Taha

ত্বহা: 57

20:57
টেক্সট কপি

মূল আরবি

قَالَ أَجِئْتَنَا لِتُخْرِجَنَا مِنْ أَرْضِنَا بِسِحْرِكَ يَـٰمُوسَىٰ

English Translations

Sahih International

He said, "Have you come to us to drive us out of our land with your magic, O Moses?

Muhsin Khan

He [Fir'aun (Pharaoh)] said: "Have you come to drive us out of our land with your magic, O Musa (Moses)?

Taqi Usmani

Said he, “Have you come to us to drive us out of our land with your sorcery, O Mūsā?

Abul Ala Maududi

He said: "Have you come to us to drive us out of our land by your sorcery?

Pickthall

He said: Hast come to drive us out from our land by thy magic, O Moses?

Yusuf Ali

He said: "Hast thou come to drive us out of our land with thy magic, O Moses?

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

সে বলল, ‘হে মূসা! তুমি কি তোমার যাদুর বলে আমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে বের করে দেয়ার জন্য এসেছ?

রাওয়াই আল-বায়ান

সে বলল, ‘হে মূসা, তুমি কি আমাদের কাছে এজন্য এসেছ যে, তোমার যাদুর দ্বারা আমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে বের করে দেবে’?

শাইখ মুজিবুর রহমান

সে বললঃ হে মূসা! তুমি কি আমাদের নিকট এসেছ তোমার যাদু দ্বারা আমাদেরকে আমাদের দেশ হতে বহিস্কার করে দেয়ার জন্য?

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

সে বলল, ‘হে মূসা! তুমি কি আমাদের কাছে এসেছ তোমার জাদু দ্বারা আমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কার করে দেয়ার জন্য?

ফাতহুল মাজীদ

সে বলল: ‘হে মূসা! তুমি কি আমাদের নিকট তোমার জাদু নিয়ে এসেছো তা দ্বারা আমাদেরকে আমাদের দেশ হতে বহিষ্কার করার জন্য?

মুখতাসার

৫৭. ফিরআউন বললো: হে মূসা! তুমি কি তোমার নিয়ে আসা যাদুর মাধ্যমে আমাদেরকে মিশর থেকে বের করে দিতে এসেছো? যাতে মিশরের ক্ষমতা তোমার হাতে চলে যায়।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

৫৭-৫৯ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা বলেন যে, হযরত মূসার (আঃ) লাঠি সাপ হয়ে যাওয়া এবং হাত উজ্জ্বল হওয়া ইত্যাদি মু'জিযা দেখে ফিরাউন তাকে বললোঃ “এটা তো যাদু ছাড়া কিছুই নয়। তুমি যাদুর জোরে আমাদের রাজ্য ছিনিয়ে নিতে চাও। তুমি অহংকার করো না। আমরাও এই যাদূতে তোমার মুকাবিলা করতে পারি। দিন ও জায়গা নির্ধারণ করা হোক এবং মুকাবিলা হোক। আমরাও ঐ দিনে ঐ জায়গায় যাবো এবং তুমিও যাবে। কেউ আসবে না। এটা যেন না হয়। খোলা মাঠে সবারই সামনে হার-জিত হবে।” হযরত মূসা (আঃ) তার এ কথার জবাবে বললেনঃ “আমি এটা মেনে নিলাম। আমার মতে এর জন্যে তোমাদের ঈদের দিনটিই নির্ধারিত হওয়া উচিত।

কেননা, এটা অবকাশের দিন। সেই দিন সবাই একত্রিত হতে পারবে। সুতরাং তারা দেখে শুনে হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য দেখতে সক্ষম হবে। মুজিযা ও যাদু পার্থক্য সবারই উপর প্রকাশিত হয়ে পড়বে। সময়টা হতে হবে বেলা ওঠার সময়, যাতে যা কিছু ময়দানে আসবে সবাই তা দেখতে পায়।” হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, তাদের ঐ ঈদ বা খুশীর দিনটি আশুরার দিন (১০ই মুহররম)। এটা স্মরণ রাখার বিষয় যে, এরূপ স্থলে নবীরা (আঃ) কখনো পিছনে সরে যান না। তারা এমন কাজ করেন যাতে সত্য পরিস্ফুট হয়ে ওঠে এবং সবারই উপর তা প্রকাশিত হয়ে পড়ে। এজন্যেই তিনি প্রতিযোগিতার জন্যে তাদের ঈদের দিনটি ধার্য করেন।

