
Table of Contents
- 1 ভূমিকাঃ বিশ্বব্যাপী ইসলামী আধিপত্যই জিহাদের লক্ষ্য
- 2 শিরক ও ফিতনাঃ যুদ্ধের ধর্মতাত্ত্বিক অজুহাত ও ব্যাখ্যা
- 2.1 ইসলামে ফিতনা ফ্যাসাদ এবং শিরকের অপরাধ
- 2.2 আক্রমণাত্মক জিহাদ বা জিহাদ আত-ত্বলাব
- 2.3 মদিনা সনদ ও অমুসলিমদের সাথে সহাবস্থান
- 2.4 তাফসীরে মাযহারীঃ শিরক নিশ্চিহ্ন না হওয়া পর্যন্ত কিতাল
- 2.5 যাকারিয়াঃ শিরক চর্চাকারীর রক্ত হালাল
- 2.6 হাদিসঃ কিতাল করতে নবী আদেশপ্রাপ্ত হয়েছেন
- 2.7 নবীর বক্তব্যঃ তরবারির ছায়াতলে জান্নাত
- 2.8 সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিজয়ঃ মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ
- 2.9 ইহুদি উচ্ছেদ ও ধর্মীয় ভূমিদখলঃ আধিপত্যবাদের নগ্ন রূপ
- 2.10 সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও দাসত্বের বৈধতাঃ কিসরা অভিযানের দলিল
- 3 আক্রমণাত্মক জিহাদ (জিহাদ আত-ত্বলাব): দাওয়াত, জিযিয়া ও আক্রমণ
- 3.1 আল হিদায়াঃ কিয়ামত পর্যন্ত জিহাদ চলবে
- 3.2 ফাতাওয়ায়ে আলমগীরীঃ জিহাদ ও লড়াইয়ের পদ্ধতি
- 3.3 অমুসলিমদের আইনি শ্রেণীবিভাগ (ফিকহী মানদণ্ড)
- 3.4 লজ্জিত মুসলিমদের শুগারকোটেড ইসলাম
- 3.5 আকীদাঃ ধর্মগ্রহনে বাধ্য করা এবং কিতাল
- 3.6 জিহাদের প্রকারভেদঃ ইসলামে জিহাদের হুকুম
- 3.7 আক্রমণাত্মক জিহাদের ইসলামিক ব্যাখ্যা
- 3.8 ‘দ্বীনের মধ্যে জবরদস্তি নেই’ বা যার যার দ্বীন তার তার?
- 3.9 ইমাম নববীঃ শরহে মুসলিমে আগ বাড়িয়ে আক্রমণের বিধান
- 4 আধুনিক যুগের সর্বোচ্চ ফতোয়াঃ আক্রমণাত্মক জিহাদ
- 5 রাতের আঁধারে অতর্কিত হামলাঃ বেসামরিক নারী-শিশুরা যখন গনিমতের মাল
- 6 গামিদির ‘ইতমাম-ই-হুজ্জাহ’ তত্ত্ব, প্রগতিশীল ব্যাখ্যা এবং কিতালের প্রশ্ন
- 7 উপসংহারঃ আধুনিক মানবাধিকার বনাম জিহাদের চিরন্তন বিধান
ভূমিকাঃ বিশ্বব্যাপী ইসলামী আধিপত্যই জিহাদের লক্ষ্য
ইসলামের রাজনৈতিক ও সামরিক দর্শনে ‘জিহাদ’ এবং ‘কিতাল’ (সশস্ত্র যুদ্ধ) কেবল কোনো সাময়িক প্রতিরক্ষা কৌশল নয়, বরং এটি একটি সুদূরপ্রসারী ও বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনের রক্তক্ষয়ী স্থায়ী হাতিয়ার। এই দর্শনের মূলে রয়েছে পৃথিবীর বুক থেকে যাবতীয় ‘শিরক’ বা অংশীবাদিতা নির্মূল করে একক আল্লাহর সার্বভৌমত্ব বা ‘হুকুমত’ কায়েম করা। শাস্ত্রীয় ইসলাম অনুযায়ী, সমগ্র বিশ্ব মূলত দুই ভাগে বিভক্ত— ‘দারুল ইসলাম’ বা ইসলামের ভূমি এবং ‘দারুল হারব’ বা যুদ্ধের ভূমি। ইসলামের এই ধর্মতাত্ত্বিক সাম্রাজ্যবাদ অনুযায়ী, এটি কেবল ভূখণ্ড দখল নয়, বরং পৃথিবীর বিদ্যমান সকল সার্বভৌমত্বকে নতিস্বীকার করিয়ে একটি একক বিশ্ব-আইনি কাঠামো (Universal Legal Framework) প্রতিষ্ঠার উচ্চাভিলাষ। অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে আল্লাহর দ্বীন বিজয়ী না হবে, আল্লাহর হুকুমত কায়েম না হবে এবং প্রতিটি জনপদ থেকে অমুসলিমদের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্তৃত্ব বিলুপ্ত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিনদের ওপর এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াকে একটি পবিত্র ও অপরিহার্য ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে।
এই জিহাদের লক্ষ্য কেবল মানচিত্র দখল নয়, বরং মানবমস্তিস্ক থেকে অন্য সকল ধর্ম বা ‘কুফর’ ও ‘শিরক’ মুছে ফেলা। যখন কোনো জনপদে মুসলিম বাহিনী আক্রমণ চালায়, তখন সেখানে অমুসলিমদের সামনে তিনটি সুনির্দিষ্ট পথ খোলা রাখা হয়: প্রথমত, ইসলাম গ্রহণ করা; দ্বিতীয়ত, বশ্যতা স্বীকার করে চরম অবমাননাকর ও বৈষম্যমূলক ‘জিযিয়া‘ কর প্রদানের মাধ্যমে ‘জিম্মী’ হিসেবে বেঁচে থাকা; এবং তৃতীয়ত, এই দুইটিতে সম্মত না হলে যুদ্ধের মুখোমুখি হওয়া। এই যুদ্ধ কেবল সামরিক বিজয় নয়, বরং এটি বিজয়ীদের জন্য এক বিশাল অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত লাভের পথও উন্মুক্ত করে দেয়। যুদ্ধের পর বিজিত অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হয় ‘গনীমত’ বা যুদ্ধের লুটের মাল হিসেবে। সেখানে পরাজিত পুরুষের রক্ত যেমন হালাল গণ্য করা হয়, জমিনে তাদের প্রচুর রক্ত প্রবাহিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়, তেমনি তাদের নারী ও শিশুদের ‘দাস-দাসী’ হিসেবে গ্রহণ করা, ভোগ করা কিংবা বাজারে বিক্রি করে দেওয়াকেও ধর্মীয়ভাবে বৈধতা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান বিশ্বে ইসলাম প্রচারকগণ ইসলামের এই ‘আক্রমণাত্মক জিহাদ’ বা ‘জিহাদ আত-ত্বলাব’-এর ধারণাকে প্রায়শই আত্মরক্ষামূলক বলে প্রচার করলেও, ধ্রুপদী তাফসীরসমূহ, হাদিসগ্রন্থ এবং ফিকাহ শাস্ত্রের গ্রন্থগুলো ভিন্ন এক নিষ্ঠুর বাস্তবতার সাক্ষ্য দেয়। যেখানে শিরককে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে পৃথিবীর ‘সবচেয়ে বড় বিশৃঙ্খলা’ বা ‘ফিতনা’ হিসেবে, আর সেই বিশৃঙ্খলা বা ফিতনা ফ্যাসাদ দমনের নামে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে। এই প্রবন্ধে আমরা প্রামাণ্য তথ্যের ভিত্তিতে দেখাবো কীভাবে ইসলামের এই জিহাদ ও কিতালের বিধান একইসাথে একটি রাজনৈতিক আধিপত্যবাদ এবং অমানবিক দাসপ্রথার জন্মদাতা। মুহাম্মদ এবং খিলাফত আমলে পরিচালিত আক্রমণাত্মক যুদ্ধগুলো আমাদের সেই নির্মম সত্যই জানায়। এই আলোচনাটি কেবল তাত্ত্বিক সমালোচনা নয়, বরং এটি ইসলামের সেই কঠোর শাস্ত্রীয় কাঠামোর নির্মোহ ব্যবচ্ছেদ, যা আধুনিক মানবাধিকার ও মানবিক মূল্যবোধের সাথে সরাসরি সংঘাতপূর্ণ।
শিরক ও ফিতনাঃ যুদ্ধের ধর্মতাত্ত্বিক অজুহাত ও ব্যাখ্যা
ইসলামি আক্রমণাত্মক জিহাদের এই কেয়ামত পর্যন্ত অন্তহীন ধারাবাহিকতাকে বৈধতা দেওয়ার জন্য কোরআনের একটি বিশেষ শব্দকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা হলো— ‘ফিতনা-ফ্যাসাদ’। সাধারণ অর্থে ফিতনা-ফ্যাসাদ বলতে বিশৃঙ্খলা বা গোলযোগ বোঝানো হলেও, জিহাদের আয়াতগুলোতে এর অর্থ অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং ভয়াবহ। ইসলামের ধ্রুপদী ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পৃথিবীতে আল্লাহর একচ্ছত্র আধিপত্যের পথে সবচেয়ে বড় বাধা বা বিশৃঙ্খলা হলো ‘শিরক’ বা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে অংশীদার করা। পৃথিবীতে অমুসলিম কাফেরদের অস্তিত্ব বা ভিন্ন কোনো ধর্মের উপাসনাও ইসলামের দৃষ্টিতে একটি বিশৃঙ্খলা বা মহাতঙ্ক বা ফিতনা, যা যুদ্ধের মাধ্যমে নির্মূল করা মুমিনদের জন্য আবশ্যিক কর্তব্য। ধ্রুপদী ফিকহ অনুযায়ী, অমুসলিমদের অস্তিত্ব কেবল ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয় নয়, বরং তা আল্লাহর একক সার্বভৌমত্বের (তাওহীদ আল-হাকিমিয়াহ) বিপরীতে একটি প্রকাশ্য বিদ্রোহ বা ‘ফিতনা’, যা দমনের জন্য যুদ্ধ পরিচালনা করাকে শাস্তির পরিবর্তে ‘শুদ্ধিকরণ’ হিসেবে দেখা হয়।
ইসলামে ফিতনা ফ্যাসাদ এবং শিরকের অপরাধ
আসুন প্রখ্যাত সালাফি আলেম শায়েখ মতিউর রহমান মাদানির একটি বক্তব্য শুনি, যা থেকে খুব পরিষ্কার বোঝা যাবে যে, ফিতনা ফ্যাসাদ কেন আল্লাহর দৃষ্টিতে সবচাইতে মারাত্মক অপরাধ এবং শিরক কীভাবে ফিতনা ফ্যাসাদের অন্তর্ভূক্ত একটি অপরাধ হিসেবে ইসলামে গণ্য,
জিহাদের এই চরমপন্থী ধারণাটি বোঝার জন্য সূরা আনফালের ৩৯ নম্বর আয়াতটির তাফসীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হানাফী মাযহাবের প্রখ্যাত পণ্ডিত আল্লামা কাজী ছানাউল্লাহ পানিপথী তার ‘তাফসীরে মাযহারী’তে এই আয়াতের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা থেকে পরিষ্কার হয় যে ইসলামের দৃষ্টিতে শান্তির একমাত্র পথ হলো হয় ইসলাম গ্রহণ, না হয় চরম লাঞ্ছনার সাথে আনুগত্য স্বীকার। “এবং তোমরা তাহাদিগের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করিতে থাকিবে যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয় এবং আল্লাহের দ্বীন সামগ্রীকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়…” [সূরা আনফাল: ৩৯]
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় বিশৃঙ্খলা হচ্ছে শিরক। আলোচ্য বাক্যে ফিতনা অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ—মুশরিকেরা যতক্ষণ পর্যন্ত শিরক পরিত্যাগ না করবে, অথবা মুসলমানদের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব মেনে নিয়ে জিযিয়া দিতে সম্মত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। এখানে ‘দ্বীন প্রতিষ্ঠা’র অর্থ হলো শক্তি, বিজয় এবং একচ্ছত্র শাসন প্রতিষ্ঠা। পরের পরিচ্ছেদে সেই আলোচনাগুলো করা হবে।
আক্রমণাত্মক জিহাদ বা জিহাদ আত-ত্বলাব
আসুন সারা পৃথিবীতে বর্তমান সময়ে খুবই জনপ্রিয় একজন সালাফি আলেম আসিম বিন লুকমান আল-হাকিমের বক্তব্য শুনে নিই, যেখানে উনি জিহাদ আত-ত্বলাব বা আগ বাড়িয়ে আক্রমণ করার জিহাদকে কীভাবে ব্যাখ্যা করছেন,
মদিনা সনদ ও অমুসলিমদের সাথে সহাবস্থান
এবারে আসুন বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম আহমাদুল্লাহর একটি ভিডিও দেখে নিই। এই ভিডিওর এই বক্তব্যে অমুসলিমদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ধারণাটিকে একটি সাময়িক এবং কৌশলগত ব্যবস্থা হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে, যা প্রকারান্তরে তাদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে উপস্থাপন করে। বক্তা আহমাদুল্লাহ মদিনা সনদকে একটি “চুক্তি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা কেবল পরিস্থিতির চাপে ইহুদিদের সাথে করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সূরা তাওবার মাধ্যমে তা “বাতিল” বা “রহিত” হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি এই বার্তাই দিচ্ছেন যে, অমুসলিমদের সাথে সমানাধিকারভিত্তিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ইসলামের চিরস্থায়ী আদর্শ নয়। বিশেষ করে, অমুসলিমদের ওপর অবমাননাকর ‘জিজিয়া’ বা কর আরোপ করে তাদের ‘নাগরিক’ নয় বরং নির্দিষ্ট ‘ফি’ দিয়ে বসবাসের শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা আধুনিক রাষ্ট্রের সমান নাগরিক অধিকারের ধারণার পরিপন্থী। বক্তা অমুসলিমদের সাথে “কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে থাকা” বা “জগাখিচুড়ি হয়ে থাকা” বিষয়টিকে একটি “ধোঁকা” হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং ইহুদিদের সম্পর্কে অত্যন্ত নেতিবাচক ও বর্ণবাদী মন্তব্য (যেমন: তারা চতুর বা বাহির থেকে এসে খুটি গেড়েছে) করে তাদের প্রতি এক ধরণের সামাজিক ঘৃণা ও অবিশ্বাস উসকে দিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে, অমুসলিমদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে একটি “সুবিধাবাদী” এবং “রহিত” ব্যবস্থা হিসেবে দেখিয়ে তিনি তাদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদাকে খাটো করেছেন।
তাফসীরে মাযহারীঃ শিরক নিশ্চিহ্ন না হওয়া পর্যন্ত কিতাল
এই শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যার সপক্ষে আমরা আল্লামা পানিপথীর মূল গ্রন্থের দলিলগুলো নিচে দিচ্ছি, যা প্রমাণ করে যে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যাখ্যা বা বোঝার ভুল নয়, বরং ইসলামের মূলধারার আকিদা [3] –
এবং তোমরা তাহাদিগের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করিতে থাকিবে যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয় এবং আল্লাহের দ্বীন সামগ্রীকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং যদি তাহারা বিরত হয় তবে তাহারা যাহা করে আল্লাহ্ তাহার সম্যক দ্রষ্টা।
যদি তাহারা মুখ ফিরায় তবে জানিয়া রাখ যে আল্লাহ্ই তোমাদিগের অভিভাবক এবং কত উত্তম অভিভাবক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী ।
( সূরা আনফালঃ ৩৯, ৪০ )
প্রথমে বলা হয়েছে এবং তোমরা তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে থাকবে যতক্ষণ না ফেতনা দূরীভূত হয় এবং আল্লাহর দ্বীন সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ফেতনা অর্থ বিশৃংখলা। আর পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় বিশৃংখলা হচ্ছে শিরিক ( অংশীবাদিতা )। আলোচ্য বাক্যে ফেতনা অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ কথার অর্থ-মুশরিকেরা যতক্ষণ পর্যন্ত শিরিক পরিত্যাগ না করবে, অথবা মুসলমানদের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব মেনে নিয়ে জিযিয়া দিতে সম্মত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সংগ্রাম করতে হবে তাদের বিরুদ্ধে। আলোচ্য নির্দেশনাটিতে এ রকম বলা হয়নি যে, সকল অংশীবাদী ও অবিশ্বাসীকে যুদ্ধের মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করতে হবে। এ রকম মনে করা হলে আলোচ্য আয়াতটি চলে যাবে জিযিয়া দিতে সম্মত হয় তবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কোরো না। সুতরাং – এই আয়াতের নির্দেশনাটি দাঁড়াচ্ছে এ রকম অবিশ্বাসীরা ইসলাম গ্রহণ না করা পর্যন্ত অথবা জিযিয়া প্রদানের মাধ্যমে পূর্ণ অনুগত না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। এখানে দ্বীন প্রতিষ্ঠার অর্থ হবে শক্তি , বিজয় এবং একচ্ছত্র শাসন প্রতিষ্ঠা। ‘ দ্বীন ‘ শব্দের এ রকম অর্থ উল্লেখ করা হয়েছে কামুস গ্রন্থে।
হজরত মেকদাদ বিন আসওয়াদ বর্ণনা করেছেন, রসুল স . বলেছেন, এক সময় ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে পৃথিবীর সকল গৃহে। অবিশ্বাস ও অংশীবাদিতা হয়ে যাবে ইসলামের সম্পূর্ণ অধীন। সকল শ্রেষ্ঠত্ব ও মাহাত্ম্য হবে কেবল আল্লাহর।
হজরত ইবনে ওমর কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে, রসুল স . বলেছেন, আমাকে অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে ওই সময় পর্যন্ত সংগ্রাম করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে-যতক্ষণ না তারা বলে, ‘ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর রসুলুল্লাহ’ প্রতিষ্ঠা করে নামাজ এবং প্রদান করে জাকাত। যে এ রকম করবে আমার পক্ষ থেকে তার জীবন ও সম্পদ হয়ে যাবে সুরক্ষিত। আল্লাহ্ই তাদের অভ্যন্তরীণ হিসাব গ্রহণ করবেন ( তিনি বিচার করবেন , তারা তাদের জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্যে , না অন্তরের তাগিদে ইসলাম গ্রহণ করেছে )। বোখারী ও মুসলিম। হজরত আবু হোরায়রা থেকে ছয়জন সাহাবী হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আল্লামা সুয়ুতী বলেছেন , হাদিসটি সুবিদিত ( মুতাওয়াতির )।




যাকারিয়াঃ শিরক চর্চাকারীর রক্ত হালাল
এই ধর্মতাত্ত্বিক অবস্থান থেকেই শিরক বা কুফরিতে লিপ্ত ব্যক্তিদের রক্তকে ‘হালাল’ বা বৈধ মনে করা হয়। বর্তমান যুগের আলেমদের ব্যাখ্যাতেও এই একই সুর প্রতিধ্বনিত হয়। ড. আবু বকর মুহাম্মদ যাকারিয়ার সম্পাদনায় প্রকাশিত একটি গ্রন্থে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিরক কেবল একটি পাপ নয়, বরং এটি একটি ‘হত্যাযোগ্য অপরাধ’। অর্থাৎ, যারা ইসলামের নির্ধারিত তৌহিদের বাইরে অন্য কোনো বিশ্বাস লালন করে, তাদের সাথে কোন প্রকার চুক্তি না থাকলে স্বাভাবিক অবস্থাতে তাদের হত্যা করা হালাল। চুক্তি না থাকা এবং কুফরির কারণে তারা মূলত তাদের জীবনের নিরাপত্তা হারায়। আসুন সরাসরি বই থেকে দেখি, [4] –

হাদিসঃ কিতাল করতে নবী আদেশপ্রাপ্ত হয়েছেন
এই তথাকথিত ‘ফিতনা’ দমনের নামে চালানো আক্রমণাত্মক জিহাদ কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় নয়। এটি সরাসরি প্রয়োগ করা হয় সেইসব অমুসলিম বা ‘হারবী’ কাফেরদের ওপর, যাদের সাথে মুসলিমদের কোনো শান্তি চুক্তি নেই। এই বিধানের মূল ভিত্তি হলো মুহাম্মদের-এর সেই বিখ্যাত বাণী, যেখানে তিনি বলেছেন— “আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা কালিমা পাঠ করে” [5]। সুতরাং, ইসলামের দৃষ্টিতে পৃথিবী থেকে শিরক নিশ্চিহ্ন না হওয়া পর্যন্ত এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম বা কিতাল চালিয়ে যাওয়া একটি চিরন্তন স্বর্গীয় আদেশ। [6] [7] [8] [9] [10] –
সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৩৮/ ঈমান
পরিচ্ছেদঃ ১. যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ না বলবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কিতাল করতে আমি আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি
২৬০৭। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মৃত্যুর পর আবূ বকর (রাযিঃ) যখন খলীফা নির্বাচিত হন, তখন আরবের কিছু সংখ্যক লোক কাফির হয়ে যায়। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) আবূ বাকর (রাযিঃ)-কে বললেন, আপনি এদের বিরুদ্ধে কিভাবে অস্ত্ৰধারণ করবেন, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ যে পর্যন্ত না “আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই” এই কথার স্বীকৃতি দিবে সেই পর্যন্ত আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি। আর যে ব্যক্তি বললো, “আল্লাহ ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই” সে আমার থেকে তার মাল ও রক্ত (জীবন) নিরাপদ করে নিল। তবে ইসলামের অধিকার সম্পর্কে ভিন্ন কথা। আর তাদের প্রকৃত হিসাব-নিকাশ রয়েছে আল্লাহ তা’আলার দায়িত্বে।
আবূ বকর (রাযিঃ) বললেনঃ আল্লাহর শপথ নামায ও যাকাতের মধ্যে যে ব্যক্তি পার্থক্য করে আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবোই। কেননা যাকাত সম্পদের হাক্ক। কেউ উটের একটি রশি দিতেও যদি অস্বীকার করে, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দিত, আল্লাহর কসম! আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবোই। তারপর উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি দেখতে পেলাম আল্লাহ যেন যুদ্ধের জন্য আবূ বাকরের অন্তর উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। অতঃপর আমি বুঝতে পারলাম যে, তার সিদ্ধান্তই যথার্থ।
সহীহঃ সহীহাহ (৪০৭), সহীহ আবূ দাউদ (১৩৯১-১৩৯৩), বুখারী ও মুসলিম।
আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। শু’আইব ইবনু আবী হামযা (রহঃ) যুহরী হতে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। এই হাদীস মামার-যুহরী হতে, তিনি আনাস (রাযিঃ) হতে, তিনি আবূ বাকর (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে ইমরান আল-কাত্তান বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনাটি ভুল। ‘ইমরানের ব্যাপারে মা’মার হতে বর্ণিত বর্ণনাতে বিরোধিতা করা হয়েছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৩৮/ ঈমান
পরিচ্ছেদঃ ২. আমি লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলবে এবং নামায আদায় করবে
২৬০৮। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহ তা’আলার বান্দা ও তার রাসূল এবং আমাদের কিবলামুখী হয়ে নামায আদায় করবে, আমাদের যবেহকৃত পশুর গোশত খাবে এবং আমাদের মতো নামায আদায় করবে। তারা এগুলো করলে তাদের জান ও মালে হস্তক্ষেপ করা আমাদের জন্য হারাম হয়ে যাবে। কিন্তু ইসলামের অধিকারের বিষয়টি ভিন্ন। মুসলিমদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা তারাও পাবে এবং মুসলিমদের উপর অর্পিত দায়-দায়িত্ব তাদের উপরও বর্তাবে।
সহীহঃ সহীহাহ (৩০৩) ও (১/১৫২), সহীহ আবূ দাউদ (২৩৭৪), বুখারী অনুরূপ।
মুআয ইবনু জাবাল ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব। ইয়াহইয়া (রাহঃ) হুমাইদ হতে, তিনি আনাস (রাযিঃ)-এর সূত্রে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
সূনান নাসাঈ (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩৮/ হত্যা অবৈধ হওয়া
পরিচ্ছদঃ ১. মুসলিমকে হত্যা করার অবৈধতা
৩৯৭৯. ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ না বলা পর্যন্ত আমি লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি। যদি তারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ বলে, তবে আমার পক্ষ হতে তাদের জানমাল রক্ষা করে নেবে কিন্তু এর হক ব্যতীত। আর তাদের হিসাব আল্লাহর যিম্মায়।
তাহক্বীকঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ১। ঈমান (বিশ্বাস)
পরিচ্ছদঃ ৮.লোকেদের বিরুদ্ধে জিহাদের নির্দেশ যতক্ষণ না তারা স্বীকার করে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং সালাত কায়িম করে, যাকাত দেয়, নাবী যে শারীআতের বিধান এনেছেন তার প্রতি ঈমান আনে, যে ব্যক্তি এসব করবে সে তার জান মালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শারীআত সম্মত কারণ ব্যতীত, তার অন্তরের খবর আল্লাহর কাছে; যে ব্যক্তি যাকাত দিতে ও ইসলামের অন্যান্য বিধান পালন করতে অস্বীকার করে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার এবং ইসলামের বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ইমামের গুরুত্বারোপ করার নির্দেশ।
