Taha
ত্বহা: 41
20 ত্বহা Taha · 135 আয়াত طه
মূল আরবি
وَٱصْطَنَعْتُكَ لِنَفْسِى
English Translations
And I produced you for Myself.
"And I have Istana'tuka, for Myself.
I have fashioned you for Myself.
I have chosen you for My service.
And I have attached thee to Myself.
"And I have prepared thee for Myself (for service)"..
বাংলা অনুবাদ
আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য তৈরি করেছি।
এবং আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য মনোনীত করেছি।
এবং আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য প্রস্তুত করে নিয়েছি।
‘এবং আমি আপনাকে আমার নিজের জন্য প্রস্তুত করে নিয়েছি।
এবং আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য প্রস্তুত করে নিয়েছি।
৪১. আর আমি আপনাকে আমার পক্ষ থেকে রাসূল হওয়ার জন্য বাছাই করেছি। আমি আপনার নিকট যা ওহী করবো তা আপনি লোকদের নিকট পৌঁছিয়ে দিবেন।
তাফসীর
৪১-৪৪ নং আয়াতের তাফসীর: হযরত মূসাকে (আঃ) আল্লাহ তাআলা সম্বোধন করে বলেনঃ হে মূসা (আঃ)! তুমি ফিরাউনের নিকট থেকে পালিয়ে গিয়ে মাদইয়ানে পৌঁছে ছিলে। সেখানে তুমি শ্বশুরবাড়ীতে আশ্রয় পেয়েছিলে এবং শর্ত অনুযায়ী কয়েক বছর ধরে তোমার শ্বশুরের বকরী চরিয়েছিলে। অতঃপর নির্ধারিত সময়ে তুমি তার কাছে পৌঁছেছে। তোমার প্রতিপালকের কোন চাহিদা পূর্ণ হতে বাকী থাকে না এবং কোন ফরমান ছুটে যায় না। তার ওয়াদা অনুযায়ী তার নির্ধারিত সময়ে তোমাদের তার কাছে পৌছা অবশ্যম্ভাবী ব্যাপার ছিল। ভাবার্থ এও হতে পারেঃ তুমি তোমার মর্যাদায় পৌঁছে গেছে। অর্থাৎ তুমি নবুওয়াত লাভ করেছে।
আমি তোমাকে আমার মনোনীত পয়গাম্বর করেছি।হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “হযরত আদম (আঃ) ও হযরত মূসার (আঃ) পরস্পর সাক্ষাৎ হয়। তখন হযরত মূসা (আঃ) হযরত আদমকে (আঃ) বলেনঃ “আপনি তো ঐ ব্যক্তি যে, আপনি মানব মণ্ডলীর ভাগ্য বিড়ম্বনা সৃষ্টি করেছেন এবং তাদেরকে বেহেশত হতে বহিস্কৃত করেছেন?' তখন হযরত আদম (আঃ) হযরত মূসাকে (আঃ) উত্তরে বলেনঃ “আপনি তো ঐ ব্যক্তি যে, আল্লাহ তাআলা আপনাকে স্বীয় রাসূলরূপে মনোনীত করেছেন এবং নিজের জন্যে আপনাকে বেছে নিয়েছেন, আর আপনার উপর তাওরাত অবতীর্ণ করেছেন? জবাবে হযরত মূসা (আঃ) বলেনঃ “" হযরত আদম (আঃ) তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করেনঃ “আপনি কি ওটা আমার সৃষ্টির পূর্বে লিখিত পান নাই?" হযরত মূসা (আঃ) জবাব দেনঃ “ হাঁ, তা-ই পেয়েছি।" অতঃপর হযরত আদম (আঃ) হযরত মূসার (আঃ) অভিযোগ খণ্ডন করে বিজয়ী হলেন।" (হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) স্বীয় সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)মহান আল্লাহ বলেনঃ হে মূসা (আঃ)!
