ইসলাম অনুসারে ক্রীতদাসীর সতর বা পর্দা নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত

ভূমিকা

ইসলামি পর্দাপ্রথা বা ‘হিজাব’কে সাধারণত নারী অধিকার ও নিরাপত্তার রক্ষাকবচ হিসেবে প্রচার করা হয়। বর্তমান প্রচারণায় দাবি করা হয় যে, ইসলাম নারীকে ‘সম্মান’ দিতেই আবৃত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তবে ইসলামি ফিকহশাস্ত্র এবং ধ্রুপদী টেক্সটগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পর্দার এই বিধানটি কোনো সার্বজনীন নৈতিক বা চারিত্রিক মানদণ্ড ছিল না। বরং এটি ছিল একটি “শ্রেণি বিভাজন” (Class Distinction) করার হাতিয়ার এবং নারীদের মধ্যে কারা সহজলভ্য এবং কারা মূল্যবান, তা বোঝার একটি ধর্মীয় পদ্ধতি। বিশেষ করে ক্রীতদাসীদের ক্ষেত্রে ইসলামের পর্দার বিধান বিশ্লেষণ করলে এটি স্পষ্ট হয় যে, সেখানে নারীর সম্মান বা শ্লীলতাহানির চেয়ে দাসের ‘পণ্যায়ন’ এবং ‘সামাজিক মর্যাদা’র বিষয়টিই মুখ্য ছিল। অত্র প্রবন্ধে আমরা ধ্রুপদী রেফারেন্সের আলোকে ক্রীতদাসীদের ‘সতর’ বা পোশাকের বিধান এবং এর মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিকটি আলোচনা করব।


ক্রীতদাসীর সতরঃ নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত

ইসলামি আইনশাস্ত্রের অন্যতম নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ‘আল-হিদায়া’ ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আশরাফুল হিদায়া’র বর্ণনা অনুযায়ী, একজন ক্রীতদাসীর জন্য পর্দার বিধান এবং একজন স্বাধীন নারীর পর্দার বিধান এক নয়। স্বাধীন নারীর জন্য মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কব্জি বাদে পুরো শরীর ঢাকা ফরজ হলেও, ক্রীতদাসীর ক্ষেত্রে তার সতর বা অলঙ্ঘনীয় অংশ ধরা হয়েছে কেবল নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত [1]