৩৫-(৩৫/…) আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ….. জাবির (রাযিঃ), আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) ও আবূ সালিহ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি। বাকী অংশ আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে ইবনুল মুসাইয়্যাব-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
আবূ বাকর ইবনু শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ….. জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই” এ কথার স্বীকৃতি না দেয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি। “আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই” এ কথা স্বীকার করলে তারা আমার থেকে তাদের জান মালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শারী’আত সম্মত কারণ ছাড়া। তাদের হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে। তারপর তিনি আয়াতটি তিলাওয়াত করেনঃ “আপনি তো একজন উপদেশদাতা। আপনি এদের উপর কর্মনিয়ন্ত্রক নন”- (সূরাহ আল গা-শিয়াহ্ ৮৮ঃ ২১-২২)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৫-৩৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
সুনানে ইবনে মাজাহ
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
অধ্যায়ঃ ৩০/ কলহ-বিপর্যয়
পরিচ্ছদঃ ৩০/১. যে ব্যক্তি ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ’’ বলে, তার উপর হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকা
৩/৩৯২৯। আওস (রাঃ) বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তিনি আমাদেরকে (অতীতের) ঘটনাবলী উল্লেখপূর্বক উপদেশ দিচ্ছিলেন। ইত্যবসরে এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে তাঁর সাথে একান্তে কিছু বললো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তাকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করো। লোকটি ফিরে গেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, ‘‘আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই’’? সে বললো, হাঁ। তিনি বলেনঃ যাও, তোমরা তাকে তার পথে ছেড়ে দাও। কারণ লোকেরা ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’’ না বলা পর্যন্ত আমাকে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা তাই করলে তাদের জান-মালে হস্তক্ষেপ আমার জন্য হারাম হয়ে গেলো।
নাসায়ী ৩৯৭৯, ৩৯৮২, ৩৯৮৩, আহমাদ ১৫৭২৭, দারেমী ২৪৪৬। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
নবীর বক্তব্যঃ তরবারির ছায়াতলে জান্নাত
কোন রাখঢাক না রেখে নবী মুহাম্মদ খুব সরাসরিই বলেছেন যে, জান্নাত হচ্ছে তরবারীর ছায়াতলে। এর মাধ্যমে যে আসলে সর্বাত্মক জিহাদকে উৎসাহিত করা হয়েছে, সেটি খুব সহজেই বোধগম্য হয় [11] [12] –
সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার
পরিচ্ছদঃ ৫৬/২২. জান্নাত হল তলোয়ারের ঝলকানির তলে।
মুগীরাহ ইবনু শু‘বা (রাঃ) বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের জানিয়েছেন, আমাদের ও প্রতিপালকের পয়গাম। আমাদের মধ্যে যে শহীদ হলো সে জান্নাতে পৌঁছে গেল।
‘উমার (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেন, আমাদের শহীদগণ জান্নাতবাসী আর তাদের নিহতরা কি জাহান্নামবাসী নয়? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, হ্যাঁ।
২৮১৮. ‘উমার ইবনু ‘উবায়দুল্লাহ্ (রহ.)-এর আযাদকৃত গোলাম ও তার কাতিব সালিম আবূন নাযর (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) তাঁকে লিখেছিলেন যে,আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমরা জেনে রাখ, তরবারির ছায়া-তলেই জান্নাত।
উয়াইসী (রহ.) ইবনু আবূ যিনাদ (রহ.)-এর মাধ্যমে মূসা ইবনু ‘উকবাহ (রহ.) থেকে হাদীস বর্ণনার ব্যাপারে মু‘আবিয়াহ ইবনু ‘আমর (রহ.) আবূ ইসহাক (রহ.)-এর মাধ্যমে মূসা ইবনু ‘উকবাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের অনুসরণ করেছেন। (২৮৩৩, ২৯৬৬, ৩০২৪, ৭২৩৭) (মুসলিম ৩২/৬ হাঃ ১৭৪২, আহমাদ ১৯১৩৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬২০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
হাদীস সম্ভার
২০/ (আল্লাহর পথে) জিহাদ
পরিচ্ছেদঃ জিহাদ ওয়াজেব এবং তাতে সকাল-সন্ধ্যার মাহাত্ম্য
(১৯০০) ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি (কিয়ামতের পূর্বে) তরবারি-সহ প্রেরিত হয়েছি, যাতে শরীকবিহীনভাবে আল্লাহর ইবাদত হয়। আমার জীবিকা রাখা হয়েছে আমার বর্শার ছায়াতলে। অপমান ও লাঞ্ছনা রাখা হয়েছে আমার আদেশের বিরোধীদের জন্য। আর যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই দলভুক্ত।
(আহমাদ ৫১১৪-৫১১৫, ৫৬৬৭, শুআবুল ঈমান ৯৮, সহীহুল জামে’ ২৮৩১)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিজয়ঃ মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ
ইসলামের সামরিক দর্শনে বিজয় কেবল শারীরিক যুদ্ধের ময়দানেই নির্ধারিত হয় না, বরং শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া এই কৌশলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সহীহ বুখারীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাদিসে মুহাম্মদ সরাসরি উল্লেখ করেছেন যে, শত্রুর মনে ভীতি বা সন্ত্রাস সঞ্চারের মাধ্যমেই তাঁকে সাহায্য করা হয়েছে। এই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, শত্রুপক্ষ এক মাসের পথের দূরত্বে অবস্থান করলেও তাদের অন্তরে প্রচণ্ড ত্রাস বা ভীতি প্রবিষ্ট করানো হতো। যেই নবীকে রহমাতাল্লিল আলামিন বলা হয়, অর্থাৎ সমস্ত জগতের জন্য রহমত স্বরূপ, তাকে কেন একমাসের দূরত্বে থাকা মানুষ ভয় পাবে? হাদিসটির ইংরেজি অনুবাদে ‘I have been made victorious with terror’ বাক্যটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত সরাসরি ও দ্বিধাহীনভাবে সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিজয় অর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করে । লক্ষণীয় বিষয় হলো, বাংলা অনুবাদগুলোতে ‘Terror’ শব্দটির পরিবর্তে প্রায়ই ‘ভয়-ভীতি’ বা ‘আতঙ্ক’ জাতীয় শব্দ ব্যবহার করে এর তীব্রতাকে কিছুটা নমনীয় করার এক ধরণের ভাষাগত ছলচাতুরির আশ্রয় নেওয়া হয় । ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্য হলো অমুসলিমদের এতটাই কোণঠাসা ও মানসিকভাবে পর্যুদস্ত করা, যাতে তারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে কিংবা লাঞ্ছনা থেকে বাঁচতে ইসলাম গ্রহণ করতে বা জিজিয়া প্রদান করতে বাধ্য হয় । আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধের নিরিখে বিচার করলে, কোনো আদর্শ বা ধর্ম প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ভীতি ও সন্ত্রাসকে ব্যবহার করা একটি চরম অমানবিক যুদ্ধকৌশল এবং এটি মানুষের স্বাভাবিক চিন্তার স্বাধীনতাকে হরণ করার নামান্তর । ধ্রুপদী ইসলামি আলেমগণ অবশ্য একে কোনো লজ্জার বিষয় মনে করেন না, বরং তাঁরা একে ইসলামের এক অনন্য শ্রেষ্ঠত্ব ও শক্তি হিসেবেই দেখেন । প্রকৃতপক্ষে, তরবারির পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক এই ভীতি ছিল ইসলামি সাম্রাজ্য বিস্তারের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ, যা কেবল যুদ্ধের ময়দানেই নয়, বরং শত্রুর মস্তিস্কেও ইসলামি আধিপত্যের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
আসুন দেখি নবী মুহাম্মদ কোথায় এই কথাটি বলেছেন, “নবীকে ভীতি বা সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে বিজয়ী করা হয়েছে”। এই হাদিসটির বঙ্গানুবাদ করতে গিয়ে বিভিন্ন বাঙলা অনুবাদে ছলচাতুরি লক্ষ্যনীয়। তাই আসুন এই হাদিসটি আগে বাঙলায় এবং পড়ে ইংরেজিতে পড়ে দেখি [13] –
সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার
পরিচ্ছেদঃ ৫৬/১২২. রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তিঃএক মাসের পথের দূরত্বে অবস্থিত শত্রুর মনেও আমার সম্পর্কে ভয়-ভীতি জাগরণের দ্বারা আমাকে সাহায্য করা হয়েছে।
وَقَوْلِهِ جَلَّ وَعَزَّ )سَنُلْقِيْ فِيْ قُلُوْبِ الَّذِيْنَ كَفَرُوا الرُّعْبَ بِمَآ أَشْرَكُوْا بِاللهِ ( قَالَهُ جَابِرٌ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
মহান আল্লাহর তা‘আলার বাণীঃ আমি কাফিরদের অন্তরে ভীতি প্রবিষ্ট করব। যেহেতু তারা আল্লাহর শরীক করেছে। (আলে ইমরান ১৫১)
(এ প্রসঙ্গে) জাবির (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস উদ্ধৃত করেছেন
২৯৭৭. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অল্প শব্দে ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য বলার শক্তি সহ আমাকে পাঠানো হয়েছে এবংশত্রুর মনে ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে। একবার আমি নিদ্রায় ছিলাম, তখন পৃথিবীর ধনভান্ডার সমূহের চাবি আমার হাতে দেয়া হয়েছে। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো চলে গেছেন আর তোমরা ওগুলো বাহির করছ। (৬৯৯৮, ৭০১৩, ৭২৭৩) (মুসলিম ৫/৫ হাঃ ৫২৩, আহমাদ ৭৭৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭৬৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
এবারে আসুন এই হাদিসটির ইংরেজি অনুবাদটি দেখি। নবী এখানে বলেছেন, I have been made victorious with terror। এর সঠিক বাঙলা অনুবাদ হয় আমাকে বিজয়ী করা হয়েছে সন্ত্রাসের দ্বারা। কিন্তু উপরে দেখুন, এর অনুবাদ কী করা হয়েছে! উল্লেখ্য, মূল আরবি শব্দ ‘রুব’ (R’ub) এর সরাসরি অর্থ হলো প্রচণ্ড ভীতি বা সন্ত্রাস। ইংরেজি অনুবাদে ‘Victorious with Terror’ লেখা হলেও বাংলা অনুবাদে ‘ভীতি সঞ্চার’ লিখে একে নমনীয় করার চেষ্টা করা হয়েছে। এটি মূলত আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক লজ্জিতবোধ (Apologetic mindset) থেকে উৎসারিত একটি আক্ষরিক ও ভাষাগত বিকৃতি, যা ধ্রুপদী ইসলামের কঠোর রণনীতিকে আড়াল করতে চায়।
Narrated Abu Huraira:
Allah’s Messenger (ﷺ) said, “I have been sent with the shortest expressions bearing the widest meanings, and I have been made victorious with terror (cast in the hearts of the enemy), and while I was sleeping, the keys of the treasures of the world were brought to me and put in my hand.” Abu Huraira added: Allah’s Messenger (ﷺ) has left the world and now you, people, are bringing out those treasures (i.e. the Prophet did not benefit by them).
ইহুদি উচ্ছেদ ও ধর্মীয় ভূমিদখলঃ আধিপত্যবাদের নগ্ন রূপ
ইহুদি উচ্ছেদ ও ধর্মীয় ভূ-রাজনীতি মূলত ইসলামের সম্প্রসারণবাদী আধিপত্যের এক চরম নগ্ন রূপ হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে আছে । ইসলামের নবি যখন কোনো ইহুদি জনপদে প্রবেশ করতেন, তখন সেখানে কেবল শান্তি বা আধ্যাত্মিক বিপ্লবের বাণী নিয়ে যেতেন না, বরং তাঁর হাতে থাকতো বশ্যতা স্বীকার বা দেশান্তরের চরম শর্ত । বুখারী সহ সুনান আবূ দাউদের একটি সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, মুহাম্মদ ইহুদিদের এলাকায় গিয়ে সরাসরি তাদের ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে নিরাপত্তার সুযোগ দেন, অন্যথায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি তাদের সেই ভূমি থেকে বিতাড়িত করতে চান । এখানে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, ভূখণ্ডের মালিকানা কোনো মানবিক চুক্তি বা ঐতিহাসিক বসতির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়নি, বরং তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে ‘এই ভূখণ্ডের মালিকানা কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের’ । একটি সুপ্রাচীন জনগোষ্ঠীকে তাদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি থেকে কেবল ধর্মীয় অবিশ্বাসের কারণে উচ্ছেদ করা বর্তমান আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবিক মূল্যবোধের নিরিখে এক চরম বিপর্যয় । আধুনিক মানবাধিকারের সংজ্ঞায় কোনো জনগোষ্ঠীর ওপর এ জাতীয় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়াকে একাধারে জাতিগত নিধন ও মানবিক অধিকারের ওপর চরম আগ্রাসন হিসেবে গণ্য করা হয়, যা কোনোভাবেই একটি ‘শান্তিবাদী’ বা ‘সহাবস্থানের’ দর্শনের পরিচায়ক হতে পারে না । এই নীতিটি প্রমাণ করে যে, তৎকালীন ধর্মতাত্ত্বিক ভূ-রাজনীতিতে কোনো জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বের অধিকার ছিল কেবল তাদের বিশ্বাসের সাপেক্ষে, যা মূলত যেকোনো আধুনিক বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থার জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ।
ধর্মীয় অ্যাপোলোজিস্টরা প্রায়শই ইহুদি গোত্রগুলোর এই গণ-উচ্ছেদকে বৈধতা দেওয়ার জন্য দাবি করেন যে, তারা নিশ্চয়ই কোনো বিশ্বাসঘাতকতা বা রাষ্ট্রীয় অন্যায়ের সাথে যুক্ত ছিল। তবে এই দাবিটিকে যদি তর্কের খাতিরে মেনেও নেওয়া হয়, তবুও ইসলামের এই রণকৌশলটি একটি আধুনিক ও সুষ্ঠু বিচারিক কাঠামোর সম্পূর্ণ পরিপন্থী হিসেবেই প্রতীয়মান হয়। সভ্য সমাজের রীতি অনুযায়ী, যদি কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি অপরাধ করে থাকে, তবে নির্দিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে কেবল প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে একটি সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাদের সাজা প্রদান করা উচিত । কিন্তু এখানে দেখা যায়, বিচারের পরিবর্তে একটি সম্পূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর ‘ইসলাম গ্রহণ অথবা উচ্ছেদ’-এর মতো ধর্মতাত্ত্বিক শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। অপরাধের সাজা হিসেবে ধর্ম গ্রহণে চাপ সৃষ্টি করা কিংবা ভিটেমাটি থেকে বিতাড়িত করার হুমকি দেওয়া কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া হতে পারে না; বরং এটি মূলত অপরাধের অজুহাতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার কৌশল মাত্র। যখন কোনো জনপদ থেকে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ সবাইকে উচ্ছেদ করা হয়, তখন তা আর ‘ব্যক্তিগত অপরাধের সাজা’ থাকে না, বরং তা ‘সম্মিলিত দণ্ড’ বা Collective Punishment-এ পরিণত হয়, যা আধুনিক মানবাধিকারের দৃষ্টিতে একটি ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধ । সুতরাং, অপরাধের দোহাই দিয়ে এ জাতীয় গণ-নিপীড়ন বা উচ্ছেদকে জাস্টিফাই করা মূলত ন্যায়বিচারের ধারণাকেই চরমভাবে কলঙ্কিত করে [14]-

সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
পাবলিশারঃ আল্লামা আলবানী একাডেমী
অধ্যায়ঃ ১৪/ কর, ফাই ও প্রশাসক
৩০০৩। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা মাসজিদে উপস্থিত ছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বেরিয়ে এসে বললেনঃ ইহুদীদের এলাকায় চলো। ‘আমরা তাঁর সাথে বের হয়ে সেখানে গিয়ে পৌঁছলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তাদেরকে ডেকে বললেনঃ হে ইহুদী সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম কবূল করো শান্তিতে থাকবে। তারা বললো, হে আবুল কাসিম! আপনি পৌঁছে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে আবার বললেনঃ তোমরা ইসলাম কবূল করো, নিরাপত্তা পাবে। তারা বললো, হে আবুল কাসিম! আপনি পৌঁছে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ এ দাওয়াত পৌঁছে দেয়াই আমার উদ্দেশ্য ছিলো। তৃতীয় বারও তিনি একই কথার পুনরাবৃত্তি করে বললেনঃ জেনে রাখো! এ ভুখন্ডের মালিকানা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের। আমি তোমাদের এ ভূখন্ড থেকে বিতাড়িত করতে চাই।সুতরাং তোমরা কোনো জিনিস বিক্রি করতে সক্ষম হলে বিক্রি করো। অন্যথায় জেনে রাখো! এ ভূখন্ডের মালিক আল্লাহ ও তাঁর রাসূল।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও দাসত্বের বৈধতাঃ কিসরা অভিযানের দলিল
সহীহ বুখারীর এই দীর্ঘ হাদিসটি বিশ্লেষণ করলে ইসলামের প্রাথমিক যুগের সমরকৌশল এবং আধিপত্যবাদী দর্শনের এক নির্মম বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠে । এখানে দেখা যায়, খলিফা উমর কেবল আত্মরক্ষার জন্য নয়, বরং ইসলামি শাসন বিস্তারের লক্ষ্যে বড় বড় শহরগুলোতে নিয়মিত সৈন্যদল প্রেরণ করতেন । পারস্য সম্রাট কিসরা এবং রোমান সম্রাট কায়সারের সাম্রাজ্যকে একটি পাখির সাথে তুলনা করে তার মাথা ও ডানা ভেঙে দেওয়ার যে রণকৌশল হুরমযান বর্ণনা করেছেন, তা স্পষ্টত একটি সুসংগঠিত সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের প্রমাণ । এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর লক্ষ্য কেবল আত্মরক্ষা ছিল না, বরং অন্য একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রকে সামরিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া এবং তাদের কেন্দ্রীয় শক্তিকে সমূলে উৎপাটন করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য ।
মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহর দেওয়া বক্তব্যটি এই যুদ্ধের ধর্মীয় ও বস্তুগত লক্ষ্যকে আরও স্পষ্টভাবে উন্মোচিত করে। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, আরবের লোকেরা এক সময় চরম দারিদ্র্য ও অনাহারে লিপ্ত ছিল, কিন্তু তাদের নবি তাদের আদেশ দিয়েছেন অমুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে যতক্ষণ না তারা এক আল্লাহর ইবাদত করে অথবা অবমাননাকর ‘জিযিয়া’ কর প্রদান করে। এটি প্রমাণ করে যে, এই কিতাল বা সশস্ত্র সংগ্রাম কেবল কোনো সাময়িক উত্তেজনার ফল ছিল না, বরং এটি ছিল একটি ঐশ্বরিক আদেশ হিসেবে গৃহীত স্থায়ী সামরিক নীতি, যার মূল লক্ষ্য ছিল পরমতকে দমন করে ইসলামি একাধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। উল্লেখ্য, এরকম উদাহরণ শুধু এই একটিই নয়, অনেকগুলো।
সবচেয়ে আঁতকে ওঠার মতো বিষয়টি হলো এই যুদ্ধের পরিণাম বা পুরস্কার হিসেবে যা ঘোষণা করা হয়েছে । মুগীরাহ স্পষ্ট করে বলেছেন যে, যুদ্ধে যারা নিহত হবে তারা জান্নাত লাভ করবে, আর যারা জীবিত থাকবে তারা পরাজিত শত্রুদের ‘গর্দানের মালিক’ হবে। এই ‘গর্দানের মালিক হওয়া’র অর্থ হলো পরাজিত অঞ্চলের মানুষকে সরাসরি দাসে পরিণত করা এবং তাদের জানমালের ওপর নিরঙ্কুশ ব্যক্তিগত মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা। আধুনিক মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন যেখানে মানুষের স্বাধীনতাকে অলঙ্ঘনীয় মনে করে, সেখানে ইসলামের এই ধ্রুপদী সমরদর্শন বিজিত জনগোষ্ঠীর মানুষকে ‘সম্পদ’ বা ‘গনিমতের মাল’ হিসেবে গণ্য করে তাদের মৌলিক মানবিক অধিকারকেই অস্বীকার করে। সুতরাং, এই হাদিসটি কেবল একটি যুদ্ধের ইতিহাস নয়, বরং এটি ইসলামি আধিপত্যবাদ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দাসপ্রথার এক অকাট্য দলিল। [15] [16]
সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৫৮/ জিযিয়াহ্ কর ও সন্ধি স্থাপন
পরিচ্ছেদঃ ৫৮/১. জিম্মীদের নিকট থেকে জিযইয়াহ গ্রহণ এবং হারবীদের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি।
৩১৫৯. জুবাইর ইবনু হাইয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন বড় বড় শহরের দিকে সৈন্য দল প্রেরণ করলেন। সে সময় হুরমযান ইসলাম গ্রহণ করে। ‘উমার (রাঃ) তাঁকে বললেন, আমি এসব যুদ্ধের ব্যাপারে তোমার পরামর্শ গ্রহণ করতে চাই। তিনি বললেন, ঠিক আছে। এ সকল দেশ এবং দেশে মুসলিমদের দুশমন যে সব লোক বাস করছে, তাদের দৃষ্টান্ত একটি পাখির মত, যার একটি মাথা, দু’টি ডানা ও দু’টি পা রয়েছে। যদি একটি ডানা ভেঙ্গে দেয়া হয়, তবে সে পাখিটি উভয় পা, একটি ডানা ও মাথার ভরে উঠে দাঁড়াবে। যদি অপর ডানা ভেঙ্গে দেয়া হয়, তবে সে দু’টি পা ও মাথার ভরে উঠে দাঁড়াবে। আর যদি মাথা ভেঙ্গে দেয়া হয়, তবে উভয় পা, উভয় ডানা ও মাথা সবই অকেজো হয়ে যাবে। কিসরা শত্রুদের মাথা, কায়সার হল একটি ডানা, আর পারস্য অপর একটি ডানা। কাজেই মুসলিমগণকে এ আদেশ করুন, তারা যেন কিসরার উপর হামলা করে।
বাকর ও যিয়াদ (রহ.) উভয়ে যুবাইর ইবনু হাইয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অতঃপর ‘উমার (রাঃ) আমাদের ডাকলেন আর আমাদের উপর নু‘মান ইবনু মুকাররিনকে আমীর নিযুক্ত করেন।আমরা যখন শত্রু দেশে পৌঁছলাম, কিসরার এক সেনাপতি চল্লিশ হাজার সৈন্য নিয়ে আমাদের মুকাবিলায় আসল। তখন তার পক্ষ হতে একজন দোভাষী দাঁড়িয়ে বলল, তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমার সঙ্গে আলোচনা করুক। তখন মুগীরাহ (ইবনু শু‘বাহ) (রাঃ) বললেন, যা ইচ্ছা প্রশ্ন করতে পার। সে বলল, তোমরা কারা? তিনি বললেন, আমরা আরবের লোক। দীর্ঘ দিন আমরা অতিশয় দুর্ভাগ্য এবং কঠিন বিপদে ছিলাম। ক্ষুধার জ্বালায় আমরা চামড়া ও খেজুর গুটি চুষতাম। চুল ও পশম পরিধান করতাম। বৃক্ষ ও পাথর পূজা করতাম। আমরা যখন এ অবস্থায় পতিত তখন আসমান ও যমীনের প্রতিপালক আমাদের মধ্য হতে আমাদের নিকট একজন নবী পাঠালেন। তাঁর পিতা-মাতাকে আমরা চিনি। আমাদের নবী ও আমাদের রবের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন, যে পর্যন্ত না তোমরা এক আল্লাহ্ তা‘আলার ‘ইবাদাত কর কিংবা জিযইয়াহ দাও। আর আমাদের নবী আমাদের রবের পক্ষ হতে আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, আমাদের মধ্য হতে যে নিহত হবে, সে জান্নাতে এমন নি‘মাত লাভ করবে, যা কখনো দেখা যায়নি। আর আমাদের মধ্য হতে যারা জীবিত থাকবে তোমাদের গর্দানের মালিক হবে। (৭৫৩০) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯৩৪)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জুবাইর ইবনু হাইয়াহ (রহঃ)

