Al-Hijr
আল-হিজর: 18
15 আল-হিজর Al-Hijr · 99 আয়াত الحجر
মূল আরবি
إِلَّا مَنِ ٱسْتَرَقَ ٱلسَّمْعَ فَأَتْبَعَهُۥ شِهَابٌ مُّبِينٌ
English Translations
Except one who steals a hearing and is pursued by a clear burning flame.
Except him (devil) that gains hearing by stealing, he is pursued by a clear flaming fire.
but the one who tries to eavesdrop is chased by a clearly visible flame.
save him who may eavesdrop, and then a bright flame pursues him.
Save him who stealeth the hearing, and them doth a clear flame pursue.
But any that gains a hearing by stealth, is pursued by a flaming fire, bright (to see).
বাংলা অনুবাদ
কিন্তু কেউ চুরি করে (খবর) শুনতে চাইলে উজ্জ্বল অগ্নিশিখা তার পশ্চাদ্ধাবণ করে।
তবে যে গোপনে শোনে, তৎক্ষণাৎ সুস্পষ্ট জ্বলন্ত অগ্নিশিখা তার পিছু নেয়।
আর কেহ চুরি করে সংবাদ শুনতে চাইলে ওর পশ্চাদ্ধাবন করে প্রদীপ্ত শিখা।
কিন্তু কেউ চুরি করে শুনতে চাইলে প্রদীপ্ত শিখা তার পশ্চাদ্ধাবন করে।
কিন্তু কেউ চুরি করে সংবাদ শুনতে চাইলে তার পশ্চাদ্ধাবন করে প্রদীপ্ত শিখা
১৮. তবে যে শয়তান চুরি করে ফিরিশতাদের কথা শুনে তাকে একটি আলোকিত বস্তু পিছু নিয়ে জ্বালিয়ে দেয়।
তাফসীর
15:16
কিন্তু কেউ চুরি করে [১] শুনতে চাইলে [২] প্রদীপ্ত শিখা [৩] তার পশ্চাদ্ধাবন করে।
[১] অর্থাৎ যেসব শয়তান তাদের বন্ধু ও পৃষ্ঠপোষকদেরকে গায়েবের খবর এনে দেবার চেষ্টা করে থাকে, যাদের সাহায্যে অনেক জ্যোতিষী, গণক ও ফকির বেশধারী বহুরুপী অদৃশ্য জ্ঞানের ভড়ং দেখিয়ে থাকে, গায়েবের খবর জানার কোন একটি উপায়-উপকরণও আসলে তাদের আয়ত্বে নেই। তারা চুরি-চামারি করে কিছু শুনে নেবার চেষ্টা অবশ্যি করে থাকে।
[২] হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মাঝে মাঝে ফিরিশতারা আকাশের নীচে মেঘমালার স্তর পর্যন্ত অবতরণ করত এবং আসমানের সংবাদাদী নিয়ে পরস্পর আলোচনা করত। শয়তানরা শূন্যে আত্মগোপন করে এসব সংবাদ শুনত এবং গণকদের কাছে তা গোপনে পৌছিয়ে দিত। গণকরা এগুলোর সাথে শত মিথ্যা নিজেদের পক্ষ থেকে জুড়ে দিয়ে তা বলে বেড়ায়”। [বুখারীঃ ৩২১০, ২২২৮]
পরে উল্কাপাতের মাধ্যমে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। অন্য এক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আল্লাহ যখন আসমানে কোন বিষয়ের ফয়সালা করেন তখন ফেরেশতাগণ তার নির্দেশের আনুগত্য স্বরূপ তাদের ডানাগুলোকে মারতে থাকে তাতে পাথরের উপর জিঞ্জির পড়ার মত শব্দ অনুভূত হয়। তারপর যখন তাদের অন্তর থেকে ভয়ভীতি দূর হয় তখন তারা বলতে থাকেঃ তোমাদের প্রভু কি বলেছেন? তারাই আবার বলেঃ হক্ক বলেছেন, তিনি বড়, মহান। কান লাগিয়ে কথাচোরগণ এ কথোপকথন শুনতে পায়। আর এসব কান লাগিয়ে শ্রবণকারীগণ একটির উপর একটি থাকে। বর্ণনাকারী সুফিয়ান তার হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে দেখিয়ে দিলেন।
তিনি তার ডান হাতের আঙ্গুলগুলোকে ফাক করলেন এবং একটির উপর আর একটি স্থাপন করলেন। তারপর কখনো কখনো উজ্জল আলোর শিখা সে কান লাগিয়ে শ্রবণকারীকে তার সাথীর কাছে কথা পৌছানোর পূর্বেই আঘাতে করে জালিয়ে দেয়। আবার কখনো কখনো আলোর শিখা তার কাছে পৌঁছার আগেই সে তার নীচের সাথীকে তা পৌঁছিয়ে দেয়। এভাবে পৌছাতে পৌছাতে যমীন পর্যন্ত পৌছে দেয়। তারপর যাদুকর বা গণকের মুখে রেখে দেয়। তখন সে যাদুকর তথা গণক সে সংবাদের সাথে শতটি মিথ্যা মিশ্রিত করে বর্ণনা করে। আর এভাবেই তার কোন কোন কথা সত্যে পরিণত হয়। তারপর লোকেরা বলতে থাকেঃ সে কি আমাদেরকে বলেনি যে, অমুক অমুক দিন এই সেই হবে, তারপর আমরা কি সঠিক পাইনি?
