কোরআন অনুসারে মিঠা-লবণাক্ত পানি বা দুই সমুদ্রের পানি মেশে না

ভূমিকা

সেই প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের ধারণা ছিল, দুইটি নদী বা নদীর সাথে সমুদ্র যখন মিলিত হয়, তখন তাদের পানি মেশে না। মূলত উপর থেকে দেখে দুই ধরণের রঙ এর পানি দেখে তাদের এরকম ধারণা হতো। একইসাথে তারা এটিও জানতো যে, নদীর পানি পান যোগ্য, আর সমুদ্রের পানি লবণাক্ততার কারণে পান যোগ্য নয়। তাই তারা এই দুই ধরণের পানির পার্থক্য বুঝতে পারতো সেই প্রাচীনকাল থেকেই। তাদের এরকম ধারণার কারণ ছিল, পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা। পৃথিবীকে তারা মূলত সমতল ভূমিই মনে করতো। তারা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দেখতো, সমুদ্রের পানি নদীর পানিগুলোকে লবণাক্ত করে দিচ্ছে না, এই কারণে তারা মনে করতো এই দুই পানি মেশে না। বর্তমান সময়েও আপনারা যারা নদীর মোহনা কিংবা সমুদ্রের সাথে নদীর মিলনস্থলে যাতায়াত করেছেন, তারা দেখে থাকবেন, দুই ধরণের রঙ এর পানি দেখলে মনে হয়, সেগুলো মিশছে না। কিন্তু সত্য হচ্ছে, তারা অবশ্যই মিশ্রিত হয়। লবণাক্ততা, পানির ঘনত্বের কারণে তার জন্য কিছুটা সময় লাগে, তবে মিশ্রিত হবে অবশ্যই।

মোহনায় যেখানে নদীর মিষ্টি হালকা পানি সমুদ্রের লবণাক্ত ভারী পানির সাথে মিশে যায় সেখানে উভয় ধরনের পানির মিশ্রণ পাওয়া যায়। জোয়ারের সময় খেয়াল করলে দেখবেন, সমুদ্রের লবণাক্ত পানি নদীর ভেতরে ঢুকে যায়, আবার ভাটার সময় নেমে যায়। সুন্দরবন হলো বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। এই অঞ্চলে পানিতে লবণাক্ততার মাত্রাও যেরকম থাকে, আবার থাকে স্বাদু পানি প্রবাহের মাত্রাও। এই বৈচিত্র্যই এই অঞ্চলে বিশেষ বিশেষ গাছপালার জন্ম দেয়, যা অন্যত্র পাওয়া যায় না। অর্থাৎ সুন্দরবনের নদীতে আপনি লবণাক্ততাও পাবেন, আবার স্বাদু পানি প্রবাহও পাবেন।


প্রাচীন গ্রন্থসমূহে দুই সমুদ্রের পানি পৃথক থাকার ধারণা

কোরআনে বর্ণিত “দুই সমুদ্রের পানি মেশে না” বা তাদের মাঝে “অদৃশ্য দেয়াল” থাকার এই ধারণাটি আসলে ইসলামের নিজস্ব কোনো মৌলিক তথ্য নয়। বরং কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার বহু শত বছর পূর্ব থেকেই তৎকালীন প্রখ্যাত গ্রিক ও রোমান দার্শনিকদের লেখায় এই পর্যবেক্ষণের হুবহু বর্ণনা পাওয়া যায়।

অ্যারিস্টটল এবং প্রাচীন গ্রিক পর্যবেক্ষণ (খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতক)

প্রাচীন গ্রিসে বিজ্ঞান বলতে মূলত ছিল স্থূল পর্যবেক্ষণ এবং যুক্তিনির্ভর দর্শন। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে প্রখ্যাত দার্শনিক অ্যারিস্টটল তার ‘মেটিওরোলজিকা’ (Meteorologica) গ্রন্থে আবহাওয়া এবং পানির ধর্ম নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে লোনা ও মিষ্টি পানির এই অদ্ভুত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। সেই সময়ে মানুষের ধারণা ছিল যে, মহাবিশ্বের সবকিছুই চারটি উপাদান (মাটি, বাতাস, আগুন ও পানি) দিয়ে গঠিত এবং এদের প্রত্যেকের নিজস্ব ওজন বা ‘প্রাকৃতিক অবস্থান’ আছে। অ্যারিস্টটল লক্ষ্য করেছিলেন যে, যখন কোনো বড় নদী সমুদ্রে গিয়ে পড়ে, তখন সাথে সাথেই পুরো সমুদ্রের পানি মিষ্টি হয়ে যায় না, বরং নদীর পানি উপরের স্তরে আলাদা হয়ে থাকে। তিনি মনে করতেন, মিষ্টি পানি যেহেতু লোনা পানির তুলনায় ‘হালকা’, তাই এটি লোনা পানির উপর ভেসে থাকে এবং তাদের মধ্যে একটি স্তর বিন্যাস তৈরি হয়।

