Taha

ত্বহা: 127

20:127
টেক্সট কপি

মূল আরবি

وَكَذَٰلِكَ نَجْزِى مَنْ أَسْرَفَ وَلَمْ يُؤْمِنۢ بِـَٔايَـٰتِ رَبِّهِۦ ۚ وَلَعَذَابُ ٱلْـَٔاخِرَةِ أَشَدُّ وَأَبْقَىٰٓ

English Translations

Sahih International

And thus do We recompense he who transgressed and did not believe in the signs of his Lord. And the punishment of the Hereafter is more severe and more enduring.

Muhsin Khan

And thus do We requite him who transgresses beyond bounds [i.e. commits the great sins and disobeys his Lord (Allah) and believes not in His Messengers, and His revealed Books, like this Quran, etc.], and believes not in the Ayat (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.) of his Lord, and the torment of the Hereafter is far more severe and more lasting.

Taqi Usmani

Thus We recompense him who exceeds the limits and does not believe in the signs of his Lord. Certainly the punishment of the Hereafter is more severe and more lasting.

Abul Ala Maududi

Thus do We requite him who transgresses and does not believe in the signs of your Lord (during the life of the world); and surely the punishment of the Hereafter is even more terrible and more enduring.

Pickthall

Thus do We reward him who is prodigal and believeth not the revelations of his Lord; and verily the doom of the Hereafter will be sterner and more lasting.

Yusuf Ali

And thus do We recompense him who transgresses beyond bounds and believes not in the Signs of his Lord: and the Penalty of the Hereafter is far more grievous and more enduring.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আমি এভাবেই প্রতিফল দেই তাদেরকে যারা সীমালঙ্ঘন করে এবং তার প্রতিপালকের নিদর্শনে বিশ্বাস করে না। আর আখিরাতের ‘আযাব অবশ্যই সবচেয়ে বেশী কঠিন ও সবচেয়ে বেশী স্থায়ী।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর এভাবেই আমি প্রতিফল দান করি তাকে, যে বাড়াবাড়ি করে এবং তার রবের নিদর্শনাবলীতে ঈমান আনে না। আর আখিরাতের আযাব তো অবশ্যই কঠোরতর ও অধিকতর স্থায়ী।

শাইখ মুজিবুর রহমান

এবং এভাবেই আমি প্রতিফল দিই তাকে, যে বাড়াবাড়ি করে এবং তার রবের নিদর্শনে বিশ্বাস স্থাপন করেনা; পরকালের শাস্তিতো অবশ্যই কঠিনতর ও অধিক স্থায়ী।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর এভাবেই আমরা প্রতিফল দেই তাকে যে বাড়াবাড়ি করে ও তার রবের নিদর্শনে ঈমান না আনে। আর আখেরাতের শাস্তি তো অবশ্যই কঠিনতর ও অধিক স্থায়ী।

ফাতহুল মাজীদ

এবং এভাবেই আমি প্রতিফল দেই তাকে, যে বাড়াবাড়ি করে ও তার প্রতিপালকের নিদর্শনে বিশ্বাস স্থাপন করে না। আখিরাতের শাস্তি‎ অবশ্যই কঠিনতর ও অধিক স্থায়ী।

মুখতাসার

১২৭. এ প্রতিদানের ন্যায় আমি ওকেও প্রতিদান দেবো যে চাহিদা নিবারণে হারাম কাজে মগ্ন এবং তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আসা সুস্পষ্ট দলীলসমূহের উপর ঈমান আনা থেকে সে বিরত রয়েছে। বস্তুতঃ দুনিয়া ও বরযখের কঠিন জীবনের চেয়েও আখিরাতের আল্লাহর আযাব অনেক ভয়ঙ্কর, শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ যারা আল্লাহর সীমারেখার পরওয়া করে না এবং তার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা প্রতিপাদন করে তাকে আমি এভাবেই প্রতিফল দিয়ে থাকি। অর্থাৎ দুনিয়া ও আখেরাতের আযাবে জড়িয়ে থাকি। বিশেষ করে আখেরাতের শাস্তি তো খুবই কঠিন এবং সেখানে এমন কেউ হবে না যে তাদেরকে শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারে। দুনিয়ার শাস্তি কঠোরতা ও দীর্ঘ মিয়াদী হিসেবে আখেরাতের শাস্তির সাথে তুলনীয় হতে পারে না। আখেরাতের শাস্তি চিরস্থায়ী ও অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। পরস্পর পরস্পরের উপর লা’নতকারীদের বুঝাতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছিলেনঃ “আখেরাতের শাস্তির তুলনায় দুনিয়ার শাস্তি খুবই হালকা ও অতি নগন্য।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর এভাবেই আমরা প্রতিফল দেই তাকে যে বাড়াবাড়ি করে ও তার রব এর নিদর্শনে ঈমান না আনে [১]। আর আখেরাতের শাস্তি তো অবশ্যই কঠিনতর ও অধিক স্থায়ী।

