ইসলাম ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনে বলা হয়েছে, মানুষ আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কোন কিছু ইচ্ছা করতে পারে না। এর অর্থ হচ্ছে, কেউ যদি ধর্ষণ করার ইচ্ছা করে, সেটি অবশ্যই আল্লাহ তার জন্য ইচ্ছা করে দেয়। সে নিজে থেকে এই ইচ্ছাটি আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া করতে পারে না। একইভাবে কেউ যদি নামাজ পড়ার ইচ্ছা করে, সেটিও আল্লাহর ইচ্ছাতেই হয়। মানুষের পক্ষে শুধু সেটি ইচ্ছে করাই সম্ভব, যা আল্লাহ তার জন্য ইচ্ছে করে দিয়েছেন [1] –
তোমরা ইচ্ছে কর না যদি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ ইচ্ছে না করেন।
Taisirul Quran
তোমরা ইচ্ছা করবেনা, যদি জগতসমূহের রাব্ব আল্লাহ ইচ্ছা না করেন।
Sheikh Mujibur Rahman
আর তোমরা ইচ্ছা করতে পার না, যদি না সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ ইচ্ছা করেন।
Rawai Al-bayan
আর তোমরা ইচ্ছে করতে পার না, যদি না সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ্ ইচ্ছে করেন (১)।
Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
আল্লাহ্ কোরআনে খুব পরিষ্কারভাবেই বলেছেন, তিনি কিছু মানুষের অন্তরে মোহর মেরে দেন, কানসমূহ বন্ধ করে দেন, চোখে পর্দা দিয়ে ঢেকে দেন। যার ফলে তারা ইসলামকে জানতে এবং বুঝতে পারে না। যার ফলশ্রুতিতে তারা কাফের হয়ে যায়। এখন আমার মত নাস্তিকের অন্তরে আল্লাহ যদি মোহর লাগিয়ে দেন, সেই কারণে যদি আমি ইসলামের সত্যতা অনুধাবন করতে না পারি, এর জন্য দায়ী আসলে কে? [2] –
আল্লাহ তাদের অন্তর ও কানের উপর মোহর করে দিয়েছেন, আর তাদের চোখে আছে আবরণ আর তাদের জন্য আছে মহা শাস্তি।
Taisirul Quran
আল্লাহ তাদের অন্তরসমূহের উপর ও তাদের কর্ণসমূহের উপর মোহরাংকিত করে দিয়েছেন এবং তাদের চক্ষুসমূহের উপর আবরণ পড়ে আছে এবং তাদের জন্য রয়েছে ভয়ানক শাস্তি।
Sheikh Mujibur Rahman
আল্লাহ তাদের অন্তরে এবং তাদের কানে মোহর লাগিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের চোখসমূহে রয়েছে পর্দা। আর তাদের জন্য রয়েছে মহাআযাব।
Rawai Al-bayan
আল্লাহ্ তাদের হৃদয়সমূহ ও তাদের শ্রবণশক্তির উপর মোহর করে দিয়েছেন (১), এবং তাদের দৃষ্টির উপর রয়েছে আবরণ। আর তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।
Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
আল্লাহ্ বলেছেন, তিনি সমস্ত বস্তুকেই তাকদীর অনুযায়ী সৃষ্টি করেছেন [3] –
আমি প্রত্যেক বস্তুকে তাকদীর অনুযায়ী সৃষ্টি করেছি।
এই পৃথিবীতে যত ধরণের ভাল ঘটনা ঘটে, বিপদ-আপদ ঘটে, ফিতনা-ফাসাদ আপতিত হয় আল্লাহ্ তাআলা সেসব ঘটার আগেই সে সম্পর্কে জানেন এবং সেটি তিনি লওহে মাহফুযে লিখে রেখেছেন। যা বিশ্বাস করা প্রতিটি মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য। কোরআনে বলা হয়েছে [4] –
পৃথিবীতে ও তোমাদের জানের উপর যে বিপদই আসুক না কেন আমরা তা সৃষ্টি করার আগেই কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে।
ইসলাম ধর্ম অনুসারে প্রতিটি মুসলিমের অবশ্যই এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে, কোন কিছুই আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে ঘটে না। হোক না সেটি আল্লাহর কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট অথবা মাখলুকের কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট। আল্লাহ যা ইচ্ছা নির্ধারণ করেন, যাকে ইচ্ছা তাকে মনোনীত করেন। কোরআনে বলা হয়েছে [5] –
আপনার পালনকর্তা যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং (যা ইচ্ছা) মনোনীত করেন।
আল্লাহ আরো বলেন, তিনি যেটি ইচ্ছা করেন সেটিই করেন বা ঘটান [6] –
এবং আল্লাহ যা ইচ্ছা সেটাই করেন
আল্লাহ বলেন, তিনি যেভাবে ইচ্ছা মাতৃগর্ভেই আকৃতি দান করেন। এগুলো নিতান্তই তার ইচ্ছাধীন। অর্থাৎ, পৃথিবীতে যেসকল অসংখ্য শিশু নানা ধরণের শারীরিক সমস্যা নিয়ে জন্ম নেয়, সেগুলো আল্লাহ পাক ইচ্ছা করেই তাদের ঐরকম আকৃতি দান করেন [7] –
তিনিই মাতৃগর্ভে তোমাদেরকে আকৃতি দান করেন যেভাবে ইচ্ছা করেন সেভাবে।
আল্লাহ পাক সেই সাথে আরো বলেন, আল্লাহ না চাইলে কেউ কিছু করতেও পারতো না [8] [9] –
তোমার রব যদি ইচ্ছা করত, তবে তারা তা করত না
তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেককে যথোচিত আকৃতি দান করেছেন।
তাছাড়া গোটা মহাবিশ্ব আল্লাহ তাআলার মালিকানাধীন। অতএব, তাঁর মালিকানাভুক্ত রাজ্যে কোন কিছু তাঁর অজ্ঞাতসারে অথবা অনিচ্ছায় ঘটা সম্ভব নয়। কোরআনে বলা হয়েছে [10] [11] –
আল্লাহ যাকে সৎপথে চালান, সেই সৎপথ প্রাপ্ত এবং তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, আপনি কখনও তার জন্যে পথপ্রদর্শনকারী ও সাহায্যকারী পাবেন না।
যাকে আল্লাহ পথ দেখাবেন, সেই পথপ্রাপ্ত হবে। আর যাকে তিনি পথ ভ্রষ্ট করবেন, সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত।
এবারে আসুন, একটি আয়াত তাফসীর সহ পড়ি। [12]
MUHIUDDIN KHAN
আল্লাহর অভিপ্রায় ব্যতিরেকে তোমরা অন্য কোন অভিপ্রায় পোষণ করবে না। আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।
সৌদি সরকার দ্বারা সত্যায়িত আল বায়ান ফাউন্ডেশনের অনুবাদটিও দেখে নিইঃ