তৎকালীন নাবিকদের অভিজ্ঞতাই ছিল অ্যারিস্টটলের এই বৈজ্ঞানিক দাবির ভিত্তি। নাবিকরা প্রায়ই লক্ষ্য করতেন যে, নদীর মোহনায় সমুদ্রের মাঝেও উপরের স্তরের পানি পানযোগ্য বা সুপেয় থাকে। এই চাক্ষুষ প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই অ্যারিস্টটল তার গ্রন্থে লিখেছিলেন:

“মিষ্টি এবং পানযোগ্য পানি যা হালকা, তা উপরে উঠে আসে; কিন্তু লবণাক্ত পানি যা ওজনে ভারী, তা তার নিজের জায়গাতেই (নিচে) থেকে যায়।”

তার এই ব্যাখ্যা থেকে বোঝা যায়, সে আমলের মানুষ মনে করত পানিগুলোর মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্য আছে যা তাদের স্থায়ীভাবে মিশে যেতে বাধা দেয়। মূলত ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে পানির যে সাময়িক স্তরবিন্যাস ঘটে, তারা তাকেই একটি চিরস্থায়ী এবং অলৌকিক বিভাজন বলে ভুল করত [1]।নি ও লোনা পানির ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে তাদের সাময়িক স্তরবিন্যাস লক্ষ্য করেছিলেন [1]


প্লিানি দ্য এল্ডার এবং রোমানদের প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ (প্রথম শতক)

অ্যারিস্টটলের কয়েক শতাব্দী পর, রোমান সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগে প্রখ্যাত প্রকৃতিবিদ প্লিানি দ্য এল্ডার তার বিখ্যাত বিশ্বকোষ ‘ন্যাচারালিস হিস্টোরিয়া’ (Naturalis Historia)-তে এই বিষয়টিকে আরও বিস্তৃত ও দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করেন। রোমান নাবিকরা যখন ভূমধ্যসাগর ছাড়িয়ে আরও দূরে ভ্রমণ করতে শুরু করেন, তখন তারা বিভিন্ন স্থানে লোনা পানির আধিক্যের মাঝেও মিষ্টি পানির অস্তিত্ব লক্ষ্য করেন। প্লিানি এই পর্যবেক্ষণগুলোকে সংকলিত করে দাবি করেন যে, প্রকৃতিতে মিষ্টি পানি ও লোনা পানি একে অপরের চিরশত্রুর মতো আচরণ করে এবং তারা কোনোভাবেই মিশে যায় না।

প্লিানির এই ধারণার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল সমুদ্রের তলদেশে থাকা মিষ্টি পানির ঝরনা। তিনি বিশ্বাস করতেন, সমুদ্রের তলদেশ থেকে যখন মিষ্টি পানি তীব্র বেগে উপরে উঠে আসে, তখন তা চারপাশের লোনা পানিকে ভেদ করে বেরিয়ে আসে কিন্তু তার নিজস্ব বিশুদ্ধতা হারায় না। তৎকালীন মানুষের কাছে এটি ছিল এক পরম বিস্ময়। তারা মনে করত, প্রকৃতির এক অমোঘ নিয়মে এই দুই ধরণের পানির মাঝে একটি অলভ্য দেয়াল বিদ্যমান। প্লিানি তার গ্রন্থে সরাসরি উল্লেখ করেছেন:

“সমুদ্রের লোনা পানি এবং নদীতে প্রবাহিত মিষ্টি পানি একে অপরের সাথে মেশে না… মিষ্টি পানি সমুদ্রের ওপর স্তরের মতো ভাসতে থাকে, কারণ এটি ওজনে হালকা।”

