Al-Anbya

আল-আম্বিয়া: 41

21:41
টেক্সট কপি
21 আল-আম্বিয়া Al-Anbya · 112 আয়াত الأنبياء

মূল আরবি

وَلَقَدِ ٱسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِّن قَبْلِكَ فَحَاقَ بِٱلَّذِينَ سَخِرُوا۟ مِنْهُم مَّا كَانُوا۟ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ

English Translations

Sahih International

And already were messengers ridiculed before you, but those who mocked them were enveloped by what they used to ridicule.

Muhsin Khan

Indeed (many) Messengers were mocked before you (O Muhammad SAW), but the scoffers were surrounded by that, whereat they used to mock.

Taqi Usmani

In fact, messengers have been mocked at prior to you. So those who laughed at them were besieged by what they used to ridicule.

Abul Ala Maududi

Other Messengers before you were also mocked, but those who scoffed at the Messengers were overtaken by the same scourge that they had scoffed at.

Pickthall

Messengers before thee, indeed, were mocked, but that whereat they mocked surrounded those who scoffed at them.

Yusuf Ali

Mocked were (many) messenger before thee; But their scoffers were hemmed in by the thing that they mocked.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তোমার পূর্বেও রসূলদেরকে ঠাট্টা করা হয়েছে, অতঃপর যা দিয়ে তারা ঠাট্টা করত তা উল্টো ঠাট্টা-বিদ্রুপই তাদেরকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছিল।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর তোমার পূর্বেও অনেক রাসূলকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হয়েছিল; পরিণামে তারা যা নিয়ে ঠাট্টা করত তাই বিদ্রূপকারীদেরকে ঘিরে ফেলেছিল।* * রাসূলগণ আযাব আসার ভয় দেখালে কাফিররা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত। পরিশেষে তাদের ঠাট্টার বস্ত্ত অর্থাৎ আযাব এসে তাদেরকে ঘিরে ফেলত এবং সে আযাবই তাদেরকে গ্রাস করত।

শাইখ মুজিবুর রহমান

তোমার পূর্বেও অনেক রাসূলকেই ঠাট্টা বিদ্রুপ করা হয়েছিল; পরিণামে তারা যা নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করত তা বিদ্রুপকারীদেরকে পরিবেষ্টন করেছিল।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর আপনার আগেও অনেক রাসুলের সাথেই ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হয়েছিল; পরিণামে তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত তা বিদ্রূপকারীদেরকে পরিবেষ্টন করেছিল।

ফাতহুল মাজীদ

তোমার পূর্বেও অনেক রাসূলকেই ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করা হয়েছিল; পরিণামে তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করত তা বিদ্রƒপকারীদেরকে পরিবেষ্টন করেছিল।

মুখতাসার

৪১. আপনার সম্প্রদায় যদি আপনাকে নিয়ে ঠাট্টা করে তাহলে আপনি মনে রাখুন যে, আপনি এ ব্যাপারে একেবারেই নতুন নন। হে রাসূল! আপনার পূর্বে অনেক রাসূলের সাথে ঠাট্টা করা হয়েছে। রাসূলগণ তাদেরকে যে আযাবেরই ভয় দেখাতো তারা দুনিয়াতে সে আযাবকে নিয়েই ঠাট্টা করতো। অতঃপর, সে আযাবই ঠাট্টাকারী কাফিরদেরকে ঘিরে ধরতো।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

৪১-৪৩ নং আয়াতের তাফসীর: মুশরিকরা যে আল্লাহর রাসূলকে (সঃ) ঠাট্টা বিদ্রুপ করে ও মিথ্যা প্রতিপাদন করে কষ্ট দেয় সেজন্যে তিনি তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেনঃ হে নবী (সঃ) মুশরিকরা যে তোমাকে ঠাট্টা বিদ্রুপ করছে এবং মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে সে কারণে তুমি উদ্বিগ্ন ও মনঃক্ষুন্ন হয়ো না। কাফিরদের এটা পুরাতন অভ্যাস। পূর্ববর্তী নবীদের (আঃ) সাথেও তারা এরূপ ব্যবহারই করেছে। ফলে, অবশেষে তারা আল্লাহর শাস্তির কবলে পতিত হয়। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমার পূর্ববর্তী রাসূলদের মিথ্যা প্রতিপাদন করা হয়েছিল, অতঃপর তারা ওর উপর ধৈর্য ধারণ করেছিল, আর তাদেরকে কষ্ট দেয়া হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে আমার সাহায্য এসেছিল; আল্লাহর কথার কেউ পরিবর্তনকারী নেই।