আর সময় নির্ধারিত করলেন বেলা ওঠার সময় এবং জায়গারূপে সমতল ভূমিকে নির্ধারণ করলেন যাতে সবাই দেখতে পায়। ফিরাউন অবকাশ চাইলো। কিন্তু হযরত মূসা (আঃ) অবকাশ দিতে অস্বীকার করলেন। তখন তার উপর ওয়াহী করা হলোঃ “সময় নির্ধারণ করে নাও।" ফিরাউন চল্লিশ দিনের অবকাশ চাইলো। তা মঞ্জুর করা হলো।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

সে বলল, হে মূসা! তুমি কি আমাদের কাছে এসেছ তোমার জাদু দ্বারা আমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কার করে দেয়ার জন্য [১]?

[১] জাদু বলতে এখানে বুঝানো হয়েছে লাঠি ও সাদা হাতকে। সূরা আল-আশরাফ ও সূরা আশ-শু'আরায় এসেছে যে, মূসা প্রথম সাক্ষাতের সময় প্রকাশ্য দরবারে একথা পেশ করেছিলেন। এ মু'জিযা দেখে ফির’আউন যেরকম দিশেহারা হয়ে পড়েছিল তা কেবলমাত্র তার এ একটি বাক্য থেকেই আন্দাজ করা যেতে পারে যে, “তোমার জাদুর জোরে তুমি আমাদের দেশ থেকে আমাদের বের করে দিতে চাও।” এসব মু'জিযা নয়, জাদু এবং আমার রাজ্যের প্রত্যেক জাদুকরই এভাবে লাঠিকে সাপ বানিয়ে দেখাতে পারে। সুতরাং তুমি যা দেখাচ্ছ তা যেন তোমাকে প্রতারিত না করে। [ইবন কাসীর]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা ত্বহা (২০): আয়াত ৫৬ থেকে ৬১] পূর্ণ পৃষ্ঠা

তারা বলে, "এই পবিত্র আত্মাটি কার?" তখন তারা তাকে দুনিয়াতে যে সুন্দরতম নামে ডাকত, সেই নাম উল্লেখ করে বলে, "এটি অমুকের পুত্র অমুক।" অতঃপর তার জন্য আসমানের দরজা খুলতে চাওয়া হয় এবং তা খুলে দেওয়া হয়। প্রত্যেক আসমানের নিকটবর্তী ফেরেশতারা তাকে পরবর্তী আসমান পর্যন্ত বিদায় জানাতে এগিয়ে যায়, এভাবে সপ্তম আসমান পর্যন্ত পৌঁছানো হয়। তখন আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা বলেন: "আমার এই বান্দার আমলনামা ইল্লিয়্যীনে লিপিবদ্ধ করো এবং তাকে পুনরায় জমিনে ফিরিয়ে নিয়ে যাও। কেননা আমি তাদেরকে মাটি থেকেই সৃষ্টি করেছি, সেখানেই তাদের ফিরিয়ে দেব এবং সেখান থেকেই পুনরায় বের করে আনব।" এরপর তার আত্মা তার দেহে ফিরিয়ে দেওয়া হয়—হাদীসটি উল্লেখ করা হয়েছে।

আমরা এই হাদীসটি পূর্ণাঙ্গভাবে "আত-তাযকিরাহ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। এটি আলী (রা.)-এর হাদীস থেকে বর্ণিত হয়েছে, যা সা'লাবী উল্লেখ করেছেন। আর "এবং তাতে আমি তোমাদের ফিরিয়ে দেব (২০:৫৫)" এর অর্থ হলো মৃত্যুর পর। "এবং সেখান থেকে তোমাদের বের করব (২০:৫৫)" এর অর্থ হলো পুনরুত্থান ও হিসাবের জন্য। (পুনরায়) শব্দটির সম্বন্ধ আল্লাহর বাণী "তা থেকে আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি" এর সাথে, "তোমাদের ফিরিয়ে দেব" এর সাথে নয়। এটি আপনার এমন বলার মতো: "আমি একটি উষ্ট্রী কিনেছি, একটি ঘর এবং অন্য আরেকটি উষ্ট্রী।" সুতরাং অর্থ দাঁড়ায়: জমিন থেকে আমরা তোমাদের বের করেছি এবং মৃত্যুর পর পুনরায় তোমাদের জমিন থেকে বের করব।

