Al-Anbya
আল-আম্বিয়া: 104
21 আল-আম্বিয়া Al-Anbya · 112 আয়াত الأنبياء
মূল আরবি
يَوْمَ نَطْوِى ٱلسَّمَآءَ كَطَىِّ ٱلسِّجِلِّ لِلْكُتُبِ ۚ كَمَا بَدَأْنَآ أَوَّلَ خَلْقٍ نُّعِيدُهُۥ ۚ وَعْدًا عَلَيْنَآ ۚ إِنَّا كُنَّا فَـٰعِلِينَ
English Translations
The Day when We will fold the heaven like the folding of a [written] sheet for the records. As We began the first creation, We will repeat it. [That is] a promise binding upon Us. Indeed, We will do it.
And (remember) the Day when We shall roll up the heavens like a scroll rolled up for books, as We began the first creation, We shall repeat it, (it is) a promise binding upon Us. Truly, We shall do it.
- the Day when We roll up the sky like a scroll rolls up the writings. Just as We originated the first creation, so We shall bring it back again - a promise (undertaken to be binding) on Us. We are sure to do it.
On that Day We shall roll up the heavens like a scroll for writing. Even as We originated the creation first so We shall repeat it. This is a promise binding on Us; and so We shall do.
The Day when We shall roll up the heavens as a recorder rolleth up a written scroll. As We began the first creation, We shall repeat it. (It is) a promise (binding) upon Us. Lo! We are to perform it.
The Day that We roll up the heavens like a scroll rolled up for books (completed),- even as We produced the first creation, so shall We produce a new one: a promise We have undertaken: truly shall We fulfil it.
বাংলা অনুবাদ
সেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে নেব যেমনভাবে (লিখিত) কাগজ-দলীল গুটিয়ে রাখা হয়। যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে আবার সৃষ্টি করব। ওয়া‘দা আমি করেছি, তা আমি পূর্ণ করবই।
সে দিন আমি আসমানসমূহকে গুটিয়ে নেব, যেভাবে গুটিয়ে রাখা হয় লিখিত দলীল-পত্রাদি। যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবেই পুনরায় সৃষ্টি করব। ওয়াদা পালন করা আমার কর্তব্য। আমি তা পালন করবই।
সেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে ফেলবো, যেভাবে গুটানো হয় লিখিত দফতর। যেভাবে আমি সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব; প্রতিশ্রুতি পালন আমার কর্তব্য, আমি এটা পালন করবই।
সেদিন আমরা আসমানসমূহকে গুটিয়ে ফেলব, যেভাবে গুটানো হয় লিখিত দফতর; যেভাবে আমরা প্রথম সৃষ্টির সুচনা করেছিলাম সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব; এটা আমার কৃত প্রতিশ্রুতি, আর আমরা তা পালন করবই।
সেদিন আকাশমণ্ডলীকে গুটিয়ে ফেলবো, যেভাবে গুটানো হয় লিখিত দফতর; যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব; এ আমার কৃত ওয়াদা, আমি এটা পালন করবই।
১০৪. যেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে ফেলবো, যেমন বালাম বই তার মাঝে থাকা সকল কিছুকেই গুটিয়ে রাখে। আর আমি সকল সৃষ্টিকে সেই অবয়বেই একত্রিত করবো যা দিয়ে তাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করা হয়েছে। আমি এটির এমন এক ওয়াদা করছি যার কখনো বরখেলাফ হবে না। নিশ্চয়ই আমি যা ওয়াদা করি তা বাস্তবায়নও করি।