অনুবাদ: ইমাম কুদূরী (র.) বলেন, পর পুরষের জন্য অন্যের দাসীর দেহের এতটুকু অংশই দেখা জায়েজ যতটুকু তার মাহরাম মহিলার মধ্যে জায়েজ। কেননা দাসীকে কাজের পোশাক পরিধান করে তার নিজ মনিবের প্রয়োজনে বাহিরে যেতে হয় এবং তার মেহমানের সেবা করতে হয়। সুতরাং ঘরের ভিতর নিকটাত্মীয় মাহরাম পুরুষের সামনে মহিলার যে অবস্থা ঘরের বাইরে পরপুরুষের সামনে দাসীর সেই অবস্থাই হলো। হযরত ওমর (রা.) কোনো দাসীকে [দেহ ও মাথা] আবৃত অবস্থায় দেখলে দুররা মারতেন এবং বলতেন, হে দাফার! তোমরা ওড়না ফেল, তুমি কি স্বাধীনা মেয়েদের মতো হতে চাও?
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
نَرْلُ قَالَ : وَيَنْظُرُ الرَّجُلُ مِنْ الحَ : আলোচ্য ইবারতে অন্যের মালিকানাধীন দাসীর দেহের কতটুকু অংশ দেখা যাবে তা বর্ণনা করা হয়েছে। ইমাম কুদূরী (র.) বলেন, পুরুষের জন্য তার মাহরাম মহিলার শরীরের যতটুকু অংশ দেখা জায়েজ অন্যের মালিকানাধীন দাসীর এতটুকু অংশ দেখা জায়েজ।
উল্লেখ্য যে, মাহরাম মহিলার হাত, পা, বাহু, পায়ের নলা, বুক, চুল, গলা দেখা জায়েজ। ইতঃপূর্বে এ সংক্রান্ত মাসআলা আলোচনা করা হয়েছে। কারণ দাসীদেরকে কাজের পোশাক পরিহিত অবস্থায় মনিবের প্রয়োজন সারতে ঘরের বাহিরে যেতে হয়। মনিবের মেহমানদের খেদমত করতে তাদের সামনে উপস্থিত হতে হয়। ফলে ঘরের বাইরে পরপুরুষের সামনে দাসীর অবস্থা এমন হলো যেমন একজন মহিলার অবস্থা হয় তার মাহরাম পুরুষের সামনে ঘরের ভিতরে। ইতঃপূর্বে বলা হয়েছিল যে, মাহরাম মহিলার কাছে পুরুষেরা অবাধে যাতায়াত করে, আর মহিলারা তখন কাজের পোশাকে থাকে তাই মাহরাম মহিলার বাহু, বুক, গলা ইত্যাদি দেখা জায়েজ। তদ্রূপ দাসীরা যেহেতু কাজের পোশাকে বাইরে যায় এবং তাদের মনিবের কাজ করে তাই তাদেরও সেসব অঙ্গ দেখা জায়েজ বলে সাব্যস্ত হবে।
দ্বিতীয় দলিল হলো হযরত ওমর (রা.)-এর আমল। হযরত ওমর (রা.) রাস্তা-ঘাটে কোনো দাসীকে দেহ মাথা ঢাকা অবস্থায় দেখলে ধমকাতেন ও দুররা মারতেন এবং বলতেন- الْقِ عَنْكِ الْخِمَارَ يَا دِفَارُ أَتَتَشَبَّهِيْن بالحرائر অর্থাৎ ‘হে দাফার! তোমার ওড়না ফেল, তুমি কি স্বাধীনা মেয়েদের সাদৃশ্য অবলম্বন করছ?’
دنار শব্দটি نزال -এর ওযনে এ থেকে নির্গত। অর্থ- দুর্গন্ধ। ৩১ অর্থ- দুর্গন্ধযুক্তা মহিলা। এখানে দাসী উদ্দেশ্য। اووَكَانَ عُمَرُ إِذَا رَأَى جَارِيَةٌ مُتَقَنَّعَةٌ عَلَاهَا بِالدَّرَةِ وَقَالَ الَى عَنْكِ الْجَمَارَ يَا دِفَارُ اتَتَشَبَهِينَ بِالْحَرَائِرِ) (1) হাদীস সম্পর্কে আল্লামা যায়লাঈ (র.) বলেন, এরূপ শব্দে হাদীসটি প্রমাণিত নয়। অবশ্য ইমাম বায়হাকী (র.) এর কাছাকাছি শব্দে একটি হাদীস বর্ণনা করেন, হাদীসটি নিম্নরূপ-
عَنْ نَافِعٍ أَنَّ صَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ حَدَّثَتْهُ قَالَتْ خَرَجَتْ إمرأة مُحْتَمَرَةٌ مُتَجَلبَةٌ فَقَالَ عُمَرُ مَنْ هَذِهِ الْمَرْأَةُ ؟ فَقِيلَ لَهُ جَارَبَةٌ لِفَلَانٍ ، رَجُلٌ مِنْ بَيْتِهِ فَأَرْسَلَ إِلَى حَفْصَةً فَقَالَ مَا حَمَلَكَ عَلَى أَن تَغْرِي هَذِهِ الْآمَةَ وَتَجَلْبَهَا حَتَّى هَمَمْتُ أَنْ أَقَعَ بِهَا لَا أَحْسِبُهَا إِلَّا مِنَ الْمُحْصَنَاتِ وَلَا تَشَبُّهُوا الْإِمَاءَ بِالْمُحْصَنَاتِ نَصْبُ الرَّابَةِ) .
হাদীসটির সনদ সম্পর্কে হাফেজ যাহাবী (র.) বলেন, এর সনদ শক্তিশালী। বিনায়া)
মোটকথা কিতাবে উল্লিখিত শব্দে হাদীসটি যদিও প্রমাণিত নয় কিন্তু এর বক্তব্য বায়হাকীর এ বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হয়।

দাসীর সতর

এই আইনি অবস্থান প্রমাণ করে যে, ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী পরপুরুষের সামনে একজন দাসীর বুক, চুল, গলা বা পিঠ খোলা থাকা পাপ বা গুনাহের বিষয় ছিল না।


দ্বিতীয় খলিফা উমর ও প্রশাসনিক সহিংসতা

ক্রীতদাসীদের এই উন্মুক্ত পোশাক নীতি কেবল তাত্ত্বিক ছিল না, বরং এটি রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রয়োগ করা হতো। দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব যখন কোনো দাসীকে স্বাধীন নারীর মতো ওড়না বা চাদর দিয়ে মাথা ও বুক ঢাকতে দেখতেন, তখন তিনি ক্ষিপ্ত হতেন এবং শারীরিক শক্তি প্রয়োগ করে সেই পর্দা সরিয়ে দিতেন।

