Taha

ত্বহা: 34

20:34
টেক্সট কপি

মূল আরবি

وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا

English Translations

Sahih International

And remember You much.

Muhsin Khan

"And remember You much,

Taqi Usmani

and remember You in abundance.

Abul Ala Maududi

and may remember You much.

Pickthall

And much remember Thee.

Yusuf Ali

"And remember Thee without stint:

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আর তোমাকে অধিক স্মরণ করতে পারি।

রাওয়াই আল-বায়ান

এবং অধিক পরিমাণে আপনাকে স্মরণ করতে পারি।

শাইখ মুজিবুর রহমান

এবং আপনাকে স্মরণ করতে পারি অধিক।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

‘এবং আমরা আপনাকে স্মরণ করতে পারি বেশি পরিমাণ।

ফাতহুল মাজীদ

এবং তোমাকে অধিক স্মরণ করতে পারি।

মুখতাসার

৩৪. আর আপনাকে বেশি বেশি স্মরণ করতে পারি।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

20:22

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

‘এবং আমরা আপনাকে স্মরণ করতে পারি বেশি পরিমাণ [১]।

[১] অর্থাৎ হারূনকে উযীর ও নবুওয়াতে অংশীদার করলে এই উপকার হবে যে, আমরা বেশী পরিমাণে আপনার যিকর ও পবিত্রতা বর্ণনা করতে পারব। তিনি বুঝতে পারলেন যে, সমস্ত ইবাদাতের প্রাণ হচ্ছে যিকির। তাই তিনি তার ভাইকে সহ এটা করার সুযোগ দানের দো'আ করলেন। [সা’দী]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা ত্বহা (২০): আয়াত ২৪ থেকে ৩৫] পূর্ণ পৃষ্ঠা

মহান আল্লাহর বাণী: (এবং তোমার হাতটি তোমার বগলের সাথে মিলিত করো) ২০: ২২। পবিত্র কুরআনের বাইরে ‘দুম্মা’ শব্দটির মীম বর্ণে ফাতাহ (যবর) এবং কাসরা (যের) উভয়ই পড়া বৈধ—দুটি সুকুন একত্রে মিলিত হওয়ার কারণে; তবে হালকা হওয়ার কারণে ফাতাহ অধিকতর উত্তম, আর কাসরা হলো মূল নিয়ম অনুযায়ী। আবার পূর্ববর্তী বর্ণের অনুকরণে দাম্মাহ (পেশ) পড়াও জায়েয। ‘ইয়াদ’ (হাত) শব্দের মূল রূপ হলো ‘ইয়াদইউন’, যা ‘ফালুন’ ওজনে গঠিত; এর প্রমাণ হলো এর বহুবচন ‘আইদিন’। এর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ হলো ‘উদাইয়্যাহ’। মুজাহিদ বলেন, ‘জানাহ’ অর্থ বাহু। তিনি আরও বলেন, এখানে ‘ইলা’ শব্দটি ‘তাহতা’ (নিচে) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

কুতরুব বলেন, ‘তোমার জানাহর দিকে’ অর্থ ‘তোমার পকেটের দিকে’। এ প্রসঙ্গে জনৈক কবির পংক্তি উদ্ধৃত করা হয়:আমি তাকে বক্ষ ও পাঁজরের সাথে জড়িয়ে ধরি। আবার বলা হয়েছে, এর অর্থ ‘তোমার পার্শ্বের দিকে’; এখানে পার্শ্ব বোঝাতে ‘জানাহ’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, কারণ তা পাঁজরের স্থানেই হেলে থাকে। কেউ কেউ বলেছেন, এর অর্থ ‘তোমার নিকটবর্তী স্থানে’। মুকাতিল বলেন, ‘ইলা’ এখানে ‘মাআ’ (সাথে) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ ‘তোমার বাহুর সাথে’। (তা বের হয়ে আসবে নির্মল উজ্জ্বল হয়ে কোনো রোগ ছাড়াই)—অর্থাৎ কোনো প্রকার শ্বেতী রোগ ছাড়াই এক প্রোজ্জ্বল জ্যোতি রূপে, যা দিন ও রাতে সূর্য ও চন্দ্রের আলোর মতো কিংবা তার চেয়েও তীব্রভাবে আলোকিত হবে।