তুমিও তোমার ভ্রাতা আমার নিদর্শনসহ যাত্রা শুরু করো এবং আমার স্মরণে শৈথিল্য করো না। তোমরা দু’জন ফিরাউনের নিকট গমন কর, সে তো সীমালংঘন করেছে।সুতরাং তারা দু'জন ফিরাউনের সামনে আল্লাহর যিকরে লেগে থাকতেন যাতে আল্লাহর সাহায্য তঁারা লাভ করতে পারেন এবং ফিরাউনের শান শওকত নষ্ট হয়ে যায়। যেমন হাদীসে এসেছে যে, আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “আমার খাটি ও সত্যবাদী বান্দা সেই যে সারা জীবন ধরে আমাকে স্মরণ করে।মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তোমরা ভ্রাতৃদ্বয় আমার পয়গাম নিয়ে ফিরাউনের নিটক গমন কর। সে মস্তক উঁচু করে রয়েছে এবং আমার অবাধ্যতার সীমালংঘন করেছে।
আর নিজের মালিক ও সৃষ্টিকর্তাকে সে ভুলে গেছে।এরপর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ তোমরা তার সাথে নম্র কথা বলবে। এই আয়াতে বড় উপদেশ ও শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। তা এই যে, ফিরাউন হচ্ছে চরম অহংকারী ও আত্মী। পক্ষান্তরে হযরত মূসা (আঃ) হলেন অত্যন্ত ভদ্র ও নির্মল চরিত্রের অধিকারী। এতদসত্ত্বেও আল্লাহ তাআলা তাকে তার সাথে নম্রভাবে কথা বলার নির্দেশ দিচ্ছেন। হযরত ইয়াযীদ রাক্কাশী (রঃ) এই আয়াতটি পাঠ করে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে সেই সত্ত্বা! যিনি শত্রুর সাথেও নরম ব্যবহার করে থাকেন, তাঁর ব্যবহার ঐ ব্যক্তির সাথে কিরূপ হতে পারে যে তার সাথে বন্ধুত্ব রাখে ও তাকে আহ্বান করে।” হযরত অহাব (রঃ) বলেন যে, নরম কথাবার্তা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাকে বলাঃ আমরি ক্রোধ গোস্বা হতে আমার ক্ষমা ও করুণা অনেক বড়।
ইকরামা (রঃ) বলেন যে, নরম কথা বলা দ্বারা আল্লাহর একত্ববাদের দিকে দাওয়াত দেয়া বুঝানো হয়েছে যাতে সে ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ' এই উক্তিকারী হয়ে যায়। হযরত হাসান বসরী (রঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হলো তাকে বলাঃ তোমার প্রতিপালক রয়েছেন। তোমার মৃত্যুর পর তোমাকে তাঁর ওয়াদাকৃত জায়গায় পৌঁছতে হবে, যেখানে জান্নাত ও জাহান্নাম রয়েছে। হযরত সুফইয়ান সাওরী (রঃ) বলেনঃ এর দ্বারা বুঝানো হয়েছেঃ তুমি তাকে আমার দরার উপর এনে দাঁড় করিয়ে দাও। মোট কথা, হে মূসা (আঃ) ও হারূণ (আঃ)! তোমরা ফিরাউনের সাথে নম্রভাবে কথা বলবে, এর ফলে হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে।
যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে নবী (সঃ)! তোমার প্রতিপালকের পথে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে (মানুষকে) আহ্বান কর এবং উত্তম পন্থায় তাদেরকে বুঝাতে থাকো, যাতে তারা বুঝে এবং পথভ্রষ্টতা ও ধ্বংস হতে দূরে থাকে এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাকে। আর তাঁর আনুগত্য ও ইবাদতের দিকে ঝুঁকে পড়ে।” (১৬:১২৫) যেমন এক জায়গায় ঘোষিত হয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “এটা উপদেশ হচ্ছে ঐ ব্যক্তির জন্যে যে উপদেশ গ্রহণ করে অথবা ভয় করে।” সুতরাং উপদেশ গ্রহণ করার অর্থ হলো মন্দ কাজ ও ভয়ের জিনিস থেকে সরে যাওয়া এবং ভয় করার অর্থ হলো আনুগত্যের দিকে ঝুঁকে পড়া।
হাসান বসরী (রঃ) বলেন যে, তার ধ্বংসের জন্যে দুআ না করা যে পর্যন্ত না তার সমস্ত ওজর শেষ হয়ে যায়। এখানে ইবনু ইসহাক (রঃ) যায়েদ ইবনু আমর ইবনু নুফায়েল এবং অন্য একটি বর্ণনা মতে উমাইয়া ইবনু আবিসসালাতের নিম্ন লিখিত কবিতাংশ বর্ণনা করেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আপনি ঐ সত্ত্বা যে, আপনি স্বীয় অনুগ্রহ ও দয়ায় মূসাকে (আঃ) রাসূল ও আহ্বানকারী রূপে প্রেরণ করেছেন। তাকে আপনি বলেছেনঃ তুমি ও হারূণ (আঃ) বিদ্রোহী ফিরাউনের কাছে গমন কর এবং তাকে বলোঃ তুমিই কি আকাশকে বিনা স্তম্ভে ধারণ করে রেখেছো? তুমিই কি ওটাকে এভাবে বানিয়ে ছো? তুমিই কি ওর মাঝে উজ্জ্বল সূর্য স্থাপন করেছে যা অন্ধকারকে আলোতে পরিবর্তিত করে?
এদিকে সকালে ওটা উদিত হলো, ওদিকে দুনিয়া হতে অন্ধকার দূরীভূত হয়ে গেল। আচ্ছা বলতো, মাটি হতে বীজ উদগীরণকারী কে? আর কে ওর মাথায় শীষ সৃষ্টিকারী? এ সব নিদর্শন দ্বারাও কি তুমি আল্লাহকে চিনতে পারলে না?
‘এবং আমি আপনাকে আমার নিজের জন্য প্রস্তুত করে নিয়েছি [১]।
[১] অর্থাৎ আপনাকে আমার ওহী ও রিসালাত বহনের জন্য তৈরী করে নিয়েছি, যাতে আমার
ইচ্ছামত সমস্ত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। [ইবন কাসীর] যাজ্জাজ বলেন, এর অর্থ, আমার দলীল-প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠা করার জন্য আপনাকে আমি পছন্দ করে নিয়েছি। আর আপনাকে আমার ও আমার বান্দাদের মধ্যে ওহী ও রিসালাতের বাহক হিসেবে নির্ধারণ করছি। এতে আপনি তাদের কাছে যখন প্রচার করবেন, তখন যেন সেটা আমিই প্রচার করছি ও আহবান জানাচ্ছি ও দলীল-প্রমাণাদি পেশ করছি। [ফাতহুল কাদীর] এ ভাবেই মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের পছন্দ করেন তাদেরকে নিজের করে তৈরী করেন। যাতে করে পরবর্তী দায়িত্বের জন্য যোগ্য বিবেচিত হন। অন্যত্র বলা হয়েছে, “নিশ্চয় আল্লাহ আদমকে, নূহকে ও ইবরাহীমের বংশধর ও ইমরানের বংশধরকে বিশ্বজগতে মনোনীত করেছেন। ” [সূরা আলে-ইমরান; ৩৩]
[সূরা তাহা (২০): আয়াত ৩৬ থেকে ৪২] পূর্ণ পৃষ্ঠা
