Al-Anbya

আল-আম্বিয়া: 16

21:16
টেক্সট কপি
21 আল-আম্বিয়া Al-Anbya · 112 আয়াত الأنبياء

মূল আরবি

وَمَا خَلَقْنَا ٱلسَّمَآءَ وَٱلْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لَـٰعِبِينَ

English Translations

Sahih International

And We did not create the heaven and earth and that between them in play.

Muhsin Khan

We created not the heavens and the earth and all that is between them for a (mere) play.

Taqi Usmani

We did not create the heavens and the earth and what lies between them for play.

Abul Ala Maududi

We did not create in sport the heavens and the earth and all that lies between the two.

Pickthall

We created not the heaven and the earth and all that is between them in play.

Yusuf Ali

Not for (idle) sport did We create the heavens and the earth and all that is between!

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আসমান, যমীন আর এ দু’য়ের মধ্যে যা কিছু আছে তা আমি খেলতে খেলতে বানাইনি।

রাওয়াই আল-বায়ান

আসমান-যমীন ও তাদের মাঝখানে যা কিছু আছে তার কোন কিছুই আমি খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আকাশ ও পৃথিবী এবং যা এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে তা আমি ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর আসমান, যমীন ও যা এতদুভয়ের মধ্যে আছে তা আমরা খেলার ছলে সৃষ্টি করিনি।

ফাতহুল মাজীদ

আকাশ ও পৃথিবী এবং তাদের উভয়ের মাঝে যা কিছু আছে তা আমি ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি।

মুখতাসার

১৬. আমি আকাশ, জমিন ও এতদুভয়ের মধ্যকার কোন কিছুই খেল-তামাশাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। বরং আমি এ দু’টিকে আমার অসীম ক্ষমতা বুঝানোর জন্য বানিয়েছি।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১৬-২০ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা খবর দিচ্ছেন যে, তিনি আকাশ ও যমীনকে হক ও ন্যায়ের সাথে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তিনি অসৎ লোকদেরকে শাস্তি এবং সৎলোকদের পুরস্কার দেন। এগুলিকে তিনি খেল তামাশা ও ক্রীড়াচ্ছিলে সৃষ্টি করেন নাই। অন্য আয়াতে এই বিষয়ের সাথে সাথেই এই বর্ণনা রয়েছে যে, এইরূপ ধারণা কাফিররা পোষণ করে থাকে যাদের জন্য জাহান্নামের অগ্নি প্রস্তুত রয়েছে। মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আমি যদি খেল-তামাশা ও ক্রীড়ার উপকরণ চাইতাম তবে আমি আমার কাছে যা তা নিয়েই ওটা করতাম। এর একটি ভাবার্থ হচ্ছেঃ যদি আমি খেল-তামাশা চাইতাম তবে ওর উপকরণ বানিয়ে নিতাম।

আমার কাছে যা আছে তা নিয়েই। আর তা হলে আমি জান্নাত, জাহান্নাম, মৃত্যু, পুনরুত্থান এবং হিসাব সৃষ্টি করতাম না। ইবনু আবি নাজাহ (রাঃ) এই অর্থ করেছেন। হাসান (রাঃ) ও কাতাদা (রাঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ যদি আমি স্ত্রীর ইচ্ছা করতাম তবে আমার কাছে যারা আছে তাদেরকেই করতাম। ইয়ামিন বাসীদের ভাষায় (আরবী) শব্দটি স্ত্রীর অর্থেও এসে থাকে। ইকরামা (রঃ) এবং সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, এখানে (আরবী) শব্দ দ্বারা সন্তান উদ্দেশ্য। কিন্তু এ দু'টি অর্থ পরম্পর সম্বন্ধ যুক্ত। স্ত্রীর সাথে সন্তানও রয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ এক জায়গায় বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করার ইচ্ছা করলে তার সষ্টির মধ্যে যাকে ইচ্ছা মনোনীত করতে পারতেন; পবিত্র ও মহান তিনি।

তিনি আল্লাহ, এক, প্রবল পরাক্রমশালী।" (৩৯:৪) সুতরাং তিনি সন্তান গ্রহণ করা হতে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র। হযরত ঈসা (আঃ) ও উযায়ের তাঁর পুত্র নন এবং ফেরেশতারা তাঁর কন্যাও নন। এই ইয়াহুদী, খৃস্টান ও মক্কার কাফিরদের এই বাজে কথা এবং অপবাদ হতে এক ও পরাক্রমশালী আল্লাহ পবিত্র ও উচ্চ। (আরবী) এর মধ্যে (আরবী) শব্দটি নেতিবাচক। অর্থাৎ ‘আমি এটা করি নাই।' মুজাহিদের (রঃ) উক্তি তো এই যে, কুরআনকারীমের মধ্যে (আরবী) সর্বক্ষেত্রেই নেতিবাচক রূপে এসেছে।আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমি সত্য দ্বারা মিথ্যার উপর আঘাত হানি, ফলে তা মিথ্যাকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ মিথ্যা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

