এই বিষয়ে আলোচনার শুরুতেই আসুন জেনে নিই যে, ইসলামের কল্পিত স্বর্গ জান্নাতে হারাম বলে কিছু থাকবে না। হালাল হারাম সবই দুনিয়ার শরীয়ত, জান্নাতে এরকম কোন আইনকানুন নেই। আসুন বিষয়টি আলেমদের কাছ থেকে জেনে নিই,
এবারে আসুন দেখি জান্নাতে মদ বা শরাবের নদীর বর্ণনাটি পড়ে নিই,
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৮: সৃষ্টির সূচনা ও কিয়ামতের বিভিন্ন অবস্থা
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ – জান্নাত ও জান্নাতবাসীদের বিবরণ
৫৬৫০-[৩৯] হাকীম ইবনু মু’আবিয়াহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: জান্নাতে রয়েছে পানির সমুদ্র, মধুর দরিয়া, দুধের সমুদ্র এবং শরাবের দরিয়া। অতঃপর তা থেকে আরো বহু নদী প্রবাহিত হবে। (তিরমিযী)
সহীহ: তিরমিযী ২৫৭১, সহীহুল জামি ৩৮৮৫, মুসনাদে ‘আবদ ইবনু হুমায়দ ৪১০, আল মু’জামুল কাবীর লিত্ব বারানী ১৬৩৭১।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ হাকিম ইবনু মুআবিয়াহ (রহঃ)
উল্লেখ্য, পৃথিবীতে মদ পান করা ইসলামে হারাম করা হয়েছে। সেইসাথে নবী এটি বলে দিয়েছেন যে, দুনিয়াতে যে মদ পান করবে জান্নাতে তা থেকে বঞ্চিত হবে। এর অর্থ হচ্ছে, দুনিয়াতে যেই মদ দেয়া হয়, জান্নাতে তার চাইতে ভাল এবং উন্নতমানের মদই দেয়া হবে। অনেক ইসলামিক এপোলোজিস্ট দাবী করেন যে, জান্নাতের মদে নাকি নেশা হওয়ার মত কোন উপাদান থাকবে না। কিন্তু নেশা হওয়ার উপাদান না থাকলে সেটিকে তো আর মদ বলা হয় না, শরবত বলা হয়। আসুন এই সম্পর্কিত হাদিসগুলো পড়ে নিই [1] [2] [3] –
সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৭/ পানীয় দ্রব্য
পরিচ্ছেদঃ ৮. মদ পানকারী ব্যক্তি যদি তওবা না করে তবে শাস্তিস্বরূপ পরকালে তাকে (জান্নাতী) শরাব থেকে বঞ্চিত রাখা হবে
৫০৫২ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যাক্তি দুনিয়াতে শরাব (মদ) পান করবে, আখিরাতে সে তা থেকে বঞ্ছিত থাকবে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৭/ পানীয় দ্রব্য
পরিচ্ছেদঃ ৮. মদ পানকারী ব্যক্তি যদি তওবা না করে তবে শাস্তিস্বরূপ পরকালে তাকে (জান্নাতী) শরাব থেকে বঞ্চিত রাখা হবে
৫০৫৩। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা ইবনু কা’নাব (রহঃ) … ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি পৃথিবীতে শরাব (মদ) পান করবে এবং তাওবা করবে না, আখিরাতে সে তা থেকে বঞ্চিত হবে। তাকে তা পান করানো হবে না। মালিক (রহঃ) কে বলা হলো হাদীসটি কি তিনি (ঊর্ধ্বতন রাবী) মারফু’ (সরাসরি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে) বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৭/ পানীয় দ্রব্য
পরিচ্ছেদঃ ৮. মদ পানকারী ব্যক্তি যদি তওবা না করে তবে শাস্তিস্বরূপ পরকালে তাকে (জান্নাতী) শরাব থেকে বঞ্চিত রাখা হবে
৫০৫৪। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … (আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) থেকে), অন্য সনদে ইবনু নুমায়র (রহঃ) (তার পিতা থেকে) … ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়ায় মদ পান করবে, আখিরাতে সে তা পান করতে পারবে না। কিন্তু যদি তাওবা করে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
ইসলামে পৃথিবীতে একই সাথে চার স্ত্রীর অধিক রাখা হারাম করা হয়েছে। কিন্তু জান্নাতে সে অসংখ্য হুর পাবে, তাদের সাথে সঙ্গমও করবে। এ থেকে বোঝা যায়, দুনিয়াতে যা হারাম, জান্নাতে তা হালাল। আবার, স্বর্ণ এবং রেশমী বস্ত্র পুরুষদের জন্য হারাম করা হয়েছে [4]
আল-লুলু ওয়াল মারজান
৩৭/ পোষাক ও অলঙ্কার
পরিচ্ছেদঃ ৩৭/২. পুরুষ ও মহিলাদের জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্র ব্যবহার হারাম এবং স্বর্ণের আংটি ও রেশমী বস্ত্ৰ পুরুষের জন্য হারাম ও তা মহিলাদের জন্য বৈধ এবং রেশমী দ্বারা নকশা করা যার পরিমাণ চার আঙ্গুলের বেশী নয় তা পুরুষের জন্য বৈধ।
১৩৪৩. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। শু’বাহ (রহঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ এ কথা কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত? তিনি জোর দিয়ে বললেনঃ হ্যাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশমী কাপড় পরিধান করবে, সে আখিরাতে তা কখনও পরিধান করতে পারবে না।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৭৭ : পোশাক, অধ্যায় ২৫, হাঃ ৫৮৩২; মুসলিম, পর্ব ৩৭ : পোষাক ও অলঙ্কার, অধ্যায় হাঃ ৬০৭৩
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
আবার, জান্নাতে সেই একই স্বর্ণ এবং রেশমী বস্ত্র হালাল করা হয়েছে। সূরা হাজ্জের ২৩ নম্বর আয়াত, সূরা ফাত্বিরের ৩৩ নম্বর আয়াত, সূরা কাহফ এর ৩১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে [5] [6] [7] –
