন উত্তর নয়। সেগুলো নিয়ে পরে আসছি। আগে দেখে নিই, পনেরো দিন ওহী নাজিল বন্ধ ছিল কেন এবং কীভাবে, সেটি। এই পনেরোদিন নবী মুহাম্মদ কোথায় কোথায় প্রশ্নের উত্তরের জন্য ঘোরাঘুরি করেছে, কোন কোন ইহুদি আলেমের হাতেপায়ে ধরেছে, সেটি অবশ্য আমাদের জানা নেই! [1] –
জনৈক মিসরী শায়েখের বরাত দিয়ে ইকরামা সূত্রে ইসহাকের মাধ্যমে ইবনে জারীর বর্ণনা করেছেন, হজরত ইবনে আব্বাস বলেছেন, কুরায়েশ গোত্রাধিনায়কেরা একবার নজর বিন হারেছ এবং উকবা বিন আবী মুয়ীতকে মদীনার ইহুদী আলেমদের কাছে পাঠালো। তাদেরকে বলে দিলো, তোমরা ইহুদী পণ্ডিতদেরকে মোহাম্মদ ও তার কথাবার্তা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে দেখো। তারা গ্রন্থধারী। তাই তারা মোহাম্মদ সম্পর্কে সঠিক তথ্য বলতে পারবে। তারা যা বলে তা শুনে এসে তোমরা আমাদেরকে জানিয়ো। নজর ও উকবা পৌঁছে গেলো মদীনায়। রসুল স. সম্পর্কে সব কথা তারা খুলে বললো ইহুদী পণ্ডিতদের নিকট । পণ্ডিতেরা বললো, তোমরা তাকে এই তিনটি প্রশ্ন কোরো। প্রশ্ন তিনটির জবাব দিতে পারলে, মনে করবে তিনি সত্য নবী। আর জবাব দিতে না পারলে মনে করবে, সে ভণ্ড। প্রশ্ন তিনটি এই— ১. অতীত যুগের ওই সকল যুবক কারা, যারা পৃথিবীতে ঘটিয়েছিলো একটি অসাধারণ ঘটনা। ২. ওই ব্যক্তির পরিচয় কী, যে পরিভ্রমণ করেছিলো পৃথিবীর পূর্ব প্রান্ত থেকে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত। ৩. রূহ কী ? নজর ও উকবা ফিরে এলো মক্কায়। গোত্রাধিনায়কদের বললো, এবার তবে মোহাম্মদের সঙ্গে একটা চূড়ান্ত মীমাংসা হয়েই যাক। তোমরা তাঁকে এই তিনটি প্রশ্ন করে দেখো। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে উপস্থিত হলেন রসুল স. স্বয়ং। তারা তখন একে একে রসুল স.কে বর্ণিত প্রশ্ন তিনটি করলো। রসুল স. বললেন, তোমাদের প্রশ্নের উত্তর দিবো আমি আগামীকাল। কিন্তু একথার সঙ্গে তিনি স. ইনশা আল্লাহ্ (আল্লাহ্ যদি চান) কথাটি উচ্চারণ করলেন না। পরিণতি হলো এই যে, একাধারে পনেরো দিন পর্যন্ত হজরত জিবরাইল আবির্ভূত হলেন না । অবতীর্ণ হলো না কোনো প্রত্যাদেশও। রসুল স. বড়ই পেরেশান হয়ে পড়লেন । অংশীবাদিরা করতে লাগলো নানা রকম অপমন্তব্য। এমতাবস্থায় সুরা কাহ্ফ নিয়ে অবতীর্ণ হলেন হজরত জিবরাইল। এতে সন্নিবেশিত করা হলো অংশীবাদিদের প্রশ্নত্রয়ের উত্তর। সেই সঙ্গে তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করা হলো অংশীবাদিদেরকে।

তিন প্রশ্নের “উত্তর” আদৌ কি উত্তর ছিল?
ইসলামী দাবিতে বলা হয়—সুরা কাহফে প্রথম দুই প্রশ্নের জবাব এবং অন্যত্র রূহের প্রসঙ্গ এসেছে। কিন্তু যৌক্তিকভাবে দেখলে সমস্যা হলো: যে প্রশ্নগুলো “টেস্ট” হিসেবে করা হয়েছিল, কোরআনের উত্তরগুলো “তথ্যগত/সংজ্ঞাগত উত্তর” নয়—বরং ভাসাভাসা বা আংশিক কাহিনি, বা “জানা নেই” ধরনের প্রতিক্রিয়া। নিচে তিনটা প্রশ্ন ধরে দেখাচ্ছি।
“ওই যুবকেরা কারা?” — (আসহাবে কাহফ)
প্রশ্নটি ছিল: অতীতের সেই যুবকেরা কারা—যাদের ঘটনা “অসাধারণ”? তাত্ত্বিকভাবে এখানে প্রত্যাশা থাকে: কারা ছিল, কতজন, কোন সময়/স্থান/পরিচয়—এসব নির্দিষ্ট তথ্য।
