Taha
ত্বহা: 124
20 ত্বহা Taha · 135 আয়াত طه
মূল আরবি
وَمَنْ أَعْرَضَ عَن ذِكْرِى فَإِنَّ لَهُۥ مَعِيشَةً ضَنكًا وَنَحْشُرُهُۥ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ أَعْمَىٰ
English Translations
And whoever turns away from My remembrance - indeed, he will have a depressed [i.e., difficult] life, and We will gather [i.e., raise] him on the Day of Resurrection blind."
"But whosoever turns away from My Reminder (i.e. neither believes in this Quran nor acts on its orders, etc.) verily, for him is a life of hardship, and We shall raise him up blind on the Day of Resurrection."
As for the one who turns away from My message, he shall have a straitened life, and We shall raise him blind on the Day of Judgment.”
But whosoever turns away from this Admonition from Me shall have a straitened life; We shall raise him blind on the Day of Resurrection,"
But he who turneth away from remembrance of Me, his will be a narrow life, and I shall bring him blind to the assembly on the Day of Resurrection.
"But whosoever turns away from My Message, verily for him is a life narrowed down, and We shall raise him up blind on the Day of Judgment."
বাংলা অনুবাদ
আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা হবে সংকীর্ণ আর তাকে কিয়ামাতের দিন উত্থিত করব অন্ধ অবস্থায়।’
‘আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জন্য হবে নিশ্চয় এক সংকুচিত জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামত দিবসে উঠাবো অন্ধ অবস্থায়।
যে আমার স্মরণে বিমুখ তার জীবন যাপন হবে সংকুচিত এবং আমি তাকে কিয়ামাত দিবসে উত্থিত করব অন্ধ অবস্থায়।
‘আর যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ থাকবে, নিশ্চয় তার জীবন-যাপন হবে সংকুচিত এবং আমরা তাকে কিয়ামতের দিন জমায়েত করব অন্ধ অবস্থায়।
‘যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ থাকবে, অবশ্য তার জীবন-যাপন হবে সংকুচিত এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিন উত্থিত করব অন্ধ অবস্থায়।’
১২৪. আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে এবং তা প্রত্যাখান করবে উপরন্তু তার ডাকে সাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানাবে তার জন্য দুনিয়া ও বরযখে সঙ্কীর্ণ জীবন রয়েছে। কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ ও দলীল হারানো ব্যক্তির ন্যায় বানিয়ে হাশরের মাঠের দিকে হাঁকিয়ে নেবো।
তাফসীর
20:123
‘আর যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ থাকবে, নিশ্চয় তার জীবন-যাপন হবে সংকুচিত [১] এবং আমরা তাকে কিয়ামতের দিন জমায়েত করব অন্ধ অবস্থায় [২]।
[১] এখানে যিকর-এর অর্থ কুরআনও হতে পারে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামও হতে পারে, যেমন- অন্য আয়াতে ذِكْراًرَّسُوْلاً বলা হয়েছে। [কুরতুবী। তবে অধিকাংশের নিকট এখানে কুরআন বোঝানো হয়েছে। সারমর্ম এই যে, যে ব্যক্তি কুরআনের বিধি-বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে, কুরআনের নির্দেশের আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়; অন্যদের থেকে হিদায়াত গ্ৰহণ করে, তার পরিণাম এই যে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে। [ইবন কাসীর] কুরআনের ভাষ্যে ঐ সমস্ত লোকদের জন্য সংকীর্ণ ও তিক্ত জীবনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে, যারা আল্লাহর কুরআন ও তাঁর রাসূলের প্রদর্শিত পথে চলতে বিমুখ হয়। কিন্তু কোথায় তাদের সে সংকীর্ণ ও তিক্ত জীবন হবে তা নির্ধারণে বেশ কয়েকটি মত রয়েছেঃ
