Taha

ত্বহা: 11

20:11
টেক্সট কপি

মূল আরবি

فَلَمَّآ أَتَىٰهَا نُودِىَ يَـٰمُوسَىٰٓ

English Translations

Sahih International

And when he came to it, he was called, "O Moses,

Muhsin Khan

And when he came to it (the fire), he was called by name: "O Musa (Moses)!

Taqi Usmani

So when he came to it, he was called, “O Mūsā,

Abul Ala Maududi

When he came to it, a voice called out: "Moses!

Pickthall

And when he reached it, he was called by name: O Moses!

Yusuf Ali

But when he came to the fire, a voice was heard: "O Moses!

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তারপর যখন যে আগুনের কাছে আসল, তাকে ডাক দেয়া হল, ‘হে মূসা!

রাওয়াই আল-বায়ান

যখন সে আগুনের কাছে আসল তখন তাকে আহবান করা হল, ‘হে মূসা’

শাইখ মুজিবুর রহমান

অতঃপর যখন সে আগুনের নিকট এলো তখন আহবান করে বলা হলঃ হে মূসা!

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

তারপর যখন তিনি আগুনের কাছে আসলেন তখন তাকে ডেকে বলা হল, ‘হে মূসা!

ফাতহুল মাজীদ

অতঃপর যখন সে আগুনের নিকট আসল তখন আহ্বান করে বলা হল: হে মূসা!

মুখতাসার

১১. যখন তিনি আগুনের নিকট আসলেন তখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে ডেকে বললেন: হে মূসা!

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১১-১৬ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হযরত মূসা (আঃ) যখন আগুনের কাছে পৌঁছলেন তখন ঐ বরকতময় মাঠের ডান দিকের গাছগুলির নিকট থেকে শব্দ আসলোঃ হে মূসা (আঃ)! আমি তোমার প্রতিপালক। তুমি তোমার পায়ের জুতা খুলে ফেলো। তাকে জুতা খুলে ফেলার নির্দেশ দেয়ার কারণ হয়তো এই যে, তার ঐ জুতা গাধার চামড়া দ্বারা নির্মিত ছিল, কিংবা হয়তো ঐ স্থানের সম্মানের কারণেই এই নিদের্শ দেয়া হয়েছিল যেমন কাবা গৃহে প্রবেশের সময় লোকেরা জুতা খুলে নেয়। অথবা ঐ বরকতময় জায়গায় পা পড়বে বলেই তাকে এই হুকুম দেয়া হয়। আরো কারণ বর্ণনা করা হয়েছে।ঐ উপত্যকার নাম ছিল তুওয়া।

কিংবা ভাবার্থ হচ্ছেঃ তুমি তোমার পা এই যমীনের সাথে মিলিয়ে নাও। অথবা ভাবার্থ হলোঃ এই যমীনকে কয়েকবার পাক করা হয়েছে এবং তাতে বরকত পরিপূর্ণ করে দেয়া হয়েছে। এভাবে বারবার করা হয়েছে এর পুনরাবৃতি। কিন্তু প্রথম উক্তিটিই সঠিকতম। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “যখন তাঁর প্রতিপালক তাঁকে পবিত্র তুওয়া উপত্যকায় আহবান করেন। (৭৯:১৬)মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি তোমাকে (রাসূল রূপে) মনোনীত করেছি। এই সময়ের সমস্ত লোকের উপর আমি তোমার মর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছি। বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তাআলা হযরত মূসাকে (আঃ) জিজ্ঞেস করেনঃ “আমি তোমাকে সমস্ত মানুষের উপর মর্যাদা দান করে তোমার সাথে আমি কথা বলেছি এর কারণ তুমি জান কি?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “হে আল্লাহ!

এর কারণ তো আমার জানা নেই। তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে বলেনঃ “এর কারণ এই যে, তোমার মত কেউ আমার দিকে ঝুঁকে পড়ে নাই।” এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ যা ওয়াহী প্রেরণ করা হচ্ছে তুমি তা মনোযোগের সাথে শ্রবণ কর। আমিই তোমার মা'বূদ, আমি ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই। এটাই হলো তোমার প্রথম কর্তব্য যে, তুমি শুধু আমারই ইবাদত করবে। আর কারো কোন প্রকারের ইবাদত করবে না। আমাকে স্মরণার্থে নামায কায়েম কর। আমাকে স্মরণ করার সর্বোত্তম পন্থা হলো এটাই। অথবা এটা ভাবার্থ হবেঃ যখন আমাকে স্মরণ হবে তখন নামায কায়েম কর। যেমন হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের যদি কারো ঘুম এসে যায় বা গাফেল হয়ে পড়ে তবে যখন স্মরণ হয়ে যাবে তখন যেন নামায পড়ে নেয়।

কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ “আমার স্মরণাথে তোমরা নামায কায়েম কর।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমদ (রঃ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)হযরত আনাস (রাঃ) হতেই বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি নামায হতে ঘুমিয়ে পড়ে বা ভুলে যায় সে যেন স্মরণ হওয়া মাত্রই তা আদায় করে নেয়। তার কাফফারা এটা ছাড়া আর কিছুই নয়।" (এ হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে)মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী, আমি এটা গোপন রাখতে চাই যাতে প্রত্যেকেই নিজ কর্মানুযায়ী ফল লাভ করতে পারে। এক কিরআতে (আরবী) এর পরে (আরবী) শব্দও রয়েছে।

কেননা আল্লাহ তাআলার সত্ত্বা হতে কোন কিছু গোপন নেই। সুতরাং অর্থ হবেঃ এর জ্ঞান আমি আমা ছাড়া আর কাউকেও প্রদান করবো না। কাজেই সারা ভূ-পৃষ্ঠে এমন কেউ নেই যার কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার নির্ধারিত সময় জানা আছে। এটা এমন একটা বিষয় যে, সম্ভব হলে আমি নিজ হতেও ওটাকে গোপন রাখতাম। কিন্তু আমার কাছে কোন কিছু গোপন থাকা সম্ভব নয়। এটা ফেরেশতাদের হতেও গোপন আছে এবং নবীরাও এটা জানেন না। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ (হে নবী (সঃ)! তুমি বলে দাওঃ আল্লাহ ছাড়া আসমান ও যমীনবাসীদের কেউই গায়েবের খবর জানে না।" (২৭:৬৫) অন্য আয়াতে আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ কিয়ামত) আসমানে ও যমীনে ভারী হয়ে গেছে, ওটা তোমাদের উপর হঠাৎ এসে যাবে।” (৭:১৮৭) অর্থাৎ এর অবগতি কারো নেই।

এক কিরআতে (আরবী) রয়েছে। অরফা (রঃ) বলেনঃ “আমাকে হযরত সাঈদ ইবনু জুবাইর (রঃ) এভাবেই পড়িয়েছেন। এর অর্থ হলো (আরবী) অর্থাৎ আমি “ওটাকে প্রকাশ করবো।" সেইদিন প্রত্যেক আমলকারীকে তার আমলের প্রতিদান দেয়া হবে। তা অনুপরিমাণ পুণ্যই হোক অথবা পাপই হোক। ঐদিন প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করতেই হবে।সুতরাং যে ব্যক্তি কিয়ামতে বিশ্বাস করে না এবং নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে কিয়ামতে বিশ্বাস স্থাপন হতে নিবৃত্ত না করে। যদি সে তোমাকে নিবৃত্ত করতে সক্ষম হয়ে যায় তবে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

তারপর যখন তিনি আগুনের কাছে আসলেন তখন তাকে ডেকে বলা হল , ‘হে মূসা !

তাফসীর আল-কুরতুবী

[سورة طه (20): الآيات 9 الى 16] পূর্ণ পৃষ্ঠা

‌‌[সুরা ত্বহা (২০): আয়াত ৯ থেকে ১৬]আর আপনার কাছে কি মূসার সংবাদ পৌঁছেছে? (৯) যখন তিনি আগুন দেখলেন, তখন তিনি তাঁর পরিবারকে বললেন: তোমরা এখানে অবস্থান করো; আমি আগুন দেখেছি। হয়তো আমি তোমাদের জন্য তা থেকে কিছু প্রজ্বলিত অঙ্গার নিয়ে আসতে পারব অথবা আগুনের কাছে পথের সন্ধান পাব (১০) অতঃপর যখন তিনি আগুনের নিকট পৌঁছালেন, তখন ডাক দিয়ে বলা হলো: হে মূসা! (১১) নিশ্চয় আমিই তোমার রব, অতএব তুমি তোমার জুতো জোড়া খুলে ফেলো; নিশ্চয় তুমি পবিত্র ‘তুয়া’ উপত্যকায় আছো (১২) আর আমি তোমাকে মনোনীত করেছি; সুতরাং যা ওহী পাঠানো হচ্ছে তা মনোযোগ দিয়ে শোনো (১৩)নিশ্চয় আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই; অতএব আমার ইবাদত করো এবং আমার স্মরণে সালাত কায়েম করো (১৪) নিশ্চয় কিয়ামত আসছে, আমি তা গোপন রাখতে চাই যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি তার প্রচেষ্টা অনুযায়ী প্রতিদান পায় (১৫) সুতরাং যে ব্যক্তি কিয়ামতে বিশ্বাস করে না এবং নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে তা থেকে বিমুখ না করে; অন্যথায় তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে (১৬)মহান আল্লাহর বাণী: (আর আপনার কাছে কি মূসার সংবাদ পৌঁছেছে?) ২০: ৯।