ইবনে আব্বাস ও অন্যদের থেকে বর্ণিত: হাতটি তাঁর গায়ের রঙের বিপরীতে এক নূর হয়ে বের হয়ে এসেছিল। এখানে ‘বাইদা’ (উজ্জ্বল/সাদা) শব্দটি ‘হাল’ বা অবস্থাসূচক পদ হিসেবে মানসুব (যবরযুক্ত) হয়েছে। শব্দটি অপরিবর্তনীয় (গায়রে মুনসারিফ), কারণ এতে স্ত্রীলিঙ্গবাচক দুটি আলিফ রয়েছে যা শব্দটির অবিচ্ছেদ্য অংশ; এই লজুম বা আবশ্যকতা দ্বিতীয় একটি কারণ হিসেবে গণ্য হয়েছে। তাই নাকেরা বা অনির্দিষ্ট অবস্থায়ও এটি অপরিবর্তনীয় রয়ে গেছে। এটি গোল ‘হা’ (তা-য়ে মারবুতা) থেকে ভিন্ন, কারণ গোল ‘হা’ নাম থেকে পৃথক হতে পারে। ‘মিন গইরি সু-ইন’ (কোনো মন্দ ছাড়াই) অংশের ‘মিন’ অব্যয়টি ‘বাইদা’ শব্দের সাথে সম্পৃক্ত, যেমন বলা হয়: এটি কোনো ত্রুটি ছাড়াই সাদা হয়েছে।

(অন্য এক নিদর্শন)—অর্থাৎ লাঠি ছাড়াও অন্য একটি নিদর্শন। তিনি তাঁর মিশরীয় কোর্তার ভেতর থেকে হাত বের করলেন, আর তা থেকে সূর্যের কিরণের মতো এমন এক জ্যোতি ঠিকরে বের হচ্ছিল যা দৃষ্টিকে ধাঁধিয়ে দেয়। আখফাশ বলেন, ‘আয়াতান’ (নিদর্শন) শব্দটি ‘বাইদা’ শব্দের বদল বা পরিবর্ত হিসেবে মানসুব হয়েছে। নাহহাস বলেন, এটি একটি চমৎকার অভিমত। আল-যাজ্জাজ বলেন, এর অর্থ হলো—আমরা তোমাকে অন্য একটি নিদর্শন প্রদান করলাম অথবা প্রদান করব; কারণ যখন তিনি বললেন ‘তা উজ্জ্বল হয়ে বের হবে কোনো মন্দ ছাড়াই’, তা প্রমাণ করে যে তিনি তাকে অন্য একটি নিদর্শন দান করেছেন।

(যাতে আমি তোমাকে আমার বড় নিদর্শনগুলোর কিছু দেখাতে পারি)—এখানে ‘কুবরা’ দ্বারা সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শন বোঝানো হয়েছে। ব্যাকরণগতভাবে ‘কাবিরাহ’ বলা সংগত হলেও আয়াতের শেষ প্রান্তের অন্ত্যমিলের (ফাসিলা) সামঞ্জস্য রক্ষার্থে ২০: ২৩ আয়াতে ‘কুবরা’ বলা হয়েছে। আবার বলা হয়েছে, এখানে একটি উহ্য পদ রয়েছে যার অর্থ: যাতে আমি তোমাকে আমার নিদর্শনগুলোর মধ্য থেকে ‘মহাসম্মানিত বড় নিদর্শনটি’ দেখাতে পারি। এর প্রমাণ হলো ইবনে আব্বাসের উক্তি—মূসার হাত ছিল তাঁর নিদর্শনগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ। ‌‌[সূরা ত্বহা (২০): আয়াত ২৪ থেকে ৩৫]ফেরাউনের কাছে যাও, সে তো সীমালঙ্ঘন করেছে।

(২৪) মূসা বলল: হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন। (২৫) এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। (২৬) আর আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন। (২৭) যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। (২৮)এবং আমার পরিবারের মধ্য থেকে আমার জন্য একজন সাহায্যকারী করে দিন। (২৯) আমার ভাই হারুনকে। (৩০) তার মাধ্যমে আমার শক্তি সুদৃঢ় করুন। (৩১) এবং তাকে আমার কাজে অংশীদার করুন। (৩২) যাতে আমরা বেশি করে আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতে পারি। (৩৩)এবং অধিক পরিমাণে আপনাকে স্মরণ করতে পারি। (৩৪) নিশ্চয়ই আপনি আমাদের অবস্থা ভালোভাবেই দেখছেন। (৩৫)(১). পাণ্ডুলিপি ‘বা’, ‘যা’ এবং ‘কাফ’-এ আছে: দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে।(২).

পাণ্ডুলিপি ‘কাফ’-এ আছে: অর্থাৎ।(৩). মহান আল্লাহর কালামের ক্ষেত্রে এই মন্তব্যটি বর্জনীয়; কেননা ‘কুবরা’ অর্থই হলো মহান বা সর্বশ্রেষ্ঠ।—সম্পাদক।