Al-Anbya
আল-আম্বিয়া: 108
21 আল-আম্বিয়া Al-Anbya · 112 আয়াত الأنبياء
মূল আরবি
قُلْ إِنَّمَا يُوحَىٰٓ إِلَىَّ أَنَّمَآ إِلَـٰهُكُمْ إِلَـٰهٌ وَٰحِدٌ ۖ فَهَلْ أَنتُم مُّسْلِمُونَ
English Translations
Say, "It is only revealed to me that your god is but one God; so will you be Muslims [in submission to Him]?"
Say (O Muhammad SAW): "It is revealed to me that your Ilah (God) is only one Ilah (God - Allah). Will you then submit to His Will (become Muslims and stop worshipping others besides Allah)?"
Say, “What is revealed to me is simply that your God is One God. So do you submit?”
Say: "It is revealed to me that your God is only One God. Will you, then, submit to Him?"
Say: It is only inspired in me that your Allah is One Allah. Will ye then surrender (unto Him)?
Say: "What has come to me by inspiration is that your Allah is One Allah: will ye therefore bow to His Will (in Islam)?"
বাংলা অনুবাদ
বল- আমার প্রতি এ ওয়াহীই করা হয়েছে যে, তোমাদের ইলাহ একমাত্র ইলাহ, কাজেই তোমরা কি তাঁর নির্দেশের প্রতি মাথা নত করবে?
বল, ‘আমার প্রতি ওহী প্রেরণ করা হয় যে, তোমাদের ইলাহ একক ইলাহ। সুতরাং তোমরা কি আত্মসমর্পণকারী হবে’?
বলঃ আমার প্রতি অহী হয় যে, তোমাদের মা‘বূদ একই মা‘বূদ; সুতরাং তোমরা হয়ে যাও আত্মসমর্পনকারী।
বলুন, ‘আমার প্রতি ওহী হয় যে, তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ, সুতরাং তোমরা কি আত্মসমর্পণকারী হবে?
বল: ‘আমার প্রতি ওয়াহী হয় যে, তোমাদের ইলাহ্ কেবল একই ইলাহ্ সুতরাং তোমরা কি আত্মসমর্পণকারী হবে?’
১০৮. হে রাসুল! আপনি বলে দিন: আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আমার নিকট এ ওহী করা হয়েছে যে, তোমাদের সত্যিকারের মা’বূদ কেবল একজনই। যাঁর কোন শরীক নেই। তিনি হলেন আল্লাহ। তাই তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান ও তাঁর আনুগত্যের জন্য সবিনয়ে সম্মত হও।
তাফসীর
১০৮-১১২ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা স্বীয় রাসূলকে (সঃ) নির্দেশ দিচ্ছেনঃ তুমি মুশরিকদেরকে বলে দাওঃ আমার কাছে এই ওয়াহী করা হচ্ছে যে, সত্য ও প্রকৃত মাবুদ শুধু আল্লাহ তাআলাই। তোমরা সবাই এটা মেনে নাও। যদি তোমরা আমার কথা না মানে তবে আমরা ও তোমরা পৃথক। তোমরা আমাদের শত্রু এবং আমরা তোমাদের শত্রু। যেমন অন্য জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যদি তারা তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তবে বলে দাও আমার আমল আমার জন্যে এবং তোমাদের আমল তোমাদের জন্যে, আমি যে আমল করি তা হতে তোমরা মুক্ত এবং তোমরা যে আমল কর তা হতে আমি মুক্ত।" (১০:৪১) আরো বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তুমি যদি কোন কওমের বিশ্বাসঘাতকতা ও চুক্তি ভঙ্গের আশংকা কর তবে তৎক্ষণাৎ তাদেরকে চুক্তি ভঙ্গের খবর দিয়ে দাও।" (৮:৫৮)।
অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলা এখানেও বলেনঃ যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তুমি বলে দাওঃ তোমাদের আমাদের মধ্যকার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। তোমরা নিশ্চিতরূপে জেনে রেখো যে, তোমাদের সঙ্গে যে ওয়াদা করা হচ্ছে। তা অবশ্য অবশ্যই পূর্ণ হবে, তা এখনই হোক অথবা বিলম্বেই হোক। আল্লাহ তাআলা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত। তোমরা যা কিছু প্রকাশ কর এবং যা কিছু গোপন রাখো আল্লাহ তা সবই জানেন। বান্দাদের সমস্ত প্রকাশ্য ও গোপনীয় সংবাদ তার নিকট প্রকাশমান। ছোট, বড়, প্রকাশ্য, অপ্রকাশ্য সবই তিনি জানতে পারেন। খুব সঙ্ঘ ওয়াদা পূরণে বিলম্ব করার মধ্যেও তোমাদের জন্যে একটা পরীক্ষা রয়েছে এবং কিছু কালের জন্যে তোমরা জীবনোপভোগ করবে।রাসূলদেরকে (আঃ) যে দুআ শিক্ষা দেয়া হয়েছিল তা হলো : হে আল্লাহ!
আপনি আমাদের মধ্যে ও আমাদের কওমের মধ্যে ন্যায়ের সাথে ফায়সালা করুন এবং উত্তম ফায়সালাকারী একমাত্র আপনিই। রাসূলুল্লাহকেও (সঃ) এই প্রকারেরই দুআ'র নির্দেশ দেয়া হয়। রাসূলুল্লাহ (সঃ) যে কোন যুদ্ধে গিয়েই দুআ করতেনঃ হে আমার প্রতিপালক! আপনি ন্যায়ের সাথে ফায়সালা করে দিন। আমরা আমাদের দয়াময় আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি। হে কাফির ও মুশরিকদের দল! তোমরা যা কিছু মিথ্যা আরোপ করছে সে বিষয়ে আমাদের একমাত্র সহায়স্থল তিনিই। তিনিই আমাদের সাহায্যকারী।
বলুন, ‘আমার প্রতি ওহী হয় যে, তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ, সুতরাং তোমরা কি আত্মসমর্পণকারী হবে?