[১] এখানে আল্লাহ “যিকির” অর্থাৎ তাঁর কিতাব ও তাঁর প্রেরিত উপদেশমালা থেকে যারা মুখ ফিরিয়ে নেয়। তাদের দুনিয়ায় যে “অতৃপ্ত জীবন” যাপন করানো হয় সেদিকে ইশারা করা হয়েছে। অর্থাৎ এভাবেই যারা আল্লাহর আয়াতসমূহের উপর মিথ্যারোপ ‘করে আমরা তাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতে প্রতিফল দিয়ে থাকি। “তাদের জন্য দুনিয়ার জীবনে আছে শাস্তি এবং আখিরাতের শাস্তি তো আরো কঠোর! আর আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করার মত তাদের কেউ নেই। ” [সূরা আর-রা'দ: ৩৪] [ইবন কাসীর]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা ত্বাহা (২০): আয়াত ১২৩ হতে ১২৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা

চতুর্থ মাসআলা- আর যে ব্যক্তি পাপকর্ম লিপ্ত হয় এবং যার নিকট ক্ষমা আসেনি, ওলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে একমত যে, আদমের পেশকৃত দলিলের ন্যায় দলিল পেশ করা তার জন্য বৈধ নয়। অর্থাৎ সে এ কথা বলতে পারবে না যে, ‘আমি হত্যা, ব্যভিচার কিংবা চুরি করেছি অথচ আল্লাহ আমার ওপর তা নির্ধারণ করে রেখেছিলেন, তাই আপনি আমাকে কেন ভর্ৎসনা করছেন?’ উম্মাহ এ বিষয়েও একমত যে, সৎকর্মশীলকে তার সৎকাজের জন্য প্রশংসা করা এবং মন্দকর্মকারীকে তার মন্দ কাজের জন্য ভর্ৎসনা করা ও তার পাপসমূহ তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া বৈধ। পঞ্চম মাসআলা- আল্লাহ তাআলার বাণী: "অতঃপর সে বিপথগামী হলো" (২০:১২১) অর্থাৎ তার জীবন সংকটাপন্ন বা বিপর্যয়গ্রস্ত হয়ে পড়ল।

এটি আন-নাক্কাশ বর্ণনা করেছেন এবং আল-কুশায়রী একে পছন্দ করেছেন। আমি আমাদের শায়খ উস্তাদ কারী আবু জাফর আল-কুরতুবীকে বলতে শুনেছি: "অতঃপর সে বিপথগামী হলো" অর্থাৎ দুনিয়ায় অবতরণ করার কারণে তার জীবন বিপর্যয়গ্রস্ত হয়ে পড়ল। এখানে 'আল-গায়' অর্থ হলো বিপর্যয়। এটি একটি উত্তম ব্যাখ্যা এবং এটি ঐ ব্যক্তির ব্যাখ্যার চেয়ে অধিকতর অগ্রগণ্য যে বলে: "অতঃপর সে বিপথগামী হলো" এর অর্থ সে পথভ্রষ্ট হলো—যা সঠিক পথের বিপরীত। আবার বলা হয়েছে: এর অর্থ সে তার সঠিক পথের সন্ধান লাভে অজ্ঞ ছিল, অর্থাৎ সে বুঝতে পারেনি যে এটিই সেই গাছ যা তাকে নিষেধ করা হয়েছিল।

