Taha
ত্বহা: 105
20 ত্বহা Taha · 135 আয়াত طه
মূল আরবি
وَيَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْجِبَالِ فَقُلْ يَنسِفُهَا رَبِّى نَسْفًا
English Translations
And they ask you about the mountains, so say, "My Lord will blow them away with a blast.
And they ask you concerning the mountains, say; "My Lord will blast them and scatter them as particles of dust.
They ask you about the mountains. So, say (to them), “My Lord will crush them into dust thoroughly,
They ask you concerning the mountains: "Where will they go?" Say: "My Lord will scatter them like dust,
They will ask thee of the mountains (on that day). Say: My Lord will break them into scattered dust.
They ask thee concerning the Mountains: say, "My Lord will uproot them and scatter them as dust;
বাংলা অনুবাদ
তারা তোমাকে পর্বতগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, আমার প্রতিপালক সেগুলো সমূলে উৎপাটিত করবেন এবং ধূলির ন্যায় বিক্ষিপ্ত করবেন।
আর তারা তোমাকে পাহাড় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বল, ‘আমার রব এগুলোকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দিবেন’।
তারা তোমাকে পর্বতসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে, তুমি বলঃ আমার রাব্ব ওগুলিকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দিবেন।
আর তারা আপনাকে পর্বতসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, ’আমার রব এগুলোকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দেবেন।
তারা তোমাকে পর্বতসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বল: ‘আমার প্রতিপালক তাদেরকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দেবেন।
১০৫. হে রাসূল! তারা আপনাকে কিয়ামতের দিনকার পাহাড়সমূহের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। আপনি তাদেরকে বলুন: আমার প্রতিপালক পাহাড়গুলোকে গোড়া থেকেই উপড়ে ফেলে সেগুলোকে ধূলিকণার ন্যায় ছিটিয়ে দিবেন।
তাফসীর
১০৫-১০৮ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীকে (সঃ) বলছেনঃ তোমাকে জনগণ জিজ্ঞেস করছে যে, কিয়ামতের দিন এই পাহাড়গুলি বাকী থাকবে কি না? তুমি উত্তরে তাদেরকে বলে দাও আমার প্রতিপালক ওগুলিকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দিবেন। ওগুলি চলছে, ফিরছে বলে মনে হবে এবং শেষে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যাবে। অতঃপর তিনি ওকে পরিণত করবেন মসৃণ সমতল ময়দানে। (আরবী) শব্দের অর্থ হলো মসৃণ সমতল ময়দান এবং (আরবী) শব্দকে ওরই গুরত্বের জন্যে আনা হয়েছে। আবার (আরবী) এর অর্থ বর্ধন হীন যমীনও হয়। কিন্তু প্রথম অর্থটি উৎকৃষ্টতর। আর দ্বিতীয় অর্থটিও অপরিহার্য।
না যমীনে কোন উপত্যকা থাকবে, না কোন টিলা থাকবে, না থাকবে, উঁচু-নীচু। এই ভীতিপ্রদ অবস্থার সাথে সাথেই এক শব্দকারী শব্দ করবে। সমস্ত সৃষ্টজীব ঐ শব্দের পিছনে ছুটবে। দৌড়তে দৌড়তে হুকুম অনুযায়ী একদিকে চলতে থাকবে। এদিক ওদিকও হবে না এবং বক্র পথেও চলবে না। হায়! দুনিয়ায় যদি এই ব্যবহার ও চলন থাকতো এবং আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলা হতো! কিন্তু সেই দিন এই ব্যবহার ও চালচলন কোন কাজে আসবে না। সেই দিন তো মানুষ আল্লাহ তাআলার হুকুম খুবই মান্যকারী হয়ে যাবে এবং হুকুমের সাথে সাথেই তা পালন করবে হাশরের মাঠ হবে অন্ধকার জায়গা। আকাশকে জড়িয়ে নেয়া হবে।
নক্ষত্ররাজি ঝরে ঝরে পড়ে যাবে এবং সুর্য চন্দ্র নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। আওয়াজ দাতার আওয়াজেই সব দাড়িয়ে যাবে। ঐ একই ময়দানে সমস্ত সৃষ্টজীব একত্রিত হবে। সেইদিন দয়াময় আল্লাহ তাআলার সামনে সকল শব্দ স্তব্ধ হয়ে যাবে। সুতরাং মৃদু পদধ্বনি ছাড়া তুমি কিছুই শুনতে পাবে না। আল্লাহ তাআলার অনুমতি ক্রমে কোন কোন সময় কেউ কেউ কিছু বলবেও বটে। কিন্তু বলবে অত্যন্ত আদবের সাথে এবং চলবেও অত্যন্ত ভদ্রতার সাথে। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যেই দিন তারা আমার সামনে হাজির হবে সেই দিন কারো। ক্ষমতা ও সাহস হবে না যে, আমার অনুমতি ছাড়া মুখ খুলতে পারে।
তাদের মধ্যে কেউ হবে হতভাগ্য এবং কেউ হবে ভাগ্যবান।” (১১:১০৫)
আর তারা আপনাকে পর্বতসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন ,’আমার রব এগুলোকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দেবেন।
