নাস্তিকের লাশ কীভাবে সৎকার হবে?

Table of Contents

ভূমিকা

প্রায়শই নাস্তিক ও মুক্তমনাদের একটি গতানুগতিক সামাজিক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়: “মৃত্যুর পর তোমার লাশের শেষ পরিণতি কী হবে? ধর্মীয় রীতিতে দাফন, দাহ, নাকি নদীতে বিসর্জন?” একজন যুক্তিবাদীর কাছে এই প্রশ্নের উত্তর অত্যন্ত সোজাসাপ্টা এবং বিজ্ঞানসম্মত। নিউরোসায়েন্সের মৌলিক নীতি অনুযায়ী, মৃত্যু হলো মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্কের স্থায়ী বিলুপ্তি, যার ফলে চেতনা বা ‘আমি’ সত্তার কোনো অস্তিত্ব আর অবশিষ্ট থাকে না [1]। যেহেতু চেতনার অনুপস্থিতিতে কোনো স্নায়বিক অনুভূতি বা বেদনাবোধ থাকা জৈবিকভাবে অসম্ভব, তাই মৃতদেহ দিয়ে কেউ স্যান্ডেল বানালো নাকি তা আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দিল—তাতে মৃত ব্যক্তির বিন্দুমাত্র কিছু যায় আসে না।

যুক্তিযুক্তভাবে, যা অনুভব করার ক্ষমতা হারিয়েছে, তার প্রতি কোনো জাগতিক “অসম্মান” বা শারীরিক আঘাত সম্পূর্ণ অর্থহীন। তবে প্রতিটি মানুষের মানবিক মর্যাদা যেহেতু আমাদের সামাজিক জীব হিসেবে রক্ষা করা জরুরি, তাই আমরা মৃতদেহগুলোকে অসম্মান করি না। ব্যক্তিগত উদাসীনতার ঊর্ধ্বে উঠে একজন উপযোগবাদী (Utilitarian) মানুষ হিসেবে, মৃতদেহকে কেবল মাটির নিচে পোকামাকড়ের খাদ্য হতে দেওয়ার চেয়ে তা অন্যের জীবন বাঁচাতে (অঙ্গদান) কিংবা চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় উৎসর্গ করাই হবে প্রকৃত মানবিক ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। কারণ, অন্ধকার কবরে পচে যাওয়ার চেয়ে আমার চোখ দিয়ে অন্য একজন মানুষের এই সুন্দর পৃথিবী দেখা কিংবা আমার হৃদপিণ্ডে অন্য কারো বেঁচে থাকা অনেক বেশি অর্থবহ এবং বাস্তবসম্মত।


ডায়োজিনিসের ব্যঙ্গাত্মক ও দার্শনিক উত্তর

প্রায় ২৪০০ বছর আগে গ্রিক সিনিক (Cynic) দার্শনিক ডায়োজিনিস অফ সিনোপকে (Diogenes of Sinope, খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্দী) একই প্রশ্ন করা হয়েছিল: “তোমার লাশের কী করা হবে?” তিনি নির্দেশ দেন—শহরের দেয়ালের বাইরে ফেলে দাও, যাতে বন্য পশু-পাখি বা কুকুর খেয়ে ফেলে, অথবা নদীতে ফেলে দাও যাতে এটি অন্যদের কাজে লাগে। বন্ধুরা আপত্তি করে বলে, “কিন্তু তাহলে তো কুকুর-শকুন তোমার লাশ খাবে!” ডায়োজিনিস তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ করে উত্তর দেন: “একেবারেই না—তবে আমার পাশে একটা লাঠি রেখে দাও, যাতে আমি তাদের তাড়িয়ে দিতে পারি!” [2]। যখন জিজ্ঞাসা করা হয় যে মৃত অবস্থায় লাঠি দিয়ে কী হবে, তিনি জানান—যদি সচেতনতাই লোপ পায়, তাহলে লাশ নিয়ে কী হয় বা না হয়, তাতে কোনো পার্থক্য নেই।

