Taha

ত্বহা: 99

20:99
টেক্সট কপি

মূল আরবি

كَذَٰلِكَ نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنۢبَآءِ مَا قَدْ سَبَقَ ۚ وَقَدْ ءَاتَيْنَـٰكَ مِن لَّدُنَّا ذِكْرًا

English Translations

Sahih International

Thus, [O Muḥammad], We relate to you from the news of what has preceded. And We have certainly given you from Us a message [i.e., the Qur’ān].

Muhsin Khan

Thus We relate to you (O Muhammad SAW) some information of what happened before. And indeed We have given you from Us a Reminder (this Quran).

Taqi Usmani

This is how We narrate to you certain events of what has passed, and We have given to you, from Ourself, a (book of) advice.

Abul Ala Maududi

(O Muhammad), thus do We recount to you the events of the past, and We have bestowed upon you from Ourself an admonition.

Pickthall

Thus relate We unto thee (Muhammad) some tidings of that which happened of old, and We have given thee from Our presence a reminder.

Yusuf Ali

Thus do We relate to thee some stories of what happened before: for We have sent thee a Message from Our own Presence.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

এভাবে পূর্বে যা ঘটে গেছে তার কিছু সংবাদ আমি তোমার কাছে বর্ণনা করছি, আর আমি আমার নিকট থেকে তোমাকে দান করেছি উপদেশ (বা কুরআন)।

রাওয়াই আল-বায়ান

পূর্বে যা ঘটে গেছে তার কিছু সংবাদ এভাবেই আমি তোমার কাছে বর্ণনা করি। আর আমি তোমাকে আমার পক্ষ থেকে উপদেশ দান করেছি।

শাইখ মুজিবুর রহমান

পূর্বে যা ঘটেছে উহার সংবাদ আমি এভাবে তোমার নিকট বিবৃত করি এবং আমি আমার নিকট হতে তোমাকে দান করেছি উপদেশ।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

পূর্বে যা ঘটেছে তাঁর কিছু সংবাদ আমরা এভাবে আপনার নিকট বর্ণনা করি। আর আমরা আমাদের নিকট হতে আপনাকে দান করেছি যিকর।

ফাতহুল মাজীদ

পূর্বে যা ঘটেছে তার সংবাদ আমি এভাবে তোমার নিকট বিবৃত করি এবং আমি আমার পক্ষ থেকে তোমাকে দান করেছি উপদেশ,

মুখতাসার

৯৯. হে রাসূল! যেমনিভাবে আমি আপনার নিকট মূসা ও ফিরআউন এবং তাদের সম্প্রদায়ের সংবাদ বর্ণনা করেছি তেমনিভাবে আমি আপনার নিকট আপনার সান্ত্বনার জন্য পূর্ববর্তী নবীগণ ও তাঁদের উম্মতদের ঘটনা বর্ণনা করছি। আমি আপনাকে নিজের পক্ষ থেকে কুর‘আন দিয়েছি। যাতে উপদেশ গ্রহণকারীরা তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

৯৯-১০১ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবী হযরত মুহাম্মদকে (সঃ) বলছেনঃ যেমন আমি মূসার (আঃ) ঘটনাকে প্রকৃতরূপে তোমার সামনে বর্ণনা করে দিয়েছি, তেমনিভাবে আরো অনেক অতীতের ঘটনা তোমার সামনে আমি হুবহু বর্ণনা করেছি। আমি তোমাকে মহান কুরআন দান করেছি। ইতিপূর্বে কোন বীকে এর চেয়ে বেশী পূর্ণতা প্রাপ্ত, বেশী অর্থবহ এবং বেশী বরকতময় কিতাব প্রদান করা হয় নাই। এই কুরআন কারীমই হচ্ছে সবচেয়ে বেশী উন্নতমানের কিতাব। এর মধ্যে অতীতের ঘটনাবলী, ভবিষ্যতের কার্যাবলী এবং প্রতিটি কাজের পন্থা বর্ণিত হয়েছে। যারা এটাকে মানে না, এর থেকে বিমুখ হয়, এর আহকাম হতে পালিয়ে যায় এবং এটাকে বাদ দিয়ে অন্য কিছুতেই হিদায়াত অনুসন্ধান করে সে পথভ্রষ্ট এবং জাহান্নামী।