আর তোমার কাছে রাসূলদের খবর এসে গেছে।” (৬:৩৪)এরপর মহান আল্লাহ স্বীয় নিয়ামত ও অনুগ্রহের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেনঃ তিনিই তোমাদের সবারই হিফাযত ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে রয়েছেন। তিনি কখনও ক্লান্ত হন না এবং কখনও নিদ্রা যান না। এখানে দ্বারা (আরবী) অর্থ নেয়া হয়েছে। অর্থাৎ রহমানের পরিবর্তে বা রহমান ছাড়া দিন-রাত তোমাদেরকে কে রক্ষণাবেক্ষণ করছে? অর্থাৎ তিনিই করছেন। যেমন কোন কবি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “দাসী ‘মিরফাক পরিধান করে নাই এবং সজীর পরিবর্তে পেস্তার স্বাদ গ্রহণ করে নাই।” এখানেও (আরবী) দ্বারা (আরবী) বুঝানো হয়েছে।মুশরিক ও কাফিররা শুধু যে, আল্লাহর একটা নিয়ামত ও অনুগ্রহকে অস্বীকার করছে তা নয়; বরং তারা তার সমস্ত নিয়ামতকেই অস্বীকার করে থাকে।এরপর তাদেরকে ধমকের সুরে বলা হচ্ছেঃ তবে কি আল্লাহ ব্যতীত তাদের এমন দেব-দেবীও আছে যারা তাদেরকে রক্ষা করতে পারে?

অর্থাৎ তারা এরূপ করার ক্ষমতা রেখে না। তাদের এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। এমনকি তাদের এই বাজে মা’বৃদরা নিজেদেরকেই তো সাহায্য করতে পারে না এবং তারা আল্লাহ থেকে বাচতেও পারে না। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কোন খবর তাদের কাছে নেই। এ বাক্যের একটি অর্থ এটাও যে, তারা কাউকেও বাচাতেও পারে না এবং নিজেরাও বাঁচতে পারে না।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর আপনার আগেও অনেক রাসুলের সাথেই ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হয়েছিল; পরিণামে তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত তা বিদ্রূপকারীদেরকে পরিবেষ্টন করেছিল।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[سورة الأنبياء (21): آية 41] পূর্ণ পৃষ্ঠা

আল্লাহ তাআলার বাণী: (যদি কাফিররা জানত) - এখানে 'জ্ঞান' (ইলম) বলতে 'পরিচয়' বা 'উপলব্ধি' (মা’রিফাত) বোঝানো হয়েছে, তাই এটি দ্বিতীয় কোনো কর্ম (মাফউল) দাবি করে না, যেমনটি সুরা আল-আনফালের ৬০ নম্বর আয়াতে রয়েছে: "তোমরা তাদের চেনো না, আল্লাহ তাদের চেনেন"। আর 'লাও' (যদি) এর উত্তর এখানে উহ্য রয়েছে; অর্থাৎ, তারা যদি সেই সময়ের কথা জানত যখন (তারা তাদের মুখমণ্ডল ও পৃষ্ঠদেশ থেকে অগ্নি প্রতিহত করতে পারবে না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না) এবং তা চিনতে পারত, তবে তারা শাস্তির জন্য তড়িঘড়ি করত না। আজ-যাজ্জাজ বলেন: অর্থাৎ তারা অবশ্যই প্রতিশ্রুতির সত্যতা জেনে যেত।