এবারে এই আয়াতটির তাফসীর পড়ি, তাফসীরে ইবনে কাসীর থেকে [13] –

এবারে আসুন এই আয়াতটির তাফসীর পড়ে দেখি, [14] –

এবারে আসুন তাফসীরে ইবনে কাসীর থেকে আরেকটি পৃষ্ঠার অংশবিশেষ পড়ে নেয়া যাক [15] –

কোরআনে এটিও খুব স্পষ্ট ভাষায় বলা আছে, শয়তান মানুষকে কুমন্ত্রণা বা প্ররোচনা দেয় আল্লাহর অনুমতিক্রমেই। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া সে কাউকে পথভ্রষ্ট করতে সক্ষম নয়। কোরআনে বলা হয়েছে [16] –
গোপন পরামর্শ হল মু’মিনদেরকে দুঃখ দেয়ার জন্য শয়ত্বান প্ররোচিত কাজ। তবে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারে না। মু’মিনদের কর্তব্য হল একমাত্র আল্লাহরই উপর ভরসা করা।
( Taisirul Quran )
শাইতানের প্ররোচনায় হয় এই গোপন পরামর্শ, মু’মিনদেরকে দুঃখ দেয়ার জন্য; কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত শাইতান তাদের সামান্যতম ক্ষতি সাধনেও সক্ষম নয়। মু’মিনদের কর্তব্য হল আল্লাহর উপর নির্ভর করা।
( Sheikh Mujibur Rahman )
গোপন পরামর্শ তো হল মুমিনরা যাতে দুঃখ পায় সে উদ্দেশ্যে কৃত শয়তানের কুমন্ত্রণা মাত্র। আর আল্লাহর অনুমতি ছাড়া সে তাদের কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। অতএব আল্লাহরই ওপর মুমিনরা যেন তাওয়াক্কুল করে।
( Rawai Al-bayan )
গোপন পরামর্শ তো কেবল শয়তানের প্ররোচনায় হয় মুমিনদেরকে দুঃখ দেয়ার জন্য। তবে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া শয়তান তাদের সামান্যতম ক্ষতি সাধনেও সক্ষম নয়। অতএব, আল্লাহ্র উপরই মুমিনরা যেন নির্ভর করে।
( Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria )
About This Article
Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis
Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics
This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.
Its purpose is not theological neutrality or artificial both-sides balance, but evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.
Neutrality here means methodological fairness: accurate use of sources, logical rigor, evidentiary discipline, and factual consistency. It does not mean moral indifference or equal treatment between harmful doctrines and their criticism.
Strong criticism should not be mistaken for bias if it is supported by evidence and sound reasoning.
This article should be evaluated through source quality, evidentiary strength, logical rigor, factual consistency, and fairness in representing opposing claims—not through theological sensitivity, apologetic expectations, or demand for rhetorical softness.
তথ্যসূত্রঃ
- সূরা তাকভীর, আয়াত ২৯ ↩︎
- সূরা বাকারা আয়াত ৭ ↩︎
- সূরা ক্বামার, আয়াত: ৪৯ ↩︎
- সূরা হাদীদ, আয়াত: ২২ ↩︎
- সূরা কাসাস, আয়াত: ৬৮ ↩︎
- সূরা ইব্রাহিম, আয়াত: ২৭ ↩︎
- সূরা আল ইমরান, আয়াত: ৬ ↩︎
- সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১১২ ↩︎
- সূরা ফুরকান, আয়াত:২ ↩︎
- কোরআন ১৮:১৭ ↩︎
- কোরআন ৭:১৭৮ ↩︎
- কোরআন ৭৬:৩০ ↩︎
- তাফসীরে ইবনে কাসীর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। একাদশ খণ্ড। পৃষ্ঠা ৩৭২ ↩︎
- তাফসীরে মাযহারী, আল্লামা কাজী ছানাউল্লাহ পানিপথী, হাকিমবাদ খানকায়ে মোজাদ্দেদিয়া, ১২তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৭৫ ↩︎
- তাফসীর ইবনে কাসীর, আল্লামা ইবনে কাসীর, ১১তম খণ্ড , ইসলামিক ফাউন্ডেশন ,পৃষ্ঠা ৪৩২ ↩︎
- সূরা আল মুজাদিলা আয়াত ১০ ↩︎
