
Table of Contents
- 1 ভূমিকা
- 2 কোরআন বা ইসলামের দাবী
- 3 তুলনামূলক পৌরাণিক তত্ত্ব এবং অতি-দীর্ঘায়ুর আখ্যান
- 4 প্রাচীনকালের মানুষের গড় আয়ু: বৈজ্ঞানিক তথ্য বনাম ধর্মীয় বিশ্বাস
- 5 ফসিল রেকর্ড, প্যালিওডেমোগ্রাফি এবং বিবর্তনীয় বৈপরিত্য
- 6 মানুষের গড় আয়ুর ক্রমবর্ধমান ধারা এবং সর্বোচ্চ আয়ুর বাস্তবচিত্র
- 7 জীববৈজ্ঞানিক সীমাবদ্ধতা এবং কোষীয় বার্ধক্য
- 8 উপসংহারঃ পৌরাণিক কল্পকাহিনী বনাম বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞান
ভূমিকা
ইসলামী ধর্মতত্ত্বের একটি মৌলিক আখ্যান হলো নবী নূহের অতি-দীর্ঘায়ু। কোরআনের সূরা আনকাবুতের (২৯:১৪) ভাষ্যমতে, তিনি প্রায় সহস্রাব্দকাল (৫০ বছর কম ১০০০ বছর, অর্থাৎ ৯৫০ বছর) তাঁর সম্প্রদায়ের মাঝে সক্রিয় ছিলেন। এই দাবিটি শুধুমাত্র অলৌকিকই নয়, বরং আধুনিক জীববিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত নীতিসমূহ এবং মানব বিবর্তনের ইতিহাসের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। একটি জটিল বহুকোষীয় জীবের (complex multicellular organism) পক্ষে প্রাকৃতিকভাবে এত দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকা শারীরিক ও জৈব রাসায়নিকভাবে অসম্ভব। বর্তমান প্রবন্ধে আমরা এই ধর্মীয় পুরাণটিকে বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক কষ্টিপাথরে যাচাই করব। আমরা প্যালিওডেমোগ্রাফি (প্রাচীন জনসংখ্যার পরিসংখ্যান), ফসিল রেকর্ড থেকে প্রাপ্ত প্রত্যক্ষ প্রমাণ, কোষীয় বার্ধক্য প্রক্রিয়া (cellular aging process) এবং বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করে দেখাব যে কেন এই ৯৫০ বছরের দাবিটি কোনো বাস্তবসম্মত ভিত্তি ছাড়াই একটি অবৈজ্ঞানিক পৌরাণিক কাহিনী মাত্র।
কোরআন বা ইসলামের দাবী
ইসলামী আখ্যান অনুযায়ী, প্লাবন-পূর্ব যুগে মানুষের আয়ুষ্কাল বর্তমান সময়ের তুলনায় অবিশ্বাস্য রকমের দীর্ঘ ছিল। এই দাবির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নূহ নবী। কোরআনের সূরা আনকাবুতের ১৪ নম্বর আয়াতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তাঁর প্রচারকাল বা বয়সের উল্লেখ করা হয়েছে: [1]
আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছিলাম, অতঃপর সে পঞ্চাশ বছর কম হাজার বছর তাদের মাঝে অবস্থান করেছিল। অতঃপর মহাপ্লাবন তাদেরকে গ্রাস করল কারণ তারা ছিল সীমালঙ্ঘনকারী।
— Taisirul Quran
আমিতো নূহকে তার সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করেছিলাম এবং সে তাদের মধ্যে পঞ্চাশ কম হাজার বছর অবস্থান করেছিল। অতঃপর প্লাবন তাদেরকে গ্রাস করে। কারণ তারা ছিল সীমালংঘনকারী।
— Sheikh Mujibur Rahman
আর আমি অবশ্যই নূহকে তার কওমের নিকট প্রেরণ করেছিলাম। সে তাদের মধ্যে পঞ্চাশ কম এক হাজার বছর অবস্থান করেছিল। অতঃপর মহা-প্লাবন তাদের গ্রাস করল, এমতাবস্থায় যে তারা ছিল যালিম।
— Rawai Al-bayan
আর আমরা তো নূহকে তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছিলাম [১]। তিনি তাদের মধ্যে অবস্থান করেছিলেন পঞ্চাশ কম হাজার বছর। অতঃপর প্লাবন তাদেরকে গ্রাস করে; এমতাবস্থায় যে তারা ছিল যালিম [২]।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