আরও বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো, যদি তারা তা জানত তবে কুফরিতে অটল থাকত না এবং অবশ্যই ঈমান আনত। আল-কিসায়ি বলেন: এটি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার নিশ্চয়তার প্রতি একটি সতর্কতা; অর্থাৎ তারা যদি ধ্রুব সত্য হিসেবে তা জানত, তবে অবশ্যই জানত যে কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী। এর প্রমাণ হলো (বরং তা তাদের কাছে আসবে আকস্মিকভাবে) অর্থাৎ আচমকা, যা দ্বারা কিয়ামত বোঝানো হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন এটি দ্বারা শাস্তি বোঝানো হয়েছে। আবার কেউ বলেছেন এটি জাহান্নাম, যা থেকে আত্মরক্ষার কোনো উপায় তারা পাবে না (অতঃপর তা তাদের হতভম্ব করে দেবে)। আল-জাওহারি বলেন: 'বাহাতাহু বাহতান' অর্থ তাকে আকস্মিকভাবে পাকড়াও করা; আল্লাহ তাআলা বলেন: "বরং তা তাদের কাছে আসবে আকস্মিকভাবে, অতঃপর তা তাদের হতভম্ব করে দেবে"।

আল-ফাররা বলেন: 'ফাতাবাহাতুহুম' অর্থ তাদের কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেবে। বলা হয়: 'বাহাতাহু ইয়াবাহাতুহু' যখন কেউ এমন কিছুর সম্মুখীন হয় যা তাকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেয়। আরও বলা হয়েছে: এটি তাদের আচমকা গ্রাস করবে। (ফলে তারা তা রুখতে পারবে না) অর্থাৎ তাদের পৃষ্ঠদেশ থেকে তা সরিয়ে দিতে পারবে না। (এবং তাদের অবকাশও দেওয়া হবে না) অর্থাৎ তওবা ও ওজর পেশ করার জন্য কোনো সময় বা বিলম্ব দেওয়া হবে না। ‌‌[সুরা আল-আম্বিয়া (২১): আয়াত ৪১]আর অবশ্যই তোমার পূর্ববর্তী রসূলগণের সঙ্গেও উপহাস করা হয়েছিল, অতঃপর তারা যা নিয়ে উপহাস করত, তা উপহাসকারীদের পরিবেষ্টন করল (৪১)।আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর অবশ্যই তোমার পূর্ববর্তী রসূলগণের সঙ্গেও উপহাস করা হয়েছিল) - এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য একটি সান্ত্বনা ও সহমর্মিতা।

তিনি বলছেন: যদি এরা তোমাকে উপহাস করে, তবে তোমার পূর্ববর্তী রসূলগণের সঙ্গেও উপহাস করা হয়েছে, সুতরাং তুমি ধৈর্য ধর যেমন তারা ধৈর্য ধরেছিলেন। এরপর তিনি সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বললেন: (অতঃপর পরিবেষ্টন করল) অর্থাৎ ঘিরে ফেলল এবং আবর্তিত হলো (তাদের ওপর যারা) কুফরি করেছিল এবং (তাদের উপহাস করত) ও বিদ্রূপ করত (যা নিয়ে তারা উপহাস করত) অর্থাৎ তাদের উপহাসের প্রতিফল। ‌‌[সুরা আল-আম্বিয়া (২১): আয়াত ৪২ থেকে ৪৪]বলুন, পরম করুণাময় থেকে কে তোমাদের রক্ষা করবে রাতে ও দিনে? বরং তারা তাদের প্রতিপালকের স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় (৪২)। তাদের কি এমন কোনো উপাস্য আছে যারা আমাদের মোকাবিলায় তাদের রক্ষা করবে?

তারা তো নিজেদের সাহায্য করতেই সক্ষম নয় এবং তারা আমাদের পক্ষ থেকেও কোনো সঙ্গী পাবে না (৪৩)। বরং আমিই এদের এবং এদের পিতৃপুরুষদের ভোগ-সম্ভার দিয়েছিলাম, এমনকি তাদের আয়ুষ্কালও দীর্ঘ হয়েছিল। তবে কি তারা দেখে না যে, আমি জমিনকে চারদিক থেকে সংকুচিত করে আনছি? তবুও কি তারা বিজয়ী হবে? (৪৪)