প্লিানি এমনকি কিছু নির্দিষ্ট স্থানের নামও উল্লেখ করেছিলেন যেখানে সমুদ্রের মাঝখান থেকে মিষ্টি পানি সংগ্রহ করা যেত। তিনি মনে করতেন, এই পানিগুলো লোনা পানির সংস্পর্শে থাকা সত্ত্বেও ‘অপবিত্র’ বা লবণাক্ত হয় না কারণ তাদের প্রকৃতিই আলাদা। মূলত পানির প্রসারণ এবং ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে মোহনায় যে দীর্ঘস্থায়ী স্তর তৈরি হয়, তাকেই তিনি একটি স্থায়ী অমিশ্রণযোগ্য ব্যবস্থা হিসেবে নথিবদ্ধ করেছিলেন [2]


সেনেকা এবং রোমান দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি (প্রথম শতক)

প্লিানি দ্য এল্ডারের সমসাময়িক আরেকজন প্রভাবশালী রোমান দার্শনিক ও রাজনীতিক ছিলেন সেনেকা। তিনি তার ‘ন্যাচারালেস কুয়েশ্চেনেস’ (Naturales Quaestiones) গ্রন্থে প্রকৃতির বিভিন্ন রহস্য নিয়ে আলোচনা করেন। সেনেকা স্টোয়িক (Stoic) দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন, যা মনে করত প্রকৃতিতে এক ধরণের শৃঙ্খলা বা অমোঘ নিয়ম কাজ করে। নদীর মিষ্টি পানি যখন বিশাল উত্তাল সমুদ্রে গিয়ে পড়ে, তখনও কেন তা সাথে সাথে লোনা হয়ে যায় না—এই প্রশ্নটি তাকে ভাবিয়েছিল।

সেই সময়ে মানুষের ধারণা ছিল যে, প্রতিটি উপাদানের নিজস্ব একটি ‘প্রকৃতি’ বা ‘স্বত্ব’ থাকে যা সে সহজে হারায় না। সেনেকা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন যে, অনেক বড় নদীর স্রোত যখন সমুদ্রে প্রবেশ করে, তখন তা সমুদ্রের ঢেউয়ের বিপরীতে নিজের গতিপথ বজায় রাখে। তিনি মনে করতেন, মিষ্টি পানি তার নিজস্ব বিশুদ্ধতা রক্ষা করার জন্য লোনা পানিকে প্রতিরোধ করে। তার বর্ণনায় এটি ছিল এক ধরণের প্রাকৃতিক লড়াই, যেখানে একটি শক্তি অন্যটিকে গ্রাস করতে পারে না। তিনি লিখেছিলেন:

“নদীর মিষ্টি পানি সমুদ্রে প্রবেশের পর তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ধরে রাখে এবং লোনা পানির সাথে মিশে যায় না, বরং এটি সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।”

সেনেকার যুক্তি অনুযায়ী, এই অমিশ্রণ ছিল প্রকৃতির এক বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা। তিনি বিশ্বাস করতেন, যদি মিষ্টি পানি সহজেই লোনা পানির সাথে মিশে যেত, তবে পৃথিবীর সমস্ত পানযোগ্য পানির উৎস সমুদ্রের লবণাক্ততায় নষ্ট হয়ে যেত। মূলত পানির বিশাল ভলিউম এবং স্রোতের বেগের কারণে মোহনায় যে দৃশ্যমান বিভাজন তৈরি হয়, তাকেই তিনি একটি স্থায়ী প্রাকৃতিক সীমানা বা ধর্ম হিসেবে গণ্য করেছিলেন [3]


আলেকজান্ডার অফ আফ্রোদিসিয়াস এবং অ্যারিস্টটলীয় দর্শনের ব্যাখ্যা (দ্বিতীয়-তৃতীয় শতক)

খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শতকের প্রভাবশালী গ্রিক দার্শনিক আলেকজান্ডার অফ আফ্রোদিসিয়াস, যিনি অ্যারিস্টটলের দর্শনের একজন শ্রেষ্ঠ ভাষ্যকার হিসেবে পরিচিত, তিনি অ্যারিস্টটলের ‘মেটিওরোলজিকা’-র ব্যাখ্যা প্রদান করতে গিয়ে এই পানির বিভাজনের বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন। সেই সময়ে প্রাচীন পণ্ডিতদের মাঝে একটি সাধারণ প্রশ্ন ছিল যে, কেন বিপুল পরিমাণ মিষ্টি পানি সমুদ্রে পড়ার পরও সমুদ্রের লোনা পানি মিষ্টি হয়ে যায় না, অথবা মিষ্টি পানি কেন লোনা হয় না।

