Al-Anbya
আল-আম্বিয়া: 92
21 আল-আম্বিয়া Al-Anbya · 112 আয়াত الأنبياء
মূল আরবি
إِنَّ هَـٰذِهِۦٓ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَٰحِدَةً وَأَنَا۠ رَبُّكُمْ فَٱعْبُدُونِ
English Translations
Indeed this, your religion, is one religion, and I am your Lord, so worship Me.
Truly! This, your Ummah [Sharia or religion (Islamic Monotheism)] is one religion, and I am your Lord, therefore worship Me (Alone). [Tafsir Ibn Kathir]
Surely, this is the fraternity of your Faith, a single Faith, and I am your Lord; so worship Me.
Verily this community of yours is a single community, and I am your Lord; so worship Me.
Lo! this, your religion, is one religion, and I am your Lord, so worship Me.
Verily, this brotherhood of yours is a single brotherhood, and I am your Lord and Cherisher: therefore serve Me (and no other).
বাংলা অনুবাদ
তোমাদের এ সব জাতিগুলো একই জাতি, আর আমি তোমাদের প্রতিপালক, কাজেই আমারই ‘ইবাদাত কর।
নিশ্চয় তোমাদের এ জাতি তো একই জাতি। আর আমিই তোমাদের রব। অতএব তোমরা আমার ইবাদাত কর।
এই যে তোমাদের জাতি, এটাতো একই জাতি এবং আমিই তোমাদের রাব্ব, অতএব আমার ইবাদাত কর।
নিশ্চয় তোমাদের এ জাতি--- এ তো একই জাতি এবং আমিই তোমাদের রব, অতএব তোমরা আমারই ইবাদাত কর।
নিশ্চয়ই এরা তোমাদের জাতি এরা তো একই জাতি এবং আমিই তোমাদের প্রতিপালক, অতএব আমার ‘ইবাদত কর।
৯২. হে মানুষ! তোমাদের এ জাতি মূলতঃ একই জাতি। আর সেটি হলো তাওহীদ যা ইসলাম ধর্মও বটে। আর আমি তোমাদের প্রতিপালক। তাই তোমরা আমার জন্য এককভাবে খাঁটি ইবাদাত করো।
তাফসীর
৯২-৯৪ নং আয়াতের তাফসীর: হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ), হযরত মুজাহিদ (রাঃ), হযরত সাঈদ ইবনু জুবাইর (রঃ), কাতাদা (রঃ) এবং হযরত আবদুর রহমান ইবনু যায়েদ ইবনু আসলাম (রাঃ) বলেন যে, (আরবী) এর অর্থ হচ্ছে। তোমাদের দ্বীন হলো একই দ্বীন। হযরত হাসান বসরী (রঃ) বলেন যে, এই আয়াতে যা হতে বিরত থাকতে হবে এবং যা করতে হবে তাই বর্ণনা করা হয়েছে। (আরবী) শব্দটি (আরবী) শব্দের (আরবী) এবং (আরবী) ওর। আর (আরবী) শব্দ দুটি (আরবী) হয়েছে। অর্থাৎ যে শরীয়তের বর্ণনা দেয়া হয়েছে তা তোমাদের সবারই শরীয়ত, যার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর একত্ববাদ। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) (হে রাসুলগণ!