বিভিন্ন তাফসীর ও ইসলামী ইতিহাস গ্রন্থ এই ধারণাকে আরও প্রতিষ্ঠিত করে যে, প্লাবন-পূর্ববর্তী যুগে মানুষ শত শত বছর বেঁচে থাকত। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান, বিশেষ করে প্যালিওডেমোগ্রাফি (Palaeodemography – প্রাচীন জনতত্ত্ব) এবং অস্টিওলজি (Osteology – অস্থিবিদ্যা) অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে। নৃতাত্ত্বিকগণ বিশ্বজুড়ে প্রাচীন যুগের হাজার হাজার মানুষের কঙ্কাল ও ফসিল রেকর্ড বিশ্লেষণ করেছেন। দাঁতের ক্ষয়, হাড়ের গঠন এবং মাথার খুলির জোড়া (sutures) পরীক্ষা করে মৃত্যুর সময়কার বয়স নির্ধারণ করার পদ্ধতি অত্যন্ত নির্ভুল।
এই সমস্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল ধর্মীয় দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রাচীন বিশ্বে, বিশেষ করে ব্রোঞ্জ যুগ বা তারও আগের সময়কালে (যে সময় নূহ নবীর আখ্যান ধরা হয়), মানুষের গড় আয়ু ছিল অত্যন্ত কম— সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। আধুনিক চিকিৎসার অভাব, পুষ্টিহীনতা, কঠিন পরিবেশ এবং উচ্চ শিশু মৃত্যুর হারই ছিল এর কারণ। যারা শৈশব পার করতে পারত, তাদের মধ্যেও খুব কম সংখ্যক মানুষই ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত পৌঁছাতে পারত। কোনো নৃবিজ্ঞানী বা প্রত্নতাত্ত্বিক আজ পর্যন্ত এমন কোনো ফসিল প্রমাণ পাননি যা নির্দেশ করে যে কোনো প্রাচীন মানুষ ১০০ বছরের গণ্ডি পার হয়েছিল, ৯৫০ বছর তো দূরের কথা। যদি প্রাচীনকালে মানুষের আয়ু এত দীর্ঘ হতো, তবে জীবাশ্ম নথিতে অন্তত কিছু ‘শতবর্ষী’ বা ‘সহস্রবর্ষী’ মানুষের কঙ্কাল পাওয়া যেত, যার অস্তিত্বই নেই। সুতরাং, এই ৯৫০ বছরের দাবিটি কোনো ঐতিহাসিক বা বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা নয়, বরং এটি একটি নিছক ধর্মীয় পৌরাণিক বিশ্বাস যা বাস্তব প্রমাণের কষ্টিপাথরে টেকে না।
তুলনামূলক পৌরাণিক তত্ত্ব এবং অতি-দীর্ঘায়ুর আখ্যান
নৃতাত্ত্বিক ও সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কোরআনে বর্ণিত নূহের ৯৫০ বছর বয়সের দাবিটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি প্রাচীন প্রাক-বৈজ্ঞানিক সংস্কৃতির একটি অত্যন্ত সাধারণ এবং বহুল প্রচলিত বৈশিষ্ট্য, যাকে নৃতাত্ত্বিকগণ ‘পৌরাণিক রূপক’ (Mythological Tropes) হিসেবে অভিহিত করেন। প্রাচীন মানুষ যখন কালপঞ্জি বা ইতিহাসের সঠিক হিসাব রাখতে অক্ষম ছিল, তখন তারা তাদের কিংবদন্তি চরিত্র, দেবতা বা দেবতাদের নিকটবর্তী পূর্বপুরুষদের ওপর অলৌকিক গুণাবলী ও অবিশ্বাস্য রকমের দীর্ঘায়ু আরোপ করত। এর মাধ্যমে সেই চরিত্রের গুরুত্ব, পবিত্রতা এবং ঐশ্বরিক সংযোগ প্রকাশ করা হতো। এই প্রবণতা বিশ্বের প্রায় সমস্ত বড় ধর্মগ্রন্থ ও লোককথায় বিদ্যমান।
ইসলামী আখ্যানের সাথে সবচেয়ে সরাসরি সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক সম্পর্কযুক্ত হলো ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মের মূল ভিত্তি ‘হিব্রু বাইবেল’ বা ওল্ড টেস্টামেন্ট। নূহের কাহিনীটি ইসলাম শেয়ার করেছে এই দুই ধর্মের সাথে। বাইবেলের জেনেসিস ৫ (Genesis 5) অধ্যায়ে প্লাবন-পূর্ব যুগের (Antediluvian) পিতৃপুরুষদের একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে, যেখানে সবার বয়সই কয়েকশ বছর। যেমন, প্রথম মানুষ আদম ৯৩০ বছর বেঁচে ছিলেন, নূহের পিতামহ মেথুসেলাহ (Methuselah) সবচেয়ে বেশি ৯৬৯ বছর বেঁচে ছিলেন বলে দাবি করা হয় এবং নূহের বাবা ল্যামেখ (Lamech) ৭৭৭ বছর। এই ৯০০-এর ঘরের সংখ্যাগুলো ইসলামী আখ্যানের সাথে হুবহু মিলে যায়।