তাফসীর
আল্লাহ তাআলা বলেন যে, এটা কিয়ামতের দিন হবে। তিনি বলেনঃ আমি আকাশকে গুটিয়ে নেবো। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা আল্লাহর সেইরূপ মর্যাদা দেয় নাই যেইরূপ তার মর্যাদা দেয়া উচিত ছিল, অথচ কিয়ামতের দিন সমস্ত যমীন তার মুষ্টির মধ্যে থাকবে এবং আকাশ সমূহ তার দক্ষিণ হস্তে গুটানো থাকবে, তিনি মহিমান্বিত এবং তারা যাকে শরীক করে তিনি তার উর্ধ্বে।" (৩৯:৬৭)।হযরত ইবনু ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা সমস্ত যমীনকে স্বীয় মুষ্টির মধ্যে গ্রহণ করবে এবং আকাশসমূহ তার ডান হাতে হবে।” (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “আল্লাহ তাআ’লী সপ্ত আকাশ ও ওগুলির মধ্যস্থিত সমস্ত মাখলুক এবং সপ্ত যমীন ও ওগুলির মধ্যস্থিত সবকিছু স্বীয় দক্ষিণ হস্তে গুটিয়ে নিবেন, ওগুলি তাঁর হাতে শরিষার দানার মত থাকবে।” (এটা ইবনু আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)(আরবী) দ্বারা উদ্দেশ্য কিতাব।
বলা হয়েছে যে, এখানে (আরবী) দ্বারা ঐ ফেরেশতাকে বুঝানো হয়েছে যার নিকট দিয়ে কারো ইসতিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা উপরে ওঠার সময় তিনি বলেনঃ “এটাকে জ্যোতিরূপে লিপিবদ্ধ কর।" এই ফেরেশতা আমল নামার কাজের উপর নিযুক্ত রয়েছেন। যখন মানুষ মারা যায় তখন তিনি তার কিতাব (আমলনামা) অন্যান্য কিতাবগুলির সাথে গুটিয়ে নিয়ে কিয়ামতের দিনের জন্যে রেখে দেন। একথাও বলা হয়েছে যে, এই নাম হচ্ছে ঐ সাহাবীর যিনি রাসূলুল্লাহর (সঃ) ওয়াহী লেখক ছিলেন। কিন্তু এই রিওয়াইয়াতটি প্রমাণিত নয়। হাদীসের অধিকাংশ হাফি এটাকে মাওযূ' বা বানোনা কথা বলেছেন। বিশেষ করে আমাদের উসতাদ আল হাফিযুল কাবীর আবুল হাজ্জাজ মুযী (রঃ) এটাকে মাওযূ বলেছেন।
আমি এই হাদীসকে একটি পৃথক কিতাবে লিপিবদ্ধ করেছি। ইমাম আবু জাফর ইবনু জারীরও (রঃ) এই হাদীসের উপর খুবই অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং বহুভাবে এটাকে খণ্ডন করেছেন। তিনি বলেছেন যে, সিজুল নামের কোন সাহাবীই নেই। রাসূলুল্লাহর (সঃ) সমস্ত ওয়াহী লেখকের নাম সুপ্রসিদ্ধ ও সুপরিচিত হয়ে রয়েছে। তাদের কারো নামই সিজ্বল নেই। বাস্তবিকই ইমাম সাহেব খুব সঠিক কথাই বলেছেন। এ হাদীসটি অস্বীকৃত হওয়ার এটা একটি বড় কারণ। এমন কি এটাও স্মরণ রাখার বিষয় যে, যিনি এই সা হাবীর নাম উল্লেখ করেছেন তিনি এই হাদীসের উপর ভিত্তি করেই তা করেছেন। যখন এই হাদীসই প্রমাণিত নয় তখন উল্লিখিত নামও সম্পূর্ণরূপে ভুল প্রমাণিত হলো।
সঠিক কথা এটাই যে, (আরবী) দ্বারা সাহীফা’কেই বুঝানো হয়েছে। অধিকাংশ মুফাসসিরেরও এটাই উক্তি। এর আভিধানিক অর্থও এটাই। সুতরাং অর্থ হলো সেই দিন আমি আকাশকে গুটিয়ে ফেলবো, যেভাবে গুটানো হয় লিখিত দফতর। (আরবী) এখানে (আরবী) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন (আরবী) এখানেও (আরবী) এসেছে (আরবী) অর্থে। অভিধানে এর আরো বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম, সেইভাবে পুনরায় সৃষ্টি করবো। প্রথমে সৃষ্টি করার উপর আমি যখন সক্ষ ছিলাম তখন দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করতে আমি আরো বেশী সক্ষম।