এটি কোনো ধর্মীয় গল্প নয়—ধর্মদর্শনের প্রতি প্রাচীন যুক্তিবাদের সরাসরি আঘাত। ডায়োজিনিস কোনো আত্মা, কবর, আজাব বা পরজীবনের কাল্পনিক ধারণায় বিশ্বাস করেননি। তাঁর উত্তর স্পষ্ট করে: মৃত্যুর পর শরীর শুধু জৈবিক বস্তু, যা প্রকৃতির অংশ হয়ে যায়। কোনো অনুষ্ঠান, গোসল বা কবরস্থ করার প্রয়োজন নেই। এই দার্শনিক উত্তর আধুনিক নাস্তিকতা ও বিজ্ঞানের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়—চেতনা শেষ হলে লাশ নিয়ে মাথাব্যথা অর্থহীন। ধর্ম যেখানে ভয় দেখায় “আজাব” বা “আমানত”, সেখানে ডায়োজিনিস দেখিয়েছেন যে যুক্তি একাই যথেষ্ট। কোনো প্রমাণ ছাড়া এই ২৪০০ বছরের পুরনো যুক্তি আজও অটুট।


মৃত্যুর পর চেতনা: বিজ্ঞানের কষ্টিপাথরে ধর্মীয় আত্মা

যুক্তিবাদী এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৃত্যুর সংজ্ঞা অত্যন্ত স্পষ্ট: এটি হলো চেতনার চিরস্থায়ী অবসান। আমাদের ‘আমি’ সত্তা বা ব্যক্তিত্ব কোনো অতিপ্রাকৃত আত্মার অবদান নয়, বরং এটি মস্তিষ্কের বিলিয়ন বিলিয়ন নিউরনের জটিল ইলেকট্রো-কেমিক্যাল মিথস্ক্রিয়ার একটি ফলাফল মাত্র। ফলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বন্ধ হওয়ার পর কোনো সচেতন “সত্তা” অবশিষ্ট থাকার দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব।

ডাইং ব্রেইন এবং গামা ওয়েভ: বিভ্রান্তি বনাম বাস্তবতা

সাম্প্রতিক কিছু গবেষণাকে ধর্মীয় প্রোপাগান্ডায় ব্যবহার করার চেষ্টা করা হলেও, বিজ্ঞান এর ভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়। ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগান-এর ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ক্লিনিক্যাল ডেথ-এর মুহূর্তে কিছু রোগীর মস্তিষ্কে গামা ওয়েভ (30 -100 Hz) এর তীব্রতা বৃদ্ধি পায় [3]। ধর্মীয় ব্যাখ্যায় একে “আত্মার বিদায়” বলা হলেও নিউরোসায়েন্স একে দেখছে ‘হাইপোক্সিয়া’ বা অক্সিজেনের চরম ঘাটতিতে মস্তিষ্কের শেষ স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে। এটি মূলত সচেতনতা নয়, বরং মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ার আগে একটি বিশৃঙ্খল বৈদ্যুতিক প্রবাহ।

একইভাবে, NYU Langone-এর ডক্টর স্যাম পার্নিয়ার গবেষণায় “Near-Death Experience” (NDE) এর যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তা কোনো পরকাল প্রমাণ করে না [4]। বরং এটি প্রমাণ করে যে, হৃদপিণ্ড বন্ধ হওয়ার পরও মস্তিষ্ক কিছু সময়ের জন্য তার অভ্যন্তরীণ স্মৃতি বা ভিশন প্রসেস করতে পারে। ২০২৪ সালে PMC-এ প্রকাশিত রিভিউ (“Consciousness and the Dying Brain”) নিশ্চিত করে যে, এসব অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণরূপে নিউরোবায়োলজিক্যাল এবং এর পেছনে কোনো অতিপ্রাকৃত চালিকাশক্তি নেই।


আত্মার অস্তিত্ব ও অভিজ্ঞতাবাদী প্রমাণ

ধর্মীয় দাবি অনুযায়ী ‘আত্মা’ একটি অবিনশ্বর এবং অভৌত উপাদান যা শরীর ত্যাগ করে পরজীবনের জন্য অপেক্ষা করে। কিন্তু বিজ্ঞানের মানদণ্ডে এই দাবির কোনো ভিত্তি নেই কারণ:

  • পর্যবেক্ষণযোগ্যতা: আজ পর্যন্ত কোনো ল্যাবরেটরি টেস্ট বা সেন্সরে আত্মার উপস্থিতি বা তার ওজনের কোনো পরিবর্তন ধরা পড়েনি।
  • পারস্পরিক নির্ভরতা: আলঝেইমার বা মস্তিষ্কে আঘাতের ফলে যখন মানুষের স্মৃতি ও ব্যক্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়, তখন তথাকথিত ‘অবিনশ্বর আত্মা’ কেন সেই স্মৃতি রক্ষা করতে পারে না? এটি প্রমাণ করে যে চেতনা সম্পূর্ণভাবে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভরশীল।
  • উৎস ভিত্তিক বিশ্লেষণ: কোরআন, বাইবেল বা হাদিসের বর্ণনাগুলো ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে মানুষের কল্পনাপ্রসূত সাহিত্য মাত্র; এগুলো কোনো ‘এম্পিরিকাল এভিডেন্স’ বা অভিজ্ঞতাবাদী প্রমাণ নয়।

ধর্মীয় আচারের অযৌক্তিকতা

যেহেতু মৃত্যুর পর কোনো ‘আমি’ বা চেতনার অস্তিত্ব থাকে না, তাই নাস্তিকের মৃতদেহ নিয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান (যেমন: গোসল, জানাজা বা মন্ত্রপাঠ) করা একটি যুক্তিবিরোধী কাজ। মৃতদেহ তখন কেবল একটি জৈবিক বস্তু বা ‘ম্যাটার’, যার কোনো ধর্ম নেই, কোনো বিশ্বাস নেই। ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো আসলে মৃত ব্যক্তির কল্যাণের জন্য নয়, বরং এটি জীবিতদের সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং অন্ধবিশ্বাসের চর্চাকে টিকিয়ে রাখার একটি মাধ্যম মাত্র।


ধর্মীয় সৎকারের অযৌক্তিকতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন

ইসলামে (বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্ম) লাশকে দ্রুত কবর দেওয়া বাধ্যতামূলক, অঙ্গচ্ছেদ নিষিদ্ধ বলে অনেকে দাবি করেন। কিন্তু এর ভিত্তি? শুধু হাদিস: “মৃতের হাড় ভাঙা জীবিতের হাড় ভাঙার মতো।” বাংলাদেশে অর্থোডক্স মাওলানা ও ইমামরা এখনও বিরোধিতা করেন—শরীর “আমানত” বলে। ফলে, “Religious, Cultural and Legal Barriers to Organ Donation: The Case of Bangladesh” (২০২১, BanglaJOL) গবেষণায় দেখা গেছে যে ধর্মীয় ভুল ব্যাখ্যা এবং স্থানীয় ফতোয়া অঙ্গদানের প্রধান বাধা। বাংলাদেশে আইন (Human Organ Transplantation Act ১৯৯৯) অঙ্গদান অনুমোদন করে, কিন্তু উপযোগিতা প্রায় শূন্য—প্রতি বছর ৪০,০০০+ কিডনি ফেলিয়র রোগী মারা যায়, অথচ রোড অ্যাক্সিডেন্ট থেকে ৪০০০-৫৫০০ সম্ভাব্য ডোনার নষ্ট হয়।


মরণোত্তর অঙ্গ ও দেহদান সম্পর্কে আলেমদের বক্তব্য

আসুন এই বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য জেনে নেয়া যাক,


মরণোত্তর অঙ্গ ও দেহদান সম্পর্কে হাদিসের বিবরণ

ইসলামের বিশুদ্ধতম ধারায় অঙ্গদানকে হারাম করা হয়েছে। শুধু ওংগদান নয়, এমনকি পোস্টমর্টেম করাও ইসলামে সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ বা হারাম [5]। এই বিষয়গুলতে খুব পরিষ্কার ফতোয়া রয়েছে। শুরুতেই একটি হাদিস [6] [7] পড়ি এবং এরপরে ফতোয়াটি উল্লেখ করা হলো।

মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা
পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ – মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা
১৭১৪-[২২] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তির হাড় ভাঙ্গা, জীবিতকালে তার হাড় ভাঙারই মতো। (মালিক, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)[1]
[1] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩২০৭, ইবনু মাজাহ্ ১৬১৬, সহীহ আত্ তারগীব ৩৫৬৭, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৪৪৭৮, ইরওয়া ৩/৭৬৩, ইবনু হিব্বান ৩১৬৭।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সুনান ইবনু মাজাহ
৬/ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ ৬/৬৩. মৃত ব্যক্তির হাড় ভাঙ্গা নিষেধ।
১/১৬১৬। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তির হাড় ভাঙ্গা, তা তার জীবিত অবস্থায় ভাঙ্গার সমতুল্য।
আবূ দাউদ ৩২০৭, ২৩৭৮৭, ২৪১৬৫, ২৪২১৮, ২৪৮২৮, ২৫১১৭, ২৫৭৪৩ ইরওয়াহ ৭৬৩।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)


মরণোত্তর অঙ্গ ও দেহদান সম্পর্কে ফতোয়া

অঙ্গ দান করা কি জায়েজ?
প্রশ্নঃ
কেউ যদি মৃত্যু পরবর্তী সময়ে নিজের অঙ্গ যেমন- চোখ কিডনি ইত্যাদি দান করে যেতে চায় সেটা কি জায়েজ হবে? আর জীবদ্দশায় যদি কারো জীবন রক্ষার তাগিদে কোন মূল্য গ্রহণ ব্যাতিত অঙ্গ দান করতে চায় সেটা কি জায়েজ হবে?
Answered Nov 13, 2020 by মুফতী ওলি উল্লাহ
জবাব
بسم الله الرحمن الرحيم
পৃথিবীতে মানুষই সবচেয়ে মর্যাদাবান। তারাভরা আকাশ, জোছনা ভরা রাত বিছিয়ে রাখা বিস্তৃত সবুজ ভূমি সব আল্লাহতায়ালার সৃষ্টি। আল্লাহতায়ালার সব সৃষ্টিই মানুষের কল্যাণে। মানুষের প্রয়োজনে।
মানবজাতিকে মর্যাদাবান করার জন্য মহান প্রভু মানুষের অবয়ব ও কাঠামোগত সৌন্দর্য, বিবেক-বুদ্ধি ও জ্ঞান-গরিমায় উন্নতি দিয়েছেন। দিয়েছেন ভাব-ভাষা ও শৈলীর শক্তি। আল্লাহতায়ালা বলেন,
لقد خلقنا الإنسان في احسن تقويم
আমি মানুষকে সুন্দরতম গঠনে সৃষ্টি করেছি। (সূরা তিন ৪)।
মানুষের মন-মনন, চিন্তা-চেতনা ও জ্ঞানের মর্যাদা প্রদানে কোরআন বলেছে,
علم الانسان ما لم يعلم
আল্লাহতায়ালা মানুষকে এমন জ্ঞান দান করেছেন যা সে জানত না। (সূরা আলাক ৫)।
আল্লাহ আরও বলেছেন,
وعلم الأمم أسماء كلها
আমি আদমকে বস্তুজগতের সব জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছি। (সূরা বাকারা ৩৩)।
সমগ্র সৃষ্টির তুলনায় মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের কথা কোরআন এভাবে উচ্চারণ করছে, আমি তো মানুষকে মর্যাদা দান করেছি, জলে ও স্থলে তাদের চলাচলের বাহন দিয়েছি, তাদের উত্তম রিজিক দিয়েছি। সৃষ্টির অনেকের ওপর আমি মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। (সূরা বনি ইসরাইল ৭০)।
পৃথিবীর ফুল ফল, বৃক্ষ-তরু-লতা, পাখ-পাখালি সব আয়োজনই মানুষের জন্য। মানুষের প্রয়োজনে সমগ্র সৃষ্টি নিবেদিত। সেই মানুষের হাড়, মাংস বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যথেচ্ছ ব্যবহার, মানব অঙ্গ বেচাকেনা, আদান-প্রদান, কাটাছেঁড়া করা আদৌ কি মানুষের মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ? নাকি চিরায়ত ধারায় মর্যাদাবান জাতি মানব সভ্যতার প্রতি অভিশাপ?