আলেকজান্ডার এই অমিশ্রণের পেছনে পানির উপাদানের ‘প্রাকৃতিক ধর্ম’ এবং ‘ঘনত্ব’ (Density)-কে প্রধান কারণ হিসেবে দাঁড় করান। তিনি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন যে, বিভিন্ন ঘনত্বের তরল যখন একসাথে আসে, তখন তারা তৎক্ষণাৎ একে অপরের সাথে মিশে সমজাতীয় হয়ে যায় না। তৎকালীন মানুষের ধারণা ছিল যে, প্রতিটি বস্তুর একটি নির্দিষ্ট সীমানা বা গণ্ডি থাকে যা অতিক্রম করা তার প্রকৃতির বাইরে। আলেকজান্ডার তার ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন:

“লোনা ও মিষ্টি পানি যখন পাশাপাশি প্রবাহিত হয়, তখন তাদের ঘনত্বের বিশাল পার্থক্যের কারণে তারা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে এবং তাদের মাঝে একটি দৃশ্যমান সীমানা তৈরি হয়, যেন তারা পরস্পরকে প্রত্যাখ্যান করছে।”

আলেকজান্ডারের এই ব্যাখ্যা মূলত সমকালীন ভূমধ্যসাগরীয় নাবিকদের চাক্ষুষ অভিজ্ঞতাকে একটি তাত্ত্বিক রূপ দিয়েছিল। তারা যখন জিব্রাল্টার প্রণালী বা বড় নদীগুলোর মোহনায় দুই রঙের পানির মিলনস্থল দেখত, তখন তারা মনে করত এই দৃশ্যমান রেখাটিই হলো তাদের অমিশ্রণের প্রমাণ। প্রাচীন এই বিজ্ঞানীদের কাছে পানির আণবিক মিশ্রণের আধুনিক ধারণা ছিল না, তাই তারা এই সাময়িক স্থবিরতা বা স্তরবিন্যাসকেই একটি স্থায়ী ‘অমিলে’র প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন যা পরবর্তীকালে বিভিন্ন ধর্মীয় বা পৌরাণিক বর্ণনায় “অদৃশ্য বাধা” বা “অনতিক্রম্য সীমানা” হিসেবে ঠাঁই পায় [4]

সুতরাং, সপ্তম শতাব্দীতে আরবে প্রচলিত এই ধারণাটি আসলে প্রাচীন গ্রিক ও রোমান বিজ্ঞানের একটি সাধারণ ভৌগোলিক পর্যবেক্ষণজনিত ভুল ছিল, যা তৎকালীন বণিক ও ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে আরবেও বিস্তার লাভ করেছিল। আজকের বিজ্ঞান স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে যে, পানির ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে মিশতে কিছুটা সময় লাগলেও, কোনো অদৃশ্য দেয়াল বা ‘অভেদ্য অন্তরায়’ আসলে প্রকৃতিতে নেই এবং লোনা ও মিষ্টি পানি শেষ পর্যন্ত অবশ্যই পুরোপুরি মিশ্রিত হয়ে যায়।


কোরআনের বক্তব্যঃ অভেদ্য দেয়াল

কোরআনে পরিষ্কারভাবেই প্রাচীনকালের এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে, দুই সমুদ্রের পানি অথবা লোনা পানি ও মিষ্টি পানি মেশে না। তাদের মধ্যে রয়েছে এক দুর্ভেদ্য দেয়াল, যে কারণে এগুলো পরস্পরের সাথে মিশতে পারে না, আলাদাই থাকে। এটি পরিষ্কারভাবে ভুল তথ্য। দুই সমুদ্রের পানি মিলিত হলে তাদের ঘনত্ব এবং তাপমাত্রার কারণে মিশতে কিছু ক্ষেত্রে সময় লাগলেও, সেগুলো অবশ্যই মিশ্রিত হয়। লোনা পানি এবং মিষ্টি পানিও মিশ্রিত হয়, যার প্রমাণ আমরা পাই নদী ও সমুদ্রের মোহনায়। নদীর স্রোতের কারণে সমুদ্রের লোনা পানি নদীতে ঢুকতে পারে না বটে, কিন্তু জোয়ারের সময় সমুদ্রের লোনা পানি অবশ্যই নদীতে ঢুকে পড়ে। [5] [6] [7]

