
Table of Contents
- 1 ভূমিকা
- 2 আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ
- 3 সূরা কাফিরুনের ৬ নম্বর আয়াত
- 4 আক্রমণাত্মক জিহাদের হাদিস
- 5 আক্রমণাত্মক জিহাদের ফতোয়া
- 6 আকীদা গ্রন্থে আক্রমণাত্মক জিহাদ
- 7 শুগারকোটেড ইসলাম বনাম সহিহ ইসলাম
- 8 সূরা তওবার আনসেন্সরড তাফসীর (ভিডিও)
- 9 নবী কী জঙ্গি ছিলেন? (ভিডিও)
- 10 অমুসলিমদের ওপর আক্রমণাত্মক জিহাদ (ভিডিও)
- 11 শিরককারীর রক্ত হালাল
- 12 উপসংহার
ভূমিকা
আধুনিক বিশ্বে ইসলামের তথাকথিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের’ চিত্র ফুটিয়ে তুলতে মুসলিম দাঈ ও প্রচারকগণ সূরা কাফিরুনের একটি বিশেষ আয়াতকে [1] প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। “তোমাদের ধর্ম তোমাদের, আমাদের ধর্ম আমাদের”—এই চটকদার স্লোগানটি এমনভাবে প্রচার করা হয় যেন ইসলাম পৃথিবীর সকল ধর্ম ও মতাদর্শের সাথে একটি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও সমানাধিকারের বন্ধন নিশ্চিত করতে চায়। কিন্তু ইসলামের ধ্রুপদী উৎস, সালাফদের অনুসৃত তাফসীর এবং স্বয়ং মুহাম্মদের জীবনাচরণের সাথে এই ‘সহিষ্ণুতার’ দাবিটি চরমভাবে সাংঘর্ষিক এবং এক বিশাল বুদ্ধিবৃত্তিক প্রবঞ্চনা মাত্র।
ইসলামের মূল পাঠ এবং নির্ভরযোগ্য তাফসীরগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অন্য ধর্মের প্রতি এই সাময়িক ‘উদারতা’ কেবল মক্কার প্রতিকূল পরিবেশে মুসলিমদের রাজনৈতিক ও সামরিক দুর্বলতার ফসল ছিল। ইসলামের প্রকৃত ও চূড়ান্ত লক্ষ্য কোনোভাবেই সহাবস্থান নয়; বরং ‘জিহাদ’ ও ‘কিতাল’-এর মাধ্যমে অন্য সকল ধর্মকে উচ্ছেদ করা, পৃথিবীর বুক থেকে ‘শিরক’ বা মূর্তিপূজার নামনিশানা মুছে ফেলা এবং ইসলামের নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। ধ্রুপদী আলেমদের মতে, মক্কায় যখন মুসলিমরা কুরাইশদের ভয়ে কোণঠাসা ছিল, তখন এই আয়াতটি ছিল একটি ‘কৌশলগত পিছু হঠা’, যা মদিনায় শক্তি অর্জনের পর ‘তলোয়ারের আয়াত’ (আয়াতুস সাইফ) দ্বারা রহিত বা অকেজো হয়ে যায়।
বর্তমান সময়েও কট্টরপন্থী ইসলামিস্ট গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম ও তাদের আদি আকিদা গ্রন্থগুলো পর্যালোচনা করলে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, তাদের আসল উদ্দেশ্য সহাবস্থান নয়, বরং ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন ও উৎখাত। যে আদর্শে ‘শিরক’কে হত্যাযোগ্য অপরাধ এবং অমুসলিমদের রক্তকে ‘হালাল’ হিসেবে গণ্য করা হয়, সেই আদর্শে সূরা কাফিরুনের এই আয়াতটি একটি সাময়িক ছদ্মবেশ ছাড়া আর কিছুই নয়। মুহাম্মদ এবং খিলাফত আমলে পরিচালিত আক্রমণাত্মক যুদ্ধগুলো আমাদের সেই সত্যই জানায়। এই প্রবন্ধে আমরা উন্মোচন করবো কীভাবে ইসলামের প্রাথমিক যুগের এই ‘সহিষ্ণু’ বুলিগুলো পরবর্তীকালে আক্রমণাত্মক জিহাদ ও সাম্প্রদায়িক আগ্রাসনে রূপান্তরিত হয়েছে এবং কীভাবে এটি আধুনিক মানবাধিকারের মূলনীতির সাথে একটি অমোচনীয় বৈরিতা সৃষ্টি করে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের অন্যতম প্রধান নীতিমালা হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মের স্বাধীনতা, এবং অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। তবে কোরআনের আয়াত, হাদিসসমূহ এবং ধ্রুপদী তাফসীরগুলো সহ ফিকহের গ্রন্থগুলোতে দেখা যায়, এটি মুসলিমদেরকে অন্য ধর্মের প্রতি মোটেও সহিষ্ণু হওয়ার আহ্বান জানায় না, বা কিছু শর্ত সাপেক্ষে সাময়িকভাবে সহিষ্ণু হওয়ার পরামর্শ দেয়( যেমন নত হয়ে জিজিয়া প্রদান করলে)। বরং কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ও হাদিসে যুদ্ধ, জিহাদ, এবং ইসলাম প্রচারের জন্য অন্য ধর্মাবলম্বীদের শর্তহীন আত্মসমর্পণ, বেঁচে থাকার জন্য জিজিয়া প্রদান বা দমন করার কথা বলা হয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে এবং বহু ইসলামী দেশের বর্তমান আইনি কাঠামোয় দেখা যায়, ধর্মান্তরিত না হলে অমুসলিমদের সামাজিক ও আইনিভাবে বৈষম্যের শিকার হতে হয়। ইসলামে অমুসলিমদের ‘ধিম্মি’ বা জিম্মি বা অপমানজনক কর প্রদানের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট শর্তের অধীনে বাস করার অনুমতি দেওয়া হয়, যা মূলত এক ধরনের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকত্ব প্রদান। এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন, যেখানে বলা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তিকে তার ধর্ম, মতাদর্শ, বা বিশ্বাসের কারণে বৈষম্যের শিকার করা যাবে না।
সূরা কাফিরুনের ৬ নম্বর আয়াত
ইসলামিস্টদের পক্ষ থেকে কথিত সহাবস্থানের উদাহরণ হিসেবে সূরা কাফিরুনের যে আয়াতটি তুলে ধরা হয়, তার প্রকৃত তাফসীর এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ধ্রুপদী ইসলামিক আলেমদের মতে, এই আয়াতটি মক্কার কুরাইশদের একটি অস্থায়ী চুক্তির প্রেক্ষিতে নাজিল হয়েছিল, যেখানে মুহাম্মদ তাদের সাথে ধর্ম নিয়ে আপোষ করতে অস্বীকার করেন। তাফসীর ইবনে কাসিরের মতো জনপ্রিয় তাফসীরগুলোতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই আয়াতের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো অমুসলিমদের সাথে কোনো আপোষ করা নয়, বরং তাদের ধর্মকে প্রত্যাখ্যান করে ইসলামের সত্যতা প্রতিষ্ঠা করা। এটি ছিল শক্তিহীন মুসলমানদের একটি সাময়িক পদক্ষেপ, যার ফলে তারা তাদের অন্য ধর্মের উপাস্যদের গালি দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহকে পাল্টা গালি দেয়া থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিল। এটি কোনো ধরনের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বা ধর্মীয় সহিষ্ণুতার উদাহরণ নয়; বরং এটি ভবিষ্যতে শক্তিসামর্থ্য হলে ইসলামের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য নেয়া একটি পদক্ষেপ।
মানবাধিকারের আলোকে বিচার করলে, ইসলামের এই নির্দেশনাটির কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, এর পেছনের কারণ আসলে স্পষ্টতই ধর্মীয় সহনশীলতার পরিপন্থী। একজন অমুসলিমের ধর্ম পালনের অধিকারকে সম্মান না করা এবং তার মতাদর্শকে বাতিল ঘোষণা করা মানবাধিকারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। যেহেতু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদে স্পষ্টভাবে বলা আছে, প্রত্যেক মানুষেরই মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্ম পালনের স্বাধীনতা, এবং তার নিজস্ব বিশ্বাস অনুযায়ী জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে, ইসলামের এই নীতিগুলো সেই অধিকারগুলোকে সীমাবদ্ধ বা লঙ্ঘন করে। তাই, ইসলামের মৌলিক শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের নীতিমালার মধ্যে একটি সুস্পষ্ট বৈপরীত্য রয়েছে। ইসলামের তাফসীরগুলো গভীরভাবে অধ্যয়ন করলে দেখা যায়, সহাবস্থান ও সহিষ্ণুতা ইসলামের অন্তর্নিহিত শিক্ষা নয়, বরং ইসলামকে বাদে অন্য সব মতাদর্শকে দমন ও উৎখাত করাই এর মূল লক্ষ্য। আসুন সেই আয়াতটি এবং তার তাফসীর পড়ে নিই [4] –
তোমাদের পথ ও পন্থা তোমাদের জন্য (সে পথে চলার পরিণতি তোমাদেরকেই ভোগ করতে হবে) আর আমার জন্য আমার পথ (যে সত্য পথে চলার জন্য আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, এ পথ ছেড়ে আমি অন্য কোন পথ গ্রহণ করতে মোটেই প্রস্তুত নই)।
— Taisirul Quran
তোমাদের জন্য তোমাদের কর্মফল এবং আমার জন্য আমার কর্মফল।
— Sheikh Mujibur Rahman
‘তোমাদের জন্য তোমাদের দীন আর আমার জন্য আমার দীন।’
— Rawai Al-bayan
তোমাদের দীন তোমাদের, আর আমার দ্বীন আমার [১]।’
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
তাফসীরে জালালাইন
আসুন তাফসীরে জালালাইন থেকে এর তাফসীর পড়ি, [5]
বলার কারণ : অর্থাৎ তোমাদের দীন তোমাদের, আমার দীন আমার । এ আয়াতটির অর্থ অবলোকন করে অনেক লোক বিভ্রান্ত হয়। তারা বলে- তা দ্বারা ইসলাম অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মের স্বীকৃতি দিয়েছে। যদি তাদের ধর্ম সত্যই না হবে তবে কুরআনে কেন এ কথা বলা হলো যে, তোমাদের ধর্ম তোমাদের, আমার ধর্ম আমার। এটা দ্বারা দুই ধর্মকেই পাশাপাশি অবস্থান করার এবং একে অপরের উপর হস্তক্ষেপ না করার স্বীকৃতি পাওয়া যায়। কিন্তু দীন শব্দ দ্বারা এখানে কি বুঝানো হয়েছে; তা চিন্তা না করার ফলেই তাদের মনে এ উদ্ভট চিন্তা গজিয়েছে। এখানে দীন শব্দটি কর্মফল অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন, সূরা আল-ফাতিহায় আল্লাহকে অর্থাৎ কর্মফল দিনের কর্তা বলা হয়েছে। সুতরাং এই অর্থ গ্রহণ করলে আয়াতের মর্ম হবে- তোমাদের কর্মফল তোমরা ভোগ করবে, আমাদের কর্মফল আমরা ভোগ করবো। যেহেতু এ আয়াত ইসলামের প্রথম যুগে মক্কায় অবতীর্ণ হয়, তখন জিহাদের বিধান অবতীর্ণ হয়নি । তাই কতিপয় তাফসীরকার বলেন- এ আয়াতের বিধান দ্বারা কাফেরদেরকে ইসলামের প্রথম যুগে ধর্ম পালনের যেটুকু অবকাশের কথা ভাবা যায়, তা জিহাদের বিধান দ্বারা রহিত করা হয়েছে। মক্কা বিজয়সহ অন্যান্য লড়াইগুলোই এর জ্বলন্ত প্রমাণ। বস্তুত দীনকে ধর্ম অর্থ গ্রহণ করলে আমরা এ কথাও বলতে পারি, এটা ঠিক অনুরূপ কথার ন্যায়, যেমন আমরা ধিক্কার ও ভৎসনাভাবে বলে থাকি তোমার পথে ভূমি, আমার পথে আমি। এ কথা দ্বারা আমরা যেমন তার পথের স্বীকৃতি দেই না এবং সহাবস্থানেরও অবকাশ বুঝাই না; বরং তা দ্বারা পথের ভয়াবহ পরিণতির দিকেই ইঙ্গিত করা হয়। আয়াতেও অনুরূপভাবে ‘তোমার দীন তোমার আমার দীন আমার’ বলে তাদের জীবনাদর্শ ও শিরকি কর্মপন্থার ভয়াবহ পরিণতির দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাদের শিরকি জীবনাদর্শ ও মতবাদের স্বীকৃতি বা পাশাপাশি অবস্থানের কথা বলা হয়নি।

তাফসীরে মাযহারী
এবারে আসুন তাফসীরে মাযহারীতে কী বলা আছে দেখে নেয়া যাক [6] –
শেষোক্ত আয়াতে (৬) বলা হয়েছে— ‘তোমাদের দ্বীন তোমাদের, আমার দ্বীন আমার’। এই আয়াতের দু’টি বাক্যই বিজ্ঞপ্তিমূলক। কিন্তু এমতো ভাবনার কোনো অবকাশ নেই যে, বক্তব্যটির (তোমাদের দ্বীন তোমাদের) দ্বারা এখানে কাফেরদের কুফরীর ব্যাপারে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, অথবা মুসলমানদেরকে জেহাদ করতে নিষেধ করা হয়েছে। বরং বলা যেতে পারে, এই আয়াতে প্রকাশ করা হয়েছে পূর্ববর্তী বক্তব্যের গুরুত্ব ও পরিণতিকে। সুতরাং এই আয়াত দ্বারা জেহাদের আয়াতকে রহিত করা হয়েছে, এরকম ভাবা যেতেই পারে না। কুফরী যেহেতু কল্যাণকর নয়, সেহেতু এরকম চিন্তাও অসমীচীন যে, সমঝোতার মাধ্যমে এখানে ইমানদার ও কাফেরদেরকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে স্ব স্ব অবস্থানে থাকতে। তাই তো আমরা দেখতে পাই, এর পরেও রসুল স. বার বার কাফের কুরায়েশদেরকে ইমান ও ইসলামের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তারা তাঁকে এবং তাঁর প্রিয় সহচরবর্গকে দিয়েছে নানা প্রকারের যাতনা। সুতরাং আলোচ্য আয়াতের মর্মার্থ এরকম হওয়াই সমীচীন যে— তোমরা প্রতিফল লাভ করবে তোমাদের কৃতকর্মের এবং আমি লাভ করবো আমার কৃতকর্মের প্রতিফল ।

আক্রমণাত্মক জিহাদের হাদিস
এবারে আসুন দুইটি হাদিস পড়ে নেয়া যাক। নবী বলেছেন যে, মানুষ যে পর্যন্ত না “আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই” এই কথার স্বীকৃতি দিবে সেই পর্যন্ত আমি(নবী) তাদের বিরুদ্ধে কিতাল বা সশস্ত্র যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি [7] [8] –
সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৩৮/ ঈমান
পরিচ্ছেদঃ ১. যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ না বলবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কিতাল করতে আমি আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি
২৬০৭। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মৃত্যুর পর আবূ বকর (রাযিঃ) যখন খলীফা নির্বাচিত হন, তখন আরবের কিছু সংখ্যক লোক কাফির হয়ে যায়। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) আবূ বাকর (রাযিঃ)-কে বললেন, আপনি এদের বিরুদ্ধে কিভাবে অস্ত্ৰধারণ করবেন, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ যে পর্যন্ত না “আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই” এই কথার স্বীকৃতি দিবে সেই পর্যন্ত আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি। আর যে ব্যক্তি বললো, “আল্লাহ ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই” সে আমার থেকে তার মাল ও রক্ত (জীবন) নিরাপদ করে নিল। তবে ইসলামের অধিকার সম্পর্কে ভিন্ন কথা। আর তাদের প্রকৃত হিসাব-নিকাশ রয়েছে আল্লাহ তা’আলার দায়িত্বে।
আবূ বকর (রাযিঃ) বললেনঃ আল্লাহর শপথ নামায ও যাকাতের মধ্যে যে ব্যক্তি পার্থক্য করে আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবোই। কেননা যাকাত সম্পদের হাক্ক। কেউ উটের একটি রশি দিতেও যদি অস্বীকার করে, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দিত, আল্লাহর কসম! আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবোই। তারপর উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি দেখতে পেলাম আল্লাহ যেন যুদ্ধের জন্য আবূ বাকরের অন্তর উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। অতঃপর আমি বুঝতে পারলাম যে, তার সিদ্ধান্তই যথার্থ।
সহীহঃ সহীহাহ (৪০৭), সহীহ আবূ দাউদ (১৩৯১-১৩৯৩), বুখারী ও মুসলিম।
আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। শু’আইব ইবনু আবী হামযা (রহঃ) যুহরী হতে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। এই হাদীস মামার-যুহরী হতে, তিনি আনাস (রাযিঃ) হতে, তিনি আবূ বাকর (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে ইমরান আল-কাত্তান বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনাটি ভুল। ‘ইমরানের ব্যাপারে মা’মার হতে বর্ণিত বর্ণনাতে বিরোধিতা করা হয়েছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৩৮/ ঈমান
পরিচ্ছেদঃ ২. আমি লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলবে এবং নামায আদায় করবে
২৬০৮। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহ তা’আলার বান্দা ও তার রাসূল এবং আমাদের কিবলামুখী হয়ে নামায আদায় করবে, আমাদের যবেহকৃত পশুর গোশত খাবে এবং আমাদের মতো নামায আদায় করবে। তারা এগুলো করলে তাদের জান ও মালে হস্তক্ষেপ করা আমাদের জন্য হারাম হয়ে যাবে। কিন্তু ইসলামের অধিকারের বিষয়টি ভিন্ন। মুসলিমদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা তারাও পাবে এবং মুসলিমদের উপর অর্পিত দায়-দায়িত্ব তাদের উপরও বর্তাবে।
সহীহঃ সহীহাহ (৩০৩) ও (১/১৫২), সহীহ আবূ দাউদ (২৩৭৪), বুখারী অনুরূপ।
মুআয ইবনু জাবাল ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব। ইয়াহইয়া (রাহঃ) হুমাইদ হতে, তিনি আনাস (রাযিঃ)-এর সূত্রে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
আসুন একটি উদাহরণ দেখে নিই, নবী মুহাম্মদের সাহাবীগণ কীভাবে কাফের রাজ্যগুলোকে আক্রমণ করতো, এবং আক্রমণের সময়ে তারা কী বলতো [9] [10]
সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৫৮/ জিযিয়াহ্ কর ও সন্ধি স্থাপন
পরিচ্ছেদঃ ৫৮/১. জিম্মীদের নিকট থেকে জিযইয়াহ গ্রহণ এবং হারবীদের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি।
৩১৫৯. জুবাইর ইবনু হাইয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন বড় বড় শহরের দিকে সৈন্য দল প্রেরণ করলেন। সে সময় হুরমযান ইসলাম গ্রহণ করে। ‘উমার (রাঃ) তাঁকে বললেন, আমি এসব যুদ্ধের ব্যাপারে তোমার পরামর্শ গ্রহণ করতে চাই। তিনি বললেন, ঠিক আছে। এ সকল দেশ এবং দেশে মুসলিমদের দুশমন যে সব লোক বাস করছে, তাদের দৃষ্টান্ত একটি পাখির মত, যার একটি মাথা, দু’টি ডানা ও দু’টি পা রয়েছে। যদি একটি ডানা ভেঙ্গে দেয়া হয়, তবে সে পাখিটি উভয় পা, একটি ডানা ও মাথার ভরে উঠে দাঁড়াবে। যদি অপর ডানা ভেঙ্গে দেয়া হয়, তবে সে দু’টি পা ও মাথার ভরে উঠে দাঁড়াবে। আর যদি মাথা ভেঙ্গে দেয়া হয়, তবে উভয় পা, উভয় ডানা ও মাথা সবই অকেজো হয়ে যাবে। কিসরা শত্রুদের মাথা, কায়সার হল একটি ডানা, আর পারস্য অপর একটি ডানা। কাজেই মুসলিমগণকে এ আদেশ করুন, তারা যেন কিসরার উপর হামলা করে।
বাকর ও যিয়াদ (রহ.) উভয়ে যুবাইর ইবনু হাইয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অতঃপর ‘উমার (রাঃ) আমাদের ডাকলেন আর আমাদের উপর নু‘মান ইবনু মুকাররিনকে আমীর নিযুক্ত করেন। আমরা যখন শত্রু দেশে পৌঁছলাম, কিসরার এক সেনাপতি চল্লিশ হাজার সৈন্য নিয়ে আমাদের মুকাবিলায় আসল। তখন তার পক্ষ হতে একজন দোভাষী দাঁড়িয়ে বলল, তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমার সঙ্গে আলোচনা করুক। তখন মুগীরাহ (ইবনু শু‘বাহ) (রাঃ) বললেন, যা ইচ্ছা প্রশ্ন করতে পার। সে বলল, তোমরা কারা? তিনি বললেন, আমরা আরবের লোক। দীর্ঘ দিন আমরা অতিশয় দুর্ভাগ্য এবং কঠিন বিপদে ছিলাম। ক্ষুধার জ্বালায় আমরা চামড়া ও খেজুর গুটি চুষতাম। চুল ও পশম পরিধান করতাম। বৃক্ষ ও পাথর পূজা করতাম। আমরা যখন এ অবস্থায় পতিত তখন আসমান ও যমীনের প্রতিপালক আমাদের মধ্য হতে আমাদের নিকট একজন নবী পাঠালেন। তাঁর পিতা-মাতাকে আমরা চিনি। আমাদের নবী ও আমাদের রবের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন, যে পর্যন্ত না তোমরা এক আল্লাহ্ তা‘আলার ‘ইবাদাত কর কিংবা জিযইয়াহ দাও। আর আমাদের নবী আমাদের রবের পক্ষ হতে আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, আমাদের মধ্য হতে যে নিহত হবে, সে জান্নাতে এমন নি‘মাত লাভ করবে, যা কখনো দেখা যায়নি। আর আমাদের মধ্য হতে যারা জীবিত থাকবে তোমাদের গর্দানের মালিক হবে। (৭৫৩০) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯৩৪)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জুবাইর ইবনু হাইয়াহ (রহঃ)

আক্রমণাত্মক জিহাদের ফতোয়া
এবারে আসুন সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ইসলামিক শরীয়া বোর্ড থেকে প্রকাশিত একটি ফতোয়া দেখে নিই, সেইসাথে ফতোয়াটির বাংলা অনুবাদও পড়ে নিই। এই ফতোয়াটি বিখ্যাত ফতোয়া বিষয়ক ওয়েবসাইট islamqa.info তে প্রকাশিত হয়েছে, যা সরাসরি বর্তমান সময়ের সর্বোচ্চ সালাফি আলেম শেখ সালিহ আল মুনাজ্জিদের দ্বারা পরিচালিত [11]
There is no compulsion to accept Islam
08/Shawwal/1423 , 12/December/2002
Question 34770
Some friends say that whoever does not enter Islam, that is his choice and he should not be forced to become Muslim, quoting as evidence the verses in which Allah says (interpretation of the meaning):
“And had your Lord willed, those on earth would have believed, all of them together. So, will you (O Muhammad) then compel mankind, until they become believers”
[Yoonus 10:99]
“There is no compulsion in religion”
[al-Baqarah 2:256]
What is your opinion concerning that?.
Answer
Praise be to Allah, and blessings and peace be upon the Messenger of Allah:
The scholars explained that these two verses, and other similar verses, have to do with those from whom the jizyah may be taken, such as Jews, Christians and Magians (Zoroastrians). They are not to be forced, rather they are to be given the choice between becoming Muslim or paying the jizyah.
Other scholars said that this applied in the beginning, but was subsequently abrogated by Allah’s command to fight and wage jihad. So whoever refuses to enter Islam should be fought when the Muslims are able to fight, until they either enter Islam or pay the jizyah if they are among the people who may pay jizyah. The kuffaar should be compelled to enter Islam if they are not people from whom the jizyah may be taken, because that will lead to their happiness and salvation in this world and in the Hereafter. Obliging a person to adhere to the truth in which is guidance and happiness is better for him than falsehood. Just as a person may be forced to do the duty that he owes to other people even if that is by means of imprisonment or beating, so forcing the kaafirs to believe in Allah alone and enter into the religion of Islam is more important and more essential, because this will lead to their happiness in this world and in the Hereafter. This applies unless they are People of the Book, i.e., Jews and Christians, or Magians, because Islam says that these three groups may be given the choice: they may enter Islam or they may pay the jizyah and feel themselves subdued.
Some of the scholars are of the view that others may also be given the choice between Islam and jizyah, but the most correct view is that no others should be given this choice, rather these three groups are the only ones who may be given the choice, because the Prophet (peace and blessings of Allah be upon him) fought the kuffaar in the Arabian Peninsula and he only accepted their becoming Muslim. And Allah says (interpretation of the meaning):
“But if they repent [by rejecting Shirk (polytheism) and accept Islamic Monotheism] and perform As-Salaah (Iqaamat-as-Salaah), and give Zakaah, then leave their way free. Verily, Allah is Oft-Forgiving, Most Merciful”
[al-Tawbah 9:5]
He did not say, “if they pay the jizyah”. The Jews, Christians and Magians are to be asked to enter Islam; if they refuse then they should be asked to pay the jizyah. If they refuse to pay the jizyah then the Muslims must fight them if they are able to do so. Allah says (interpretation of the meaning):
“Fight against those who (1) believe not in Allah, (2) nor in the Last Day, (3) nor forbid that which has been forbidden by Allah and His Messenger (Muhammad), (4) and those who acknowledge not the religion of truth (i.e. Islam) among the people of the Scripture (Jews and Christians), until they pay the Jizyah with willing submission, and feel themselves subdued”
[al-Tawbah 9:29]
And it was proven that the Prophet (peace and blessings of Allah be upon him) accepted the jizyah from the Magians, but it was not proven that the Prophet (peace and blessings of Allah be upon him) or his companions (may Allah be pleased with them) accepted the jizyah from anyone except the three groups mentioned above.
The basic principle concerning that is the words of Allah (interpretation of the meaning):
“And fight them until there is no more Fitnah (disbelief and polytheism, i.e. worshipping others besides Allah), and the religion (worship) will all be for Allah Alone [in the whole of the world]”
[al-Anfaal 8:39]
“Then when the Sacred Months (the 1st, 7th, 11th, and 12th months of the Islamic calendar) have passed, then kill the Mushrikoon (see V.2:105) wherever you find them, and capture them and besiege them, and lie in wait for them in each and every ambush. But if they repent [by rejecting Shirk (polytheism) and accept Islamic Monotheism] and perform As-Salaah (Iqaamat-as-Salaah), and give Zakaah, then leave their way free. Verily, Allah is Oft-Forgiving, Most Merciful”
[al-Tawbah 9:5]
This verse is known as Ayat al-Sayf (the verse of the sword).