ওটা বেশীক্ষণ টিকে থাকতে পারে না। যারা আল্লাহর জন্যে সন্তান সাব্যস্ত করছে, তাদের এই বাজে ও ভিত্তিহীন কথার কারণে তাদের দুর্ভোগ পোহাতেই হবে।এরপর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ যে ফেরেশতাদেরকে তোমরা আল্লাহর কন্যা বলছে তাদের অবস্থা শুনো এবং আল্লাহ তাআলার বিরাটত্বের প্রতি লক্ষ্য করো যে, আকাশ ও পৃথিবীর সমস্ত কিছু তারই অধিকারভুক্ত। ফেরেশতারা তাঁরই ইবাদতে নিমগ্ন রয়েছে। তারা যে কোন সময় তাঁর অবাধ্য হবে এটা অস। হযরত ঈসা (আঃ) আল্লাহ তাআলার বান্দা হওয়াতে শরম করেন না এবং ফেরেশতারাও তার ইবাদত করতে লজ্জাবোধ করেন না। তাদের কেউই অহংকারবশে তার ইবাদত করা হতে বিমুখ হয় না।

যে কেউ এরূপ করবে তার জেনে রাখা উচিত যে, এমন একদিন আসছে যেই দিন সে হাশরের মাঠে সবারই সাথে তার সামনে হাজির হবে এবং স্বীয় কৃতকর্মের ফল ভোগ করবে। ঐ বুযুর্গ ফেরেশতামণ্ডলী দিবারাত্র আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং তারা ক্লান্তও হয় না এবং শৈথিল্যও করে না। দিন রাত তারা আল্লাহর আদেশ পালনে, তাঁর ইবাদতে এবং তার তাসবীহ পাঠ ও আনুগত্যের কাজে লেগে রয়েছে। তাদের মধ্যে নিয়াত ও আমল উভয়ই বিদ্যমান। না তারা কোন সময় আল্লাহর নাফরমানী করে, না কোন আদেশ পালনে বিমুখ হয়।হযরত হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবীদের মজলিসে অবস্থান করছিলেন, ঐ সময় তিনি বলেনঃ “আমি যা শুনতে পাচ্ছি তা তোমরাও শুনতে পাচ্ছ কি?” সাহাবীরা উত্তরে বলেনঃ “আমরা তো কিছুই শুনতে পাচ্ছি না।” তখন তিনি বলেনঃ “আমি আকাশের চড়ুচণ্ডু শব্দ শুনতে পাচ্ছি।

আর সত্য ব্যাপার তো এটাই যে, ওতে চডুচড়ু হওয়া স্বাভাবিক। কেননা তাতে কনিষ্ঠাঙ্গুলী পরিমিত স্থানও এমন নেই যেখানে কোন না কোন ফেরেশতার মস্তক সিজদায় পড়ে থাকে না।" (এ হাদীসটি ইবনু আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আবদুল্লাহ ইবনু হারিস ইবনু নাওফাল (রঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “একদা আমি হযরত কা'ব আহবারের (রাঃ) কাছে বসেছিলাম। ঐ সময় আমি অল্প বয়স্ক বালক ছিলাম। আমি তাকে এই আয়াতের ভাবার্থ জিজ্ঞেস করলাম যে, ফেরেশতাদেরকে কি তাদের চলা, ফেরা, আল্লাহর পয়গাম নিয়ে যাওয়া, আমল করা ইত্যাদি ও তাসবীহ পাঠ করতে বিরত রাখে না? আমার এ প্রশ্ন শুনে তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ “এ ছেলেটি কে?" জনগণ উত্তরে বললেনঃ “এটা বানু আবদিল মুত্তালিব গোত্রের ছেলে।

তিনি তখন আমার কপাল চুম্বন করে বললেনঃ “হে প্রিয় বৎস! ফেরেশতাদের এই তাসবীহ পাঠ ঠিক আমাদের নিঃশ্বাস গ্রহণের মত। দেখো, চলতে, ফিরতে, কথা বলতে সব সময়েই আমাদের নিঃশ্বাস আসা যাওয়া করে থাকে। অনুরূপভাবে ফেরেশতাদের তাসবীহ পাঠও অনবরত চলতে থাকে।"

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর আসমান, যমীন ও যা এতদুভয়ের মধ্যে আছে তা আমরা খেলার ছলে সৃষ্টি করিনি।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-আম্বিয়া (২১): আয়াত ১৬ থেকে ১৮] পূর্ণ পৃষ্ঠা