আক্রমণাত্মক জিহাদ (জিহাদ আত-ত্বলাব): দাওয়াত, জিযিয়া ও আক্রমণ
ইসলামী আইনশাস্ত্রে জিহাদকে মূলত দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
জিহাদ আল-দাফ: এটি মূলত প্রতিরক্ষামূলক জিহাদ। যখন কোনো মুসলিম ভূখণ্ড আক্রান্ত হয় বা শত্রুপক্ষ মুসলিমদের অস্তিত্বের ওপর হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেই আক্রমণ প্রতিহত করাই হলো এই জিহাদের মূল লক্ষ্য। আধুনিক প্রচারণায় জিহাদের এই দিকটিকেই প্রধান হিসেবে তুলে ধরা হয়।
জিহাদ আত-ত্বলাব: এটি হলো আক্রমণাত্মক জিহাদ। ধ্রুপদী ইসলামী আকিদা অনুযায়ী, অমুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে আগ বাড়িয়ে আক্রমণ করা এবং কুফরী শাসনব্যবস্থা উপড়ে ফেলে সেখানে শরীয়াহর আইন প্রতিষ্ঠা করাই এর লক্ষ্য। এটি ইসলামী হুকুমত সম্প্রসারণের জন্য একটি বাধ্যতামূলক ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়।
আল হিদায়াঃ কিয়ামত পর্যন্ত জিহাদ চলবে
ফিকাহ্ শাস্ত্রের জগতে, বিশেষতঃ হানাফি ফিকাহ্র পরিমণ্ডলে আল-হিদায়া একটি মৌলিক ও বুনিয়াদি গ্রন্থ। এক কথায় এ গ্রন্থকে হানাফী ফিকাহ্ শাস্ত্রের বিশ্বকোষ বলা যায়। এই গ্রন্থে জিহাদ অধ্যায়ের অংশবিশেষ আসুন এবারে পড়ে নিই [17] –
জিহাদ অধ্যায়
জিহাদ সংক্রান্ত বিষয়াবলীকে ফির পরিভাষায় سیر বলা হয়। এটা سيرة এর বহুবচন, যার শাব্দিক অর্থ কোন বিষয়ের পথ। শরীয়তের পরিভাষায় এটি (জিহাদ ও) গাযওয়া সমূহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসৃত নীতি ও পন্থার সাথে বিশিষ্ট।
ইমাম কুদুরী (র) বলেন, জিহাদ হলো ফরযে কিফায়া। যদি লোকদের একদল তা পালন করে তাহলে অবশিষ্টদের থেকে তার ফরয হওয়া রহিত হয়ে যায়। ফরয হওয়ার প্রমাণ হলো আল্লাহ্ তা’আলার বাণী:
فاقْتُلُوا المشركين كافة كما يقاتِلُونَكُمْ كَافَّة
সমগ্র মুশরিকদলকে হত্যা করো যেমন তারা তোমাদের সমগ্র দলের বিরুদ্ধে লড়াই করো
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী- الجهاد ماض الى يوم القيامة (জিহাদ কিয়ামত পর্যন্ত কার্যকর বিধান)।
একথা দ্বারা তিনি উদ্দেশ্য করেছেন যে, তা ফরয হিসেবে কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী থাকবে।
এটা কিফায়া ফরয হওয়ার কারণ এই যে, এটাকে নিজস্ব গুণের কারণে ফরয করা হয়নি। কেননা নিজস্ব সত্তাগত দৃষ্টিকোণে এটা হলো ফাসাদ সৃষ্টি। শুধু আল্লাহর দ্বীনের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং বান্দাদের থেকে দুষ্কৃতি রোধ করার জন্য এটাকে ফরয করা হয়েছে। সুতরাং কিছু লোকের দ্বারা উদ্দেশ্য হাছিল হয়ে গেলে অবশিষ্টদের থেকে তা রহিত হয়ে যাবে। যেমন সালাতে যানাযা এবং সালামের উত্তর।
কিন্তু কেউ যদি তা পালন না করে তাহলে সকল মানুষ তা তরক করার কারণে গোনাহগার হবে। কেননা সকলেরই উপর তা ওয়াজিব।
(কেফায়া হওয়ার আরেকটি কারণ এই যে,) সকলে তাতে নিয়োজিত হওয়ার অর্থ হলো জিহাদের উপকরণ অশ্ব ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া। সুতরাং তা কিফায়া ভিত্তিক ওয়াজবি হবে। তবে যদি ব্যাপকভাবে আহ্বান করা হয় তখন এটা ফরযে আইনের অন্তর্ভুক্ত হবে।
কেননা, (এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য) আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন:
তোমরা বের হয়ে পড় লঘু রণ সম্ভার মহা কিংবা পুরু রণসম্ভার সহ (৯:৪১)।
জামে ছাগীর কিতাবে ইমাম মুহম্মদ (র) বলেছেন, জিহাদ হলো ওয়াজিব; তবে মুসলমানের জন্য অবকাশ রয়েছে, যতক্ষণ না তাদের প্রয়োজন দেখা দেয়।
তাঁর বক্তব্যের প্রথম অংশ ফরযে কেফায়া হওয়ার ইংগিতবাহী এবং শেষাংশ ব্যাপক আহ্বানের ইংগিতবাহী। কেননা ব্যাপক প্রয়োজনের সময় সকলের অংশগ্রহণ ছাড়া উদ্দেশ্য হাছিল হবে না। সুতরাং সকলের উপর তা ফরয হবে। যেহেতু আয়াত ও হাদীস নিঃশর্ত ও সাধারণ, সেহেতু কাফিররা সূচনা না করলেও (প্রয়াজন হওয়া মাত্র) তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা ফরয। অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালকদের উপর জিহাদ ফরয নয়। কেননা বালকরা হলো দয়ার পাত্র। দাস ও স্ত্রীলোকদের উপরও ফরয নয়। কেননা মনিব ও স্বামীর হক অগ্রবর্তী।
অন্ধ, প্রতিবন্দী ও কর্তিত অংগ ব্যক্তির উপরও ফরয নয়। কেননা তারা অক্ষম। কিন্তু শত্রুপক্ষ যদি কোন শহরে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন সকলের উপর প্রতিরোধ ওয়াজিব হয়ে যাবে। স্ত্রী স্বামীর অনুমতি ছাড়া এবং দাস মনিবের অনুমতি ছাড়াই বের হয়ে পড়বে।
কেননা তখন তা ফরযে আইন হয়ে পড়েছে আর ফরযে আইনের মোকাবেলায় দাসত্ব বন্ধন ও বিবাহ বন্ধন বিবেচিত হবে না। যেমন সালাত ও সিয়ামের ক্ষেত্রে।
ব্যাপক প্রয়োজনের পূর্ববর্তী অবস্থাটি ভিন্ন।। । কেননা দাস ও স্ত্রী লোক ছাড়াও প্রয়োজন সিদ্ধ ১০ হয়। সুতরাং মনিব ও স্বামীর হক বাতিল করার প্রয়োজন নেই।
মুজাহিদদের দেওয়ার জন্য লোকদের নিকট থেকে যুদ্ধ কর নির্ধারণ করা মাকরূহ যতক্ষণ পর্যন্ত মুসলমানদের (বায়তুল মালে) ‘ফায়’-এর মাল থাকে।
কেননা এটা পারিশ্রমিকের সদৃশ। আর তার প্রয়োজন নেই। কেননা বায়তুল মাল তো মুসলমানদের যাবতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্যই।
যদি তা না থাকে তাহলে একে অপরকে শক্তি যোগানো দোষণীয় নয়।
কেননা এত বড় ক্ষতি রোধ করার জন্য ক্ষুদ্র ক্ষতি গ্রহণ করা হলো।
এ সিদ্ধান্তের সমর্থক এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লা ছাফওয়ান থেকে কিছু সংখ্যক বর্ম নিয়েছিলেন। এবং হযরত ওমর (রা) বিবাহিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে (তার খরচে) অবিবাহিত যুবককে যুদ্ধে পাঠাতেন এবং ঘরে বসে থাকা ব্যক্তির ঘোড়া যুদ্ধে গমনকারীকে (সাময়িকভাবে) দান করতেন।
পরিচ্ছেদ: জিহাদ ও লড়াইয়ের পদ্ধতি
মুসলিম বাহিনী যখন দারুল হরবে প্রবেশ করে কোন শহর বা দুর্গ অবরোধ করবে তখন তাদের ইসলামের প্রতি দাওয়াত দিবে। কেননা হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের প্রতি দাওয়াত না দিয়ে কোন কাওমের বিরুদ্ধে লড়াই করেননি।
যদি তারা দাওয়াতে সাড়া দেয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে বিরত থাকবে। কেননা উদ্দেশ্য হাছিল হয়ে গেছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا لا اله الا الله
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ উচ্চারণ করা পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি।
আর যদি তারা সাড়া দানে বিরত থাকে তাহলে তাদেরকে জিযয়া প্রদানের আহ্বান জানাবে। প্রেরিত বিভিন্ন বাহিনীর অধিনায়কদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনই আদেশ করেছেন।


ফাতাওয়ায়ে আলমগীরীঃ জিহাদ ও লড়াইয়ের পদ্ধতি
ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী প্রণয়নের উদ্দেশ্যে আওরঙ্গজেব ফিকহের ৫০০ আলেমকে নিয়োগ দেন। তাদের মধ্যে ৩০০ জন দক্ষিণ এশিয়া, ১০০ জন ইরাক এবং ১০০ জন হেজাজ থেকে আগত। দিল্লি ও লাহোরে সংকলন কর্মে শেখ নিজাম বুরহানপুরি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাদের কয়েক বছরব্যাপী পরিশ্রমের মাধ্যমে ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী প্রণীত হয়। এই গ্রন্থে বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতির সাপেক্ষে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, দাস, যুদ্ধ, সম্পদ, আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক, বিনিময়, কর, অর্থনীতি ও অন্যান্য আইন এবং আইনি নির্দেশনা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আসুন এই গ্রন্থ থেকে জিহাদের নীতিমালা এবং গনিমতের মাল গ্রহণের ইসলামিক পদ্ধতি জেনে নেয়া যাক। শুরুতে আসুন একটি ডায়াগ্রাম দেখি,
অমুসলিমদের আইনি শ্রেণীবিভাগ (ফিকহী মানদণ্ড)
| অমুসলিম গোষ্ঠী | জিজিয়া গ্রহণের বিধান | চূড়ান্ত পরিণতি (বশ্যতা না মানলে) |
|---|---|---|
| আরব মুশরিক | ❌ অবৈধ | ইসলাম গ্রহণ অথবা মৃত্যু |
| আহলে কিতাব (ইহুদি/খ্রিস্টান) | ✅ বৈধ | জিজিয়া প্রদান করে জিম্মী হওয়া |
| মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) | ❌ অবৈধ | তলোয়ার দ্বারা মৃত্যুদণ্ড |
*সূত্র: ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫০২-৫৩৫
এবারে আসুন সরাসরি বই থেকে দেখে যাক, [18] –
(পৃষ্ঠা ৫০২ – ৫০৩ ) দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
জিহাদ ও লড়াইয়ের পদ্ধতি
১. মাসআলা: ইমামুল মুসলিমীন (শাসক) যখন দারুল ইসলামে প্রবেশের উদ্যোগ নেবেন তখন তার কর্তব্য হবে বাহিনী পরিদর্শন করে আশ্বারোহী ও পদাতিকের সংখ্যা জেনে নেয়া।
তাদের নাম লিপিবদ্ধ করা (এবং প্রয়োজনীয় বিষয় অবগত হওয়া) (শরহে তাহাবী)।
২. মাসআলা: মুসলিম বাহিনী দারুল হারবে প্রবেশ করে কোন শহর বা দুর্গ অবরোধ করে তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিবে১ যদি তারা দাওয়াতে সাড়া দেয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে বিরত থাকবে। আর যদি তারা সাড়াদানে বিরত থাকে তাহলে তাদেরকে জিযয়া প্রদানের আহবান জানাবে (হিদায়া)। যদি তারা জিয়া দিতে সম্মত হয় তাহলে
মুসলমানদের যাবতীয় সুবিধা ও দায় তাদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে (কান্য)। উপরোক্ত হুকুম ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে যাদের থেকে (ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে) জিযয়া কবুল করা যায়। অতএব যার থেকে জিযয়া গ্রহণ করা যায় না তাদেরকে জিয়া প্রদানের প্রতি
আহবান জানানো হবে না (তাবয়ীন)।
উল্লেখ থাকে যে, কাফিররা কয়েক শ্রেণীতে বিভক্ত:
প্রথম শ্রেণী: ঐ সমস্ত লোক যাদের থেকে জিয়া নেওয়া (সর্বসম্মতিক্রমে) জাইয নেই।
তারা হলো, আরবের ঐ সমস্ত মুশরিক যারা আসমানী কোন কিতাবেরই অনুসারী নয়। অতএব মুসলমানগণ যখন তাদের উপর বিজয়ী হবে, হয় তারা পুরুষদের ইসলাম কবুল করবে, নতুবা তাদের হত্যা করা হবে। অবশ্য তাদের নারী ও শিশুরা মালে গনীমত হিসাবে গণ্য হবে।
দ্বিতীয় শ্রেণী: ঐ সকল লোক যাদের থেকে সর্বসম্মতিক্রমে জিয়া নেয়া জাইয। তারা হলো, আসমানী কিতাবের অনুসারী। আরব বা অনারব ইয়াহুদী খৃস্টানরা এবং আরব বা অনারব অগ্নিপূজকরা।
তৃতীয় শ্রেণী: ঐ সমস্ত লোক যাদের থেকে জিযয়া আদায় করার ব্যাপারে ফকীহদের মতপার্থক্য রয়েছে। তারা হলো, উপরে বর্ণিত জনগোষ্ঠী ছাড়া অন্যরা। তবে আমাদের হানাফী মাযহাব অনুযায়ী তাদের থেকে জিযয়া আদায় করা ওয়াজিব (মুহীত)।
৩. মাসআলা: যাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌছেনি তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেয়া ছাড়া লড়াই শুরু করা জাইয নেই (হিদায়া)। মুসলমানগণ ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানো
ব্যতীত যদি তাদের সাথে লড়াই করে তারা গুনাহগার হবে। তবে তাদের জানমাল ক্ষতি করার দায় মুসলমানদের উপর আরোপিত হবে না। যেরূপ তাদের নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে তাদেরকে দায়বদ্ধ করা হয় না (মাবসূত)। যাদের কাছে ইতোপূর্বে দাওয়াত পৌঁছেছে অতিরিক্ত সতর্কীকরণ হিসাবে তাদেরকেও (পুনরায়) দাওয়াত দেওয়া মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয়২ (হিদায়া)।
১. কেননা হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা) ইসলামের প্রতি দাওয়াত না দিয়ে কোন কাউমের বিরুদ্ধে লড়াই করেন নি।
২. কেননা বিশুদ্ধ বর্ণনায় প্রমাণিত যে, নবী (সা) অসতর্ক অবস্থায় বনী মুসতালিকের উপর হামলা করেছিলেন এবং উসামা (রা)-কে দায়িত্ব দিয়েছিলেন উবনা বস্তিতে খুব জোরে হামলা চালানোর এবং বস্তি জ্বালিয়ে দেয়ার আর অসতর্ক হানা কখনো দাওয়াত দিয়ে হয় না।
তবে এটা মুস্তাহাব হওয়ারও দু’টি শর্ত। প্রথমতঃ পুনঃদাওয়াতে মুসলমানদের কোন রূপ অনিষ্টের সম্ভাবনা না থাকা। যেমন অতিরিক্ত সময়কে তারা সমরায়োজনের কাজে লাগাবে। কিংবা কোন কূট-কৌশল অবলম্বন করে তাহলে এক্ষেত্রে লড়াইর পূর্বে পুনরায় দাওয়াত দেওয়া মুস্তাহাব নয়।
দ্বিতীয় শর্তটি হলো: পুনঃদাওয়াত দ্বারা তাদের ইসলাম গ্রহণের সম্ভাবনা থাকা। যদি সম্ভাবনা না থাকে তাহলে তাদেরকে দাওয়াত দিবে না (মুহীত)। কাজেই যে ভূখণ্ডের কাফিরদের নিকট একবার ইসলামের দাওয়াত পৌঁছেছে তাদের উপর রাত্রে অথবা দিনে অতর্কিত হামলা চালালে অন্যায় হবে না (মুহীত: সারাঙ্গী)।
যদি তারা (ইসলামের দাওয়াত প্রত্যাখান করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করবে এবং লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবে (ইখতিয়ার: শরহুল মুস্তার)। তাদের বিরুদ্ধে মিনজানিক (কামান) মোতায়েন করবে, জ্বালাও পোড়াও চালাবে, (বাঁধ ভেঙ্গে বা অন্য উপায়ে) তাদের উপর পানি ছেড়ে দিবে এবং তাদের বৃক্ষ নিধন করবে এবং তাদের শষ্য, ফসলাদি নষ্ট করবে (হিদায়া)। তাদের দুর্গসমূহ ভেঙ্গে বিরান করে দিবে ও পানি বহিয়ে তা ডুবিয়ে দিবে এবং তাদের দালান প্রাসাদ বিধ্বস্ত করে ফেলবে। হযরত হাসান ইবন যিয়াদ (র) বলেন, এ যদি জানতে পারে যে, উক্ত দুর্গে কোন মুসলমান কয়েদী নেই। অতএব যদি তা জানতে না পারে তবে জ্বালানো এবং পোড়ানো জাইয নেই। কিন্তু আমাদের বক্তব্য হলো, আমরা যদি এ কাজ থেকে মুসলিম বাহিনীদেরকে বিরত রাখি তবে তাদের জন্য মুশরিকদের সাথে লড়াই করে জয়লাভ করা কঠিন হবে। তাছাড়া খুবই কম দুর্গ এমন আছে যাতে বিপক্ষীয় বন্দী থাকে না। তবে এসব কর্মকাণ্ড মুশরিকদের উদ্দেশ্যেই করবে (মাবসূত)।
তাদের মাঝে মুসলিম বন্দী বা ব্যবসায়ী থাকলেও তাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করতে বাঁধা নেই।১ যদি তারা মুসলিম বালকদের কিংবা বন্দীদের ঢাল রূপে ব্যবহার করা হয় তাহলেও তাদের প্রতি তীর বর্ষণ থেকে বিরত থাকবে না। অবশ্য কাফিরদের প্রতি তীর বর্ষণের নিয়্যত করবে। ২ ঐ মুসলমানদের যে ক’জন তাদের তীর বর্ষণের শিকার হবে তাদের দিয়্যত মুজাহিদদের উপর ওয়াজিব হবে না। আর কাফফারাও ওয়াজিব হবে না। ৩
৪. মাসআলা: মুসলিম বাহিনীর সঙ্গে নারী ও কুরআন শরীফ নিয়ে যাওয়া দোষের না, যদি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। কিন্তু নিরাপদ নয় এমন ক্ষুদ্র বাহিনীর সাথে নিয়ে যাওয়া মারূহ। কোন মুসলমান যদি নিরাপত্তা নিয়ে তাদের দেশে প্রবেশ করে এবং তারা যদি প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী হয়, তাহলে কুরআন শরীফ সঙ্গে নিতে বাধা নেই (হিদায়া)।
৫. মাসআলা: বড় বাহিনীতে প্রয়োজনীয় সেবা কর্মের জন্য বয়স্কা নারীদের নেয়া যায়। পক্ষান্তরে যুবতী নারীর জন্য গৃহই অধিক নিরাপদ। তবে ফিতনার আশঙ্কা থাকার কারণে
…..
টীকাঃ ১. কেননা ইসলামের কেন্দ্র থেকে তীর বর্ষণের মাধ্যমে বৃহৎ ক্ষতিরোধ করা যায় পক্ষান্তরে মুসলিম বন্দী ও ব্যবসায়ী নিহত হওয়ায় সীমিত ক্ষতি তাছাড়া খুব কম দুর্গই মুসলমান থেকে খালি হয়। সুতরাং তা বিবেচনা করে যদি বিরত থাকতে হয় তাহলে তো জিহাদের দরজাই বন্ধ হয়ে যাবে।
২. কেননা কার্যত: পার্থক্য করা অসম্ভব হলেও উদ্দেশ্যগতভাবে তা সম্ভব। তাছাড়া আদেশ পালনের দায়িত্ব সাধ্য অনুযায়ী বিবেচিত।
কেননা জিহাদ হলো ফরজ, আর ফরয পালনের সাথে “দণ্ড” যুক্ত হতে পারে না।
৩. ৪. যেমন রান্নাবাড়ি, পানি পান করানো, সেবা শুশ্রূষা করা ইত্যাদি।
…….
(পৃষ্ঠা ৫৩৫) ৫. মাসআলা : যে সকল লোক বন্দী তাদের ব্যাপারে শাসকের ইখতিয়ারাধীন থাকবে, ইচ্ছা করলে তাদেরকে হত্যা করবে আবার চাইলে তাদেরকে দাস বানাবে। তবে আরবের মুশরিকদের এবং মুরতাদদের বিষয়টি ভিন্ন১ (হয়ত তারা ইসলাম গ্রহণ করবে নতুবা তলোয়ার দ্বারা গর্দান উড়িয়ে দেওয়া হবে) তিনি চাইলে তাদেরকে মুসলমানদের যিম্মী বানিয়ে স্বাধীনতা দিয়ে দিবেন। তবে আরবের মুশরিকদের এবং মুরতাদদের বিষয়টি ভিন্ন (তাদের স্বাধীনরূপে ছেড়ে দেওয়া যাবে না)। তবে বন্দীদের মধ্যে যারা ইসলাম গ্রহণ করবে তাদেরকে দাস বানানো ছাড়া অন্য কোন সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না (তাবয়ীন)। আর তাদেরকে দারুল হারবে ফেরত দেওয়া যাবে না। উল্লেখ্য মুসলমান বন্দীদের বিনিময়ে হারবী বন্দীদেরকে মুক্তিপণ হিসাবে দেওয়া (অর্থাৎ হারবীদের নিকট যে সকল মুসলমান বন্দী হয়ে আছে তাদের বিনিময়ে যে সকল হারবী মুসলমানদের নিকট বন্দী হয়ে আছে তাদেরকে মুক্তিপণ হিসাবে দেওয়া) ইমাম আবু হানীফা (র)-এর মতানুযায়ী জাইয নেই২ (কাফী)।
অনুরূপ বর্ণনা মুতুনেও রয়েছে। এক্ষেত্রে ইমাম আবূ হানীফা (র)-এর মতটিই বিশুদ্ধ (যাদ)। ইমাম মুহাম্মদ (র) সিয়ারে কবীরে বলেন, কাফিরদের যে সকল নর-নারী মুসলমানদের
…
টিকাঃ ১. কারণ তাদের কুফরী ও শিরকী ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্যতম অপরাধ আরবের মুশরিকদের ক্ষেত্রে, কারণ এই যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম তাদের মাঝেই আবির্ভূত হয়েছেন। পবিত্র কুরআন তাদের ভাষায় নাযিল হয়েছে। কাজেই ইসলামের বার্তা ও শরীআতের বিধানাবলী তাদের নিকট সর্বাপেক্ষা স্পষ্ট ও সহজতম। আর অলৌকিক ঘটনাবলী ও আল্লাহর নির্দেশনাবলী তাদের ক্ষেত্রে অধিকতর প্রকাশিত ও অবলোকনযোগ্য।
আর মুরতাদদের ক্ষেত্রে কারণ এই যে, তারা ইসলামের দিকে পথ প্রদর্শন পেয়ে ইসলামের যাবতীয় সৌন্দর্য ও কল্যাণকর বিধানাবলী সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর ইসলাম প্রত্যাখান করতঃ তাদের প্রতিপালকের সাথে কুফুরী ও রাসূলের শানে গোস্তাখী ও চরম বে-আদবী করেছে। এ সমস্ত কারণে এ উভয় শ্রেণীর লোকেরা (আরবের মুশরিক এবং মুরতাদরা) অধিকতর শাস্তির উপযুক্ত বিধায় হয়ত তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবে নতুবা তাদেরকে হত্যা করা হবে। তাদের ব্যাপারে এছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই।
২. কারণ কাফির বন্দীদের ফেরৎ দেওয়ার অর্থ মুসলমানদের দুশমনদের সাহায্য করা। কারণ পরবর্তীতে এরাই জাগ্রত ও সোচ্চার হয়ে উঠবে এবং যোদ্ধা হয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আসবে। আর যুদ্ধ এমন একটি বিষয় যাতে গোটা মুসলিম জাতির ক্ষতির প্রবল আশঙ্কা থাকে যা মুসলমান বন্দীকে দুশমনদের হাতে যিম্মী হিসাবে ছেড়ে রাখতে সাধারণত পরিলক্ষিত হয় না। কাজেই ইসলাম ও মুসলমানের সার্বিক অনিষ্টতা এবং লড়াইয়ের সম্ভাব্য ক্ষতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা কয়েকজন মুসলিম বন্দীকে মুক্ত করার চেয়ে অধিক শ্রেয়।
তাছাড়া সে যদি তাদের হাতে বন্দী থেকে যায় তাহলে এটা হবে স্বান্ত্রিকভাবে তার দিক থেকে একটি পরীক্ষা যার দায়-দায়িত্ব শুধু তারই। তা আমাদের সাথে সম্পৃক্ত হবে না। পক্ষান্তরে তাদের বন্দীদের তাদের হাতে অর্পণ করে সাহায্য করার দায়-দায়িত্ব আমাদের সাথেই সম্পৃক্ত হবে এবং এর ভয়াবহ পরিণাম আমাদেরই ভুগতে হবে।
৩. মুতুন শব্দটি মতন এর বহুবচন অর্থাৎ পিঠ, পৃষ্ঠ মূল অংশ মূল পাঠ টেক্সট। হানাফী ফিকহের পরিভাষায় মুতুন বলতে ঐ সমস্ত কিতাবকে বুঝায় যাতে যাহিরি রিওয়ায়েতের অনুকরণে হানাফী মাযহাবের মাসাইল সমূহ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। যেমন বিদায়া, মুখতাসারুল কুদূরী, মুখতার, বেকায়া, কানন্দাকায়িক, মুলতাকাল আবছর।
আর যাহিরি রিওয়ায়েত ঐ সকল রিওয়ায়েত বা মাসাইলকে বলা হয় যা মাযহাব রচনাকারী ব্যক্তিবর্গ ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ (র) থেকে বর্ণিত এবং তা ইমাম মুহাম্মদ (র) কর্তৃক প্রণীত ছয়টি কিতাবে জামি’ সাগীর, জামি’কবীর, সিয়ারে সাগীর, সিয়ারে কবীর, মাবসূত ও যিয়াদাত উল্লেখ হয়েছে।
(পৃষ্ঠা ৫৩৭) ৭. মাসআলা: বন্দীদের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করা (অর্থাৎ তাদেরকে দাস কিংবা যিম্মী না বানিয়ে কিংবা হত্যা না করে এমনিতেই ছেড়ে দেয়া জাইয নেই১ (কাফী)।
৮. মাসআলা: ইমাম মুহাম্মদ (র) বলেন, যদি মুশরিক শিশুদের সঙ্গে তাদের মাতাপিতারাও বন্দী হয় তাহলে ঐ শিশুদেরকে মুক্তিপণ২ হিসাবে দেয়া যাবে। আর যদি শুধু শিশুরা বন্দী হয় (তাদের মাতা-পিতারা বন্দী না হয়) এবং তাদেরকে দারুল ইসলামে নিয়ে আসা হয় তাহলে তাদেরকে মুক্তিপণ হিসাবে দেওয়া যাবে না।
অনুরূপ যদি দারুল হরবেই গনীমত বণ্টন করা হয় এবং একটি শিশু কোন ব্যক্তির অংশে পড়ল কিংবা তথায় গনীমতের মাল বিক্রি করা হলে ঐ ব্যক্তি ক্রয় সূত্রে সে শিশুটির মালিক হলো তাহলে উক্ত শিশু ঐ ব্যক্তিরই অনুবর্তীরূপে মুসলমান বলে বিবেচিত হবে (মুহীত)।