এটা আমার প্রতিশ্রুতি। আর প্রতিশ্রুতি পালন আমার কর্তব্য। আমি এটা পালন করবই। হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদা রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমাদের সামনে ভাষণ দিতে দাড়িয়ে যান। ভাষণে তিনি বলেনঃ “তোমাদেরকে আল্লাহ তাআলার সামনে উলঙ্গ পায়ে ও উলঙ্গ দেহে এবং খনা বিহীন অবস্থায় একত্রিত করা হবে। মহান আল্লাহ বলেনঃ “যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম, আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য, আমি তা পালন করবই।” (এটা ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম বুখারী (রঃ) ও ইমাম মুসলিম (রঃ) এটা তাখরীজ করেছেন) সমস্ত কিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে এবং পুনরায় সৃষ্টি করা হবে।
সেদিন আমরা আসমানসমূহকে গুটিয়ে ফেলব, যেভাবে গুটানো হয় লিখিত দফতর [১]; যেভাবে আমরা প্রথম সৃষ্টির সুচনা করেছিলাম সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব; এটা আমার কৃত প্রতিশ্রুতি, আর আমরা তা পালন করবই।
[১] আয়াতের অর্থ এই যে, কোন সহীফাকে তার লিখিত বিষয়বস্তুসহ যেভাবে গুটানো হয়, আকাশমণ্ডলীকে সেভাবে গুটানো হবে। আয়াতের মর্ম সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “আল্লাহ তা'আলা কেয়ামতের দিন পৃথিবীকে মুষ্টিবদ্ধ করবেন ও আকাশমন্ডলীকে গুটিয়ে নিজের ডান হাতে রাখবেন।” [বুখারীঃ ৪৫৪৩, ৭,৪১২ মুসলিমঃ ২৭৮৭] অন্য হাদীসে এসেছে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে বলেছিলেন, যদি যমীন মুষ্টিবদ্ধ থাকে এবং আসমানসমূহ তাঁর ডান হাতে থাকে তাহলে মানুষ কোথায় থাকবে?
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেনঃ “তারা জাহান্নামের পুলের উপর থাকবে। [মুসলিম:২৭৯১] এক বর্ণনায় ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা সপ্ত আকাশকে তাদের অন্তর্বর্তী সব সৃষ্টবস্তুসহ এবং সপ্ত পৃথিবীকে তাদের অন্তর্বর্তী সব সৃষ্টবস্তুসহ গুটিয়ে একত্রিত করে দেবেন। সবগুলো মিলে আল্লাহ্ তা'আলার হাতে সরিষার একটিদানা পরিমাণ হবে।
[সূরা আল-আম্বিয়া (২১): আয়াত ১০৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা
পুলসিরাতের ওপর এমন সব সাপ রয়েছে যা জাহান্নামীদের দংশন করবে, তখন তারা যন্ত্রণায় বলবে: ‘হাস হাস’। আর বলা হয়েছে: জান্নাতবাসীগণ যখন জান্নাতে প্রবেশ করবেন, তখন তারা জাহান্নামীদের কোনো আর্তনাদ শুনবেন না; তবে তার আগে তারা তা শুনতে পাবেন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। (আর তারা তাদের মনের আকাঙ্ক্ষিত বিষয়ের মধ্যে চিরকাল অবস্থান করবে), অর্থাৎ তারা চিরস্থায়ী হবে এমন সব নেয়ামতের মাঝে যা তাদের মন কামনা করবে এবং যা তাদের নয়ন জুড়াবে। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমাদের মন চাইবে এবং তোমাদের জন্য সেখানে রয়েছে যা তোমরা দাবি করবে।" [সূরা ফুসসিলাত: ৩১]।
মহান আল্লাহর বাণী: (মহাভীতি তাদেরকে শোকান্বিত করবে না)। আবু জাফর ও ইবন মুহাইসিন ‘লা ইউহযিনুহুম’ (ইয়া বর্ণে পেশ এবং ঝা বর্ণে যের দিয়ে) পাঠ করেছেন। অবশিষ্ট কারীগণ ‘লা ইয়াহযুনুহুম’ (ইয়া বর্ণে যবর এবং ঝা বর্ণে পেশ দিয়ে) পাঠ করেছেন। আল-ইয়াযিদী বলেন: ‘হাযানাহু’ হলো কুরাইশদের ভাষা এবং ‘আহযানাহু’ হলো তামীম গোত্রের ভাষা; আর উভয় রীতিতেই পাঠ করা হয়েছে। ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘মহাভীতি’ হলো কিয়ামত ও পুনরুত্থান দিবসের ভয়াবহতা। হাসান (রহ.) বলেন: এটি সেই সময় যখন বান্দাদের জাহান্নামে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। ইবন জুরাইজ, সাঈদ বিন জুবায়ের ও যাহহাক বলেন: এটি হলো সেই সময় যখন জাহান্নাম তার অধিবাসীদের নিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে যাবে এবং জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে মৃত্যুকে যবেহ করা হবে।
