Al-Hijr
আল-হিজর: 73
15 আল-হিজর Al-Hijr · 99 আয়াত الحجر
মূল আরবি
فَأَخَذَتْهُمُ ٱلصَّيْحَةُ مُشْرِقِينَ
English Translations
So the shriek seized them at sunrise.
So As-Saihah (torment - awful cry, etc.) overtook them at the time of sunrise;
So, they were seized by the Cry at sunrise.
Then the mighty Blast caught them at sunrise,
Then the (Awful) Cry overtook them at the sunrise.
But the (mighty) Blast overtook them before morning,
বাংলা অনুবাদ
সূর্যোদয়ের সময়ে এক প্রচন্ড ধ্বনি তাদের উপর আঘাত হানল।
অতএব সূর্যোদয়কালে বিকট আওয়াজ তাদের পেয়ে বসল।
অতঃপর সূর্যোদয়ের সময়ে মহানাদ তাদেরকে আঘাত করল।
অতঃপর সূর্যোদয়ের সময় প্রকাণ্ড চীৎকার তাদেরকে পাকড়াও করল;
অতঃপর সূর্যোদয়ের সময়ে বিকট আওয়াজ তাদেরকে আঘাত করল;
৭৩. ফলে সূর্যোদয়ের সময় আসতেই এক প্রচণ্ড ধ্বংসাত্মক ধ্বনি তাদেরকে আঘাত করলো।
তাফসীর
৭৩-৭৭ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “সূর্যোদয়ের সময় এক ভীষণ শব্দ আসলো এবং সাথে সাথে তাদের বস্তীগুলি উর্ধ্বে উথিত হলো আকাশের নিকটে পৌছে সেখান থেকে ওগুলিকে উলটিয়ে দেয়া হলো, উপরের অংশ নীচে এবং নীচের অংশ উপরে হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে তাদের উপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষিতে শুরু করলো। সূরায়ে হূদে এটা বিস্তারিতরূপে বর্ণিত হয়েছে।যাদের পর্যবেক্ষণ শক্তি ও অন্তদৃষ্টি রয়েছে তাদের জন্যে এই বস্তিগুলির ধ্বংসের মধ্যে বড় বড় নিদর্শন বিদ্যমান রয়েছে। এই ধরনের লোকেরাই এ সব বিষয় থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করে থাকে। তারা অত্যন্ত দূরদর্শিতার সাথে এগুলির প্রতি লক্ষ্য করে থাকে এবং চিন্তা গবেষণা করে নিজেদের অবস্থা সুন্দর করে নেয়।হযরত আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা মু'মিনের বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতার প্রতি লক্ষ্য রেখো, সে আল্লাহর নূরের সাহায্যে দেখে থাকে।” (এ হাদীসটি ইমাম তিরমিযী (রঃ) ইমাম ইবনু আবি হাতিম (রঃ) এবং ইমাম ইবনু জারীর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন) অতপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করেন।
অন্য হাদীসে রয়েছে যে, সে আল্লাহর নূর ও তার তাওফীকের সাহায্যে দেখে থাকে। হযরত আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “নিশ্চয় আল্লাহর কতকগুলি বান্দা এমন রয়েছে যারা মানুষকে তাদের লক্ষণ দেখে চিনতে পারে।”মহান আল্লাহ বলেনঃ 'ওটা লোক চলাচলের পথিপার্শ্বে এখনও বিদ্যমান। অর্থাৎ হযরত লুতের (আঃ) কওমের যে বস্তির উপর বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ শাস্তি নেমে এসেছিল এবং ওটাকে উলটিয়ে দেয়া হয়েছিল তা আজও একটা নিদর্শন রূপে বিদ্যমান রয়েছে। তোমরা রাতদিন সেখান দিয়ে চলাচল করে থাকো। বড়ই বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, এখনও তোমরা তার থেকে শিক্ষা গ্রহ করছো না!
মোট কথা, প্রকাশ্যভাবে লোক চলাচলের পথে ঐ বস্তির গ্নাবশেষ আজও বিদ্যমান আছে। অর্থ এও হতে পারেঃ “প্রকাশ্য কিতাবে টো বিদ্যমান রয়েছে।” কিন্তু এ অর্থটি এখানে ঠিকভাবে বসছে না। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।আল্লাহ পাক বলেনঃ “অবশ্যই এতে মু'মিনদের জন্যে রয়েছে নিদর্শন।” অর্থাৎ কিভাবে আল্লাহ তাআলা নিজের লোকদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকেন এবং স্বীয় শত্রুদেরকে ধ্বংস করেন, এটা তার একটা স্পষ্ট নিদর্শন।
অতঃপর সূর্যোদয়ের সময় প্রকাণ্ড চীৎকার তাদেরকে পাকড়াও করল;
[সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ৭৩ থেকে ৭৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা
"...তোমাদের পিতৃপুরুষদের নামে।" তিনি বলেন: মূলত কাফির পিতৃপুরুষদের নামে শপথ করতে নিষেধ করা হয়েছে। আপনি কি দেখেন না যে, যখন তারা তাদের পিতৃপুরুষদের নামে কসম করেছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: "আল্লাহর কাছে ওই পাহাড়টি তোমাদের ওইসব পিতৃপুরুষদের চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ যারা জাহিলিয়াতের যুগে মৃত্যুবরণ করেছে।" আর ইমাম মালিক এই হাদীসটিকে এর বাহ্যিক অর্থের ওপর প্রয়োগ করেছেন। ইবনে খুওয়াইজ মানদাদ বলেন: যারা এটি (নবীর নামে কসম করা) জায়েয মনে করেন, তারা এ দ্বারাও দলিল পেশ করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকে আমাদের এই সময় পর্যন্ত মুসলিমদের শপথের রীতি এভাবে চলে আসছে যে, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে কসম করে।
এমনকি মদীনার অধিবাসীরা আজও যখন তাদের কেউ প্রতিপক্ষের সাথে বিচারালয়ে যায়, তখন সে বলে: "এই কবরে যা কিছু আছে এবং এই কবরের অধিবাসীর (অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হকের কসম করে আমার জন্য শপথ করো।" তদ্রূপ হারাম শরীফ, মহান হজ্জের স্থানসমূহ, রুকন, মাকামে ইব্রাহীম, মেহরাব এবং তাতে যা তিলাওয়াত করা হয়, সেগুলোর নামেও শপথ করা হয়ে থাকে। [সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ৭৩ থেকে ৭৪]অতঃপর সূর্যোদয়ের সময়ে এক বিকট শব্দ তাদেরকে পাকড়াও করল। (৭৩) তারপর আমি জনপদটিকে উল্টে দিলাম (উপরের অংশ নিচে করে দিলাম) এবং তাদের ওপর পোড়ামাটির পাথর বর্ষণ করলাম।
(৭৪) আল্লাহ তাআলার বাণী: (অতঃপর সূর্যোদয়ের সময়ে এক বিকট শব্দ তাদেরকে পাকড়াও করল) এখানে 'মুশরিকীন' শব্দটি 'হাল' (অবস্থা) হিসেবে নসব হয়েছে, যার অর্থ সূর্যোদয়ের সময়ে। বলা হয়ে থাকে: 'আশরাকাতুশ শামসু' অর্থাৎ যখন সূর্য উজ্জ্বল হয়, আর 'শারাকাত' যখন তা উদিত হয়। আবার বলা হয়েছে: উভয়টি একই অর্থবোধক দুটি শব্দ। আর 'আশরাকাল কওমু' অর্থ হলো লোকেরা সূর্যোদয়ের সময়ে প্রবেশ করল; যেমন 'আসবাহু' (ভোর করল) এবং 'আমসাউ' (সন্ধ্যা করল), আর আয়াতে এটিই উদ্দেশ্য। কেউ কেউ বলেছেন: এর দ্বারা ফজরের উদয় উদ্দেশ্য। আবার বলা হয়েছে: আযাবের সূচনা হয়েছিল সুবহে সাদিকে এবং তা সূর্যোদয় পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল, ফলে তখন ধ্বংসের পূর্ণতা ঘটেছিল।
আল্লাহই ভালো জানেন। আর 'আস-সাইহাহ' অর্থ হলো আযাব। 'সিজ্জীল' এর আলোচনা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। [সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ৭৫]নিশ্চয়ই এতে পর্যবেক্ষণকারীদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে। (৭৫)এতে দুটি মাসআলা রয়েছে: প্রথমটি- আল্লাহ তাআলার বাণী: (পর্যবেক্ষণকারীদের জন্য)। হাকিম তিরমিযী তার 'নাওয়াদিরুল উসুল' গ্রন্থে আবু সাঈদ খুদরী (রা.)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "এর অর্থ অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য।" এটি মুজাহিদ (রহ.)-এরও উক্তি। আবু ঈসা তিরমিযী আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন...(১).
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর সাথে এটি লক্ষ্য করুন: "যে ব্যক্তি শপথ করতে চায়, সে যেন আল্লাহর নামে শপথ করে অথবা চুপ থাকে।"(২). দেখুন ৯ম খণ্ড, ৮১ পৃষ্ঠা। [ ..... ]