ভাষা ও অর্থ বিশারদগণ (আহলুল মা’আনী) বলেন: এটি একটি প্রশ্নবোধক বাক্য হলেও এর অর্থ হলো নিশ্চয়তা ও স্বীকৃতিমূলক; অর্থাৎ, আপনার কাছে কি এর সংবাদ পৌঁছে যায়নি? ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, এর অর্থ হলো—নিশ্চয়ই আপনার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে। কালবী বলেন, ইতিপূর্বে তাঁর কাছে মূসার সংবাদ আসেনি, এরপর আল্লাহ তাঁকে তা অবহিত করেছেন। (যখন তিনি আগুন দেখলেন, তখন তিনি নিজ পরিবারকে বললেন: তোমরা অবস্থান করো; নিশ্চয় আমি আগুন দেখেছি। সম্ভবত আমি তোমাদের কাছে তা থেকে কোনো প্রজ্বলিত অঙ্গার আনতে পারব অথবা আগুনের কাছে পথের সন্ধান পাব) ২০: ১০। ইবনে আব্বাস ও অন্যান্যগণ বলেন: এটি সেই সময়ের ঘটনা যখন তিনি তাঁর নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ করেছিলেন এবং মাদইয়ান থেকে মিসরের উদ্দেশ্যে সপরিবারে যাত্রা করেছিলেন।

পথিমধ্যে তিনি রাস্তা হারিয়ে ফেলেছিলেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) অত্যন্ত আত্মমর্যাদাশীল ব্যক্তি ছিলেন; তিনি মানুষের দৃষ্টি থেকে স্বীয় স্ত্রীকে আড়াল করার জন্য অত্যন্ত সতর্ক থাকতেন, ফলে তিনি রাতে পথ চলতেন এবং দিনে তাদের থেকে পৃথক থাকতেন। মহান আল্লাহর পূর্বজ্ঞান অনুযায়ী তিনি কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন এবং রাতটি ছিল অত্যন্ত অন্ধকারাচ্ছন্ন। মুকাতিল বলেন: সেটি ছিল শীতকালের জুমুআর রাত। ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ বলেন: মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য শুআইব (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে অনুমতি চাইলেন। তিনি অনুমতি দিলে মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর পরিবার ও বকরির পাল নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন।

পথিমধ্যে তুষারপাতে ঢাকা হাড়কাঁপানো শীতের এক রাতে তাঁর এক পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। তিনি পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং তাঁর গবাদিপশুগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। মূসা (আলাইহিস সালাম) চকমকি পাথর ঘষে আগুন জ্বালাবার চেষ্টা করলেন কিন্তু কিছুই জ্বলল না। এমন সময় তিনি রাস্তার বাম দিকে দূর থেকে আগুন দেখতে পেলেন। "অতঃপর তিনি তাঁর পরিবারকে বললেন, তোমরা অবস্থান করো ২০: ১০" অর্থাৎ তোমরা তোমাদের স্থানে অবস্থান করো। "নিশ্চয় আমি আগুন দেখেছি" অর্থাৎ আমি প্রত্যক্ষ করেছি। ইবনে আব্বাস বলেন: তিনি যখন আগুনের দিকে অগ্রসর হলেন, তখন দেখলেন যে আগুনটি একটি কুল (উন্নাব) গাছের মধ্যে রয়েছে।

তিনি আগুনের সেই চমৎকার জ্যোতি এবং গাছটির গাঢ় সবুজ রূপ দেখে বিস্ময়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। আগুনের প্রচণ্ড উত্তাপ সেই গাছের শ্যামলতাকে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন করতে পারছিল না, আবার গাছের প্রাচুর্য...(১). পাণ্ডুলিপিতে: তূরাহ।