তিনিই সমুদ্রকে দু’ ধারায় প্রবাহিত করেছেন- একটি সুপেয় সুস্বাদু আরেকটি লবণাক্ত কটু, উভয়ের মাঝে টেনে দিয়েছেন এক আবরণ- এক অনতিক্রম্য বিভক্তি-প্রাচীর।
— Taisirul Quran
তিনিই দুই সমুদ্রকে মিলিতভাবে প্রবাহিত করেছেন; একটি মিষ্টি, সুপেয় এবং অপরটি লবণাক্ত, খর; উভয়ের মধ্যে রেখে দিয়েছেন এক অন্তরায়, এক অনতিক্রম্য ব্যবধান।
— Sheikh Mujibur Rahman
আর তিনিই দু’টো সাগরকে একসাথে প্রবাহিত করেছেন। একটি সুপেয় সুস্বাদু, অপরটি লবণাক্ত ক্ষারবিশিষ্ট এবং তিনি এতদোভয়ের মাঝখানে একটি অন্তরায় ও একটি অনতিক্রম্য সীমানা স্থাপন করেছেন।
— Rawai Al-bayan
আর তিনিই দুই সাগরকে সমান্তরালে প্রবাহিত করেছেন, একটি মিষ্ট, সুপেয় এবং অন্যটি লোনা, খর; আর তিনি উভয়ের মধ্যে রেখে দিয়েছেন এক অন্তরায়, এক অনতিক্রম্য ব্যবধান [১]।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

দু’টি সমুদ্রকে তিনিই প্রবাহিত করেন যারা পরস্পর মিলিত হয়,
— Taisirul Quran
তিনি প্রবাহিত করেন দুই দরিয়া, যারা পরস্পর মিলিত হয়,
— Sheikh Mujibur Rahman
তিনি দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেন, যারা পরস্পর মিলিত হয়।
— Rawai Al-bayan
তিনি প্রবাহিত করেন দুই সমুদ্র যারা পরস্পর মিলিত হয়,
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

(কিন্তু তা সত্ত্বেও) উভয়ের মাঝে আছে এক আড়াল যা তারা অতিক্রম করতে পারে না।
— Taisirul Quran
কিন্তু ওদের মধ্যে রয়েছে এক অন্তরাল যা ওরা অতিক্রম করতে পারেনা।
— Sheikh Mujibur Rahman
উভয়ের মধ্যে রয়েছে এক আড়াল যা তারা অতিক্রম করতে পারে না।
— Rawai Al-bayan
কিন্তু তাদের উভয়ের মধ্যে রয়েছে এক অন্তরাল যা তারা অতিক্রম করতে পারে না [১]
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria


তাফসীর গ্রন্থে উল্লিখিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ

আসুন এবারে তাফসীর গ্রন্থ থেকে আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ পড়ে দেখি [8] [9]