দ্বিতীয় দলিল হলো হযরত ওমর (রা.)-এর আমল। হযরত ওমর (রা.) রাস্তা-ঘাটে কোনো দাসীকে দেহ মাথা ঢাকা অবস্থায় দেখলে ধমকাতেন ও দুররা মারতেন এবং বলতেন- الْقِ عَنْكِ الْخِمَارَ يَا دِفَارُ أَتَتَشَبَّهِيْن بالحرائر অর্থাৎ ‘হে দাফার! তোমার ওড়না ফেল, তুমি কি স্বাধীনা মেয়েদের সাদৃশ্য অবলম্বন করছ?’
دنار শব্দটি نزال -এর ওযনে এ থেকে নির্গত। অর্থ- দুর্গন্ধ। ৩১ অর্থ- দুর্গন্ধযুক্তা মহিলা। এখানে দাসী উদ্দেশ্য। اووَكَانَ عُمَرُ إِذَا رَأَى جَارِيَةٌ مُتَقَنَّعَةٌ عَلَاهَا بِالدَّرَةِ وَقَالَ الَى عَنْكِ الْجَمَارَ يَا دِفَارُ اتَتَشَبَهِينَ بِالْحَرَائِرِ) (1) হাদীস সম্পর্কে আল্লামা যায়লাঈ (র.) বলেন, এরূপ শব্দে হাদীসটি প্রমাণিত নয়। অবশ্য ইমাম বায়হাকী (র.) এর কাছাকাছি শব্দে একটি হাদীস বর্ণনা করেন, হাদীসটি নিম্নরূপ-
عَنْ نَافِعٍ أَنَّ صَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ حَدَّثَتْهُ قَالَتْ خَرَجَتْ إمرأة مُحْتَمَرَةٌ مُتَجَلبَةٌ فَقَالَ عُمَرُ مَنْ هَذِهِ الْمَرْأَةُ ؟ فَقِيلَ لَهُ جَارَبَةٌ لِفَلَانٍ ، رَجُلٌ مِنْ بَيْتِهِ فَأَرْسَلَ إِلَى حَفْصَةً فَقَالَ مَا حَمَلَكَ عَلَى أَن تَغْرِي هَذِهِ الْآمَةَ وَتَجَلْبَهَا حَتَّى هَمَمْتُ أَنْ أَقَعَ بِهَا لَا أَحْسِبُهَا إِلَّا مِنَ الْمُحْصَنَاتِ وَلَا تَشَبُّهُوا الْإِمَاءَ بِالْمُحْصَنَاتِ نَصْبُ الرَّابَةِ) .
হাদীসটির সনদ সম্পর্কে হাফেজ যাহাবী (র.) বলেন, এর সনদ শক্তিশালী। বিনায়া)
মোটকথা কিতাবে উল্লিখিত শব্দে হাদীসটি যদিও প্রমাণিত নয় কিন্তু এর বক্তব্য বায়হাকীর এ বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হয়।

হাফেজ যাহাবী এই বর্ণনাটির সনদ বা সূত্রকে অত্যন্ত শক্তিশালী (সহীহ) বলে অভিহিত করেছেন। [2]। এখান থেকে স্পষ্ট হয় যে, ইসলামে পর্দা ছিল কেবল ‘অভিজাত’ বা ‘স্বাধীন’ নারীদের প্রিভিলেজ বা বিশেষ অধিকার। একজন দাসী যদি শালীনতার খাতিরে নিজের শরীর ঢাকতে চাইতেন, তবে তাকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হতে হতো।

ভাষাগত লাঞ্ছনা ও সামাজিক অবজ্ঞা

খলিফা উমরের দাসীদের প্রতি আচরণের বর্ণনায় ‘দাফার’ (দুর্গন্ধযুক্তা) শব্দটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক নির্দেশ ছিল না, বরং এটি ছিল একটি ভাষাগত ও মানসিক নিপীড়ন। ‘আশরাফুল হিদায়া’-র ভাষ্যমতে, উমর (রা.) যখন কোনো দাসীকে মাথা ঢাকা অবস্থায় দেখতেন, তখন তিনি চাবুক দিয়ে আঘাত করে বলতেন, “হে দাফার! তোমার ওড়না ফেল, তুমি কি স্বাধীনা মেয়েদের সাদৃশ্য অবলম্বন করছ?” [1]। এই সম্বোধনটি প্রমাণ করে যে, ইসলামি শরিয়াহর অধীনে দাসীরা কেবল আইনি বৈষম্যের শিকার ছিল না, বরং তাদের অস্তিত্বকেই সামাজিকভাবে ‘অশুচি’ বা ‘তুচ্ছ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল।