আসলে সেটা ছিল ঐ বাক্য যা আসমান থেকে শোনা গিয়েছিল। [বুখারীঃ ৪৭০১]
[৩] (شِهَابٌ) এর আভিধানিক অর্থ উজ্জ্বল আগুনের শিখা। এখানে বলা হয়েছে, (شِهَابٌ مُّبِيْنٌ) কুরআনের অন্য জায়গায় এজন্য
(شِهَابٌ ثَاقِبٌ)
শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। [সূরা আস-সাফফাতঃ ১০] আবার কোথায়ও বলা হয়েছে,
(شِهَابًا رَّصَدًا)
[সূরা আল-জিনঃ ৯] আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের এক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। ইতিমধ্যে আকাশে তারকা খসে পড়ল। তিনি সাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করলেনঃ জাহেলিয়াত যুগে অর্থাৎ ইসলাম-পূর্বকালে তোমরা তারকা খসে যাওয়াকে কি মনে করতে? তারা বললেনঃ আমরা মনে করতাম যে, বিশ্বে কোন ধরণের অঘটন ঘটবে অথবা কোন মহান ব্যক্তি মৃত্যুবরণ কিংবা জন্মগ্রহণ করবেন। তিনি বললেনঃ এটা অর্থহীন ধারণা। কারো জন্ম-মৃত্যুর সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। এসব জ্বলন্ত অঙ্গার শয়তানদেরকে বিতাড়নের জন্য নিক্ষেপ করা হয়। [মুসলিমঃ ২২২৯]
[সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ১৮] পূর্ণ পৃষ্ঠা
অর্থাৎ সাতটি বিচরণশীল গ্রহ। একদল বলেছেন: "বুরুজান" অর্থ প্রাসাদ ও ঘরসমূহ যাতে প্রহরী রয়েছে, যা আল্লাহ আকাশে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। (আর আমি সেটিকে সুশোভিত করেছি) অর্থাৎ আকাশকে, যেমনটি তিনি সূরা আল-মুলক-এ বলেছেন: "আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত করেছি।" "দর্শকদের জন্য" অর্থাৎ শিক্ষা গ্রহণকারী ও চিন্তাশীলদের জন্য। [সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ১৭]আর আমি সেটিকে প্রত্যেক অভিশপ্ত শয়তান থেকে রক্ষা করেছি (১৭)অর্থাৎ বিতাড়িত। আর 'রাজম' অর্থ পাথর নিক্ষেপ করা। কেউ কেউ বলেছেন: রাজম অর্থ অভিশাপ ও বহিষ্কার। এটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
কিসায়ী বলেছেন: কুরআনের প্রতিটি 'রাজীম' শব্দ গালি বা তিরস্কার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কালবী দাবি করেছেন যে, ঈসা (আ.)-এর সময় পর্যন্ত সকল আসমান শয়তানদের থেকে সুরক্ষিত ছিল না। যখন আল্লাহ তাআলা ঈসাকে প্রেরণ করলেন, তখন থেকে তিনটি আসমান সুরক্ষিত করা হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রেরিত হওয়া পর্যন্ত এভাবেই ছিল। তাঁর প্রেরণের পর সবকটি আসমান তাদের থেকে রক্ষা করা হয়েছে এবং উল্কাপিণ্ড দ্বারা পাহারা দেওয়া হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: শয়তানরা আসমান থেকে বাধাগ্রস্ত হতো না, তারা সেখানে প্রবেশ করত এবং সেখানকার সংবাদ জ্যোতিষীদের কাছে পৌঁছে দিত, এবং তার সাথে আরও নয়টি মিথ্যা যোগ করত।
অতঃপর তারা তা পৃথিবীর মানুষের কাছে বর্ণনা করত, যার একটি কথা সত্য এবং নয়টি মিথ্যা হতো। যখন তারা (মানুষেরা) তাদের বলা কোনো কিছু সত্য হতে দেখত, তখন তারা তাদের আনীত সকল বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করত। যখন মারইয়াম-তনয় ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করলেন, তখন তাদের তিনটি আসমান থেকে নিষিদ্ধ করা হলো। আর যখন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করলেন, তখন তাদের সকল আসমান থেকে নিষিদ্ধ করা হলো। এখন তাদের কেউ আড়ি পেতে কোনো কথা শুনতে চাইলে তার ওপর জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড নিক্ষেপ করা হয়, যার বর্ণনা সামনে আসবে। [সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ১৮]তবে কেউ চুপিচুপি শুনে ফেললে তার পশ্চাদ্ধাবন করে সুস্পষ্ট উল্কাপিণ্ড (১৮)অর্থাৎ কিন্তু যে আড়ি পেতে শুনে ফেলে, অর্থাৎ সামান্য কিছু ছিনিয়ে নেয়।
এটি একটি বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রম (ইসতিসনা মুনকাতি)। কেউ বলেছেন, এটি সংযুক্ত (মুত্তাসিল), অর্থাৎ সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে আড়ি পেতে শুনেছে। এর অর্থ হলো: আমরা আসমানকে শয়তানদের থেকে রক্ষা করেছি যেন তারা ওহী বা অন্য কিছু শুনতে না পারে, তবে যে আড়ি পেতে শোনে—আমরা আসমানকে ওহী ব্যতীত আকাশের অন্যান্য খবর শোনা থেকে রক্ষা করিনি। তবে ওহীর ক্ষেত্রে তারা কিছুই শুনতে পায় না, কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই তাদেরকে শ্রবণ করা থেকে দূরে রাখা হয়েছে।" আর যখন শয়তানরা শোনার চেষ্টা করে...(১). এগুলো—তাদের ঊর্ধ্বমুখী ক্রমবিন্যাস অনুযায়ী—হলো: চাঁদ, বুধ, শুক্র, সূর্য, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি।(২).
দ্রষ্টব্য: খণ্ড ১৮, পৃষ্ঠা ২১০।(৩). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৯১।(৪). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ১৫, পৃষ্ঠা ৬৪; খণ্ড ১৯, পৃষ্ঠা ১০।(৫). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা...