এই ধরণের অবিশ্বাস্য দীর্ঘায়ুর ধারণা আরও প্রাচীন মেসোপটেমীয় সংস্কৃতির শেকড়ে নিহিত। প্লাবনের মিথের উৎপত্তি যেখানে, সেই প্রাচীন সুমেরীয় অঞ্চলে ‘সুমেরীয় রাজার তালিকা’ (Sumerian King List) নামক একটি কীলকাকার (Cuneiform) ফলক পাওয়া গেছে। সেখানে দাবি করা হয় যে মহাপ্লাবনের আগের রাজারা হাজার হাজার বছর ধরে রাজত্ব করেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, আলুলিম (Alulim) ২৮,৮০০ বছর এবং এন-মেন-লু-আনা (En-men-lu-ana) ৪৩,২০০ বছর রাজত্ব করেছিলেন। আধুনিক গবেষকদের মতে, পরবর্তীতে হিব্রু ও ইসলামী আখ্যানগুলোতে এই অযৌক্তিক এবং অতি-মানবিক সংখ্যাগুলোকে কিছুটা ‘বাস্তবসম্মত’ করার প্রচেষ্টায় হাজার থেকে কয়েকশ বছরে নামিয়ে আনা হয়েছে, কিন্তু মূল পৌরাণিক ভিত্তিটি একই রয়ে গেছে।
একই ধরণের প্রবণতা দেখা যায় ভারতীয় উপমহাশেধের সনাতন বা হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলোতে। সেখানে যুগের পরিবর্তনের সাথে মানুষের গড় আয়ু হ্রাসের একটিSystemic পৌরাণিক কাঠামো রয়েছে। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, ‘সত্যযুগ’-এ মানুষের গড় আয়ু ছিল এক লক্ষ বছর। ‘ত্রেতাযুগ’-এ তা কমে হয় দশ হাজার বছর, ‘দ্বাপরযুগ’-এ এক হাজার বছর এবং বর্তমান ‘কলিযুগ’-এ তা মাত্র একশ বছরে নেমে এসেছে। এই যুগেও ভীষ্ম বা দ্রোণাচার্যের মতো চরিত্রদের কয়েকশ বছর বাঁচার কথা বলা হয়। এছাড়াও চীনা লোককথায় পেং জু (Peng Zu) নামক এক চরিত্রের কথা আছে, যিনি ৮০০ বছরের বেশি বেঁচে ছিলেন বলে দাবি করা হয় এবং তাঁকে দীর্ঘায়ুর প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। গ্রিক পুরাণেও ‘স্বর্ণযুগ’ (Golden Age)-এর কথা বলা হয়েছে, যেখানে মানুষ রোগ-শোকহীনভাবে দীর্ঘজীবন অতিবাহিত করত।

সুতরাং, এই সমস্ত পৌরাণিক বিবরণ অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, নূহের ৯৫০ বছর বা মেথুসেলাহের ৯৬৯ বছরের দাবিগুলো কোনো ঐতিহাসিক সত্য বা জীববৈজ্ঞানিক বাস্তবতা নয়। বরং এগুলো প্রাচীন মানব সভ্যতার একটি বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যায়, যেখানে remote অতীতকে মহিমান্বিত করার জন্য পূর্বপুরুষদের ওপর অলৌকিক আয়ু আরোপ করা হতো। এগুলো কোনো সর্বজ্ঞাত স্রষ্টার দেওয়া তথ্য নয়, বরং মানুষের প্রাক-বৈজ্ঞানিক কল্পনার একটি সাধারণ নৃতাত্ত্বিক প্রক্ষেপণ।
প্রাচীনকালের মানুষের গড় আয়ু: বৈজ্ঞানিক তথ্য বনাম ধর্মীয় বিশ্বাস
ইসলামী আখ্যানের দাবি অনুযায়ী, মানব ইতিহাসে একটি স্বর্ণযুগ ছিল যখন মানুষের গড় আয়ু ছিল অবিশ্বাস্য রকমের দীর্ঘ, যা ধীরে ধীরে কমতে কমতে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছেছে। কিন্তু আধুনিক প্যালিওডেমোগ্রাফি (Palaeodemography), অস্টিওলজি (Osteology) এবং নৃবিজ্ঞানের অকাট্য প্রমাণ এই ধর্মীয় ধারণাকে সম্পূর্ণ উল্টে দেয়। এই সমস্ত বিজ্ঞান স্পষ্টভাবে দেখায় যে, মানুষের গড় আয়ু অতীতের