কিয়ামতের দিন সে নিজের বোঝা নিজেই বহন করবে এবং ওটা হবে খুবই মন্দ বোঝা। যে এর সাথে কুফরী করবে সে জাহান্নামে যাবে। কিতাবী হোক বা গায়ের কিতাবী হোক, আরবী হোক বা আজমী হোক যেই এটাকে অস্বীকার করবে সেই জাহান্নামী হবে। যেমন ঘোষিত হয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি এর দ্বারা তোমাদেরকে ভয় প্রদর্শন ও সতর্ক করছি এবং তাদেরকেও যাদের কাছে এটা পৌঁছবে।" (৬:১৯) সুতরাং এর অনুসরণকারী হিদায়াতপ্রাপ্ত এবং এর বিরোধিতাকারী পথভ্রষ্ট ও হতভাগ্য। দুনিয়াতেও সে ধ্বংস হলো এবং আখেরাতেও হবে সে জাহান্নামী। ঐ আযাব থেকে সে কখনো মুক্তি ও পরিত্রাণ ও পাবে না এবং সেখান থেকে পালিয়ে যেতেও সক্ষম হবে না।

সেই দিন তারা যে বোঝা বহন করবে তা হবে খুবই মন্দ বোঝা।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

পূর্বে যা ঘটেছে তাঁর কিছু সংবাদ আমরা এভাবে আপনার নিকট বর্ণনা করি। আর আমরা আমাদের নিকট হতে আপনাকে দান করেছি যিকর [১]।

[১] অর্থাৎ যেভাবে আপনার কাছে মূসা আলাইহিস সালামের কাহিনী বর্ণনা করলাম এবং তার সাথে ফির’আউন ও তার দলবলের ঘটনা বিবৃত করলাম এভাবেই আমরা পূর্ববর্তী কালের সংবাদ আপনার কাছে কোন রূপ বৃদ্ধি বা কমতি না করে বর্ণনা করব। আর আপনার কাছে তো যিকর বা কুরআন তো আমাদের পক্ষ থেকেই প্রদান করা হয়েছে। এটা এমন কিতাব যার সামনে বা পিছনে কোথাও বাতিলের কোন হাত নেই। হিকমতওয়ালা ও প্রশংসিতের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত। এ কুরআনের মত কোন কিতাব পূর্বে কোন নবীকে দেয়া হয়নি। [ইবন কাসীর] এখানে কুরআনকে যিকর নাম দেয়া হয়েছে। কারণ এতে কর্তব্যকর্মসমূহ স্মরণিকা ও শিক্ষণীয়রূপে তুলে ধরা হয়েছে। অথবা যিকর বলতে এখানে সম্মান বোঝানো হয়েছে। যেমন অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “আর নিশ্চয় এ কুরআন আপনার ও আপনার সম্প্রদায়ের জন্য সম্মান। ” [সূরা আয-যুখরুফ: ৪৪] [ফাতহুল কাদীর]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা ত্বহা (২০): আয়াত ৯৯ থেকে ১০৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা

সেগুলো ভস্মে পরিণত হলো, ফলে তা সাগরে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হলো। কিন্তু স্বর্ণ তো ভস্মে পরিণত হয় না। বলা হয়েছে: মূসা জানতেন কিসের মাধ্যমে স্বর্ণকে ভস্মে পরিণত করা যায়, আর এটি ছিল তাঁর অন্যতম নিদর্শন (মুজিজা)। আর 'আমরা অবশ্যই তা বিক্ষিপ্ত করে দেবো' (২০: ৯৭)-এর অর্থ হলো আমরা তা উড়িয়ে দেবো। আবু রাজা 'লানানসুফান্নাহু' শব্দটি সীন অক্ষরে পেশ যোগে পড়েছেন, যা দুটি ভাষাগত রূপ। 'নাসফ' অর্থ কোনো বস্তুকে ঝেড়ে ফেলা যাতে বাতাস তা নিয়ে যেতে পারে, আর এটিই হলো ছড়িয়ে দেওয়া। 'মিনসাফ' হলো এমন পাত্র যা দিয়ে শস্য ঝাড়া হয়, যার সামনের দিকটি ঢালু এবং উপরিভাগ উঁচু।