তোমরা উৎকৃষ্ট জিনিস ভক্ষণ কর) (আমি তোমাদের প্রতিপালক, সুতরাং তোমরা আমাকে ভয় কর) ... পর্যন্ত। (২৩:৫১-৫২)রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমরা নবীদের দল পরস্পর বৈমাত্রেয় ভাই (আমাদের সবারই পিতা একই), আমাদের সবারই একই দ্বীন)” তা হলো। এক শরীক বিহীন আল্লাহর ইবাদত করা। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “প্রত্যেকের জন্যে আমি পথ ও পন্থা করে দিয়েছি।" (৫:৪৮) অতঃপর লোকেরা মতানৈক্য সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ তাদের বীদের (আঃ) উপর ঈমান এনেছে এবং কেউ কেউ ঈমান আনয়ন করে নাই।মহান আল্লাহ বলেনঃ কিয়ামতের দিন সকলকেই আমারই নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে।
প্রত্যেককেই নিজ নিজ কতকর্মের প্রতিদান দেয়াহবে। ভাল লোকদেরকে দেয়া হবে ভাল প্রতিদান। মন্দ লোকদেরকে দেয়া হবে মন্দ প্রতিদান।সুতরাং কেউ যদি মু'মিন হয়ে সৎকর্ম করে তবে তার কর্ম প্রচেষ্টা অগ্রাহ্য হবে না এবং আল্লাহ তাআলা তা লিখে রাখেন। যেমন অন্য জায়গায় তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “সকর্মশীলদের বিনিময় আমি নষ্ট করি না।” (১৮:৩০) আল্লাহ তাআ'লা অনুপরিমাণ যুলুম করাও সমীচীন মনে করেন না। তিনি স্বীয় বান্দাদের সমস্ত আমল লিখে রাখেন। একটিও ছুটে যায় না।
নিশ্চয় তোমাদের এ জাতি--- এ তো একই জাতি এবং আমিই তোমাদের রব, অতএব তোমরা আমারই ইবাদাত কর [১]।
[১] এখানে “তোমরা” শব্দের মাধ্যমে সম্বোধন করা হয়েছে সমস্ত মানুষকে। এর অর্থ হচ্ছে, হে মানবজাতি! তোমরা সবাই আসলে একই দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত। [ইবন কাসীর] দুনিয়ায় যত নবী এসেছেন তারা সবাই একই দ্বীন নিয়ে এসেছেন। আর তাদের সেই আসল দ্বীন এই ছিলঃ কেবলমাত্র এক ও একক আল্লাহই মানুষের রব এবং এক আল্লাহরই বন্দেগী করা উচিত। পরবর্তীকালে যতগুলো ধৰ্ম তৈরী হয়েছে সবগুলোই এ দ্বীনেরই বিকৃত রূপ। অন্যত্র রাসূলদের সম্বোধন করে বলা হয়েছে, “আর আপনাদের এ যে জাতি এ তো একই জাতি এবং আমিই আপনাদের রব; অতএব আমার তাকওয়া অবলম্বন করুন।" [সূরা আল-মুমিনুন: ৫২] সুতরাং যে রাসূলদের কথা বলা হলো, তারা তোমাদের নেতা, তোমাদেরকে তাদেরই অনুসরণ করতে হবে, তাদের হেদায়াতেই তোমাদের জন্য পাথেয়। তারা সবাই একই দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাদের পথ একটিই, তাদের রবও একজনই। [সা’দী]
[সূরা আল-আম্বিয়া (২১): আয়াত ৯২] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আল-আম্বিয়া (২১): আয়াত ৯১]এবং সেই নারী, যিনি নিজের সতীত্ব রক্ষা করেছিলেন, অতঃপর আমি তাঁর মধ্যে আমার রূহ থেকে ফুঁক দিয়েছিলাম এবং তাঁকে ও তাঁর পুত্রকে বিশ্বজগতের জন্য এক নিদর্শন বানিয়েছিলাম। (৯১)আল্লাহ তাআলার বাণী: (এবং সেই নারী, যিনি নিজের সতীত্ব রক্ষা করেছিলেন) অর্থাৎ এবং মারইয়ামকে স্মরণ করুন যিনি নিজের সতীত্ব হেফাযত করেছিলেন। যদিও তিনি নবীগণের অন্তর্ভুক্ত নন, তথাপি ঈসা আলাইহিস সালামের আলোচনা পূর্ণ করার নিমিত্তে তাঁর উল্লেখ করা হয়েছে; আর একারণেই তিনি বলেছেন: "এবং তাঁকে ও তাঁর পুত্রকে বিশ্বজগতের জন্য এক নিদর্শন বানিয়েছি।" এখানে 'দুটি নিদর্শন' বলা হয়নি, কারণ এই বক্তব্যের অর্থ হলো: আমি তাঁদের উভয়ের অবস্থা, বিষয় ও ঘটনাকে বিশ্ববাসীর জন্য একটি নিদর্শন বানিয়েছি।