দিকে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়নি, বরং আধুনিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অগ্রগতির কারণে তা গত দুইশ বছরে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, ‘গড় আয়ু’ (average lifespan) এবং ‘সর্বোচ্চ আয়ু’ (maximum lifespan)-এর মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি। গড় আয়ু হলো কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর গড় জীবনকাল, যা শিশু মৃত্যুর হার দ্বারা প্রবলভাবে প্রভাবিত হয়। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ আয়ু হলো কোষীয় গঠন অনুযায়ী কোনো প্রজাতির তাত্ত্বিকভাবে সর্বোচ্চ বেঁচে থাকার সীমা। এ সমস্ত অযৌক্তিক এবং অতি-মানবিক সংখ্যা দেখানো হয়েছে, তা মূলত কোনো প্রাক-বৈজ্ঞানিক সংস্কৃতির প্রক্ষেপণ মাত্র, যার কোনো বাস্তবসম্মত ভিত্তি নেই।
প্রাচীন মানুষের কঙ্কাল ও ফসিল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা প্যালিওলিথিক, নিওলিথিক এবং ব্রোঞ্জ যুগের মানুষের গড় আয়ুর একটি সুনির্দিষ্ট চিত্র তৈরি করেছেন। এই সমস্ত গবেষণার ফলাফল ধর্মীয় দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রাচীন বিশ্বে, বিশেষ করে ব্রোঞ্জ যুগ বা তারও আগের সময়কালে (যে সময় নূহ নবীর আখ্যান ধরা হয়), মানুষের গড় আয়ু ছিল অত্যন্ত কম— সাধারণত ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। উচ্চ শিশু মৃত্যুর হার, পুষ্টিহীনতা, কঠিন পরিবেশ এবং আধুনিক চিকিৎসার অভাবই ছিল এই স্বল্প আয়ুর মূল কারণ। এই প্রাকৃতিক সীমার ঊর্ধ্বে নয়শো পঞ্চাশ বছর বেঁচে থাকার দাবি বৈজ্ঞানিক তথ্যের সম্পূর্ণ বিরোধী। সুতরাং, এই ৯৫০ বছরের দাবিটি কোনো ঐতিহাসিক বা বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা নয়, বরং এটি একটি নিছক ধর্মীয় পৌরাণিক বিশ্বাস যা বাস্তব প্রমাণের কষ্টিপাথরে টেকে না।
সুতরাং, এই সমস্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল ধর্মীয় দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত। যারা শৈশব পার করতে পারত, তাদের মধ্যেও খুব কম সংখ্যক মানুষই ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত পৌঁছাতে পারত। কোনো নৃবিজ্ঞানী বা প্রত্নতাত্ত্বিক আজ পর্যন্ত এমন কোনো ফসিল প্রমাণ পাননি যা নির্দেশ করে যে কোনো প্রাচীন মানুষ ১০০ বছরের গণ্ডি পার হয়েছিল, ৯৫০ বছর তো দূরের কথা। যদি প্রাচীনকালে মানুষের আয়ু এত দীর্ঘ হতো, তবে জীবাশ্ম নথিতে অন্তত কিছু ‘শতবর্ষী’ বা ‘সহস্রবর্ষী’ মানুষের কঙ্কাল পাওয়া যেত, যার অস্তিত্বই নেই। সুতরাং, এই ৯৫০ বছরের দাবিটি কোনো ঐতিহাসিক সত্য বা জীববৈজ্ঞানিক বাস্তবতা নয়। এটি মূলত প্রাচীনকালের মানুষের অজ্ঞতা, ভয় এবং প্রকৃতির কাছে তার অসহায়ত্বের এক ঐতিহাসিক ও বিবর্তনীয় ফসল, যার কোনো বস্তুগত ভিত্তি নেই।
আসুন মিজানুর রহমান আজহারীর একটি ভিডিও দেখি,
ফসিল রেকর্ড, প্যালিওডেমোগ্রাফি এবং বিবর্তনীয় বৈপরিত্য