৯. মাসআলা: ইমাম মুহাম্মদ (র) বলেন, মুসলমানরা যদি কাফিরদের থেকে ঘোড়া এবং হাতিয়ার নিয়ে নেয়। এরপর তারা তা মালের বিনিময়ে ছাড়িয়ে নিতে চায় তাহলে তাদেরকে এ সুযোগ প্রদান জাইয হবে না। পক্ষান্তরে যদি তারা এ দরখাস্ত করে যে তোমরা আমাদের বন্দী লোকদের আমাদেরকে দিয়ে দাও আর এর পরিবর্তে একজন কিংবা বলল দু’জন মুশরিক নিয়ে নাও তাহলে মুসলমানদের জন্য এরূপ করা জাইয নেই। দারুল হারবে বন্দী মুসলমানদের বিনিময়ে দিরহাম-দিনার এবং যুদ্ধের দ্বারা উপকরণ বা উপাদান নয় এমন জিনিস দেয়া যায়। যেমন বস্ত্র, খাদ্য ইত্যাদি। যুদ্ধের উপকরণ দেয়া জাইয নেই। যেমন অস্ত্র, ঘোড়া, লোহা। (সিরাজুল ওয়াহ্হাজ)।
১০. মাসআলা: ইমাম মুহাম্মদ (র) সিয়ারে কবীরে উল্লেখ করেছেন, কোন আযাদ মুসলমান বা যিম্মী যদি দারুল হারবে বন্দী থাকে। এমতাবস্থায় সে তাদের ওখানেই নিরাপত্তাধীন কোন মুসলমান বা যিম্মীকে বলল, তুমি আমাকে (মুক্তি দিয়ে) মুক্ত কর বা ক্রয় কর, এরপর সে তাই করল এবং তাকে দারুল ইসলামে নিয়ে এলো। তাহলে সে আযাদ বলে গণ্য হবে। আর মুক্তিপণ বা ক্রয় মূল্য ঐ ব্যক্তির উপর ঋণ হিসাবে বিবেচিত হবে। সুতরাং আদিষ্ট ব্যক্তি যে পরিমাণ মাল মুক্তিপণ দিয়েছিল তা তার থেকে আদায় করে নিবে। তবে আদায়কৃত মুক্তি দিয়্যত সমপরিমাণ হতে হবে। অতএব যদি দিয়্যতের নিসাব থেকেও বেশী মুক্তিপণ আদায় করে তাহলে এক্ষেত্রে সে দিয়্যতের নিসাব পরিমাণ মালই আদায় করতে পারবে এর চেয়ে বেশী নয়।
অনেকে বলেছেন যে ইমাম আবু হানীফা (র)-এর বক্তব্য অনুযায়ী এ হুকুমই কার্যকর হওয়া উচিৎ যে আদিষ্ট ব্যক্তি মুক্তি হিসাবে যে পরিমাণই আদায় করুক তা আদেশ দাতা (বন্দী) থেকে আদায় করে নিবে অর্থাৎ দিয়াতের নিসাব থেকে কম হোক বা বেশী হোক তাতে কোন পার্থক্য হবে না। তবে বিশুদ্ধতম কথা হলো (ইমাম আবূ হানীফা, আবূ ইউসুফ ও মুহাম্মদ (র) তাঁদের সকলের নিকট এ ক্ষেত্রে ঐ হুকুমই প্রযোজ্য (যা প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছে।
…
টিকাঃ ১. কেননা ইরশাদ হচ্ছে: তোমরা মুশরিকদের যেখানে পাও হত্যা করো (সূরা বাকারা) তাছাড়া তাদেরকে বন্দী করে হাতের মুঠোয় আনার কারণে তারা দাস হওয়ার উপযুক্ত এবং তাতে রয়েছে মুসলমানদের হক। সুতরাং কোন লাভ ও বিনিময় ছাড়া উক্ত হক রহিত করা জাইয হবে না। এতদ্ব্যতীত এদের দ্বারা পরবর্তীতে মুসলমানদের ক্ষতি ও অনিষ্টতার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
২. কারণ এগুলোর যুদ্ধের সামান এবং যুদ্ধ ক্ষেত্রে দুশমনকে পরাস্ত করার অন্যতম মাধ্যম।
(পৃষ্ঠা ৫৪০) আর তাদের বাসন পত্র এবং আসবাবপত্রসহ ঘরের যাবতীয় আসবাব পত্র এমনভাবে ভেঙ্গে চুরমার করে দিবে যেন পরবর্তীর্তে এসব দ্বারা উপকৃত না হতে পারে। আর সকল ধরনের তরল জাতীয় পদার্থ প্রবাহিত করে দিবে, যেন তারা পরবর্তীতে এসব দ্বারা উপকৃত না হতে পারে। এসব কর্মকাণ্ড এজন্য করা হবে যাতে তারা ক্রোধান্বিত হয়ে উঠে।
১৮. মাসআলা: দারুল হারবের অভিযান থেকে ফেরার সময় যদি বন্দীদের সঙ্গে আনা
তাদের সম্ভব না হয় তাহলে পুরুষদেরকে হত্যা করা হবে যদি ইসলাম গ্রহণ না করে এবং নারী, শিশু ও বৃদ্ধাদেরকে খাদ্য ও পানীয় বিহীন নির্জন স্থানে ফেলে আসবে, যেন তারা ক্ষুধা-পিপাসায় মারা যায়। কেননা হাদীসে নিষেধাজ্ঞা আসার কারণে হত্যা করা সম্ভব নয়, আবার বাঁচিয়ে রাখাও বিশেষ কোন যুক্তি নেই। ১
একারণেই মুসলমানরা যদি দারুল হারবে কোথাও সাপ বা বিচ্ছু পায় তবে তারা বিচ্ছুর লেজ কেটে দিবে আর সাপ হলে তার দাঁত ভেঙ্গে দিবে যেন মুসলমানদের ওখানে থাকা অবস্থায় কোন ক্ষতি না হয়। আর তাদের একেবারেই মেরে ফেলবে না যেন তাদের বংশ পরম্পরা বাকি থাকে পরবর্তীতে তাদের বংশধররা কাফিরদেরকে দংশন করে ও কষ্ট দেয় (সিরাজুল ওয়াহ্হাজ)।
১৯. মাসআলা: গনীমতের মাল যতক্ষণ পর্যন্ত দারুল ইসলামে এনে সংরক্ষণ না করা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার মালিক হওয়া যায় না (মুহীত: সারাঙ্গী)।
উপরোক্ত মূলনীতির উপর অনেক মাসাইল ভিত্তি করে (১) গনীমতের হকদারদের কেউ যদি (দারুল হারবের মধ্যেই) বন্দীকৃত দাসীর সাথে সংগম কর্ম করে এরপর উক্ত দাসী একটি সন্তান প্রসব করল আর ঐ ব্যক্তি সে সন্তানের দাবী করল তাহলে এক্ষেত্রে তার সাথে উক্ত সন্তানের বংশ সম্পর্ক সাব্যস্ত হবে না। তবে (সংগম করার কারণে) ঐ ব্যক্তির উপর উফর ওয়াজিব হবে।
কাজেই উক্ত দাসী, তার সন্তান এবং (আদায়কৃত) উফর গনীমতের হকদারদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হবে। (২) দারুল হারবে গনীমতের মাল বণ্টন করার পর যখন প্রত্যেকেই নিজ নিজ অংশ পেয়ে গেল এমতাবস্থায় কেউ যদি নিজ অংশ দারুল ইসলামে আনার পূর্বেই মারা যায় তাহলে কোন ব্যক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে তার অংশের হকদার হবে না। (৩) মুজাহিদদের কেউ যদি গনীমতের কোন জিনিস নষ্ট বা ধ্বংস করে ফেলে তাহলে হানাফী মাযহাব অনুযায়ী সে তার জন্য দায়বদ্ধ হবে না। (৪) শাসক যদি ইজতিহাদ করা ব্যতীত কিংবা গাযীদের প্রয়োজনের দিকে লক্ষ্য না করে গনীমত বণ্টন করে তাহলে তা আমাদের (হানাফী) মাযহাব অনুযায়ী সহীহ হবে না২ (তাবয়ীন)।
…
টিকাঃ ১. হত্যার নিষেধাজ্ঞার এ বা হেতু হচ্ছে দুর্বলের প্রতি করুণা, সুতরাং একই হেতুতে উপরোক্ত আরেন বৈধ হতে পারে না। (সম্পাদক)
২. অর্থাৎ ইমাম যদি আলিম হয় এবং তার মধ্যে ইজতিহাদ করে সঠিক ও মঙ্গলজনক সিদ্ধান্ত গ্রহণের যোগ্যতা থাকে তাহলে এরূপ চিন্তা-ভাবনা ছাড়া বণ্টন করা কিংবা মুজাহিদদের ফায়দা ও প্রয়োজনের দিকে লক্ষ্য না করে বণ্টন করা সহীহ হবে না। অতএব ইমাম যদি এ বিবেচনা করে বণ্টন করে যে দারুল ইসলামে গনীমত নিয়ে যাওয়ার আগে তা ধ্বংস বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে তবে তা সহীহ হবে অনুরূপ যদি তাতে মুজাহিদদের উপকার নিহিত থাকে তবুও সহীহ্ হবে।





এবারে আসুন ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী বইয়ের মূল বিষয়গুলো এক নজরে দেখে নিই,
| বিষয়বস্তু (মাসআলা) | নির্মোহ সমালোচনা ও বিশ্লেষণ |
|---|---|
| অমুসলিমদের শ্রেণীবিভাগ ও ভাগ্য নির্ধারণ | এখানে অমুসলিমদের তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। আরব মুশরিকদের জন্য কেবল দুটি পথ: ইসলাম গ্রহণ অথবা মৃত্যু। এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার আধুনিক ধারণার পরিপন্থী এবং সরাসরি গণহত্যার সমতুল্য। |
| অতর্কিত ও নৈশ হামলা | যাদের কাছে একবার দাওয়াত পৌঁছেছে, তাদের ওপর রাতের অন্ধকারে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হামলা চালানো বৈধ। এটি কোনো বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধ নয়, বরং এক ধরণের বিশ্বাসঘাতকতামূলক ও কাপুরুষোচিত কৌশল যা বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা কেড়ে নেয়। |
| বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস | শত্রুর দালান-কোঠা ধ্বংস করা, বাগান ও গাছপালা নিধন করা এবং বাঁধ ভেঙে জনপদ ডুবিয়ে দেওয়াকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধনীতিতে পরিবেশ এবং বেসামরিক সম্পদ রক্ষা বাধ্যতামূলক, যা এখানে সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করা হয়েছে। |
| মুসলিমদের ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করা | শত্রুরা যদি মুসলিম বন্দী বা শিশুদের ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে, তবুও তাদের ওপর তীর নিক্ষেপ করতে বাধা নেই। এটি প্রমাণ করে যে, বৃহত্তর আধিপত্যবাদী লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিরীহ মানুষের (এমনকি নিজ ধর্মের মানুষের) জীবনকেও তুচ্ছ মনে করা হয়। |
| বন্দীদের হত্যা ও দাসত্ব | শাসক চাইলে বন্দীদের হত্যা করতে পারেন অথবা দাস বানাতে পারেন। মুরতাদ বা আরব মুশরিকদের ক্ষেত্রে হত্যার বাইরে অন্য কোনো বিকল্প নেই। এটি মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে চরম অমানবিক ও মধ্যযুগীয় বর্বরতা। |
| পলায়নকালে বন্দীদের ফেলে আসা | যদি বন্দীদের সাথে আনা সম্ভব না হয়, তবে পুরুষদের হত্যা করা হবে এবং নারী ও শিশুদের খাদ্যহীন নির্জন স্থানে ফেলে আসা হবে যাতে তারা ক্ষুধা-পিপাসায় ধুঁকে মারা যায়। এটি কেবল অমানবিক নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত যুদ্ধাপরাধ। |
| যুদ্ধবন্দিনী বা দাসীদের সাথে যৌন সম্পর্ক | গনীমতের দাসীদের সাথে মুজাহিদদের যৌন মিলনকে স্বাভাবিক এবং আইনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে। এটি মূলত প্রাতিষ্ঠানিক যৌন দাসত্ব এবং ধর্ষণের বৈধতা দানকারী একটি ব্যবস্থা, যা নারীর মর্যাদাকে পশুর স্তরে নামিয়ে আনে। |
| জোরপূর্বক ইসলামে রূপান্তর | নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর জন্য ইসলাম গ্রহণই প্রাণ বাঁচানোর একমাত্র উপায়। “দ্বীনের মধ্যে জবরদস্তি নেই” আয়াতের আধুনিক উদারপন্থী ব্যাখ্যার সাথে এই ফতোয়াগুলো সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং আগ্রাসী প্রসারের দলিল। |
লজ্জিত মুসলিমদের শুগারকোটেড ইসলাম
আধুনিক প্রচারণায় জিহাদকে ইসলামিস্টগণ নিজের নফসের সাথে জিহাদ, বা কেবল প্রতিরক্ষামূলক জিহাদ বলে প্রমাণের চেষ্টা করা হলেও, ধ্রুপদী ইসলামী আকিদা অনুযায়ী ‘জিহাদ আত-ত্বলাব’ বা অমুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে আগ বাড়িয়ে আক্রমণ করা কেবল বৈধই নয়, বরং ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার জন্য এটি একটি আবশ্যিক ইবাদত। এই জিহাদের লক্ষ্য হলো কুফরী শাসনব্যবস্থাকে সমূলে উৎপাটন করে সেখানে শরীয়াহর শাসন জারি করা। অনেক মুসলিমই বর্তমান সময়ে ইউরোপ আমেরিকাতে গিয়ে ইসলাম কতটা শান্তির ধর্ম তা প্রচার করার চেষ্টা করেন, কিন্তু ইসলামের এই আক্রমণাত্মক জিহাদের বিবরণ ঘুণাক্ষরেও তারা উল্লেখ করেন না। তারা উল্লেখ করেন, ইসলাম নাকি বলেছে যার যার দ্বীন তার তার। অথচ এটি ইসলামের পরবর্তী যুগের জন্য বিধান ছিল না। আসুন আরও একজন ইংরেজিভাষী আরব আলেমের বক্তব্য শুনে নেয়া যাক, যিনি এই বিষয়টি আরও পরিষ্কার করেছেন,
মুহাম্মদ যখন কোনো সেনাপতিকে যুদ্ধের অভিযানে পাঠাতেন, তখন তিনি অমুসলিমদের সামনে তিনটি সুনির্দিষ্ট বিকল্প বা অপশন পেশ করার নির্দেশ দিতেন। এই বিষয়টি কোনো আধুনিক ব্যাখ্যা নয়, বরং সরাসরি সহীহ মুসলিমের একটি দীর্ঘ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, মুসলিম বাহিনীর আক্রমণের পূর্বে কাফেরদের তিনটি বিষয়ের দিকে আহ্বান জানাতে হবে:
আকীদাঃ ধর্মগ্রহনে বাধ্য করা এবং কিতাল
এবারে আমরা একটি বিখ্যাত আকিদা গ্রন্থ থেকে দেখে নিবো, এই বিষয়ে ইসলামের হুকুমত এবং বিধান আসলে কী [19]
আকাশের দিকে ইঙ্গিত করে বোঝানো হলো যে আপনি আল্লাহর রাসূল। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, “তুমি একে মুক্ত করতে পারো।” (হাদীস নং ১১)
যেসব কথা ও কাজ কেবল একজন মুসলিমই বলতে বা করতে পারে এবং যার মাধ্যমে স্পষ্ট বোঝা যায় যে উক্ত ব্যক্তি ইসলামে প্রবেশ করেছে, সেসব কথা ও কাজই ‘ইসলাম গ্রহণ’ হিসেবে গণ্য হবে। উদাহরণস্বরূপ: মুসলিমদের মতো সালাত আদায় করা, হজ পালন করা ইত্যাদি। তবে যদি প্রমাণিত হয় যে, উক্ত ব্যক্তি এসকল কাজের মাধ্যমে ভ্রান্ত বিশ্বাস পরিত্যাগ করে নির্ভেজাল ইসলামে প্রবেশ করেনি—বরং তার ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী কাফির অবস্থায়ই এসকল আমল করছে (যেমন বর্তমানে কাদিয়ানীরা) বা সে তামাশার ছলে এটি করছে—তবে তার ক্ষেত্রে এগুলো ইসলাম গ্রহণ হিসেবে গণ্য হবে না। তাকে ততক্ষণ মুসলিম গণ্য করা হবে না, যতক্ষণ না সে এমন কোনো বাক্য ব্যবহার করে যাতে বোঝা যায় সে নিজ বিশ্বাস পরিত্যাগ করে রাসূলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক প্রচারিত ও সাহাবায়ে কিরাম কর্তৃক অনুসৃত সঠিক ধর্মবিশ্বাসে প্রত্যাবর্তন করছে।
ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করার বিধান
কাউকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিকহী বিষয়। সমস্ত ওলামায়ে কিরাম একমত হয়েছেন যে, যেসব কাফিরের সাথে মুসলিমদের কোনো চুক্তি নেই (হারবী) বা যারা জিজিয়া প্রদানকারী জিম্মী কাফির নয়, তাদের হত্যার ভয় দেখিয়ে বা অন্য কোনোভাবে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে। অর্থাৎ, এভাবে ইসলাম গ্রহণের পর সে যদি পুনরায় ধর্মত্যাগ করতে চায়, তবে তাকে ‘মুরতাদ’ সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। এ বিষয়ে দলিল হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী:
“আমাকে আদেশ করা হয়েছে মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য যতক্ষণ না তারা বলে— ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’।” (বুখারী ও মুসলিম)
যখন তারা এটি বলবে, তখন তাদের রক্ত ও সম্পদ সংরক্ষিত বলে গণ্য হবে। সহীহ মুসলিমের একটি দীর্ঘ হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) কোনো অভিযানে সেনাপতি প্রেরণের সময় উপদেশ দিয়ে বলতেন: “তাদের তিনটি বিষয়ের দিকে ডাকো। তার মধ্যে যেটিই তারা গ্রহণ করুক, তুমিও সেটি গ্রহণ করো।” এই তিনটি বিষয় হলো:
ক. ইসলাম গ্রহণ
খ. জিজিয়া কর আদায় করা
গ. যুদ্ধ করা
সুতরাং, যুদ্ধের মাধ্যমে যাদের ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা হয়, তারা দুনিয়ার বিচারে মুসলিম বলেই গণ্য হবে। ওসামা বিন যায়েদের ঘটনাতেও একই বিষয় প্রমাণিত হয়। ওসামা (রা.) যাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছিলেন, সেই কাফির হঠাৎ কালিমা পাঠ করে বসে। ওসামা মনে করেছিলেন তরবারির ভয়ে সে ইসলাম গ্রহণ করেছে, তাই তার ইসলাম গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) একারণে তাকে কঠোর তিরস্কার করেন। এর স্পষ্ট অর্থ হলো—যাকে হত্যা করা বৈধ, তাকে যদি হত্যার ভয় দেখানো হয় এবং সে ভীত হয়ে ইসলামে প্রবেশ করে, তবে তার ইসলাম গ্রহণযোগ্য হবে। পরবর্তীতে সে ইসলাম পরিত্যাগ করলে তাকে মুরতাদ হিসেবে গণ্য করা হবে। (হাদীস নং ১২ ও ১৩)
হারবী ও জিম্মীদের ক্ষেত্রে মতভেদ
কানযুদ্দাকাইকের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: “যদি চুক্তিবিহীন কাফিরকে (হারবী) ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হওয়ার ব্যাপারে ইজমা (ঐক্যমত) সম্পাদিত হয়েছে।” (তাবঈনুল হাকাইক্ক)
যাদের সাথে মুসলিমদের চুক্তি রয়েছে—যেমন জিম্মী (হাদীস নং ১৪), মুস্তা’মান (হাদীস নং ১৫) বা মুয়াহিদ (হাদীস নং ১৬)—তাদের ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা বৈধ নয় এবং এ ব্যাপারে উম্মতের ইজমা রয়েছে। তবে কেউ যদি এদের বাধ্য করে এবং তারা ইসলাম গ্রহণ করে, তবে সেই ইসলাম গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সে বিষয়ে ওলামায়ে কিরামের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে:
হাম্বালী ও শাফেঈ মাযহাব: তাদের মতে এটি ইসলাম গ্রহণ হিসেবে গণ্য হবে না যতক্ষণ না বাধ্যবাধকতা দূর হওয়ার পর সে স্বেচ্ছায় ইসলামের ওপর টিকে থাকে। (হাদীস নং ১৭; আল-মুগনী)
হানাফী মাযহাব: গ্রহণযোগ্য মত অনুযায়ী, এটি ইসলাম গ্রহণ হিসেবেই গণ্য হবে এবং তাকে পুনরায় কুফরিতে ফিরে যেতে দেওয়া হবে না। (তাবঈনুল হাকাইক্ক)
এখানে প্রথম মতটিই (শাফেঈ ও হাম্বালী) অধিকতর সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়।
বংশগত ও পরিস্থিতিগত মুসলিম পরিচয়
একজন ব্যক্তি নিম্নোক্ত উপায়েও মুসলিম হিসেবে গণ্য হতে পারে:
১. মুসলিম পিতা-মাতার মাধ্যমে:
সমস্ত ওলামায়ে কিরাম একমত যে, মুসলিম পিতা-মাতার ঘরে ভূমিষ্ঠ শিশু মুসলিম হিসেবেই গণ্য হবে। একইভাবে কাফির দম্পতি মুসলিম হলে তাদের না-বালেগ সন্তানরাও মুসলিম হবে। যদি পিতা-মাতার একজন মুসলিম হন, তবে সন্তান মুসলিম হিসেবেই গণ্য হবে। (বুখারী; ফাতহুল বারী-৩/২২০) এর দলিল হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: “ইসলাম সবার উপরে, ইসলামের উপরে কিছু বিজয়ী হতে পারে না।” (হাদীস নং ১৮; দারে কুতনী)
২. যুদ্ধবন্দী শিশুর ক্ষেত্রে:
শিশু অবস্থায় যুদ্ধে বন্দী হওয়ার মাধ্যমে মুসলিম হিসেবে গণ্য হওয়ার ক্ষেত্রে উক্ত শিশুর ইচ্ছার কোনো গুরুত্ব নেই। এটিও একটি বাধ্যতামূলক পদ্ধতি।
“দ্বীনের মধ্যে জবরদস্তি নেই” আয়াতের ব্যাখ্যা
বর্তমানে অনেক চিন্তাবিদ প্রচার করেন যে, ইসলামে কাউকে বাধ্য করার সুযোগ নেই। তারা সূরা বাকারার ২৫৬ নম্বর আয়াত (“দ্বীনের মধ্যে কোনো জবরদস্তি নেই”) বা সূরা ইউনুসের ৯৯ নম্বর আয়াত পেশ করেন। তবে ওলামায়ে কিরামের মতে, এ সকল আয়াতকে অন্যান্য দলিল ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আমলের সাথে সমন্বয় করে বুঝতে হবে।
“দ্বীনের মধ্যে জবরদস্তি নেই” আয়াতটি কেবল সেই সব কাফিরদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা জিজিয়া দিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু যারা জিজিয়া দিতে নারাজ বা যারা মুরতাদ হয়ে গেছে, তাদের ক্ষেত্রে বাধ্য করার বিধানই প্রযোজ্য হবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে তার দ্বীন পরিবর্তন করে তাকে হত্যা করো।” (বুখারী) সুতরাং, প্রতিটি আয়াতকে তার সঠিক প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করতে হবে; ঢালাওভাবে সব ক্ষেত্রে জবরদস্তি নিষিদ্ধ করা হয়নি। (হাদীস নং ২৯)
ফুটনোটসমূহ:
(১১) হাদীসটি ইমাম আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদকে দুর্বল বলেননি, অর্থাৎ তিনি হাদীসটিকে গ্রহণযোগ্য মনে করেছেন। আল-হাইছামী মাজমুয়ায়ে যাওয়ায়েদে বলেছেন, “এই হাদীসের রাবিরা বিশ্বস্ত।” তবে শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন।
(১২) সহীহ বুখারী ও মুসলিম; হাদীসটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
(১৩) ইবনুল আরবী বলেন, “একজন মুসলিম যখন এমন কোনো কাফিরের সাক্ষাৎ পায় যার সাথে কোনো চুক্তি নেই, তবে তার জন্য তাকে হত্যা করা বৈধ।” (আহকামুল কুরআন)। মোল্লা আলী ক্বারী আল-হানাফী ইমাম আল-খাত্তাবী থেকে বর্ণনা করেন, “কাফিরদের রক্তের ব্যাপারে মূলনীতি হলো তা বৈধ (ইবাহাত)।” (মিরকাতুল মাফাতিহ)। অর্থাৎ চুক্তি না থাকলে তাদের রক্ত নিষিদ্ধ নয়।
(১৪) ইসলামী রাষ্ট্রের অনুগত কর (জিজিয়া) দিয়ে বসবাসকারী কাফিররা।
(১৫) ইসলাম সম্পর্কে জানার উদ্দেশ্যে বা ব্যবসার প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে অল্প সময়ের জন্য ইসলামী রাষ্ট্রে আশ্রয়গ্রহণকারী কাফিররা।
(১৬) নিজেদের ভূখণ্ডে অবস্থান করেই মুসলিমদের সাথে যুদ্ধবিরতির চুক্তি করে যেসব কাফিররা।
(১৭) যদি জিম্মী বা মুস্তা’মানকে বাধ্য করা হয়, তবে তার ইসলাম ধর্তব্য হবে না যতক্ষণ না সে স্বেচ্ছায় এর ওপর টিকে থাকে। (আল-মুগনী)।
(১৮) দারে কুতনী, বুলুগুল মারাম। ইমাম বুখারী হাদীসটিকে মাওকুফভাবে সনদ ছাড়া উল্লেখ করেছেন। ইবনে হাজার আসকালানী ও শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন। (ফাতহুল বারী-৩/২২০; ইরওয়াউল গালীল-১২৬৮)।
(২৮) এ বিষয়ে পরবর্তী অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ইনশা-আল্লাহ।
(২৯) আমীরুল মু’মিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এবং অন্যান্য সাহাবারা শর্ত করতেন যে, অমুসলিমরা ইসলামী রাষ্ট্রে তাদের ধর্মীয় উৎসবসমূহ প্রকাশ্যে পালন করতে পারবে না। (মাজমুউল ফাতাওয়া; তাফসীরে ইবনে কাছির)।







জিহাদের প্রকারভেদঃ ইসলামে জিহাদের হুকুম
এবারে আসুন শাইখ ইউসুফ আল উয়াইরী রহিমাহুল্লাহ রচিত বিখ্যাত জিহাদের তাত্ত্বিক রূপরেখা সম্পর্কিত একটি বই থেকে কয়েকটি পাতা পড়ে নেয়া যাক, [20]





আক্রমণাত্মক জিহাদের ইসলামিক ব্যাখ্যা
এই আক্রমণাত্মক জিহাদের ভয়াবহতা বোঝার জন্য নিচের ভিডিও দলিলগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে বর্তমান সময়ের আলেমরাও মাঝে মাঝে ইসলামের এই বর্বর বিধানগুলোর কথা স্বীকার করে ফেলেন,
এমনকি, ইসলামের অনেক অনলাইন দাইয়ীরাও ইনিয়ে বিনিয়ে শুগারকোট করে এই বিধানটি স্বীকার করে ফেলেন। আসুন মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমান মিনারের বক্তব্য শুনি,
জিহাদের এই প্রক্রিয়ায় যদি কোনো অমুসলিম রাষ্ট্র বাধা দেয় বা মুসলিমদের বশ্যতা স্বীকার করতে অস্বীকার করে, তবে শুরু হয় সশস্ত্র ‘কিতাল’। এই যুদ্ধের পর বিজিত অঞ্চলের সম্পদ ও মানুষজন বিজয়ীদের জন্য ‘গনীমত’ বা যুদ্ধের লুটের মাল হিসেবে সাব্যস্ত হয়। এটিই মূলত সেই পথ, যা ইসলামে বৈধ দাসপ্রথার ভিত্তি তৈরি করে। যখন কোনো অমুসলিম জনপদ যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়, তখন সেখানকার নারীদের এবং শিশুদের কোনো ইচ্ছা বা সম্মতি ছাড়াই মুসলিম যোদ্ধারা নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা দাস-দাসী হিসেবে গ্রহণ করার নিরঙ্কুশ অধিকার লাভ করে [21] ।
‘দ্বীনের মধ্যে জবরদস্তি নেই’ বা যার যার দ্বীন তার তার?