আয-যাজ্জাজ বলেন: তাঁদের উভয়ের ক্ষেত্রে নিদর্শন একটিই, কারণ তিনি কোনো পুরুষ ব্যতিরেকেই তাঁকে প্রসব করেছিলেন। সীবওয়াইহ-এর মাযহাব অনুযায়ী এর বিশ্লেষণ হলো: আমি তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য এক নিদর্শন করেছি এবং তাঁর পুত্রকেও বিশ্বজগতের জন্য এক নিদর্শন করেছি, অতঃপর একটি অংশ উহ্য রাখা হয়েছে। আল-ফাররার মাযহাব অনুযায়ী বাক্যটি হলো: আমি তাঁকে এবং তাঁর পুত্রকে বিশ্বজগতের জন্য নিদর্শন বানিয়েছি, যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁর বাণীতে বলেছেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিকতর হকদার যে তারা তাঁকে সন্তুষ্ট করবে" [১]। আরও বলা হয়েছে: তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি হলো, তিনি প্রথম নারী যাকে ইবাদতখানায় সেবিকা হিসেবে উৎসর্গ করার বিষয়টি কবুল করা হয়েছিল।
আরও একটি নিদর্শন হলো, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁকে তাঁর পক্ষ থেকে এমন রিযিক দ্বারা পুষ্ট করেছিলেন যা তাঁর কোনো বান্দার হাত দিয়ে প্রবাহিত হয়নি। আরও বলা হয়েছে: তিনি কখনো স্তন্যপান করেননি। "আহসানাত" শব্দের অর্থ হলো—তিনি পবিত্রতা অবলম্বন করেছিলেন এবং অশ্লীলতা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছিলেন। আবার বলা হয়েছে: এখানে 'ফারজ' দ্বারা জামার কলার বা ছিদ্র উদ্দেশ্য, অর্থাৎ তাঁর পোশাকে কোনো কলঙ্ক স্পর্শ করেনি, যার অর্থ হলো তিনি অতিশয় পবিত্র ছিলেন। জামার 'ফুরূজ' বা ছিদ্র চারটি: দুই হাতা, উপরের দিক এবং নিচের দিক। সুহাইলী বলেন: তোমার কল্পনা যেন অন্য কোনো দিকে ধাবিত না হয়, কারণ এটি একটি সূক্ষ্ম অলঙ্কারপূর্ণ ইঙ্গিত; কেননা কুরআন এর চেয়েও পবিত্র অর্থবহ, শব্দের চয়নে অধিক ভারসাম্যপূর্ণ, ইঙ্গিতে অধিক সূক্ষ্ম এবং প্রকাশভঙ্গিতে অধিক চমৎকার যে, একজন অজ্ঞ ব্যক্তির কল্পনা যেখানে ধাবিত হয় তা সে উদ্দেশ্য করবে; বিশেষ করে যেখানে রূহুল কুদস থেকে ফুঁক দেওয়া হয়েছে পরম পবিত্র আল্লাহর আদেশে।
সুতরাং সেই পবিত্রতাকে মহান পবিত্র আল্লাহর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করো, এবং এই মিথ্যা ধারণা ও অনুমান থেকে সেই পবিত্রা ও শুদ্ধাচারিণীকে মুক্ত রাখো। "অতঃপর আমি তাঁর মধ্যে আমার রূহ থেকে ফুঁক দিলাম" অর্থাৎ আমি জিবরাঈলকে আদেশ দিলাম এবং তিনি তাঁর জামার কলারে ফুঁক দিলেন, আর সেই ফুঁক দেওয়ার মাধ্যমে আমি তাঁর উদরে মসীহকে সৃষ্টি করলাম। এ বিষয়টি "আন-নিসা" [২] এবং "মারইয়াম" সূরায় ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে, তাই এখানে পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন নেই। "নিদর্শন" অর্থাৎ সৃষ্টির জন্য এক অনন্য চিহ্ন ও বিস্ময়, ঈসার নবুওয়াতের প্রমাণ এবং আমি যা ইচ্ছা করি তাতে আমার কুদরতের কার্যকারিতার নিদর্শন।