কিন্তু কোরআনের বর্ণনা (সূরা কাহফ ১৮:৯–২৬ অংশ) মূলত একটি ন্যারেটিভ দেয়; নাম-পরিচয়/ঐতিহাসিক শনাক্তকরণ দেয় না। বরং কোরআনেই বলা হয়—লোকেরা তাদের সংখ্যা নিয়ে অনুমান করবে: “তিন… পাঁচ… সাত…”, তারপর বলা হয়: “আমার রবই তাদের সংখ্যা সবচেয়ে ভালো জানেন… এ বিষয়ে তর্ক করো না।” [2]
কতক লোক বলবে, ‘তারা ছিল তিনজন, তাদের চতুর্থটি ছিল তাদের কুকুর।’ আর কতক লোক বলবে, ‘তারা ছিল পাঁচ জন, তাদের ষষ্ঠটি ছিল তাদের কুকুর’, (এ কথা তারা বলবে) অজানা বিষয়ে সন্দেহপূর্ণ অনুমানের ভিত্তিতে। আবার তাদের কতক লোক বলবে, ‘তারা ছিল সাতজন, আর তাদের অষ্টমটি ছিল তাদের কুকুর।’ বল, ‘তাদের সংখ্যা সম্পর্কে আমার প্রতিপালকই বেশি জানেন।’ অল্প কয়জন ছাড়া তাদের সংখ্যা সম্পর্কে কেউ জানে না। কাজেই সাধারণ কথাবার্তা ছাড়া তাদের ব্যাপার নিয়ে বিতর্ক করো না, আর তাদের সম্পর্কে কারো কাছে কিছু জিজ্ঞেসও করো না।
— Taisirul Quran
অজানা বিষয়ে অনুমানের উপর নির্ভর করে কেহ কেহ বলেঃ তারা ছিল তিন জন, তাদের চতুর্থটি ছিল তাদের কুকুর; এবং কেহ কেহ বলেঃ তারা ছিল পাঁচ জন, ষষ্ঠটি ছিল তাদের কুকুর; আবার কেহ কেহ বলেঃ তারা ছিল সাত জন, অষ্টমটি ছিল তাদের কুকুর; বলঃ আমার রাব্বই তাদের সংখ্যা ভাল জানেন; তাদের সংখ্যা অল্প কয়েকজনই জানে; সাধারণ আলোচনা ব্যতীত তুমি তাদের বিষয়ে বিতর্ক করনা এবং তাদের কেহকেও তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করনা।
— Sheikh Mujibur Rahman
বিতর্ককারীরা বলবে, ‘তারা ছিল তিন জন, চতুর্থ হল তাদের কুকুর’। আর কতক বলবে, ‘তারা ছিল পাঁচজন, ষষ্ঠ হল তাদের কুকুর’। এসবই অজানা বিষয়ে অনুমান করে। আর কেউ কেউ বলবে, ‘তারা ছিল সাত জন; অষ্টম হল তাদের কুকুর’। বল, ‘আমার রবই তাদের সংখ্যা সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত’। কম সংখ্যক লোকই তাদেরকে জানে। সুতরাং স্পষ্ট আলোচনা ছাড়া তুমি তাদের ব্যাপারে বিতর্ক করো না। আর তাদের ব্যাপারে লোকদের মধ্যে কারো কাছে জানতে চেয়ো না।
— Rawai Al-bayan
কেউ কেউ বলবে, ‘তারা ছিল তিনজন, তাদের চতুর্থটি ছিল তাদের কুকুর এবং কেউ কেউ বলবে, তারা ছিল পাঁচজন, তাদের ষষ্ঠটি ছিল তাদের কুকুর, গায়েবী বিষয়ে অনুমানের উপর নির্ভর করে। আবার কেউ কেউ বলবে, ‘তারা ছিল সাতজন, তাদের অষ্টমটি ছিল তাদের কুকুর।’ বলুন, ‘আমার রবই তাদের সংখ্যা ভালো জানেন; তাদের সংখ্যা কম সংখ্যক লোকই জানে [১]। সুতরাং সাধারণ আলোচনা ছাড়া আপনি তাদের বিষয়ে বিতর্ক করবেন না এবং এদের কাউকেও তাদের বিষয়ে জিজ্ঞেস করবেন না [২]।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
“পূর্ব থেকে পশ্চিমে যে ঘুরেছিল সে কে?”
দ্বিতীয় প্রশ্নটা পরিচয়-ভিত্তিক: এমন ব্যক্তি কে, যে পৃথিবীর পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত ঘুরেছিল?
কোরআনে যুলকারনাইনের কাহিনি আছে [3]—কিন্তু তিনি ঐতিহাসিকভাবে ঠিক কে (আলেক্সান্ডার? সাইরাস? অন্য কেউ?)—এটা কোরআন নির্দিষ্ট করে না। উল্টো অনেক তাফসিরেই বলা হয়: কোরআন ইচ্ছে করেই তার নাম-পরিচয়/যুগ/বংশ ইত্যাদি “অপ্রয়োজনীয়” হিসেবে স্কিপ করেছে, কেবল শিক্ষণীয় অংশ বলেছে। কিন্তু প্রশ্নটি তো ছিল, এই ব্যক্তি আসলে কে? সেটির উত্তর নেই!