These and similar verses abrogate the verses which say that there is no compulsion to become Muslim.
And Allah is the Source of strength.
বাংলা অনুবাদঃ প্রশ্ন ৩৪৭৭০
কিছু বন্ধু বলেন যে, যারা ইসলামে প্রবেশ করে না তা তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ এবং তাদের মুসলিম হতে বাধ্য করা উচিত নয়। তারা প্রমাণ হিসেবে কুরআনের সেই আয়াতগুলো উদ্ধৃত করেন যেখানে আল্লাহ বলেছেন:
“আর তোমার প্রতিপালক যদি চাইতেন, তবে জমিনে যারা আছে তারা সবাই একত্রে ঈমান আনত। তবে কি তুমি (হে মুহাম্মদ) মানুষের ওপর জবরদস্তি করবে যাতে তারা মুমিন হয়ে যায়?” [12]।
“দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।” [13]।
এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
উত্তর
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম আল্লাহর রাসূলের ওপর বর্ষিত হোক:
আলিমগণ ব্যাখ্যা করেছেন যে, এই দুটি আয়াত এবং এই ধরনের অন্যান্য আয়াতগুলো তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাদের কাছ থেকে জিজিয়া গ্রহণ করা যেতে পারে, যেমন: ইহুদি, খ্রিস্টান এবং মাজুসি (অগ্নিউপাসক)। তাদের বাধ্য করা হবে না, বরং তাদের ইসলাম গ্রহণ অথবা জিজিয়া প্রদানের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
অন্যান্য আলিমগণ বলেছেন যে, এটি ইসলামের শুরুর দিকে প্রযোজ্য ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে যুদ্ধ ও জিহাদের নির্দেশের মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে এটি রহিত (মনসুখ) করা হয়েছে। সুতরাং, যারা ইসলামে প্রবেশ করতে অস্বীকার করে, মুসলিমরা যখন সক্ষম হবে তখন তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে, যতক্ষণ না তারা ইসলাম গ্রহণ করে অথবা জিজিয়া প্রদান করে (যদি তারা জিজিয়া প্রদানের যোগ্য শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হয়)। কাফিরদের ইসলামে প্রবেশের জন্য বাধ্য করা উচিত যদি তারা এমন লোক না হয় যাদের কাছ থেকে জিজিয়া নেওয়া যায়; কারণ এটি দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের সৌভাগ্য ও মুক্তির পথ।
কোনো ব্যক্তিকে সত্যের পথে চলতে বাধ্য করা, যার মধ্যে হিদায়েত ও সুখ নিহিত, তা তার জন্য বাতিলের ওপর থাকার চেয়ে উত্তম। যেমন কোনো ব্যক্তিকে অন্যের পাওনা বা অধিকার পরিশোধ করতে বাধ্য করা যেতে পারে—এমনকি জেল বা মারধরের মাধ্যমেও—তেমনি কাফিরদের এক আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন এবং ইসলামে প্রবেশে বাধ্য করা আরও গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি, কারণ এটি তাদের ইহকাল ও পরকালের কল্যাণের দিকে নিয়ে যাবে। তবে এটি আহলে কিতাব (ইহুদি ও খ্রিস্টান) এবং মাজুসিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কারণ ইসলাম বলে যে এই তিনটি গোষ্ঠীকে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে: তারা হয় ইসলাম গ্রহণ করবে অথবা তারা জিজিয়া প্রদান করবে এবং বশ্যতা স্বীকার করে থাকবে।
কিছু আলিম মনে করেন যে অন্যদেরও ইসলাম ও জিজিয়ার মধ্যে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে, তবে সবচেয়ে সঠিক মত হলো অন্য কাউকে এই সুযোগ দেওয়া হবে না। বরং কেবল এই তিনটি গোষ্ঠীকেই (ইহুদি, খ্রিস্টান ও মাজুসি) এই সুযোগ দেওয়া হবে। কারণ নবী (সা.) আরব উপদ্বীপে কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন এবং তিনি কেবল তাদের ইসলাম গ্রহণই কবুল করেছিলেন। আল্লাহ বলেন:
“কিন্তু যদি তারা তাওবা করে [শিরক বর্জন করে এবং ইসলামী তাওহীদ গ্রহণ করে], সালাত কায়েম করে এবং যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [14]।
তিনি এখানে বলেননি যে, “যদি তারা জিজিয়া প্রদান করে”। ইহুদি, খ্রিস্টান এবং মাজুসিদের ইসলামে প্রবেশের জন্য আহ্বান জানানো হবে; যদি তারা অস্বীকার করে তবে তাদের জিজিয়া দিতে বলা হবে। যদি তারা জিজিয়া দিতেও অস্বীকার করে তবে মুসলিমদের সক্ষমতা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। আল্লাহ বলেন:
“আহলে কিতাবদের (ইহুদি ও খ্রিস্টান) মধ্যে যারা আল্লাহতে বিশ্বাস করে না, পরকালেও না, এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা হারাম মনে করে না এবং সত্য দ্বীন (অর্থাৎ ইসলাম) অনুসরণ করে না, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না তারা বশ্যতা স্বীকার করে স্বহস্তে জিজিয়া প্রদান করে এবং তারা লাঞ্ছিত বোধ করে।” [15]।
এটি প্রমাণিত যে নবী (সা.) মাজুসিদের কাছ থেকে জিজিয়া গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু এটি প্রমাণিত নয় যে নবী (সা.) বা তাঁর সাহাবীগণ (রা.) উপরে উল্লিখিত তিনটি গোষ্ঠী ব্যতীত অন্য কারো কাছ থেকে জিজিয়া গ্রহণ করেছিলেন।
এ বিষয়ে মূল মূলনীতি হলো আল্লাহর বাণী:
“আর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকো যতক্ষণ না ফেতনা (কুফর ও শিরক) দূরীভূত হয় এবং দ্বীন (ইবাদত) সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়।” [16]।
“অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো (ইসলামী বর্ষপঞ্জির ১ম, ৭ম, ১১তম এবং ১২তম মাস) অতিবাহিত হবে, তখন মুশরিকদের যেখানে পাও হত্যা করো, তাদের বন্দী করো, তাদের অবরুদ্ধ করো এবং প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের জন্য ওত পেতে থাকো। কিন্তু যদি তারা তাওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [14]।
এই আয়াতটি ‘আয়াতুস সাইফ’ (তরবারির আয়াত) নামে পরিচিত। এই এবং এই জাতীয় অন্যান্য আয়াতগুলো সেই আয়াতগুলোকে রহিত করে দেয় যেগুলোতে বলা হয়েছিল যে ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।
আল্লাহই সকল শক্তির উৎস।
আসুন আরও একটি বিখ্যাত ফতোয়া পড়ে নিই, [17]
Was Islam spread by the sword?
02/Jumada al-thani/1424 , 31/July/2003
178,102
Question 43087
Was Islam spread by the sword?.
Answer
Praise be to Allah, and blessings and peace be upon the Messenger of Allah:
We have already stated in question no. 34830 that jihad is of two types: taking the initiative in fighting and jihad in self-defence.
Undoubtedly taking the initiative in fighting has a great effect in spreading Islam and bringing people into the religion of Allaah in crowds. Hence the hearts of the enemies of Islam are filled with fear of jihad.
In the English-language Muslim World Magazine it says: There should be some kind of fear in the western world, one of the causes of which is that since the time it first appeared in Makkah, Islam has never decreased in numbers, rather it has always continued to increase and spread. Moreover Islam is not only a religion, rather one of its pillars is jihad.
Robert Bean says: The Muslims conquered the entire world before and they could do it again.
The Orientalists wanted to slander Islam by claiming that it was spread by the sword.
The orientalist Thomas Arnold wrote his book The Preaching of Islam with the aim of killing off the spirit of jihad among the Muslims and proving that Islam was not spread by the sword, rather that it spread by means of peaceful preaching, free from any use of force.
The Muslims fell into the trap that was set up for them. When they heard the orientalists’ accusations that Islam was spread by the sword, they said: You are mistaken, listen to a refutation from one of your own people, this Thomas says such and such.
The defeatists among the Muslims come out to defend Islam, and they want to disavow Islam of this so-called lie, so they deny that Islam was spread by the sword, and they say that jihad is not prescribed in Islam, except in the case of self-defence. There is no such thing in Islam as taking the initiative in fighting in their view. This goes against what the Muslim scholars have stated, let alone the fact that it goes against the Qur’aan and Sunnah.
Shaykh al-Islam Ibn Taymiyah said in Majmoo’ al-Fataawa, 28/263.
The purpose is that all religion should be for Allaah alone, and that the word of Allaah should be supreme. The word of Allaah is a comprehensive phrase that refers to His words that are contained in His Book. Hence Allaah says (interpretation of the meaning):
“Indeed We have sent Our Messengers with clear proofs, and revealed with them the Scripture and the Balance (justice) that mankind may keep up justice”
[al-Hadeed 57:25]
The purpose behind sending the Messengers and revealing the Books was so that mankind might keep up justice with regard to the rights of Allaah and the rights of His creation. Then Allaah says (interpretation of the meaning):
“And We brought forth iron wherein is mighty power (in matters of war), as well as many benefits for mankind, that Allaah may test who it is that will help Him (His religion) and His Messengers in the unseen”
[al-Hadeed 57:25]
So whoever deviates from the Book is to be brought back with iron, i.e. by force. Hence the soundness of the religion is based on the Qur’aan and the Sword. It was narrated that Jaabir ibn ‘Abd-Allaah (may Allaah be pleased with him) said: The Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) commanded us to strike with this, meaning the sword, whoever turns away from this, meaning the Qur’aan.
Ibn al-Qayyim (may Allaah have mercy on him) said in al-Faroosiyyah (p.18):
Allaah sent him – meaning the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) – with the guiding Book and the conquering sword, ahead of the Hour, so that Allaah alone would be worshipped with no partner or associate, and his provision was placed beneath the shade of his sword and spear. Allaah has established the religion of Islam with proof and evidence, and with the sword and spear, both together and inseparable.
This is some of the evidence from the Qur’aan and Sunnah. The evidence clearly indicates that the sword is one of the most important means that led to the spread of Islam.
1 – Allaah says (interpretation of the meaning):
“For had it not been that Allaah checks one set of people by means of another, monasteries, churches, synagogues, and mosques, wherein the Name of Allaah is mentioned much would surely, have been pulled down. Verily, Allaah will help those who help His (Cause). Truly, Allaah is All-Strong, All-Mighty”
[al-Hajj 22:40]
“And if Allaah did not check one set of people by means of another, the earth would indeed be full of mischief. But Allaah is full of bounty to the ‘Aalameen (mankind, jinn and all that exists)”
[al-Baqarah 2:251]
2 – Allaah has commanded us to prepare the means of fighting against the kuffaar and frightening them. He says (interpretation of the meaning):
“And make ready against them all you can of power, including steeds of war (tanks, planes, missiles, artillery) to threaten the enemy of Allaah and your enemy, and others besides whom, you may not know but whom Allaah does know”
[al-Anfaal 8:60]
If Islam was only spread by peaceful means, what would the kuffaar have to be afraid of? Of mere words spoken on the tongue? In al-Saheehayn it is narrated that the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) said: “I have been supported with fear as far as a month’s journey.” Would the kuffaar be afraid of being told, “become Muslim, but if you do not then you are free to believe and do whatever you want”? or were they afraid of jihad and the imposition of the jizyah and being humiliated? That may make them enter Islam so that they may be spared this humiliation.
3 – When the Messenger called people to Islam, his call was accompanied by the sword, and he commanded his leaders to do likewise, so that when the people saw the serious of the Muslims in calling people to their religion, that dispelled any confusion.
Al-Bukhaari (3009) and Muslim (2406) narrated that Sahl ibn Sa’d (may Allaah be pleased with him) said: The Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) said on the day of Khaybar: “Tomorrow I will give the banner to a man at whose hands victory will come, one who loves Allaah and His Messenger, and Allaah and His Messenger love him.” The people spent that night wondering which of them would be given the banner and all of them were hoping for it. Then he (the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) ) said, “Where is ‘Ali?” It was said, “His eye is hurting.” So he spat in his eyes and made du’aa’ for him, and he was healed, as if there had not been anything wrong with him. Then he gave him the flag and he [‘Ali] said: “Shall I fight them so that they will be like us?” He said: “Go ahead, until you reach their encampment, then call them to Islam and tell them what they are obliged to do, for by Allaah if Allaah were to guide a man at your hands that would be better for you than having red camels [the best kind].”
So this call to Islam was accompanied by the force of arms.
Muslim (3261) narrated that Buraydah said: When the Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) appointed a commander to lead an army or a raiding party, he would advise him to fear Allaah with regard to himself and the Muslims with him, then he said: “Fight in the name of Allaah and for the sake of Allaah. Fight those who disbelieve in Allaah, fight but do not steal from the war booty (before it is shared out), betray, or mutilate. Do not kill children. If you meet your enemy of the mushrikeen, call them to three things, and whichever one of them they respond to, accept that from them and leave them alone. Then call them to Islam and if they respond, accept that from them and leave them alone. If they refuse but they pay the jizyah, then they have responded to you, so accept that from them and leave them alone. If they refuse then seek the help of Allaah and fight them…”
So the Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) told his commanders to call the kuffaar to Islam whilst wielding their swords over their heads. If they refused to become Muslim then they should pay the jizyah with humility. If they refused then there was nothing left for them but the sword – “If they refuse then seek the help of Allaah and fight them”
4 – The Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) said: “I have been sent ahead of the Hour with the sword so that Allaah will be worshipped alone, and my provision has been placed in the shade of my spear, and humiliation has been decreed for those who go against my command, and whoever imitates a people is one of them.” Narrated by Ahmad, 4869; Saheeh al-Jaami’, 2831.
The fact that the sword and power were means of spreading Islam is not a sources of shame for Islam, rather it is one of its strengths and virtues, because that makes people adhere to that which will benefit them in this world and in the Hereafter. Many people are foolish and lacking in wisdom and knowledge, and if they are left to their own devices they will remain blinded to the truth, indulging in their whims and desires. So Allaah has prescribed jihad in order to bring them back to the truth and to that which will benefit them. Undoubtedly wisdom dictates that the fool should be prevented from doing that which will harm him, and should be forced to do that which will benefit him.
Al-Bukhaari (4557) narrated that Abu Hurayrah (may Allaah be pleased with him) said: “ ‘You (true believers in Islamic Monotheism, and real followers of Prophet Muhammad and his Sunnah) are the best of peoples ever raised up for mankind’ [Aal- Imraan 3:110 – interpretation of the meaning].” He said: “You are the best (i.e., the most beneficial) of people for mankind, you bring them in the chains that are around their necks until they enter Islam.” Can people be brought in chains except in the case of jihad??
This is something for which Islam deserves to be praised, not condemned. The defeatists should fear Allaah lest they distort this religion and cause it to become weak on the basis of the claim that it is a religion of peace. Yes, it is the religion of peace but in the sense of saving all of mankind from worshipping anything other than Allaah and submitting all of mankind to the rule of Allaah. This is the religion of Allaah, not the ideas of any person or the product of human thought, so that those who promote it should feel ashamed to state its ultimate goal, which is that all religion (worship) should be for Allaah alone. When the ideas that people follow are all produced by human beings and the systems and laws that control their lives are all made up by human beings, then in this case each idea and each system has the right to live safely within its own borders so long as it does not transgress the borders of others, so the various ideas and laws can co-exist and not try to destroy one another. But when there is a divine system and law, and alongside it there are human systems and laws, then the matter is fundamentally different, and the divine law has the right to remove the barriers and free people from enslavement to human beings…
Fiqh al-Da’wah by Sayyid Qutb, 217-222.
It says in Fataawa al-Lajnah al-Daa’imah (12/14):
Islam spread by means of proof and evidence to those who listened to the message and responded to it, and it spread by means of force and the sword to those who were stubborn and arrogant, until they were overwhelmed and became no longer stubborn, and submitted to that reality.
And Allaah knows best.
প্রশ্ন নম্বর: ৪৩০৮৭
প্রশ্ন
ইসলাম কি তরবারির মাধ্যমে ছড়িয়েছে?
উত্তর
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম আল্লাহর রাসূলের ওপর বর্ষিত হোক:
আমরা ইতিপূর্বে ৩৪৮৩০ নং প্রশ্নে উল্লেখ করেছি যে, জিহাদ দুই প্রকার: আক্রমণাত্মক জিহাদ (উদ্যোগী হয়ে যুদ্ধ করা) এবং প্রতিরক্ষামূলক জিহাদ।
নিঃসন্দেহে, আক্রমণাত্মক জিহাদ ইসলাম প্রচার এবং দলে দলে মানুষকে আল্লাহর দ্বীনে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। আর এ কারণেই ইসলামের শত্রুদের অন্তর জিহাদের ভয়ে সর্বদা কম্পিত থাকে।
ইংরেজি ভাষার ‘মুসলিম ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিন’-এ বলা হয়েছে:
“পাশ্চাত্য বিশ্বে এক ধরনের ভয় থাকা উচিত, যার অন্যতম কারণ হলো—মক্কায় আবির্ভাবের পর থেকে ইসলামের অনুসারী সংখ্যা কখনোই কমেনি, বরং এটি সর্বদা বৃদ্ধি পেয়েছে ও ছড়িয়েছে। অধিকন্তু, ইসলাম কেবল একটি ধর্মই নয়, বরং জিহাদ এর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।”
রবার্ট বিন বলেছেন:
“মুসলিমরা আগেও পুরো বিশ্ব জয় করেছিল এবং তারা আবারও তা করতে পারে।”
প্রাচ্যবিদরা (ওরিয়েন্টালিস্ট) ইসলামকে কলঙ্কিত করার উদ্দেশ্যে দাবি করতে চেয়েছিল যে, এটি তরবারির মাধ্যমে ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, প্রাচ্যবিদ টমাস আর্নল্ড তার ‘দ্য প্রিচিং অফ ইসলাম’ বইটি লিখেছিলেন মুসলিমদের মধ্য থেকে জিহাদের চেতনা বিলুপ্ত করার উদ্দেশ্যে এবং এটি প্রমাণ করতে যে—ইসলাম তরবারির মাধ্যমে নয়, বরং বলপ্রয়োগহীন শান্তিপূর্ণ প্রচারের মাধ্যমে ছড়িয়েছে।
মুসলিমরা তাদের জন্য পাতা এই ফাঁদে পা দেয়। যখন তারা প্রাচ্যবিদদের এই অভিযোগ শুনেছিল যে ইসলাম তরবারির মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তখন তারা বলেছিল: “আপনারা ভুল করছেন, আপনাদের নিজেদের লোকের কাছ থেকেই এর খণ্ডন শুনুন, এই যে টমাস আর্নল্ড এমন এমন বলেছেন।”
মুসলিমদের মধ্যে যারা পরাজিত মানসিকতাসম্পন্ন (defeatists), তারা ইসলামকে রক্ষা করতে গিয়ে একে এই তথাকথিত ‘মিথ্যা’ থেকে দায়মুক্ত করতে চায়। তাই তারা অস্বীকার করে বসে যে ইসলাম তরবারির মাধ্যমে ছড়িয়েছে এবং তারা দাবি করে যে আত্মরক্ষা ছাড়া ইসলামে জিহাদের কোনো বিধান নেই। তাদের মতে, ইসলামে আক্রমণাত্মক যুদ্ধের কোনো স্থান নেই। এটি মুসলিম আলিমদের বক্তব্যের যেমন পরিপন্থী, তেমনি কুরআন ও সুন্নাহরও সরাসরি বিপরীত।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ তার ‘মাজমু আল-ফাতাওয়া’-তে (২৮/২৬৩) বলেছেন:
“উদ্দেশ্য হলো পুরো দ্বীন কেবল আল্লাহর জন্য হবে এবং আল্লাহর বাণীই হবে সুউচ্চ। ‘আল্লাহর বাণী’ একটি ব্যাপক শব্দ যা তাঁর কিতাবে বিদ্যমান তাঁর কথাগুলোকে নির্দেশ করে। আল্লাহ বলেছেন:
‘নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদের স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ পাঠিয়েছি এবং তাদের সাথে কিতাব ও তুলাদণ্ড (ন্যায়বিচার) নাযিল করেছি যাতে মানুষ ইনসাফ কায়েম করতে পারে’ [আল-হাদীদ ৫৭:২৫ ]।
রাসূলদের পাঠানো এবং কিতাব নাযিল করার উদ্দেশ্য ছিল মানুষ যাতে আল্লাহর হক এবং সৃষ্টির হকের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার কায়েম করে। এরপর আল্লাহ বলেছেন:
‘আর আমি লোহা নাযিল করেছি, যাতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি (যুদ্ধের ক্ষেত্রে) এবং মানুষের জন্য বহুবিধ কল্যাণ; যাতে আল্লাহ পরীক্ষা করতে পারেন কে তাঁকে (তাঁর দ্বীনকে) এবং তাঁর রাসূলদের না দেখে সাহায্য করে’ [আল-হাদীদ ৫৭:২৫ ]।
সুতরাং, যে ব্যক্তি কিতাব থেকে বিচ্যুত হবে, তাকে লোহার মাধ্যমে (অর্থাৎ শক্তি প্রয়োগে) ফিরিয়ে আনতে হবে। অতএব, দ্বীনের সঠিকতা কুরআন এবং তরবারির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা এটি দিয়ে (তরবারির দিকে ইশারা করে) আঘাত করি তাকে, যে এটি থেকে (কুরআনের দিকে ইশারা করে) মুখ ফিরিয়ে নেয়।”
ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তার ‘আল-ফারুসিয়্যাহ’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১৮) বলেছেন:
“আল্লাহ তাঁকে (রাসূল সা.-কে) হিদায়েতকারী কিতাব এবং বিজয়ী তরবারি দিয়ে কিয়ামতের আগে পাঠিয়েছেন, যাতে অংশীদারহীনভাবে কেবল আল্লাহর ইবাদত করা হয় এবং তাঁর জীবিকা রাখা হয়েছে তাঁর তরবারি ও বর্শার ছায়ার নিচে। আল্লাহ ইসলামের দ্বীনকে প্রমাণ ও দলীলের মাধ্যমে এবং তরবারি ও বর্শার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করেছেন; এই দুটি একত্রে অবিচ্ছেদ্য।”
কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আরও কিছু প্রমাণ নিচে দেওয়া হলো যা স্পষ্ট নির্দেশ করে যে, তরবারি ছিল ইসলাম প্রসারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম:
১. আল্লাহ বলেন:
“আল্লাহ যদি মানবজাতির এক দলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে মঠ, গির্জা, সিনাগগ এবং মসজিদ—যেখানে আল্লাহর নাম অধিক স্মরণ করা হয়—তা অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যেত। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন যে তাঁর (দ্বীনের) সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত শক্তিশালী ও মহাপরাক্রমশালী।” [আল-হাজ্জ ২২:৪০ ]।
“আর আল্লাহ যদি মানুষদের এক দলকে অন্য দল দিয়ে প্রতিহত না করতেন, তবে পৃথিবী বিপর্যয়ে ভরে যেত। কিন্তু আল্লাহ জগতসমূহের ওপর পরম দয়ালু।” [আল-বাকারা ২:২৫১ ]।
২. আল্লাহ আমাদের কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সরঞ্জাম প্রস্তুত করতে এবং তাদের ভীত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন:
“আর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য তোমাদের সাধ্যমতো শক্তি ও অশ্বারোহী বাহিনী প্রস্তুত করো, যা দিয়ে তোমরা আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুদের এবং তাদের বাইরে অন্যদের ভীত করবে যাদের তোমরা জানো না কিন্তু আল্লাহ জানেন।” [আল-আনফাল ৮:৬০ ]।
যদি ইসলাম কেবল শান্তিপূর্ণ মাধ্যমেই ছড়াত, তবে কাফিরদের ভয় পাওয়ার কী থাকত? কেবল মুখের কথার ভয়? সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত আছে যে, নবী (সা.) বলেছেন: “আমাকে এক মাসের দূরত্বের পথ পর্যন্ত শত্রুর মনে ভীতি সঞ্চার করে সাহায্য করা হয়েছে।” কাফিররা কি কেবল এই কথা শুনে ভয় পেত যে—”মুসলিম হও, আর না হলেও তোমরা যা খুশি বিশ্বাস করতে বা করতে পারো”? নাকি তারা জিহাদ, জিজিয়া আরোপ এবং লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে ভীত ছিল? এই ভয়ই হয়তো তাদের ইসলামে প্রবেশ করতে বাধ্য করে যাতে তারা সেই লাঞ্ছনা থেকে রক্ষা পায়।
৩. রাসূল (সা.) যখন মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন, তখন সেই দাওয়াতের সাথে তরবারিও থাকত। তিনি তাঁর সেনাপতিদেরও একই নির্দেশ দিতেন। যখন মানুষ দেখত মুসলিমরা তাদের দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার ব্যাপারে কতটা সিরিয়াস, তখন তাদের সব সংশয় দূর হয়ে যেত।
বুখারী (৩০০৯) ও মুসলিম (২৪০৬) সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: খায়বারের যুদ্ধের দিন নবী (সা.) বলেছিলেন: “কাল আমি এমন এক ব্যক্তির হাতে ঝাণ্ডা দেব যার মাধ্যমে বিজয় আসবে, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাকে ভালোবাসেন।” পরদিন তিনি আলীকে (রা.) ডাকলেন এবং পতাকা দিয়ে বললেন: “এগিয়ে যাও যতক্ষণ না তাদের আঙিনায় পৌঁছাও, তারপর তাদের ইসলামের দাওয়াত দাও এবং তাদের ওপর যা ওয়াজিব তা জানিয়ে দাও। আল্লাহর কসম! তোমার মাধ্যমে যদি আল্লাহ একজন ব্যক্তিকেও হিদায়েত দেন, তবে তা তোমার জন্য লাল উট (আরবদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ) পাওয়ার চেয়েও উত্তম।” সুতরাং, ইসলামের এই দাওয়াতের সাথে অস্ত্রের শক্তিও বিদ্যমান ছিল।
মুসলিম (৩২৬১) বুরাইদাহ থেকে বর্ণনা করেন: যখনই আল্লাহর রাসূল (সা.) কোনো সেনাবাহিনী বা বিশেষ অভিযানের জন্য সেনাপতি নিয়োগ করতেন, তিনি তাকে নিজের ব্যাপারে এবং সাথে থাকা মুসলিমদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করার নসিহত করতেন। তারপর বলতেন: “আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো। যারা আল্লাহকে অস্বীকার করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো… যখন তুমি তোমার মুশরিক শত্রুদের মুখোমুখি হবে, তাদের তিনটি বিষয়ের প্রতি আহ্বান জানাবে। তারা যেটিই গ্রহণ করবে, সেটি মেনে নাও এবং তাদের ছেড়ে দাও। প্রথমে তাদের ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দাও… যদি তারা অস্বীকার করে তবে তাদের জিজিয়া দিতে বলো… যদি তারা জিজিয়া দিতেও অস্বীকার করে তবে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো…”
সুতরাং, আল্লাহর রাসূল (সা.) তাঁর সেনাপতিদের নির্দেশ দিয়েছিলেন কাফিরদের মাথার ওপর তরবারি রেখেই ইসলামের দাওয়াত দিতে। যদি তারা মুসলিম হতে অস্বীকার করে তবে বশ্যতা স্বীকার করে জিজিয়া দেবে, আর যদি তাও অস্বীকার করে তবে তরবারিই তাদের ফয়সালা—”যদি তারা অস্বীকার করে তবে আল্লাহর সাহায্য চাও এবং যুদ্ধ করো।”
৪. নবী (সা.) বলেছেন: “কিয়ামতের আগে আমাকে তরবারি দিয়ে পাঠানো হয়েছে যাতে কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করা হয়। আমার রিযিক রাখা হয়েছে আমার বর্শার ছায়াতলে। আর যারা আমার আদেশ অমান্য করবে তাদের কপালে লাঞ্ছনা ও অপমান লিখে দেওয়া হয়েছে।” [মুসনাদে আহমাদ ৪৮৬৯, সহীহুল জামি’ ২৮৩১ ]।
তরবারি এবং শক্তি ইসলাম প্রসারের মাধ্যম হওয়া ইসলামের জন্য কোনো লজ্জার বিষয় নয়; বরং এটি ইসলামের অন্যতম শক্তি ও শ্রেষ্ঠত্ব। কারণ এটি মানুষকে এমন বিষয়ের প্রতি অনুগত করে যা দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের জন্য কল্যাণকর। অনেক মানুষ নির্বোধ এবং তাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অভাব রয়েছে; তাদের যদি নিজেদের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় তবে তারা সত্যের ব্যাপারে অন্ধই থেকে যাবে এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করবে। তাই আল্লাহ জিহাদ প্রবর্তন করেছেন যাতে তাদের সত্যের দিকে এবং যা তাদের উপকারে আসবে সেদিকে ফিরিয়ে আনা যায়। নিঃসন্দেহে প্রজ্ঞা এটাই দাবি করে যে—নির্বোধকে তার নিজের ক্ষতি করা থেকে বিরত রাখা উচিত এবং যা তার কল্যাণে আসবে তা করতে বাধ্য করা উচিত।
সহীহ বুখারীতে (৪৫৫৭) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি যারা মানবজাতির কল্যাণের জন্য আবির্ভূত হয়েছ’ [আলে ইমরান ৩:১১০ ]—এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: “তোমরা মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ লোক; তোমরা তাদের গলায় শিকল বেঁধে (বন্দী করে) নিয়ে আসো যতক্ষণ না তারা ইসলামে প্রবেশ করে।” জিহাদ ছাড়া কি কাউকে শিকলবন্দী করে আনা সম্ভব?