নূহ নবীর ৯৫০ বছর বেঁচে থাকার ধর্মীয় দাবিটিকে চূড়ান্তভাবে নাকচ করে দেয় প্যালিওন্টোলজি (জীবাশ্ম বিজ্ঞান) এবং প্যালিওডেমোগ্রাফি (প্রাচীন জনতত্ত্ব)-র প্রত্যক্ষ প্রমাণসমূহ। ধর্মতাত্ত্বিক দাবিটি টিকে আছে এই ধারণার ওপর যে, অতীতে মানুষের আয়ুষ্কাল বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি ছিল এবং সময়ের সাথে সাথে তা হ্রাস পেয়েছে। পৌরাণিক চরিত্রসমূহ এই আদিম ও ভুল ধারণারই প্রতিফলন। কিন্তু বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান এবং ফসিল রেকর্ড আমাদের সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং বাস্তবসম্মত এক চিত্র প্রদান করে।
বিজ্ঞানীরা বিগত কয়েক শতাব্দী ধরে বিশ্বজুড়ে আদি হোমিনিড এবং প্রাচীন মানুষের হাজার হাজার ফসিল ও কঙ্কাল আবিষ্কার করেছেন। অস্টিওলজিক্যাল (অস্থিবিদ্যা সংক্রান্ত) বিশ্লেষণের মাধ্যমে, বিশেষ করে দাঁতের এনামেল গঠন, হাড়ের ঘনত্ব এবং মাথার খুলির জোড়া (sutures)-র পরীক্ষা করে নৃবিজ্ঞানীরা অত্যন্ত নির্ভুলভাবে মৃত্যুর সময়কার বয়স নির্ধারণ করতে সক্ষম। এরিক ট্রিংকাস (Trinkaus, 2011) এবং অন্যান্যদের গবেষণায় লেট প্লাইস্টোসিন (Late Pleistocene) যুগের মানুষের মৃত্যুর ধরণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, ৫০ বছর বয়সের গণ্ডি পার করা মানুষ সে যুগে অত্যন্ত বিরল ছিল [2]। প্রায় ২০০,০০০ বছর আগের আর্কেইক হোমো স্যাপিয়েন্সদের ফসিল রেকর্ড অনুযায়ী, অধিকাংশ মানুষই ৩০-৪০ বছর বয়সের মধ্যে মারা যেত।
এমনকি নব্যপ্রস্তর যুগে (Neolithic Age), যখন মানুষ যাযাবর জীবন ত্যাগ করে কৃষিকাজ শুরু করে এবং সমাজ কাঠামো গড়ে তোলে, তখনও গড় আয়ু নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়নি। ফসিল রেকর্ড অনুযায়ী সে সময়ে গড় আয়ু ছিল ৪০-৫০ বছরের মধ্যে। কৃষিভিত্তিক সমাজে খাদ্যের নিশ্চয়তা বাড়লেও, ঘনবসতিপূর্ণ বসবাসের কারণে ছোঁয়াচে রোগ এবং পুষ্টিহীনতার হার বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা গড় আয়ুকে সীমিত করে রাখে [3]। নূহ নবীর কথিত সময়কালকে কোনোভাবেই ফসিল রেকর্ডের বাইরের একটি ‘স্বর্ণযুগ’ হিসেবে দাবি করার কোনো বৈজ্ঞানিক সুযোগ নেই।
বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে, ৯৫০ বছরের ধারণাটি আরও বেশি অযৌক্তিক ও অবৈজ্ঞানিক হয়ে পড়ে। বিবর্তন ঘটে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে, যা জীবের বংশবৃদ্ধির সফলতাকে (reproductive success) প্রাধান্য দেয়। যেহেতু মানুষ সাধারণত ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যেই তাদের বংশবৃদ্ধির কাজ সম্পন্ন করে, সেহেতু চরম দীর্ঘায়ু (যেমন ৯৫০ বছর) নির্বাচনের পক্ষে কোনো নির্বাচনী চাপ (selective pressure) থাকার যৌক্তিক কারণ নেই [3]।এছাড়া, লিওনার্ড হেইফ্লিক (Hayflick, 1965) আবিষ্কৃত কোষের বিভাজনের সীমা (হেইফ্লিক লিমিট), যা কোষীয় বার্ধক্য (senescence) নিয়ন্ত্রণ করে, তা প্রমাণ করে যে মানবদেহের কোষগুলো সহস্রাব্দ ধরে নিজেদের পুনরুৎপাদন করতে অক্ষম [4]। সুতরাং, ফসিল রেকর্ড এবং বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান একযোগে প্রমাণ করে যে, ৯৫০ বছর বেঁচে থাকার দাবিটি একটি বিশাল এবং অলঙ্ঘনীয় বৈজ্ঞানিক বৈপরিত্য, যা বাস্তব প্রমাণের ওপর নয়, বরং নিতান্তই অন্ধবিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
মানুষের গড় আয়ুর ক্রমবর্ধমান ধারা এবং সর্বোচ্চ আয়ুর বাস্তবচিত্র
