Taha

ত্বহা: 80

20:80

আরবি

يَـٰبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ قَدْ أَنجَيْنَـٰكُم مِّنْ عَدُوِّكُمْ وَوَٰعَدْنَـٰكُمْ جَانِبَ ٱلطُّورِ ٱلْأَيْمَنَ وَنَزَّلْنَا عَلَيْكُمُ ٱلْمَنَّ وَٱلسَّلْوَىٰ

English Translations

Sahih International

O Children of Israel, We delivered you from your enemy, and We made an appointment with you at the right side of the mount, and We sent down to you manna and quails,

Muhsin Khan

O Children of Israel! We delivered you from your enemy, and We made a covenant with you on the right side of the Mount, and We sent down to you Al-Manna and quails,

Taqi Usmani

O children of Isrā’īl , We delivered you from your enemy and appointed for you the right side of the mount Tūr (Sinai), and sent down for you the Mann and Salwā :

Abul Ala Maududi

Children of Israel! We saved you from your enemy and made a covenant with you on the right side of the Mount and sent down on you manna and quails,

Pickthall

O Children of Israel! We delivered you from your enemy, and we made a covenant with you on the holy mountain's side, and sent down on you the manna and the quails,

Yusuf Ali

O ye Children of Israel! We delivered you from your enemy, and We made a Covenant with you on the right side of Mount (Sinai), and We sent down to you Manna and quails:

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

হে বানী ইসরাঈল! আমি তোমাদেরকে তোমাদের শত্রুর কবল থেকে উদ্ধার করেছিলাম আর আমি তোমাদেরকে তূর পাহাড়ের ডানপাশে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম (তাওরাত দানের জন্য) আর তোমাদের কাছে পাঠিয়েছিলাম মান্না ও সালওয়া।

রাওয়াই আল-বায়ান

হে বনী ইসরাঈল, আমিই তোমাদেরকে তোমাদের শত্রু থেকে নাজাত দিয়েছি। আর তোমাদেরকে ওয়াদা দিয়েছিলাম তূর পাহাড়ের ডান পাশের* এবং আমি তোমাদের জন্য অবতরণ করেছিলাম ‘মান্না’ ও ‘সালওয়া’। * তারা তূর পাহাড়ের ডানপার্শ্বে উপস্থিত হলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে তাওরাত কিতাব প্রদান করবেন বলে ওয়াদা করেছিলেন।

শাইখ মুজিবুর রহমান

হে বানী ইসরাঈল! আমিতো তোমাদেরকে তোমাদের শত্রু হতে উদ্ধার করেছিলাম, আমি তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তূর পর্বতের দক্ষিণ পার্শ্বে এবং তোমাদের নিকট মান্না ও সালওয়া প্রেরণ করেছিলাম।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

হে বনী ইসরাঈল! আমরা তো তোমাদেরকে শত্রু থেকে উদ্ধার করেছিলাম, আর আমরা তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তূর পর্বতের ডান পাশে এবং তোমাদের উপর মান্না ও সালওয়া নাযিল করেছিলাম,

ফাতহুল মাজীদ

হে বানী ইসরাঈল! আমি তো তোমাদেরকে শত্র“ হতে রক্ষা করেছিলাম, আমি তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তুর পর্বতের দক্ষিণ পার্শ্বে এবং তোমাদের নিকট মান্না ও সাল্ওয়া প্রেরণ করেছিলাম।

মুখতাসার

৮০. আমি বনী ইসরাঈলকে ফিরআউন ও তার সেনাবাহিনীর হাত থেকে মুক্তি দেয়ার পর তাদেরকে বললাম: হে বনী ইসরাঈল! নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করেছি। আর আমি তোমাদের সাথে এ মর্মে ওয়াদা করেছি যে, আমি তূর পাহাড়ের পাশে অবস্থিত উপত্যকাটির ডান দিক থেকে মূসার সাথে কথা বলবো। উপরন্তু আমি তোমাদের উপর তীহ ময়দানে আমার নিয়ামতসমূহ তথা মধুর ন্যায় সুমিষ্ট পানীয় এবং সুম্মানী তথা কোয়েল পাখির ন্যায় মজাদার গোস্তের ছোট পাখি নাযিল করেছি।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