এটি এমন বিষয় যার জন্য ইসলামের প্রশংসা প্রাপ্য, নিন্দা নয়। পরাজিত মানসিকতাসম্পন্ন মুসলিমদের উচিত আল্লাহকে ভয় করা, যাতে তারা ‘শান্তির ধর্ম’ প্রমাণের অজুহাতে এই দ্বীনকে বিকৃত ও দুর্বল না করে ফেলে। হ্যাঁ, এটি শান্তির ধর্ম—কিন্তু সেই অর্থে যে এটি পুরো মানবজাতিকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত থেকে রক্ষা করে এবং আল্লাহর শাসনের অধীনে এনে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা করে। এটি আল্লাহর দ্বীন, কোনো মানুষের মস্তিষ্কপ্রসূত চিন্তা নয় যে এর প্রচারকদের এর চূড়ান্ত লক্ষ্য বলতে লজ্জিত হতে হবে। মানুষের তৈরি মতবাদ বা আইনগুলো ততক্ষণই নিরাপদ থাকার অধিকার রাখে যতক্ষণ তারা অন্যের সীমানা লঙ্ঘন করে না। কিন্তু যখন বিষয়টি ঐশী আইন বনাম মানব রচিত আইনের হয়, তখন ঐশী আইনের অধিকার রয়েছে সব বাধা অপসারণ করে মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করার।
[ফিকহুদ দাওয়াহ: সাইয়্যেদ কুতুব, পৃষ্ঠা ২১৭-২২২২ ]
‘ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ’-তে (১২/১৪) বলা হয়েছে:
“যারা বার্তা শুনেছে এবং ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে, তাদের কাছে ইসলাম পৌঁছেছে দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে। আর যারা অবাধ্য ও অহংকারী ছিল, তাদের কাছে ইসলাম পৌঁছেছে শক্তি ও তরবারির মাধ্যমে; যতক্ষণ না তারা পরাভূত হয়ে তাদের দম্ভ ত্যাগ করেছে এবং বাস্তবতার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।”
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
আসুন এই বিষয়ে প্রাসঙ্গিক isolamqa.info ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আরওএকটি ফতোয়া পড়ে নিই, [18]
মূর্তি ভাঙ্গার আবশ্যকতা
প্রশ্ন
ইসলামে প্রতিকৃতি ভাঙ্গা কি আবশ্যক; এমনকি সেটা যদি মানব ঐতিহ্য ও সভ্যতার ঐতিহ্য হয় তবুও? সাহাবায়ে কেরাম যখন বিভিন্ন দেশ জয় করলেন তখন তারা বিজিত দেশগুলোতে প্রতিকৃতিগুলো দেখা সত্ত্বেও সেগুলো ভাঙ্গেননি কেন?
উত্তর
আলহামদু লিল্লাহ।.
শরিয়তের দলিলগুলো মূর্তি ভাঙ্গা আবশ্যক হওয়ার সপক্ষে প্রমাণ বহন করে। এমন দলিলগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১। আবুল হাইয়্যাজ আল-আসাদি (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেন, আলী বিন আবু তালেব (রাঃ) আমাকে বললেন: “আমি কি তোমাকে সে কাজে পাঠাব না; যে কাজে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পাঠিয়েছিলেন? তুমি যত প্রতিকৃতি পাবে সেগুলোকে নষ্ট করবেএবং যত উঁচু কবর পাবে সেগুলোকে সমান করে দিবে।”(সহিহ মুসলিম (৯৬৯))
২। আমর বিন আবাসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন: “আপনি কী নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন? তিনি বললেন: ‘আমি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, মূতি ভাঙ্গা এবং আল্লাহ্র এককত্ব প্রতিষ্ঠা ও তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক না করা নিয়ে’ প্রেরিত হয়েছি।”(সহিহ মুসলিম (৮৩২))
মূর্তি ভাঙ্গার আবশ্যকতা আরও তাগিদপূর্ণ হয় যখন আল্লাহ্র বদলে সে সব মূর্তির পূজা করা হয়।
৩। জারীর বিন আব্দুল্লাহ্ আল-বাজালি (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন: হে জারীর! তুমি আমাকে যুল খালাসা (এটি খাছআম গোত্রের একটি ঘর যাকে ইয়ামেনী কাবা ডাকা হত) থেকে প্রশান্তি দিতে পার না? তিনি বলেন: তখন আমি দেড়শ অশ্বারোহী নিয়ে অভিযানের প্রস্তুতি নিলাম। আমি আমার ঘোড়ার উপর স্থির থাকতে পারতাম না। এ বিষয়টি আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে উল্লেখ করলাম। তখন তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমার বুকের উপর আঘাত করলেন এবং বললেন: اللهم ثبته واجعله هاديا مهديا (হে আল্লাহ্! তাকে স্থির রাখুন এবং পথপ্রদর্শক ও সুপথপ্রাপ্ত বানিয়ে দিন।) বর্ণনাকারী বলেন: জারীর (রাঃ) রওয়ানা হয়ে গেলেন এবং গিয়ে সে কাবাকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সুসংবাদ দেয়ার জন্য আমাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তিকে পাঠালেন; যার কুনিয়ত ছিল আবু আরতা। সেই ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন: আমরা সেই মন্দিরটিকে এমন অবস্থায় রেখে আপনার কাছে এসেছি যেন সেটি রোগের কারণে আলকাতরা দেয়া (কালো) উট। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আহমাস গোত্রের ঘোড়া ও বীরপুরুষদের জন্য পাঁচবার বরকতের দোয়া করলেন।”(সহিহ বুখারী (৩০২০) ও সহিহ মুসলিম (২৪৭৬))
ইবনে হাজার (রহঃ) বলেন:
এ হাদিসে উদ্ধৃত হয়েছে: যে জিনিস দ্বারা মানুষ ফিতনাগ্রস্ত হয় সেটি দূর করা শরয়ি বিধান; হোক সেটি কোন ভবন বা অন্য কিছু; যেমন- মানুষ, প্রাণী বা ঝড় পদার্থ।(সমাপ্ত)
৪। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) এর নেতৃত্বে উজ্জা নামক মূর্তিকে ধ্বংস করার জন্য অভিযান পাঠিয়েছিলেন।
৫। তিনি সাদ বিন যায়েদ আল-আশহালি (রাঃ) এর নেতৃত্বে মানাত নামক মূর্তিকে ধ্বংস করার জন্য অভিযান পাঠিয়েছেন।
৬। তিনি আমর বিন আ’স (রাঃ) এর নেতৃত্বে সুআ’ নামক মূর্তিটি ধ্বংসের জন্য অভিযান পাঠিয়েছেন। এ সবগুলো অভিযান হয়েছে মক্কা বিজয়ের পর।
(‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ (৪/৭১২, ৭৭৬, ৫/৮৩) এবং ড. আলী সাল্লাবীর রচিত ‘আস-সিরাতুন নাবাওয়িয়্যাহ’ (২/১১৮৬))
ইমাম নববী ‘শারহে মুসলিম’ এ تصوير (প্রতিকৃতি তৈরী, ছবি অংকন/নির্মাণ) সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: “আলেমগণ ইজমা করেছেন যে, যেটার ছায়া আছে এমন ছবি তৈরী করা নিষিদ্ধ এবং এটি বিকৃত করা আবশ্যক।”(সমাপ্ত)
যে ছবিগুলোর ছায়া হয় সেগুলো তো এই মূর্তিগুলোর মত দেহের অবকাঠামোবিশিষ্ট ছবিগুলো।
আর সাহাবায়ে কেরাম বিজিত দেশসমূহে প্রতিমাগুলো না ভাঙ্গার যে কথা বলা হয় সেটি নিছক ভিত্তিহীন ধারণা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীবর্গ মূর্তি ও প্রতিমা রেখে দেয়ার কথা নয়। বিশেষতঃ যেহেতু ঐ যামানায় এগুলোর পূজা করা হত।
যদি বলা হয়: তাহলে এই ফেরাউনদের প্রতিকৃতি, ফিনিকীনদের প্রতিকৃতি কিংবা অন্যান্য প্রতিকৃতিগুলো বিজয়ী সাহাবীগণ কিভাবে রেখে দিলেন?