আল্লাহ তায়ালার দেওয়া অংগ প্রতঙ্গের মালিক মানুষ নয়,এগুলো সবই আল্লাহ তায়ালার প্রদত্ত আমানত।
এই জন্য চোখ বা শরীরের যেকোনো অঙ্গ জীবিত অবস্থায় বা মৃত বরনের পর দান করা শরীয়তে জায়েজ নেই।
(ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যা ১৮/৩৩৭ ঢাবিল,কিতাবুন নাওয়াজেল ১৬/১৯৬)
الاٰدمي مکرمٌ شرعًا وإن کان کافرًا، فإیراد العقد علیہ وإبتذالہ بہ، وإلحاقہ بالجمادات إذلالٌ لہ أي وہو غیر جائز، … وصرح في فتح القدیر ببطلانہ۔ (رد المحتار، کتاب البیوع / باب البیع الفاسد، مطلب: الآدمي مکرم شرعًا ولو کافرًا ۵؍۵۸ دار الفکر بیروت، ۷؍۲۴۵ زکریا، فتح القدیر، کتاب البیوع / باب البیع الفاسد ۶؍۳۹۰ زکریا، ۶؍۴۲۵ مصطفیٰ البابي الحلبي مصر، البحر الرائق ۶؍۸۱، الفتاویٰ الہندیۃ، کتاب الکراہیۃ / الباب الثامن عشر في التداوي والمعالجات ۵؍۳۵۴ زکریا)
মানব দেহ শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্মানিত যদিও সে কাফের হোক,সুতরাং সেগুলো ক্রয় বিক্রয়,স্থাপন ইত্যাদি তার প্রতি অসম্মান প্রদর্শন, তাই এটি নাজায়েজ,
الانتفاع بأجزاء الآدمي لم یجز۔ (الفتاوی الہندیۃ، کتاب الکراہیۃ / الباب الثامن عشر في التداوي والمعالجات ۵؍۳۵۴)
মানুষের শরীর দ্বারা ফায়দা অর্জন করা জায়েজ নেই।
مضطر لم یجد میتۃ وخاف الہلاک، فقال لہ رجل: إقطع یدي وکلہا، أو قال: اقطع مني قطعۃ وکلہا لا یسعہ أن یفعل ذٰلک، ولا یصح أمرہ بہ کما لا یسع للمضطر أن یقطع قطعۃ من نفسہ فیأکل۔ (الفتاوی الہندیۃ، کتاب الکراہیۃ / الباب الحادي عشر في الکراہۃ في الأکل الخ ۵؍۳۳۸، الفتاویٰ البزازیۃ مع الہندیۃ ۳؍۴۰۴)
যার সারমর্ম হলো কঠিন অবস্থাতেও মানুষের শরীরের অঙ্গ কেটে অন্যের শরীরে স্থাপন নাজায়েজ।
সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরত “”জীবদ্দশায় যদি কারো জীবন রক্ষার তাগিদে কোন মূল্য গ্রহণ ব্যাতিত অঙ্গ দান করতে চায় সেটা জায়েজ হবেনা।
★★কেউ যদি মৃত্যু পরবর্তী সময়ে নিজের অঙ্গ যেমন- চোখ কিডনি ইত্যাদি দান করার অছিয়ত করতে চায়,তার বিধানঃ
কোন কিছু দান করার জন্য কয়েকটি বিষয় শর্ত। যথা-
১-যে বস্তুটি দান করছে সেটি মাল হতে হবে।
২-যে ব্যক্তি দান করছে সে উক্ত বস্তুর পূর্ণ মালিক হতে হবে।
اما الواهب فانهم اتفقوا على انه تجوز هبته اذا كان مالكا للموهوب صحيح الملك الخ (بداية المجتهد ونهاية المقصد للشيخ الامام ابن رشد القرطبى، كتاب الهبات-2/22)
দান করার জন্য ফুক্বাহায়ে কেরামের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হল উক্ত বস্তুটির সঠিক অর্থেই মালিক হবে। এছাড়া উক্ত বস্তু দান করা তার জন্য কিছুতেই জায়েজ নয়।
আল্লামা কাসানী রহঃ লিখেছেন-
ومن شرائط الهبة ان يكون مالا متقوما لا تجوز هبة ما ليس بمال اصلا كالحر والميتة والدم وصيد الحرم والخنزير وغير ذلك الخ (بدائع الصنائع- كتاب الهبة، واما ما يرجع الى الموهوب-5/169)
উপরোক্ত ইবারত দ্বারা একথাও পরিস্কার যে, দান করার জন্য বস্তুটির মূল্য থাকতে হবে। অমূল্য বস্তু না হতে হবে।
সুতরাং যে বস্তু মূলত মালই নয়। সেটি দান করা জায়েজ নয়। যেমন আযাদ ব্যক্তি, মৃত, হারাম শরীফের শিকারকৃত বস্তু, শুকর ইত্যাদি।