আর তিনি উহাদের মাঝে অর্থাৎ লবণাক্ত ও সুমিষ্ট সাগর ও নদী যাত্রার মাঝে আবরন ও মযবুত অন্তরায় সৃষ্টি করিয়াছেন । যেন একটির পানি অপরটির সহিত মিশ্রিত না হইতে পারে। যেমন অন্যত্র ইরশাদ হইয়াছে
“আল্লাহ তা’আলা দুইটি সম্মিলিত সাগরকে প্রবাহিত করিয়াছেন উহাদের মাঝে রহিয়াছে একটি প্রতিবন্ধক, যেন উহারা পরস্পরে তাহাদের স্বীয় সীমা অতিক্রম না করে। অতএব তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নিয়ামতকে তোমরা অস্বীকার করিবে”? (সূরা রাহমান: ১৯-২০)।
আরো ইরশাদ হইয়াছে, – “না কি, সেই মহান সত্তা যিনি যমীনকে আবাসস্থল করিয়াছেন এবং উহার মাঝে নদী নালা সৃষ্টি করিয়াছেন, উহার উপর পাহাড় ও প্রতিষ্ঠিত করিয়াছেন আর দুই সমুদ্রের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করিয়াছেন। বলতো দেখি আল্লাহর সহিত কি অন্য উপাস্য আছে? বরং তাহাদের অধিকাংশই হইল মূর্খ” । (সূরা নামল : ৬১)
…ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন: আয়াতে অর্থ …,। অর্থাৎ প্রবাহিত করিয়াছেন । … এর ব্যাখ্যায় ইব্‌ন যায়দ (র) বলেন, আল্লাহ্ তা’আলা দুই দরিয়ার মধ্যে অন্তরাল সৃষ্টি করিয়া একটির সহিত আরেকটির মিলিত হওয়ার পথ বন্ধ করিয়া দিয়াছেন । সূরা রাহমান ৫৮৯
দুই সমুদ্র দ্বারা উদ্দেশ্য হইল; মিঠা পানির সমুদ্র ও লবণাক্ত পানির সমুদ্র । এই দুই সমুদ্র পাশাপাশি প্রবহমান হওয়া সত্ত্বেও একটির লবণাক্ত পানি অপরটির মিঠা পানির সহিত মিশিয়া বা মিঠা পানি লবণাক্ত পানির সহিত মিশিয়া একটি অপরটির স্বাদ বিনষ্ট করিতে পারে না। দুইয়ের মধ্যে রহিয়াছে এমন একটি অন্তরাল যাহা কেহই অতিক্রম করিতে পারে না । প্রত্যেকেই আপন আপন সীমানায় প্রবাহিত । সূরা ফুরকানের নিম্নোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় এই প্রসংগে বিস্তারিত আলোচনা করা হইয়াছে ।
কিন্তু ইব্‌ন জারীর (র) যেই যুক্তি পেশ করিয়াছে উহা সঠিক হইলেও তিনি দুই সমুদ্র এবং যে ব্যাখ্যা প্রদান করিয়াছেন উহা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এই আয়াতের পরেই আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ অর্থাৎ দুই দরিয়ার মাঝে আল্লাহ্ তা’আলা এমন একটি অন্তরাল ও অনতিক্রম্য ব্যবধান সৃষ্টি করিয়াছেন; যাহার ফলে একটির পানি অপরটির পানির সহিত মিশিয়া কেহ কাহারো গুণাগুণ নষ্ট করিতে না পারে । কিন্তু আকাশ ও যমীনের মাঝে যেই ব্যবধান রহিয়াছে উহাকে (অন্তরাল) বা …(অনতিক্রম্য ব্যবধান) বলা হয় না। অতএব বাধ্য হইয়াই বলিতে হয় যে, দুই সমুদ্র দ্বারা আকাশ ও যমীনের দুই সমুদ্র নয়- বরং পৃথিবীর সুমিষ্ট ও লোনা পানি যুক্ত দুই পাশাপাশি প্রবহমান দুই সমুদ্র উদ্দেশ্য।

দুই
দুই 1
দুই 3

এবারে আসুন তাফসীরে মাযহারী থেকে দেখে নেয়া যাক, এই আয়াতটি সম্পর্কে কী বলা আছে, [10]

→ তিনিই দুই দরিয়াকে প্রবাহিত করিয়াছেন, একটির পানি মিষ্ট, সুপেয় এবং অপরটির পানি লোনা, খর, উভয়ের মধ্যে তিনি রাখিয়া দিয়াছেন এক অন্তরায়, এক অনতিক্রম্য ব্যবধান ।
→ এবং তিনিই মানুষকে সৃষ্টি করিয়াছেন পানি হইতে; অতঃপর তিনি মানব জাতির মধ্যে রক্তগত ও বৈবাহিক সম্বন্ধ স্থাপন করিয়াছেন। তোমার প্রতিপালক সর্বশক্তিমান ।
প্রথমে বলা হয়েছে— “তিনিই দুই দরিয়াকে প্রবাহিত করেছেন, একটির পানি মিষ্ট, সুপেয় এবং অপরটির পানি লোনা, খর, উভয়ের মধ্যে তিনি রেখেছেন এক অন্তরায়, এক অনতিক্রম্য ব্যবধান’। এখানে ‘মারাজ্বাল বাহরাইনি’ বলে বুঝানো হয়েছে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন দুই সমুদ্রের সম্মিলিত প্রবহমানতাকে। এরকম সম্মিলনের কারণে দুই সমুদ্রের একাকার হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তা হয় না । কারণ পাশাপাশি প্রবাহিত হওয়া সত্ত্বেও দুই সমুদ্রের স্রোতের আপনাপন বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখাই আল্লাহ্তায়ালার অভিপ্রায়। আর তাঁর চিরঅমুখাপেক্ষী অভিপ্রায়ের ব্যত্যয় কদাচ ঘটে না।

দুই 5

আলেম-ওলামাদের বক্তব্য

এবারে আসুন মিজানুর রহমান আযহারীর একটি বক্তব্য শুনে নেয়া যাক,



বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিঃ ‘অভেদ্য অন্তরায়’ কেন একটি প্রাকৃতিক বিভ্রম?