যুননুন আল-মিসরী বলেন: এটি হলো চিরবিচ্ছেদ ও বিচ্ছেদ। নবী করীম (সা.) থেকে বর্ণিত: (কিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তি সুগন্ধি কস্তুরীর স্তূপের ওপর থাকবে এবং মহাভীতি তাদেরকে শোকান্বিত করবে না; তারা হলো—সেই ব্যক্তি যে সওয়াবের আশায় কোনো কওমের ইমামতি করেছে এবং তারা তার ওপর সন্তুষ্ট ছিল, সেই ব্যক্তি যে সওয়াবের আশায় কোনো কওমের জন্য আযান দিয়েছে এবং সেই ব্যক্তি যে দুনিয়াতে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়েও তাকে তার রবের ইবাদত থেকে বিমুখ করতে পারেনি)। আবু সালামা বিন আব্দুর রহমান বলেন: আমি এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম যে তার এক গোলামকে প্রহার করছিল।
গোলামটি আমার দিকে ইশারা করল, ফলে আমি তার মনিবের সাথে কথা বললাম এবং সে তাকে মাফ করে দিল। এরপর আমি আবু সাঈদ খুদরী (রা.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে বিষয়টি জানালে তিনি বললেন: হে আমার ভাতিজা! যে ব্যক্তি কোনো বিপদগ্রস্তের কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে মহাভীতির দিনে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন। আমি এটি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর নিকট থেকে শুনেছি। (ফেরেশতারা তাদের অভ্যর্থনা জানাবে) অর্থাৎ জান্নাতের দরজাসম্মুখে ফেরেশতারা তাদের স্বাগত জানাবে, মুবারকবাদ দেবে এবং বলবে: (আজই তোমাদের সেই দিন যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল)। আর বলা হয়েছে যে, ইবন আব্বাস (রা.)-এর মতে রহমতের ফেরেশতারা তাদের কবরের পুনরুত্থানের সময় তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে।
‘আজই তোমাদের সেই দিন’—এর আগে ‘তারা বলবে’ কথাটি উহ্য রয়েছে। ‘যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল’—এ বাক্যে তাদের জন্য সম্মাননার কথা বলা হয়েছে। [সূরা আল-আম্বিয়া (২১): আয়াত ১০৪]যেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে নেব, যেভাবে লিখিত খাতা গুটিয়ে রাখা হয়; যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম, সেভাবেই আমি পুনরায় সৃষ্টি করব। এটি আমার ওপর এক প্রতিশ্রুতি এবং আমি তা অবশ্যই পালন করব (১০৪)মহান আল্লাহর বাণী: (যেদিন আমি আসমানকে গুটিয়ে নেব)। আবু জাফর ইবনুল ক্বাক্বা, শায়বাহ ইবন নিসাহ, আল-আ’রাজ এবং যুহরী ‘তুতওয়াস সামাউ’ (তা বর্ণে পেশ দিয়ে কর্মবাচ্যে) পাঠ করেছেন, যেখানে ‘আসমান’ শব্দটি রফ বা পেশযুক্ত হয়েছে।
মুজাহিদ পাঠ করেছেন ‘ইয়াতওয়ী’।(১) পাণ্ডুলিপি ‘ব’, ‘জ’, ‘ত’, ‘য’ ও ‘ক’ থেকে সংগৃহীত।(২) দেখুন ১৫ খণ্ড, ৩৫৭ পৃষ্ঠা।
অতঃপর তিনি তাঁকে তাঁর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন: "তিনি বললেন, আপনি পবিত্র! আমার পক্ষে এমন কথা বলা শোভা পায় না..." থেকে তাঁর বাণী "...এবং আপনিই সকল বিষয়ের ওপর প্রত্যক্ষদর্শী" পর্যন্ত।আর আব্দুর রাজ্জাক, আল-ফিরইয়াবি, ইবনে আবি শায়বাহ, আব্দ বিন হুমাইদ, ইবনে জারির, ইবনে মুনযির এবং ইবনে আবি হাতিম তাউস থেকে এই আয়াত প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ঈসা (আ.) ও তাঁর প্রতিপালক পরস্পর বিতর্ক (দলিল পেশ) করলেন এবং আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দিলেন। (তিনি বললেন:) "আপনি পবিত্র! যা বলার অধিকার আমার নেই, এমন কথা বলা আমার পক্ষে শোভা পায় না।"আর আবুশ শাইখ তাউসের সূত্রে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: নিশ্চয়ই ঈসা (আ.)-কে তাঁর প্রতিপালক প্রশ্নবাণে জর্জরিত করবেন, অতঃপর ঈসা (আ.) তাঁর প্রতিপালকের নিকট নিজের যুক্তি পেশ করবেন।