ইসলামের প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে বর্তমানে একটি আয়াত প্রায়শই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়— “দ্বীনের মধ্যে কোনো জবরদস্তি নেই” (সূরা বাকারা: ২৫৬) বা তোমাদের ধর্ম তোমাদের, আমাদের ধর্ম আমাদের (সূরা কাফিরুন, আয়াত ৬) বা যে একজন নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করলো সে যেন পুরো মানবজাতিকে হত্যা করলো (সূরা মায়িদা, আয়াত ৩২) । আধুনিক ব্যাখ্যাকারীরা একে ইসলামের ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন। কিন্তু ধ্রুপদী ইসলামী আইনশাস্ত্র বা ফিকাহ এবং নির্ভরযোগ্য ওলামাদের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই আয়াতের প্রয়োগ অত্যন্ত সীমিত এবং নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে আবদ্ধ। প্রকৃত সত্য হলো, ইসলামে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা কেবল বৈধই নয়, বরং আইনত স্বীকৃত। প্রবন্ধটি দীর্ঘ হয়ে যাবে বিধায় সেই বিষয়গুলো সম্পর্কিত আলাদা প্রবন্ধের লিঙ্ক দেয়া হয়েছে, আগ্রহী পাঠক পড়ে দেখবেন আশাকরি।
ঐতিহাসিক বাস্তবতায় দেখা যায়, নবী মুহাম্মদ আরবের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন কাফের সম্রাট ও রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে ইসলাম কবুলের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন, যেখানে স্পষ্টতই বশ্যতা স্বীকার না করলে যুদ্ধের চরম হুমকি দেওয়া হয়েছিল। মক্কা বিজয়ের পর আরব উপদ্বীপ থেকে বহু মুশরিক সম্প্রদায়কে সমূলে উচ্ছেদ করা হয়েছিল, যাদের সাথে মুহাম্মদের ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা ছিল না। তাদের একমাত্র অপরাধ ছিল তারা ইসলাম গ্রহণে সম্মত হয়নি। মুহাম্মদের এই আক্রমণাত্মক নীতি এবং বিভিন্ন গোত্র উচ্ছেদের ঘটনাগুলো খুব বিস্তারিত ও স্বতন্ত্র আলোচনার দাবি রাখে, যা বিস্তারিতভাবে অন্য প্রবন্ধগুলোতে তথ্যসূত্রসহ আলোচনা করা হয়েছে।
অর্থাৎ ইসলামী আকিদা এবং অন্যান্য ফিকহী কিতাবের আলোকে এটি স্পষ্ট যে, জবরদস্তি নিষিদ্ধ করার বিধানটি কেবল সেই সব কাফেরদের জন্য যারা ‘জিযিয়া’ বা নিরাপত্তা কর দিয়ে বশ্যতা স্বীকার করেছে। কিন্তু যারা ‘হারবী’ (যাদের সাথে কোনো শান্তি চুক্তি নেই) বা যারা জিজিয়া দিতে নারাজ, তাদের ক্ষেত্রে যুদ্ধের ভয় দেখিয়ে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করার বিধান ইসলামে বিদ্যমান।
ইমাম নববীঃ শরহে মুসলিমে আগ বাড়িয়ে আক্রমণের বিধান
এই বিষয়ে আরো ভালভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আসুন সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে কিছু বিবরণ পড়ে নিই। এখানে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ইসলাম কবুল অথবা অপমানিত অবস্থায় নত হয়ে জিযিয়া প্রদানের মাধ্যমেই কাফের আহলে কিতাবীগণ জীবিত থাকতে পারবে। একইসাথে, কাফেররা আক্রমণের সূচনা না করলেও, আগ বাড়িয়ে তাদের আক্রমণ করা বৈধ। তবে মনে রাখতে হবে, শক্তিসামর্থ্যের কথা [22] –
চতুর্থ ধাপঃ মুসলমানগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরম্ভ না করিলেও সকল ধর্ম ও বর্ণের কাফিরদের বিরুদ্ধে প্রথমেই জিহাদ শুরু করিবে। যতক্ষণ পর্যন্ত না তাহারা ইসলাম গ্রহণ করে কিংবা জিযিয়া (ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমদের উপর ধার্যকৃত কর) প্রদান না করে। আর ইহা দ্বারা আল্লাহ তা’আলার কালেমা সমুন্নত করা, দ্বীন ইসলামের মর্যাদা দান এবং কুফরের দাপট ধ্বংস করা উদ্দেশ্য। আর এই ধাপের কার্যক্রম হিজরী ৯ম সনে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রাযি.)-এর যবানীতে এই ধাপের ঘোষণা দেওয়া হইয়াছিল। আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা সূরা তাওবায় ইহার বিস্তারিত বিবরণ দিয়াছেন। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, অনন্তর যখন হারাম মাসসমূহ অতীত হইয়া যাইবে তখন ঐ মুশরিকদেরকে তোমরা যেইখানেই পাও হত্যা কর এবং ধৃত কর আর অবরোধ কর এবং প্রত্যেক ঘাটির অবস্থানসমূহে তাহাদের লক্ষ্য করিয়া বসিয়া যাও। অতঃপর তাহারা যদি (কুফরী হইতে) তাওবা করিয়া লয় এবং নামায আদায় করিতে থাকে এবং যাকাত দিতে থাকে, তবে তাহাদের পথ ছাড়িয়া দাও, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা অতীব ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। -(সূরা তাওবা ৫)
সূরা তাওবার অপর আয়াতে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, তোমরা যুদ্ধ কর ঐ সকল লোকদের বিরুদ্ধে যাহারা আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের উপর ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁহার রসূল যাহা হারাম করিয়া দিয়াছেন তাহা হারাম করে না আর গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম যতক্ষণ না তাহারা বশ্যতা স্বীকার করতঃ জিযিয়া (কর) প্রদানে স্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। -(সূরা তাওবা ২৯)
সূরায়ে আনফালে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেনঃ আর তোমরা তাহাদের সহিত লড়িতে থাক যদ্যাবধি তাহাদের মধ্য হইতে ফিতনা (শিরক) বিলুপ্ত হইয়া না যায় এবং দ্বীন যেন কেবল আল্লাহর জন্যই হয়। -(সূরা আনফাল ৩৯)


আধুনিক যুগের সর্বোচ্চ ফতোয়াঃ আক্রমণাত্মক জিহাদ
এবারে আসুন সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ইসলামিক শরীয়া বোর্ড থেকে প্রকাশিত একটি ফতোয়া দেখে নিই, সেইসাথে ফতোয়াটির বাংলা অনুবাদও পড়ে নিই। এই ফতোয়াটি বিখ্যাত ফতোয়া বিষয়ক ওয়েবসাইট islamqa.info তে প্রকাশিত হয়েছে, যা সরাসরি বর্তমান সময়ের সর্বোচ্চ সালাফি আলেম শেখ সালিহ আল মুনাজ্জিদের দ্বারা পরিচালিত [23]
There is no compulsion to accept Islam
08/Shawwal/1423 , 12/December/2002
Question 34770
Some friends say that whoever does not enter Islam, that is his choice and he should not be forced to become Muslim, quoting as evidence the verses in which Allah says (interpretation of the meaning):
“And had your Lord willed, those on earth would have believed, all of them together. So, will you (O Muhammad) then compel mankind, until they become believers”
[Yoonus 10:99]
“There is no compulsion in religion”
[al-Baqarah 2:256]
What is your opinion concerning that?.
Answer
Praise be to Allah, and blessings and peace be upon the Messenger of Allah:
The scholars explained that these two verses, and other similar verses, have to do with those from whom the jizyah may be taken, such as Jews, Christians and Magians (Zoroastrians). They are not to be forced, rather they are to be given the choice between becoming Muslim or paying the jizyah.
Other scholars said that this applied in the beginning, but was subsequently abrogated by Allah’s command to fight and wage jihad. So whoever refuses to enter Islam should be fought when the Muslims are able to fight, until they either enter Islam or pay the jizyah if they are among the people who may pay jizyah. The kuffaar should be compelled to enter Islam if they are not people from whom the jizyah may be taken, because that will lead to their happiness and salvation in this world and in the Hereafter. Obliging a person to adhere to the truth in which is guidance and happiness is better for him than falsehood. Just as a person may be forced to do the duty that he owes to other people even if that is by means of imprisonment or beating, so forcing the kaafirs to believe in Allah alone and enter into the religion of Islam is more important and more essential, because this will lead to their happiness in this world and in the Hereafter. This applies unless they are People of the Book, i.e., Jews and Christians, or Magians, because Islam says that these three groups may be given the choice: they may enter Islam or they may pay the jizyah and feel themselves subdued.
Some of the scholars are of the view that others may also be given the choice between Islam and jizyah, but the most correct view is that no others should be given this choice, rather these three groups are the only ones who may be given the choice, because the Prophet (peace and blessings of Allah be upon him) fought the kuffaar in the Arabian Peninsula and he only accepted their becoming Muslim. And Allah says (interpretation of the meaning):
“But if they repent [by rejecting Shirk (polytheism) and accept Islamic Monotheism] and perform As-Salaah (Iqaamat-as-Salaah), and give Zakaah, then leave their way free. Verily, Allah is Oft-Forgiving, Most Merciful”
[al-Tawbah 9:5]
He did not say, “if they pay the jizyah”. The Jews, Christians and Magians are to be asked to enter Islam; if they refuse then they should be asked to pay the jizyah. If they refuse to pay the jizyah then the Muslims must fight them if they are able to do so. Allah says (interpretation of the meaning):
“Fight against those who (1) believe not in Allah, (2) nor in the Last Day, (3) nor forbid that which has been forbidden by Allah and His Messenger (Muhammad), (4) and those who acknowledge not the religion of truth (i.e. Islam) among the people of the Scripture (Jews and Christians), until they pay the Jizyah with willing submission, and feel themselves subdued”
[al-Tawbah 9:29]
And it was proven that the Prophet (peace and blessings of Allah be upon him) accepted the jizyah from the Magians, but it was not proven that the Prophet (peace and blessings of Allah be upon him) or his companions (may Allah be pleased with them) accepted the jizyah from anyone except the three groups mentioned above.
The basic principle concerning that is the words of Allah (interpretation of the meaning):
“And fight them until there is no more Fitnah (disbelief and polytheism, i.e. worshipping others besides Allah), and the religion (worship) will all be for Allah Alone [in the whole of the world]”
[al-Anfaal 8:39]
“Then when the Sacred Months (the 1st, 7th, 11th, and 12th months of the Islamic calendar) have passed, then kill the Mushrikoon (see V.2:105) wherever you find them, and capture them and besiege them, and lie in wait for them in each and every ambush. But if they repent [by rejecting Shirk (polytheism) and accept Islamic Monotheism] and perform As-Salaah (Iqaamat-as-Salaah), and give Zakaah, then leave their way free. Verily, Allah is Oft-Forgiving, Most Merciful”
[al-Tawbah 9:5]
This verse is known as Ayat al-Sayf (the verse of the sword).
These and similar verses abrogate the verses which say that there is no compulsion to become Muslim.
And Allah is the Source of strength.
বাংলা অনুবাদঃ প্রশ্ন ৩৪৭৭০
কিছু বন্ধু বলেন যে, যারা ইসলামে প্রবেশ করে না তা তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ এবং তাদের মুসলিম হতে বাধ্য করা উচিত নয়। তারা প্রমাণ হিসেবে কুরআনের সেই আয়াতগুলো উদ্ধৃত করেন যেখানে আল্লাহ বলেছেন:
“আর তোমার প্রতিপালক যদি চাইতেন, তবে জমিনে যারা আছে তারা সবাই একত্রে ঈমান আনত। তবে কি তুমি (হে মুহাম্মদ) মানুষের ওপর জবরদস্তি করবে যাতে তারা মুমিন হয়ে যায়?” [ ইউনুস ১০:৯৯ ]।
“দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।” [ আল-বাকারা ২:২৫৬ ]।
এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
উত্তর
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম আল্লাহর রাসূলের ওপর বর্ষিত হোক:
আলিমগণ ব্যাখ্যা করেছেন যে, এই দুটি আয়াত এবং এই ধরনের অন্যান্য আয়াতগুলো তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাদের কাছ থেকে জিজিয়া গ্রহণ করা যেতে পারে, যেমন: ইহুদি, খ্রিস্টান এবং মাজুসি (অগ্নিউপাসক)। তাদের বাধ্য করা হবে না, বরং তাদের ইসলাম গ্রহণ অথবা জিজিয়া প্রদানের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
অন্যান্য আলিমগণ বলেছেন যে, এটি ইসলামের শুরুর দিকে প্রযোজ্য ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে যুদ্ধ ও জিহাদের নির্দেশের মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে এটি রহিত (মনসুখ) করা হয়েছে। সুতরাং, যারা ইসলামে প্রবেশ করতে অস্বীকার করে, মুসলিমরা যখন সক্ষম হবে তখন তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে, যতক্ষণ না তারা ইসলাম গ্রহণ করে অথবা জিজিয়া প্রদান করে (যদি তারা জিজিয়া প্রদানের যোগ্য শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হয়)। কাফিরদের ইসলামে প্রবেশের জন্য বাধ্য করা উচিত যদি তারা এমন লোক না হয় যাদের কাছ থেকে জিজিয়া নেওয়া যায়; কারণ এটি দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের সৌভাগ্য ও মুক্তির পথ।
কোনো ব্যক্তিকে সত্যের পথে চলতে বাধ্য করা, যার মধ্যে হিদায়েত ও সুখ নিহিত, তা তার জন্য বাতিলের ওপর থাকার চেয়ে উত্তম। যেমন কোনো ব্যক্তিকে অন্যের পাওনা বা অধিকার পরিশোধ করতে বাধ্য করা যেতে পারে—এমনকি জেল বা মারধরের মাধ্যমেও—তেমনি কাফিরদের এক আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন এবং ইসলামে প্রবেশে বাধ্য করা আরও গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি, কারণ এটি তাদের ইহকাল ও পরকালের কল্যাণের দিকে নিয়ে যাবে। তবে এটি আহলে কিতাব (ইহুদি ও খ্রিস্টান) এবং মাজুসিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কারণ ইসলাম বলে যে এই তিনটি গোষ্ঠীকে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে: তারা হয় ইসলাম গ্রহণ করবে অথবা তারা জিজিয়া প্রদান করবে এবং বশ্যতা স্বীকার করে থাকবে।
কিছু আলিম মনে করেন যে অন্যদেরও ইসলাম ও জিজিয়ার মধ্যে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে, তবে সবচেয়ে সঠিক মত হলো অন্য কাউকে এই সুযোগ দেওয়া হবে না। বরং কেবল এই তিনটি গোষ্ঠীকেই (ইহুদি, খ্রিস্টান ও মাজুসি) এই সুযোগ দেওয়া হবে। কারণ নবী (সা.) আরব উপদ্বীপে কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন এবং তিনি কেবল তাদের ইসলাম গ্রহণই কবুল করেছিলেন। আল্লাহ বলেন:
“কিন্তু যদি তারা তাওবা করে [শিরক বর্জন করে এবং ইসলামী তাওহীদ গ্রহণ করে], সালাত কায়েম করে এবং যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [ আত-তাওবাহ ৯:৫ ]।
তিনি এখানে বলেননি যে,“যদি তারা জিজিয়া প্রদান করে”। ইহুদি, খ্রিস্টান এবং মাজুসিদের ইসলামে প্রবেশের জন্য আহ্বান জানানো হবে; যদি তারা অস্বীকার করে তবে তাদের জিজিয়া দিতে বলা হবে। যদি তারা জিজিয়া দিতেও অস্বীকার করে তবে মুসলিমদের সক্ষমতা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে।আল্লাহ বলেন:
“আহলে কিতাবদের (ইহুদি ও খ্রিস্টান) মধ্যে যারা আল্লাহতে বিশ্বাস করে না, পরকালেও না, এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা হারাম মনে করে না এবং সত্য দ্বীন (অর্থাৎ ইসলাম) অনুসরণ করে না, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না তারা বশ্যতা স্বীকার করে স্বহস্তে জিজিয়া প্রদান করে এবং তারা লাঞ্ছিত বোধ করে।” [ আত-তাওবাহ ৯:২৯ ]।
এটিপ্রমাণিত যে নবী (সা.) মাজুসিদের কাছ থেকে জিজিয়া গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু এটি প্রমাণিত নয় যে নবী (সা.) বা তাঁর সাহাবীগণ (রা.) উপরে উল্লিখিত তিনটি গোষ্ঠী ব্যতীত অন্য কারো কাছ থেকে জিজিয়া গ্রহণ করেছিলেন।
এ বিষয়ে মূল মূলনীতি হলো আল্লাহর বাণী:
“আর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকো যতক্ষণ না ফেতনা (কুফর ও শিরক) দূরীভূত হয় এবং দ্বীন (ইবাদত) সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়।” [ আল-আনফাল ৮:৩৯ ]।
“অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো (ইসলামী বর্ষপঞ্জির ১ম, ৭ম, ১১তম এবং ১২তম মাস) অতিবাহিত হবে, তখন মুশরিকদের যেখানে পাও হত্যা করো, তাদের বন্দী করো, তাদের অবরুদ্ধ করো এবং প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের জন্য ওত পেতে থাকো। কিন্তু যদি তারা তাওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [ আত-তাওবাহ ৯:৫ ]।
এই আয়াতটি ‘আয়াতুস সাইফ’ (তরবারির আয়াত) নামে পরিচিত। এই এবং এই জাতীয় অন্যান্য আয়াতগুলো সেই আয়াতগুলোকে রহিত করে দেয় যেগুলোতে বলা হয়েছিল যে ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।
আল্লাহই সকল শক্তির উৎস।
আসুন আরও একটি বিখ্যাত ফতোয়া পড়ে নিই, [24]
Was Islam spread by the sword?
02/Jumada al-thani/1424 , 31/July/2003
178,102
Question 43087
Was Islam spread by the sword?.
Answer
Praise be to Allah, and blessings and peace be upon the Messenger of Allah:
We have already stated in question no. 34830 that jihad is of two types: taking the initiative in fighting and jihad in self-defence.
Undoubtedly taking the initiative in fighting has a great effect in spreading Islam and bringing people into the religion of Allaah in crowds. Hence the hearts of the enemies of Islam are filled with fear of jihad.
In the English-language Muslim World Magazine it says: There should be some kind of fear in the western world, one of the causes of which is that since the time it first appeared in Makkah, Islam has never decreased in numbers, rather it has always continued to increase and spread. Moreover Islam is not only a religion, rather one of its pillars is jihad.
Robert Bean says: The Muslims conquered the entire world before and they could do it again.
The Orientalists wanted to slander Islam by claiming that it was spread by the sword.
The orientalist Thomas Arnold wrote his book The Preaching of Islam with the aim of killing off the spirit of jihad among the Muslims and proving that Islam was not spread by the sword, rather that it spread by means of peaceful preaching, free from any use of force.
The Muslims fell into the trap that was set up for them. When they heard the orientalists’ accusations that Islam was spread by the sword, they said: You are mistaken, listen to a refutation from one of your own people, this Thomas says such and such.
The defeatists among the Muslims come out to defend Islam, and they want to disavow Islam of this so-called lie, so they deny that Islam was spread by the sword, and they say that jihad is not prescribed in Islam, except in the case of self-defence. There is no such thing in Islam as taking the initiative in fighting in their view. This goes against what the Muslim scholars have stated, let alone the fact that it goes against the Qur’aan and Sunnah.
Shaykh al-Islam Ibn Taymiyah said in Majmoo’ al-Fataawa, 28/263.
The purpose is that all religion should be for Allaah alone, and that the word of Allaah should be supreme. The word of Allaah is a comprehensive phrase that refers to His words that are contained in His Book. Hence Allaah says (interpretation of the meaning):
“Indeed We have sent Our Messengers with clear proofs, and revealed with them the Scripture and the Balance (justice) that mankind may keep up justice”
[al-Hadeed 57:25]
The purpose behind sending the Messengers and revealing the Books was so that mankind might keep up justice with regard to the rights of Allaah and the rights of His creation. Then Allaah says (interpretation of the meaning):
“And We brought forth iron wherein is mighty power (in matters of war), as well as many benefits for mankind, that Allaah may test who it is that will help Him (His religion) and His Messengers in the unseen”
[al-Hadeed 57:25]
So whoever deviates from the Book is to be brought back with iron, i.e. by force. Hence the soundness of the religion is based on the Qur’aan and the Sword. It was narrated that Jaabir ibn ‘Abd-Allaah (may Allaah be pleased with him) said: The Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) commanded us to strike with this, meaning the sword, whoever turns away from this, meaning the Qur’aan.
Ibn al-Qayyim (may Allaah have mercy on him) said in al-Faroosiyyah (p.18):
Allaah sent him – meaning the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) – with the guiding Book and the conquering sword, ahead of the Hour, so that Allaah alone would be worshipped with no partner or associate, and his provision was placed beneath the shade of his sword and spear. Allaah has established the religion of Islam with proof and evidence, and with the sword and spear, both together and inseparable.
This is some of the evidence from the Qur’aan and Sunnah. The evidence clearly indicates that the sword is one of the most important means that led to the spread of Islam.
1 – Allaah says (interpretation of the meaning):
“For had it not been that Allaah checks one set of people by means of another, monasteries, churches, synagogues, and mosques, wherein the Name of Allaah is mentioned much would surely, have been pulled down. Verily, Allaah will help those who help His (Cause). Truly, Allaah is All-Strong, All-Mighty”
[al-Hajj 22:40]
“And if Allaah did not check one set of people by means of another, the earth would indeed be full of mischief. But Allaah is full of bounty to the ‘Aalameen (mankind, jinn and all that exists)”
[al-Baqarah 2:251]
2 – Allaah has commanded us to prepare the means of fighting against the kuffaar and frightening them. He says (interpretation of the meaning):
“And make ready against them all you can of power, including steeds of war (tanks, planes, missiles, artillery) to threaten the enemy of Allaah and your enemy, and others besides whom, you may not know but whom Allaah does know”
[al-Anfaal 8:60]
If Islam was only spread by peaceful means, what would the kuffaar have to be afraid of? Of mere words spoken on the tongue? In al-Saheehayn it is narrated that the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) said: “I have been supported with fear as far as a month’s journey.” Would the kuffaar be afraid of being told, “become Muslim, but if you do not then you are free to believe and do whatever you want”? or were they afraid of jihad and the imposition of the jizyah and being humiliated? That may make them enter Islam so that they may be spared this humiliation.
3 – When the Messenger called people to Islam, his call was accompanied by the sword, and he commanded his leaders to do likewise, so that when the people saw the serious of the Muslims in calling people to their religion, that dispelled any confusion.
Al-Bukhaari (3009) and Muslim (2406) narrated that Sahl ibn Sa’d (may Allaah be pleased with him) said: The Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) said on the day of Khaybar: “Tomorrow I will give the banner to a man at whose hands victory will come, one who loves Allaah and His Messenger, and Allaah and His Messenger love him.” The people spent that night wondering which of them would be given the banner and all of them were hoping for it. Then he (the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) ) said, “Where is ‘Ali?” It was said, “His eye is hurting.” So he spat in his eyes and made du’aa’ for him, and he was healed, as if there had not been anything wrong with him. Then he gave him the flag and he [‘Ali] said: “Shall I fight them so that they will be like us?” He said: “Go ahead, until you reach their encampment, then call them to Islam and tell them what they are obliged to do, for by Allaah if Allaah were to guide a man at your hands that would be better for you than having red camels [the best kind].”
So this call to Islam was accompanied by the force of arms.
Muslim (3261) narrated that Buraydah said: When the Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) appointed a commander to lead an army or a raiding party, he would advise him to fear Allaah with regard to himself and the Muslims with him, then he said: “Fight in the name of Allaah and for the sake of Allaah. Fight those who disbelieve in Allaah, fight but do not steal from the war booty (before it is shared out), betray, or mutilate. Do not kill children. If you meet your enemy of the mushrikeen, call them to three things, and whichever one of them they respond to, accept that from them and leave them alone. Then call them to Islam and if they respond, accept that from them and leave them alone. If they refuse but they pay the jizyah, then they have responded to you, so accept that from them and leave them alone. If they refuse then seek the help of Allaah and fight them…”
So the Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) told his commanders to call the kuffaar to Islam whilst wielding their swords over their heads. If they refused to become Muslim then they should pay the jizyah with humility. If they refused then there was nothing left for them but the sword – “If they refuse then seek the help of Allaah and fight them”
4 – The Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) said: “I have been sent ahead of the Hour with the sword so that Allaah will be worshipped alone, and my provision has been placed in the shade of my spear, and humiliation has been decreed for those who go against my command, and whoever imitates a people is one of them.” Narrated by Ahmad, 4869; Saheeh al-Jaami’, 2831.
The fact that the sword and power were means of spreading Islam is not a sources of shame for Islam, rather it is one of its strengths and virtues, because that makes people adhere to that which will benefit them in this world and in the Hereafter. Many people are foolish and lacking in wisdom and knowledge, and if they are left to their own devices they will remain blinded to the truth, indulging in their whims and desires. So Allaah has prescribed jihad in order to bring them back to the truth and to that which will benefit them. Undoubtedly wisdom dictates that the fool should be prevented from doing that which will harm him, and should be forced to do that which will benefit him.
Al-Bukhaari (4557) narrated that Abu Hurayrah (may Allaah be pleased with him) said: “ ‘You (true believers in Islamic Monotheism, and real followers of Prophet Muhammad and his Sunnah) are the best of peoples ever raised up for mankind’ [Aal- Imraan 3:110 – interpretation of the meaning].” He said: “You are the best (i.e., the most beneficial) of people for mankind, you bring them in the chains that are around their necks until they enter Islam.” Can people be brought in chains except in the case of jihad??
This is something for which Islam deserves to be praised, not condemned. The defeatists should fear Allaah lest they distort this religion and cause it to become weak on the basis of the claim that it is a religion of peace. Yes, it is the religion of peace but in the sense of saving all of mankind from worshipping anything other than Allaah and submitting all of mankind to the rule of Allaah. This is the religion of Allaah, not the ideas of any person or the product of human thought, so that those who promote it should feel ashamed to state its ultimate goal, which is that all religion (worship) should be for Allaah alone. When the ideas that people follow are all produced by human beings and the systems and laws that control their lives are all made up by human beings, then in this case each idea and each system has the right to live safely within its own borders so long as it does not transgress the borders of others, so the various ideas and laws can co-exist and not try to destroy one another. But when there is a divine system and law, and alongside it there are human systems and laws, then the matter is fundamentally different, and the divine law has the right to remove the barriers and free people from enslavement to human beings…
Fiqh al-Da’wah by Sayyid Qutb, 217-222.
It says in Fataawa al-Lajnah al-Daa’imah (12/14):
Islam spread by means of proof and evidence to those who listened to the message and responded to it, and it spread by means of force and the sword to those who were stubborn and arrogant, until they were overwhelmed and became no longer stubborn, and submitted to that reality.
And Allaah knows best.
প্রশ্ন নম্বর: ৪৩০৮৭
প্রশ্ন
ইসলাম কি তরবারির মাধ্যমে ছড়িয়েছে?