কোরআনের দাবি অনুযায়ী, দুই সমুদ্র বা লোনা ও মিষ্টি পানির মাঝে একটি ‘বারজাখ’ বা ‘অভেদ্য অন্তরায়’ রয়েছে যা পানিকে মিশতে বাধা দেয়। কিন্তু আধুনিক সমুদ্রবিজ্ঞান (Oceanography) এবং পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই দাবিটি কেবল ভুলই নয়, বরং এটি একটি চাক্ষুষ বিভ্রম মাত্র। প্রকৃতিতে লোনা ও মিষ্টি পানির মাঝে কোনো স্থায়ী বা অভেদ্য দেয়াল থাকা বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব।

প্রথমত, ব্যাপন প্রক্রিয়া (Diffusion) এবং অস্থিরতা বা বিক্ষুব্ধতা (Turbulence) এর কারণে দুই ধরণের পানি সবসময়ই একে অপরের সাথে মিশে যায়। পানির অণুগুলো সর্বদা গতিশীল। যখন লোনা পানি (উচ্চ ঘনত্ব) এবং মিষ্টি পানি (নিম্ন ঘনত্ব) সংস্পর্শে আসে, তখন তাদের অণুগুলো উচ্চ ঘনত্বের স্থান থেকে নিম্ন ঘনত্বের স্থানের দিকে প্রবাহিত হয়। এমনকি যদি সমুদ্র শান্তও থাকে, তবুও আণবিক পর্যায়ে এই মিশ্রণ প্রক্রিয়া অবিরাম চলতে থাকে [11]

দ্বিতীয়ত, সমুদ্রবিজ্ঞানে যেটিকে আমরা একটি বিভাজক রেখা হিসেবে দেখি, তাকে বলা হয় হ্যালোক্লাইন (Halocline)। লোনা ও মিষ্টি পানির ঘনত্ব, তাপমাত্রা এবং লবণাক্ততার পার্থক্যের কারণে এদের মিলস্থলে একটি দৃশ্যমান রেখা বা স্তরের সৃষ্টি হয়। এটি কোনো ‘অভেদ্য দেয়াল’ নয়, বরং এটি একটি ট্রানজিশন জোন (Transition Zone) বা পরিবর্তনশীল এলাকা। এই এলাকায় দুই ধরণের পানি ধীরগতিতে হলেও ক্রমাগত মিশ্রিত হতে থাকে। একে বলা হয় এস্টুয়াইন মিক্সিং (Estuarine Mixing)। পৃথিবীর কোনো মোহনাতেই এমন কোনো বিন্দু পাওয়া যাবে না যেখানে পানি পুরোপুরি পৃথক থাকে; বরং সেখানে একটি বিশাল এলাকা জুড়ে ‘ব্র্যাকিশ ওয়াটার’ বা আধা-লবণাক্ত পানির অস্তিত্ব পাওয়া যায়, যা প্রমাণ করে যে পানিগুলো আসলে মিশে গেছে [12]

তৃতীয়ত, তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র বা এনট্রপি (Entropy) অনুযায়ী, প্রকৃতি সবসময় বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হয়। যদি দুটি ভিন্ন ঘনত্বের তরলকে পাশাপাশি রাখা হয়, তবে তারা একসময় অবশ্যই মিশ্রিত হয়ে একটি সুষম অবস্থায় (Equilibrium) পৌঁছাবে। যদি কোরআনের দাবি অনুযায়ী সেখানে কোনো ‘অভেদ্য বাধা’ থাকত, তবে তা মহাবিশ্বের এই মৌলিক পদার্থবিজ্ঞান বিরোধী হতো। সমুদ্রের ঢেউ, জোয়ার-ভাটা এবং বাতাসের কারণে সৃষ্টি হওয়া প্রবল শক্তি এই তথাকথিত বাধা বা দেয়ালকে ভেঙে চুরমার করে দেয় এবং পানিকে দ্রুত মিশিয়ে ফেলে [13]

দুই 7

পরিশেষে, বর্তমান সময়ে ভাইরাল হওয়া জিব্রাল্টার প্রণালী বা আলাস্কা উপসাগরের ভিডিওগুলোতে যে রেখা দেখা যায়, তা মূলত সমুদ্রের বিশাল পলি (Sediment) এবং হিমবাহ থেকে আসা মিষ্টি পানির ক্ষণস্থায়ী পার্থক্যের বহিঃপ্রকাশ। এই রেখাটি স্থির নয় এবং এটি কোনোভাবেই পানির আণবিক বিনিময় রোধ করতে পারে না। সুতরাং, কোরআনে যে ‘অনতিক্রম্য ব্যবধানে’র কথা বলা হয়েছে, তা ছিল প্রাচীন মানুষের স্থূল পর্যবেক্ষণের একটি ভুল ব্যাখ্যা, যা আধুনিক বিজ্ঞানের কষ্টিপাথরে একেবারেই টিকে থাকে না।