আইনি কূটাভাস ও নিরাপত্তার অভাব

‘আশরাফুল হিদায়া’-র আইনি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দাসীদের বুক, চুল বা বাহু খোলা রাখার কারণ হিসেবে তাদের ‘কাজের প্রয়োজনে বাইরে যাওয়া’ এবং ‘মেহমানের সেবা করা’-কে চিহ্নিত করা হয়েছে। [1]। যদি পর্দা সত্যিই নারীর চরিত্রের রক্ষাকবচ হতো, তবে কর্মব্যস্ত দাসীদের জন্য সেই সুরক্ষা আরও বেশি প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ইসলামি ফিকহ এখানে নৈতিকতার চেয়ে ‘আভিজাত্য’ (Status) এবং ‘মালিকের সুবিধা’-কে প্রাধান্য দিয়েছে। এর ফলে দাসীদের সরাসরি যৌন হয়রানি এবং লোলুপ দৃষ্টির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যা মানবাধিকারের চরম পরিপন্থী।


দাসীক্রয়ের ক্ষেত্রে ইসলামিক রিফান্ড পলিসি

ইসলামে লাজলজ্জার মাথা খেয়ে কোন রাখঢাক না করেই যৌন সঙ্গমের উদ্দেশ্যে বাজার থেকে দাসী ক্রয়ের বিধানও রাখা হয়েছে। এই বিষয়ের সাথে প্রাসঙ্গিক বিধায় সেই বিষয়টিও এখানে উল্লেখ জরুরি। ইমাম কুদুরী তার গ্রন্থে বলেছেন, অনেক সময় সম্ভোগের উদ্দেশ্যে দাসী কেনার সময় বগলে বা মুখে দুর্গন্ধ থাকলে, সেটির জন্য ক্রেতা সেই দাসীকে আবার ফেরত দিতে পারে। এটিও বলা আছে, দাসী একটি দ্রব্য এবং দাসীর ক্ষেত্রে দুর্গন্ধ থাকা একটি দোষ [3]