হারুন মূসা অপেক্ষা অধিক মাংসল, দীর্ঘকায়, উজ্জ্বল দেহবিশিষ্ট এবং অধিক প্রাঞ্জলভাষী ছিলেন। তিনি মূসার তিন বছর পূর্বে ইন্তেকাল করেন। হারুনের কপালে একটি তিল ছিল, আর মূসার নাসিকাগ্রে একটি তিল এবং তাঁর জিহ্বার অগ্রভাগে একটি তিল ছিল; যা তাঁর পূর্বে আর কারও ছিল না এবং তাঁর পরেও আর কারও হবে না। বলা হয়ে থাকে: এটিই ছিল তাঁর জিহ্বার জড়তার কারণ। আল্লাহই ভালো জানেন। (এবং তাকে আমার কাজে শরিক করুন) অর্থাৎ নবুওয়ত এবং রিসালাত প্রচারের কাজে। মুফাসসিরগণ বলেন: হারুন সে সময় মিশরে ছিলেন, আল্লাহ মূসাকে নির্দেশ দিলেন হারুনের নিকট যেতে, আর মিশরে অবস্থানরত হারুনের প্রতি ওহী পাঠালেন যেন তিনি মূসার সাথে সাক্ষাৎ করেন।
হারুন এক মনজিল দূরত্ব পর্যন্ত এগিয়ে গিয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং মূসা তাঁকে তাঁর প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তা অবহিত করেন। মূসা তাঁকে বললেন: আল্লাহ আমাকে ফেরাউনের নিকট যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আমি আমার রবের নিকট প্রার্থনা করেছি যেন তিনি আপনাকে আমার সাথে রাসূল হিসেবে মনোনীত করেন। সাধারণ কিরাত অনুযায়ী "আখি আশদুদ" আলিফ-এ ওয়াসল (যুক্তবর্ণ) হিসেবে এবং "ওয়া আশরিকহু" (সূরা তাহা ২০:৩২) হামযায় ফাতহা দিয়ে দুআ বা প্রার্থনা হিসেবে পাঠ করা হয়েছে; অর্থাৎ: হে আমার রব! আপনি আমার শক্তি সুদৃঢ় করুন এবং তাকে আমার কাজে শরিক করুন। ইবনে আমির, ইয়াহইয়া ইবনুল হারিস, আবু হাইওয়াহ, হাসান এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবি ইসহাক "আশদুদ" আলিফ-এ কাত' (বিচ্ছিন্নকারী হামযা) এবং "আশরিকহু" আলিফ-এ পেশ দিয়ে পাঠ করেছেন [অর্থাৎ আমিই তা করব, আমিই তার মাধ্যমে আমার শক্তি বৃদ্ধি করব (এবং আমি তাকে শরিক করব)], অর্থাৎ হে আমার রব!
আমি তাকে "আমার কাজে" শরিক করব। আন-নাহহাস বলেন: তারা ক্রিয়া দুটিকে জযম (সুকুন) অবস্থায় রেখেছেন "ইজআল লী ওয়াযীরান" (সূরা তাহা ২০:২৯) এর উত্তর (জওয়াব) হিসেবে। তবে এই কিরাতটি বিরল (শায) ও দূরবর্তী; কারণ এ জাতীয় বাক্যের উত্তর কেবল শর্ত ও জাযা-এর অর্থেই গৃহীত হয়। সেক্ষেত্রে অর্থ হবে: যদি আপনি আমার পরিবার থেকে আমার জন্য একজন উযির নিযুক্ত করেন, তবে আমি তার মাধ্যমে আমার শক্তি সুদৃঢ় করব এবং তাকে আমার কাজে শরিক করব। অথচ তাঁর কাজ হলো নবুওয়ত ও রিসালাত, আর এটি করার ক্ষমতা তাঁর (মূসার) হাতে নয় যে তিনি সে সম্পর্কে সংবাদ দেবেন, বরং তিনি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেছিলেন যেন আল্লাহ তাঁকে নবুওয়তে শরিক করেন।