কারো জন্য কোন কিছু দান করার অসিয়ত করার জন্য উক্ত বস্তু মাল হবার সাথে সাথে এটিও শর্ত যে, উক্ত বস্তুটি অসিয়তকারীর মালিকানায় থাকতে হবে।
ফাতাওয়া আলমগীরীতে উল্লেখিত হয়েছে-
وشرطها كون الموصى اهلا للتمليك والموصى له اهلا للتمليك والموصى به يعد الموصى مالا قابلا للتمليك… الخ (الفتاوى الهندية- كتاب الوصايا، الباب الأول فى تفسير.. الخ-6/90, وايضا فى البحر الرائق، كتاب الوصايا-8/403، وكذا فى رد المحتار، كتاب الوصايا-6/649)
وفى البدائع الصنائع: واما الذى يرجع الى الموصى به فانواع منها ان يكون مالا او متعلقا بالمال لان الوصية ايجاب الملك او ايجاب ما يتعلق بالملك من البيع والهبة والصدقة والاعتاق، ومحل الملك هو المال فلا تصح الوصية بالميتة والدم من احد ولأحد لانها ليسا بمال ف ى حق احد ولا بجلد الميتة قبل الدباغ وكل ما ليس بمال.. الخ
وفيه ايضا- ومنها ان يكون المال متقوما فلا تصح الوصية بمال غير متقوم كالخمر الخ (بدائع الصنائع فى ترتيب الشرائع، كتاب الوصية-6/457)
অসিয়ত শুদ্ধ হবার শর্ত হল, অসিয়তকারী যে বস্তুর অসিয়ত করছে, সে উক্ত বস্তুর মালিক হতে হবে। সেই সাথে যে বস্তুর অসিয়ত করছে, সে বস্তুটি মালিকানা হবার যোগ্য হতে হবে।
আর যেহেতু মানুষের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ মাল নয়। না মানুষ তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মালিক। বরং সে কেবলি ভোগদখলকারী। তাই তা সে তার কোন অঙ্গকে না দান করতে পারে, না দান করার জন্য অসিয়ত করে যেতে পারে। না কারো কাছে তা বিক্রি করতে পারে।
অন্য কারো শরীরে ক্ষতি করা যেমন গোনাহ ও পাপ। তেমনি নিজের শরীরের ক্ষতি করাও গোনাহ ও পাপ। কারণ এ শরীর মানুষের নিজের মালিকনা নয়। বরং আল্লাহর মালিকনায়।
ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ ফাতহুল বারীতে লিখেছেন-
ويوخذ منه ان جناية الانسان على نفسه كجناية على غيره فى الاثم لان نفسه ليست ملكا له مطلقا، بل هى لله تعالى فلا يتصرف فيها الا بما اذن فيه (فتح البارى شرح صحيح البخارى، كتاب الأيمان والنذور، باب من حلف بملة سوى ملة الاسلام-11/539، رقم الحديث-652)
অর্থাৎ আত্মহত্যা নিষিদ্ধতার হাদীস দ্বারা এ হুকুম বের হয় যে, যে ব্যক্তি নিজে নিজেকে ধ্বংস করে বা ক্ষতিগ্রস্ত করে সে ব্যক্তি গোনাহগার। যেমন অন্য ব্যক্তিকে ধ্বংস করা বা ক্ষতিগ্রস্ত করা গোনাহ। কেননা, মানুষের শরীর ও প্রাণ তার নিজের মালিকনায় নয়। বরং এটি কেবলি আল্লাহর মালিকানাধীন। মানুষকে শুধু ভোগ দখলের অধিকার দেয়া হয়েছে। তাই সে তার শরীরকে ততটুকু ব্যবহার করতে পারবে, যতটুকু করতে সে অনুমতিপ্রাপ্ত। {ফাতহুল বারী-১১/৫৩৯}
উপরোক্ত ফিক্বহী কিতাবের পরিস্কার ইবারতের দ্বারা আশা করি এ বিষয়টি প্রতিভাত হয়ে গেছে যে, কোন ব্যক্তির জন্য তার কোন অঙ্গ প্রত্যাঙ্গ দান করার অয়িসত করার অধিকার রাখে না। কাউকে দান করারও অধিকার রাখে না। আর এভাবে মৃত ব্যক্তির অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কর্তন করার দ্বারা মৃত ব্যক্তির অসম্মান হয়ে থাকে। এ কারণেও এটি নাজায়েজ।
(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)
————————
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