কুদুরী (আরবি-বাংলা) ২৩০ কিতাবুল বুয়ুই
… এর আলোচনাঃ ক্রয়কৃত বস্তুতে দোষ-ত্রুটি দেখা দেয়ার পর তা ফিরিয়ে দেয়া বা পূর্ণ থাকার কারণ হল, মতলক আকদের চাহিদা হল, তা ত্রুটিমুক্ত হওয়া। তবে এ টা কয়েকটি শর্তের সাথে সম্পৃক্ত। (১) সে ত্রুটি বিক্রেতার নিকট থাকতেই ছিল, ক্রেতার হস্তক্ষেপের পর সৃষ্টি হয়নি। (২) ক্রেতার ক্রয় করার সময় ত্রুটি সম্পর্কে অনবগত হওয়া (৩) এবং হস্তগত করার সময়ও সে ত্রুটি সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকা। (৪) ক্রেতা কষ্ট ব্যতীত ত্রুটি বিদূরীত করতে সক্ষম না হওয়া। (৫) এ ত্রুটি এবং সকল ত্রুটিমুক্ত হওয়ার শর্ত যদি না করা হয় এবং আবূদ ভঙ্গ হওয়ার পূর্বে তা দূর হওয়া যদি সম্ভব না হয় ।
লো তা JS, -এর আলোচনা ঃ পণ্য দ্রব্যের যে কোন দোষ-ত্রুটিকে মনগড়া ভাবে ‘দোষ’ বলে অভিহিত করা যাবে না; বরং ব্যবসায়ীদের রীতি-রেওয়াজে যেটা ‘দোষ’ বলে স্বীকৃত তাই কেবল ‘দোষ’ হিসেবে গণ্য হবে। কেননা ‘দোষ’ থাকলে দ্রব্যের মান ও মূল্যে কমতি দেখা দেয়। আর কোন দ্রব্যের মূল্য কমতি হল কিনা তার বিচার করার ভার ব্যবসায়ীদের ওপর। মনে রাখতে হবে আয়েব বা দোষ সম্পর্কিত এ ব্যাখ্যা বস্তুত একটি মূল সূত্র। এ সূত্র ধরে আরো অনেক মাসায়েল সংকলন করা সম্ভব। স্বয়ং গ্রন্থকারও এ সূত্রে সংকলনকৃত কয়েকটি মাসআলা পেশ করেছেন।
…-এর আলোচনাঃ কোন ক্রীতদাসের মধ্যে পলায়ন প্রভৃতি বদ অভ্যাসগুলো শৈশবে বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও যদি বালেগ হওয়ার পর মালিকের নিকট পুনরায় তা প্রকাশ পেয়ে না থাকে, তবে ক্রেতার অধিকারে এসে এর পুনরাবৃত্তি ঘটলে তা দোষ হবে না। অর্থাৎ এটা দোষ তো বটেই, কিন্তু বিক্রেতার নিকট হতে উদ্ভূত দোষ বলে দাবি করা যাবে না এবং গোলামও ফেরত দেয়া যাবে না; বরং ধরে নিতে হবে এগুলো নব সৃষ্ট দোষ। অপর দিকে শৈশবকালীন এ কু-অভ্যাস গুলো যদি ক্রেতার নিকট নাবালেগ অবস্থায়ই প্রকাশ পায় কিংবা বালেগ অবস্থায় বিক্রেতার নিকট প্রকাশ পাওয়ার পর ক্রেতার নিকট এসে তার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে তা ফেরতযোগ্য দোষ বলে গণ্য হবে। কারণ এ সমস্ত দোষের শৈশবকালীন উৎস এবং বালেগ অবস্থার উৎস এক নয়; বরং সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেননা শৈশবে পলায়ন করে থাকে খেলাধুলার মোহে, পক্ষান্তরে বালেগ হওয়ার পর তা করে চুরি বা বেপরোয়া মনোভাবের বশবর্তী হয়ে। উৎসের ভিন্নতার কারণে দোষও ভিন্ন হয়ে যায় । সুতরাং ক্রেতার নিকট প্রকাশিত দোষ তখন পূর্বের দোষ বলে দাবি করা চলে না ।
…-এর আলোচনাঃ অর্থাৎ কোন দাসী ক্রয় করার পর যদি তার মুখে বা বগলে দুর্গন্ধ অনুভূত হয় অথবা সে ব্যভিচারিণী বা জারজ বলে প্রমাণিত হয়; তবে তাকে ফেরত দেয়া যাবে। কারণ অনেক সময় দাসী যৌন সম্ভোগের উদ্দেশ্যেও ক্রয় করা হয়। আর শারীরিক ও চারিত্রিক এ সব দোষ-ত্রুটি ও দুর্বলতা তখন মিলনের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় । সুতরাং দাসীর ক্ষেত্রে এগুলো দোষ। পক্ষান্তরে গোলাম দ্বারা উদ্দেশ্য থাকে গৃহস্থালীর কাজকর্ম সম্পন্ন করা। আর এ সকল ত্রুটি সাধারণত গৃহস্থালীর কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে না। তদুপরি দুর্গন্ধ যদি অতিশয় হয় অথবা ব্যভিচার তার অভ্যাসে পরিণত হয়ে থাকে, তবে তা দোষের মধ্যে গণ্য হবে। এতে পরিষ্কার প্রতীয়মান হয় যে, দ্রব্যের মধ্যকার ত্রুটি যদি এমন হয় যা থেকে দ্রব্য সাধারণত মুক্ত হতে পারে না, যেমন এক মণ সরিষার মধ্যে পোয়া, দেড় পোয়া ধান বা কলাই থাকা- দূষণীয় নয় । কিন্তু ধুলাবালি বা কলাইর পরিমাণ যদি এক-দুই কেজি হয়, তবে অবশ্যই তা দোষের মধ্যে পরিগণিত হবে।

দাস 130

দাসীক্রয়ের সময়ে টিপে দেখা ইসলামে জায়েজ

আসুন আশরাফুল হিদায়া গ্রন্থ থেকে এই বিষয়ক ফিকহী মাসালাগুলো পড়ে নিই, যার থেকে ধারণা পাওয়া যাবে, সেই সময়ের দাসদাসীর বাজারগুলো কেমন ছিল। এগুলো পড়ুন এবং আপনার কন্যা সন্তানকে সেই জায়গাতে কল্পনা করুন, তখন বুঝতে পারবেন এগুলো কতখানি অমানবিক [4]