উত্তর
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম আল্লাহর রাসূলের ওপর বর্ষিত হোক:
আমরা ইতিপূর্বে ৩৪৮৩০ নং প্রশ্নে উল্লেখ করেছি যে, জিহাদ দুই প্রকার: আক্রমণাত্মক জিহাদ (উদ্যোগী হয়ে যুদ্ধ করা) এবং প্রতিরক্ষামূলক জিহাদ।
নিঃসন্দেহে, আক্রমণাত্মক জিহাদ ইসলাম প্রচার এবং দলে দলে মানুষকে আল্লাহর দ্বীনে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। আর এ কারণেই ইসলামের শত্রুদের অন্তর জিহাদের ভয়ে সর্বদা কম্পিত থাকে।
ইংরেজি ভাষার ‘মুসলিম ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিন’-এ বলা হয়েছে:
“পাশ্চাত্য বিশ্বে এক ধরনের ভয় থাকা উচিত, যার অন্যতম কারণ হলো—মক্কায় আবির্ভাবের পর থেকে ইসলামের অনুসারী সংখ্যা কখনোই কমেনি, বরং এটি সর্বদা বৃদ্ধি পেয়েছে ও ছড়িয়েছে। অধিকন্তু, ইসলাম কেবল একটি ধর্মই নয়, বরং জিহাদ এর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।”
রবার্ট বিন বলেছেন:
“মুসলিমরা আগেও পুরো বিশ্ব জয় করেছিল এবং তারা আবারও তা করতে পারে।”
প্রাচ্যবিদরা (ওরিয়েন্টালিস্ট) ইসলামকে কলঙ্কিত করার উদ্দেশ্যে দাবি করতে চেয়েছিল যে, এটি তরবারির মাধ্যমে ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, প্রাচ্যবিদ টমাস আর্নল্ড তার ‘দ্য প্রিচিং অফ ইসলাম’ বইটি লিখেছিলেন মুসলিমদের মধ্য থেকে জিহাদের চেতনা বিলুপ্ত করার উদ্দেশ্যে এবং এটি প্রমাণ করতে যে—ইসলাম তরবারির মাধ্যমে নয়, বরং বলপ্রয়োগহীন শান্তিপূর্ণ প্রচারের মাধ্যমে ছড়িয়েছে।
মুসলিমরা তাদের জন্য পাতা এই ফাঁদে পা দেয়। যখন তারা প্রাচ্যবিদদের এই অভিযোগ শুনেছিল যে ইসলাম তরবারির মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তখন তারা বলেছিল: “আপনারা ভুল করছেন, আপনাদের নিজেদের লোকের কাছ থেকেই এর খণ্ডন শুনুন, এই যে টমাস আর্নল্ড এমন এমন বলেছেন।”
মুসলিমদের মধ্যে যারা পরাজিত মানসিকতাসম্পন্ন (defeatists), তারা ইসলামকে রক্ষা করতে গিয়ে একে এই তথাকথিত ‘মিথ্যা’ থেকে দায়মুক্ত করতে চায়। তাই তারা অস্বীকার করে বসে যে ইসলাম তরবারির মাধ্যমে ছড়িয়েছে এবং তারা দাবি করে যে আত্মরক্ষা ছাড়া ইসলামে জিহাদের কোনো বিধান নেই। তাদের মতে, ইসলামে আক্রমণাত্মক যুদ্ধের কোনো স্থান নেই। এটি মুসলিম আলিমদের বক্তব্যের যেমন পরিপন্থী, তেমনি কুরআন ও সুন্নাহরও সরাসরি বিপরীত।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ তার ‘মাজমু আল-ফাতাওয়া’-তে (২৮/২৬৩) বলেছেন:
“উদ্দেশ্য হলো পুরো দ্বীন কেবল আল্লাহর জন্য হবে এবং আল্লাহর বাণীই হবে সুউচ্চ। ‘আল্লাহর বাণী’ একটি ব্যাপক শব্দ যা তাঁর কিতাবে বিদ্যমান তাঁর কথাগুলোকে নির্দেশ করে। আল্লাহ বলেছেন:
‘নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদের স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ পাঠিয়েছি এবং তাদের সাথে কিতাব ও তুলাদণ্ড (ন্যায়বিচার) নাযিল করেছি যাতে মানুষ ইনসাফ কায়েম করতে পারে’ [আল-হাদীদ ৫৭:২৫ ]।
রাসূলদের পাঠানো এবং কিতাব নাযিল করার উদ্দেশ্য ছিল মানুষ যাতে আল্লাহর হক এবং সৃষ্টির হকের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার কায়েম করে। এরপর আল্লাহ বলেছেন:
‘আর আমি লোহা নাযিল করেছি, যাতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি (যুদ্ধের ক্ষেত্রে) এবং মানুষের জন্য বহুবিধ কল্যাণ; যাতে আল্লাহ পরীক্ষা করতে পারেন কে তাঁকে (তাঁর দ্বীনকে) এবং তাঁর রাসূলদের না দেখে সাহায্য করে’ [আল-হাদীদ ৫৭:২৫ ]।
সুতরাং, যে ব্যক্তি কিতাব থেকে বিচ্যুত হবে, তাকে লোহার মাধ্যমে (অর্থাৎ শক্তি প্রয়োগে) ফিরিয়ে আনতে হবে। অতএব, দ্বীনের সঠিকতা কুরআন এবং তরবারির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা এটি দিয়ে (তরবারির দিকে ইশারা করে) আঘাত করি তাকে, যে এটি থেকে (কুরআনের দিকে ইশারা করে) মুখ ফিরিয়ে নেয়।”
ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তার ‘আল-ফারুসিয়্যাহ’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১৮) বলেছেন:
“আল্লাহ তাঁকে (রাসূল সা.-কে) হিদায়েতকারী কিতাব এবং বিজয়ী তরবারি দিয়ে কিয়ামতের আগে পাঠিয়েছেন, যাতে অংশীদারহীনভাবে কেবল আল্লাহর ইবাদত করা হয় এবং তাঁর জীবিকা রাখা হয়েছে তাঁর তরবারি ও বর্শার ছায়ার নিচে। আল্লাহ ইসলামের দ্বীনকে প্রমাণ ও দলীলের মাধ্যমে এবং তরবারি ও বর্শার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করেছেন; এই দুটি একত্রে অবিচ্ছেদ্য।”
কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আরও কিছু প্রমাণ নিচে দেওয়া হলো যা স্পষ্ট নির্দেশ করে যে, তরবারি ছিল ইসলাম প্রসারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম:
১. আল্লাহ বলেন:
“আল্লাহ যদি মানবজাতির এক দলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে মঠ, গির্জা, সিনাগগ এবং মসজিদ—যেখানে আল্লাহর নাম অধিক স্মরণ করা হয়—তা অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যেত। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন যে তাঁর (দ্বীনের) সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত শক্তিশালী ও মহাপরাক্রমশালী।” [আল-হাজ্জ ২২:৪০ ]।
“আর আল্লাহ যদি মানুষদের এক দলকে অন্য দল দিয়ে প্রতিহত না করতেন, তবে পৃথিবী বিপর্যয়ে ভরে যেত। কিন্তু আল্লাহ জগতসমূহের ওপর পরম দয়ালু।” [আল-বাকারা ২:২৫১ ]।
২. আল্লাহ আমাদের কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সরঞ্জাম প্রস্তুত করতে এবং তাদের ভীত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন:
“আর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য তোমাদের সাধ্যমতো শক্তি ও অশ্বারোহী বাহিনী প্রস্তুত করো, যা দিয়ে তোমরা আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুদের এবং তাদের বাইরে অন্যদের ভীত করবে যাদের তোমরা জানো না কিন্তু আল্লাহ জানেন।” [আল-আনফাল ৮:৬০ ]।
যদি ইসলাম কেবল শান্তিপূর্ণ মাধ্যমেই ছড়াত, তবে কাফিরদের ভয় পাওয়ার কী থাকত? কেবল মুখের কথার ভয়? সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত আছে যে, নবী (সা.) বলেছেন: “আমাকে এক মাসের দূরত্বের পথ পর্যন্ত শত্রুর মনে ভীতি সঞ্চার করে সাহায্য করা হয়েছে।” কাফিররা কি কেবল এই কথা শুনে ভয় পেত যে—”মুসলিম হও, আর না হলেও তোমরা যা খুশি বিশ্বাস করতে বা করতে পারো”? নাকি তারা জিহাদ, জিজিয়া আরোপ এবং লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে ভীত ছিল? এই ভয়ই হয়তো তাদের ইসলামে প্রবেশ করতে বাধ্য করে যাতে তারা সেই লাঞ্ছনা থেকে রক্ষা পায়।
৩. রাসূল (সা.) যখন মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন, তখন সেই দাওয়াতের সাথে তরবারিও থাকত। তিনি তাঁর সেনাপতিদেরও একই নির্দেশ দিতেন। যখন মানুষ দেখত মুসলিমরা তাদের দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার ব্যাপারে কতটা সিরিয়াস, তখন তাদের সব সংশয় দূর হয়ে যেত।
বুখারী (৩০০৯) ও মুসলিম (২৪০৬) সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: খায়বারের যুদ্ধের দিন নবী (সা.) বলেছিলেন: “কাল আমি এমন এক ব্যক্তির হাতে ঝাণ্ডা দেব যার মাধ্যমে বিজয় আসবে, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাকে ভালোবাসেন।” পরদিন তিনি আলীকে (রা.) ডাকলেন এবং পতাকা দিয়ে বললেন: “এগিয়ে যাও যতক্ষণ না তাদের আঙিনায় পৌঁছাও, তারপর তাদের ইসলামের দাওয়াত দাও এবং তাদের ওপর যা ওয়াজিব তা জানিয়ে দাও। আল্লাহর কসম! তোমার মাধ্যমে যদি আল্লাহ একজন ব্যক্তিকেও হিদায়েত দেন, তবে তা তোমার জন্য লাল উট (আরবদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ) পাওয়ার চেয়েও উত্তম।” সুতরাং, ইসলামের এই দাওয়াতের সাথে অস্ত্রের শক্তিও বিদ্যমান ছিল।
মুসলিম (৩২৬১) বুরাইদাহ থেকে বর্ণনা করেন: যখনই আল্লাহর রাসূল (সা.) কোনো সেনাবাহিনী বা বিশেষ অভিযানের জন্য সেনাপতি নিয়োগ করতেন, তিনি তাকে নিজের ব্যাপারে এবং সাথে থাকা মুসলিমদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করার নসিহত করতেন। তারপর বলতেন: “আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো। যারা আল্লাহকে অস্বীকার করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো… যখন তুমি তোমার মুশরিক শত্রুদের মুখোমুখি হবে, তাদের তিনটি বিষয়ের প্রতি আহ্বান জানাবে। তারা যেটিই গ্রহণ করবে, সেটি মেনে নাও এবং তাদের ছেড়ে দাও। প্রথমে তাদের ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দাও… যদি তারা অস্বীকার করে তবে তাদের জিজিয়া দিতে বলো… যদি তারা জিজিয়া দিতেও অস্বীকার করে তবে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো…”
সুতরাং, আল্লাহর রাসূল (সা.) তাঁর সেনাপতিদের নির্দেশ দিয়েছিলেন কাফিরদের মাথার ওপর তরবারি রেখেই ইসলামের দাওয়াত দিতে। যদি তারা মুসলিম হতে অস্বীকার করে তবে বশ্যতা স্বীকার করে জিজিয়া দেবে, আর যদি তাও অস্বীকার করে তবে তরবারিই তাদের ফয়সালা—”যদি তারা অস্বীকার করে তবে আল্লাহর সাহায্য চাও এবং যুদ্ধ করো।”
৪. নবী (সা.) বলেছেন: “কিয়ামতের আগে আমাকে তরবারি দিয়ে পাঠানো হয়েছে যাতে কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করা হয়। আমার রিযিক রাখা হয়েছে আমার বর্শার ছায়াতলে। আর যারা আমার আদেশ অমান্য করবে তাদের কপালে লাঞ্ছনা ও অপমান লিখে দেওয়া হয়েছে।” [মুসনাদে আহমাদ ৪৮৬৯, সহীহুল জামি’ ২৮৩১ ]।
তরবারি এবং শক্তি ইসলাম প্রসারের মাধ্যম হওয়া ইসলামের জন্য কোনো লজ্জার বিষয় নয়; বরং এটি ইসলামের অন্যতম শক্তি ও শ্রেষ্ঠত্ব। কারণ এটি মানুষকে এমন বিষয়ের প্রতি অনুগত করে যা দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের জন্য কল্যাণকর। অনেক মানুষ নির্বোধ এবং তাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অভাব রয়েছে; তাদের যদি নিজেদের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় তবে তারা সত্যের ব্যাপারে অন্ধই থেকে যাবে এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করবে। তাই আল্লাহ জিহাদ প্রবর্তন করেছেন যাতে তাদের সত্যের দিকে এবং যা তাদের উপকারে আসবে সেদিকে ফিরিয়ে আনা যায়। নিঃসন্দেহে প্রজ্ঞা এটাই দাবি করে যে—নির্বোধকে তার নিজের ক্ষতি করা থেকে বিরত রাখা উচিত এবং যা তার কল্যাণে আসবে তা করতে বাধ্য করা উচিত।
সহীহ বুখারীতে (৪৫৫৭) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি যারা মানবজাতির কল্যাণের জন্য আবির্ভূত হয়েছ’ [আলে ইমরান ৩:১১০ ]—এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: “তোমরা মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ লোক; তোমরা তাদের গলায় শিকল বেঁধে (বন্দী করে) নিয়ে আসো যতক্ষণ না তারা ইসলামে প্রবেশ করে।” জিহাদ ছাড়া কি কাউকে শিকলবন্দী করে আনা সম্ভব?
এটি এমন বিষয় যার জন্য ইসলামের প্রশংসা প্রাপ্য, নিন্দা নয়। পরাজিত মানসিকতাসম্পন্ন মুসলিমদের উচিত আল্লাহকে ভয় করা, যাতে তারা ‘শান্তির ধর্ম’ প্রমাণের অজুহাতে এই দ্বীনকে বিকৃত ও দুর্বল না করে ফেলে। হ্যাঁ, এটি শান্তির ধর্ম—কিন্তু সেই অর্থে যে এটি পুরো মানবজাতিকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত থেকে রক্ষা করে এবং আল্লাহর শাসনের অধীনে এনে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা করে। এটি আল্লাহর দ্বীন, কোনো মানুষের মস্তিষ্কপ্রসূত চিন্তা নয় যে এর প্রচারকদের এর চূড়ান্ত লক্ষ্য বলতে লজ্জিত হতে হবে। মানুষের তৈরি মতবাদ বা আইনগুলো ততক্ষণই নিরাপদ থাকার অধিকার রাখে যতক্ষণ তারা অন্যের সীমানা লঙ্ঘন করে না। কিন্তু যখন বিষয়টি ঐশী আইন বনাম মানব রচিত আইনের হয়, তখন ঐশী আইনের অধিকার রয়েছে সব বাধা অপসারণ করে মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করার।
[ফিকহুদ দাওয়াহ: সাইয়্যেদ কুতুব, পৃষ্ঠা ২১৭-২২২২ ]
‘ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ’-তে (১২/১৪) বলা হয়েছে:
“যারা বার্তা শুনেছে এবং ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে, তাদের কাছে ইসলাম পৌঁছেছে দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে। আর যারা অবাধ্য ও অহংকারী ছিল, তাদের কাছে ইসলাম পৌঁছেছে শক্তি ও তরবারির মাধ্যমে; যতক্ষণ না তারা পরাভূত হয়ে তাদের দম্ভ ত্যাগ করেছে এবং বাস্তবতার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।”
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
আসুন এই বিষয়ে প্রাসঙ্গিক isolamqa.info ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আরওএকটি ফতোয়া পড়ে নিই, [25]
মূর্তি ভাঙ্গার আবশ্যকতা
প্রশ্ন
ইসলামে প্রতিকৃতি ভাঙ্গা কি আবশ্যক; এমনকি সেটা যদি মানব ঐতিহ্য ও সভ্যতার ঐতিহ্য হয় তবুও? সাহাবায়ে কেরাম যখন বিভিন্ন দেশ জয় করলেন তখন তারা বিজিত দেশগুলোতে প্রতিকৃতিগুলো দেখা সত্ত্বেও সেগুলো ভাঙ্গেননি কেন?
উত্তর
আলহামদু লিল্লাহ।.
শরিয়তের দলিলগুলো মূর্তি ভাঙ্গা আবশ্যক হওয়ার সপক্ষে প্রমাণ বহন করে। এমন দলিলগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১। আবুল হাইয়্যাজ আল-আসাদি (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেন, আলী বিন আবু তালেব (রাঃ) আমাকে বললেন: “আমি কি তোমাকে সে কাজে পাঠাব না; যে কাজে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পাঠিয়েছিলেন? তুমি যত প্রতিকৃতি পাবে সেগুলোকে নষ্ট করবেএবং যত উঁচু কবর পাবে সেগুলোকে সমান করে দিবে।”(সহিহ মুসলিম (৯৬৯))
২। আমর বিন আবাসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন: “আপনি কী নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন? তিনি বললেন: ‘আমি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, মূতি ভাঙ্গা এবং আল্লাহ্র এককত্ব প্রতিষ্ঠা ও তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক না করা নিয়ে’ প্রেরিত হয়েছি।”(সহিহ মুসলিম (৮৩২))
মূর্তি ভাঙ্গার আবশ্যকতা আরও তাগিদপূর্ণ হয় যখন আল্লাহ্র বদলে সে সব মূর্তির পূজা করা হয়।
৩। জারীর বিন আব্দুল্লাহ্ আল-বাজালি (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন: হে জারীর! তুমি আমাকে যুল খালাসা (এটি খাছআম গোত্রের একটি ঘর যাকে ইয়ামেনী কাবা ডাকা হত) থেকে প্রশান্তি দিতে পার না? তিনি বলেন: তখন আমি দেড়শ অশ্বারোহী নিয়ে অভিযানের প্রস্তুতি নিলাম। আমি আমার ঘোড়ার উপর স্থির থাকতে পারতাম না। এ বিষয়টি আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে উল্লেখ করলাম। তখন তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমার বুকের উপর আঘাত করলেন এবং বললেন: اللهم ثبته واجعله هاديا مهديا (হে আল্লাহ্! তাকে স্থির রাখুন এবং পথপ্রদর্শক ও সুপথপ্রাপ্ত বানিয়ে দিন।) বর্ণনাকারী বলেন: জারীর (রাঃ) রওয়ানা হয়ে গেলেন এবং গিয়ে সে কাবাকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সুসংবাদ দেয়ার জন্য আমাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তিকে পাঠালেন; যার কুনিয়ত ছিল আবু আরতা। সেই ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন: আমরা সেই মন্দিরটিকে এমন অবস্থায় রেখে আপনার কাছে এসেছি যেন সেটি রোগের কারণে আলকাতরা দেয়া (কালো) উট। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আহমাস গোত্রের ঘোড়া ও বীরপুরুষদের জন্য পাঁচবার বরকতের দোয়া করলেন।”(সহিহ বুখারী (৩০২০) ও সহিহ মুসলিম (২৪৭৬))
ইবনে হাজার (রহঃ) বলেন:
এ হাদিসে উদ্ধৃত হয়েছে: যে জিনিস দ্বারা মানুষ ফিতনাগ্রস্ত হয় সেটি দূর করা শরয়ি বিধান; হোক সেটি কোন ভবন বা অন্য কিছু; যেমন- মানুষ, প্রাণী বা ঝড় পদার্থ।(সমাপ্ত)
৪। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) এর নেতৃত্বে উজ্জা নামক মূর্তিকে ধ্বংস করার জন্য অভিযান পাঠিয়েছিলেন।
৫। তিনি সাদ বিন যায়েদ আল-আশহালি (রাঃ) এর নেতৃত্বে মানাত নামক মূর্তিকে ধ্বংস করার জন্য অভিযান পাঠিয়েছেন।
৬। তিনি আমর বিন আ’স (রাঃ) এর নেতৃত্বে সুআ’ নামক মূর্তিটি ধ্বংসের জন্য অভিযান পাঠিয়েছেন। এ সবগুলো অভিযান হয়েছে মক্কা বিজয়ের পর।
(‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ (৪/৭১২, ৭৭৬, ৫/৮৩) এবং ড. আলী সাল্লাবীর রচিত ‘আস-সিরাতুন নাবাওয়িয়্যাহ’ (২/১১৮৬))
ইমাম নববী ‘শারহে মুসলিম’ এ تصوير (প্রতিকৃতি তৈরী, ছবি অংকন/নির্মাণ) সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: “আলেমগণ ইজমা করেছেন যে, যেটার ছায়া আছে এমন ছবি তৈরী করা নিষিদ্ধ এবং এটি বিকৃত করা আবশ্যক।”(সমাপ্ত)
যে ছবিগুলোর ছায়া হয় সেগুলো তো এই মূর্তিগুলোর মত দেহের অবকাঠামোবিশিষ্ট ছবিগুলো।
আর সাহাবায়ে কেরাম বিজিত দেশসমূহে প্রতিমাগুলো না ভাঙ্গার যে কথা বলা হয় সেটি নিছক ভিত্তিহীন ধারণা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীবর্গ মূর্তি ও প্রতিমা রেখে দেয়ার কথা নয়। বিশেষতঃ যেহেতু ঐ যামানায় এগুলোর পূজা করা হত।
যদি বলা হয়: তাহলে এই ফেরাউনদের প্রতিকৃতি, ফিনিকীনদের প্রতিকৃতি কিংবা অন্যান্য প্রতিকৃতিগুলো বিজয়ী সাহাবীগণ কিভাবে রেখে দিলেন?
জবাব হল: এই মূর্তিগুলোর ব্যাপারে তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে:
এক. এ মূর্তিগুলো এত দূরবর্তী স্থানে ছিল যে, সাহাবায়ে কেরাম সে সব স্থানে পৌঁছেননি। উদাহরণস্বরূপ সাহাবীদের মিশর জয় করার মানে এটা নয় যে, তারা মিশরের সকল স্থানে পৌঁছেছেন।
দুই. কিংবা সেই মূর্তিগুলো দৃশ্যমান ছিল না। বরং সেগুলো ফেরাউনদের ও অন্যদের বাসাবাড়ীর অভ্যন্তরে ছিল। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ ছিল জালিম ও শাস্তিপ্রাপ্তদের বাসস্থান অতিক্রমকালে দ্রুত গমন করা। বরং ঐ সমস্ত স্থানে প্রবেশের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিমে এসেছে যে, “তোমরা শাস্তিপ্রাপ্তদের এলাকায় প্রবেশ করলে কেবল ক্রন্দনরত অবস্থায় প্রবেশ করবে। যেন তাদেরকে যা পাকড়াও করেছে তোমাদেরকে সেটা পাকড়াও না করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরবাসীদের এলাকা অতিক্রম করাকালে এ কথা বলেছেন। যেটা ছিল হুদ আলাইহিস সালামের কওম ছামুদ সম্প্রদায়ের বাসস্থান।
সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিমের অপর এক রেওয়ায়েতে আছে: “যদি তোমাদের কান্না না আসে তাহলে এদের গৃহে প্রবেশ করো না; যেন তাদেরকে যা পাকড়াও করেছে তোমাদেরকে সেটা পাকড়াও না করে।”
সাহাবায়ে কেরামের ব্যাপারে যে ধারণা রাখা যায় সেটা হল তাঁরা যদি এদের মন্দির বা বাড়ীঘর দেখেও থাকেন তারা সেগুলোতে প্রবেশ করেননি এবং এগুলোর অভ্যন্তরে যা রয়েছে সেসব তারা দেখেননি।
এর মাধ্যমে সাহাবায়ে কেরাম কর্তৃক পিরামিড এবং এর মধ্যে যা কিছু ছিল সেগুলো ধ্বংস না করার যে আপত্তি আসতে পারে সেটার জবাব হয়ে যায়। তবে এর সাথে এ সম্ভাবনা রয়েছে যে, সে যামানায় পিরামিডের প্রবেশপথগুলো বালির স্তুপ দিয়ে ঢাকা ছিল।
তিন. বর্তমানে দৃশ্যমান মূর্তিগুলো তখন বালিতে ঢাকা ছিল, অদৃশ্য ছিল কিংবা এগুলো নব আবিষ্কৃত কিংবা এগুলোকে অনেক দূরবর্তী স্থান থেকে নিয়ে আসা হয়েছে; যে স্থানগুলোতে সাহাবায়ে কেরাম পৌঁছেননি।
ইতিহাসবিদ যিরিকলিকে পিরামিড ও আবুল হুল (একটি মূর্তির নাম) ইত্যাদি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয় যে, যে সকল সাহাবী মিশর প্রবেশ করেছেন তারা কি এগুলোকে দেখেছেন? জবাবে তিনি বলেন: এ মূর্তিগুলোর অধিকাংশই ছিল বালিতে ঢাকা। বিশেষতঃ আবুল হুল।(শিবহু জাযিরাতিল আরব (৪/১১৮৮))
যদি ধরে নেয়া হয় যে, কোন একটি মূর্তি দৃশ্যমান ছিল; বালিতে ঢাকা ছিল না; সেক্ষেত্রেও সাহাবীরা ঐ মূর্তিটিকে দেখেছেন এবং তারা ঐ মূর্তিটি ভাঙ্গতে সক্ষম ছিলেন এটা সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক।
বাস্তবতা হচ্ছে কোন কোন মূর্তি ধ্বংস করতে সাহাবায়ে কেরাম অক্ষম ছিলেন। কেননা এ ধরণের কোন কোন মূর্তি ভাঙ্গতে মেশিনারি, যন্ত্রপাতি, বিস্ফোরক ও লোকবল থাকা সত্ত্বেও বিশদিন সময় লেগেছে; যেগুলো সাহাবীদের যামানায় ছিল না।
সাহাবীরা যে এগুলো ভাঙ্গতে অক্ষম ছিলেন এর প্রমাণ হল যা ইবনে খালদুন তাঁর ‘মুকাদ্দিমা’-তে (পৃষ্ঠা-৩৮৩) উল্লেখ করেছেন যে, একবার খলিফা আর-রশিদ পারস্যের বাদশার প্রাসাদ ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি সেটি ভাঙ্গার কাজ শুরু করে দেন এবং এর লক্ষ্যে লোকবল জমায়েত করেন, কুঠার সংগ্রহ করেন, প্রাসাদটিকে আগুনে উত্তপ্ত করেন, এর উপরে শির্কা ঢালেন। কিন্তু অবশেষে তিনি ব্যর্থ হন। এবং খলিফা মামুন মিশরের পিরামিডগুলো ভাঙ্গার লক্ষ্যে হাতি জড়ো করেন। কিন্তু তিনিও সক্ষম হননি।
আর মূর্তিগুলো না ভাঙ্গার পক্ষে এ কথা বলে কারণ দর্শানো যে, এ মূর্তিগুলো মানব ঐতিহ্য- এমন কথার প্রতি দৃষ্টিপাতের সুযোগ নাই। কেননা লাত, উজ্জা, হুবাল, মানাত ও অন্যান্য মূর্তিগুলোর যারা পূজা করত কুরাইশরা কিংবা আরব উপদ্বীপের অন্যান্য লোকেরা তাদের নিকট এগুলো তো মানব ঐতিহ্যই ছিল।
এগুলো ঐতিহ্য ঠিকই; কিন্তু হারাম ঐতিহ্য যা ধ্বংস করা ওয়াজিব। যখন আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ এসে যায় তখন একজন মুমিন দেরী না করে সে নির্দেশ পালন করে। এ সমস্ত দুর্বল যুক্তি দিয়ে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আদেশকে প্রত্যাখ্যান করে না। আল্লাহ্ তাআলা বলেন: “রাসূল তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিবেন, এই উদ্দেশ্য যখন তাদেরকে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয় তখন মুমিনদের কথা হয় এটাই: তারা বলে আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। আর তারাই সফলকাম।”(সূরা নূর, আয়াত: ৫১)
আমরা আল্লাহ্র কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন সকল মুসলিমকে তিনি যা পছন্দ করেন ও যেটার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট তা পালন করার তাওফিক দেন।
আল্লাহ্ই সর্বজ্ঞ।
বর্তমান সময়ে সবচাইতে প্রখ্যাত ইসলামের আলেমদের এই বিষয়ে মতামত হচ্ছে, মুসলিমরা যখন ক্ষমতাপ্রাপ্ত হবে, তখন অমুসলিমদের সকল মূর্তি এবং মন্দির ধ্বংস করে ফেলতে হবে। কোরআন হাদিস সব গবেষণা করে ইসলামের প্রখ্যাত আলেমগণ এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছেছেন। এই বিষয়ে সরাসরি ফতোয়াও দেয়া আছে। ফতোয়াটি এখানে দেয়া হলো, যেটি প্রখ্যাত ফতোয়ার ওয়েবসাইট Islamweb থেকে নেয়া – [26]
Demolishing idols in a non-Muslim country
Fatwa No: 190575
Fatwa Date:18-11-2012 – Muharram 5, 1434Email Print
Rating:
Question
Assalamu Alaikum, In the Quran, Allah says that Abraham destroyed the idols to teach the people that idols don’t have any power. In another place, Quran asks to follow the religion of Abraham. Is it required for a muslim living in a hindu country to destroy the idols. Will this not cause religious hatred and communal violence? Is it allowed to construct hindu temple in an islamic country?
Answer
All perfect praise be to Allaah, The Lord of the Worlds. I testify that there is none worthy of worship except Allaah, and that Muhammad sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) is His slave and Messenger.