‌‌[সূরা ত্বহা (২০): আয়াত ৫৬ থেকে ৬১]আর আমি তাকে আমার সমস্ত নিদর্শন দেখালাম, কিন্তু সে মিথ্যারোপ করল এবং অস্বীকার করল। (৫৬) সে বলল: "হে মূসা! তুমি কি তোমার যাদুর মাধ্যমে আমাদের দেশ থেকে আমাদের তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমাদের কাছে এসেছ? (৫৭) অতএব আমরাও তোমার মোকাবিলায় অনুরূপ যাদু নিয়ে আসব; সুতরাং আমাদের ও তোমার মাঝে একটি সময় ও স্থান নির্ধারণ কর, যার ব্যতিক্রম আমরাও করব না এবং তুমিও করবে না; তা হবে একটি সমতল উন্মুক্ত স্থান।" (৫৮) সে বলল: "তোমাদের নির্ধারিত সময় হলো উৎসবের দিন এবং যখন পূর্বাহ্নে লোক সমবেত হবে।" (৫৯) তখন ফেরাউন প্রস্থান করল এবং তার সব কলাকৌশল জমা করল, অতঃপর উপস্থিত হলো।

(৬০)মূসা তাদের বললেন: "দুর্ভোগ তোমাদের! তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করো না, নতুবা তিনি তোমাদের শাস্তির মাধ্যমে সমূলে ধ্বংস করে দেবেন। আর যে মিথ্যা উদ্ভাবন করে, সে নিশ্চিতভাবে ব্যর্থ হয়।" (৬১)মহান আল্লাহর বাণী: (আর আমি তাকে আমার সমস্ত নিদর্শন দেখালাম) ২০:৫৬ অর্থাৎ মূসার নবুওয়াতের সত্যতা প্রমাণকারী মুজিযাসমূহ। আবার কেউ কেউ বলেছেন: আল্লাহর একত্ববাদের প্রমাণবাহী তাঁর দলীলসমূহ। (কিন্তু সে মিথ্যারোপ করল এবং অস্বীকার করল) ২০:৫৬ অর্থাৎ সে ঈমান আনেনি। এটি নির্দেশ করে যে, সে হঠকারিতাবশত কুফরি করেছিল, কারণ সে নিদর্শনসমূহ চাক্ষুষ দেখেছিল, লোকমুখে শুনে নয়।

এর অনুরূপ হলো: "এবং তারা অন্যায় ও অহংকারবশত সেগুলো প্রত্যাখ্যান করল, যদিও তাদের অন্তর সেগুলো সত্য বলে দৃঢ় বিশ্বাস করেছিল।" (১) মহান আল্লাহর বাণী: (সে বলল: হে মূসা! তুমি কি তোমার যাদুর মাধ্যমে আমাদের দেশ থেকে আমাদের তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমাদের কাছে এসেছ?) ২০:৫৭ মূসা যে নিদর্শনসমূহ নিয়ে এসেছিলেন, ফেরাউন যখন তা দেখল তখন সে বলল যে এগুলো যাদু। এর অর্থ হলো: তুমি এজন্য এসেছ যাতে মানুষকে এই বিভ্রান্তিতে ফেলতে পারো যে তুমি এমন নিদর্শন নিয়ে এসেছ যা তোমার অনুসরণ ও তোমার প্রতি ঈমান আনাকে আবশ্যক করে, যাতে তুমি আমাদের দেশ ও আমাদের ওপর জয়ী হতে পারো।

(অতএব আমরাও তোমার মোকাবিলায় অনুরূপ যাদু নিয়ে আসব) ২০:৫৮ অর্থাৎ আমরা অবশ্যই তোমার মোকাবিলা করব...(১). দেখুন খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ১৬৩।