ইমাম কুদুরী (রহ.) তাঁর মুখতাসারুর কুদুরী গ্রন্থে বলেন, যদি কেউ দাসী ক্রয় করার ইচ্ছা পোষণ করে তার জন্য দাসীর ঐ সকল অঙ্গসমূহ স্পর্শ করা জায়েজ, যা দেখা জায়েজ। এমনকি যদি স্পর্শ করার দ্বারা ক্রেতার মধ্যে কামভাব জাগ্রত হয়, তবুও।
মুসান্নিফ (রহ.) বলেন, ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) তাঁর জামিউস সাগীরের মধ্যে এইভাবেই মাসআলাটি বর্ণনা করেছেন। জামিউস সাগীরের ইবারত এই- “ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) ও আবু ইউসুফ (রহ.) এ দুজন ইমাম আবু হানীফা (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি কোন দাসী ক্রয় করার ইচ্ছা পোষণ করেছে তার জন্য দাসীর পায়ের নলি, বুক ও হাত স্পর্শ করাতে কোন ক্ষতি বা দোষ নেই এবং এসব অঙ্গ অনাবৃত অবস্থায় দেখাতেও কোন সমস্যা নেই”। “কামভাব জাগ্রত হলেও স্পর্শ করা বৈধ হবে”।
“স্পর্শ করার দ্বারা কামভাব জাগ্রত হওয়ার আশংকা থাকলেও স্পর্শ করা জায়েজ। তাদের মতে ক্রয় করার উদ্দেশ্যে দাসীর দিকে তাকানো বৈধ, যদিও এতে উত্তেজিত হওয়ার আশংকা থাকে”।
“পূর্বযুগের ইমামগণ দাসী ক্রয় করার সময় তাদের ত্বক সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার উদ্দেশ্যে স্পর্শ করাকে বৈধ বলতেন, কেননা সেই সময়ের লোকজন সাধারণভাবে নেক ছিলেন”।
“পরবর্তীকালে ওলামাগণ কামভাব না থাকা অবস্থায় স্পর্শ করার অনুমতি দিয়েছেন। আর এর উপরেই বর্তমান ফতোয়া”।
“যখন কোন কিশোরী দাসী প্রথম ঋতুমতী হয় তারপর থেকে উক্ত দাসীকে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বাজারে নিয়ে নিম্নাঙ্গ আবৃত হয় এমন এক কাপড় পরিয়ে তাকে দর্শন করানো যাবে না। কারণ ঋতুমতী হওয়ার অর্থ হল সে বালেগা হয়েছে। আর বালেগা দাসীর পেট ও পিঠ সতরের অন্তর্ভুক্ত যা ইতঃপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে। সুতরাং এখন যদি শুধুমাত্র নিম্নাঙ্গের পোশাক পরিধান করানো হয় তাহলে বুক ও পিঠ খোলা থাকবে তাই তাকে উর্ধাঙ্গের কামিস তথা পোশাক পরতে হবে। উল্লেখ্য যে ইজার এমন পোশাককে বলা হয় যার দ্বারা শুধুমাত্র নাভি থেকে নিচের অংশ ঢাকা যায়”।
“এ আলোচনা দ্বারা বুঝা গেল এর চেয়ে কম বয়সী দাসীদের বুক পিঠ খোলা অবস্থায় বাজারে নিয়ে যাওয়াতে কোন দোষ নেই”।
“যে কিশোরী দাসী কামভাবের পর্যায়ে উপনীত হয়েছে (অর্থাৎ সঙ্গমের উপযুক্ত হয়েছে, এতে সাত বা নয় বছর বয়সের কোন শর্ত নেই) তাকে বিক্রির জন্য এক কাপড়ে পেশ করা যাবে না”।