যারা ঈমান আনে আর সৎ কাজ করে, আল্লাহ তাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে যার তলদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত। সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে সোনার কাঁকন আর মুক্তা দিয়ে আর সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের।
Taisirul Quran
যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে, আল্লাহ তাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে স্বর্ণ কংকন ও মুক্তা দ্বারা এবং সেখানে তাদের পোশাক পরিচ্ছদ হবে রেশমের।
Sheikh Mujibur Rahman
যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরকে দাখিল করবেন এমন জান্নাতে, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত। যেখানে তাদেরকে সোনার কাঁকন ও মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হবে এবং যেখানে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের।
Rawai Al-bayan
নিশ্চয় যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আল্লাহ্ তাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে সোনার কাঁকন ও মুক্তা দ্বারা (১) এবং সেখানে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের (২)।
Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
স্থায়ী জান্নাতে তারা প্রবেশ করবে। যেখানে তাদেরকে স্বর্ণ ও মুক্তার কঙ্কণে অলঙ্কৃত করা হবে। যেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের।
— Taisirul Quran
তারা প্রবেশ করবে স্থায়ী জান্নাতে, সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ নির্মিত কংকন ও মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হবে এবং সেখানে তাদের পোশাক পরিচ্ছদ হবে রেশমের।
— Sheikh Mujibur Rahman
চিরস্থায়ী জান্নাত, এতে তারা প্রবেশ করবে। যেখানে তাদেরকে স্বর্ণের চুড়ি ও মুক্তা দ্বারা অলঙ্কৃত করা হবে এবং সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের।
— Rawai Al-bayan
স্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করবে [১], সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ নির্মিত কংকন ও মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হবে এবং সেখানে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
তাদের জন্য আছে স্থায়ী জান্নাত যার নিম্নদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত। সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে স্বর্ণ কংকণে। সূক্ষ্ম ও গাঢ় রেশমের সবুজ পোশাক তারা পরিধান করবে। তারা গদি লাগানো উচ্চাসনে হেলান দিয়ে বসবে। কতই না উত্তম পুরস্কার! কতই না উত্তম আশ্রয়স্থল!
— Taisirul Quran
তাদেরই জন্য আছে স্থায়ী জান্নাত যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ-কংকনে অলংকৃত করা হবে, তারা পরিধান করবে সূক্ষ্ম ও স্থূল রেশমের সবুজ বস্ত্র ও সমাসীন হবে সুসজ্জিত আসনে; কত সুন্দর পুরস্কার ও উত্তম আশ্রয়স্থল!
— Sheikh Mujibur Rahman
এরাই তারা, যাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী জান্নাতসমূহ, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় নদীসমূহ। সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে স্বর্ণের চুড়ি দিয়ে এবং তারা পরিধান করবে মিহি ও পুরু সিল্কের সবুজ পোশাক। তারা সেখানে (থাকবে) আসনে হেলান দিয়ে। কী উত্তম প্রতিদান এবং কী সুন্দর বিশ্রামস্থল !
— Rawai Al-bayan
তারাই এরা, যাদের জন্য আছে স্থায়ী জান্নাত যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ কংকনে অলংকৃত করা হবে [১], তারা পড়বে সুক্ষ ও পুরু রেশমের সবুজ বস্ত্র, আর তারা সেখানে থাকবে হেলান দিয়ে সুসজ্জিত আসনে [২]; কত সুন্দর পুরস্কার ও উত্তম বিশ্রামস্থল [৩]!
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
About This Article
Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis
Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics
This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.
Its purpose is not theological neutrality or artificial both-sides balance, but evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.
Neutrality here means methodological fairness: accurate use of sources, logical rigor, evidentiary discipline, and factual consistency. It does not mean moral indifference or equal treatment between harmful doctrines and their criticism.
Strong criticism should not be mistaken for bias if it is supported by evidence and sound reasoning.
This article should be evaluated through source quality, evidentiary strength, logical rigor, factual consistency, and fairness in representing opposing claims—not through theological sensitivity, apologetic expectations, or demand for rhetorical softness.