তোমাকে তারা যুলকারনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে। বল, ‘আমি তার বিষয় তোমাদের নিকট কিছু বর্ণনা করব।’
— Taisirul Quran
তারা তোমাকে যুলকারনাইন সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করছে; তুমি বলে দাওঃ আমি তোমাদের নিকট তার বিষয় বর্ণনা করব।
— Sheikh Mujibur Rahman
আর তারা তোমাকে যুলকারনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে। বল, ‘আমি এখন তার সম্পর্কে তোমাদের নিকট বর্ণনা দিচ্ছি’।
— Rawai Al-bayan
আর তারা আপনাকে যুল-কারনাইন সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করে [১]। বলুন, ‘অচিরেই আমি তোমাদের কাছে তার বিষয় বর্ণনা করব।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
আমি তাকে পৃথিবীতে আধিপত্য দান করেছিলাম আর তাকে সব রকমের উপায় উপাদান দিয়েছিলাম।
— Taisirul Quran
আমি তাকে পৃথিবীতে কর্তৃত্ব দিয়েছিলাম এবং প্রত্যেক বিষয়ের উপায় ও পন্থা নির্দেশ করেছিলাম।
— Sheikh Mujibur Rahman
আমি তাকে যমীনে কর্তৃত্ব দান করেছিলাম এবং সববিষয়ের উপায়- উপকরণ দান করেছিলাম।
— Rawai Al-bayan
আমরা তো তাকে যমীনে কর্তৃত্ব দিয়েছিলাম এবং প্রত্যেক বিষয়ের উপায়-উপকরণ দান করেছিলাম [১]।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
একবার সে এক রাস্তা ধরল (অর্থাৎ একদিকে একটা অভিযান চালাল)।
— Taisirul Quran
সে এক পথ অবলম্বন করল।
— Sheikh Mujibur Rahman
অতঃপর সে একটি পথ অবলম্বন করল।
— Rawai Al-bayan
অতঃপর সে এক পথ অবলম্বন করল।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
চলতে চলতে যখন সে সূর্যাস্তের স্থানে পৌঁছল, তখন সে সূর্যকে অস্বচ্ছ জলাশয়ে ডুবতে দেখল আর সেখানে একটি জাতির লোকেদের সাক্ষাৎ পেল। আমি বললাম, ‘হে যুলকারনাইন! তুমি তাদেরকে শাস্তি দিতে পার কিংবা তাদের সঙ্গে (সদয়) ব্যবহারও করতে পার।’
— Taisirul Quran
চলতে চলতে যখন সে সূর্যের অস্তগমন স্থানে পৌঁছল তখন সে সূর্যকে এক পংকিল পানিতে অস্ত যেতে দেখল এবং সে সেখানে এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেল; আমি বললামঃ হে যুলকারনাইন! তুমি তাদেরকে শাস্তি দিতে পার অথবা তাদেরকে সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পার।
— Sheikh Mujibur Rahman
অবশেষে যখন সে সূর্যাস্তের স্থানে পৌঁছল, তখন সে সূর্যকে একটি কর্দমাক্ত পানির ঝর্ণায় ডুবতে দেখতে পেল এবং সে এর কাছে একটি জাতির দেখা পেল। আমি বললাম, ‘হে যুলকারনাইন, তুমি তাদেরকে আযাবও দিতে পার অথবা তাদের ব্যাপারে সদাচরণও করতে পার’।
— Rawai Al-bayan
চলতে চলতে সে যখন সূর্যের অস্ত গমন স্থানে পৌছল [১] তখন সে সূর্যকে এক পংকিল জলাশয়ে অস্তগমন করতে দেখল [২] এবং সে সেখানে এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেল। আমরা বললাম, ‘হে যুল-কারনাইন! তুমি এদেরকে শাস্তি দিতে পার অথবা এদের ব্যাপার সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পার।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
তারপর সে আরেক পথ ধরল।
— Taisirul Quran
আবার সে এক পথ ধরল।
— Sheikh Mujibur Rahman
তারপর সে আরেক পথ অবলম্বন করল।
— Rawai Al-bayan
তারপর সে এক উপায় অবলম্বন করল,
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
চলতে চলতে সে সূর্যোদয়ের স্থানে পৌঁছল। সে সূর্যকে এমন এক জাতির উপর উদয় হতে দেখতে পেল, আমি যাদের জন্য সূর্য থেকে বাঁচার কোন আড়ালের ব্যবস্থা করিনি।
— Taisirul Quran
চলতে চলতে যখন সে সূর্যোদয় স্থলে পৌঁছল তখন সে দেখলো – ওটা এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদিত হচ্ছে যাদের জন্য সূর্য তাপ হতে আত্মরক্ষার কোন অন্তরাল আমি সৃষ্টি করিনি।
— Sheikh Mujibur Rahman
অবশেষে সে যখন সূর্যোদয়ের স্থানে এসে পৌঁছল তখন সে দেখতে পেল, তা এমন এক জাতির উপর উদিত হচ্ছে যাদের জন্য আমি সূর্যের বিপরীতে কোন আড়ালের ব্যবস্থা করিনি।
— Rawai Al-bayan
চলতে চলতে যখন সে সূর্যদয়ের স্থলে পৌছল তখন সে দেখল সেটা এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদয় হচ্ছে যাদের জন্য সূর্যতাপ হতে কোনো অন্তরাল আমরা সৃষ্টি করিনি;
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
“রূহ কী?” — সরাসরি ‘জানা নেই’ ধরনের উত্তর
আসুন শেষ প্রশ্নটি অর্থাৎ রূহ কী, তার উত্তর মুহাম্মদ কী দিয়েছিল, সেটি দেখে নিই। [4] [5] –
