
ইসলামে ক্রীতদাসীদের সতর বা আওরাহ বা যা ঢেকে রাখতে হয় তা হচ্ছে নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য এই লেখাটি পড়তে পারেন [1]। আসুন আশরাফুল হিদায়া গ্রন্থটি থেকে বিধানটি দেখে নিই [2] –
অনুবাদ: ইমাম কুদূরী (র.) বলেন, পর পুরষের জন্য অন্যের দাসীর দেহের এতটুকু অংশই দেখা জায়েজ যতটুকু তার মাহরাম মহিলার মধ্যে জায়েজ। কেননা দাসীকে কাজের পোশাক পরিধান করে তার নিজ মনিবের প্রয়োজনে বাহিরে যেতে হয় এবং তার মেহমানের সেবা করতে হয়। সুতরাং ঘরের ভিতর নিকটাত্মীয় মাহরাম পুরুষের সামনে মহিলার যে অবস্থা ঘরের বাইরে পরপুরুষের সামনে দাসীর সেই অবস্থাই হলো। হযরত ওমর (রা.) কোনো দাসীকে [দেহ ও মাথা] আবৃত অবস্থায় দেখলে দুররা মারতেন এবং বলতেন, হে দাফার! তোমরা ওড়না ফেল, তুমি কি স্বাধীনা মেয়েদের মতো হতে চাও?
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
نَرْلُ قَالَ : وَيَنْظُرُ الرَّجُلُ مِنْ الحَ : আলোচ্য ইবারতে অন্যের মালিকানাধীন দাসীর দেহের কতটুকু অংশ দেখা যাবে তা বর্ণনা করা হয়েছে। ইমাম কুদূরী (র.) বলেন, পুরুষের জন্য তার মাহরাম মহিলার শরীরের যতটুকু অংশ দেখা জায়েজ অন্যের মালিকানাধীন দাসীর এতটুকু অংশ দেখা জায়েজ।
উল্লেখ্য যে, মাহরাম মহিলার হাত, পা, বাহু, পায়ের নলা, বুক, চুল, গলা দেখা জায়েজ। ইতঃপূর্বে এ সংক্রান্ত মাসআলা আলোচনা করা হয়েছে। কারণ দাসীদেরকে কাজের পোশাক পরিহিত অবস্থায় মনিবের প্রয়োজন সারতে ঘরের বাহিরে যেতে হয়। মনিবের মেহমানদের খেদমত করতে তাদের সামনে উপস্থিত হতে হয়। ফলে ঘরের বাইরে পরপুরুষের সামনে দাসীর অবস্থা এমন হলো যেমন একজন মহিলার অবস্থা হয় তার মাহরাম পুরুষের সামনে ঘরের ভিতরে। ইতঃপূর্বে বলা হয়েছিল যে, মাহরাম মহিলার কাছে পুরুষেরা অবাধে যাতায়াত করে, আর মহিলারা তখন কাজের পোশাকে থাকে তাই মাহরাম মহিলার বাহু, বুক, গলা ইত্যাদি দেখা জায়েজ। তদ্রূপ দাসীরা যেহেতু কাজের পোশাকে বাইরে যায় এবং তাদের মনিবের কাজ করে তাই তাদেরও সেসব অঙ্গ দেখা জায়েজ বলে সাব্যস্ত হবে।
দ্বিতীয় দলিল হলো হযরত ওমর (রা.)-এর আমল। হযরত ওমর (রা.) রাস্তা-ঘাটে কোনো দাসীকে দেহ মাথা ঢাকা অবস্থায় দেখলে ধমকাতেন ও দুররা মারতেন এবং বলতেন- الْقِ عَنْكِ الْخِمَارَ يَا دِفَارُ أَتَتَشَبَّهِيْن بالحرائر অর্থাৎ ‘হে দাফার! তোমার ওড়না ফেল, তুমি কি স্বাধীনা মেয়েদের সাদৃশ্য অবলম্বন করছ?’
دنار শব্দটি نزال -এর ওযনে এ থেকে নির্গত। অর্থ- দুর্গন্ধ। ৩১ অর্থ- দুর্গন্ধযুক্তা মহিলা। এখানে দাসী উদ্দেশ্য। اووَكَانَ عُمَرُ إِذَا رَأَى جَارِيَةٌ مُتَقَنَّعَةٌ عَلَاهَا بِالدَّرَةِ وَقَالَ الَى عَنْكِ الْجَمَارَ يَا دِفَارُ اتَتَشَبَهِينَ بِالْحَرَائِرِ) (1) হাদীস সম্পর্কে আল্লামা যায়লাঈ (র.) বলেন, এরূপ শব্দে হাদীসটি প্রমাণিত নয়। অবশ্য ইমাম বায়হাকী (র.) এর কাছাকাছি শব্দে একটি হাদীস বর্ণনা করেন, হাদীসটি নিম্নরূপ-
عَنْ نَافِعٍ أَنَّ صَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ حَدَّثَتْهُ قَالَتْ خَرَجَتْ إمرأة مُحْتَمَرَةٌ مُتَجَلبَةٌ فَقَالَ عُمَرُ مَنْ هَذِهِ الْمَرْأَةُ ؟ فَقِيلَ لَهُ جَارَبَةٌ لِفَلَانٍ ، رَجُلٌ مِنْ بَيْتِهِ فَأَرْسَلَ إِلَى حَفْصَةً فَقَالَ مَا حَمَلَكَ عَلَى أَن تَغْرِي هَذِهِ الْآمَةَ وَتَجَلْبَهَا حَتَّى هَمَمْتُ أَنْ أَقَعَ بِهَا لَا أَحْسِبُهَا إِلَّا مِنَ الْمُحْصَنَاتِ وَلَا تَشَبُّهُوا الْإِمَاءَ بِالْمُحْصَنَاتِ نَصْبُ الرَّابَةِ) .
হাদীসটির সনদ সম্পর্কে হাফেজ যাহাবী (র.) বলেন, এর সনদ শক্তিশালী। বিনায়া)
মোটকথা কিতাবে উল্লিখিত শব্দে হাদীসটি যদিও প্রমাণিত নয় কিন্তু এর বক্তব্য বায়হাকীর এ বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হয়।

সেই সাথে, প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রাজ্জাক এবং মুফতি ইব্রাহীমের কাছ থেকে জেনে নিন, ক্রীতদাসীর পর্দার বিধান সম্পর্কে –
আসুন আরও কিছু ওয়াজ শুনি,
তথ্যসূত্রঃ
- ইসলামে পর্দাপ্রথা – স্বাধীনা ও দাসীর পার্থক্যকরণ ↩︎
- আশরাফুল হিদায়া, ইসলামিয়া কুতুবখানা, নবম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬১৫ ↩︎