ইবনে কাসীর ও আবু আমর "আখী" শব্দের 'ইয়া'-তে ফাতহা দিয়ে পাঠ করেছেন। (যাতে আমরা আপনার অধিক পবিত্রতা ঘোষণা করতে পারি - ২০:৩৩) বলা হয়েছে: "আমরা আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করতে পারি" এর অর্থ হলো আপনার উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করতে পারি। আবার এর অর্থ মুখে তাসবিহ পাঠ করাও হতে পারে। অর্থাৎ আপনার মহত্ত্বের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন সব কিছু থেকে আপনাকে পবিত্র ঘোষণা করি। আর "অধিক" শব্দটি এখানে উহ্য একটি মাফউল-এ মুতলাক বা গুণবাচক বিশেষণের বিশেষণ। আবার এটি সময়ের বিশেষণ হওয়াও সম্ভব। ইদগাম বা সন্ধি করে পড়া এখানে সুন্দর। অনুরূপভাবে (এবং আপনাকে অধিক স্মরণ করতে পারি - ২০:৩৪)।
(নিশ্চয়ই আপনি আমাদের সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা - ২০:৩৫) আল-খাত্তাবী বলেন: 'বাসীর' অর্থ যিনি দেখেন, আবার 'বাসীর' অর্থ যিনি গোপন বিষয় সম্পর্কে পরিজ্ঞাত। সুতরাং অর্থ দাঁড়ায়: আপনি আমাদের অবস্থা সম্পর্কে পরিজ্ঞাত এবং আমাদের শৈশবে আপনি আমাদের দেখভাল করেছেন ও আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, অতএব হে আমার রব, অনুরূপভাবে [এখনও] আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন। [সূরা তাহা (২০): আয়াত ৩৬ থেকে ৪২]তিনি বললেন, ‘হে মূসা, তুমি যা চেয়েছ তা তোমাকে দেওয়া হলো (৩৬)। আমি তোমার প্রতি আরও একবার অনুগ্রহ করেছিলাম (৩৭)। যখন আমি তোমার জননীকে ওহী মারফত সেই নির্দেশ দিয়েছিলাম যা ছিল নির্দেশ করার বিষয় (৩৮)।
এই মর্মে যে, তুমি তাকে (শিশুকে) সিন্দুকে রাখো, অতঃপর তা নদীতে ভাসিয়ে দাও, যেন নদী তাকে তীরে ঠেলে দেয়। সেখানে আমার শত্রু ও তার শত্রু তাকে তুলে নেবে। আমি তোমার ওপর আমার পক্ষ থেকে মহব্বত (ভালোবাসা) ঢেলে দিয়েছিলাম যাতে তুমি আমার চোখের সামনে লালিত-পালিত হও (৩৯)। যখন তোমার বোন হেঁটে যাচ্ছিল এবং বলছিল, ‘আমি কি তোমাদের এমন কারো কথা বলব যে তার লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে পারে?’ অতঃপর আমি তোমাকে তোমার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম যাতে তার চক্ষু শীতল হয় এবং সে দুঃখিত না হয়। আর তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে, অতঃপর আমি তোমাকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলাম এবং তোমাকে নানাভাবে পরীক্ষা করলাম।
এরপর তুমি কয়েক বছর মাদয়্যানবাসীর মধ্যে অবস্থান করলে। হে মূসা! অতঃপর তুমি নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলে (৪০)।আর আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য তৈরি করে নিয়েছি (৪১)। তুমি ও তোমার ভাই আমার নিদর্শনাবলিসহ যাও এবং আমার স্মরণে অলসতা করো না (৪২)।(১). পাণ্ডুলিপি ব, জ, য, ত, ক ও ই-তে রয়েছে: তার জিহ্বায় জড়তার (আকলাহ) কারণ। এই পাঠের একটি তাৎপর্য রয়েছে।(২). পাণ্ডুলিপি ব, ত, য ও ক থেকে সংগৃহীত।(৩). পাণ্ডুলিপি ব, জ ও ই থেকে সংগৃহীত।