তোমাকে তারা রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বল, ‘রূহ হচ্ছে আমার প্রতিপালকের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত (একটি হুকুম)। এ সম্পর্কে তোমাকে অতি সামান্য জ্ঞানই দেয়া হয়েছে।’
— Taisirul Quran
তোমাকে তারা রূহ্ সম্পর্কে প্রশ্ন করে, তুমি বলঃ রূহ্ আমার রবের আদেশ ঘটিত; এ বিষয়ে তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দেয়া হয়েছে।
— Sheikh Mujibur Rahman
আর তারা তোমাকে রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, ‘রূহ আমার রবের আদেশ থেকে, আর তোমাদেরকে জ্ঞান থেকে অতি সামান্যই দেয়া হয়েছে’।
— Rawai Al-bayan
আর আপনাকে তারা রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে [১]। বলুন, ‘রূহ আমার রবের আদেশঘটিত [২] এবং তোমাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে অতি সামান্যই।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৪৪/ তাফসীরুল কুরআন
পরিচ্ছেদঃ ১৮. সূরা বানী ইসরাঈল
৩১৪০। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরাইশরা ইয়াহুদীদের বলল, তোমরা আমাদেরকে এমন কিছু শিখিয়ে দাও যে প্রসঙ্গে আমরা এই ব্যক্তিকে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) প্রশ্ন করতে পারি। ইয়াহুদীরা বলল, তোমরা রূহ প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন কর। বর্ণনাকারী বলেনঃ তারা রূহ (বা প্রাণ) বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করল। তখন আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “লোকেরা রূহ প্রসঙ্গে তোমার নিকট প্রশ্ন করে। বল, রূহ আমার প্রতিপালকের আদেশ ঘটিত। জ্ঞানের খুব সামান্যই তোমাদেরকে প্রদান করা হয়েছে”- (সূরা বনী ইসরাঈল ৮৫)।
ইয়াহুদীরা বলল, “আমাদের বিরাট বা প্রচুর জ্ঞান দান করা হয়েছে। আমাদেরকে তাওরাত কিতাব দেয়া হয়েছে। আর যাদেরকে তাওরাত গ্রন্থ দেয়া হয়েছে তাদেরকে প্রভূত কল্যাণ দেয়া হয়েছে। এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) “বল, আমার প্রতিপালকের কথাগুলো লেখার জন্য সমুদ্রের সমস্ত পানি যদি কালি হয়ে যায় তবুও তা আমার প্রভুর কথাগুলো লিখে শেষ করার পূর্বেই নিঃশেষ হয়ে যবে। আমরা যদি আবার একই রকম কালি নিয়ে আসি তুবও তা যথেষ্ট হবে না”- (সূরা কাহফ ১০৯)।
সহীহঃ আত্তা’লীকাত আল-হাসসান (৯৯)
আবূ ঈসা বলেন, উল্লেখিত সনদসূত্রে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
তিনটি প্রশ্ন—প্রত্যাশা বনাম কোরআন/হাদিসের “উত্তর”
| প্রশ্ন (টেস্ট) | প্রশ্নের ধরন/প্রত্যাশা | কোরআন/হাদিসে যে “উত্তর” এসেছে | টেক্সচুয়াল রেফারেন্স | পর্যবেক্ষণ (যুক্তিগত) |
|---|---|---|---|---|
| ১) “অতীত যুগের অসাধারণ ঘটনার সেই যুবকরা কারা?” (আসহাবে কাহফ) | পরিচয়/নির্দিষ্টতা প্রত্যাশিত: কারা ছিল, কতজন, সময়/স্থান/পরিচয় | কাহিনি-ভিত্তিক বর্ণনা; নাম-পরিচয় নির্দিষ্ট নয়; সংখ্যা নিয়ে মানুষের অনুমান উল্লেখ; শেষে বলা হয় “আমার রবই ভালো জানেন… তর্ক করো না” | [কোরআন ১৮:৯–২৬] বিশেষত [কোরআন ১৮:২২] | প্রশ্নটি “কারা?”—কিন্তু টেক্সট সুনির্দিষ্ট আইডেন্টিফিকেশন না দিয়ে ন্যারেটিভ + সীমা টেনে দেয়। যৌক্তিকভাবে এই উত্তরকে যথাযথ উত্তর বলা যায় না, যেহেতু এটি “পরিচয়-উত্তর নয়, বড়জোর কাহিনি/নীতিশিক্ষা” বলা যেতে পারে |
| ২) “পূর্ব থেকে পশ্চিমে যে ঘুরেছিল সে কে?” (যুলকারনাইন) | পরিচয়ভিত্তিক প্রত্যাশা: ব্যক্তি কে—ঐতিহাসিক শনাক্তকরণ/নাম/যুগ | বলা হয়—“আমি তার বিষয়ে কিছু বর্ণনা করব”; এরপর কাহিনি: ক্ষমতা, ভ্রমণ, শাসন, ইয়াজুজ-মাজুজ বাধ নির্মাণ ইত্যাদি; কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে তিনি ঠিক কে—কোরআনে সে সম্পর্কে কিছুই বলা হয় না | [কোরআন ১৮:৮৩–৯৮] | প্রশ্নটি ছিল “কে?”—কিন্তু টেক্সটে একটি চরিত্রের কার্যকলাপ/কাহিনি আছে, হিস্টোরিক্যাল আইডেন্টিটি স্থির নয়। তাই যুক্তিযুক্তভাবে এটি “পরিচয় নির্ণয়ের উত্তর নয়—একটি প্রচলিত কাহিনিমাত্র” |
| ৩) “রূহ কী?” | সংজ্ঞা/ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত: রূহের প্রকৃতি কী, কীভাবে কাজ করে ইত্যাদি | সরাসরি বলা হয়: “রূহ আমার রবের আদেশ থেকে; তোমাদের জ্ঞান অল্প” — অর্থাৎ বিস্তারিত ব্যাখ্যা/সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি | [কোরআন ১৭:৮৫] এবং প্রশ্ন-প্রেক্ষাপট সহ [সুনান আত-তিরমিজী, ৩১৪০] | এখানে টেক্সট সংজ্ঞামূলক উত্তর না দিয়ে জ্ঞানের সীমা ঘোষণা করে। টেস্ট-প্রশ্ন হিসেবে দেখলে এটি “জানা নেই/জানানো হয়নি” ধরনের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দাঁড়ায় |