আর আল্লাহ তাঁর বাণী "তুমি কি লোকদের বলেছিলে..." আয়াতের মাধ্যমে তাঁকে তাঁর দলিল শিখিয়ে দিয়েছিলেন।আর ইবনে মারদুইয়াহ জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন: যখন কিয়ামত দিবস উপস্থিত হবে, তখন সকল জাতিকে একত্রিত করা হবে এবং প্রত্যেক জনসমষ্টিকে তাদের ইমামসহ আহ্বান করা হবে। তিনি বলেন: তখন ঈসা (আ.)-কেও আহ্বান করা হবে। অতঃপর ঈসাকে বলা হবে: "হে মারইয়াম তনয় ঈসা! তুমি কি লোকদের বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত আমাকে ও আমার জননীকে দুই উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করো?" তখন তিনি বলবেন: "আপনি পবিত্র! যা বলার অধিকার আমার নেই, এমন কথা বলা আমার পক্ষে শোভা পায় না" - তাঁর এই বাণী "...যেদিন সত্যবাদীদের সত্যবাদিতা তাদের উপকারে আসবে" পর্যন্ত।আর আবুশ শাইখ ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেন: "আর আল্লাহ যখন বলবেন—হে মারইয়াম তনয় ঈসা!
তুমি কি লোকদের বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত আমাকে ও আমার জননীকে দুই উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করো?" এমতাবস্থায় লোকেরা তা শুনতে থাকবে। তখন তিনি আল্লাহকে সেই উত্তর প্রদান করবেন যা তোমরা দেখেছ এবং নিজের ওপর তাঁর দাসত্ব স্বীকার করে নেবেন। ফলে যারা ঈসা (আ.) সম্পর্কে অবান্তর কথা বলত, তারা জানতে পারবে যে তারা যা বলত তা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা।আর আবুশ শাইখ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আল্লাহর বাণী "তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, যিনি আমার প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক" প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: (এর অর্থ) আমার প্রভু এবং তোমাদের প্রভু।আর তাবারানি ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "এবং আমি তাদের ওপর সাক্ষী ছিলাম যতদিন আমি তাদের মধ্যে অবস্থান করেছি।"আর ইবনে আবি শায়বাহ, আহমাদ, আব্দ বিন হুমাইদ, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে জারির, ইবনে মুনযির, ইবনে আবি হাতিম, ইবনে হিব্বান, আবুশ শাইখ, ইবনে মারদুইয়াহ এবং বায়হাকি 'আল-আসমা ওয়াস-সিফাত' গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) খুতবা প্রদান করলেন এবং বললেন: হে লোকসকল! তোমাদেরকে আল্লাহর নিকট নগ্ন পদ, বিবস্ত্র এবং খাতনাবিহীন অবস্থায় একত্রিত করা হবে। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: "যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম, সেভাবেই আমি তার পুনরাবৃত্তি করব। এটি আমার কৃত এক প্রতিশ্রুতি; আমি অবশ্যই তা পূরণ করব।" (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ১০৪)। অতঃপর তিনি বললেন: জেনে রেখো! কিয়ামত দিবসে সৃষ্টির মধ্যে সর্বপ্রথম যাকে পোশাক পরিধান করানো হবে, তিনি হলেন ইব্রাহিম। জেনে রেখো!