জবাব হল: এই মূর্তিগুলোর ব্যাপারে তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে:
এক. এ মূর্তিগুলো এত দূরবর্তী স্থানে ছিল যে, সাহাবায়ে কেরাম সে সব স্থানে পৌঁছেননি। উদাহরণস্বরূপ সাহাবীদের মিশর জয় করার মানে এটা নয় যে, তারা মিশরের সকল স্থানে পৌঁছেছেন।
দুই. কিংবা সেই মূর্তিগুলো দৃশ্যমান ছিল না। বরং সেগুলো ফেরাউনদের ও অন্যদের বাসাবাড়ীর অভ্যন্তরে ছিল। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ ছিল জালিম ও শাস্তিপ্রাপ্তদের বাসস্থান অতিক্রমকালে দ্রুত গমন করা। বরং ঐ সমস্ত স্থানে প্রবেশের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিমে এসেছে যে, “তোমরা শাস্তিপ্রাপ্তদের এলাকায় প্রবেশ করলে কেবল ক্রন্দনরত অবস্থায় প্রবেশ করবে। যেন তাদেরকে যা পাকড়াও করেছে তোমাদেরকে সেটা পাকড়াও না করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরবাসীদের এলাকা অতিক্রম করাকালে এ কথা বলেছেন। যেটা ছিল হুদ আলাইহিস সালামের কওম ছামুদ সম্প্রদায়ের বাসস্থান।
সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিমের অপর এক রেওয়ায়েতে আছে: “যদি তোমাদের কান্না না আসে তাহলে এদের গৃহে প্রবেশ করো না; যেন তাদেরকে যা পাকড়াও করেছে তোমাদেরকে সেটা পাকড়াও না করে।”
সাহাবায়ে কেরামের ব্যাপারে যে ধারণা রাখা যায় সেটা হল তাঁরা যদি এদের মন্দির বা বাড়ীঘর দেখেও থাকেন তারা সেগুলোতে প্রবেশ করেননি এবং এগুলোর অভ্যন্তরে যা রয়েছে সেসব তারা দেখেননি।
এর মাধ্যমে সাহাবায়ে কেরাম কর্তৃক পিরামিড এবং এর মধ্যে যা কিছু ছিল সেগুলো ধ্বংস না করার যে আপত্তি আসতে পারে সেটার জবাব হয়ে যায়। তবে এর সাথে এ সম্ভাবনা রয়েছে যে, সে যামানায় পিরামিডের প্রবেশপথগুলো বালির স্তুপ দিয়ে ঢাকা ছিল।
তিন. বর্তমানে দৃশ্যমান মূর্তিগুলো তখন বালিতে ঢাকা ছিল, অদৃশ্য ছিল কিংবা এগুলো নব আবিষ্কৃত কিংবা এগুলোকে অনেক দূরবর্তী স্থান থেকে নিয়ে আসা হয়েছে; যে স্থানগুলোতে সাহাবায়ে কেরাম পৌঁছেননি।
ইতিহাসবিদ যিরিকলিকে পিরামিড ও আবুল হুল (একটি মূর্তির নাম) ইত্যাদি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয় যে, যে সকল সাহাবী মিশর প্রবেশ করেছেন তারা কি এগুলোকে দেখেছেন? জবাবে তিনি বলেন: এ মূর্তিগুলোর অধিকাংশই ছিল বালিতে ঢাকা। বিশেষতঃ আবুল হুল।(শিবহু জাযিরাতিল আরব (৪/১১৮৮))
যদি ধরে নেয়া হয় যে, কোন একটি মূর্তি দৃশ্যমান ছিল; বালিতে ঢাকা ছিল না; সেক্ষেত্রেও সাহাবীরা ঐ মূর্তিটিকে দেখেছেন এবং তারা ঐ মূর্তিটি ভাঙ্গতে সক্ষম ছিলেন এটা সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক।
বাস্তবতা হচ্ছে কোন কোন মূর্তি ধ্বংস করতে সাহাবায়ে কেরাম অক্ষম ছিলেন। কেননা এ ধরণের কোন কোন মূর্তি ভাঙ্গতে মেশিনারি, যন্ত্রপাতি, বিস্ফোরক ও লোকবল থাকা সত্ত্বেও বিশদিন সময় লেগেছে; যেগুলো সাহাবীদের যামানায় ছিল না।
সাহাবীরা যে এগুলো ভাঙ্গতে অক্ষম ছিলেন এর প্রমাণ হল যা ইবনে খালদুন তাঁর ‘মুকাদ্দিমা’-তে (পৃষ্ঠা-৩৮৩) উল্লেখ করেছেন যে, একবার খলিফা আর-রশিদ পারস্যের বাদশার প্রাসাদ ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি সেটি ভাঙ্গার কাজ শুরু করে দেন এবং এর লক্ষ্যে লোকবল জমায়েত করেন, কুঠার সংগ্রহ করেন, প্রাসাদটিকে আগুনে উত্তপ্ত করেন, এর উপরে শির্কা ঢালেন। কিন্তু অবশেষে তিনি ব্যর্থ হন। এবং খলিফা মামুন মিশরের পিরামিডগুলো ভাঙ্গার লক্ষ্যে হাতি জড়ো করেন। কিন্তু তিনিও সক্ষম হননি।
আর মূর্তিগুলো না ভাঙ্গার পক্ষে এ কথা বলে কারণ দর্শানো যে, এ মূর্তিগুলো মানব ঐতিহ্য- এমন কথার প্রতি দৃষ্টিপাতের সুযোগ নাই। কেননা লাত, উজ্জা, হুবাল, মানাত ও অন্যান্য মূর্তিগুলোর যারা পূজা করত কুরাইশরা কিংবা আরব উপদ্বীপের অন্যান্য লোকেরা তাদের নিকট এগুলো তো মানব ঐতিহ্যই ছিল।
এগুলো ঐতিহ্য ঠিকই; কিন্তু হারাম ঐতিহ্য যা ধ্বংস করা ওয়াজিব। যখন আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ এসে যায় তখন একজন মুমিন দেরী না করে সে নির্দেশ পালন করে। এ সমস্ত দুর্বল যুক্তি দিয়ে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আদেশকে প্রত্যাখ্যান করে না। আল্লাহ্ তাআলা বলেন: “রাসূল তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিবেন, এই উদ্দেশ্য যখন তাদেরকে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয় তখন মুমিনদের কথা হয় এটাই: তারা বলে আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। আর তারাই সফলকাম।”(সূরা নূর, আয়াত: ৫১)
আমরা আল্লাহ্র কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন সকল মুসলিমকে তিনি যা পছন্দ করেন ও যেটার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট তা পালন করার তাওফিক দেন।
আল্লাহ্ই সর্বজ্ঞ।
বর্তমান সময়ে সবচাইতে প্রখ্যাত ইসলামের আলেমদের এই বিষয়ে মতামত হচ্ছে, মুসলিমরা যখন ক্ষমতাপ্রাপ্ত হবে, তখন অমুসলিমদের সকল মূর্তি এবং মন্দির ধ্বংস করে ফেলতে হবে। কোরআন হাদিস সব গবেষণা করে ইসলামের প্রখ্যাত আলেমগণ এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছেছেন। এই বিষয়ে সরাসরি ফতোয়াও দেয়া আছে। ফতোয়াটি এখানে দেয়া হলো, যেটি প্রখ্যাত ফতোয়ার ওয়েবসাইট Islamweb থেকে নেয়া – [19]
Demolishing idols in a non-Muslim country
Fatwa No: 190575
Fatwa Date:18-11-2012 – Muharram 5, 1434Email Print
Rating:
Question
Assalamu Alaikum, In the Quran, Allah says that Abraham destroyed the idols to teach the people that idols don’t have any power. In another place, Quran asks to follow the religion of Abraham. Is it required for a muslim living in a hindu country to destroy the idols. Will this not cause religious hatred and communal violence? Is it allowed to construct hindu temple in an islamic country?
Answer
All perfect praise be to Allaah, The Lord of the Worlds. I testify that there is none worthy of worship except Allaah, and that Muhammad sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) is His slave and Messenger.
There is Islamic evidence that it is an obligation to demolish idols and statues, among which is the Hadeeth narrated by ‘Amr ibn ‘Abasah may Allaah be pleased with him that he asked the Prophet sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ): ”What did Allaah send you with?” He sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) said: “He sent me to keep ties with kinship and demolish idols, and that Allaah Alone should be worshipped without associating anything with Him.” (Muslim)
Also, Abu Al-Hayyaaj Al-Asadi may Allaah be pleased with him said: “ ‘Ali ibn Abi Taalib may Allaah be pleased with him said to me: “Shall I send you for a mission once the Prophet sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) had sent me for: Do not leave an idol unless it is destroyed, nor you leave an up leveled grave unless you level it down to ground.” (Muslim)
However, this is restricted to the ability of the Muslims in doing so and them being safe from causing a greater harm. Our best example is that of the Prophet sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) as he used to go to the House of Allaah and perform Tawaaf (circumambulation around the Ka‘bah) while there were 360 idols around it but he did not cause harm to any of them until after the conquest of Makkah and after the Muslims became strong and the polytheists were no longer ruling over Makkah; it was then that the Prophet sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) destroyed the idols. He sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) prodded the idols with a bow while saying: “The truth has come and falsehood has vanished.” The story is narrated in Saheeh Al-Bukhari and Saheeh Muslim.
The Prophet sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) used to take into consideration the prevailing circumstances and leave that which could lead to a greater evil despite the fact that it was permissible in principle. The evidence about this is the Hadeeth of ‘Aa’ishah may Allaah be pleased with her who said: “I asked the Prophet sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) about Al-Hijr (the area adjacent to the Ka’bah enclosed by a low semi-circular wall), is it from the House (of Allaah)? He sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) said: ’Yes.’ I said, ‘Why did they not include it in the House?’ He sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) said: ’Your people did not have enough resources to spend on it.’ I said: ’Why is the level of its door raised high?’ He sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) said: ’Your people did so, so that they would let whomever they want to enter it and prevent whomever they want from entering it. Your people are close to the Pre-Islamic Period of Ignorance; so I fear that they would reject if I included the Hijr in the House and make its door at a level with the ground.’ ” (Al-Bukhari and Muslim)
Besides, what the Prophet Ibraaheem (Abraham) may Allaah exalt his mention did does not contradict what we have stated, as he did not do that matter until he was capable of doing it and being secure from being harmed. Ibn ‘Aashoor may Allaah have mercy upon him said while interpreting the verse (which means): {And (I swear) by Allaah, I will surely plan against your idols after you have turned and gone away.} (Quran 21:57): “He conditioned that his plan (agaist their idols) be after they depart in order to indicate that he will inflict harm on the idols as soon as he will be able to do so. This proves his strong determination to change evil, because taking the initiative to change evil although it is by hand (physically), is a rank of strong determination, but he would not be able to do so in the presence of idolaters. So, if he were to try to demolish it in their presence, then his act will be in vain. What is meant from changing evil: is to remove it as much as possible, so removing it by hand can only be done with the existence of the ability to do so.”
Finally, it should be noted that it is not permissible for the Muslims to allow non-Muslims to establish one of their temples in a Muslim country, let alone the Muslim country establishing it itself. The conditions that ‘Umar may Allaah be pleased with him put on the non-Muslims living safely in a Muslim country under Muslim rule included: “….that we will not erect in our city any church….”
Allaah Knows best.
উপরের ফতোয়াটির ভাবানুবাদ দেয়া হলো ( অনুবাদক- কোয়েস আলী ) –
প্রশ্নঃ
আসসালামুয়ালাইকুম। কোরআনে আল্লাহ বলেছেন যে, ইব্রাহিম মুর্তি ভেঙে মানুষকে এটাই বোঝাতে চেয়েছিলেন যে মুর্তির কোন শক্তি নেই। কোরআনের আরেক জায়গায় ইব্রাহিম প্রবর্তিত ধর্মকে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এখন, হিন্দু দেশে বসবাসকারী মুসলিমদের কি মুর্তি ভাঙা বাধ্যতামূলক? এতে কি ধর্মীয় ঘৃণা ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস হয়ে যাবে না? ইসলামিক দেশে হিন্দু মন্দির স্থাপন করা কি জায়েজ?