পা নাড়ানো; মহান আল্লাহর বাণী: "তোমার পা দিয়ে আঘাত করো" [সোয়াদ: ৪২] এর অন্তর্ভুক্ত। আমি আমার পা দিয়ে ঘোড়াকে আঘাত করলাম অর্থাৎ তাকে দৌড়াতে প্ররোচিত করলাম। পরবর্তীতে এর ব্যবহার বৃদ্ধি পায়, এমনকি বলা হতে থাকে যে ঘোড়াটি দৌড়ালো, অথচ এটি মূল ভাষাগত ব্যবহার নয়। সঠিক প্রয়োগ হলো 'ঘোড়াটিকে দৌড়ানো হলো' কর্মবাচ্যে ব্যবহার করা, কারণ সে চালিত। (তোমরা পালিয়ে যেও না) অর্থাৎ তোমরা পলায়ন করো না। বলা হয়েছে যে, যখন তারা পরাজিত হয়ে পলায়ন করছিল, তখন ফেরেশতারা তাদের উপহাস করে ডেকে বললেন: "তোমরা পালিয়ে যেও না।" (এবং ফিরে যাও সেই বিলাসিতার মধ্যে যাতে তোমরা মত্ত ছিলে) অর্থাৎ তোমাদের সেই সব নেয়ামতের দিকে যা তোমাদের দম্ভের কারণ হয়েছিল।

বিলাসী বা সুখে নিমগ্ন ব্যক্তিকে 'মুতরাফ' বলা হয়। বলা হয়ে থাকে: অমুকের জীবনোপকরণ প্রশস্ত করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলাই তাদের বিলাসী করেছিলেন যেমন তিনি বলেছেন: "এবং আমি তাদের পার্থিব জীবনে বিলাসী করেছিলাম" [আল-মুমিনুন: ৩৩]। (যাতে তোমাদের প্রশ্ন করা যায়) অর্থাৎ যাতে তোমাদের কাছে তোমাদের পার্থিব জগতের কোনো কিছু চাওয়া যায়—তাদের প্রতি উপহাসস্বরূপ কাতাদাহ এ কথা বলেছেন। কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ হলো যাতে তোমাদের ওপর যে শাস্তি নেমে এসেছে সে সম্পর্কে তোমাদের প্রশ্ন করা যায় এবং তোমরা তা বর্ণনা করো। আবার বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো তোমরা যেন ঈমান আনো যেমনটা তোমাদের কাছে শাস্তি আসার আগে চাওয়া হয়েছিল; তাদের প্রতি উপহাস, তিরস্কার ও ভর্ৎসনা স্বরূপ এ কথা বলা হয়েছে।

(তারা বলল, হায় দুর্ভোগ আমাদের!) যখন ফেরেশতারা তাদের বললেন: "তোমরা পালিয়ে যেও না" এবং আহ্বান করলেন—হে নবীদের রক্তের প্রতিশোধ গ্রহণকারীরা! অথচ তারা কাউকে কথা বলতে দেখছিল না, তখন তারা বুঝতে পারল যে, আল্লাহ তাআলাই তাদের বিরুদ্ধে তাদের শত্রুদের জয়ী করেছেন কারণ তারা তাদের মাঝে প্রেরিত নবীকে হত্যা করেছিল। সেই মুহূর্তে তারা বলল: "হায় দুর্ভোগ আমাদের! নিশ্চয়ই আমরা জালিম ছিলাম।" এভাবে তারা অপরাধ স্বীকার করল যখন এই স্বীকারোক্তি আর কোনো কাজে আসবে না। (তাদের এই আর্তনাদ চলতেই থাকল) অর্থাৎ তারা ক্রমাগত বলতেই থাকল: "হায় দুর্ভোগ আমাদের!

নিশ্চয়ই আমরা জালিম ছিলাম।" (যতক্ষণ না আমি তাদের কর্তিত শস্যের ন্যায় করে দিলাম) অর্থাৎ তলোয়ারের আঘাতে যেমন কাঁচি দিয়ে শস্য কাটা হয়—মুজাহিদ এ কথা বলেছেন। হাসান বলেছেন: অর্থাৎ আজাব বা শাস্তির মাধ্যমে। (নিস্তেজ অবস্থায়) অর্থাৎ মৃত। নিস্তেজ হওয়া বলতে আগুনের শিখা নিভে যাওয়াকে বোঝায়। এখানে জীবনের অবসানকে আগুনের নির্বাপনের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যেমন মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলা হয় সে নিভে গেছে। ‌‌[সূরা আল-আম্বিয়া (২১): আয়াত ১৬ থেকে ১৮]আমি আকাশ ও পৃথিবী এবং এই উভয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা খেলার ছলে সৃষ্টি করিনি। (১৬) যদি আমি কোনো ক্রীড়া-কৌতুক গ্রহণ করতে চাইতাম, তবে আমি আমার নিজের পক্ষ থেকেই তা গ্রহণ করতাম, যদি আমাকে তা করতে হতো।

(১৭) বরং আমি সত্যকে মিথ্যার ওপর নিক্ষেপ করি, ফলে তা মিথ্যার মস্তক চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ মিথ্যা বিলুপ্ত হয়। আর তোমাদের জন্য দুর্ভোগ তোমরা যা বর্ণনা করছ তার কারণে। (১৮)(১). দেখুন ১৫ খণ্ড, ২১১ পৃষ্ঠা।(২). দেখুন ১২ খণ্ড, ১২১ পৃষ্ঠা এবং পরবর্তী অংশ।