৮০-৮২ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা বানী ইসরাঈলের উপর যে বড় বড় ইহান করেছিলেন তাই তিনি তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। ওগুলির মধ্যে একটি এই যে, তাদেরকে তিনি তাদের শত্রুদের কবল হতে মুক্তি দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বরং তিনি তাদের শত্রুদেরকে তাদের চোখের সামনে সমুদ্রে নিমজ্জিত করেছেন। তাদের একজনও রক্ষা পায় নাই। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি তোমাদের চোখের সামনে ফিরাউনীদেরকে ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।" (২:৫০)সহীহ্ বুখারীতে রয়েছে যে, মদীনার ইয়াহুদীদেরকে আশূরার দিন (১০ই মহররম) রোযা রাখতে দেখে রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদের এর কারণ জিজ্ঞেস করেন। তারা উত্তরে বলেঃ “এই দিনেই আল্লাহ তাআলা হযরত মূসাকে (আঃ) ফিরাউনের উপর বিজয় দান করেছিলেন। তখন তিনি বলেনঃ “তোমাদের তুলনায় হযরত মূসা (আঃ) তো আমাদেরই বেশী নিকটে।” অতঃপর তিনি মুসলমানদেরকে ঐদিন রোযা রাখার নির্দেশ দেন।আল্লাহ তাআলা স্বীয় রাসূল হযরত মূসা কালীমুল্লাহকে (আঃ) তূর পাহাড়ের দক্ষিণ পার্শ্বের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি সেখানে গমন করেন। আর। এদিকে তার অনুপস্থিতির সুযোগে বনী ইসরাঈল গো-বৎসের পূজা শুরু করে দেয়। এর বর্ণনা সত্বরই সামনে আসছে ইনশা আল্লাহ! অনুরূপভাবে আল্লাহ বানী ইসরাঈলের উপর আর একটি অনুগ্রহ এই করেন যে, তাদের আহার্য হিসেবে তাদেরকে মান্না’ ও ‘সালওয়া দান করেন। সূরায়ে বাকারা প্রভৃতির তাফসীরে এর পূর্ণ বর্ণনা গত হয়েছে। মান্না ছিল এক প্রকার মিষ্ট জিনিস, যা তাদের জন্যে আকাশ হতে অবতীর্ণ হতো। আর সালওয়া ছিল এক প্রকারের পাখী, যা আল্লাহর হুকুমে তাদের সামনে এসে পড়তো। ওগুলি হতে তারা। একদিনের খাদ্য পরিমাণে গ্রহণ করতো।মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আমার প্রদত্ত এই আহার্য হতে ভাল ভাল বস্তু তোমরা আহার কর, কিন্তু সীমালংঘন করো না। বিনা প্রয়োজনে বা। হারাম পন্থায় তা গ্রহণ করো না। অন্যথায় আমার ক্রোধ অবতারিত হবে। আর যার উপর আমার ক্রোধ অবতারিত হয়, বিশ্বাস রেখো যে, সে বড়ই হতভাগ্য।হযরত শাফী ইবনু মা’নে (রঃ) বলেন যে, জাহান্নামের মধ্যে একটি উঁচু জায়গা নির্মিত আছে, যেখান হতে কাফিরদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। জিঞ্জীর রাখার জায়গায় পর্যন্ত পৌঁছতে তার চল্লিশ বছর সময় লাগে। এই আয়াতের অর্থ এটাই যে, সে গর্তে পড়ে গেল।মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল তার উপর যে তাওবা করে,ঈমান আনে, সৎকর্ম করে ও সৎপথে অবিচলিত থাকে। বানী ইসরাঈলের মধ্যে যারা গো-বৎসের পূজা করেছিল, তাদের তাওবার পর আল্লাহ তাআলা তাদেরকেও ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। মোট কথা, কেউ যদি কুফরী, শিরক, পাপকার্য এবং নাফরমানী করার পর আল্লাহর ভয়ে তা পরিত্যাগ করে তবে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে থাকেন। তবে অন্তরে বিশ্বাস রাখা এবং সৎ আমল করা অপরিহার্য কর্তব্য। আর থাকতে হবে সৎপথে এবং কোন সন্দেহ পোষণ করতে হবে না। সুন্নাতে রাসূল (সঃ) এবং সাহাবীদের (রাঃ) রীতি নীতির অনুসরণ করতে হবে এবং এতে সওয়াবের আশা রাখতে হবে।এখানে (আরবী) শব্দটি খবরের (বিধেয়ের) উপর বিন্যস্ত করার জন্যে আনয়ন করা হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেনঃ (আরবী)

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

হে বনী ইসরাঈল! আমরা তো তোমাদেরকে শত্রু থেকে উদ্ধার করেছিলাম, আর আমরা তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তূর পর্বতের ডান পাশে [১] এবং তোমাদের উপর মান্না ও সালওয়া নাযিল করেছিলাম [২],

[১] অর্থাৎ ফিরআউনের কবল থেকে মুক্তি পাওয়া এবং সমুদ্র পার হওয়ার পর আল্লাহ তা'আলা মুসা আলাইহিস সালাম-কে এবং তার মধ্যস্থতায় বনী-ইসরাঈলকে প্রতিশ্রুতি দিলেন যে, তারা তুর পর্বতের ডান পার্শ্বে চলে আসুক, যাতে আল্লাহ তা'আলা মূসার সাথে কথা বলেন। এখানেই মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহকে দেখতে চেয়েছিলেন এবং তাকে এখানেই তাওরাত দেয়া হয়। [ইবন কাসীর]

[২] এটা তখনকার ঘটনা, যখন বনী-ইসরাঈল সমুদ্র পার হওয়ার পর সামনে অগ্রসর হয় এবং তাদেরকে একটি পবিত্র শহরে প্রবেশ করার আদেশ দেয়া হয়। তারা আদেশ অমান্য করে। তখন সাজা হিসেবে তাদেরকে তীহ নামক উপত্যকায় আটক করা হয়। তারা চল্লিশ বছর পর্যন্ত এ উপত্যকা থেকে বাইরে যেতে সক্ষম হয়নি। এই শাস্তি সত্ত্বেও মূসা আলাইহিস সালাম-এর দো'আয় নানা রকম নেয়ামত বৰ্ষিত হতে থাকে। ‘মান্না’ ও ‘সালওয়া” ছিল এইসব নেয়ামতের অন্যতম, যা তাদের আহারের জন্যে দেয়া হত। [কুরতুবী]