নাভী
নাভী 2

দাসীক্রয়ের সময় যোনী পরীক্ষার ইসলামিক বিধান

বিশ্ব মানবতার পথপ্রদর্শক নবী মুহাম্মদের সাহাবীগণ দাসবাজার থেকে সুন্দরী ভার্জিন বা কুমারী দাসী কিনে আনতো ভোগের জন্য। তাদের বাজারে কুমারী দাসীদের বাজার মূল্যও ছিল বেশি। কিন্তু মাঝে মাঝে কিনে আনা ক্রীতদাসীকে দেখা যেত, তারা ঠিক কুমারী নন। কুমারী যোনি যেহেতু মুহাম্মদের সাহাবীদের খুবই পছন্দের ছিল (আল্লাহ পাক বেহেশতেও কুমারী যোনির হুরের লোভ দেখিয়েছেন), দাসীদের এনে বিছানায় তোলার পরে যদি দেখা যেতো কুমারী যোনির পর্দা ফেটে যথেষ্ট রক্তরক্তি হচ্ছে না, অথবা সাহাবীরা সঙ্গম করে ঠিক মজা পাচ্ছে না যোনি যথেষ্ট টাইট না হওয়ার জন্য, তখন নবীর সাহাবীগণ ক্ষেপে যেতো। কারণ তারা তো পয়সা দিয়েছিল কুমারী বা ভার্জিন মেয়ের জন্য! মানে তারা ভাবতো, পুরো টাকাই গচ্চা গেল! ভেবে দেখুন, কী মহান মানবিক এসব কাজকর্ম! আপনার বোন বা মেয়ের সাথে একই ঘটনা ঘটলে আপনার কেমন লাগবে? এই বিষয়ে আশরাফুল হিদায়াতে যেই মাসালাটি দেয়া আছে, সেটি হচ্ছে, এরকম হলে যাচাই করার জন্য মালিক দাসীর লজ্জাস্থান বা যোনি পরীক্ষা করে দেখতে পারবে [5]

৬. অনুরূপভাবে কোনো ব্যক্তি যদি কোনো দাসীকে কুমারী হিসেবে ক্রয় করে। অতঃপর দেখে যে, উক্ত দাসীর কুমারীত্ব নষ্ট হয়ে গেছে কিন্তু বিক্রেতা কুমারীত্ব নষ্ট হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তাহলে এরূপ অবস্থায় বিষয়টি যাচাই করার জন্য এক পর্যায়ে দাসীর লজ্জাস্থান পরীক্ষার উদ্দেশ্যে দেখা বৈধ

নাভী 4

দাসীর সতর বিষয়ক ফতোয়া

এবারে আসুন ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর একটি ফতোয়া পড়ে নেয়া যাক,

আরবি উদ্ধৃতি (Shamela.ws উদ্ধৃতি অনুসারে):
وَالحِجَابُ مُختَصٌّ بِالحُرَائِرِ دُونَ الإمَاء، كَمَا كَانَت سُنَّةُ المُؤْمِنِينَ فِي زَمَانِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ وَخَلَفائِهِ أَنَّ الحُرَّةَ تَحتَجِبُ وَالأَمَةَ تُبرِزُ، وَكانَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنهُ إِذَا رَأى أَمَةً مُختَمِرَةً ضَرَبَها وَقالَ: أَتَتشَبَّهِينَ بِالحُرَائِرِ…

এর বাংলা অর্থের প্রায় এমন:
“হিজাব (পর্দা) স্বাধীন নারী‑দের জন্য নির্দিষ্ট ছিল, দাসী‑দের জন্য নয়, যেমন নবী (সাঃ) ও তাঁর খলিফাদের সময় বিশ্বাসীদের রীতি ছিল: স্বাধীন নারী পর্দা করত এবং দাসী প্রকাশ্যে থাকত; এবং যখন উমর (রা.) কোনো দাসীকে আবৃত/খিমার পরা অবস্থায় দেখতেন, তিনি তাকে আঘাত করে বলতেন: ‘তুই কি স্বাধীন নারীদের সদৃশ হতে চাস?’ …”


যৌক্তিক বিশ্লেষণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন

এই ধর্মীয় বিধানটিকে পর্যবেক্ষণ করলে কয়েকটি গুরুতর নৈতিক ও মানবাধিকার বিষয়ক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়:

সুরক্ষা বনাম সামাজিক পরিচয়

পর্দা কি চরিত্রের জন্য নাকি আভিজাত্যের জন্য—এই প্রশ্নটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। যদি পর্দা নারীকে উত্যক্ত হওয়া থেকে রক্ষা করার উপায় হতো (যেমনটি সূরা আহযাবের ৫৯ আয়াতে দাবি করা হয়েছে), তবে দাসীদের কেন সেই সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত রাখা হলো? বরং দাসীদের পর্দা থেকে মুক্ত রাখা হয়েছিল যাতে সমাজ সহজেই বুঝতে পারে যে তারা ‘দাসী’ এবং তাদের সাথে যে কোনো আচরণ করা ‘নিরাপদ’। ঐতিহাসিক সূত্রমতে, উমর ইবনুল খাত্তাব কোনো দাসীকে চাদর বা ওড়না পরতে দেখলে তা সরিয়ে দিতেন যাতে স্বাধীন নারী ও দাসীর পার্থক্য বজায় থাকে।