এবারে আসুন ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত থেকে একটি ফতোয়া দেখে নিই,

নাস্তিকের লাশ
লাশ

এবারে আসুন শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ইসলামিক আলেম আল্লামা আলবানীর ফতোয়া পড়ে নিই [8],

লাশ 2

এবারে আসুন সারা পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামিক স্কলার বিন বাযের একটি ফতোয়া পড়ে নেয়া যাক, [9]

লাশ 4
লাশ 6
লাশ 8
লাশ 10

অঙ্গদান ও দেহদানঃ জীবনমুখী ও যুক্তিবাদী বিকল্প

মৃত্যুর পর একটি নিথর দেহকে স্রেফ ধর্মীয় আচারের নামে মাটিতে পচিয়ে ফেলা কিংবা পুড়িয়ে ছাই করা আধুনিক উপযোগবাদী (Utilitarian) এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি অপচয়। একজন যুক্তিবাদীর কাছে মৃতদেহ কোনো অতিপ্রাকৃত ‘আমানত’ নয়, বরং এটি একটি অমূল্য জৈবিক সম্পদ যা অন্য একাধিক মানুষকে নতুন জীবন দান করতে পারে।


বিশ্বব্যাপী সংকটের চিত্র ও পরিসংখ্যান

অঙ্গদানের প্রয়োজনীয়তা কেবল একটি আবেগীয় বিষয় নয়, এটি একটি ভয়াবহ বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট। গ্লোবাল অবজারভেটরি অন ডোনেশন অ্যান্ড ট্রান্সপ্লান্টেশন (GODT)-এর ২০২২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৮টি অঙ্গ প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হলেও এটি মোট চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম [10]। অর্থাৎ, পর্যাপ্ত দাতার অভাবে বিশ্বের ৯০ শতাংশ মুমূর্ষু রোগী প্রতি বছর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। অথচ একজন মৃত দাতা (Deceased Donor) এককভাবে ৮টি জীবন বাঁচাতে পারেন এবং তাঁর টিস্যু ও কর্নিয়া দানের মাধ্যমে আরও ৫০ জনেরও বেশি মানুষের জীবন মান উন্নত করতে পারেন।


বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট: একটি দীর্ঘশ্বাসের মানচিত্র

বাংলাদেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৬,০০০ থেকে ৮,০০০ মানুষ প্রাণ হারান। এই অকাল মৃত্যুগুলোর একটি বড় অংশই ‘ব্রেইন ডেথ’-এর মাধ্যমে ঘটে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, এই মৃতদেহগুলো থেকে সময়মতো অঙ্গ সংগ্রহ করা গেলে হাজার হাজার কিডনি, লিভার এবং হার্ট বিকল রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর ৪০,০০০-এর বেশি মানুষ কিডনি জটিলতায় মারা যান, যেখানে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত ব্যক্তিদের সামান্য একটি অংশ অঙ্গদান করলে এই মৃত্যুর হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব [11]


দেহদান ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি (Cadaver Donation)

কেবল অঙ্গদানই নয়, পুরো দেহটি (Cadaver) চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণার জন্য দান করা এক অনন্য মানবিক কাজ। মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা যখন একটি প্রকৃত মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ (Dissection) করে শেখে, তখন তাদের দক্ষতা কেবল কৃত্রিম মডেল বা সিমুলেশন দিয়ে অর্জন করা সম্ভব নয়। নতুন সার্জিক্যাল পদ্ধতি উদ্ভাবন এবং নতুন ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ক্ষেত্রেও এই ‘ক্যাডাভার’ অপরিহার্য। ধর্মীয় অনুশাসন যখন মৃতদেহ স্পর্শ করা বা কাটাছেঁড়াকে “পাপ” হিসেবে চিহ্নিত করে, তখন বিজ্ঞান সেই দেহ থেকেই জীবন রক্ষার মন্ত্র খুঁজে বের করে।