ইসলামী এবং অন্যান্য ধর্মীয় আখ্যানের দাবি যে, অতীতে মানুষের আয়ুষ্কাল বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি ছিল এবং সময়ের সাথে সাথে তা হ্রাস পেয়েছে, তা আধুনিক বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত তথ্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। [Image 5.png]-এ প্রদর্শিত বিভিন্ন পৌরাণিক চরিত্র এবং তাদের অবিশ্বাস্য রকমের দীর্ঘায়ু মূলত কোনো প্রাক-বৈজ্ঞানিক সংস্কৃতির প্রক্ষেপণ মাত্র, যার কোনো বাস্তবসম্মত ভিত্তি নেই। আধুনিক বিজ্ঞান অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ করেছে যে, মানুষের ‘গড় আয়ু’ (average lifespan) অতীতের দিকে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়নি, বরং আধুনিক চিকিৎসা, খাদ্যাভ্যাসের উন্নতি এবং উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অগ্রগতির কারণে তা গত দুইশ বছরে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
জীববিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে ‘গড় আয়ু’ (average lifespan) এবং ‘সর্বোচ্চ আয়ু’ (maximum lifespan)-এর মধ্যে পার্থক্য বোঝা অপরিহার্য। গড় আয়ু হলো কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর গড় জীবনকাল, যা শিশু মৃত্যুর হার এবং রোগবালাই দ্বারা প্রবলভাবে প্রভাবিত হয়। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ আয়ু হলো কোষীয় গঠন অনুযায়ী কোনো প্রজাতির তাত্ত্বিকভাবে সর্বোচ্চ বেঁচে থাকার সীমা। প্রকৃত এবং বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাইকৃত ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় বেঁচে থাকা মানুষ হলেন ফ্রান্সের জেন ক্যালমেন্ট (Jeanne Calment), যিনি ১২২ বছর ১৬৪ দিন বয়সে ১৯৯৭ সালে মারা যান। আসল জাপানি নাগরিক জিরোমন কিমুরা (Jiroemon Kimura) ১১৬ বছর ৫ মাস ১৫ দিন বয়সে ২০১৩ সালে মারা গিয়েছিলেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে যাচাইকৃত এই নামগুলো এবং আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষণা একযোগে প্রমাণ করে যে, মানুষের সর্বোচ্চ আয়ুর প্রাকৃতিক সীমা ১০০-১২০ বছরের কাছাকাছি [5]। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ২০১৯ সালে বিশ্বের গড় আয়ু ছিল ৭২.৬ বছর, যা বিংশ শতাব্দীর শুরুতে মাত্র ৩০-৪০ বছর ছিল [6]। এই বৃদ্ধি নাটকীয়, কিন্তু তা মানুষের সর্বোচ্চ আয়ুর কোষীয় সীমা পরিবর্তন করতে পারেনি [7]। সুতরাং, এই প্রাকৃতিক সীমার ঊর্ধ্বে নয়শো পঞ্চাশ বছর বেঁচে থাকার দাবি বৈজ্ঞানিক তথ্যের সম্পূর্ণ বিরোধী। সুতরাং, এই ৯৫০ বছরের দাবিটি কোনো ঐতিহাসিক বা বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা নয়, বরং এটি একটি নিছক ধর্মীয় পৌরাণিক বিশ্বাস যা বাস্তব প্রমাণের কষ্টিপাথরে টেকে না।
জীববৈজ্ঞানিক সীমাবদ্ধতা এবং কোষীয় বার্ধক্য