[সূরা আল-আম্বিয়া (২১): আয়াত ১০৭ থেকে ১০৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আল-আম্বিয়া (২১): আয়াত ১০৭ থেকে ১০৯]আর আমি আপনাকে সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য কেবল রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি। (১০৭) বলুন, আমার প্রতি কেবল এটাই ওহী করা হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ; সুতরাং তোমরা কি আত্মসমর্পণকারী হবে? (১০৮) অতঃপর তারা যদি বিমুখ হয়, তবে বলে দিন, আমি তোমাদেরকে যথাযথভাবে (যুদ্ধের বিষয়টি) জানিয়ে দিয়েছি; আর তোমাদের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা নিকটবর্তী না দূরবর্তী, তা আমি জানি না। (১০৯)মহান আল্লাহর বাণী: (আর আমি আপনাকে সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য কেবল রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি) সাঈদ বিন জুবাইর ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সকল মানুষের জন্য রহমত ছিলেন।
সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর ওপর ঈমান এনেছে এবং তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করেছে, সে সৌভাগ্যবান হয়েছে। আর যে ব্যক্তি তাঁর ওপর ঈমান আনেনি, সে পূর্ববর্তী উম্মতদের ওপর আপতিত ভূমিধস ও নিমজ্জনের ন্যায় শাস্তি থেকে রক্ষা পেয়েছে। ইবনে যায়দ বলেন: 'আলামীন' (সৃষ্টিজগত) দ্বারা তিনি কেবল মুমিনদের উদ্দেশ্য করেছেন। মহান আল্লাহর বাণী: (বলুন, আমার প্রতি কেবল এটাই ওহী করা হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ) সুতরাং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করা জায়েজ নয়। (সুতরাং তোমরা কি আত্মসমর্পণকারী হবে?) অর্থাৎ আল্লাহর তাওহীদের প্রতি অনুগত হবে? অর্থাৎ তোমরা ইসলাম গ্রহণ করো, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে?" [আল-মায়িদাহ: ৯১] অর্থাৎ তোমরা নিবৃত্ত হও।
মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর তারা যদি বিমুখ হয়) অর্থাৎ যদি তারা ইসলাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় (তবে বলে দিন, আমি তোমাদেরকে যথাযথভাবে জানিয়ে দিয়েছি) অর্থাৎ আমি তোমাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি যে, আমাদের ও তোমাদের মাঝে যুদ্ধ বিদ্যমান, আমাদের মধ্যে কোনো সন্ধি নেই। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর যদি তুমি কোনো সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে খিয়ানতের আশঙ্কা করো, তবে তুমিও তাদের চুক্তি তাদের দিকে যথাযথভাবে ছুঁড়ে দাও" [আল-আনফাল: ৫৮] অর্থাৎ তাদের জানিয়ে দাও যে, তুমি চুক্তিটি সম্পূর্ণরূপে ভঙ্গ করেছ; অর্থাৎ তুমি ও তারা এখন সমান অবস্থায় আছ, ফলে এক পক্ষের ওপর অন্য পক্ষের প্রতি আর কোনো চুক্তিবদ্ধ দায়বদ্ধতা নেই।
আজ-যাজ্জাজ বলেন: এর অর্থ হলো, আমার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তা আমি তোমাদের সকলকে সমানভাবে অবগত করেছি; কারো কাছে কোনো কিছু প্রকাশ করে অন্যের কাছে গোপন রাখিনি। (আর আমি জানি না) এখানে 'ইন' শব্দটি না-বোধক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ আমি জানি না। (তোমাদের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা নিকটবর্তী না দূরবর্তী) অর্থাৎ কিয়ামতের সময়কাল কেউ জানে না; না কোনো প্রেরিত নবী, না কোনো নিকটবর্তী ফেরেশতা—ইবনে আব্বাস (রা.) একথাই বলেছেন। আবার বলা হয়েছে: আমি তোমাদের যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছি, তবে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অনুমতি আমাকে কখন দেওয়া হবে তা আমি জানি না।
[সূরা আল-আম্বিয়া (২১): আয়াত ১১০ থেকে ১১২]নিশ্চয় তিনি জানেন উচ্চস্বরে বলা কথা এবং তিনি জানেন যা তোমরা গোপন করো। (১১০) আর আমি জানি না, সম্ভবত এটা তোমাদের জন্য এক পরীক্ষা এবং এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভোগ-বিলাসের সুযোগ। (১১১) তিনি বললেন, হে আমার প্রতিপালক! আপনি ন্যায়ের সাথে ফয়সালা করে দিন। আর আমাদের প্রতিপালক পরম করুণাময়, তোমরা যা বর্ণনা করছ সে বিষয়ে কেবল তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করা হয়। (১১২)মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয় তিনি জানেন উচ্চস্বরে বলা কথা এবং তিনি জানেন যা তোমরা গোপন করো) অর্থাৎ শিরকের মধ্য থেকে যা তোমরা গোপন করো, আর তিনি এর প্রতিফল প্রদানকারী।
(আর আমি জানি না, সম্ভবত এটা) অর্থাৎ এই অবকাশ প্রদান (তোমাদের জন্য এক পরীক্ষা) অর্থাৎ পরীক্ষা করার জন্য যে, তোমরা কী রূপ আচরণ করো।(১). দেখুন খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৮৫ ও পরবর্তী।(২). দেখুন খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৩১।