পণ্যায়ন ও উপযোগবাদ

দাসীদের বুক বা শরীর খোলা রাখার আইনি যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে যে, তাদের মনিবের প্রয়োজনে বাইরে কাজ করতে হয় এবং মেহমানদের সেবা করতে হয়। অর্থাৎ, নারীর ব্যক্তিগত মর্যাদা বা শালীনতার চেয়ে দাস হিসেবে তার কর্মদক্ষতা এবং ‘পণ্য’ হিসেবে তার প্রদর্শনীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। [1] এই আইন মূলত দাসীকে একজন মানুষের চেয়ে শ্রমের উপযোগ হিসেবে বেশি গুরুত্ব দেয়।

নারীর শ্লীলতাহানির ঝুঁকি

ইসলামি আইনবিদরা স্বীকার করেছেন যে দাসীদের দিকে তাকানো জায়েজ। বাজারে কেনার সময় স্পর্শ করে দেখা, যাচাই করে দেখা জায়েজ। এটি মূলত দাসীদের যৌন ও সামাজিক হয়রানির মুখে ঠেলে দেওয়ার একটি আইনি বৈধতা। আধুনিক মানবাধিকারের ভাষায় এটি সরাসরি লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক যৌন নিপীড়ন, যা কোনোভাবেই চরিত্রের সুরক্ষার দাবির সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। ক্লাসিক্যাল ফিকহ শাস্ত্র অনুযায়ী, একজন দাসীর আউরা বা লজ্জাস্থান একজন পুরুষের মতো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত ধরা হতো, যা তাকে সুরক্ষা হীন করে তোলে।


সমকালীন আলেমদের অবস্থান

আধুনিক যুগে অনেক ইসলামি প্রচারক এই ইতিহাসগুলো আড়াল করতে চাইলেও, কট্টরপন্থী এবং জ্ঞানবান আলেমগণ সত্যটি স্বীকার করেন। আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রাজ্জাক এবং মুফতি ইব্রাহীমের মতো আলেমদের আলোচনায় এটি স্পষ্ট যে, দাসীদের পর্দা ফরজ নয়—এটি ইসলামের একটি অকাট্য বিধান। তারা একে ‘কাজের সুবিধার্থে ছাড়’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু একজন নারীর নিজের শরীর ঢেকে রাখার অধিকার কেড়ে নেওয়াকে তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখেন না।


উপসংহার

উপরে আলোচিত দলিলসমূহ বিশ্লেষণ করলে একটি রূঢ় সত্য বেরিয়ে আসে: ইসলামি পর্দাপ্রথা কোনো চিরন্তন নৈতিকতার বহিঃপ্রকাশ ছিল না। এটি ছিল একটি শ্রেণিবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী সামাজিক পোশাক নীতি। যে ধর্মে ‘শালীনতা’র দোহাই দিয়ে স্বাধীন নারীর মুখ ঢাকা নিয়ে কঠোরতা দেখানো হয়, সেই একই ধর্মে দাসীদের উর্ধ্বাংশ অনাবৃত রাখা কেবল বৈধই নয় বরং বাধ্যতামূলক ছিল। উমর-এর দাসীকে চাবুক মারা এবং তাদের ‘দুর্গন্ধযুক্তা’ বলে অভিহিত করা এটিই প্রমাণ করে যে, এই ব্যবস্থায় দাসীরা মানুষ হিসেবে নয়, বরং নিছক পণ্য হিসেবে বিবেচিত হতো। সুতরাং, ইসলামের পর্দাপ্রথাকে নারীর নিরাপত্তার গ্যারান্টি হিসেবে দাবি করা একটি ঐতিহাসিক অসততা বৈ কিছু নয়।


তথ্যসূত্রঃ
  1. আশরাফুল হিদায়া, ইসলামিয়া কুতুবখানা, নবম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬১৫ 1 2 3 4
  2. বিনায়া; নসবুর রায়াহ ↩︎
  3. আল- মিসবাহুন নূরী শরহে মুখতাসারুল কুদুরী, প্রথম খণ্ড, ইসলামিয়া কুতুবখানা, পৃষ্ঠা ২৩০ ↩︎
  4. আশরাফুল হিদায়া, ইসলামিয়া কুতুবখানা, ৯ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬১৮, ৬১৯ ↩︎
  5. আশরাফুল হিদায়া, ইসলামিয়া কুতুবখানা, ৯ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৯৬ ↩︎