Al-Hijr
আল-হিজর: 67
15 আল-হিজর Al-Hijr · 99 আয়াত الحجر
মূল আরবি
وَجَآءَ أَهْلُ ٱلْمَدِينَةِ يَسْتَبْشِرُونَ
English Translations
And the people of the city came rejoicing.
And the inhabitants of the city came rejoicing (at the news of the young men's arrival).
And the people of the city came rejoicing.
In the meantime the people of the city came to Lot rejoicing.
And the people of the city came, rejoicing at the news (of new arrivals).
The inhabitants of the city came in (mad) joy (at news of the young men).
বাংলা অনুবাদ
শহরের লোকেরা আনন্দ সহকারে (লূতের ঘরে) উপস্থিত হল।
আর শহরের অধিবাসীরা উৎফুল্ল হয়ে হাযির হল।
নগরবাসীরা আনন্দোম্মাদ হয়ে উপস্থিত হল।
আর নগরবাসী উল্লসিত হয়ে উপস্থিত হল।
নগরবাসীগণ আনন্দসহকারে (লূতের ঘরে) উপস্থিত হল।
৬৭. এদিকে সাদুম অধিবাসীরা সমকামিতার আশায় লুত (আলাইহিস-সালাম) এর মেহমানদের নিকট খুশিতে চলে আসলো।
তাফসীর
৬৭-৭২ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, হযরত লূতের (আঃ) বাড়ীতে সুদর্শন তরুণ যুবকগণ অতিথি হিসেবে আগমন করেছেন। এ খবর যখন তাঁর কওমের লোকেরী পেলো তখন তারা তাদের খারাপ উদ্দেশ্য সফল করার লক্ষ্যে অত্যন্ত আনন্দিত অবস্থায় তার বাড়ীতে দৌড়িয়ে আসলো। আল্লাহর নবী হযরত লুত (আঃ) তাদেরকে বুঝাতে লাগলেন। তিনি তাদেরকে বললেনঃ “তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আমার অতিথিদের ব্যাপারে আমাকে লজ্জিত করো।” স্বয়ং হযরত লুত (আঃ) জানতেন না যে, তার অতিথিগণ আল্লাহর ফেরে, যেমন সূরায়ে হুদে রয়েছে। যদিও এরও বর্ণনা এখানে পরে হয়েছে এবং ফেরেশতাদের প্রকাশিত হয়ে পড়ার বর্ণনা পূর্বে হয়েছে; কিন্তু এর দ্বারা ক্রম পর্যায় উদ্দেশ্য নয়।
আর (আরবি) অক্ষরটি তারতীব বা ক্রম বিন্যাসের জন্যে আসেও না, বিশেষ করে এমন ক্ষেত্রে যেখানে ওর বিপরীত দলীল বিদ্যমান থাকে। হযরত লূত (আঃ) তাঁর কওমকে বললেনঃ “আমাকে তোমরা অপদস্থ করো না।” তারা উত্তরে বলেঃ “আপনার যখন এটা খেয়াল ছিল তখন আপনি এদেরকে অতিথি হিসেবে আপনার বাড়ীতে স্থান দিয়েছেন কেন? আমরা তো। আপনাকে পূর্বেই নিষেধ করেছিলাম।” তখন তিনি তাদেরকে আরো বুঝিয়ে বললেনঃ “তোমাদের স্ত্রীগণ, যারা আমার কন্যাতুল্য, তারাই তোমাদের কামনা-বাসনা চরিতার্থ করার পাত্র, এরা নয়।”এর পূর্ণ বিবরণ আমরা বিস্তারিতভাবে ইতিপূর্বে দিয়ে এসেছি। সুতরাং এর পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন।
যেহেতু ঐ লোকগুলি কাম-বাসনায় উন্নত্ত ছিল এবং আল্লাহর শাস্তির যে ফায়সালা তাদের মস্তকোপরি ঝুলছিল, তা থেকে তারা ছিল সম্পূর্ণরূপে উদাসীন, সেই হেতু আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীর (সঃ) জীবনের শপথ করে তাদের এই অবস্থার বর্ণনা দিচ্ছেন। এর দ্বারা রাসূলুল্লাহর (সঃ) অত্যধিক মর্যাদা প্রকাশিত হয়েছে। হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর যতগুলি মাখলুক সৃষ্টি করেছেন তন্মধ্যে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) অপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান আর কেউই নেই। মহান আল্লাহ একমাত্র তাঁরই জীবনে শপথ ছাড়া আর কারো জীবনের শপথ করেন নাই। (আরবি) দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে ভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতা।
তাতেই তারা উদভ্রান্ত হয়ে ফিরছে।
আর নগরবাসী উল্লসিত হয়ে উপস্থিত হল।
[সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ৬৬ থেকে ৭১] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ৬১ থেকে ৬৫](৬১) অতঃপর যখন প্রেরিত দূতগণ লূতের পরিবারের নিকট আসলেন। (৬২) তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই তোমরা অপরিচিত লোক।” (৬৩) তাঁরা বললেন, “বরং আমরা আপনার নিকট তা-ই নিয়ে এসেছি যা নিয়ে তারা সন্দেহ করত।” (৬৪) “এবং আমরা আপনার নিকট ধ্রুব সত্য নিয়ে এসেছি এবং নিশ্চয়ই আমরা সত্যবাদী।” (৬৫) “সুতরাং আপনি রাতের এক অংশে আপনার পরিবারবর্গকে নিয়ে বেরিয়ে যান এবং তাঁদের পেছনে থেকে অনুসরণ করুন; আর তোমাদের কেউ যেন পেছনে ফিরে না তাকায়। আর তোমরা সেখানেই চলে যাও যেখানে তোমাদের আদেশ করা হচ্ছে।”মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর যখন প্রেরিত ফেরেশতাগণ লূতের পরিবারের নিকট আসলেন।
তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তোমরা অপরিচিত লোক) অর্থাৎ আমি তোমাদের চিনি না। বলা হয়েছে: তাঁরা অত্যন্ত সুন্দর যুবক ছিলেন, তাই তিনি তাঁদের সৌন্দর্য দেখে স্বীয় কওমের পক্ষ থেকে ফিতনার (বিপদ বা লাঞ্ছনার) আশঙ্কা করলেন; এটাই হলো ‘অপরিচিত মনে করা’ বা অস্বীকার করার কারণ। (তাঁরা বললেন, বরং আমরা আপনার নিকট তা-ই নিয়ে এসেছি যা নিয়ে তারা সন্দেহ করত) অর্থাৎ তারা যে আযাব বা শাস্তি তাদের ওপর আপতিত হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করত, সেই আযাবই আমরা নিয়ে এসেছি। (এবং আমরা আপনার নিকট ধ্রুব সত্য নিয়ে এসেছি) অর্থাৎ সত্য সংবাদ নিয়ে। কেউ কেউ বলেছেন: আযাব নিয়ে।
(এবং নিশ্চয়ই আমরা সত্যবাদী) অর্থাৎ তাদের ধ্বংস হওয়ার বিষয়ে। (সুতরাং আপনি রাতের এক অংশে আপনার পরিবার নিয়ে বেরিয়ে যান) এর আলোচনা ইতিপূর্বে সূরা হূদে [১] অতিবাহিত হয়েছে। (এবং তাঁদের পেছনে অনুসরণ করুন) অর্থাৎ আপনি তাঁদের পেছনে থাকুন যেন তাঁদের কেউ পেছনে পড়ে না থাকে এবং আযাবে নিপতিত না হয়। (এবং তোমাদের কেউ যেন পেছনে ফিরে না তাকায়) তাঁদেরকে পেছনে ফিরে তাকাতে নিষেধ করা হয়েছে যাতে তাঁরা অত্যন্ত দ্রুত পথ চলেন এবং প্রভাত হওয়ার পূর্বেই জনপদ থেকে দূরে চলে যান। কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ হলো কেউ যেন পেছনে পড়ে না থাকে। (এবং সেখানে চলে যান যেখানে তোমাদের আদেশ দেওয়া হচ্ছে) ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: অর্থাৎ সিরিয়া।
মুকাতিল বলেন: অর্থাৎ সাফাদ, যা লূত (আ.)-এর জনপদসমূহের একটি। এটি ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে। বলা হয়েছে: তিনি খলীল (ইব্রাহিম আ.)-এর ভূমির এমন এক স্থানে গিয়েছিলেন যাকে ‘আল-ইয়াকীন’ বলা হয়। ইয়াকীন নামকরণ করার কারণ হলো, ইব্রাহিম (আ.)-এর নিকট থেকে যখন প্রেরিত দূতগণ বিদায় নিলেন, তিনি তাঁদের এগিয়ে দিতে গেলেন। তখন তিনি জিবরাঈল (আ.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: “কোথা থেকে তাদের ভূমি ধসিয়ে দেওয়া হবে?” জিবরাঈল বললেন: “এখান থেকে” এবং তিনি একটি সীমানা নির্দিষ্ট করে দিলেন। অতঃপর জিবরাঈল চলে গেলেন। যখন লূত (আ.) আসলেন, তিনি ইব্রাহিম (আ.)-এর নিকট বসলেন এবং উভয়েই সেই আযাবের প্রতীক্ষা করতে লাগলেন।
যখন পৃথিবী প্রকম্পিত হলো, তখন ইব্রাহিম (আ.) বললেন: “আমি আল্লাহর ওপর ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস) স্থাপন করলাম।” তাই জায়গাটির নাম ইয়াকীন রাখা হয়েছে। [সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ৬৬ থেকে ৭১](৬৬) এবং আমি তাঁকে এই ফয়সালা জানিয়ে দিলাম যে, ভোরেই এদের মূল শিকড় কেটে দেওয়া হবে। (৬৭) এবং শহরের লোকেরা আনন্দ প্রকাশ করতে করতে আসলো। (৬৮) লূত বললেন, “নিশ্চয়ই এঁরা আমার মেহমান, সুতরাং তোমরা আমাকে লজ্জিত করো না।” (৬৯) “এবং আল্লাহকে ভয় করো এবং আমাকে অপমানিত করো না।” (৭০) তারা বলল, “আমরা কি আপনাকে সারা জাহানের মানুষের (হিফাযত করতে) নিষেধ করিনি?”(৭১) তিনি বললেন, “এরা আমার কন্যা, যদি তোমরা কিছু করতে চাও (তবে এদের বিবাহ করো)।”(১) দ্রষ্টব্য: খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৭৯।
[ ..... ]