সাফা পাহাড়কে সোনার পাহাড়ে পরিণত করা
নবী মুহাম্মদকে মক্কার কাফেরগণ চ্যালেঞ্জ করে বলেছিল, সাফা পাহাড়কে তাদের চোখের সামনে সোনার পাহাড় করে দেখাতে পারলে মুহাম্মদের নবুয়তে তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে। তারা মুসা নবীর মোজেজার মত একটি মোজেজা দেখাবার দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, নবী মুহাম্মদ সেই কাজটি করে দেখাতে পারেননি। বরং নির্লজ্জ চাপাবাজির মাধ্যমে নিজের পিঠ রক্ষা করেছিল। আসুন ঘটনাটি পড়ে দেখি, [6] –
মোহাম্মদ বিন কা’ব কারাজী থেকে ইবনে জারীর এবং বাগবী বর্ণনা করেছেন, (কালাবী সূত্রেও বাগবী এ রকম লিখেছেন)- একবার কুরায়েশ নেতারা রসুল স.কে উদ্দেশ্য করে বললো, হে মোহাম্মদ! তুমি বলে থাকো মুসার হাতে ছিলো একটি লাঠি। ওই লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত করলে তা থেকে বেরিয়ে আসতো বারোটি পানির প্রস্রবণ। আরো বললো, ঈসা মৃতকে জীবিত করতে পারতেন। এ কথাও তুমি বলে থাকো যে, সালেহ্ তার সম্প্রদায়ের জন্য পাথরের মধ্য থেকে একটি উট বের করে দিয়েছিলেন। তুমিও এ রকম একটি মোজেজা দেখাও। যদি দেখাতে পারো তবে আমরা তোমাকে সত্য বলে মেনে নেবো। রসুল স. বললেন, কী মোজেজা দেখতে চাও তোমরা? কুরায়েশেরা বললো, এই সাফা পাহাড়টিকে আমাদের দৃষ্টির সম্মুখে সোনার পাহাড়ে পরিণত করে দাও। বাগবীর বর্ণনায় আরো রয়েছে, অবিশ্বাসীরা তখন এ কথাও বলেছিলো, আমাদের মৃত পূর্বপুরুষদের মধ্যে কোনো কোনো ব্যক্তিকে জীবিত করে দেখাও যেনো আমরা তাদের নিকট জিজ্ঞাসা করে জেনে নিতে পারি যে, তুমি যা বলছো তা সত্য। অথবা ফেরেশতাদেরকে আমাদের সামনে নিয়ে এসো- যেনো তারা তোমার সত্যতার সাক্ষ্য দেয়।
ইবনে জারীর ও বাগবী কর্তৃক আরো বর্ণিত হয়েছে যে, রসুল স. তখন বললেন, তোমাদের আবেদন যদি আমি বাস্তবায়ন করি, তবে কি তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে? তারা সমস্বরে বললো, আল্লাহ্র কসম! তুমি যদি এ রকম করতে পারো, তবে আমরা সকলেই তোমার অনুসারী হয়ে যাবো। সাহাবীগণও বললেন, তাদের আবেদন পূর্ণ করা হোক। তাহলে তারাও ইসলাম গ্রহণ করবে। রসুল স. দোয়া করার জন্য দণ্ডায়মান হলেন। তাঁর ইচ্ছা ছিলো সাফা পাহাড়কে সোনার পাহাড়ে পরিণত করার জন্য তিনি আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানাবেন। অকস্মাৎ সেখানে আবির্ভূত হলেন হজরত জিব্রাইল। বললেন, হে আল্লাহ্র রসুল!। আপনি প্রার্থনা করলে সাফা পাহাড় সোনার পাহাড় হয়ে যাবে। কিন্তু এরপরেও আবেদনকারী জনতা যদি ইমান না আনে, তবে তাদের প্রতি আপতিত হবে আল্লাহ্র গজব। সুতরাং আপনি ক্ষান্ত হন। তাদের আবেদনে সাড়া দেবেন না। এতে করে যারা প্রকৃতই সত্যান্বেষী তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য তওবা করবে। আর যারা তা নয় তারা পূর্ববৎ অবিশ্বাসে নিমগ্ন থাকবে। রসুল স. বললেন, আমি চাই তাদেরকে ইমান গ্রহণের সুযোগ দেয়া হোক যাতে করে তারা আল্লাহ্ আযাব থেকে রক্ষা পায়। সুতরাং যারা তওবা করতে চায় তারা যেনো তওবার পথে এগিয়ে আসে। এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হলো নিম্নের আয়াত।

বনূ নাদীরের চ্যালেঞ্জ থেকে পলায়ন
বনু নাদির গোত্রের প্রধানগণ নবী মুহাম্মদ ও তার সাহাবীদের নিমন্ত্রণ করেছিল আলোচনার উদ্দেশ্যে, চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল নবী মুহাম্মদের নবী হওয়ার প্রমাণ দেখাতে। ইহুদিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, মুহাম্মদ যদি ইহুদি আলেমদের সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেন, তাহলে বনু নাদীর গোত্রের সবাই ইসলামের সত্যতা বুঝতে পারবে এবং ইসলামকে কবুল করে নিবে। একটি নির্দিষ্ট স্থানে মুহাম্মদ ৩০ জন সঙ্গী নিয়ে আসবে, অপরদিকে ইহুদিরাও ৩০ জনকে নিয়ে আসবে। নবী সেখানে গেলেন তার সাহাবীগণ সহ। কিন্তু বিতর্ক শুরুর আগেই হঠাৎ তিনি সেখান থেকে উঠে চলে আসলেন, অন্য সবাইকে ফেলে চুপিচুপি। অন্য সাহাবীগণ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলেন, কিন্তু নবীর আর কোন খোঁজ খবর নেই! তাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপরে আরেকজনার কাছ থেকে শুনলেন নবী মদিনা চলে গেছেন। তারা মদিনা ফিরে আসলেন। ফিরে আসার পরে জানতে পারলেন, নবীকে নাকি জিব্রাইল