ষষ্ঠ রুকু’
[সূরা ত্বহা (২০): আয়াত ১০৫ থেকে ১১০] পূর্ণ পৃষ্ঠা
তারা পরস্পর কানাকানি করবে, মুজাহিদ (রহ.) এরূপ বলেছেন। অর্থাৎ হাশরের ময়দানে তারা একে অপরের সাথে সংগোপনে বলবে, (তোমরা অবস্থান করেছ) অর্থাৎ তোমরা দুনিয়াতে অবস্থান করেছ। কেউ বলেছেন: কবরে (মাত্র দশ দিন) ২০: ১০৩, এর অর্থ হলো দশ রাত। আবার বলা হয়েছে: এর দ্বারা দুই ফুঁৎকারের মধ্যবর্তী সময়কে বোঝানো হয়েছে, যা হলো চল্লিশ বছর। ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মতানুসারে, এই সময়ে কাফিরদের থেকে আযাব তুলে নেওয়া হবে। ফলে তারা সেই সময়কালকে অতি সংক্ষিপ্ত মনে করবে। অথবা কিয়ামতের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করার কারণে তারা দুনিয়ায় তাদের অবস্থানের সময়কালকে সংক্ষিপ্ত মনে করবে।
তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম পন্থায় কথা বলবে বা তাদের মধ্যে যে নিজের বিবেচনায় সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী, সে কল্পনা করবে যে তারা মাত্র একদিন অবস্থান করেছে, অর্থাৎ দুনিয়াতে তাদের অবস্থান। এটি কাতাদাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত। সুতরাং এর মর্মার্থ হলো: মাত্র একদিনের মতো। আবার বলা হয়েছে যে, কিয়ামতের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করার তীব্রতায় তারা দুনিয়ার নিআমতসমূহের কথা ভুলে যাবে এবং একে মাত্র একদিনের মতো মনে করবে। আরও বলা হয়েছে: তিনি তাদের অবস্থানের দিন বলতে দুই ফুঁৎকারের মধ্যবর্তী সময় অথবা পূর্বে উল্লিখিত কবরের অবস্থানের কথা বুঝিয়েছেন।
'আশরান' (দশ) এবং 'ইয়াওমান' (একদিন) শব্দ দুটি 'লাবিসতুম' (অবস্থান করেছ) ক্রিয়াপদ দ্বারা মানসুব বা কর্মপদে পরিণত হয়েছে। [সূরা ত্বহা (২০): আয়াত ১০৫ থেকে ১১০]তারা আপনাকে পাহাড়সমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুন, আমার প্রতিপালক এগুলোকে সমূলে উপড়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে উড়িয়ে দেবেন (১০৫)। অতঃপর তিনি তাকে মসৃণ সমতল প্রান্তরে পরিণত করবেন (১০৬)। যাতে আপনি কোনো বক্রতা বা উঁচু-নিচু দেখতে পাবেন না (১০৭)। সেদিন তারা একজন আহ্বানকারীর অনুসরণ করবে, যার কোনো বিচ্যুতি নেই। দয়াময় আল্লাহর সামনে সকল শব্দ স্তব্ধ হয়ে যাবে, ফলে মৃদু গুঞ্জন ছাড়া আপনি কিছুই শুনতে পাবেন না (১০৮)।
সেদিন দয়াময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দেবেন এবং যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হবেন, সে ছাড়া আর কারো সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না (১০৯)।তাদের সামনে যা আছে এবং পিছনে যা আছে সবই তিনি জানেন, কিন্তু তারা জ্ঞান দিয়ে তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না (১১০)।আল্লাহ তাআলার বাণী: (তারা আপনাকে পাহাড়সমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে) ২০: ১০৫ অর্থাৎ কিয়ামতের দিন পাহাড়সমূহের অবস্থা সম্পর্কে। (অতঃপর আপনি বলুন) এখানে 'ফা' বর্ণসহ এসেছে, অথচ কুরআনের অন্যান্য সকল প্রশ্নের ক্ষেত্রে 'ফা' ব্যতিরেকে শুধু 'কুল' (বলুন) এসেছে। কারণ এর মর্মার্থ হলো—যদি তারা আপনাকে পাহাড় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তবে আপনি বলুন।
সুতরাং এই বাক্যে শর্তের অর্থ নিহিত রয়েছে। আল্লাহ তাআলা জানতেন যে তারা তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে, তাই তিনি জিজ্ঞাসার আগেই উত্তর দিয়ে দিয়েছেন। আর পূর্ববর্তী প্রশ্নগুলো ছিল এমন যা তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিল, ফলে উত্তরটি জিজ্ঞাসার পরপরই এসেছে। এ কারণে সেখানে 'ফা' ব্যবহৃত হয়নি। আর এটি এমন একটি প্রশ্ন যা তারা তখনও জিজ্ঞাসা করেনি, তাই বিষয়টি অনুধাবন করুন। (তিনি এগুলোকে উড়িয়ে দেবেন) ২০: ১০৫ অর্থাৎ ধুলিকণার মতো উড়িয়ে দেবেন। 'নাসফান' ২০: ৯৭ সম্পর্কে ইবনুল আরাবী ও অন্যান্যরা বলেন: তিনি এগুলোকে শিকড়সহ উপড়ে ফেলবেন, অতঃপর প্রবাহিত বালুরাশিতে পরিণত করবেন, এরপর ধুনিত তুলার মতো করবেন যা বাতাস এদিকে-ওদিকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে।
তিনি বলেন: 'আইহন' হলো রঙ করা পশম। এরপর তা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হবে। (অতঃপর তিনি তাকে পরিত্যাগ করবেন) ২০: ১০৬ অর্থাৎ পাহাড়ের স্থানসমূহকে (মসৃণ সমতল প্রান্তররূপে) ২০: ১০৬। 'কা-আন' অর্থ হলো মসৃণ ভূমি।(১). 'কাফ' পাণ্ডুলিপি থেকে।