উত্তরঃ
ইসলামে মুর্তি ভাঙার নির্দেশনা বিষয়ে যে তথ্য আমরা পাই, তার মধ্যে একটি হাদীস- আমির ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত,যে তিনি নবীকে জিজ্ঞাসা করলেন,”আল্লাহ আপনাকে কি নির্দেশ প্রেরণ করেছেন?” নবী বললেন,”তিনি আমাকে সংহতি বজায় রাখতে পাঠালেন ওমুর্তি ভাঙতে বলেছেন, যাতে আল্লাহর সমকক্ষ কোনকিছুই না থাকতে পারে।“(মুসলিম)
আবারআবু আলা হায়াজ আল আসাদী বলেন, “আলী ইবনে আবু তালিব বললেন, নবী আমাকে যে কাজে পাঠিয়েছিলেন,তোমাকেও সে কাজে পাঠাতে পারি কি-কোন মুর্তি আস্ত রাখবে না, যতক্ষন পর্যন্ত সেগুলো ধংসস্তুপ হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত না সেই উচু ধ্বংসস্তুপ সমতল ভূমিতে পরিণত হয়।(মুসলিম)
যাইহোক, এখন মুসলিমদের জন্য এটা সীমিত করা হয়েছে, যাতে তারা বড় ধরণের বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারে। সেরা উদাহরণ হচ্ছে, নবী সাঃ আল্লাহর ঘরে নিয়মিত যেতেন ও তাওয়াফ করতেন। সেখানে চারপাশের ৩৬০ ডিগ্রি জুড়ে নানা মুর্তি ছিল, কিন্তু তিনি মক্কা বিজয়ের আগে সেগুলোর কোন ক্ষতি করেন নি এবং এরপর যখন মুসলিমরা শক্তিশালী হল এবং বহু ঈশ্বরবাদীরা দুর্বল হল, তখন নবী সাঃ এক ঝটকায় মুর্তিগুলো ভেঙে দিলেন ও বললেন,”সত্য উন্মোচিত হয়েছে, মিথ্যা দূর হয়েছে।“ ইহা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে।
নবী চারপাশকে পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিতেন এবং আদর্শগত দিকের চেয়ে কোন কাজে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনাকে বেশী গুরুত্ব দিতেন। আয়েশা বর্ণিত হাদীস হতে আমরা পাই- ‘আমি নবীকে জিজ্ঞেস করলাম, আল হিজর (কাবা সংলগ্ন অর্ধচন্দ্রাকৃতির দেয়াল ঘেরা স্থান) কি আল্লাহর ঘরের সাথে সংযুক্ত?’ নবী বললেন,’হ্যা’। আমি বললাম, ‘তবে আল্লাহ একে ঘরের সাথে কেন সংযুক্ত করেন নি?’ নবী বললেন,’তোমার লোকেদের যথেষ্ট অর্থ ছিল না”। আমি বললাম, দরজার পাড় এত উচু কেন?’ নবী বললেন,’তোমার লোকেরা এটা করেছে, যাতে তারা কাউকে কাউকে এখানে ঢুকতে দিতে পারে, কাউকে কাউকে না দিতে পারে। তোমার লোকেরা ইসলামপূর্ব সময়ের ন্যায় অজ্ঞ/মূর্খ ছিল। তাই আমি চিন্তিত ছিলাম যে আমি যদি হিজরকে কাবার সাথে যুক্ত করি ও দরজা ভেঙে মাটির সমান করে দিই, তবে তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
এখন ইব্রাহিম নবী যা করেছেন, তার সাথে আমাদের বক্তব্য সাংঘর্ষিক না। কেননা, তিনি সক্ষমতা অর্জনের পরেই কাজটা করেছিলেন এবং ক্ষতি থেকে দূরে ছিলেন। ইবনে আসুর বর্ণণা করেন-“আল্লাহর কসম, যখন তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে চলে যাবে, তখন আমি তোমাদের মূর্তিগুলোর ব্যাপারে একটা ব্যবস্থা অবলম্বন করব।”
তিনি শর্ত দিলেন যে, মুর্তি ধ্বংসের কাজটা তখনই করতে হবে, যখন সেটার সামর্থ্য আপনার হবে।
এটা দিয়ে প্রমানিত হয় যে, খারাপকে বদলাবার ব্যাপারে নবীর দৃঢ় মনোভাব ছিল কারণ নিজ হাতে মুর্তি ভাঙার উদয়োগ তার দৃঢ় ইচ্ছার বিষয়টি নিশ্চিত করে। কিন্তু মুর্তি পূজারীদের উপস্থিতিতে তিনি সেটা করতে পারতেন না। কারণ, এর ফলে সেই প্রচেষ্টা ব্যার্থ হতে পারে। খারাপকে বদলাবার মানে হল, যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা ও নিজ হাতে ধ্বংস করা। সেটা তখনই সম্ভব, যখন আপনার সামর্থ্য হবে।
সবশেষে, মুসলিম দেশে কোন অমুসলিম মন্দির স্থাপন কিংবা কোন মুসলিম দেশকে করতে দেয়া, মুসলমানের পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব না। হযরত উমরের ইসলামিক শাসনের অধীনে অমুসলিমদের নিরাপত্তা দিয়ে শর্ত দিয়েছিলেন, ’ আমরা আমাদের নগরে কোন চার্চ তৈরী করতে দেব না”
আকীদা গ্রন্থে আক্রমণাত্মক জিহাদ
এবারে আমরা একটি বিখ্যাত আকিদা গ্রন্থ থেকে দেখে নিবো, এই বিষয়ে ইসলামের হুকুমত এবং বিধান আসলে কী [20]
আকাশের দিকে ইঙ্গিত করে বোঝানো হলো যে আপনি আল্লাহর রাসূল। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, “তুমি একে মুক্ত করতে পারো।” (হাদীস নং ১১)
যেসব কথা ও কাজ কেবল একজন মুসলিমই বলতে বা করতে পারে এবং যার মাধ্যমে স্পষ্ট বোঝা যায় যে উক্ত ব্যক্তি ইসলামে প্রবেশ করেছে, সেসব কথা ও কাজই ‘ইসলাম গ্রহণ’ হিসেবে গণ্য হবে। উদাহরণস্বরূপ: মুসলিমদের মতো সালাত আদায় করা, হজ পালন করা ইত্যাদি। তবে যদি প্রমাণিত হয় যে, উক্ত ব্যক্তি এসকল কাজের মাধ্যমে ভ্রান্ত বিশ্বাস পরিত্যাগ করে নির্ভেজাল ইসলামে প্রবেশ করেনি—বরং তার ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী কাফির অবস্থায়ই এসকল আমল করছে (যেমন বর্তমানে কাদিয়ানীরা) বা সে তামাশার ছলে এটি করছে—তবে তার ক্ষেত্রে এগুলো ইসলাম গ্রহণ হিসেবে গণ্য হবে না। তাকে ততক্ষণ মুসলিম গণ্য করা হবে না, যতক্ষণ না সে এমন কোনো বাক্য ব্যবহার করে যাতে বোঝা যায় সে নিজ বিশ্বাস পরিত্যাগ করে রাসূলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক প্রচারিত ও সাহাবায়ে কিরাম কর্তৃক অনুসৃত সঠিক ধর্মবিশ্বাসে প্রত্যাবর্তন করছে।
ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করার বিধান
কাউকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিকহী বিষয়। সমস্ত ওলামায়ে কিরাম একমত হয়েছেন যে, যেসব কাফিরের সাথে মুসলিমদের কোনো চুক্তি নেই (হারবী) বা যারা জিজিয়া প্রদানকারী জিম্মী কাফির নয়, তাদের হত্যার ভয় দেখিয়ে বা অন্য কোনোভাবে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে। অর্থাৎ, এভাবে ইসলাম গ্রহণের পর সে যদি পুনরায় ধর্মত্যাগ করতে চায়, তবে তাকে ‘মুরতাদ’ সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। এ বিষয়ে দলিল হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী:
“আমাকে আদেশ করা হয়েছে মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য যতক্ষণ না তারা বলে— ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’।” (বুখারী ও মুসলিম)
যখন তারা এটি বলবে, তখন তাদের রক্ত ও সম্পদ সংরক্ষিত বলে গণ্য হবে। সহীহ মুসলিমের একটি দীর্ঘ হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) কোনো অভিযানে সেনাপতি প্রেরণের সময় উপদেশ দিয়ে বলতেন: “তাদের তিনটি বিষয়ের দিকে ডাকো। তার মধ্যে যেটিই তারা গ্রহণ করুক, তুমিও সেটি গ্রহণ করো।” এই তিনটি বিষয় হলো:
ক. ইসলাম গ্রহণ
খ. জিজিয়া কর আদায় করা
গ. যুদ্ধ করা
সুতরাং, যুদ্ধের মাধ্যমে যাদের ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা হয়, তারা দুনিয়ার বিচারে মুসলিম বলেই গণ্য হবে। ওসামা বিন যায়েদের ঘটনাতেও একই বিষয় প্রমাণিত হয়। ওসামা (রা.) যাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছিলেন, সেই কাফির হঠাৎ কালিমা পাঠ করে বসে। ওসামা মনে করেছিলেন তরবারির ভয়ে সে ইসলাম গ্রহণ করেছে, তাই তার ইসলাম গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) একারণে তাকে কঠোর তিরস্কার করেন। এর স্পষ্ট অর্থ হলো—যাকে হত্যা করা বৈধ, তাকে যদি হত্যার ভয় দেখানো হয় এবং সে ভীত হয়ে ইসলামে প্রবেশ করে, তবে তার ইসলাম গ্রহণযোগ্য হবে। পরবর্তীতে সে ইসলাম পরিত্যাগ করলে তাকে মুরতাদ হিসেবে গণ্য করা হবে। (হাদীস নং ১২ ও ১৩)
হারবী ও জিম্মীদের ক্ষেত্রে মতভেদ
কানযুদ্দাকাইকের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: “যদি চুক্তিবিহীন কাফিরকে (হারবী) ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হওয়ার ব্যাপারে ইজমা (ঐক্যমত) সম্পাদিত হয়েছে।” (তাবঈনুল হাকাইক্ক)
যাদের সাথে মুসলিমদের চুক্তি রয়েছে—যেমন জিম্মী (হাদীস নং ১৪), মুস্তা’মান (হাদীস নং ১৫) বা মুয়াহিদ (হাদীস নং ১৬)—তাদের ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা বৈধ নয় এবং এ ব্যাপারে উম্মতের ইজমা রয়েছে। তবে কেউ যদি এদের বাধ্য করে এবং তারা ইসলাম গ্রহণ করে, তবে সেই ইসলাম গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সে বিষয়ে ওলামায়ে কিরামের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে:
হাম্বালী ও শাফেঈ মাযহাব: তাদের মতে এটি ইসলাম গ্রহণ হিসেবে গণ্য হবে না যতক্ষণ না বাধ্যবাধকতা দূর হওয়ার পর সে স্বেচ্ছায় ইসলামের ওপর টিকে থাকে। (হাদীস নং ১৭; আল-মুগনী)
হানাফী মাযহাব: গ্রহণযোগ্য মত অনুযায়ী, এটি ইসলাম গ্রহণ হিসেবেই গণ্য হবে এবং তাকে পুনরায় কুফরিতে ফিরে যেতে দেওয়া হবে না। (তাবঈনুল হাকাইক্ক)
এখানে প্রথম মতটিই (শাফেঈ ও হাম্বালী) অধিকতর সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়।
বংশগত ও পরিস্থিতিগত মুসলিম পরিচয়
একজন ব্যক্তি নিম্নোক্ত উপায়েও মুসলিম হিসেবে গণ্য হতে পারে:
১. মুসলিম পিতা-মাতার মাধ্যমে:
সমস্ত ওলামায়ে কিরাম একমত যে, মুসলিম পিতা-মাতার ঘরে ভূমিষ্ঠ শিশু মুসলিম হিসেবেই গণ্য হবে। একইভাবে কাফির দম্পতি মুসলিম হলে তাদের না-বালেগ সন্তানরাও মুসলিম হবে। যদি পিতা-মাতার একজন মুসলিম হন, তবে সন্তান মুসলিম হিসেবেই গণ্য হবে। (বুখারী; ফাতহুল বারী-৩/২২০) এর দলিল হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: “ইসলাম সবার উপরে, ইসলামের উপরে কিছু বিজয়ী হতে পারে না।” (হাদীস নং ১৮; দারে কুতনী)
২. যুদ্ধবন্দী শিশুর ক্ষেত্রে:
শিশু অবস্থায় যুদ্ধে বন্দী হওয়ার মাধ্যমে মুসলিম হিসেবে গণ্য হওয়ার ক্ষেত্রে উক্ত শিশুর ইচ্ছার কোনো গুরুত্ব নেই। এটিও একটি বাধ্যতামূলক পদ্ধতি।
“দ্বীনের মধ্যে জবরদস্তি নেই” আয়াতের ব্যাখ্যা
বর্তমানে অনেক চিন্তাবিদ প্রচার করেন যে, ইসলামে কাউকে বাধ্য করার সুযোগ নেই। তারা সূরা বাকারার ২৫৬ নম্বর আয়াত (“দ্বীনের মধ্যে কোনো জবরদস্তি নেই”) বা সূরা ইউনুসের ৯৯ নম্বর আয়াত পেশ করেন। তবে ওলামায়ে কিরামের মতে, এ সকল আয়াতকে অন্যান্য দলিল ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আমলের সাথে সমন্বয় করে বুঝতে হবে।
“দ্বীনের মধ্যে জবরদস্তি নেই” আয়াতটি কেবল সেই সব কাফিরদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা জিজিয়া দিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু যারা জিজিয়া দিতে নারাজ বা যারা মুরতাদ হয়ে গেছে, তাদের ক্ষেত্রে বাধ্য করার বিধানই প্রযোজ্য হবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে তার দ্বীন পরিবর্তন করে তাকে হত্যা করো।” (বুখারী) সুতরাং, প্রতিটি আয়াতকে তার সঠিক প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করতে হবে; ঢালাওভাবে সব ক্ষেত্রে জবরদস্তি নিষিদ্ধ করা হয়নি। (হাদীস নং ২৯)
ফুটনোটসমূহ:
(১১) হাদীসটি ইমাম আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদকে দুর্বল বলেননি, অর্থাৎ তিনি হাদীসটিকে গ্রহণযোগ্য মনে করেছেন। আল-হাইছামী মাজমুয়ায়ে যাওয়ায়েদে বলেছেন, “এই হাদীসের রাবিরা বিশ্বস্ত।” তবে শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন।
(১২) সহীহ বুখারী ও মুসলিম; হাদীসটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
(১৩) ইবনুল আরবী বলেন, “একজন মুসলিম যখন এমন কোনো কাফিরের সাক্ষাৎ পায় যার সাথে কোনো চুক্তি নেই, তবে তার জন্য তাকে হত্যা করা বৈধ।” (আহকামুল কুরআন)। মোল্লা আলী ক্বারী আল-হানাফী ইমাম আল-খাত্তাবী থেকে বর্ণনা করেন, “কাফিরদের রক্তের ব্যাপারে মূলনীতি হলো তা বৈধ (ইবাহাত)।” (মিরকাতুল মাফাতিহ)। অর্থাৎ চুক্তি না থাকলে তাদের রক্ত নিষিদ্ধ নয়।
(১৪) ইসলামী রাষ্ট্রের অনুগত কর (জিজিয়া) দিয়ে বসবাসকারী কাফিররা।
(১৫) ইসলাম সম্পর্কে জানার উদ্দেশ্যে বা ব্যবসার প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে অল্প সময়ের জন্য ইসলামী রাষ্ট্রে আশ্রয়গ্রহণকারী কাফিররা।
(১৬) নিজেদের ভূখণ্ডে অবস্থান করেই মুসলিমদের সাথে যুদ্ধবিরতির চুক্তি করে যেসব কাফিররা।