[সূরা আল-আম্বিয়া (২১): আয়াত ৯২]নিশ্চয়ই তোমাদের এই উম্মত (বা ধর্ম) তো একই উম্মত, আর আমিই তোমাদের প্রতিপালক, অতএব তোমরা আমারই ইবাদত করো। (৯২)আল্লাহ তাআলার বাণী: (নিশ্চয়ই তোমাদের এই উম্মত তো একই উম্মত) যখন তিনি নবীগণের কথা উল্লেখ করলেন, তখন বললেন: এঁরা সকলেই তাওহীদের ওপর ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। এখানে 'উম্মত' অর্থ হলো 'দীন' বা ধর্ম যা হলো ইসলাম; ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ এবং অন্যরাও এমনটি বলেছেন। পক্ষান্তরে মুশরিকরা সকলেরই বিরোধিতা করেছে। (আর আমিই তোমাদের প্রতিপালক) অর্থাৎ একমাত্র তোমাদের উপাস্য। (অতএব তোমরা আমারই ইবাদত করো) অর্থাৎ কেবল আমার জন্যই ইবাদতকে একনিষ্ঠ করো।
ঈসা ইবনে উমর এবং ইবনে আবি ইসহাক পড়েছেন: "ইন্না হাযিহি উম্মাতুকুম উম্মাতুন ওয়াহিদাতুন" (পেশ যোগে) এবং এটি বর্ণনা করেছেন...(১). দেখুন: খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ১৯৩ এবং পরবর্তী।(২). দেখুন: খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২২ এবং পরবর্তী।
ঈসা ইবনে মারিয়াম (আলাইহিস সালাম) তাঁর মাতার সূতা কাটার উপার্জন থেকে আহার করতেন।ইমাম বায়হাকী ‘শুআবুল ঈমান’ গ্রন্থে জাফর ইবনে সুলাইমান সূত্রে সাবিত ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আবি হাফস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: দাউদ (আলাইহিস সালাম) রোজা পালনরত অবস্থায় সন্ধ্যা করলেন। যখন তাঁর ইফতারের সময় হলো, তখন তাঁর নিকট এক পেয়ালা দুধ আনা হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তোমরা এই দুধ কোথায় পেয়েছ?" তারা বলল: "আমাদের ছাগল থেকে।"তিনি বললেন: "আর এর মূল্য কোথা থেকে এসেছে?" তারা বলল: "হে আল্লাহর নবী! আপনি এ বিষয়ে কেন প্রশ্ন করছেন?" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমরা নবীগণ কেবল পবিত্র বস্তু আহার করতে এবং সৎকর্ম করতে আদিষ্ট হয়েছি।"হাকীম তিরমিযী হানযালা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "জিবরাঈল যখনই আমার নিকট এসেছেন, তখনই আমাকে এই দু’টি দোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন:""হে আল্লাহ!
আমাকে পবিত্র রিযিক দান করুন এবং আমাকে নেক আমলে নিয়োজিত রাখুন।"ইবনে মুনযির মুজাহিদ (রহ.) থেকে আল্লাহর বাণী—"হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তুসমূহ থেকে আহার করো এবং সৎকর্ম করো"—এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এটি ছিল রাসূলগণের জন্য, অতঃপর সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে: "আর নিশ্চয়ই তোমাদের এই উম্মত তো একই উম্মত" (সূরা আম্বিয়া, আয়াত ৯২), অর্থাৎ—তোমাদের দ্বীন একই দ্বীন।
