আল্লাহর একদিন অর্থ মানুষের কতদিন?

পৃথিবীতে সূর্য যখন ওঠে এবং যখন অস্ত যায়, এই সময়টুকুকে আমরা সময় গণনার একটি একক হিসেবে ধরে নিয়েছি, যাকে আমরা দিন বলি। দিনের এই ধারণাটি মূলত পৃথিবীর নিজ অক্ষের চারপাশে ঘূর্ণনের ভিত্তিতে গঠিত, যা সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর গতিবিধির সাথে সংযুক্ত। সূর্য উঠা থেকে শুরু করে সূর্য অস্ত যাওয়া এবং আবার সূর্য উঠা পর্যন্ত সময়কালকে আমরা দিন হিসেবে বিবেচনা করি। এই পূর্ণ চক্রটি ২৪ ঘণ্টার সমান, যা আমরা একটি পুরো দিন হিসেবে ধরে নেই। তবে, এটি শুধুমাত্র পৃথিবীর জন্যই প্রযোজ্য। পৃথিবীর বাইরে অন্যান্য গ্রহে দিনের এই গণনা সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। কারণ প্রতিটি গ্রহের ঘূর্ণন গতি, অক্ষের চারপাশে তাদের ঘূর্ণনের সময়কাল এবং তাদের নিকটবর্তী নক্ষত্রের অবস্থানের ভিত্তিতে দিনের দৈর্ঘ্য পরিবর্তিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, বুধ গ্রহে একটি পুরো দিনের দৈর্ঘ্য ১৪০৮ ঘণ্টা, যেখানে শুক্র গ্রহে একটি দিন হয় ৫৮৩২ ঘণ্টার সমান। আমাদের পরিচিত পৃথিবীতে এটি ২৪ ঘণ্টা, তবে মঙ্গল গ্রহে একটি দিন ২৫ ঘণ্টার কাছাকাছি। বৃহস্পতিতে, যা একটি বৃহদায়তন গ্রহ, একটি দিন মাত্র ১০ ঘণ্টায় শেষ হয়, এবং শনি গ্রহে এটি প্রায় ১১ ঘণ্টা দীর্ঘ। অন্যদিকে, ছোট বামন গ্রহ প্লুটোতে একটি দিন ১৭ ঘণ্টা সময় নেয় এবং নেপচুন গ্রহে এটি ১৬ ঘণ্টার সমান। প্রতিটি গ্রহের ঘূর্ণন গতি এবং তাদের নিকটবর্তী নক্ষত্রের কারণে তাদের দিনের দৈর্ঘ্য আলাদা আলাদা হয়, যা প্রমাণ করে যে সময়ের ধারণাটি একান্তভাবে নির্ভর করে কোনো নির্দিষ্ট গ্রহের ভৌত বৈশিষ্ট্যের ওপর। পৃথিবীর বাইরে সময়ের এই বিভিন্নতা আমাদেরকে একটি মহাজাগতিক প্রেক্ষাপটে সময়ের জটিলতা সম্পর্কে বুঝতে সহায়তা করে। যেমন,

গ্রহগোটা দিনের দৈর্ঘ্য
বুধ১৪০৮ ঘণ্টা
শুক্র৫৮৩২ ঘণ্টা
পৃথিবী২৪ ঘণ্টা
মঙ্গল২৫ ঘণ্টা
বৃহস্পতি১০ ঘণ্টা
শনি১১ ঘণ্টা
প্লুটো১৭ ঘণ্টা
নেপচুন১৬ ঘণ্টা

কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ পাক যেখানে থাকেন সেখানেও দিন রাত্রির হিসেব রয়েছে। তবে সেই দিন পৃথিবীর দিন থেকে অনেক বড় [1] [2]-

তোমার প্রতিপালকের একদিন হল তোমাদের গণনায় এক হাজার বছরের সমান।
— Taisirul Quran
তোমার রবের একদিন তোমাদের গণনায় সহস্র বছরের সমান।
— Sheikh Mujibur Rahman
আর তোমার রবের নিকট নিশ্চয় এক দিন তোমাদের গণনায় হাজার বছরের সমান।
— Rawai Al-bayan
আর নিশ্চয় আপনার রবের কাছে একদিন তোমাদের গণনার হাজার বছরের সমান;
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