এসে চুপিচুপি বলেছে, তারা যেখানে বসে ছিল সেই ঘরের ছাদে কিছু লোক নবীকে হত্যা করার জন্য বসে ছিল। কিন্তু সেই লোকগুলো কেন নবীর সাহাবীদের হত্যা করলো না, কেন সাহাবীদের কেউই এরকম কাউকে দেখতে পেলেন না, নবীও বা কাউকে কিছু না বলে একা একা চলে আসলেন কেন, তার সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না। অর্থাৎ এই ইহুদিদের এই গোপন ষড়যন্ত্রের কথা শুধুমাত্র নবী একাই জানেন, যার কোন বাস্তব প্রমাণ নেই। সেইদিন বন্ধু সঙ্গি সাথীদের বিপদের মুখে ফেলে নবীর চম্পট দেয়ার এই ঘটনাটি কতটা হাস্যকর এবং ইহুদিদের সাথে বিতর্ক এড়াবার কৌশল, তা বুদ্ধিমান মানুষ মাত্রই বুঝবেন। এর পরদিনই মুহাম্মদের নেতৃত্বে বনু নাদিরের ওপর আক্রমণ চালানো হয় [7] –
রাসূলুল্লাহ (সা) তখন তাদের একটি ঘরের দেয়ালের পাশে বসা ছিলেন। তারা বলল, কে আছে যে, ছাদে উঠে ওখান থেকে একটি পাথর ফেলে দিয়ে মুহাম্মাদকে হত্যা করে আমাদেরকে তাঁর হাত থেকে নিষ্কৃতি দেবে? আমর ইবন জাহহাশ এগিয়ে এসে বলল, আমি এ জন্যে প্রস্তুত আছ। সে মতে পাথর নিক্ষেপের উদ্দেশ্যে সে স্থানে উঠে । রাসূলুল্লাহ্ (সা) তখনও সেখানে একদল সাহাবীসহ বসা ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন হযরত আবু বকর (রা) উমর (রা) এবং আলী (রা)। ওদের দুরভিসন্ধি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট আসমানী সংবাদ এসে যায়। তিনি কাউকে কিছু না বলে উঠে পড়েন এবং মদীনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। দীর্ঘক্ষণ ঘটনাস্থলে ফিরে না আসায় সাহাবীগণ তাঁর খোঁজে বের হন, মদীনার দিক থেকে আগত এক লোককে দেখে তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কথা তাকে জিজ্ঞেস করে। সে ব্যক্তি বলেছিল যে, আমি তো তাঁকে মদীনায় প্রবেশ করতে দেখেছি। এ সংবাদ পেয়ে সাহাবীগণ সকলে মদীনায় ফিরে এলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট সমবেত হলেন। তিনি ইয়াহুদীদের বিশ্বাসঘাতকতার কথা তাঁদেরকে অবহিত করলেন।

উপরের দলিলে দেখতে পেলেন যে, মুহাম্মদ হুট করে তার নবুয়্যতের প্রমাণ না দিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন। এবারে আসুন দেখা যাক, এর আগে পরে কী ঘটেছিল [8]
সুনান আবূ দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৪/ কর, খাজনা, অনুদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব সম্পর্কে
পরিচ্ছেদঃ ১৬১. বনূ নযীরের ঘটনা সম্পর্কে।
২৯৯৪. মুহাম্মদ ইবন দাঊদ ইবন সুফইয়ান (রহঃ) ……. আবদুর রহমান ইবন কা’ব ইবন মালিক (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক সাহাবী হতে বর্ণনা করেছেন যে, কুরায়শ কাফিররা আবদুল্লাহ ইবন উবাই এবং তার মূর্তি-পূজক সাথীদের, যারা আওস ও খাযরাজ গোত্রের লোক, এ মর্মে পত্র লেখে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর যুদ্ধের আগে মদীনায় অবস্থান করছিলেনঃ তোমরা আমাদের সাথী (মুহাম্মদ) কে জায়গা দিয়েছ। এ জন্য আমরা আল্লাহ্র নামে শপথ করে বলছি, হয়তো তাঁর সাথে যুদ্ধ কর, নয়তো তাঁকে বের করে দাও। অন্যথায় আমরা সম্মিলিতভাবে আক্রমণ করে তোমাদের যোদ্ধাদের হত্যা করব এবং তোমাদের স্ত্রীদের আমাদের দখলে আনব।
আবদুল্লাহ ইবন উবাই এবং তার মূর্তিপূজারী সাথীরা এ খবর পাওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংগে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়। এ খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌছবার পর তিনি তাদের সাথে সাক্ষাত করেন এবং বলেনঃ তোমরা কুরায়শদের নিকট হতে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী চিঠি পেয়েছ, কিন্তু তা তোমাদের জন্য এত মারাত্মক নয়, যত না ক্ষতি তোমরা নিজেরা নিজেদের করবে। কেননা, তোমরা তো তোমাদের সন্তান-সন্ততি ও ভাইদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সংকল্প করছ।
তারা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এরূপ কথা শুনলো, তখন তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লো। এ খবর কুরায়শ কাফিরদের কাছে পৌছলে তারা বদর যুদ্ধের পর ইয়াহুদীদের নিকট লিখলোঃ তোমরা ঘরবাড়ী ও দুর্গের অধিকারী। কাজেই তোমাদের উচিত আমাদের সাথী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে যুদ্ধ করা। অন্যথায় আমরা তোমাদের সাথে এরূপ করব, সেরূপ করব। আর আমাদের ও তোমাদের স্ত্রীদের মাঝে কোন পার্থক্য থাকবে না।
যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে তারা এরূপ চিঠি পেল, তখন বনূ নযীরের ইয়াহুদীরা বিদ্রোহ ঘোষণা করলো এবং তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ মর্মে অবহিত করে যে, আপনি আপনার সাথীদের থেকে ত্রিশজন নিয়ে আমাদের কাছে আসুন এবং আমাদের ত্রিশজন আলিম আপনার সংগে এক আলাদা স্থানে দেখা করবে। তারা আপনার কথা শুনবে, যদি তারা আপনার উপর ঈমান আনে এবং বিশ্বাস স্থাপন করে, তবে আমরা আপনার উপর ঈমান আনব।
পরদিন সকাল বেলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল সেনাবাহিনী নিয়ে তাদের উপর হামলা করেন এবং তাদের অবরোধ করে বলেনঃ আল্লাহ্র শপথ! তোমরা যতক্ষণ অঙ্গীকার না করবে, ততক্ষণ আমি তোমাদের ব্যাপারে নিশ্চিত নই। তখন তারা (ইয়াহুদীরা) অঙ্গীকার করতে অস্বীকার করে। ফলে তিনি সেদিন তাদের সাথে দিনভর যুদ্ধে রত থাকেন। পরদিন তিনি বনূ নযীরকে বাদ দিয়ে বনূ কুরাইযার উপর আক্রমণ করেন এবং তাদের অঙ্গীকারবদ্ধ হতে বলেন। ফলে তারা তাঁর সংগে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। তখন তিনি তাদের নিকট হতে প্রত্যাবর্তন করে পুনরায় বনূ নযীরকে অবরোধ করেন এবং তাদের সাথে ততক্ষণ যুদ্ধ করেন, যতক্ষণ না তারা দেশত্যাগে বাধ্য হয়।
বনূ নযীরের লোকেরা তাদের উটের পিঠে ঘরের দরজা, চৌকাঠ ইত্যাদি যে পরিমাণ মালামাল নেওয়া সম্ভব ছিল, তা নিয়ে যায়। এবার বনূ নযীরের খেজুরের বাগান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিকারে আসে, যা আল্লাহ্ তা’আলা বিশেষভাবে প্রদান করেন। যেমন আল্লাহ্ বলেনঃ
وَمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ
অর্থাৎ আল্লাহ্ কাফিরদের মাল হতে যে সস্পদ তাঁর রাসূলকে প্রদান করেন, তা হাসিলের জন্য তোমরা তোমাদের ঘোড়া অথবা উট হাঁকাও নি, অর্থাৎ ঐ সম্পদ বিনা যুদ্ধে হাসিল হয়।
অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ মালের অধিকাংশই মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করে দেন এবং অভাবগ্রস্ত দু’জন আনসারকে তা হতে অংশ প্রদান করেন। এ দু’জন ছাড়া অন্য আনসার সাহাবীদের মাঝে এ মাল বিতরণ করা হয়নি। অবশিষ্ট মাল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য সাদকা স্বরূপ ছিল, যা বনূ ফাতিমার নিয়ন্ত্রণে ছিল।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বেদুঈনকে ধমক দিয়ে চুপ করানো
একবার জনৈক বেদুঈন নবীর কাছে আসলেন এবং খুব করুন সুরে অনুরোধ জানালেন, আল্লাহর কাছে যেন প্রার্থণা করে তার অঞ্চলে বৃষ্টির জন্য একটু দুয়া করে দেন। নবীর উছিলায় সেখানে যদি একটু বৃষ্টি হয়। কারণ তার গোত্র খুবই অভাবে ছিল, পরিবার পরিজন নিয়ে রীতিমত অনাহারে জীবন কাটাচ্ছিল। একটু বৃষ্টি হলে তাদের অনেক উপকার হতো। এই অনুরোধ শুনে নবী ক্ষেপে গেলেন এবং বেদুঈনকে রীতিমত ধরম দিলেন, এবং কিছুক্ষণ ধুনফুন বুঝ দিয়ে বিদায় করলেন [9]
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৫৫
অর্থাৎ- “আকাশ ও পৃথিবীর মাঝের দূরত্ব কতটুকু তা কি তোমরা জান? তাঁরা বলল, আমরা তো জানি না। তিনি বললেন, উভয়ের মাঝে একাত্তর কিংবা বাহাত্তর কিংবা তিহাত্তর বছরের দূরত্ব। ১ অবশিষ্টগুলোর দূরত্ব অনুরূপ।”
ইমাম আবূ দাউদ (র) সাহাবী জুবায়র ইবন মুতইম (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি
বলেছেন: জনৈক বেদুঈন একদা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর দরবারে এসে বলল:
يا رسول الله جهدت الأنفس وجاعت العيال ونهكت الأموال وهلكت الأنعام، فاستسق الله لنا فانا نستشفع بك على الله و نستشفع بالله
عليك .
অর্থাৎ-হে আল্লাহর রাসূল! মানুষগুলো সংকটে পড়ে গেছে, পরিবার-পরিজন অনাহারে দিনপাত করছে এবং ধন-সম্পদ ও গবাদি পশুগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। অতএব, আপনি আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য বৃষ্টির দু’আ করুন। আমরা আপনার উসিলা দিয়ে আল্লাহর নিকট এবং আল্লাহর উসিলা দিয়ে আপনার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন : ه ويحك أتدرى ما تقولক তোমাকে, তুমি কি বুঝতে পারছো, কী বলছ! এই বলে রাসূলুল্লাহ (সা) অনবরত আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করতে থাকেন। এমনকি সাহাবীগণের মুখমণ্ডলে তার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। তারপর তিনি বললেন:
ويحك أنه لا يستشفع بالله علي احد من خلفه شان الله اعظم من
ذالك ويحك اتدرى ما الله ان عرشه على سموته هكذا .