মানবদেহের গঠন এবং তার কোষীয় কার্যপ্রণালী এমনভাবে বিবর্তিত হয়েছে যে, সহস্রাব্দ ধরে বেঁচে থাকা প্রাকৃতিকভাবে অসম্ভব। মানবদেহ একটি অত্যন্ত জটিল ব্যবস্থা, যেখানে কোষগুলো ক্রমাগত পুনর্জন্ম এবং পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে জীবিত থাকে। কিন্তু মানবদেহের কোষগুলোর পুনর্জন্মের একটি প্রাকৃতিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা হেইফ্লিক লিমিট (Hayflick Limit) নামে পরিচিত। ১৯৬১ সালে লিওনার্ড হেইফ্লিক (Hayflick, 1965) আবিষ্কার করেন যে, মানবদেহের ভ্রূণীয় ফাইব্রোব্লাস্ট (embryonic fibroblast) কোষগুলো একটি নির্দিষ্ট সংখ্যকবার বিভাজিত হওয়ার পরে নিজেদের পুনরুৎপাদন করতে অক্ষম হয়ে পড়ে এবং বার্ধক্য প্রক্রিয়া শুরু হয় [8]। এই সীমাটি মানুষের জন্য সাধারণত ৫০-৬০ বারের মতো। কোষ বিভাজনের এই সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে যে, মানবদেহের কোষগুলো দীর্ঘকাল ধরে নিজেদের পুনরুৎপাদন করতে অক্ষম, যা চরম দীর্ঘায়ু (যেমন ৯৫০ বছর) হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় [9]।
কোষের বার্ধক্য প্রক্রিয়ার মূল কারণগুলোর মধ্যে টেলোমেয়ারের (telomeres) ক্ষয় অন্যতম। টেলোমেয়ার হলো ক্রোমোজোমের প্রান্তে অবস্থিত সুরক্ষামূলক অংশ, যা কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোমকে অক্ষত রাখে। কিন্তু প্রতিবার কোষ বিভাজনের সময় টেলোমেয়ার একটু করে ছোট হয়ে যায়। যখন টেলোমেয়ার অনেক ছোট হয়ে যায়, তখন কোষটি আর বিভাজিত হতে পারে না এবং মৃতপ্রায় অবস্থায় চলে যায় [3]। এই কোষীয় সীমাবদ্ধতা ছাড়াও, দীর্ঘায়ু হওয়ার জন্য নির্বাচনী চাপ (selective pressure) না থাকার কারণে চরম দীর্ঘায়ু বিবর্তিত হওয়ার যৌক্তিক কোনো কারণ নেই [3]। সুতরাং, হেইফ্লিক লিমিট, টেলোমেয়ারের ক্ষয় এবং বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের নীতিগুলো একযোগে প্রমাণ করে যে, ৯৫০ বছর বেঁচে থাকার দাবিটি একটি বৈজ্ঞানিক বৈপরিত্য, যা আধুনিক জীববিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত তথ্যের সম্পূর্ণ বিরোধী।
উপসংহারঃ পৌরাণিক কল্পকাহিনী বনাম বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞান
ইসলামী ধর্মতত্ত্বের দাবি অনুযায়ী নূহ নবীর ৯৫০ বছরের জীবনকাল একটি অলৌকিক ঘটনা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিভিন্ন সংস্কৃতির অতি-দীর্ঘায়ু চরিত্রসমূহের মতো নূহের আখ্যানটিও প্রাচীন মানুষের প্রাক-বৈজ্ঞানিক বিশ্ববীক্ষা এবং প্রতীকী গল্প বলার ধারার প্রতিফলন। কিন্তু বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞান এবং যৌক্তিক বিশ্লেষণের কষ্টিপাথরে এই দাবিটি সম্পূর্ণ অসার প্রমাণিত হয়। আমরা প্রবন্ধের পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদগুলোতে দেখেছি যে, জীবাশ্ম রেকর্ড (Fossil Record) এবং প্যালিওডেমোগ্রাফি (Palaeodemography) একযোগে প্রমাণ করে যে, মানব ইতিহাসের কোনো পর্যায়েই, বিশেষ করে প্রাচীন যুগে, মানুষের গড় আয়ু বা সর্বোচ্চ আয়ু সহস্রাব্দের কাছাকাছি ছিল না। ব্রোঞ্জ যুগের মানুষের গড় আয়ু ছিল মাত্র ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।
জীববিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত নীতিসমূহ, বিশেষ করে হেইফ্লিক লিমিট (Hayflick Limit) এবং টেলোমেয়ারের ক্ষয় (Telomere shortening)-এর মতো কোষীয় বার্ধক্য প্রক্রিয়া (Cellular senescence), মানুষের জন্য ১২০ বছরের ঊর্ধ্বে বেঁচে থাকা প্রাকৃতিকভাবে অসম্ভব করে তোলে। বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেও চরম দীর্ঘায়ুর পক্ষে কোনো নির্বাচনী চাপ (Selective pressure) থাকার