সমুদ্রের গতিপথ পর্যবেক্ষণঃ নাসা

পৃথিবীর বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক সংস্থা নাসা ( National Aeronautics and Space Administration (NASA), ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা। সংস্থাটি পৃথিবীর মহাসাগরসমূহের পানির গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণের জন্য অতি ক্ষুদ্র কিছু কণা বিভিন্ন স্থানের পানিতে ছেড়ে দিয়েছিল। সেই কণাসমূহ স্যাটেলাইটের কাছে সিগন্যাল প্রেরণ করে, যার মাধ্যমে বিজ্ঞানীগণ সমুদ্রসমূহের পানির গতি প্রকৃতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান। সেই কণাসমূহের চলাফেরা থেকে সহজেই বোঝা যায়, দুটি সমুদ্রের পানি মিশে যায় কিনা। যদি দুটি সমুদ্রের পানি না মিশতো, তাহলে সেই কণাসমূহের গতি পর্যবেক্ষণ করলেই দেখা যেত যে, কোন নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে থেমে যাচ্ছে [14]

Ocean current flows in the Mediterranean


উপসংহার

প্রাচীনকালের মানুষ তাদের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দেখেছিল, তাদের চোখের সামনে এত বড় বড় সমুদ্র আর নদী পাশাপাশি রয়েছে। কিন্তু তারা বুঝতে পারতো না যে, এই পানিগুলো মিশে যাচ্ছে না কেন? তারা ভাবতো, নিশ্চয়ই এমন কোন অদৃশ্য শক্তি রয়েছে যা এই দুই পানিকে মিশতে বাধা দিচ্ছে, নইলে পানিগুলো মিশে সব পানিই তো লবণাক্ত হয়ে যেতো। যেহেতু তারা সেই সময়ে নদীর উৎপত্তি, গতি, বৃষ্টি এবং সমুদ্র থেকে জলীয়বাষ্প হয়ে পানির আকাশে মেঘ হিসেবে চলে যাওয়ার মত বিষয়গুলো জানতো না, তাই তারা এগুলো অলৌকিক ব্যাপার বলে মনে করতো। তাই দুই সমুদ্রের পানি মেশে না, লবণাক্ত ও মিঠা পানি মেশে না, এরকম ধারণা প্রাচীনকালের মানুষের জন্য খুবই স্বাভাবিক ছিল। তাই কোরআনেই এই বিষয়টি চলে এসেছে। অথচ আজকে আমরা জানি, পানি অবশ্যই মেশে। না মেশার কোন উপায় নেই। ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসীগণ পানিকে কাফের মুরতাদ ঘোষণা দিয়ে কতল করতে চাইলেও, পানি মিশবেই। তা থামানো যাবে না।



তথ্যসূত্রঃ
  1. Aristotle, Meteorologica, Book II, Chapter 3 1 2
  2. Pliny the Elder, Naturalis Historia, Book II, Chapter 106 ↩︎
  3. Seneca, Naturales Quaestiones, Book III, Section 26 ↩︎
  4. Alexander of Aphrodisias, Commentary on Aristotle’s Meteorologica ↩︎
  5. কোরআন, সূরা ফুরকান, আয়াত ৫৩ ↩︎
  6. কোরআন, সূরা আর রাহমান, আয়াত ১৯ ↩︎
  7. কোরআন, সূরা আর রাহমান, আয়াত ২০ ↩︎
  8. তাফসীরে ইবনে কাসীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ২২৭ ↩︎
  9. তাফসীরে ইবনে কাসীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ৫৮৮-৫৮৯ ↩︎
  10. তাফসীরে মাযহারী, ৮ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৬৩, ৫৬৪ ↩︎
  11. Introduction to Physical Oceanography, Robert H. Stewart, Chapter 13 ↩︎
  12. Principles of Physical Oceanography, G. Neumann & W. J. Pierson, Section 14.2 ↩︎
  13. Descriptive Physical Oceanography: An Introduction, George L. Pickard, Chapter 8 ↩︎
  14. Ocean Current Flows around the Mediterranean Sea for UNESCO ↩︎