এক) তাদের দুনিয়ার জীবন সংকীর্ণ হবে। তাদের কাছ থেকে অল্পে তুষ্টির গুণ ছিনিয়ে নেয়া হবে এবং সাংসারিক লোভ-লালসা বাড়িয়ে দেয়া হবে। যা তাদের জীবনকে অতিষ্ট করে তুলবে। ফলে তাদের কাছে যত অর্থ-সম্পাদই সঞ্চিত হোক না কেন, আন্তরিক শান্তি তাদের ভাগ্যে জুটবে না। সদা-সর্বদা সম্পদ বৃদ্ধি করার চিন্তা এবং ক্ষতির আশঙ্কা তাদেরকে অস্থির করে তুলবে। কেননা, সুখ-শান্তি অন্তরের স্থিরতা ও নিশ্চিন্ততার মাধ্যমেই অর্জিত হয়; শুধু প্রাচুর্য্যে নয়। [দেখুন, ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর]
দুই) অনেক মুফাসসিরের মতে এখানে সংকীর্ণ জীবন বলতে কবরের জীবনকে বোঝানো হয়েছে। [ইবন কাসীর] অর্থাৎ তাদের কবর তাদের উপর সংকীর্ণ হয়ে যাবে বিভিন্ন প্রকার শাস্তির মাধ্যমে। এতে করে কবরে তাদের জীবন দুর্বিষহ করে দেয়া হবে। তাদের বাসস্থান কবর তাদেরকে এমনভাবে চাপ দেবে যে, তাদের পাঁজর ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং مَعِيْشَةً ضَنْكًا -এর তাফসীরে বলেছেন যে, এখানে কবর জগত ও সেখানকার আযাব বোঝানো হয়েছে। [মুস্তাদরাকে হাকিমঃ ২/৩৮১ নং- ৩৪৩৯, ইবনে হিব্বানঃ ৭/৩৮৮, ৩৮৯ নং- ৩১১৯] তাছাড়া বিভিন্ন সহীহ হাদীসে কবরের যিন্দেগীর বিভিন্ন শাস্তির যে বর্ণনা এসেছে, তা থেকে বুঝা যায় যে, যারা আল্লাহ, কুরআন ও রাসূলের প্রদর্শিত দ্বীন থেকে বিমুখ হবে, কবরে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “মুমিন তার কবরে সবুজ প্রশস্ত উদ্যানে অবস্থান করবে। আর তার কবরকে ৭০ গজ প্রশস্ত করা হবে। পূর্নিমার চাঁদের আলোর মত তার কবরকে আলোকিত করা হবে। তোমরা কি জান আল্লাহর আয়াত (তাদের জন্য রয়েছে সংকীর্ণ জীবন) কাদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে? তোমরা কি জানো সংকীর্ণ জীবন কি? সাহাবায়ে কেরাম বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভাল জানেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তা হল কবরে কাফেরের শাস্তি। যাঁর হাতে আমার জীবন, তার শপথ করে বলছি- তাকে ন্যস্ত করা হবে ৯৯টি বিষাক্ত তিন্নিন সাপের কাছে।
তোমরা কি জান তিন্নিন কি? তিন্নিন হল ৯৯টি সাপ । প্ৰত্যেকটি সাপের রয়েছে ৭টি মাথা। যেগুলো দিয়ে সে কাফেরের শরীরে ছোবল মারতে থাকবে, কামড়াতে ও ছিড়তে থাকবে কেয়ামত পর্যন্ত। [ইবনে হিব্বানঃ ৩১২২, দারেমীঃ ২৭১১, আহমাদঃ ৩/৩৮, আবু ইয়া'লাঃ ৬৬৪৪, আবদ ইবনে হুমাইদঃ ৯২৯, মাজমাউয-যাওয়ায়েদঃ ৩/৫৫]
[২] অর্থাৎ তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় হাশার করা হবে। এখানে অন্ধ অবস্থার কয়েকটি অর্থ হতে পারে- (এক) বাস্তবিকই সে অন্ধ হয়ে উঠবে। (দুই) সে জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবে না। (তিন) সে তার পক্ষে পেশ করার মত কোন যুক্তি থেকে অন্ধ হয়ে যাবে। কোন প্রকার প্রমাণাদি পেশ করা থেকে অন্ধ হয়ে থাকবে। [দেখুন, ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর] তখন তার পরবর্তী আয়াতের অর্থ হবেসে বলবেঃ হে আমার রব! আমাকে কেন আমার যাবতীয় যুক্তিহীন অবস্থায় হাশর করেছেন? আল্লাহ উত্তরে বলবেনঃ অনুরূপভাবে তোমার কাছে আমার নিদর্শনসমূহ এসেছিল, কিন্তু তুমি সেগুলো ত্যাগ করে ভুলে বসেছিলে, তাই আজকের দিনেও তোমাকে যুক্তি-প্রমাণহীন অবস্থায় অন্ধ করে ত্যাগ করা হবে, ভুলে যাওয়া হবে। কারণ এটা তো তোমারই কাজের যথোপযুক্ত ফল। [ইবন কাসীর]
