প্রারম্ভিক ইসলামী বর্ণনায় ইবলিসকে একক একটি সত্তা হিসেবে পরিচয় দেয়া হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই নিশ্চয়ই নবীর কাছে এই প্রশ্ন এসেছিল যে, একজন ইবলিস পৃথিবীর এতো মানুষের কাছে পৌঁছে তাদের কীভাবে ধোঁকা দিতে পারে? এরপরেই ইসলামিক গল্পগুলো খানিকটা বদলে যায়, এবং ইবলিসের অনুগত শয়তানের বাহিনীর কাহিনী তৈরি হয়। সেটি যাইহোক, আমাদের এই প্রবন্ধে আলোচ্য বিষয় হচ্ছে, ইবলিশ নবী মুহাম্মদের জন্ম, বেড়ে ওঠা, নবুয়ত প্রাপ্তি, এসবের কিছু সম্পর্কেই অবগত ছিল না। কিন্তু সেটি কীভাবে হয়? পৃথিবীতে এত বিশাল একটি ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, আল্লাহর সবচাইতে পেয়ারা বান্দা এবং শেষ রাসুলের জন্ম হচ্ছে, এই বিষয়ে ইবলিশের কাছে কোন খবরই নেই? ইবলিশের বাহিনী তখন কী নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিল? আসুন এই সম্পর্কিত হাদিসটি পড়ি,
সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৪৪/ তাফসীরুল কুরআন
পরিচ্ছেদঃ ৭০. সূরা আল-জিন্ন
৩৩২৪। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উর্ধ্ব জগতে জিনেরা যাতায়াত করত আকাশের সংবাদ সংগ্রহের জন্য। একটি কথা শুনতে পেলে তার সঙ্গে তারা নিজেদের পক্ষ হতে আরো নয়টি কথা সংযুক্ত করত। যার কারণে সেই একটি কথা সত্য হত এবং বাকি নয়টি কথা হত মিথ্যা। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াতপ্রাপ্ত হলে উর্ধ্ব জগতে তাদের উপবেশনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। সুতরাং (জিনেরা) এ ব্যাপারটি তারা ইবলিসকে অবহিত করে। আর ইতোপূর্বে কখনো তাদের প্রতি উল্কাপিণ্ড নিক্ষিপ্ত হয়নি।
ইবলীস তাদেরকে বলল, পৃথিবীতে অবশ্যই নতুন কিছু ঘটেছে, যার কারণে এই প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং ইবলীস তার দলকে প্রেরণ করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তারা দু’টি পাহাড়ের মাঝামাঝিতে নামায আদায় করতে দেখে। (ইমাম তিরমিয়ী বলেন,) আমার ধারণা হয় মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া বলেছেন, মক্কায় (নামায আদায় করতে দেখে)। তারপর তারা ইবলীসের সঙ্গে দেখা করে তাকে ব্যাপারটি জানায়। সে বলল, সেই নতুন ঘটনা এটাই যা দুনিয়াতে ঘটেছে।
সহীহ।
আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
এই হাদিসটি থেকে জানা যায়, ইবলিশ নবী মুহাম্মদের জন্ম এবং নবুয়ত পাওয়ার পরে ঐদিন নামাজ পড়তে থাকা অবস্থা পর্যন্ত তার সম্পর্কে অবগত ছিল না। কিন্তু এটা কীভাবে সম্ভব? ইবলিশের চ্যালারা ইবলিশকে এতদিন কোন খবর দেয়নি? আসুন আরেকটি হাদিস পড়ি,
সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫৩/ কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ
পরিচ্ছেদঃ ১৬. শয়তানের উসকানী দেয়া এবং মানুষের মাঝে ফিতনা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে শয়তানের সেনাদল প্রেরন করা এবং প্রতিটি মানুষের সাথে (শয়তানের নিয়োজিত) একজন সঙ্গী রয়েছে
৬৮৫০। হারুন ইবনু সাঈদ আয়লী (রহঃ) … নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশা সিদ্দীকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট থেকে বের হলেন। তিনি বলেন, এতে আমার মনে কিছুটা ঈর্ষা জাগল। অতঃপর তিনি এসে আমার অবস্থা দেখে বললেন, হে আয়িশা! তোমার কি হয়েছে? তুমি কি ঈর্ষা পোষণ করছ? উত্তরে আমি বললাম, আমার মত মহিলা আপনার মত স্বামীর প্রতি কে ঈর্ষা করবেনা। এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার শয়তান কি তোমার নিকট এসে উপস্থিত হয়েছে? তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার সাথেও কি শয়তান রয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ নিশ্চয়ই। অতঃপর আমি বললাম, প্রত্যেক মানুষের সাথেই কি শয়তান রয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার সাথেও কি রয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমার সাথেও। তবে আল্লাহ তা’আলা তার মুকাবিলায় আমাকে সহযোগিতা করেছেন। এখন তার ব্যাপারে আমি সম্পূর্ণ নিরাপদ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
About This Article
Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis
Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics
This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.
Its purpose is not theological neutrality or artificial both-sides balance, but evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.
Neutrality here means methodological fairness: accurate use of sources, logical rigor, evidentiary discipline, and factual consistency. It does not mean moral indifference or equal treatment between harmful doctrines and their criticism.
Strong criticism should not be mistaken for bias if it is supported by evidence and sound reasoning.
This article should be evaluated through source quality, evidentiary strength, logical rigor, factual consistency, and fairness in representing opposing claims—not through theological sensitivity, apologetic expectations, or demand for rhetorical softness.