তিনি আকাশ হতে পৃথিবী পর্যন্ত কার্য পরিচালনা করেন, অতঃপর সকল বিষয়াদি তাঁরই কাছে একদিন উত্থিত হবে যার পরিমাপ তোমাদের গণনা অনুযায়ী হাজার বছর।
— Taisirul Quran
তিনি আকাশ হতে পৃথিবী পর্যন্ত সমুদয় বিষয় পরিচালনা করেন, অতঃপর একদিন সব কিছুই তাঁর সমীপে সমুত্থিত হবে, যে দিনের পরিমাপ হবে তোমাদের হিসাবে হাজার বছরের সমান।
— Sheikh Mujibur Rahman
তিনি আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সকল কার্য পরিচালনা করেন। তারপর তা একদিন তাঁর কাছেই উঠবে। যেদিনের পরিমাণ হবে তোমাদের গণনায় হাজার বছর।
— Rawai Al-bayan
তিনি আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সমুদয় বিষয় পরিচালনা করেন, তারপর সব কিছুই তাঁর সমীপে উত্থিত হবে এমন এক দিনে যার পরিমাণ হবে তোমাদের গণনা অনুসারে হাজার বছর [১]।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

আরেকটি আয়াতে বলা হয়েছে ফেরেশতা এবং রূহ আল্লাহর দিকে আরোহণ করে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর [3]

ফেরেশতা এবং রূহ (অর্থাৎ জিবরীল) আল্লাহর দিকে আরোহণ করে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর।
— Taisirul Quran
মালাইকা/ফেরেশতা এবং রূহ আল্লাহর দিকে উর্ধ্বগামী হয় এমন একদিনে, যা পার্থিব পঞ্চাশ হাজার বৎসরের সমান।
— Sheikh Mujibur Rahman
ফেরেশতাগণ ও রূহ এমন এক দিনে আল্লাহর পানে ঊর্ধ্বগামী হয়, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর।
— Rawai Al-bayan
ফেরেশতা এবং রূহ আল্লাহর দিকে উর্ধ্বগামী হয় [১] এমন এক দিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর [২]
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

উপরের আয়াতটি থেকে জানা যায়, আল্লাহ যেখানে থাকেন সেখানেও দিনরাত রয়েছে। যার অর্থ হচ্ছে তিনি কোন গ্রহে বসবাস করেন, সেই গ্রহটিও ঘূর্ণায়মান এবং গ্রহটির নিকটবর্তী একটি নক্ষত্র রয়েছে যা গ্রহটিকে আলো দেয়। নতুবা তার দিনের হিসেব থাকার কথা নয়। আমরা জানি, এক বছরে ৮৭৬০ ঘণ্টা। অর্থাৎ, এক হাজার বছরে ৮৭৬০০০০ ঘণ্টা। অর্থাৎ গ্রহটি নিজ অক্ষের ওপর একবার ঘুরতে এই সময় প্রয়োজন হয়। এরকম গ্রহ আদৌ থাকা সম্ভব কিনা, সেটি একটি প্রশ্ন বটে। সেটিও মেনে নিলে, আল্লাহ পাক যে কোন একটি গ্রহে বসবাস করেন, সেই গ্রহের নিকটবর্তী যে একটি নক্ষত্র রয়েছে, সেটি নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। নইলে সেখানে দিন আসবে কোথা থেকে? দিন থাকলে অবশ্যই সেই গ্রহে অন্তত একটি নিকটবর্তী নক্ষত্র প্রয়োজন, তাই না?

About This Article

Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis

Epistemic Position: Scientific Skepticism

This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.

It applies historical criticism, empirical reasoning, logical analysis, and scientific skepticism in evaluating religious, philosophical, and historical claims.

The objective is not theological neutrality, but evidence-based critical examination and adversarial analysis of ideas and narratives.

This article should primarily be evaluated through: source quality, evidentiary strength, logical rigor, and factual consistency.


তথ্যসূত্রঃ
  1. কোরআন, সূরা হাজ্ব, আয়াত ৪৭ ↩︎
  2. কোরআন, সূরা সাজদা, আয়াত ৫ ↩︎
  3. কোরআন, সূরা মাআরিজ, আয়াত ৪ ↩︎