(১৭) যদি জিম্মী বা মুস্তা’মানকে বাধ্য করা হয়, তবে তার ইসলাম ধর্তব্য হবে না যতক্ষণ না সে স্বেচ্ছায় এর ওপর টিকে থাকে। (আল-মুগনী)।
(১৮) দারে কুতনী, বুলুগুল মারাম। ইমাম বুখারী হাদীসটিকে মাওকুফভাবে সনদ ছাড়া উল্লেখ করেছেন। ইবনে হাজার আসকালানী ও শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন। (ফাতহুল বারী-৩/২২০; ইরওয়াউল গালীল-১২৬৮)।
(২৮) এ বিষয়ে পরবর্তী অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ইনশা-আল্লাহ।
(২৯) আমীরুল মু’মিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এবং অন্যান্য সাহাবারা শর্ত করতেন যে, অমুসলিমরা ইসলামী রাষ্ট্রে তাদের ধর্মীয় উৎসবসমূহ প্রকাশ্যে পালন করতে পারবে না। (মাজমুউল ফাতাওয়া; তাফসীরে ইবনে কাছির)।







শুগারকোটেড ইসলাম বনাম সহিহ ইসলাম
বর্তমান সময়ের তথাকথিত মডারেট মুসলিম বা ইসলামি চিন্তাবিদগণ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে ‘জিহাদ’ শব্দটিকে কেবল ‘আত্মিক সংগ্রাম’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিন্তু ইসলামের আকর গ্রন্থ এবং চার ইমামের ফিকহী সিদ্ধান্তগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জিহাদ মানেই হলো কাফিরদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ (কিতাল)। ধ্রুপদী ইসলামে ‘ডিফেন্সিভ জিহাদ’ বা রক্ষণাত্মক যুদ্ধের চেয়ে ‘অফেন্সিভ জিহাদ’ বা আক্রমণাত্মক জিহাদকে বেশি সওয়াবের কাজ হিসেবে দেখা হয়েছে। এই সত্যটি গোপন করে ইসলামিস্টরা এক ধরণের ‘তাকিয়া’ বা ধর্মীয় প্রতারণার আশ্রয় নেয়। অমুসলিমদের ওপর ইসলাম চাপিয়ে দেওয়া বা তাদের ইসলামী রাষ্ট্রের অধীনে পদানত করার যে সামরিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা অস্বীকার করা মূলত ইসলামের দীর্ঘ তেরোশ বছরের ইতিহাসকেই অস্বীকার করার শামিল। জিহাদ কোনো শান্তির পথ নয়, বরং এটি একটি সাম্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার। আসুন আরও একজন ইংরেজিভাষী আরব আলেমের বক্তব্য শুনে নেয়া যাক,
এবারে আসুন শুনি, অমুসলিমদের সাথে সহাবস্থান বা মিলেমিশে থাকা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে, একজন বাংলাদেশের আলেমের মুখে,
এবারে আসুন বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম আহমাদুল্লাহর একটি ভিডিও দেখে নিই। এই ভিডিওর এই বক্তব্যে অমুসলিমদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ধারণাটিকে একটি সাময়িক এবং কৌশলগত ব্যবস্থা হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে, যা প্রকারান্তরে তাদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে উপস্থাপন করে। বক্তা আহমাদুল্লাহ মদিনা সনদকে একটি “চুক্তি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা কেবল পরিস্থিতির চাপে ইহুদিদের সাথে করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সূরা তাওবার মাধ্যমে তা “বাতিল” বা “রহিত” হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি এই বার্তাই দিচ্ছেন যে, অমুসলিমদের সাথে সমানাধিকারভিত্তিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ইসলামের চিরস্থায়ী আদর্শ নয়। বিশেষ করে, অমুসলিমদের ওপর অবমাননাকর ‘জিজিয়া’ বা কর আরোপ করে তাদের ‘নাগরিক’ নয় বরং নির্দিষ্ট ‘ফি’ দিয়ে বসবাসের শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা আধুনিক রাষ্ট্রের সমান নাগরিক অধিকারের ধারণার পরিপন্থী। বক্তা অমুসলিমদের সাথে “কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে থাকা” বা “জগাখিচুড়ি হয়ে থাকা” বিষয়টিকে একটি “ধোঁকা” হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং ইহুদিদের সম্পর্কে অত্যন্ত নেতিবাচক ও বর্ণবাদী মন্তব্য (যেমন: তারা চতুর বা বাহির থেকে এসে খুটি গেড়েছে) করে তাদের প্রতি এক ধরণের সামাজিক ঘৃণা ও অবিশ্বাস উসকে দিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে, অমুসলিমদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে একটি “সুবিধাবাদী” এবং “রহিত” ব্যবস্থা হিসেবে দেখিয়ে তিনি তাদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদাকে খাটো করেছেন।
সূরা তওবার আনসেন্সরড তাফসীর (ভিডিও)
কুরআনের শান্তিকামী আয়াতগুলোকে আধুনিককালের ইসলামিস্টরা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলেও, ধ্রুপদী তাফসীরবিদগণ কখনোই লুকোচুরি করেননি। সূরা তাওবা বা কুরআনের সর্বশেষ বড় সূরাগুলোর নাজিল হওয়া এটিই প্রমাণ করে যে, ইসলামের শক্তি যখন বৃদ্ধি পায়, তখন পূর্বের ‘সহনশীলতা’র নীতি রহিত বা ‘মানসুখ’ হয়ে যায়। প্রখ্যাত মুফাসসিরদের মতে, সূরা তাওবার ৫ এবং ৭৩ নম্বর আয়াত—যা ‘তরবারির আয়াত’ নামে পরিচিত—পূর্ববর্তী কয়েকশ শান্তিপূর্ণ আয়াতকে বাতিল করে দিয়েছে। এটি থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, মক্কী জীবনের শান্তি ছিল মূলত মুসলিমদের দুর্বল অবস্থানের কারণে একটি কৌশলগত অবস্থান। যখনই তারা মদিনায় রাষ্ট্রক্ষমতা ও সামরিক শক্তি অর্জন করল, তখনই ‘জিহাদ’ এবং ‘কিতাল’-এর মাধ্যমে ধর্ম প্রসারের চূড়ান্ত নির্দেশ আসলো। এই পরিবর্তনশীল নীতি ইসলামের তথাকথিত ‘শাশ্বত শান্তির ধর্ম’ হওয়ার দাবিকে অসার প্রমাণ করে। এবারে আসুন সূরা তওবার একটি নির্ভীক সাহসী ওয়াজ শুনি,
নবী কী জঙ্গি ছিলেন? (ভিডিও)
আধুনিককালে ‘জঙ্গিবাদ’ বা ‘টেররিজম’ বলতে আমরা যা বুঝি, তার অনেক উপাদানই তৎকালীন সামরিক অভিযানে দেখা যায়। ‘আমি আদিষ্ট হয়েছি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয়…’—রাসূলুল্লাহর এই বাণীটি কোনো রক্ষণাত্মক যুদ্ধের কথা বলে না, বরং এটি একটি চিরন্তন আগ্রাসনের নীতি। যখন একটি ধর্মের প্রবর্তক নিজেই ঘোষণা করেন যে যুদ্ধের মাধ্যমে অন্যদের বশ্যতা স্বীকার করানোই তার মিশন, তখন সেই ধর্মবিশ্বাস আর আধ্যাত্মিকতায় সীমাবদ্ধ থাকে না, তা একটি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিতে রূপ নেয়। মক্কা বিজয়ের পর মূর্তিপূজারীদের প্রতি যে ‘সাধারণ ক্ষমা’র কথা বলা হয়, তা আসলে ছিল একটি স্বল্পসময়ের জন্য শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা—পরবর্তী সময়ে তা বদলে গিয়ে হয় ইসলাম গ্রহণ করো, নয় দেশত্যাগ করো, নতুবা মৃত্যু বরণ করো, এই নীতিতে পরিণত হয়। এই জবরদস্তিমূলক অবস্থানটিই বর্তমান বিশ্বের চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রধান অনুপ্রেরণা। আসুন আরেকটি ওয়াজ শুনি,
অমুসলিমদের ওপর আক্রমণাত্মক জিহাদ (ভিডিও)
শিরককারীর রক্ত হালাল
বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম এবং ইসলামী ফিকাহ শাস্ত্রের অন্যতম পণ্ডিত ড. আবু বকর মুহাম্মদ যাকারিয়ার সম্পাদনায় প্রকাশিত মো আব্দুল কাদেরের বই বাংলাদেশে প্রচলিত শির্ক বিদ‘আত ও কুসংস্কার পর্যালোচনা গ্রন্থে পরিষ্কারভাবেই বলা আছে যে, শিকর হচ্ছে হত্যাযোগ্য অপরাধ। যারা শিরক করে, তাদের রক্ত মুসলিমদের জন্য হালাল! আসুন সরাসরি বই থেকে দেখি, [21]-

উপসংহার
উপরের তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ থেকে এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে, সূরা কাফিরুনের ‘তোমাদের ধর্ম তোমাদের’—এই জাতীয় বুলিগুলো ইসলামের কোনো শাশ্বত সহিষ্ণুতা বা অসাম্প্রদায়িক চেতনার ফসল নয়। বরং এটি ছিল মক্কায় সংখ্যালঘু ও ক্ষমতাহীন থাকাকালীন মুহাম্মদের একপ্রকার ‘কৌশলগত প্রবঞ্চনা’ বা ট্যাকটিক্যাল ডিসেপশন। যখনই মুসলিমরা সামরিক শক্তি ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব লাভ করেছে, তখনই এই ‘সহিষ্ণুতার’ খোলস ত্যাগ করে ইসলাম তার আসল উগ্র ও সম্প্রসারণবাদী রূপটি উন্মোচন করেছে।
ধ্রুপদী তাফসীরকারদের স্পষ্ট অভিমত অনুযায়ী, এই আয়াতটি কোনোভাবেই অমুসলিমদের ধর্মের স্বীকৃতি দেয় না; বরং এটি ছিল কেবল একটি সাময়িক বিরক্তি প্রকাশ, যা পরবর্তীতে ‘জিহাদের আয়াত’ দ্বারা সম্পূর্ণ রহিত বা মনসুখ হয়ে গেছে [5] [6]। আধুনিক যুগের শীর্ষস্থানীয় ইসলামী পণ্ডিত ও ফতোয়া বোর্ডগুলো দ্ব্যর্থহীনভাবে স্বীকার করেছে যে, ক্ষমতা অর্জনের পর মূর্তিপূজা বন্ধ করা এবং অন্য ধর্মের উপাসনালয় ধ্বংস করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা [22] [23]। এমনকি বাংলাদেশের মতো তথাকথিত উদার গণতান্ত্রিক দেশের প্রেক্ষাপটেও প্রভাবশালী আলেমগণ দাবি করছেন যে, ‘শিরক’ একটি হত্যাযোগ্য অপরাধ এবং মুশরিকদের রক্ত মুসলিমদের জন্য ‘হালাল’ [24]।
এই ধরণের দ্বিমুখী ও আক্রমণাত্মক আদর্শিক অবস্থান আধুনিক সভ্যতার মেরুদণ্ড ‘মানবাধিকার’ ও ‘ব্যক্তিগত স্বাধীনতার’ সাথে চরমভাবে সাংঘর্ষিক। ধর্মের নামে যখন অন্যের উপাসনালয় ধ্বংস করা বা ভিন্নমতাবলম্বীদের রক্ত হালাল করার মতো মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে ধর্মীয় বিধান হিসেবে বৈধতা দেওয়া হয়, তখন তাকে কোনোভাবেই ‘শান্তির ধর্ম’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব নয়। ইসলামের প্রাথমিক যুগের ‘ছদ্ম-সহিষ্ণুতা’ এবং পরবর্তীকালের ‘আগ্রাসনী ক্ষমতা-তত্ত্বের’ মধ্যে যে বিস্তর ব্যবধান, তা আসলে এক বিশাল প্রবঞ্চনার নামান্তর। এই ধরণের উগ্র ও একনায়কতান্ত্রিক মতাদর্শ কেবল মানবাধিকারেরই পরিপন্থী নয়, বরং তা বৈশ্বিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য এক দীর্ঘস্থায়ী হুমকি। তাই সভ্য সমাজ ও আধুনিক মানবতাবাদী মূল্যবোধ রক্ষার স্বার্থে ইসলামের এই দ্বিমুখী কৌশল এবং এর অন্তরালে থাকা সহিংস আধিপত্যবাদী মনস্তত্ত্বকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে চিহ্নিত ও প্রতিরোধ করা অত্যন্ত জরুরি।
About This Article
Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis
Epistemic Position: Scientific Skepticism
This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.
It applies historical criticism, empirical reasoning, logical analysis, and scientific skepticism in evaluating religious, philosophical, and historical claims.
The objective is not theological neutrality, but evidence-based critical examination and adversarial analysis of ideas and narratives.
This article should primarily be evaluated through: source quality, evidentiary strength, logical rigor, and factual consistency.
তথ্যসূত্রঃ
- সূরা কাফিরুন, আয়াত ৬ ↩︎
- সহীহ বুখারী, হাদিসঃ ২৬৫২ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, হাদিসঃ ২৫৩৩ ↩︎
- সূরা কাফিরুন, আয়াত ৬ ↩︎
- তাফসীরে জালালাইন, সপ্তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৯৮ 1 2
- তাফসীরে মাযহারী, ১২তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬১৩ 1 2
- সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিসঃ ২৬০৭ ↩︎
- সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিসঃ ২৬০৮ ↩︎
- সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিসঃ ৩১৫৯ ↩︎
- সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠাঃ ৩৫৭, ৩৫৮ ↩︎
- There is no compulsion to accept Islam, Question 34770 ↩︎
- ইউনুস ১০:৯৯ ↩︎
- আল-বাকারা ২:২৫৬ ↩︎
- আত-তাওবাহ ৯:৫ 1 2
- আত-তাওবাহ ৯:২৯ ↩︎
- আল-আনফাল ৮:৩৯ ↩︎
- Was Islam spread by the sword?, Question 43087 ↩︎
- মূর্তি ভাঙ্গার আবশ্যকতা ↩︎
- Demolishing idols in a non-Muslim country ↩︎
- আল-ইতকান ফি তাওহীদ আর-রহমান, শাইখ আব্দল্লাহ আল মুনির, পৃষ্ঠা ১৪-১৭, ২৫-২৭ ↩︎
- বাংলাদেশে প্রচলিত শির্ক বিদ‘আত ও কুসংস্কার পর্যালোচনা ২. শির্কের পরিণতি ↩︎
- Islamweb Fatwa No: 190575 ↩︎
- IslamQA Fatwa: 20894 ↩︎
- বাংলাদেশে প্রচলিত শির্ক বিদ‘আত ও কুসংস্কার পর্যালোচনা, ২. শির্কের পরিণতি ↩︎