এখানে 'আল-গায়' অর্থ অজ্ঞতা। কারো কারো পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে: "অতঃপর সে বিপথগামী হলো" অর্থাৎ অধিক ভোজনের ফলে তার বদহজম হলো। আয-যামাখশারী বলেন: এটি যদি সেই গোত্রের ভাষারীতি অনুযায়ী সঠিকও হয় যারা ইয়ায়ে মাকসূরার পূর্বাক্ষরকে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করে—যেমন বনু তায় গোত্র 'ফানিয়া' কে 'ফানা' এবং 'বাকিয়া' কে 'বাকা' বলে থাকে—তবুও এটি একটি নিকৃষ্ট ব্যাখ্যা। ষষ্ঠ মাসআলা- আবু নসর আল-কুশায়রী বলেন: একদল আলিম বলেছেন, বলা হবে ‘আদম অবাধ্য হয়েছেন এবং বিপথগামী হয়েছেন’, কিন্তু তাঁকে 'অবাধ্য' বা 'পথভ্রষ্ট' বলা যাবে না। যেমন যে ব্যক্তি একবার সেলাই করে তাকে 'সেলাইকারী' বলা হয় কিন্তু 'দর্জি' বলা হয় না যতক্ষণ না তার মাধ্যমে বারবার সেলাইয়ের কাজ সংঘটিত হয়।

আবার বলা হয়েছে: মনিবের জন্য তার দাসের অবাধ্যতার সময় এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করা বৈধ যা অন্যের জন্য বলা বৈধ নয়। তবে এটি একটি কষ্টকল্পিত ব্যাখ্যা। আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের দিকে যা কিছু এ ধরণের কাজ সম্পৃক্ত করা হয়েছে, তা হয় 'সগীরা গুনাহ', অথবা 'উত্তম কাজ বর্জন করা', অথবা নবুওয়াত লাভের পূর্বের ঘটনা। আমি বলছি: এটিই উত্তম। ইমাম আবু বকর ইবনে ফুরাক (রহমাতুল্লাহি তাআলা) বলেন: আদমের পক্ষ থেকে এটি নবুওয়াতের পূর্বেই সংঘটিত হয়েছিল। এর দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: "অতঃপর তার রব তাকে মনোনীত করলেন, তার তাওবা কবুল করলেন এবং তাকে পথ প্রদর্শন করলেন" (২০:১২২)।

এখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মনোনীত করা এবং পথ প্রদর্শন করা অবাধ্যতার পরে হয়েছে। আর যদি এটি নবুওয়াতের পূর্বে হয়ে থাকে, তবে নবীদের ক্ষেত্রে গুনাহ হওয়া অকাট্যভাবে সম্ভব। কারণ নবুওয়াত লাভের আগে তাঁদের সত্যয়ন করার ব্যাপারে আমাদের ওপর কোনো শরয়ি বাধ্যবাধকতা থাকে না। অতঃপর যখন আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে তাঁর সৃষ্টির নিকট প্রেরণ করেন এবং তাঁরা বাণী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত ও নিষ্পাপ সাব্যস্ত হন, তখন অতীতে তাঁদের থেকে যা কিছু প্রকাশ পেয়েছিল তা কোনো ক্ষতি করে না। আর এটি একটি মূল্যবান সূক্ষ্ম বিষয়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। ‌‌[সূরা ত্বাহা (২০): আয়াত ১২৩ হতে ১২৭]তিনি বললেন, ‘তোমরা উভয়ে একত্রে জান্নাত থেকে নেমে যাও; তোমাদের একে অপর হবে শত্রু।

অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে হিদায়াত আসবে, তখন যে আমার হিদায়াতের অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না। (১২৩) আর যে ব্যক্তি আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জন্য অবশ্যই হবে এক সংকীর্ণ জীবন এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করব।’ (১২৪) সে বলবে, ‘হে আমার রব! কেন আপনি আমাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করলেন? অথচ আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম।’ (১২৫) তিনি বলবেন, ‘অনুরূপভাবে তোমার কাছে আমার নিদর্শনাবলি এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে; আর আজ সেভাবেই তোমাকে ভুলে যাওয়া হচ্ছে।’ (১২৬) এভাবেই আমি প্রতিফল দেই তাকে, যে সীমালঙ্ঘন করে এবং তার রবের নিদর্শনাবলিতে ঈমান আনে না।

আর আখিরাতের আজাব তো অবশ্যই অতি কঠোর এবং অধিক স্থায়ী। (১২৭)