There is Islamic evidence that it is an obligation to demolish idols and statues, among which is the Hadeeth narrated by ‘Amr ibn ‘Abasah may Allaah be pleased with him that he asked the Prophet sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ): ”What did Allaah send you with?” He sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) said: “He sent me to keep ties with kinship and demolish idols, and that Allaah Alone should be worshipped without associating anything with Him.” (Muslim)
Also, Abu Al-Hayyaaj Al-Asadi may Allaah be pleased with him said: “ ‘Ali ibn Abi Taalib may Allaah be pleased with him said to me: “Shall I send you for a mission once the Prophet sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) had sent me for: Do not leave an idol unless it is destroyed, nor you leave an up leveled grave unless you level it down to ground.” (Muslim)
However, this is restricted to the ability of the Muslims in doing so and them being safe from causing a greater harm. Our best example is that of the Prophet sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) as he used to go to the House of Allaah and perform Tawaaf (circumambulation around the Ka‘bah) while there were 360 idols around it but he did not cause harm to any of them until after the conquest of Makkah and after the Muslims became strong and the polytheists were no longer ruling over Makkah; it was then that the Prophet sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) destroyed the idols. He sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) prodded the idols with a bow while saying: “The truth has come and falsehood has vanished.” The story is narrated in Saheeh Al-Bukhari and Saheeh Muslim.
The Prophet sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) used to take into consideration the prevailing circumstances and leave that which could lead to a greater evil despite the fact that it was permissible in principle. The evidence about this is the Hadeeth of ‘Aa’ishah may Allaah be pleased with her who said: “I asked the Prophet sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) about Al-Hijr (the area adjacent to the Ka’bah enclosed by a low semi-circular wall), is it from the House (of Allaah)? He sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) said: ’Yes.’ I said, ‘Why did they not include it in the House?’ He sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) said: ’Your people did not have enough resources to spend on it.’ I said: ’Why is the level of its door raised high?’ He sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) said: ’Your people did so, so that they would let whomever they want to enter it and prevent whomever they want from entering it. Your people are close to the Pre-Islamic Period of Ignorance; so I fear that they would reject if I included the Hijr in the House and make its door at a level with the ground.’ ” (Al-Bukhari and Muslim)
Besides, what the Prophet Ibraaheem (Abraham) may Allaah exalt his mention did does not contradict what we have stated, as he did not do that matter until he was capable of doing it and being secure from being harmed. Ibn ‘Aashoor may Allaah have mercy upon him said while interpreting the verse (which means): {And (I swear) by Allaah, I will surely plan against your idols after you have turned and gone away.} (Quran 21:57): “He conditioned that his plan (agaist their idols) be after they depart in order to indicate that he will inflict harm on the idols as soon as he will be able to do so. This proves his strong determination to change evil, because taking the initiative to change evil although it is by hand (physically), is a rank of strong determination, but he would not be able to do so in the presence of idolaters. So, if he were to try to demolish it in their presence, then his act will be in vain. What is meant from changing evil: is to remove it as much as possible, so removing it by hand can only be done with the existence of the ability to do so.”
Finally, it should be noted that it is not permissible for the Muslims to allow non-Muslims to establish one of their temples in a Muslim country, let alone the Muslim country establishing it itself. The conditions that ‘Umar may Allaah be pleased with him put on the non-Muslims living safely in a Muslim country under Muslim rule included: “….that we will not erect in our city any church….”
Allaah Knows best.
উপরের ফতোয়াটির ভাবানুবাদ দেয়া হলো ( অনুবাদক- কোয়েস আলী ) –
প্রশ্নঃ
আসসালামুয়ালাইকুম। কোরআনে আল্লাহ বলেছেন যে, ইব্রাহিম মুর্তি ভেঙে মানুষকে এটাই বোঝাতে চেয়েছিলেন যে মুর্তির কোন শক্তি নেই। কোরআনের আরেক জায়গায় ইব্রাহিম প্রবর্তিত ধর্মকে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এখন, হিন্দু দেশে বসবাসকারী মুসলিমদের কি মুর্তি ভাঙা বাধ্যতামূলক? এতে কি ধর্মীয় ঘৃণা ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস হয়ে যাবে না? ইসলামিক দেশে হিন্দু মন্দির স্থাপন করা কি জায়েজ?
উত্তরঃ
ইসলামে মুর্তি ভাঙার নির্দেশনা বিষয়ে যে তথ্য আমরা পাই, তার মধ্যে একটি হাদীস- আমির ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত,যে তিনি নবীকে জিজ্ঞাসা করলেন,”আল্লাহ আপনাকে কি নির্দেশ প্রেরণ করেছেন?” নবী বললেন,”তিনি আমাকে সংহতি বজায় রাখতে পাঠালেন ওমুর্তি ভাঙতে বলেছেন, যাতে আল্লাহর সমকক্ষ কোনকিছুই না থাকতে পারে।“(মুসলিম)
আবারআবু আলা হায়াজ আল আসাদী বলেন, “আলী ইবনে আবু তালিব বললেন, নবী আমাকে যে কাজে পাঠিয়েছিলেন,তোমাকেও সে কাজে পাঠাতে পারি কি-কোন মুর্তি আস্ত রাখবে না, যতক্ষন পর্যন্ত সেগুলো ধংসস্তুপ হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত না সেই উচু ধ্বংসস্তুপ সমতল ভূমিতে পরিণত হয়।(মুসলিম)
যাইহোক, এখন মুসলিমদের জন্য এটা সীমিত করা হয়েছে, যাতে তারা বড় ধরণের বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারে। সেরা উদাহরণ হচ্ছে, নবী সাঃ আল্লাহর ঘরে নিয়মিত যেতেন ও তাওয়াফ করতেন। সেখানে চারপাশের ৩৬০ ডিগ্রি জুড়ে নানা মুর্তি ছিল, কিন্তু তিনি মক্কা বিজয়ের আগে সেগুলোর কোন ক্ষতি করেন নি এবং এরপর যখন মুসলিমরা শক্তিশালী হল এবং বহু ঈশ্বরবাদীরা দুর্বল হল, তখন নবী সাঃ এক ঝটকায় মুর্তিগুলো ভেঙে দিলেন ও বললেন,”সত্য উন্মোচিত হয়েছে, মিথ্যা দূর হয়েছে।“ ইহা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে।
নবী চারপাশকে পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিতেন এবং আদর্শগত দিকের চেয়ে কোন কাজে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনাকে বেশী গুরুত্ব দিতেন। আয়েশা বর্ণিত হাদীস হতে আমরা পাই- ‘আমি নবীকে জিজ্ঞেস করলাম, আল হিজর (কাবা সংলগ্ন অর্ধচন্দ্রাকৃতির দেয়াল ঘেরা স্থান) কি আল্লাহর ঘরের সাথে সংযুক্ত?’ নবী বললেন,’হ্যা’। আমি বললাম, ‘তবে আল্লাহ একে ঘরের সাথে কেন সংযুক্ত করেন নি?’ নবী বললেন,’তোমার লোকেদের যথেষ্ট অর্থ ছিল না”। আমি বললাম, দরজার পাড় এত উচু কেন?’ নবী বললেন,’তোমার লোকেরা এটা করেছে, যাতে তারা কাউকে কাউকে এখানে ঢুকতে দিতে পারে, কাউকে কাউকে না দিতে পারে। তোমার লোকেরা ইসলামপূর্ব সময়ের ন্যায় অজ্ঞ/মূর্খ ছিল। তাই আমি চিন্তিত ছিলাম যে আমি যদি হিজরকে কাবার সাথে যুক্ত করি ও দরজা ভেঙে মাটির সমান করে দিই, তবে তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
এখন ইব্রাহিম নবী যা করেছেন, তার সাথে আমাদের বক্তব্য সাংঘর্ষিক না। কেননা, তিনি সক্ষমতা অর্জনের পরেই কাজটা করেছিলেন এবং ক্ষতি থেকে দূরে ছিলেন। ইবনে আসুর বর্ণণা করেন-“আল্লাহর কসম, যখন তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে চলে যাবে, তখন আমি তোমাদের মূর্তিগুলোর ব্যাপারে একটা ব্যবস্থা অবলম্বন করব।”
তিনি শর্ত দিলেন যে, মুর্তি ধ্বংসের কাজটা তখনই করতে হবে, যখন সেটার সামর্থ্য আপনার হবে।
এটা দিয়ে প্রমানিত হয় যে, খারাপকে বদলাবার ব্যাপারে নবীর দৃঢ় মনোভাব ছিল কারণ নিজ হাতে মুর্তি ভাঙার উদয়োগ তার দৃঢ় ইচ্ছার বিষয়টি নিশ্চিত করে। কিন্তু মুর্তি পূজারীদের উপস্থিতিতে তিনি সেটা করতে পারতেন না। কারণ, এর ফলে সেই প্রচেষ্টা ব্যার্থ হতে পারে। খারাপকে বদলাবার মানে হল, যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা ও নিজ হাতে ধ্বংস করা। সেটা তখনই সম্ভব, যখন আপনার সামর্থ্য হবে।
সবশেষে, মুসলিম দেশে কোন অমুসলিম মন্দির স্থাপন কিংবা কোন মুসলিম দেশকে করতে দেয়া, মুসলমানের পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব না। হযরত উমরের ইসলামিক শাসনের অধীনে অমুসলিমদের নিরাপত্তা দিয়ে শর্ত দিয়েছিলেন, ’ আমরা আমাদের নগরে কোন চার্চ তৈরী করতে দেব না”
রাতের আঁধারে অতর্কিত হামলাঃ বেসামরিক নারী-শিশুরা যখন গনিমতের মাল
যেকোনো সভ্য সমাজ বা আধুনিক আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতিতে গেরিলা আক্রমণ এবং সাধারণ ডাকাতির মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট সীমারেখা থাকে। গেরিলা যুদ্ধে লক্ষ্যবস্তু হয় কেবল সশস্ত্র শত্রুসেনা। কিন্তু যখন কোনো আক্রমণে ঘুমন্ত, নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, শিশুদের জীবনের নিরাপত্তা কেড়ে নেওয়া হয় এবং নারীদের সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয়, তখন তাকে আর ‘যুদ্ধ’ বলা যায় না—তা হয়ে দাঁড়ায় স্রেফ সংঘবদ্ধ ‘ডাকাতি’ বা ‘যুদ্ধাপরাধ’। ইসলামের প্রাথমিক যুগের এই অতর্কিত হামলাগুলো (যাকে সীরাতের পরিভাষায় ‘তাবেয়ীত’ বলা হয়) ছিল ঠিক তেমনই নৃশংস। রাতের অন্ধকারে যখন মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকতো, তখন মুসলিম বাহিনী অতর্কিতভাবে তাদের জনপদে ঝাঁপিয়ে পড়তো। এই আক্রমণে নারী বা শিশু আলাদা করার কোনো সুযোগ বা সদিচ্ছা কোনোটাই থাকতো না। নবী মুহাম্মদের নির্দেশ ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার—যেহেতু রাতের আঁধারে শত্রু-মিত্র আলাদা করা কঠিন, তাই অবিশ্বাসী কাফেরদের পরিবারের নারী ও শিশুরাও সেই আক্রমণের বৈধ লক্ষ্যবস্তু। যারা এই নৃশংস হামলা থেকে বেঁচে যেতো, তাদের ভাগ্য হতো আরও করুণ; তাদের বন্দী করে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করা হতো এবং বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হতো। এটি আধুনিক মানবাধিকারের দৃষ্টিতে কেবল অমানবিকই নয়, বরং এক ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ।
নিচের হাদিসটিতে দেখা যায়, মুহাম্মদের আক্রমণের মানদণ্ড কোনো ন্যায়বিচার বা আত্মরক্ষা ছিল না, বরং তা ছিল কেবল একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় আগ্রাসন। যদি কোনো জনপদে আযানের শব্দ শোনা যেতো, তবে তারা প্রাণে বাঁচতো; অন্যথায় তাদের ওপর রক্তক্ষয়ী হামলা চালানো হতো। অর্থাৎ, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নির্ভর করতো তারা মুহাম্মদের ধর্ম গ্রহণ করেছে কি না—তার ওপর। [27]
সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪/ কিতাবুস স্বলাত
পরিচ্ছেদঃ ৬. দারুল কুফর বা অমুসলিম দেশে কোন গোত্রে আযানের ধ্বনি শোনা গেলে সেই গোত্রের উপর হামলা করা থেকে বিরত থাকা
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ৭৩৩ , আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৩৮২
৭৩৩। যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভোরে শত্রুর বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনা করতেন। আযান শোনার অপেক্ষা করতেন। আযান শুনতে পেলে আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকতেন। আযান শুনতে না পেলে আক্রমণ করতেন। একবার তিনি কোন এক ব্যাক্তিকে اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ বলতে শুলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি ফিতরাত (দ্বীন ইসলাম) এর উপর রয়েছ। এর পর সে ব্যাক্তি أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ বলল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে এলে। সাহাবায়ে কিরাম লোকটির প্রতি লক্ষ্য করে দেখতে পেলেন যে, সে ছিল একজন ভেড়ার রাখাল।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
এই হাদিসটি ইসলামের ‘শান্তিবাদী’ এবং ‘রক্ষণাত্মক’ দাবির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়। এখানে দেখা যাচ্ছে, বনূ মুসতালিক গোত্র কোনো যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল না, তারা শান্তিতে তাদের পশুদের পানি পান করাচ্ছিল। এমন অপ্রস্তুত অবস্থায় কোনো ঘোষণা ছাড়াই তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে যোদ্ধাদের হত্যা করা হয় এবং হারিছ কন্যা জুওয়াইরিয়াসহ নারীদের বন্দী করা হয়। এটি কোনো বীরত্ব নয়, বরং চরম প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ইসলাম প্রচারকগণ এই আক্রমণকে নানাভাবে বৈধতা দেয়ার উদ্দেশ্যে বলেন, বনু মুসতালিক গোত্র নিশ্চয়ই বড় কোন অন্যায় করেছিল, তাই শাস্তিস্বরূপ এই আক্রমণ করা হয়েছিল। কিন্তু তর্কের খাতিরে সেই দাবীকে মেনে নিলেও, বেসামরিক নারী ও শিশুদের ওপর আক্রমণ, হত্যা এবং দাসে পরিণত করে ভোগ বা বাজারে বিক্রি করাকে উনারা কীভাবে নৈতিক কাজ মনে করেন, তা বোধগম্য হয় না।
এই হাদিসগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইসলামের প্রাথমিক যুদ্ধগুলো কেবল ‘আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ছিল না, বরং তা ছিল ‘অসতর্ক জনগোষ্ঠীকে পরাস্ত করে গনীমত সংগ্রহের কৌশল’। বনূ মুসতালিক গোত্র কোনো যুদ্ধের ময়দানে ছিল না, বরং তারা প্রাত্যহিক কাজে ব্যস্ত ছিল—এমন অবস্থায় আক্রমণ করার অর্থ হলো, ইসলামি জিহাদে নৈতিকতার চেয়ে ‘বিজয়’ এবং ‘সম্পদ দখল’ ছিল অগ্রগণ্য। এছাড়া জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিছকে যেভাবে ‘যুদ্ধবন্দী’ হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তা আধুনিক জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী ‘অপহরণ’ ও ‘যৌন দাসত্বের’ নামান্তর।” [28]
সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩৩/ জিহাদ ও এর নীতিমালা
পরিচ্ছেদঃ ১. যে সকল বিধর্মীর কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছেছে, পূর্ব ঘোষণা ব্যতীত তাদের বিরুদ্ধে আক্রমন পরিচালনা বৈধ
৪৩৭০। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী (রহঃ) … ইবনু আউন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, আমি নাফি’ (রহঃ) কে এই কথা জানতে চেয়ে পত্র লিখলাম যে, যুদ্ধের পূর্বে বিধর্মীদের প্রতি দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া প্রয়োজন কি না? তিনি বলেন, তখন তিনি আমাকে লিখলেন যে, এ (নিয়ম) ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ মুসতালিকের উপর আক্রমণ করলেন এমতাবস্থায় যে, তারা অপ্রস্তুত ছিল (তা জানতে পারেনি।) তাদের পশুদের পানি পান করানো হচ্ছিল। তখন তিনি তাদের যোদ্ধাদের (পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ) হত্যা করলেন এবং অবশিষ্টদের (নারী শিশুদের) বন্দী করলেন। আর সেই দিনেই তাঁর হস্তগত হয়েছিল। (ইয়াহইয়া বলেন যে, আমার ধারণা হল, তিনি বলেছেন) জুওয়ায়রিয়া অথবা তিনি নিশ্চিতরূপে ইবনাতুল হারিছ (হারিছ কন্যা) বলেছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এই হাদীস আমাকে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। তিনি সেই সেনাদলে ছিলেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু ‘আউন (রহঃ)
এই ঘটনা কিন্তু এটিই একমাত্র উদাহরণ নয়। প্রায় একই ঘটনা ঘটেছিল আওতাস আক্রমণের সময়েও। এই ক্ষেত্রে কাফের গোত্রটি তাদের স্ত্রী এবং শিশুদেরও সাথে নিয়ে এসেছিল, কারণ ছিল তারা যুদ্ধে যাওয়ার কারণে তাদের এলাকা অরক্ষিত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই নারী ও শিশুরা কোন অবস্থাতেই সেই যুদ্ধের অংশগ্রহণকারী ছিল না। তারা শুধুমাত্র যোদ্ধাদের সাথে গিয়েছিল, যুদ্ধের ময়দান থেকে দুরে একটি নির্দিষ্ট স্থানে তারা তাঁবু গেড়ে সেখানেই অপেক্ষা করছিল। সেই নারী ও শিশুদের মুসলিমরা গনিমতের মাল হিসেবে গ্রহণ করে এবং স্বামীদের উপস্থিতিতেই তাদের বিছানায় তুলে নেয়, [29]
সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
১৮। দুধপান
পরিচ্ছেদঃ ৯. ইসতিবরার পর যুদ্ধ বন্দিনীর সাথে সঙ্গম করা জায়িয এবং তার স্বামী বর্তমান থাকলে সে বিবাহ বাতিল
হাদিস একাডেমি নাম্বারঃ ৩৫০০ , আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১৪৫৬
৩৫০০-(৩৩/১৪৫৬) উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার আল মায়সারাহ আল কাওয়ারীরী (রহঃ) ….. আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়ন এর যুদ্ধের সময় একটি দল আওত্বাস এর দিকে পাঠান। তারা শত্রু দলের মুখোমুখী হয়ে তাদের সাথে যুদ্ধ করে জয়লাভ করে এবং তাদের অনেক কয়েদী তাদের হস্তগত হয়। এদের মধ্য থেকে দাসীদের সাথে যৌন সঙ্গম করা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকজন সাহাবা যেন নাজায়িয মনে করলেন, তাদের মুশরিক স্বামী বর্তমান থাকার কারণে। আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন “এবং নারীর মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ” অর্থাৎ তারা তোমাদের জন্য হালাল, যখন তারা তাদের ইদ্দাত (ইদ্দত) পূর্ণ করে নিবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৭৩, ইসলামীক সেন্টার ৩৪৭২)
[গর্ভবতী হলে প্রসব, অন্যথায় এক ঋতু অতিবাহিত হওয়াকে ইসতিবরার বলে।]
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)
আসুন আরো কিছু হাদিস দেখে নিই, [30] [31] [32] [33] [34] [35] –
সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৬/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ১৩৯. বন্দী স্ত্রীলোকের সাথে সহবাস করা।
২১৫২. উবায়দুল্লাহ্ ইবন উমার ইবন মায়সার …… আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়নের যুদ্ধের সময় আওতাস্ নামক স্থানে একটি সৈন্যদল প্রেরণ করেন। তারা তাদের শত্রুদের সাথে মুকাবিলা করে তাদেরকে হত্যা করে এবং তাদের উপর বিজয়ী হয়। আর এই সময় তারা কয়েদী হিসাবে (হাওয়াযেন গোত্রের) কিছু মহিলাকে বন্দী করে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কিছু সাহাবী তাদের সাথে অনধিকারভাবে সহবাস করা গুনাহ মনে করে, কেননা তাদের মুশরিক স্বামীরা তখন বন্দী ছিল। তখন আল্লাহ্ তা’আলা এই আয়াত নাযিল করেনঃ (অর্থ) যে সমস্ত স্ত্রীলোকদের স্বামী আছে তারা তোমাদের জন্য হারাম। তবে যারা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী অর্থাৎ যেসব মহিলা যুদ্ধবন্দী হিসাবে তোমাদের আয়ত্বে আসবে তারা ইদ্দত (হায়েযের) পূর্ণ করার পর তোমাদের জন্য হালাল।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)
সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৬/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ১৩৯. বন্দী স্ত্রীলোকের সাথে সহবাস করা।
১৫৪. আমর ইবন আওন …… আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ কোন গর্ভবতী বন্দিনীর সাথে তার সন্তান প্রসবের আগে এবং কোন রমণীর সাথে তার হায়েয হতে পবিত্র হওয়ার পূর্বে সহবাস করবে না।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)
সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
১৭। বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ২২. আযল এর হুকুম
হাদিস একাডেমি নাম্বারঃ ৩৪৩৬,
আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১৪৩৮
৩৪৩৬-(১২৫/১৪৩৮) ইয়াহইয়া ইবনু আবূ আইয়ুব, কুতায়বাহ্ ইবনু সাঈদ ও আলী ইবনু হুজর (রহিমাহুমুল্লাহ) ….. ইবনু মুহায়রিয (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আবূ সিরমাহ (রহঃ) আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) এর নিকট গেলাম। আবূ সিরমাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আবূ সাঈদ! আপনি কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ’আযল সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বানু মুসতালিক এর যুদ্ধ করেছি। সে যুদ্ধে আমরা আরবের সবচেয়ে সুন্দরী বাঁদীদের বন্দী করলাম। এদিকে আমরা দীর্ঘকাল স্ত্রী সাহচর্য থেকে বঞ্চিত ছিলাম। অন্যদিকে আমরা ছিলাম সম্পদের প্রতি অনুরাগী। এমতাবস্থায় আমরা বাঁদীদের দ্বারা উদ্দেশ্য হাসিল করার এবং ’আযল করার ইচ্ছা করলাম। কিন্তু আমরা এ কথাও আলোচনা করলাম যে, আমরা কি এ কাজ করতে যাব, অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে উপস্থিত রয়েছেন। তার নিকট আমরা কি এ ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করব না! তাই আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ ঐ কাজ না করাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। কেননা, আল্লাহ তা’আলা কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ সৃষ্টি করার কথা লিখে রেখেছেন সে সব মানুষ সৃষ্টি হবেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪০৯, ইসলামীক সেন্টার ৩৪০৮)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু মুহায়রিয (রহঃ)
সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ]
পরিচ্ছেদঃ ৬৪/৩২. যাতুর রিকা-র যুদ্ধ।
قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ وَذَلِكَ سَنَةَ سِتٍّ وَقَالَ مُوْسَى بْنُ عُقْبَةَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَقَالَ النُّعْمَانُ بْنُ رَاشِدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ كَانَ حَدِيْثُ الإِفْكِ فِيْ غَزْوَةِ الْمُرَيْسِيْعِ
ইবনু ইসহাক (রহ.) বলেছেন, এ যুদ্ধ ৬ষ্ঠ হিজরী সনে সংঘটিত হয়েছিল। মূসা ইবনু ‘উকবাহ (রহ.) বলেছেন, ৪র্থ হিজরী সনে। নুমান ইবনু রাশিদ (রহ.) যুহরী (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মুরাইসীর যুদ্ধে ইফকের ঘটনা ঘটেছিল।
৪১৩৮. ইবনু মুহাইরীয (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি মসজিদে প্রবেশ করে আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ)-কে দেখতে পেয়ে তার কাছে গিয়ে বসলাম এবং আযল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বানূ মুসতালিকের যুদ্ধে যোগদান করেছিলাম। এ যুদ্ধে আরবের বহু বন্দী আমাদের হস্তগত হয়। মহিলাদের প্রতি আমাদের মনে আসক্তি জাগে এবং বিবাহ-শাদী ব্যতীত এবং স্ত্রীহীন অবস্থা আমাদের জন্য কষ্টকর অনুভূত হয়। তাই আমরা আযল করা পছন্দ করলাম এবং তা করতে মনস্থ করলাম। তখন আমরা পরস্পর বলাবলি করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে আছেন। এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞেস না করেই আমরা আযল করতে যাচ্ছি। আমরা তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ওটি না করলে তোমাদের কী ক্ষতি? ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত যতগুলো প্রাণের আগমন ঘটবার আছে, ততগুলোর আগমন ঘটবেই। [২২২৯; মুসলিম ত্বলাক (তালাক)/২১, হাঃ ১৪৩৮, আহমাদ ১১৮৩৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮২৯)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু মুহায়রিয (রহঃ)
সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
১৭। বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ২২. আযল এর হুকুম
হাদিস একাডেমি নাম্বারঃ ৩৪৫১, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১৪৪০
৩৪৫১-(১৩৬/১৪৪০) আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহিমাহুমাল্লাহ) ….. জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ’আযল করতাম আর কুরআন নাযিল হত। এর উপর ইসহাক আরো বাড়িয়ে বলেছেন যে, সুফইয়ান (রহঃ) বলেন, এতে যদি নিষেধ করার মতো কিছু থাকত, তবে কুরআন তা নিষেধ করে দিত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪২৪, ইসলামীক সেন্টার ৩৪২৩)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

জিহাদের নৃশংসতা আরো চরমে পৌঁছায় যখন রাতের আঁধারে কাফেরদের শিশুদের ওপর আক্রমণ করাও ইসলামের বিধানে বৈধ। মুহাম্মদের সাহাবীরা যখন দ্বিধান্বিত হয়ে তাকে প্রশ্ন করেন যে, রাতের হামলায় নারী ও শিশুরা তো মারা যাচ্ছে, তখন মুহাম্মদ কোনো অনুশোচনা বা সতর্কতা ছাড়াই উত্তর দেন যে— “তারাও (নারী ও শিশু) তাদের (মুশরিকদের) অন্তর্ভুক্ত।” অর্থাৎ, অমুসলিম হওয়ার কারণে শিশুদের জীবনের কোনো আলাদা মূল্য মুহাম্মদের কাছে ছিল না। এই সম্মিলিত দণ্ড বা ‘Collective Punishment’ আধুনিক সভ্যতায় এক জঘন্যতম অপরাধ হিসেবে গণ্য। [36] [37] [38] [39] !
সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩৩/ জিহাদ ও এর নীতিমালা
পরিচ্ছদঃ ৯. রাতের অতর্কিত আক্রমনে অনিচ্ছাকৃতভাবে নারী ও শিশু হত্যায় দোষ নেই
৪৩৯৯। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, সাঈদ ইবনু মনসুর ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) … সা’ব ইবনু জাছছামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মুশরিকদের নারী ও শিশু সন্তান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, যখন রাতের আধারে অতর্কিত আক্রমণ করা হয়, তখন তাদের নারী ও শিশুরাও আক্রান্ত হয়। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারাও তাদের (মুশরিকদের) অন্তর্ভুক্ত।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ৩৩। জিহাদ ও সফর
পরিচ্ছদঃ ৯. রাতের আকস্মিক হামলায় অনিচ্ছাকৃতভাবে নারী ও শিশু হত্যায় দোষ নেই
৪৪৪২-(২৭/…) আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ….. সা’ব ইবনু জাসসামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা রাতের অন্ধকারে আকস্মিক হামলায় মুশরিকদের শিশুদের উপরও আঘাত করে ফেলি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারাও তাদের (মুশরিক যোদ্ধাদের) মধ্যে গণ্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪০০, ইসলামিক সেন্টার ৪৪০০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
সুনানে ইবনে মাজাহ
তাওহীদ পাবলিকেশন
অধ্যায়ঃ ১৮/ জিহাদ
১/২৮৩৯। সাব‘ ইবনে জাসসামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাতের বেলা মুশরিকদের মহল্লায় অতর্কিত আক্রমণ প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হলো, যাতে নারী ও শিশু নিহত হয়। তিনি বলেনঃ তারাও (নারী ও শিশু) তাদের অন্তর্ভুক্ত।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

বর্তমান সময়ের অ্যাপোলোজিস্ট বা জনপ্রিয় বক্তারা যখন ইসলামকে নারীর সুমহান মর্যাদা দানকারী ধর্ম হিসেবে প্রচার করেন, তখন তারা কৌশলে বনূ মুসতালিক বা আওতাসের যেই নারী ও শিশুরা গনিমতের মাল হয়েছিল তাদের ঘটনাগুলোর মতো এই বীভৎস ঘটনাগুলো এড়িয়ে যান। নিচের হাদিসে সরাসরি লাজলজ্জার মাথা খেয়ে গর্বের সাথে স্বীকার করা হয়েছে যে, দাওয়াতের নাটকের আর প্রয়োজন নেই; যাদের কাছে একবার ইসলামের নাম পৌঁছেছে, তাদের ওপর যেকোনো সময় ঘোষণা ছাড়াই ঝাঁপিয়ে পড়া ইসলামের বৈধ যুদ্ধকৌশল। এটি কোনো আধ্যাত্মিক বিপ্লব নয়, দ্বীনের দাওয়াত নয় বরং সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের এক নগ্ন রূপ। [28] [40] –
সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩৩/ জিহাদ ও এর নীতিমালা
পরিচ্ছেদঃ ১. যে সকল বিধর্মীর কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছেছে, পূর্ব ঘোষণা ব্যতীত তাদের বিরুদ্ধে আক্রমন পরিচালনা বৈধ
৪৩৭০। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী (রহঃ) … ইবনু আউন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, আমি নাফি’ (রহঃ) কে এই কথা জানতে চেয়ে পত্র লিখলাম যে, যুদ্ধের পূর্বে বিধর্মীদের প্রতি দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া প্রয়োজন কি না? তিনি বলেন, তখন তিনি আমাকে লিখলেন যে, এ (নিয়ম) ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ মুসতালিকের উপর আক্রমণ করলেন এমতাবস্থায় যে, তারা অপ্রস্তুত ছিল (তা জানতে পারেনি।) তাদের পশুদের পানি পান করানো হচ্ছিল। তখন তিনি তাদের যোদ্ধাদের (পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ) হত্যা করলেন এবং অবশিষ্টদের (নারী শিশুদের) বন্দী করলেন। আর সেই দিনেই তাঁর হস্তগত হয়েছিল। (ইয়াহইয়া বলেন যে, আমার ধারণা হল, তিনি বলেছেন) জুওয়ায়রিয়া অথবা তিনি নিশ্চিতরূপে ইবনাতুল হারিছ (হারিছ কন্যা) বলেছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এই হাদীস আমাকে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। তিনি সেই সেনাদলে ছিলেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু ‘আউন (রহঃ)

ইসলামী ফিকাহর অন্যতম ইমাম আবু হানিফা এবং তার শিষ্যদের মতে, যেহেতু ইসলামের বার্তা পৃথিবীর অধিকাংশ জায়গায় পৌঁছে গেছে, তাই এখন অমুসলিমদের আর সতর্ক করার প্রয়োজন নেই। যেকোনো সময় তাদের ওপর মরণঘাতী হামলা চালানো যেতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করে যে, ইসলামি রাষ্ট্রের পাশেপাশে অমুসলিমদের অস্তিত্ব সবসময়ই ছিল হুমকির মুখে এবং আক্রমণাত্মক জিহাদই ছিল তাদের সাথে যোগাযোগের একমাত্র ভাষা।
এবারে আসুন তাহাবী শরীফ থেকে একটি হাদিস পড়ে নেয়া যাক, যেখানে দেখা যাচ্ছে, যেহেতু বর্তমানে সকলের কাছেই ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে গেছে, তাই আবারো ইসলামের পথে আহবান জানাবার আর কোন বিশেষ প্রয়োজন নেই। আক্রমনাত্মক জিহাদ বা অতর্কিত আক্রমণ চালালে সেটি সম্পূর্ণ জায়েজ [41] –
৪৭২৪. মুহাম্মদ ইব্ন্ন খুযায়মা (র) ….. মানসূর (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবরাহীম (র)-কে দায়লামীদেরকে দাওয়াত দেয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, ইসলামের দাওয়াত তার অবহিত রয়েছে।
ইমাম আবূ জা’ফর তাহাবী (র) বলেন: যা কিছু আমরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রিওয়ায়াত করেছি তাতে স্পষ্ট হয়ে
গিয়েছে যে, দাওয়াতের আবশ্যকতা ইসলামের শুরুতে ছিল। কেননা তখন সবার কাছে দাওয়াত পৌঁছায়নি এবং তারা জানতও না যে, তাদের বিরুদ্ধে কেন যুদ্ধ করা হয়। তাই দাওয়াত দেয়ার নির্দেশ ছিল যেন তা তাদের জন্য তাবলীগ হয়ে যায় এবং তাদেরকে অবহিত করা হয় যে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণ কি? অতঃপর অপর লোকদের উপর আক্রমণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই এর মর্ম এটাই হলো যে, এরা আহ্বানের মুখাপেক্ষী ছিল না, কেননা তারা অবহিত ছিল যে, তাদেরকে কিসের দিকে আহ্বান করা হচ্ছে। আর যদি তারা আহ্বানে সাড়া দিত তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হত না। সুতরাং আহ্বানের কোন অর্থ হয় না। ইমাম আবূ হানীফা (র), ইমাম আবূ ইউসুফ (র) ও ইমাম মুহাম্মদ (র)-এরূপই বলতেন যে, প্রত্যেক সম্প্রদায়ের নিকট ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে গিয়েছে। এখন ইমাম আগাম দাওয়াত দেয়া ছাড়াই তাদের সঙ্গে লড়াই করতে পারেন। আর যে সমস্ত সম্প্রদায়ের কাছে ইসলামের আহ্বান পৌঁছায়নি তাদের সঙ্গে লড়াই করা সমীচীন নয়, যতক্ষণ না তাদের উপর স্পষ্ট হয়ে যায় যে, কিসের জন্য বা কি কারণে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে এবং তাদেরকে কিসের দিকে আহ্বান করা হচ্ছে।

এবারে আসুন শুনি, যুদ্ধবন্দী নারীদের ধর্ষণের ইসলামিক কারণ,
এবারে আমরা আহমদুল্লাহ এবং অন্যান্য আলেমদের কিছু ওয়াজ শুনে নিই,
এবারে আসুন শুনি, একজন পাকিস্তানী মুসলিম কীভাবে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ হলে ভারতীয় নায়িকা মাধুরীকে গনিমতের মাল বানাবে, তার আগাম বুকিং দিচ্ছে দেখে নিই,
গামিদির ‘ইতমাম-ই-হুজ্জাহ’ তত্ত্ব, প্রগতিশীল ব্যাখ্যা এবং কিতালের প্রশ্ন
জাবেদ আহমদ গামিদির ‘ইতমাম-ই-হুজ্জাহ’ (সত্যের সপক্ষে প্রমাণ পূর্ণকরণ) তত্ত্বটি আধুনিক যুগে ইসলামের কিতাল-সংক্রান্ত বিধানগুলোকে একটি সংকীর্ণ ঐতিহাসিক ফ্রেমে বন্দি করার প্রচেষ্টা হিসেবে কাজ করে, যা প্রকারান্তরে ধ্রুপদী ইসলামের রাজনৈতিক ও সামরিক দর্শনকে অস্বীকার করার নামান্তর। গামিদির দাবি অনুযায়ী, রাসূলের সরাসরি উপস্থিতিতে সত্যের চূড়ান্ত প্রমাণ উপস্থাপিত হওয়ার পর যারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে, কেবল তাদের ওপরই খোদায়ী আজাব হিসেবে কিতাল বা সশস্ত্র যুদ্ধ আপতিত হয়েছিল—যাকে তিনি ‘ঐশ্বরিক বিচার’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন। তবে এই তত্ত্বটি সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এটি কুরআনের ভাষাগত কাঠামো, হাদিসের সর্বজনীনতা এবং ঐতিহাসিক ধারাক্রমের সাথে সাংঘর্ষিক। প্রথমত, উসূলুল ফিকহের (ইসলামি আইনতত্ত্ব) একটি মৌলিক ও সর্বসম্মত নীতি হলো: ‘আল-ইবরাতু বি-উমুমিল লাফজ, লা বি-খুসুসিস সাবাব’ (বিধানের কার্যকারিতা শব্দের ব্যাপকতার ওপর নির্ভর করে, অবতীর্ণ হওয়ার বিশেষ প্রেক্ষাপটের ওপর নয়) [42]। সূরা তাওবার ৫ এবং ২৯ নম্বর আয়াতে মুশরিক ও আহলে কিতাবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের যে আদেশ দেওয়া হয়েছে, সেখানে কোনো প্রকার সময়সীমা (Time-frame) বা ‘ইতমাম-ই-হুজ্জাহ’ এর মতো টেকনিক্যাল শর্তারোপ করা হয়নি। যদি কিতাল কেবল রাসূলের যুগের একটি সাময়িক খোদায়ী ব্যবস্থা হতো, তবে কুরআনের ভাষ্যে ‘মুশরিক’ বা ‘কাফির’ শব্দের পরিবর্তে কেবল ‘আরবের সমকালীন অবাধ্য জাতি’ জাতীয় সুনির্দিষ্ট ও সীমাবদ্ধ পরিভাষা ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কুরআনের সাধারণ নির্দেশসমূহ নির্দেশ করে যে, এই কিতাল কোনো বিশেষ প্রেক্ষাপটের সাময়িক বিধান ছিল না, কোন সাময়িক দুর্ঘটনাও এটি নয়, বরং এটি কুফর ও শিরকের বিরুদ্ধে ইসলামের একটি চিরন্তন সামরিক অবস্থান [43]।
গামিদির তত্ত্বটি আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যখন জিযিয়া (কর) ও বশ্যতা স্বীকারের বিষয়টি আলোচনায় আসে। গামিদি কিতালকে কেবল ‘খোদায়ী শাস্তি’ হিসেবে চিত্রিত করতে চান, যা সাধারণত নূহ (আ.)-এর প্লাবন বা আদ-সামুদ জাতির ওপর আসা আজাবের সমতুল্য। কিন্তু ইতিহাসে কোনো খোদায়ী আজাবের ক্ষেত্রে ‘বশ্যতা স্বীকার ও কর প্রদান’-এর বিনিময়ে বেঁচে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়নি। সূরা তাওবার ২৯ নম্বর আয়াতে আহলে কিতাবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়েছে ‘হাত্তা ইয়ু’তু আল-জিযিয়াতা আন ইয়াদিন ওয়া হুম সাগিরুন’ অর্থাৎ যতক্ষণ না তারা অনুগত হয়ে অবনত অবস্থায় জিযিয়া প্রদান করে। এই ‘সাগিরুন’ বা লাঞ্ছিত/অবনত অবস্থার শর্তটি প্রমাণ করে যে, কিতালের উদ্দেশ্য কেবল পরকালীন সত্য অস্বীকারের দণ্ড নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া, যেখানে ইসলামি সার্বভৌমত্ব নিরঙ্কুশ থাকবে এবং অন্য সমস্ত জীবনব্যবস্থা তার অধীনে দমিত থাকবে [44]। গামিদির আধুনিক ব্যাখ্যা এই নগ্ন রাজনৈতিক আধিপত্যবাদকে ‘ঐশ্বরিক বিচার’ বলে মোড়কীকরণ করতে চায়, যা মূলত কিতালের প্রকৃত রূপকে আড়াল করার একটি বুদ্ধিবৃত্তিক অপচেষ্টা। আসুন ইবনে কুদামার আল-মুগনি থেকে একটি ফতোয়া পড়ি যে, বছরে একবার অন্তত আক্রমণাত্মক জিহাদ করা আবশ্যক, এবং এর কারণগুলো দেখে নিই, [45]
المغني
ابن قدامة – موفق الدين عبد الله بن أحمد بن قدامة المقدسي
إظهار / إخفاء التشكيل بحث في الكتاب
( 7415 ) وأقل ما يفعل مرة في كل عام ; لأن الجزية تجب على أهل الذمة في كل عام ، وهي بدل عن النصرة ، فكذلك مبدلها وهو الجهاد ، فيجب في كل عام مرة ، إلا من عذر ، مثل أن يكون بالمسلمين ضعف في عدد أو عدة ، أو يكون ينتظر المدد يستعين به ، أو يكون الطريق إليهم فيها مانع أو ليس فيها علف أو ماء ، أو يعلم من عدوه حسن الرأي في الإسلام ، فيطمع في إسلامهم إن أخر قتالهم ، ونحو ذلك مما يرى المصلحة معه في ترك القتال ، فيجوز تركه بهدنة فإن النبي صلى الله عليه وسلم قد صالح قريشا عشر سنين ، وأخر قتالهم حتى نقضوا عهده ، وأخر قتال قبائل من العرب بغير هدنة . وإن دعت الحاجة إلى القتال في عام أكثر من مرة وجب ذلك ; لأنه فرض كفاية ، فوجب منه ما دعت الحاجة إليه .
আল-মুগনি (ইবনে কুদামা) থেকে অনুবাদ
(৭৪১৫) এবং এটি (আক্রমণাত্মক জিহাদ) বছরে অন্তত একবার করা আবশ্যক; কারণ জিজিয়া প্রতি বছর আহলে জিম্মাদের (মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসরত অমুসলিমদের) ওপর ওয়াজিব হয়, আর এই জিজিয়া হলো (ইসলামের) বিজয় বা সাহায্যের বিকল্প। সুতরাং, এর আসল বিনিময়—অর্থাৎ জিহাদ—প্রতি বছর একবার ওয়াজিব হবে [46]।
তবে কোনো ওজর বা যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে তা ব্যতিক্রম হতে পারে; যেমন:
মুসলিমদের জনবল বা যুদ্ধ সরঞ্জামে দুর্বলতা থাকা।
অতিরিক্ত সৈন্য বা সাহায্যের অপেক্ষায় থাকা যার মাধ্যমে সাহায্য লাভ করা যায়।
শত্রুদের কাছে পৌঁছানোর পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকা, কিংবা পথে পশুখাদ্য বা পানির অভাব থাকা।
শত্রুর পক্ষ থেকে ইসলামের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বা আগ্রহের আভাস পাওয়া যায়, যার ফলে তাদের সাথে যুদ্ধ বিলম্বিত করলে তাদের ইসলাম গ্রহণের আশা থাকে।
এই জাতীয় বা অনুরূপ কোনো ক্ষেত্রে যেখানে যুদ্ধ ত্যাগ করার মধ্যে ‘মাসলাহাত’ বা বৃহত্তর কল্যাণ নিহিত থাকে, সেখানে সন্ধি বা চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ ত্যাগ করা জায়েজ। কেননা নবী (সা.) কুরাইশদের সাথে দশ বছরের জন্য সন্ধি করেছিলেন এবং তারা চুক্তি ভঙ্গ না করা পর্যন্ত তাদের সাথে যুদ্ধ স্থগিত রেখেছিলেন। আবার আরবের অনেক গোত্রের সাথে কোনো প্রকার সন্ধি চুক্তি ছাড়াই তিনি যুদ্ধ বিলম্বিত করেছিলেন [46]।
আর যদি কোনো বছর প্রয়োজনের খাতিরে একবারের বেশি যুদ্ধ করার দাবি দেখা দেয়, তবে সেটিও ওয়াজিব হবে; কারণ এটি (জিহাদ) হলো ‘ফরজে কিফায়া’, সুতরাং প্রয়োজনের খাতিরে যতটুকু করা আবশ্যক হবে ততটুকুই পালন করতে হবে [46]।
ঐতিহাসিক এবং ফিকহি ঐতিহ্যের বিচারেও গামিদির অবস্থান অত্যন্ত দুর্বল। ইসলামের স্বর্ণযুগের চার মাজহাবের কোনো ফকীহ বা মুজতাহিদ ইমাম কিতালকে কেবল রাসূলের যুগের জন্য নির্দিষ্ট বলে মনে করেননি। ইমাম নববী থেকে শুরু করে ইবনে তাইমিয়া পর্যন্ত সকলেই একমত যে, ইসলামি রাষ্ট্রের সীমান্ত সংলগ্ন কাফিরদের বিরুদ্ধে বছরে অন্তত একবার অভিযান চালানো ‘ফরজে কিফায়া’ [47]। যদি কিতাল কেবল ‘ইতমাম-ই-হুজ্জাহ’ নির্ভর হতো, তবে মুহাম্মদের ওফাতের পর সাহাবায়ে কিরামের পারস্য ও রোম বিজয় কোনোভাবেই বৈধতা পেত না, কারণ সাহাবাগণ রাসূল ছিলেন না এবং তারা কোনো জাতির ওপর সরাসরি ‘ইতমাম-ই-হুজ্জাহ’ করার অলৌকিক ক্ষমতা রাখতেন না। অথচ সাহাবাগণ এই বিজয়গুলোকে কুরআনি জিহাদের নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা হিসেবেই গ্রহণ করেছিলেন। অধিকন্তু, সহীহ হাদিসের ভাষ্য—‘আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই’—এখানে ‘আন-নাস’ (মানুষ) শব্দটির ব্যবহার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ [48]। এটি একটি ব্যাপকবাচক শব্দ (Universal quantifier), যা কোনো ভৌগোলিক বা ঐতিহাসিক সীমারেখায় আবদ্ধ নয়। গামিদি এই হাদিসটিকেও তার তত্ত্বের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য অত্যন্ত কসরতপূর্ণ ব্যাখ্যা দেন, যা মূলত ইসলামের ধ্রুপদী সমরদর্শনকে আধুনিক লিবারেল নেশন-স্টেটের ছাঁচে ফেলার একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা। প্রকৃতপক্ষে, ইসলামের কিতাল কোনো রূপক বা প্রেক্ষাপট-নির্ভর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং এটি একটি সুনির্দিষ্ট ‘অফেন্সিভ’ বা আক্রমণাত্মক রণকৌশল, যার লক্ষ্য হলো পৃথিবীর বুক থেকে শিরকের রাজনৈতিক ক্ষমতা উৎখাত করে একক ইলাহ আল্লাহর হুকুমত, শরীয়ত ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা—যা গামিদির প্রগতিশীল পর্দার আড়ালে ঢাকা পড়ে না।
উপসংহারঃ আধুনিক মানবাধিকার বনাম জিহাদের চিরন্তন বিধান
সার্বিক আলোচনা ও দালিলিক পর্যালোচনা শেষে এটি স্পষ্ট যে, ইসলামের ‘জিহাদ’ ও ‘কিতাল’ সংক্রান্ত বিধানগুলো কেবল কোনো নির্দিষ্ট সময়ের আত্মরক্ষা বা ব্যক্তিগত নৈতিক সংগ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক ও সামরিক আধিপত্যবাদ, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো পৃথিবীর বুক থেকে ভিন্নমত ও ভিন্ন বিশ্বাসের অবসান ঘটিয়ে একক ধর্মীয় হুকুমত প্রতিষ্ঠা করা। শাস্ত্রীয় তথ্যসূত্র এবং প্রখ্যাত আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শিরক বা কুফরকে পৃথিবীর ‘সবচেয়ে বড় বিশৃঙ্খলা’ হিসেবে সাব্যস্ত করে এর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করাকে একটি পবিত্র ইবাদত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আমরা দেখেছি কীভাবে ‘জিহাদ আত-ত্বলাব’ বা আক্রমণাত্মক জিহাদের মাধ্যমে একটি স্বাধীন জনপদকে পদানত করা হয় এবং সেখানকার মানুষের জীবনের মূল্য নির্ধারণ করা হয় তাদের ধর্মান্তর বা জিযিয়া করের ওপর। এর চেয়েও ভয়াবহ দিকটি হলো যুদ্ধলব্ধ ‘গনীমত’ হিসেবে নারী ও শিশুদের দাসদাসী হিসেবে গ্রহণ করার বিধান, যা আধুনিক মানবিক মূল্যবোধ এবং মানবাধিকারের চরম পরিপন্থী। বর্তমানে অনেক আধুনিক ব্যাখ্যাকারী একে প্রতিরক্ষামূলক বা প্রতীকী যুদ্ধ বলে দাবি করার চেষ্টা করলেও, ধ্রুপদী ফিকাহ এবং নির্ভরযোগ্য হাদিসগুলোর সাক্ষ্য ভিন্ন। সেখানে কোনো রাখঢাক ছাড়াই অমুসলিমদের রক্ত ও সম্পদকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে যতক্ষণ না তারা বশ্যতা স্বীকার করছে। যদি ইসলামি জিহাদ কেবল আত্মরক্ষামূলক হতো, তবে স্পেন থেকে সিন্ধু পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল সাম্রাজ্য কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো? ইতিহাস এবং ফিকহের দলিল সাক্ষ্য দেয় যে, তলোয়ার ছিল ইসলামের দাওয়াতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা আধুনিক শান্তির বয়ানের সাথে কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়।
একটি আধুনিক, সভ্য এবং বহুত্ববাদী পৃথিবীতে যেখানে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং বিশ্বাসের অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেখানে ‘শিরক নিশ্চিহ্ন করা’র নামে এ ধরনের সশস্ত্র সম্প্রসারণবাদী ধর্মীয় দর্শন কেবল সংঘাতেরই জন্ম দেয়। ইসলামের এই বিধানগুলো যখন ‘চিরন্তন’ এবং ‘অপরিবর্তনীয়’ হিসেবে দাবি করা হয়, তখন তা কেবল অমুসলিমদের জন্যই নয়, বরং সামগ্রিক বৈশ্বিক শান্তির জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ইসলামের এই কিতাল ও দাসপ্রথার বিধানগুলোকে এড়িয়ে না গিয়ে, বরং সেগুলোর উৎস ও প্রয়োগ নিয়ে নির্মোহ এবং যৌক্তিক ব্যবচ্ছেদ করা অত্যন্ত জরুরি। সত্য এবং ন্যায়কে কেবল বিশ্বাসের চশমায় না দেখে, যুক্তির কষ্টিপাথরে যাচাই করাই হতে পারে এই মধ্যযুগীয় আধিপত্যবাদ থেকে মুক্তির একমাত্র পথ।
About This Article
Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis
Epistemic Position: Scientific Skepticism
This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.
It applies historical criticism, empirical reasoning, logical analysis, and scientific skepticism in evaluating religious, philosophical, and historical claims.
The objective is not theological neutrality, but evidence-based critical examination and adversarial analysis of ideas and narratives.
This article should primarily be evaluated through: source quality, evidentiary strength, logical rigor, and factual consistency.
তথ্যসূত্রঃ
- সহীহ বুখারী, হাদিসঃ ২৬৫২ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, হাদিসঃ ২৫৩৩ ↩︎
- তাফসীরে মাযহারী, হাকিমাবাদ খানকায়ে মোজাদ্দেদিয়া প্রকাশনী, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১১৭-১২০ ↩︎
- বাংলাদেশে প্রচলিত শির্ক বিদ‘আত ও কুসংস্কার পর্যালোচনা ২. শির্কের পরিণতি ↩︎
- সহীহ বুখারী ও মুসলিম ↩︎
- সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিসঃ ২৬০৭ ↩︎
- সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিসঃ ২৬০৮ ↩︎
- সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), হাদিসঃ ৩৯৭৯ ↩︎
- সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী), হাদিসঃ ৩৫ ↩︎
- সুনানে ইবনে মাজাহ, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিসঃ৩৯২৯ ↩︎
- সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিসঃ ২৮১৮ ↩︎
- হাদীস সম্ভার, হাদিসঃ ১৯০০ ↩︎
- সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিসঃ ২৯৭৭ ↩︎
- সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), আল্লামা আলবানী একাডেমী, চতুর্থ খণ্ড, হাদিসঃ ৩০০৩ ↩︎
- সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিসঃ ৩১৫৯ ↩︎
- সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠাঃ ৩৫৭, ৩৫৮ ↩︎
- আল হিদায়া, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪২৯, ৪৩০ ↩︎
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫০২, ৫০৩, ৫৩৫, ৫৩৭, ৫৪০ ↩︎
- আল-ইতকান ফি তাওহীদ আর-রহমান, শাইখ আব্দল্লাহ আল মুনির, পৃষ্ঠা ১৪-১৭, ২৫-২৭ ↩︎
- ইসলামে জিহাদের হুকুমঃ বিধান ও প্রকারভেদ, শাইখ ইউসুফ আল উয়াইরী রহিমাহুল্লাহ, অনুবাদঃ মুফতি আব্দুল মালেক মুসা হাফিজাহুল্লাহ, পৃষ্ঠা ৪-৭, ১১ ↩︎
- ইসলামের অমানবিক দাসপ্রথা ↩︎
- সহিহ মুসলিম শরীফ (প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাসহ বঙ্গানুবাদ), আল হাদীছ প্রকাশনী, ১৭ ও ১৮ তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১২, ১৩ ↩︎
- There is no compulsion to accept Islam, Question 34770 ↩︎
- Was Islam spread by the sword?, Question 43087 ↩︎
- মূর্তি ভাঙ্গার আবশ্যকতা ↩︎
- Demolishing idols in a non-Muslim country ↩︎
- সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৭৩৩ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৪৩৭০ 1 2
- সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, হাদিসঃ ৩৫০০ ↩︎
- সূনান আবু দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ২১৫২ ↩︎
- সূনান আবু দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ১৫৪ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, হাদিসঃ ৩৪৩৬ ↩︎
- সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিসঃ ৪১৩৮ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, হাদিসঃ ৩৪৫১ ↩︎
- সূনান আবু দাউদ, তাহকিকঃ আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী, আল্লামা আলবানী একাডেমী, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২১৫-২১৬, হাদিসঃ ২১৫৫ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৪৩৯৯ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, হাদিস একাডেমী, হাদিসঃ ৪৪৪২ ↩︎
- সুনানে ইবনে মাজাহ, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিসঃ ২৮৩৯ ↩︎
- সহিহ মুসলিম শরীফ (প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাসহ বঙ্গানুবাদ), আল হাদীছ প্রকাশনী, ১৭ ও ১৮ তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩১ ↩︎
- সহিহ মুসলিম, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, ষষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮১, হাদিসঃ ৪৩৭০ ↩︎
- তাহাবী শরীফ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৩৭ ↩︎
- আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন, সুয়ূতী ↩︎
- তাফসীরে কুরতুবী, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৭২ ↩︎
- তাফসীরে ইবনে কাসীর, সূরা তাওবা ২৯ ↩︎
- ابن قدامة – موفق الدين عبد الله بن أحمد بن قدامة المقدسي ↩︎
- আল-মুগনি, ইবনে কুদামা, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ১৬৪ 1 2 3
- মিনহাজ আত-তালিবিন ↩︎
- সহীহ বুখারী, হাদিস ২৫ ↩︎