[সূরা ত্বাহা (২০): আয়াত ১২৩ হতে ১২৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা
চতুর্থ মাসআলা- আর যে ব্যক্তি পাপকর্ম লিপ্ত হয় এবং যার নিকট ক্ষমা আসেনি, ওলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে একমত যে, আদমের পেশকৃত দলিলের ন্যায় দলিল পেশ করা তার জন্য বৈধ নয়। অর্থাৎ সে এ কথা বলতে পারবে না যে, ‘আমি হত্যা, ব্যভিচার কিংবা চুরি করেছি অথচ আল্লাহ আমার ওপর তা নির্ধারণ করে রেখেছিলেন, তাই আপনি আমাকে কেন ভর্ৎসনা করছেন?’ উম্মাহ এ বিষয়েও একমত যে, সৎকর্মশীলকে তার সৎকাজের জন্য প্রশংসা করা এবং মন্দকর্মকারীকে তার মন্দ কাজের জন্য ভর্ৎসনা করা ও তার পাপসমূহ তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া বৈধ। পঞ্চম মাসআলা- আল্লাহ তাআলার বাণী: "অতঃপর সে বিপথগামী হলো" (২০:১২১) অর্থাৎ তার জীবন সংকটাপন্ন বা বিপর্যয়গ্রস্ত হয়ে পড়ল।
এটি আন-নাক্কাশ বর্ণনা করেছেন এবং আল-কুশায়রী একে পছন্দ করেছেন। আমি আমাদের শায়খ উস্তাদ কারী আবু জাফর আল-কুরতুবীকে বলতে শুনেছি: "অতঃপর সে বিপথগামী হলো" অর্থাৎ দুনিয়ায় অবতরণ করার কারণে তার জীবন বিপর্যয়গ্রস্ত হয়ে পড়ল। এখানে 'আল-গায়' অর্থ হলো বিপর্যয়। এটি একটি উত্তম ব্যাখ্যা এবং এটি ঐ ব্যক্তির ব্যাখ্যার চেয়ে অধিকতর অগ্রগণ্য যে বলে: "অতঃপর সে বিপথগামী হলো" এর অর্থ সে পথভ্রষ্ট হলো—যা সঠিক পথের বিপরীত। আবার বলা হয়েছে: এর অর্থ সে তার সঠিক পথের সন্ধান লাভে অজ্ঞ ছিল, অর্থাৎ সে বুঝতে পারেনি যে এটিই সেই গাছ যা তাকে নিষেধ করা হয়েছিল।
এখানে 'আল-গায়' অর্থ অজ্ঞতা। কারো কারো পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে: "অতঃপর সে বিপথগামী হলো" অর্থাৎ অধিক ভোজনের ফলে তার বদহজম হলো। আয-যামাখশারী বলেন: এটি যদি সেই গোত্রের ভাষারীতি অনুযায়ী সঠিকও হয় যারা ইয়ায়ে মাকসূরার পূর্বাক্ষরকে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করে—যেমন বনু তায় গোত্র 'ফানিয়া' কে 'ফানা' এবং 'বাকিয়া' কে 'বাকা' বলে থাকে—তবুও এটি একটি নিকৃষ্ট ব্যাখ্যা। ষষ্ঠ মাসআলা- আবু নসর আল-কুশায়রী বলেন: একদল আলিম বলেছেন, বলা হবে ‘আদম অবাধ্য হয়েছেন এবং বিপথগামী হয়েছেন’, কিন্তু তাঁকে 'অবাধ্য' বা 'পথভ্রষ্ট' বলা যাবে না। যেমন যে ব্যক্তি একবার সেলাই করে তাকে 'সেলাইকারী' বলা হয় কিন্তু 'দর্জি' বলা হয় না যতক্ষণ না তার মাধ্যমে বারবার সেলাইয়ের কাজ সংঘটিত হয়।
আবার বলা হয়েছে: মনিবের জন্য তার দাসের অবাধ্যতার সময় এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করা বৈধ যা অন্যের জন্য বলা বৈধ নয়। তবে এটি একটি কষ্টকল্পিত ব্যাখ্যা। আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের দিকে যা কিছু এ ধরণের কাজ সম্পৃক্ত করা হয়েছে, তা হয় 'সগীরা গুনাহ', অথবা 'উত্তম কাজ বর্জন করা', অথবা নবুওয়াত লাভের পূর্বের ঘটনা। আমি বলছি: এটিই উত্তম। ইমাম আবু বকর ইবনে ফুরাক (রহমাতুল্লাহি তাআলা) বলেন: আদমের পক্ষ থেকে এটি নবুওয়াতের পূর্বেই সংঘটিত হয়েছিল। এর দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: "অতঃপর তার রব তাকে মনোনীত করলেন, তার তাওবা কবুল করলেন এবং তাকে পথ প্রদর্শন করলেন" (২০:১২২)।
এখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মনোনীত করা এবং পথ প্রদর্শন করা অবাধ্যতার পরে হয়েছে। আর যদি এটি নবুওয়াতের পূর্বে হয়ে থাকে, তবে নবীদের ক্ষেত্রে গুনাহ হওয়া অকাট্যভাবে সম্ভব। কারণ নবুওয়াত লাভের আগে তাঁদের সত্যয়ন করার ব্যাপারে আমাদের ওপর কোনো শরয়ি বাধ্যবাধকতা থাকে না। অতঃপর যখন আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে তাঁর সৃষ্টির নিকট প্রেরণ করেন এবং তাঁরা বাণী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত ও নিষ্পাপ সাব্যস্ত হন, তখন অতীতে তাঁদের থেকে যা কিছু প্রকাশ পেয়েছিল তা কোনো ক্ষতি করে না। আর এটি একটি মূল্যবান সূক্ষ্ম বিষয়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। [সূরা ত্বাহা (২০): আয়াত ১২৩ হতে ১২৭]তিনি বললেন, ‘তোমরা উভয়ে একত্রে জান্নাত থেকে নেমে যাও; তোমাদের একে অপর হবে শত্রু।
অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে হিদায়াত আসবে, তখন যে আমার হিদায়াতের অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না। (১২৩) আর যে ব্যক্তি আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জন্য অবশ্যই হবে এক সংকীর্ণ জীবন এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করব।’ (১২৪) সে বলবে, ‘হে আমার রব! কেন আপনি আমাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করলেন? অথচ আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম।’ (১২৫) তিনি বলবেন, ‘অনুরূপভাবে তোমার কাছে আমার নিদর্শনাবলি এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে; আর আজ সেভাবেই তোমাকে ভুলে যাওয়া হচ্ছে।’ (১২৬) এভাবেই আমি প্রতিফল দেই তাকে, যে সীমালঙ্ঘন করে এবং তার রবের নিদর্শনাবলিতে ঈমান আনে না।
আর আখিরাতের আজাব তো অবশ্যই অতি কঠোর এবং অধিক স্থায়ী। (১২৭)
প্রবেশপথঅতঃপর তার পায়ের দিক থেকে আসা হবে, তখন তার সৎকর্ম, নেক আমল এবং মানুষের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ বলবে: "আমার দিক দিয়ে প্রবেশের কোনো পথ নেই।"তাকে বলা হবে: "বসুন।"অতঃপর সে বসবে এবং তার সামনে সূর্যকে এমনভাবে চিত্রিত করা হবে যেন তা প্রায় অস্তমিত হচ্ছে। তখন তাকে বলা হবে: "আমরা আপনাকে যা জিজ্ঞাসা করছি সে সম্পর্কে আমাদের সংবাদ দিন।"সে বলবে: "আমাকে ছেড়ে দিন যাতে আমি সালাত আদায় করতে পারি।"তাকে বলা হবে: "আপনি অবশ্যই তা করবেন, তবে (আগে) আমরা আপনাকে যা জিজ্ঞাসা করছি সে সম্পর্কে আমাদের সংবাদ দিন।"সে বলবে: "আপনারা আমাকে কী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন?" তাকে বলা হবে: "এই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনি কী বলেন যিনি আপনাদের মাঝে ছিলেন?" —অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
সে বলবে: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তিনি আল্লাহর রাসূল, তিনি আমাদের নিকট আমাদের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি নিয়ে এসেছেন, আর আমরা তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছি এবং তাঁর অনুসরণ করেছি।"তাকে বলা হবে: "আপনি সত্য বলেছেন।""এর ওপরই আপনি জীবিত ছিলেন, এর ওপরই আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন এবং ইনশাআল্লাহ এর ওপরই আপনি পুনরুত্থিত হবেন।"এবং তার জন্য তার কবরে দৃষ্টির সীমানা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেওয়া হবে।আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদেরকে সুদৃঢ় বাক্যের মাধ্যমে দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন
। এরপর বলা হবে: "তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি দরজা খুলে দাও।" অতঃপর বলা হবে: "যদি আপনি আল্লাহর অবাধ্য হতেন তবে এটিই হতো আপনার আবাসস্থল।"ফলে তার আনন্দ ও প্রফুল্লতা আরও বেড়ে যাবে।
অতঃপর শরীরকে তার আদি উৎস মৃত্তিকায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং তার রুহকে পবিত্র বাতাসে স্থাপন করা হবে, যা জান্নাতের বৃক্ষে বিচরণকারী সবুজ পাখি হয়ে থাকবে।আর কাফিরের ক্ষেত্রে, তার কবরে মাথার দিক থেকে আসা হবে কিন্তু কিছুই পাওয়া যাবে না।এরপর তার পায়ের দিক থেকে আসা হবে কিন্তু সেখানেও কিছুই পাওয়া যাবে না।সে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় বসবে।তাকে বলা হবে: "এই ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলো যিনি তোমাদের মাঝে ছিলেন? আর তুমি কীসের সাক্ষ্য দাও?" কিন্তু সে তাঁর নাম মনে করতে পারবে না।তখন বলা হবে: "তিনি হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।"সে বলবে: "আমি মানুষকে কিছু বলতে শুনেছিলাম, তাই আমিও তাদের মতো বলেছি।" তখন তাকে বলা হবে: "তুমি সত্যই বলেছ (অর্থাৎ তোমার দাবি অনুযায়ী কেবল অনুকরণই করেছ)।""এর ওপরই তুমি বেঁচে ছিলে, এর ওপরই তুমি মারা গেছ এবং ইনশাআল্লাহ এর ওপরই তুমি পুনরুত্থিত হবে।" অতঃপর তার ওপর কবরকে সংকীর্ণ করে দেওয়া হবে, এমনকি তার একদিকের পাঁজর অন্যদিকের পাঁজরের মধ্যে ঢুকে যাবে।আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবন হবে অত্যন্ত সংকীর্ণ
[সূরা ত্বহা, আয়াত ১২৪]।এরপর বলা হবে: "তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও।"তখন তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হবে।অতঃপর বলা হবে: "যদি তুমি আল্লাহর আনুগত্য করতে, তবে এটিই হতো তোমার আবাসস্থল এবং আল্লাহ তোমার জন্য যা প্রস্তুত রেখেছিলেন।" ফলে তার আক্ষেপ ও ধ্বংসের যন্ত্রণা আরও বেড়ে যাবে।অতঃপর বলা হবে: "তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি দরজা খুলে দাও।" তখন তার জন্য জাহান্নামের একটি দরজা খুলে দেওয়া হবে এবং বলা হবে: "এটিই তোমার আবাসস্থল এবং আল্লাহ তোমার জন্য যা প্রস্তুত রেখেছেন।" এতে তার আক্ষেপ ও ধ্বংসের হাহাকার আরও তীব্র হবে।ইবনে জারীর এবং ইবনে মারদুবাইহ আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াতটি পাঠ করলেন: যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদেরকে সুদৃঢ় বাক্যের মাধ্যমে দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন
।
তিনি বললেন: "এটি তখন হয় যখন কবরে জিজ্ঞাসা করা হয়: 'আপনার রব কে এবং আপনার দ্বীন কী?' তখন সে উত্তর দেয়: 'আমার রব আল্লাহ, আমার দ্বীন ইসলাম এবং আমার নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও হিদায়াত নিয়ে এসেছেন, আর আমি তাঁর ওপর ঈমান এনেছি এবং তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছি।'"তখন তাকে বলা হবে: "আপনি সত্য বলেছেন। এর ওপরই আপনি জীবন অতিবাহিত করেছেন, এর ওপরই মৃত্যুবরণ করেছেন এবং এর ওপরই আপনি পুনরুত্থিত হবেন।"