অর্থাৎ-ধিক তোমাকে! আল্লাহর উসিলা দিয়ে তাঁর সৃষ্টির কারো সাহায্য প্রার্থনা করা চলে না। আল্লাহর শান তার অনেক ঊর্ধ্বে। ধিক তোমাকে! তোমার কি জানা আছে যে, আল্লাহর আরশ তার আকাশসমূহের উপরে এভাবে আছে। এ বলে তিনি তাঁর অঙ্গুলিসমূহের দ্বারা ইশারা করে গম্বুজের মত করে দেখান। তারপর বললেন:
وانه ليئط به أطيط الرحل بالراكب.
অর্থাৎ-বাহন তার আরোহীর ভারে যেমন মচমচ করে উঠে আরশও তেমনি মচমচ করে উঠে। ইবন বাশার (র)-এর বর্ণনায় রয়েছে:
ان الله فوق عرشه والعرش فوق سموته.
অর্থাৎ-আল্লাহ আছেন তাঁর আরশের উপর আর আরশ আছে তাঁর আকাশসমূহের উপর।
হাফিজ আবুল কাসিম ইব্ন আসাকির দামেশকী (র) এ হাদীসের বিরুদ্ধে “বায়ানুল ওহমি . ওয়াত তাখলীতিল ওয়াকিয়ি ফী হাদীসিল আতীত” নামক একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা রচনা করেছেন

উপসংহার
এই প্রবন্ধের কেসগুলো পাশাপাশি রাখলে একটি পুনরাবৃত্ত কাঠামো চোখে পড়ে: যখন নবুয়তের দাবির সামনে নির্দিষ্ট প্রশ্ন, নির্দিষ্ট শর্ত, বা যাচাইযোগ্য প্রমাণের দাবি আসে—তখন বর্ণনা অনেক সময় সরাসরি তথ্যগত উত্তরের বদলে তিনটি কৌশলের একটিতে সরে যায়। প্রথমত, “বিলম্ব” বা “ওহী-নীরবতা”কে নৈতিক শিক্ষার ফ্রেমে ব্যাখ্যা করা (যেমন তিন প্রশ্নের ঘটনায় পনেরো দিনের ওহী-বিরতি)। দ্বিতীয়ত, পরিচয় বা সংজ্ঞা চাওয়া প্রশ্নের জবাবে কাহিনি বলা—কিন্তু প্রশ্নের মূল ‘কে/কি’ অংশকে অনির্দিষ্ট রেখে দেওয়া (আসহাবে কাহফ ও যুলকারনাইন প্রসঙ্গে)। তৃতীয়ত, কঠিন প্রশ্নের জবাবে “জ্ঞানের সীমা” বা “ঐশী সিদ্ধান্ত” দেখিয়ে আলোচনাকে থামিয়ে দেওয়া (রূহ প্রসঙ্গে)।
একইভাবে, সাফা পাহাড়কে সোনার পাহাড়ে পরিণত করার মতো প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ, অথবা বনূ নাদিরের মতো ক্ষেত্রে “প্রমাণ-পর্ব” শুরু হওয়ার আগেই সরে যাওয়ার বর্ণনা—সব মিলিয়ে একটি যুক্তিগত সমস্যা তৈরি করে: নবুয়তের দাবি যদি বাস্তবেই ঐশী উৎসের হয়, তাহলে যাচাইয়ের মুহূর্তগুলোতে ধারাবাহিক ব্যর্থতা পরিলক্ষিত হয়; বারবার দেখা যায়—প্রমাণের বদলে নানা রকম ব্যাখ্যা, ভাসাভাসা কিছু বক্তব্য যার অর্থ পরিষ্কার নয়, এবং প্রশ্নের বদলে কর্তৃত্ব।
অতএব, এই প্রবন্ধের নির্যাস দাঁড়ায় এই যে—উল্লিখিত ঘটনাগুলোকে বিশ্বাস-ভিত্তিক বয়ান হিসেবে পড়লে এক ধরনের “ব্যাখ্যা” পাওয়া যায়; কিন্তু যুক্তি ও প্রমাণের মানদণ্ডে দাঁড়িয়ে পড়লে একই বয়ান স্ববিরোধ, অনির্দিষ্টতা, এবং এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল হিসেবে প্রতিভাত হয়। পাঠক যদি নবুয়তের দাবিকে সত্য-মিথ্যার প্রশ্ন হিসেবে নেন, তবে এসব কেস তাকে অন্তত একটি ন্যায্য সন্দেহে পৌঁছাতে বাধ্য করবে: পরীক্ষার মুহূর্তগুলোতে যে “উত্তর” ও “প্রতিক্রিয়া” দেখানো হয়েছে—তা কি সত্যিই নবুয়তের প্রমাণ, নাকি দাবিকে টিকিয়ে রাখার কৌশলমাত্র?
তথ্যসূত্রঃ
- তাফসীরে মাযহারী, হাকিমাবাদ খানকায়ে মোজাদ্দেদিয়া প্রকাশনী, ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০৪, ২০৫ ↩︎
- সূরা কাহফ ১৮:২২ ↩︎
- সূরা কাহফ ১৮:৮৩–৯৮ ↩︎
- সূরা বনী ইসরাঈল ১৭:৮৫ ↩︎
- সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিসঃ ৩১৪০ ↩︎
- তাফসীরে মাযহারী, হাকিমাবাদ খানকায়ে মোজাদ্দেদিয়া প্রকাশনী, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৮১ ↩︎
- আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪৮ ↩︎
- সুনান আবূ দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ২৯৯৪ ↩︎
- আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৫ ↩︎