যৌক্তিক কারণ নেই। মানুষের গড় আয়ু গত দুইশ বছরে বৃদ্ধি পেলেও, তা মানুষের কোষীয় আয়ুর প্রাকৃতিক সীমা পরিবর্তন করতে পারেনি। সুতরাং, ৯৫০ বছর বেঁচে থাকার দাবি বৈজ্ঞানিক তথ্যের সম্পূর্ণ বিরোধী। এই ধরণের দাবি শুধুমাত্র অলৌকিক হিসেবেই বিশ্বাস করা যেতে পারে, কোনোভাবেই প্রাকৃতিক বা বৈজ্ঞানিক ঘটনা হিসেবে নয়। সুতরাং, এই ৯৫০ বছরের দাবিটি কোনো ঐতিহাসিক বা বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা নয়, বরং এটি একটি নিছক ধর্মীয় পৌরাণিক বিশ্বাস যা বাস্তব প্রমাণের কষ্টিপাথরে টেকে না।
উপসংহারে এটি সুষ্পষ্ট যে, নূহ নবীর ৯৫০ বছর বেঁচে থাকার দাবিটি একটি বিশুদ্ধ ধর্মীয় পুরাণ, যা বস্তুনিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক প্রমাণের কষ্টিপাথরে সম্পূর্ণ অসার। পৌরাণিক চরিত্রসমূহ মূলত প্রাচীন মানুষের প্রাক-বৈজ্ঞানিক বিশ্ববীক্ষা এবং প্রতীকী গল্প বলার ধারার প্রতিফলন, যা ইতিহাস হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। মানবদেহের কোষীয় গঠন এবং বার্ধক্য প্রক্রিয়া (cellular senescence) মানুষকে সহস্রাব্দ ধরে বেঁচে থাকার অযোগ্য করে তোলে। মানুষের গড় আয়ু গত দুইশ বছরে বৃদ্ধি পেলেও, সর্বোচ্চ আয়ুর প্রাকৃতিক সীমা অপরিবর্তিত রয়েছে। সুতরাং, ৯৫০ বছরের জীবনকাল শুধুমাত্র অলৌকিক হিসেবেই বিশ্বাস করা যেতে পারে, কোনোভাবেই প্রাকৃতিক বা বৈজ্ঞানিক ঘটনা হিসেবে নয়। যুক্তি এবং প্রমাণের আলোকেই আমাদের এই ধরণের দাবিগুলোকে বিচার করতে হবে, অন্ধবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে নয়। এটি নিতান্তই মূর্খতাপ্রসূত অপবিশ্বাস যে ancient যুগে ৩০০ বছরের কোলের শিশু থাকতো বা মানুষ ১০০০ বছর বাঁচত, যা আধুনিক বিজ্ঞানের আলোয় চূড়ান্তভাবে খণ্ডিত।
তথ্যসূত্রঃ
- সূরা আনকাবুত, আয়াত ১৪ ↩︎
- Trinkaus, E. (2011). Late Pleistocene adult mortality patterns and modern human establishment. Proceedings of the National Academy of Sciences, 108(4), 1267–1271 ↩︎
- Finch, C. E. (2010). Evolution of the human lifespan and diseases of aging: Roles of infection, inflammation, and nutrition. Proceedings of the National Academy of Sciences, 107(Supplement_1), 1718–1724 1 2 3 4
- Hayflick, L. (1965). The limited in vitro lifetime of human diploid cell strains. Experimental Cell Research, 37(3), 614–636 ↩︎
- United Nations, Department of Economic and Social Affairs, Population Division. World Population Prospects 2019 ↩︎
- World Health Organization (WHO). World Health Statistics 2020: Monitoring Health for the SDGs. Geneva: WHO, 2020 ↩︎
- Oeppen, J., & Vaupel, J. W. (2002). Broken limits to life expectancy. Science, 296(5570), 1029–1031 ↩︎
- Hayflick, L. (1965). The limited in vitro lifetime of human diploid cell strains. Experimental Cell Research, 37(3), 614–636 ↩︎
- Finch, C. E. (2010). Evolution of the human lifespan and diseases of aging: Roles of infection, inflammation, and nutrition. Proceedings of the National Academy of Sciences, 107(Supplement_1), 1718–1724 ↩︎