ধর্মীয় দ্বিমুখীতা ও যুক্তির সংঘাত

আশ্চর্যের বিষয় হলো, অধিকাংশ আধুনিক ধর্মীয় ফতোয়া (যেমন: যুক্তরাজ্যের মুসলিম ল কাউন্সিল বা উত্তর আমেরিকার ফিকহ কাউন্সিল) পরোপকারের খাতিরে অঙ্গদানকে বৈধতা দিয়েছে। এমনকি মুফতি মুহাম্মদ জুবায়ের বাট ২০১৯ সালে অঙ্গদানকে একটি অনুমোদিত কাজ হিসেবে ফতোয়া দিয়েছেন [12]

তবুও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা এবং রক্ষণশীল সমাজ “লাশকে সম্মান জানানো” কিংবা “মৃতের হাড় ভাঙা জীবিতের হাড় ভাঙার সমান”—জাতীয় পুরনো, ভিত্তিহীন আবেগ ও মুহাম্মদের হাদিসের দোহাই দিয়ে এই মহৎ কাজকে বাধাগ্রস্ত করেন। এটি একটি সরাসরি মানবিক অপরাধ; কারণ তথাকথিত ‘মৃতের সম্মান’ রক্ষা করতে গিয়ে এখানে জীবন্ত মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।


উপসংহার: যুক্তির জয়, অন্ধবিশ্বাসের পরাজয়

নাস্তিকের লাশ নিয়ে ধর্মের মাথাব্যথা অযৌক্তিক, ক্ষতিকর এবং প্রমাণহীন। মৃত্যুর পর শরীর শুধু জৈবিক বস্তু—এটি অন্যের জীবন বাঁচাতে বা বিজ্ঞানে দান করাই একমাত্র নৈতিক পথ। ইসলামের ফতোয়া যাই বলুক (অনুমোদনকারী বা বিরোধী), তার ভিত্তি যৌক্তিকভাবে সঠিক নয় এবং সেগুলো সবই অন্ধবিশ্বাস নির্ভর অপ্রমাণিত বিষয়। বাংলাদেশের মতো দেশে ধর্মীয় নেতাদের অন্ধবিশ্বাস হাজার হাজার জীবন নেয়।

নাস্তিকের লাশ পোকা বা আগুনের খাবার হোক বা না হোক—তাতে কিছু যায় আসে না। কিন্তু এটি যদি একজন অন্ধের চোখ, একজন কিডনি রোগীর জীবন হয়, তাহলে তা মানবতার জয়। যুক্তি, প্রমাণ এবং মুক্তচিন্তাই একমাত্র পথ—কোনো “আত্মা” বা “আজাব” নয়।


তথ্যসূত্রঃ
  1. Neuroscience, 6th Edition, Dale Purves ↩︎
  2. Diogenes Laërtius, Lives of Eminent Philosophers, Book VI, Loeb Classical Library ↩︎
  3. PNAS, 2023, “Surge of neurophysiological coupling and connectivity in the dying brain” ↩︎
  4. Resuscitation, 2023, “AWAreness during REsuscitation II” ↩︎

  5. ইসলামে পোস্টমর্টেম করা হারাম ↩︎
  6. মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিসঃ ১৭১৪ ↩︎
  7. সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিসঃ ১৬১৬ ↩︎
  8. ফাতাওয়ায়ে আলবানী, আল্লামা মুহাম্মদ নাসীরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) , মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী (অনুবাদক) , শাইখ আব্দুল্লাহ মাহমুদ (অনুবাদক) , শাইখ ড. আব্দুল্লাহ ফারুক সালাফী (অনুবাদক), পৃষ্ঠা ৩৫৫ ↩︎
  9. জানাযার কিছু বিধানঃ জানাযা বিষয়ে বিভিন্ন ফতোয়া, শায়খ আব্দুল আযীয ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন বায রাহিমাহুল্লাহ, প্রকাশনীঃ ইসলামহাউজ ↩︎
  10. Global Observatory on Donation and Transplantation, 2022 ↩︎
  11. Siraj, 2021, “Organ Donation and Transplantation in Bangladesh”, Saudi Journal of Kidney Diseases and Transplantation ↩︎
  12. Mufti Muhammad Zubair Butt, 2019, “Organ Donation and Transplantation in Islam” ↩︎