'নুসাফাহ' হলো তা থেকে যা ঝরে পড়ে; বলা হয়: তুচ্ছ অংশ আলাদা করো এবং খাঁটিটুকু ভক্ষণ করো। বর্ণিত আছে, আবু নাসর আহমাদ বিন হাতিম বলেন: অমুক ব্যক্তি আমাদের কাছে এমনভাবে এলো যেন তার দাড়ি একটি 'মিনসাফ' (শস্য ঝাড়ার কুলা)। 'মিনসাফাহ' হলো এমন একটি যন্ত্র যা দিয়ে ইমারত উপড়ে ফেলা হয়। আমি ইমারতটি 'নাসফান' অর্থাৎ সমূলে উপড়ে ফেলেছি। উট যখন ঘাসকে শিকড়সহ উপড়ে ফেলে, তখন বলা হয় 'নাসাফাল বাইরু' (সেটি ই-কার যোগে)। আবু যায়িদ থেকে বর্ণিত যে, 'ইনতাসাফতুশ শাইআ' অর্থ আমি বস্তুটি উপড়ে ফেলেছি। আল্লাহ তাআলার বাণী: (নিশ্চয়ই তোমাদের ইলাহ তো কেবল আল্লাহই, যিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; তাঁর জ্ঞান প্রতিটি বিষয়কে পরিবেষ্টন করে আছে) ২০: ৯৮।

অর্থাৎ বাছুরটি ইলাহ নয়; বরং তাঁর জ্ঞান প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে, তিনি জ্ঞানবশতই কাজ করেন। এখানে 'ইলমান' শব্দটি ব্যাখ্যা (তাময়িজ) হিসেবে যবরযুক্ত হয়েছে। মুজাহিদ ও কাতাদাহ পড়েছেন: "ওয়াসিআ কুল্লা শাইয়িন ইলমান" (২০: ৯৮)। ‌‌[সূরা ত্বহা (২০): আয়াত ৯৯ থেকে ১০৪]এভাবে আমরা আপনার কাছে অতীতে যা ঘটে গেছে তার সংবাদ বর্ণনা করছি এবং আমি আমার পক্ষ থেকে আপনাকে দান করেছি এক যিকির (৯৯)। যে এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, কিয়ামতের দিন সে অবশ্যই এক গুরুভার পাপের বোঝা বহন করবে (১০০)। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এবং কিয়ামতের দিন এই বোঝা তাদের জন্য কতই না মন্দ!

(১০১)। যেদিন শিংগায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং সেদিন আমরা অপরাধীদের সমবেত করব নীলচক্ষু অবস্থায় (১০২)। তারা নিজেদের মধ্যে চুপিচুপি বলবে, তোমরা তো মাত্র দশ দিন অবস্থান করেছিলে (১০৩)।তারা যা বলে তা আমরা সম্যক অবগত, যখন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সঠিক পথের অনুসারী বলবে, তোমরা তো মাত্র এক দিন অবস্থান করেছিলে (১০৪)।আল্লাহ তাআলার বাণী: (এভাবে) এখানে 'কাফ' অক্ষরটি একটি উহ্য মূল শব্দের (মাসদার) বিশেষণ হিসেবে যবরযুক্ত (নাসব) অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ, যেভাবে আমি আপনার কাছে মূসার সংবাদ বর্ণনা করেছি, "সেভাবেই আমরা আপনার কাছে বর্ণনা করছি" (২০: ৯৯) অতীত সংবাদের মধ্য থেকে এমন কিছু কাহিনী, যা আপনার জন্য সান্ত্বনাস্বরূপ হবে এবং আপনার সত্যবাদিতার প্রমাণ দেবে।

(এবং আমি আমার পক্ষ থেকে আপনাকে দান করেছি এক যিকির) ২০: ৯৯ অর্থাৎ কুরআন। কুরআনকে 'যিকির' নামকরণ করা হয়েছে কারণ এতে উপদেশ ও স্মারক রয়েছে, যেমনভাবে রাসূলকেও 'যিকির' বলা হয়েছে, কারণ তাঁর ওপর যিকির অবতীর্ণ হতো। আবার বলা হয়েছে: "আমি আমার পক্ষ থেকে আপনাকে দান করেছি এক যিকির" অর্থাৎ মর্যাদা, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "এবং নিশ্চয়ই এটি আপনার জন্য এবং আপনার কওমের জন্য এক যিকির (মর্যাদা)" [যুখরুফ: ৪৪] অর্থাৎ এটি আপনার নামের জন্য এক সম্মান ও সুখ্যাতি।(১). পাণ্ডুলিপি 'বা' এবং 'যা'-তে রয়েছে: 'মানসুব'।(২). দেখুন: ১৬শ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯৩।