Al-Hijr
আল-হিজর: 6
15 আল-হিজর Al-Hijr · 99 আয়াত الحجر
মূল আরবি
وَقَالُوا۟ يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِى نُزِّلَ عَلَيْهِ ٱلذِّكْرُ إِنَّكَ لَمَجْنُونٌ
English Translations
And they say, "O you upon whom the message has been sent down, indeed you are mad.
And they say: "O you (Muhammad SAW) to whom the Dhikr (the Quran) has been sent down! Verily, you are a mad man.
They say, “O you to whom the Dhikr (the Qur’ān) has been revealed, you are surely insane.
They say: "O you to whom the Admonition has been revealed, you are surely crazed.
And they say: O thou unto whom the Reminder is revealed, lo! thou art indeed a madman!
They say: "O thou to whom the Message is being revealed! truly thou art mad (or possessed)!
বাংলা অনুবাদ
তারা বলে, ‘ওহে ঐ ব্যক্তি যার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে! তুমি তো অবশ্যই পাগল।
আর তারা বলল, ‘হে ঐ ব্যক্তি, যার উপর কুরআন নাযিল করা হয়েছে, তুমি তো নিশ্চিত পাগল’।
তারা বলেঃ ওহে, যার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে! তুমিতো নিশ্চয়ই উম্মাদ।
আর তারা বলে, ‘হে ঐ ব্যক্তি, যার প্রতি যিকর নাযিল হয়েছে! তুমি তো নিশ্চয় উন্মাদ।
তারা বলে ‘ওহে যার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে! তুমি নিশ্চয় উন্মাদ।
৬. মক্কার কাফিররা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বললো: হে কুর‘আন প্রাপ্তির দাবিদার নিশ্চয়ই তুমি এ দাবির মাধ্যমে পাগল হিসেবেই প্রমাণিত। তুমি এর মাধ্যমে পাগলদের মতোই আচরণ করছো।
তাফসীর
৬-৯ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা এখানে কাফিরদের কুফরী, অবাধ্যতা, ঔদ্ধত্যপনা, অহংকার এবং হঠকারিতার সংবাদ দিচ্ছেন যে, তারা বিদ্রুপ করে রাসূলুল্লাহকে (সঃ) বলতোঃ ‘হে সেই ব্যক্তি যে তার উপর কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার দাবী করছে অর্থাৎ-হে মুহাম্মদ (সঃ)! আমরা তো দেখছি যে, তুমি একটা আস্ত পাগল, তাই তুমি আমাদেরকে তোমার অনুসরণ করার জন্যে আহ্বান করছে। এবং আমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছ যে, আমরা যেন আমাদের বাপদাদা ও পূর্ব পুরুষদের ধর্ম পরিত্যাগ করি। যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকো তবে আমাদের কাছে ফেরেস্তাদেরকে আনয়ন করছো না কেন? তাহলে তারা এসে আমাদের কাছে তোমার সত্যবাদিতার বর্ণনা দেবে?’ ফিরাউনও যেমন বলেছিলঃ (আরবি) অর্থাৎ “তার উপর সোনার কংকন কেন নিক্ষেপ করা হয়নি, অথবা ফেরেশতারা তার সাথে মিলিত হয়ে কেন আসেনি?” (৪৩:৫৩) অন্য জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “যারা আমার সাক্ষাৎ কামনা করে না তারা।
বলেঃ “আমাদের নিকট ফেরেস্তা অবতীর্ণ করা হয় না কেন? অথবা আমরা আমাদের প্রতিপালককে প্রত্যক্ষ করি না কেন? তারা তাদের অন্তরে অহংকার পোষণ করে এবং তারা সীমালংঘন করেছে গুরুতর রূপে।যেদিন তারা ফেরেশতাদেরকে প্রত্যক্ষ করবে সেদিন অপরাধীদের জন্যে সুসংবাদ থাকবে না এবং তারা বলবেঃ “রক্ষা কর, রক্ষা কর।” অনুরূপ অত্র আয়াতে বলেনঃ “আমি ফেরেশতাদেরকে যথার্থ কারণ ব্যতীত প্রেরণ করি না; ফেরেস্তারা হাযির হলে তারা অবকাশ পাবে না।”মহান আল্লাহ বলেনঃ “এই যিকর অর্থাৎ কুরআন কারীম আমি অবতীর্ণ করেছি, আর এর সংরক্ষণের দায়িত্বশীল আমিই। আমিই এটাকে সর্বক্ষণের জন্যে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হতে রক্ষা করবো।
কেউ কেউ বলেন যে, এর। সর্বনামটি নবীর (সঃ) দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়েছে। অর্থাৎ কুরআন আল্লাহ কর্তৃকই অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং নবীর (সঃ) রক্ষক তিনিই। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “হে নবী (সঃ) আল্লাহ তোমাকে মানুষের উৎপীড়ন থেকে রক্ষা করবেন।” (৫:৬৭) তবে প্রথম অর্থটিই সঠিকতর। রচনা ভংগীও এটাকেই প্রাধান্য দেয়।
আর তারা বলে, ‘হে ঐ ব্যক্তি, যার প্রতি যিকর [১] নাযিল হয়েছে! তুমি তো নিশ্চয় উন্মাদ [২]।
[১] যিকির বা বাণী শব্দটি পারিভাষিক অর্থে কুরআন মজীদে আল্লাহর বাণীর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। আর এ বাণী হচ্ছে আগাগোড়া উপদেশমালায় পরিপূর্ণ। পূর্ববর্তী নবীদের ওপর যতগুলো কিতাব নাযিল হয়েছিল সেগুলো সবই “যিকির” ছিল এবং এ কুরআন মজীদও যিকির। যিকিরের আসল অর্থ হচ্ছে স্মরণ করিয়ে দেয়া, সতর্ক করা এবং উপদেশ দেয়া।
[২] তারা ব্যঙ্গ ও উপহাস করে একথা বলতো। [সা'দী] এ বাণী যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর নাযিল হয়েছে একথা তারা স্বীকারই করতো না। আর একথা স্বীকার করে নেয়ার পর তারা তাকে পাগল বলতে পারতো না। আসলে তাদের একথা বলার অর্থ ছিল এই যে, “ওহে, এমন ব্যক্তি! যার দাবী হচ্ছে, আমার ওপর যিকির তথা আল্লাহর বাণী অবতীর্ণ হয়েছে।” [ইবন কাসীর] এটা ঠিক তেমনি ধরনের কথা যেমন ফেরআউন মূসা আলাইহিসসালামের দাওয়াত শুনার পর তার সভাসদদের বলেছিলঃ “নিশ্চয় যে রাসূল তোমাদের নিকট পাঠানো হয়েছে, অবশ্যই সে উন্মাদ ।" [সূরা আশ-শু'আরাঃ ২৭]
[সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ৬ থেকে ৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ৬ থেকে ৭]আর তারা বলল, "হে ঐ ব্যক্তি! যার প্রতি উপদেশ (স্মারক) অবতীর্ণ করা হয়েছে, নিশ্চয়ই তুমি এক উন্মাদ (৬)। তুমি আমাদের নিকট ফেরেশতাদের নিয়ে আসছ না কেন, যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও? (৭)"কুরাইশ কাফিরগণ উপহাসের ছলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ কথা বলেছিল। অতঃপর তারা তাঁর সত্যতার প্রমাণ হিসেবে ফেরেশতাদের আনয়নের দাবি জানায়। আর (লাও মা) শব্দটি কোনো কাজের প্রতি উৎসাহিত করার অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন 'লাওলা' এবং 'হাল্লা' ব্যবহৃত হয়। আল-ফাররা বলেন: 'লাও মা'-এর মধ্যে 'মিম' বর্ণটি 'লাওলা'-এর 'লাম'-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।
এর উদাহরণ হলো কোনো কিছুর ওপর কর্তৃত্ব লাভ করার ক্ষেত্রে 'ইস্তাওলা' এবং 'ইস্তাওমা' শব্দের ব্যবহার। অনুরূপভাবে 'খালামতুহু' এবং 'খালালতুহু' (আমি তাকে বন্ধু বানালাম), এখান থেকেই 'খilm' এবং 'খil' শব্দদ্বয় এসেছে যার অর্থ হলো বন্ধু। এই নিয়ম অনুযায়ী 'লাও মা' সংবাদ প্রদানের অর্থেও জায়েজ হতে পারে; যেমন আপনি বলেন: "যদি জায়েদ না থাকত (লাও মা যাইদুন), তবে আমর অবশ্যই প্রহৃত হতো।" আল-কিসাঈ বলেন: সংবাদ প্রদান এবং জিজ্ঞাসার ক্ষেত্রে 'লাওলা' এবং 'লাও মা' উভয়ই সমান। ইবনু মুকবীল বলেছেন:লজ্জা এবং দ্বীন যদি না থাকত তবে আমি তোমাদের দোষারোপ করতাম … তোমাদের মধ্যে বিদ্যমান কিছু ত্রুটির কারণে, যখন তোমরা আমার শারীরিক ত্রুটির নিন্দা করেছিলে।এখানে তিনি 'লাওলা আল-হায়া' (যদি লজ্জা না থাকত) বুঝিয়েছেন।
আন-নাহহাস বর্ণনা করেছেন যে, 'লাও মা', 'লাওলা' এবং 'হাল্লা' একই অর্থবোধক। ভাষাবিদগণ এ প্রসঙ্গে নিম্নোক্ত কবিতাটি পাঠ করেছেন:হে দাওতারা সম্প্রদায়! তোমরা কি বৃদ্ধ উট জবাই করাকেই তোমাদের শ্রেষ্ঠ মর্যাদা মনে করো, … অথচ তোমরা সশস্ত্র বীর যোদ্ধাদের কেন গণনা করছ না?অর্থাৎ কেন তোমরা বীর যোদ্ধাদের গণ্য করছ না। [সূরা আল-হিজর (১৫): আয়াত ৮]আমি ফেরেশতাদের যথাযথ কারণ (সত্য) ছাড়া অবতীর্ণ করি না, আর তখন তাদেরকে অবকাশ দেওয়া হবে না (৮)।হাফস, হামযাহ এবং আল-কিসাঈ পাঠ করেছেন (মা নুনাযযিলুল মালাইকাতা ইল্লা বিল হাক্কি - আমরা ফেরেশতাদের সত্য ছাড়া অবতীর্ণ করি না) এবং আবু উবাইদ এটিই পছন্দ করেছেন।
আবু বকর এবং আল-মুফাদদাল পাঠ করেছেন (মা তুনাযযালুল মালাইকাতু - ফেরেশতাদের অবতীর্ণ করা হয় না)। অবশিষ্ট কিরাত পাঠগণ পড়েছেন (মা তানাযযালুল মালাইকাতু) যার মূল রূপ হলো 'তাতানাযযালু' - দুটি 'তা' বর্ণের একটিকে সহজ করার জন্য বিলুপ্ত করা হয়েছে। আল-বাযযি 'তা' বর্ণে তাশদীদ দিয়ে পাঠ করেছেন এবং আবু হাতিম সূরা আল-কদরের আয়াতের (তানাযযালুল মালাইকাতু ওয়ার রুহ) সাদৃশ্যে এটি পছন্দ করেছেন। "যথাযথ কারণ বা সত্য ছাড়া" এর অর্থ হলো কুরআন ছাড়া। মুজাহিদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এর অর্থ হলো রিসালাত বা বার্তাবাহী হওয়া ছাড়া। হাসান আল-বাসরী বলেন: এর অর্থ হলো যদি তারা ঈমান না আনে তবে আযাব বা শাস্তি অবতীর্ণ করা ছাড়া।
(আর তখন তাদেরকে অবকাশ দেওয়া হবে না) অর্থাৎ যদি তাদের ধ্বংস করার জন্য ফেরেশতা অবতীর্ণ হতো, তবে তাদের আর সময় দেওয়া হতো না এবং তাদের তাওবা কবুল করা হতো না। আবার বলা হয়েছে, এর অর্থ হলো: যদি ফেরেশতারা অবতীর্ণ হয়ে আপনার পক্ষে সাক্ষ্য দিত এবং এরপরও তারা কুফরি করত তবে তাদের তৎক্ষণাৎ ধ্বংস করা হতো।(১). এই পঙ্ক্তিটি জারীরের, যা তিনি ফারাযদাককে বিদ্রূপ করে বলেছিলেন। 'আকর' অর্থ তলোয়ার দিয়ে উটের পা কাটা। 'নিব' হলো 'নাব'-এর বহুবচন, যার অর্থ বৃদ্ধ উষ্ট্রী। 'দাওতারা' অর্থ সেই স্থূলকায় নীচ ব্যক্তি যার কোনো মর্যাদা নেই; এটি একটি নিন্দাসূচক শব্দ।
'কামিয়্যি' অর্থ সেই সাহসী যোদ্ধা যে অস্ত্রশস্ত্রে নিজেকে আবৃত রাখে, কারণ সে নিজেকে বর্ম ও শিরস্ত্রাণ দিয়ে ঢেকে রাখে। 'মুকান্না' অর্থ যার মাথায় হেলমেট বা শিরস্ত্রাণ রয়েছে।(২). দেখুন: ২০তম খণ্ড, ১৩৩ পৃষ্ঠা।
